“In Indian history, Meerut has not just been a city but a significant center of culture and strength”
“For sports to thrive in the country, it is necessary that the youth should have faith in sports and should be encouraged to take up sports as a profession. This is my resolve, and my dream”
“With the advent of sporting infrastructure in villages and small towns, there are a rising number of sportspersons from these places”
“Emerging sporting eco-system with resources and new streams is creating new possibilities. This generates trust in the society that moving towards sports is the right decision”
“Meerut is not only vocal for local but is also turning local into global”
“Our goal is clear. The Youth should not only become role model but also recognize their role models”

ভারতমাতার জয়।

ভারতমাতার জয়।

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দিবেন প্যাটেলজি, এই রাজ্যের জনপ্রিয় এবং প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রী শ্রী যোগী আদিত্যনাথজি, উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যজি, আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য শ্রী সঞ্জীব বাল্যানজি, জেনারেল ভি কে সিং-জি, মন্ত্রী শ্রী দীনেশ খটিকজি, শ্রী উপেন্দ্র তিওয়ারিজি, শ্রী কপিল দেব আগরওয়ালজি, সংসদে আমার সঙ্গী শ্রী সত্যপাল সিং-জি, শ্রী রাজেন্দ্র আগরওয়ালজি, শ্রী বিজয়পাল সিং তোমরজি, শ্রীমতী কান্তা কর্দমজি, বিধায়ক ভাই সৌমেন্দ্র কুমারজি, ভাই সঙ্গীত সোমজি, ভাই জিতেন্দ্র সতওয়ালজি, ভাই সত্যপ্রকাশ আগরওয়ালজি, মীরাট জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ শ্রী গৌরব চৌধুরিজি, মুজফফরনগর জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ শ্রী বীরপালজি, উপস্থিত অন্যান্য সকল জনপ্রতিনিধিগণ আর মীরাট, মুজফফরনগর এবং দূরদুরান্তের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যায় আগত আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সবাইকে ২০২২ সালের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

বছরের শুরুতেই আমার এই মীরাটে আসা, আজকের এই ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠান আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ইতিহাসে মীরাটের স্থান নিছকই একটি শহর হিসেবে নয়, মীরাট বরাবরই আমাদের দেশের সংস্কৃতি, আমাদের সামর্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও। রামায়ণ এবং মহাভারতের কাল থেকে শুরু করে জৈন তীর্থঙ্করদের সময় হয়ে গুরু নানকের পাঁচ প্রত্যক্ষ অনুগামী ‘পঞ্জ-প্যায়ারোঁ’র অন্যতম ভাই, ভাই ধর্ম সিংহ পর্যন্ত মীরাট দেশের আস্থাকে প্রাণশক্তি যুগিয়ে গেছে।

সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে দেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম, তথাকথিত সিপাহী বিদ্রোহের সময় পর্যন্ত এই এলাকা বিশ্বকে ভারতের সামর্থ্য কী হতে পারে বারবার তা দেখিয়েছে। ১৮৫৭ সালে বাবা ঔঘড়নাথ মন্দির থেকে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার ধিকিধিকি আগুন যেভাবে ক্রমে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল, দিল্লি অভিযানের আহ্বান যেভাবে জনমানসে ছড়িয়ে পড়ল, সেই আগুনের আলো পরাধীনতার অন্ধকার সুড়ঙ্গে দেশবাসীকে নতুন আলো দেখাল। স্বাধীনতার এই প্রেরণা নিয়ে এগোনোর মাধ্যমেই একদিন আমরা স্বাধীন হয়েছি, আর আজ গর্বের সঙ্গে আমরা স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব পালন করছি। আমার সৌভাগ্য যে এখানে আসার আগে আমার বাবা ঔঘড়নাথ মন্দিরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমি অমর জওয়ান জ্যোতিতে সম্মান জানাতেও গিয়েছি। স্বাধীনতা সংগ্রাম সংগ্রহালয়ে সেই অনুভূতিকে অনুভব করেছি, যা দেশের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মনে কিছু করে দেখানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছিল।

