আমার প্রিয় সহ-নাগরিকবৃন্দ,
নমস্কার!
সারা দেশ নবরাত্রির সূচনা উদযাপন করছে। এই লগ্নে আমি আপনাকে এবং আপনাদের পরিবারের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এই উৎসব সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করুক।
এই বছর উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার সময়ে আনন্দের আরও একটি কারণ রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কারের সুফল অনুভূত হচ্ছে। সারা দেশে সূচনা হচ্ছে – জিএসটি সাশ্রয় উৎসবের।
এই সংস্কার সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়াবে এবং কৃষক, মহিলা, যুবা, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত বর্গ, ব্যবসায়ী কিংবা ক্ষুদ্র সংস্থা – সমাজের প্রতিটি স্তরকেই প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত করবে। বৃদ্ধির হার ও বিনিয়োগে আরও গতি আসবে এবং প্রতিটি রাজ্য ও অঞ্চলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হ’ল – এখন থেকে করের হার হবে মূলত দুটি – ৫ শতাংশ এবং ১৮ শতাংশ।
খাবার, ওষুধপত্র, সাবান, দাঁতের মাজন, বীমা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় আরও অনেক পণ্য ও পরিষেবা এবার থেকে হয় করহীন হবে অথবা করের হার হবে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ৫ শতাংশ। যেসব পণ্যে আগে ১২ শতাংশ করের হার প্রযোজ্য ছিল তার প্রায় সবগুলিতেই এবার থেকে ৫ শতাংশ কারের হার কার্যকর হবে।
এটা অত্যন্ত আনন্দের যে, অনেক দোকানদার এবং ব্যবসায়ী ‘তখন এবং এখন’ লেখা নতুন বোর্ড ঝুলিয়েছেন, যেখানে সংস্কার - পূর্ববর্তী এবং সংস্কার - পরবর্তী করের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
বিগত কয়েক বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠে এসেছেন এবং তৈরি করেছেন একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নব্য – মধ্যবিত্ত বর্গ।
এছাড়াও, আমরা আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের হাত আরও শক্ত করেছি আয়করে বিপুল হ্রাসের মাধ্যমে। ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ে করের পরিমাণ শূন্য।
আয়কর হ্রাস এবং পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি সংস্কার – এই দুটি পদক্ষেপের সুবাদে সাধারণ মানুষের প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
আপনার গৃহস্থালীর খরচ কমবে এবং বাড়ি, গাড়ি, বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়, রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে ছুটি কাটানোর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।
আমাদের দেশের জিএসটি-র যাত্রা শুরু হয় ২০১৭’য়, যা বিবিধ করের নাগপাশ থেকে নাগরিক ও বাণিজ্য মহলকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা। জিএসটি অর্থনৈতিক দিক থেকে সমগ্র দেশকে একসূত্রে গেঁথেছে। ‘এক দেশ, এক কর’ প্রণালী এনেছে সামঞ্জস্য ও স্বস্তি। কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জিএসটি পরিষদ একের পর এক জনমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এবার এই নতুন সংস্কার সমগ্র প্রক্রিয়াটির সরলীকরণ, কর হারের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে মানুষের সঞ্চয় বাড়াবে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ আরও এগিয়ে যাবে।
আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি, ব্যবসায়ী এবং দোকানদাররা ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ এবং ‘ইজ অফ কমপ্লায়েন্স’ – এর বিষয়টি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করবেন। করের পরিমাণে হ্রাস, মূল্য হ্রাস এবং সরল আইন বিধি’র অর্থ হ’ল – আরও বেশি বিক্রয়, বাধ্যবাধকতার বোঝার হ্রাস এবং সুযোগ ও সম্ভাবনার পরিসর বৃদ্ধি। এটি বিশেষভাবে উপকৃত করবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রকে।
আমাদের সকলেরই লক্ষ্য হ’ল – ২০৪৭ সাল নাগাদ বিকশিত ভারত – এর স্বপ্ন পূরণ। এর রূপায়ণে স্বনির্ভরতার পথে এগোতেই হবে। সংস্কারের এইসব পদক্ষেপ স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে এবং গড়ে তুলবে আত্মনির্ভর ভারত – এর পথ।
আরও একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। উৎসবের এই লগ্নে ভারতে তৈরি পণ্য ক্রয়ের প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা হোক। ব্র্যান্ড বা কোম্পানী না দেখে কিনুন স্বদেশী পণ্য – যেখানে মিশে আছে একজন ভারতীয়র পরিশ্রম ও ঘাম।
যখনই আপনি আমাদের কারিগর বা দেশজ শিল্প ক্ষেত্রে তৈরি পণ্য ক্রয় করছেন, তখনই আপনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অগণিত পরিবারের দিকে, যাঁদের উপার্জনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। সেইসঙ্গে, গড়ে উঠছে আমাদের তরুণ-তরুণীদের আরও কর্মসংস্থানের পরিসর।
আমি আমাদের দোকানদার এবং ব্যবসায়ীদের ভারতে তৈরি পণ্য বিক্রয়ে বিশেষভাবে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানাচ্ছি।
গর্বের সঙ্গে বলুন – আমরা যা ক্রয় করি, তা স্বদেশী।
গর্বের সঙ্গে বলুন – আমরা যা বিক্রয় করি, তা স্বদেশী।
রাজ্য সরকারগুলিকেও শিল্প, উৎপাদন এবং বিনিয়োগের পরিমণ্ডল’কে উৎসাহিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি আমি।
আরও একবার আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে আনন্দময় নবরাত্রির শুভেচ্ছা জানাই, যেখানে ‘জিএসটি সাশ্রয় উৎসব’ সুখ, সমৃদ্ধি ও সঞ্চয়ের নতুন আবহ তৈরি করতে চলেছে।
এই সংস্কার প্রক্রিয়া প্রতিটি পরিবারে আরও সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক।






