শেয়ার
 
Comments

"আমরা সংশোধনীমূলক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং সরকার এই কাজ জারি রাখবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তরান্বিত করতে ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে’’‌ ~ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার প্রাথমিকভাবে একাধিক বিষয়ে সংশধোনীর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে চেয়েছে। এই সংশোধনী নীতিগুলিই দেশের অর্থনীতিকে উন্নতি করার মাধমে দেশে প্ৰবৃদ্ধির চরিত্রকে দৃঢ় করতে চাইছে।

 উৎপাদন ক্ষেত্র – অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি

 মেক ইন ইন্ডিয়া ভারতকে উৎপাদন কেন্দ্র রূপে রূপান্তর করেছে, ২৫টি ক্ষেত্রকে কভার করে। 

মেক ইন ইন্ডিয়ার দৌলতে ভারত এখন বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন নির্মাণকারীর দেশ। আরেকটু বিস্তারিত বলতে গেলে ২০১৪ সালে ভারতে মাত্র ২টি মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থা ছিল সেটা বেড়ে ২০১৮ সালে হয়েছে ১২০টি সংস্থা। কিছুদিন আগে নয়ডাতে বিশ্বের সবথেকে বড় মোবাইল কারখানার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, যেখানে একটি কারখানায় বিশাল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হবে।

আমরা যদি মোবাইল ফোন উৎপাদনের সংখ্যাটা দেখি তাহলে দেখা যাবে ২০১৪ সালে যেখানে ৬ কোটি মোবাইল ফোন তৈরি হয়েছিল, ২০১৮-১৮ সালে তা একলাফে বেড়ে হয়েছে ২২.৫ কোটি। ২০১৭-১৮ সাসে ভারত ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা ২০১৪ সালে ছিল ১৮,৯৯২ কোটি টাকা। 

মেক ইন ইন্ডিয়া দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে ৬১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে দেশে। যত বেশি বিনিয়োগ হবে, তত বেশি কর্মসংস্থান হবে এবং তত বেশি প্রবৃদ্ধি হবে।

এমএসএমই-কে সাহায্য করা হচ্ছে

 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্পকে আর দৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর কারণ এই ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে এবং আরো অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

 এমএসএমই-র প্রয়োজনীয়তা ও মুদ্রা ঋণ কিভাবে এই ক্ষেত্রকে আরো মজবুত করেছে সে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন-

"মুদ্রা যোজনার মাধ্যমে এমএসএমই অনেকটাই জোর পাচ্ছে। ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলাতে এমএসএমই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে এবং আমাদের সরকার এই ক্ষেত্র আরও বাড়িয়ে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে"।

 ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা (পিএমএমওয়াই) শুরু হওয়ার পর থেকে এমএসএমই-তে সবথেকে বেশি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সহজে বিনাবাধায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে।

 মুদ্রা যোজনার আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ কোটি ক্ষুদ্র মুদ্রা উদ্যোগপতি ৬.২ লক্ষ কোটি টাকার পেয়েছেন। আনন্দের বিষয় এটিই যে, এর ফলে গত তিন বছরে ৩.৪৯ কোটি নতুন উদ্যোগপতি উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ সুবিধাভোগী হলেন মহিলা। দেশের গরিবদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়ন হচ্ছে, মুদ্রা যোজনার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দরিদ্র উদ্যোগপতি হলেন তফশিলি/উপজাতি/ওবিসি সম্প্রদায়ভূক্ত।

মাঝারি উদ্যোগের বিকাশের উদ্দেশ্যে, যে সমস্ত কোম্পানির বার্ষিক টার্ন ওভার ৫০ কোটি টাকা থেকে ২৫০ কোটি টাকা মধ্যে, তাদের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

এনডিএ সরকারের অধীনে অর্থনৈতিক সংস্কার গ্রহণ করা হয়েছে

 এনডিএ সরকারের জমানায় দেশের পবিবর্তন আনার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটেছে। বিগত চার বছরে ব্যাংকিং, কর সংশোধনী-সহ অন্যান্য সংশোধনীর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 ব্যাংকিং সংস্কার