ভাই ও বোনেরা,

মীরাট দেশের আরও এক মহান সন্তান মেজর ধ্যানচাঁদজিরও কর্মস্থল ছিল। কয়েক মাস আগে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের সবচাইতে বড় ক্রীড়া পুরস্কারের নাম আমাদের প্রিয় ‘দদ্দা’ বা মেজর ধ্যানচাঁদজির নামে করে দিয়েছে। আজ মীরাটের ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ও মেজর ধ্যানচাঁদজির নামেই সমর্পণ করেই দেশবাসীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম মেজর ধ্যানচাঁদজির মতো ক্রীড়াবিদের নামের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তাঁর পরাক্রম তো প্রেরণা যোগায়ই, কিন্তু তাঁর নামের মধ্যেও একটা বার্তা রয়েছে। তাঁর নামের যে প্রধান শব্দ, সেটি হল ‘ধ্যান’। ধ্যান কেন্দ্রিভূত করে কোনরকম ‘ফোকাসড অ্যাক্টিভিটি’ বা একাগ্রভাবে তৎপর হয়ে পরিশ্রম না করলে কখনও সাফল্য আসে না, আর এজন্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ধ্যানচাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তখন সেখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে  সম্পূর্ণ ‘ধ্যান’ দিয়ে পরিশ্রম করা নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা দেশের নাম উজ্জ্বল করবেই। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আমি উত্তরপ্রদেশের নবীন প্রজন্মের মানুষদের রাজ্যের প্রথম ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আমি নিশ্চিত যে, ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মীয়মান এই আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠবে। এখানে নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা ক্রীড়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধাগুলি তো পাবেনই, সেইসঙ্গে এখানে ক্রীড়াকে একটি পেশা রূপে বেছে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নের কাজও সুনিশ্চিত করা হবে। এখান থেকে প্রতি বছর ১ হাজারেরও বেশি ছেলে-মেয়ে উন্নতমানের খেলোয়াড় হয়ে বেরোবে। অর্থাৎ, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নগরী, ক্রান্তিবীরদের নগরী এখন ক্রীড়াবীরদের নগরী হিসেবে তার পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

বন্ধুগণ,

আগের সরকারগুলির সময়ে উত্তরপ্রদেশে অপরাধীরা তাদের খেলা খেলত, মাফিয়ারা তাদের খেলা খেলত। আগে এ রাজ্যে অবৈধ দখলদারির টুর্নামেন্ট হত। মেয়েদের অসম্মান করা, শ্লীলতাহানি করা লোকেরা বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়াত। আমাদের মীরাটের চারপাশের এলাকাগুলির বাসিন্দারা কখনও ভুলতে পারবেন না কিভাবে মানুষের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হত, আর এই ধরনের খেলায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন পারদর্শী ছিলেন। মানুষ যে তাঁদের বংশপরম্পরায় পাওয়া ঘর-বাড়ি, সম্পত্তি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হতেন তা আগের সরকারগুলির এই খেলারই ফল।

আগে কী কী ধরনের খেলা হত, এখন যোগীজির সরকার সেই অপরাধীদের সঙ্গে জেল জেল খেলছে। পাঁচ বছর আগে এই মীরাটের মেয়েরা সন্ধ্যা হওয়ার পর বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পেতেন। আজ মীরাটের মেয়েরা গোটা দেশের নাম উজ্জ্বল করছে। আগে এখানে, এই মীরাটের সতীগঞ্জ বাজারে চোরাই গাড়ি কেনাবেচার যে খেলা চলত, তারও এখন ‘দ্য এন্ড’ হয়ে গেছে। এখন উত্তরপ্রদেশে প্রকৃত ক্রীড়াকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের যুব সম্প্রদায় প্রকৃত ক্রীড়াবিশ্বে নিজেদের পরাক্রম দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

