উপ-রাষ্ট্রপতি শ্রী সি পি রাধাকৃষ্ণন আজ প্রথমদিন রাজ্যসভার সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে সংসদের উচ্চকক্ষে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, রাজ্যসভার প্রত্যেক সদস্যের জন্য এটি গর্বের এক মুহূর্ত। “সংসদ এবং আমার পক্ষ থেকে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। উচ্চকক্ষের মাননীয় সদস্যরা এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করবেন, এই আশ্বাস আমি আপনাকে দিচ্ছি। একইসঙ্গে, আপনার মর্যাদাও যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সে বিষয়েও তাঁরা সতর্ক থাকবেন। এটি আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য নিশ্চিত আশ্বাস।”
শ্রী মোদী আশা প্রকাশ করেন, শীতকালীন অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়গুলি নিয়ে চর্চা হবে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শ্রী রাধাকৃষ্ণন এই চর্চায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান এক কৃষক পরিবারের সন্তান। তিনি সারা জীবন জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। “সমাজ সেবক হিসেবে তাঁর একটি পরিচিতি রয়েছে। এই পরিচয়ের একটি দিক রাজনীতি। তাবে তাঁর জীবন জুড়ে রয়েছে সেবা করার মানসিকতা।” তিনি আরও বলেন, উপ-রাষ্ট্রপতি জনসেবা করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়াও, সমাজসেবায় যাঁরা আগ্রহী, তাঁদের কাছেও তিনি অনুপ্রেরণার উৎস।
প্রধানমন্ত্রী রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। কয়্যার বোর্ডের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এই সংস্থাটিকে অত্যন্ত সক্রিয় করে তুলেছিলেন। ঝাড়খন্ড, মহারাষ্ট্র ও তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল এবং পুদুচেরীর উপ-রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর কাজের প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঝাড়খন্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব পালনের সময় আদিবাসী সমাজের সঙ্গে তাঁর নিবিড় বন্ধন গড়ে উঠেছিল। শ্রী রাধাকৃষ্ণন প্রায়শই প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে রাত্রিবাস করতেন এবং ঐ অঞ্চলের মানুষের চাহিদাগুলি সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করতেন। “রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আপনার সেবা করার মানসিকতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে শ্রী রাধাকৃষ্ণনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত স্তরে পরিচিতির প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, তিনি পদের কথা বিবেচনা না করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। “জনজীবনে পদের বিভিন্ন নিয়মকানুনের বাইরে গিয়ে আপনি সাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে মেশেন। এটিই আপনার শক্তি।” শ্রী মোদী বলেন, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান “ডলার সিটি”তে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেই শহরের একটি নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু তিনি ঐ শহরের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষদের কল্যাণের কথা ভেবে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
শ্রী মোদী জানান, শৈশবে শ্রী সি পি রাধাকৃষ্ণন মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে ফিরেছেন। একবার অবিনাশী মন্দির সংলগ্ন পুকুরে তিনি প্রায় ডুবে যাচ্ছিলেন। চেয়ারম্যান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁর বেঁচে ফেরাকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে বর্ণনা করেন। আরেকবার কোয়েম্বাটোরে শ্রী লালকৃষ্ণ আদবানীর একটি পূর্ব নির্ধারিত যাত্রার ঠিক আগে বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে ৬০-৭০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান একটুর জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
“এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য। তাই তিনি সমাজের কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তাঁকে ইতিবাচক নানান পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, শ্রী রাধাকৃষ্ণন প্রথম যখন কাশীতে যান, তখন তিনি মা গঙ্গার আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে আমিষ খাওয়া ত্যাগ করার সঙ্কল্প করেন। এই সিদ্ধান্তের থেকে আধ্যাত্মিকতায় তাঁর সংবেদনশীলতা এবং খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব পছন্দ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। “আপনার ছাত্র জীবন থেকেই নেতৃত্বদানের ক্ষমতা প্রকাশিত হয়। আজ আপনি জাতীয় নেতা হিসেবে আমাদের পথ দেখাবেন। এটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার সময় রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সাহসিকতার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। তিনি সেই সময় সীমিত সম্পদের মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবিচল থাকার মানসিকতা প্রতিফলিত হয়। “আপনার গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সংগ্রামে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ছিল। যেভাবে আপনি সকলের মধ্যে ছিলেন, তাতে বহু মানুষ অনুপ্রাণিত হন এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের কাছে আপনি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।”
প্রধানমন্ত্রী চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রসঙ্গটিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শ্রী রাধাকৃষ্ণনকে যে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে, তিনি তা যথাযথভাবে পালন করেছেন। এক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব পালনের সময় নতুন নতুন ধারণা নিয়ে এসেছেন যা তরুণ নেতাদের কাছে বিভিন্ন সুযোগ করে দিয়েছে। “কোয়েম্বাটোরের জনগণ আপনাকে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত করেন। সেই সময় সংসদে আপনি আপনার লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের দাবি জানাতেন। সাংসদ হওয়ার সময় এবং তার আগে এই বিষয়গুলি নিয়ে আপনি আলোচনা করেছেন।”
সাংসদ হিসেবে চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন বিপুল অভিজ্ঞতার অধিকারী। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি সংসদ এবং দেশকে যথাযথভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
Thiru CP Radhakrishnan Ji comes from a humble farming background and has devoted his entire life to public service: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 1, 2025
Seva, Samarpan and Sanyam have been integral to the personality of Thiru CP Radhakrishnan Ji: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) December 1, 2025