ক্রমবর্ধমান এনপিএ সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য এনডিএ সরকারের অধীনে দেউলিয়া ও ঋণ খেলাপি বিধি (আইবিসি)-র সূচনা করা হয়েছে। ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য এবং ব্যঙ্কিং সেক্টরকে সচল রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এর ফলে ব্যঙ্কের সুবৃদ্ধি হয়েছে।

এনডিএ সরকারের অধীনে রাষ্ট্রায়্ত্ব ব্যঙ্কগুলির পুণঃপুজিকরণের জন্য ২,১১,০০০ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছে যা দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

এছারাও রাষ্ট্রায়্ত্ব ব্যঙ্কগুলিকে এক পরিচয় দেওয়ার জন্য এনডিএ সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।  

কর সংস্কার

 এনডিএ সরকারের অধীনে পণ্য ও পরিষেবা করের সূচনার মাধ্যমে সবথেকে বড় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জিএসটি নিয়ে সরকার জনমত গ্রহণ করেছে, রাজ্যগুলির কাছ থেকে সহযোগিতা আদায় করে ২০১৭ সালে জিএসটি বিল পাস করা হয়েছে। এর পরে গোটা দেশে সফলভাবে জিএসটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 জিএসটি চালুর সাথে

জিএসটি চালু হওয়ার ফলে উপকৃত হবেন ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায়ীরা কারণ একাধিক কর বিলুপ্ত হচ্ছে। পরিবহন মূল্য বৃদ্ধি পেলেও তা এতে কোনো প্রভাব ফেলবে না ফলে কম টাকা খরচ হবে ক্রেতাদের এবং এতে তারা উপকৃত হবেন।

কর বেস বাড়িয়ে এবং কর সম্মতি বাড়িয়েছে এনডিএ সরকার। বিগত ৪ বছরে আয়কর দাখিল বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮০.৫ শতাংশ, যা ২০২৩-১৪ ছিল ৩.৭৯ কোটি,  ২০১৭-১৮ সালে সেখান থেকে তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৬.৮৪ কোটি।

 

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার

ব্যাংকিং এবং কর সংস্কার ছাড়াও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করে।

বাণিজ্যিক কয়লা খনিগুলো থেকে বেসরকারি সংস্থাকে কয়লা উত্তোলন করার ভার দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮৯ শতাংশ কয়লা খনি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৮৯টি কয়লা খনির মধ্যে ৩১টি খনি ই-দরকষাকষির মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৫৮টি থেকে কয়লা উত্তোলন করবে সরকারি সংস্থা।

 

রেরা রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে গৃহ ক্রেতাদের আর নির্মাণকারীদের হাতের পুতুল হতে হবে না। এই আইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাত আরো মজবুত ও সুরক্ষিত করা হয়েছে।

শ্রম সংস্কার

 পিএফ-গুলির মাধ্যমে সরকার চালাতে এবং কর্মীদের নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যদি বহুজাতিক সংস্থাতেও পরিণত হয় তাও এই ব্যবস্থা চালু থাকবে। পেমেন্ট অফ ওয়েজেস আইন (২০১৭)-তে শ্রম সুবিধা একটু বড়সড় পরিবর্তনের প্রভাবে শ্রমজীবী মানুষের নূন্যতম পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

 দৃঢ় অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্মান

নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে ভারতের অর্থনীতি ব্যাপক উন্নতির মুখ দেখেছে একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভুত বিষয়ে এগিয়েছে।

২০০৫ সালে বিশ্বের জিডিপি-তে ভারতের অনুদান ছিল ১.৭৫ শতাংশ ২০১৩ সালে মাত্র ৮ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২.৪৩ শতাংশ। আর মাত্র ৪ বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের অনুদান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.০৮ শতাংশ।

২০১৮-১৯ সালের প্রথম দিকে ভারতের জিডিপি বেড়ে হয়েছিল ৮.২ শতাংশ। এর থেকে বোঝা যায় যে চিনের থেকেও দ্রুত হারে বাড়ছে ভারত। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও বাড়ছে।

অর্থনীতির বৃদ্ধি ছাড়াও বিগত ৪ বছরে ভারত বেশ কয়েকটি মাইলস্টোন ছুঁয়েছে। ১৪ বছরে এই প্রথম মুডিস ভারতের স্থান বিএএ৩ থেকে বাড়িয়ে বিএএ২-তে তুলে দিয়েছে। ২০১৭ সালে ইজ অফ ডুইং বিজনেস তালিকায় ২০১৪-র ১৪২তম স্থান থেকে উঠে এসে ১০০তম অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের নিরবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির ফলে ভারত বিশ্ব অর্থনীতিতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ডোনেশন
Explore More
আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় ভাষণ

আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
‘Modi Should Retain Power, Or Things Would Nosedive’: L&T Chairman Describes 2019 Election As Modi Vs All

Media Coverage

‘Modi Should Retain Power, Or Things Would Nosedive’: L&T Chairman Describes 2019 Election As Modi Vs All
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
শেয়ার
 
Comments

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কোনও দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটা সকলেরই জানা যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর আলাদা করে জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন ভারতের স্বপ্ন চরিতার্থ করার জন্য এনডিএ সরকার রেলপথ, সড়কপথ, জলপথ, আকাশপথ এবং সাধ্যের মধ্যে বাসস্থানের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছে।

রেলপথ

ভারতীয় রেলপথ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে রেল ট্র্যাকের পুনর্নবীকরণের গতি, প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং অপসারণ এবং ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেলওয়ে সুরক্ষা বিষয়ে সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েছে, ২০১৭-১৮ সালে ১০০টিরও কম রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্যে উঠে এসেছে যে, ২০১৩-১৪ সালে ১১৮টি রেল দূর্ঘটনা ঘটেছিল, ২০১৭-১৮ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩টি-তে। তুলে দেওয়া হয়েছে প্রহরাবিহীন ৫,৪৬৯টি লেভেল ক্রসিংকে, ২০০৯-১৪-র তুলনায় ২০ শতাংশের থেকেও বেশি। ২০২২ সালের মধ্যে ব্রডগেজ রুটগুলির সমস্ত প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেল উন্নয়নে গতি ফিরছে, ২০১৭-১৮ সালে ট্র্যাক পুনর্নবীকরণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৪০৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, যা ২০১৩-১৪-তে ছিল ২,৯২৬ কিলোমিটার। গত ৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে ২০০৯-১৪ (৭,৬০০কিমি) সালের থেকে অনেক বেশি (৯,৫২৮ কিমি) কাজ করেছে।

এই প্রথমবার উত্তর-পূর্ব ভারত ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ফলে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হল। ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পর মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামকে রেলওয়ে মানচিত্র মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।

নতুন ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন। মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদের মধ্যে যে বুলেট ট্রেন চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে, এতে করে এই রুটে যাতায়াতের সময় ৮ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টায় নেমে আসবে।

বিমান পরিষেবা

অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও আমুল পরিবর্তন আসছে। উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) কর্মসূচির আওতায় সাধ্যের মধ্যে আকাশপথে যাত্রা সম্ভব হয়েছে, মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ২৫টি বিমানবন্দর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭৫টি বিমানবন্দর ছিল দেশে।  আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালু করা হয়েছে দেশের পিছিয়ে পরা ছোট বিমানবন্দরগুলিতে, আঞ্চলিক রুটে এক ঘন্টার যাত্রা পথে বিমানের নির্ধারিত ভাড়া ২৫০০ টাকা করার ফলে অনেক ভারতীয়র বিমানে যাত্রা করার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। যার ফলে এই প্রথমবার দেশের বহু মানুষ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনে নয় বিমানে যাতায়াত করেছেন।

বিগত তিন যাত্রী পরিবহনের মাত্রা ১৮-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান পরিবহণ ক্ষেত্ররূপে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৭ সালে আন্তঃদেশীয় বিমানের যাত্রী সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে।

জাহাজ চলাচল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের অধীনে ভারত নৌবিভাগেও ব্যাপক উন্নতি করেছে। বন্দর অঞ্চলগুলি উন্নত হওয়ার ফলে দেশের বড় বড় বন্দরগুলিতে যাতায়াতের সমব কমে গেছে প্রায় তিনগুন, ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ৯৪ ঘন্টা লাগত ২০১৭-১৮ সালে তা কমে দাড়িয়েছে ৬৪ ঘন্টায়।

প্রধান বান্দরগুলিতে পণ্য পরিবহনের উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষের ৫৭০.৩২ মেট্রিক টন থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে ৫৪৫.৭৯ মেট্রিক টন হয়েছিল। কিন্তু এনডিএ সরকারের অধীনে ১০০ মেট্রিক টনেও থেকেও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ৬৭৯.৩৬৭ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

অন্তর্দেশীয় জলপথে যাতায়াত বাড়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় খরচ কমেছে অনেকটা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে এবং সেইসঙ্গে কমেছে দূষণ। বিগত ৪ বছরে ১০৬টি জাতীয় জলপথ যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বিগত ৩০ বছর ধরে যেখানে ছিল মাত্র ৫টি জাতীয় জলপথ।

সড়ক উন্নয়ন

রূপান্তরমূলক প্রকল্প ভারত মালা পরিযোজনার অধীনে মাল্টি-মোডাল পদ্ধতিতে জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় সড়ক ১,২০,৫৪৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালে ছিল ৯২,৮৫১ কিলোমিটার।

সুরক্ষিত সড়কের জন্য সেতু ভারত প্রকল্পে ২০,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সমস্ত জাতীয় মহাসড়ককে রেলওয়ে ক্রসিং থেকে মুক্ত করার জন্য রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণের গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে প্রতিদিনে ১২ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হত, যা ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ কিলোমিটারে।

 

জম্মুতে ভারতের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ চেনানি-নাসরি তৈরি করার পাশাপাশি অরুনাচল প্রদেশে ধোলা-সাদিয়া ভারতের দীর্ঘতম সেতু নির্মানের মাধ্যমে ভারতের দূরতমস্থানে উন্নয়ন পৌছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সরকার নিয়েছিল তা পালন করতে পেরেছে। কোটা অঞ্চলে ভারুচ ও চম্বলের মাঝে নর্মদা নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে আরো শক্তিশালী হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

গ্রামীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অনুঘটকের মতো কাজ করে। বিগত ৪ বছরে প্রায় ১.৬৯ লক্ষ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে দিনে ৬৯ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হত, ২০১৭-১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৪ কিলোমিটার প্রতিদিনে। বর্তমানে, গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশের বেশি, যা ২০১৪ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ, এর ফলে গ্রামগুলি ভারতের বিকাশের কাহানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যটন বারানোর পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের জন্য চার ধাম মহার্মাগ বিকাশ পরিযোজনার সুচনা করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রায় গতি ও সুরক্ষা এসেছে এবং সহজলভ্য হয়েছে যাত্রা। এর অধীনে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয়ে ৯০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করতে নানা ধরনের কৌশল গ্ৰহন করা হয়েছে তাতে মজবুত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। শুধুমাত্র এনডিএ সরকারের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ সালে রেকর্ড পরিমান মাল পরিবহন (১,১৬০ মেট্রিক টন) হয়েছে।

নগর উন্নয়ন

স্মার্ট সিটির মাধ্যমে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০টি নগর কেন্দ্র বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা ও উন্নতিসাধন করা সম্ভব হয়েছে। এই শহরগুলিতে বিভিন্ন রকমের উন্নয়নমূলক কাজে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত করেছে। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২,০১,৯৭৯ কোটি টাকা।  

গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ক্রয়সীমার মধ্যে প্রায় ১ কোটি গৃহ নির্মান করা সম্ভব হয়েছে। মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ৪ শতাংশ ও ৩ শতাংশ সুদের হারে ৯ লক্ষ ও ১২ লক্ষ টাকা গৃহ ঝণ প্রদান করা হয়েছে।