বন্ধুগণ,

আমাদের শাস্ত্রে বলা হয় –

“মহাজন য়েন গতাঃ স পন্থাঃ”

অর্থাৎ, যে পথে মহান ব্যক্তিরা, মহাপুরুষেরা গেছেন, সেটাই আমাদের পথ। কিন্তু এখন ভারত বদলে গেছে। এখন আমরা একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি আর এই একবিংশ শতাব্দীর নতুন ভারতে সবচাইতে বড় দায়িত্ব আমাদের যুব সম্প্রদায়ের কাঁধে ন্যস্ত রয়েছে। সেজন্য এখন মন্ত্রটাও বদলে গেছে। একবিংশ শতাব্দীর মন্ত্র হওয়া উচিৎ -

“য়ুবা জন গতাঃ স পন্থাঃ”

অর্থাৎ, যে পথে যুবক-যুবতীরা এগিয়ে যাবেন, সেই পথই এখন দেশবাসীর পথ হবে। যেদিকে যুবক-যুবতীরা পা বাড়াবেন, লক্ষ্যও নিজে থেকেই চরণ চুম্বন করতে শুরু করবে। যুবক-যুবতীরাই নতুন ভারতের কর্ণধার। তাঁরাই নতুন ভারতকে বিস্তার দেবেন। যুবক-যুবতীরা নতুন ভারতের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবেন। তাঁরাই নতুন ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন। আমাদের আজকের যুব সম্প্রদায়ের কাছে প্রাচীনতার ঐতিহ্যও রয়েছে, পাশাপাশি আধুনিকতার বোধও রয়েছে, আর সেজন্য যেদিকে যুব সম্প্রদায় চলবে, সেদিকেই ভারত চলবে আর যেদিকে ভারত চলবে সেদিকেই এখন সারা পৃথিবী চলবে। আজ আমরা যদি দেখি যে বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সাহিত্য পর্যন্ত, স্টার্ট-আপ থেকে শুরু করে ক্রীড়া পর্যন্ত – সকল ক্ষেত্রে ভারতের যুব সম্প্রদায় নিজেদের কৃতিত্বের পতাকা ওড়াচ্ছে।

ভাই ও বোনেরা,

ক্রীড়াবিশ্বে অংশগ্রহণকারী আমাদের যুবক-যুবতীরা আগেও সামর্থ্যবান ছিলেন। তাঁদের পরিশ্রমে আগেও কখনও খামতি ছিল না। আমাদের দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিও যুগ যুগ ধরে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। আমাদের গ্রামগুলিতে প্রতিটি উৎসবে, প্রতিটি পরবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। মীরাটে যে দঙ্গল হয়, তাতে অংশগ্রহণ করলে যে ঘি-এর ‘পিপে’ এবং লাড্ডু পুরস্কার পাওয়া যায়, তার স্বাদ পাওয়ার জন্য সবাই ওই খেলায় অংশগ্রহণ করতে চান। কিন্তু এটাও সত্য যে পূর্ববর্তী সরকারগুলির নীতির ফলে তাদের খেলা এবং খেলোয়াড়দের প্রতি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা ছিল। আগে শহরের কোনও যুবক যখন নিজের পরিচয় খেলোয়াড় হিসেবে দিতেন, যদি তাঁরা বলতেন যে আমি তো খেলোয়াড়, অমুক খেলা খেলি বা অমুক খেলায় আমি সাফল্য পেয়েছি, তখন সামনের মানুষটি কী জিজ্ঞাসা করতেন জানেন? সামনের মানুষটি জিজ্ঞাসা করতেন, হ্যাঁ বাবা, খেলাধূলা কর ঠিক আছে, কিন্তু কাজ কী কর? অর্থাৎ, খেলাধূলাকে কোনও সম্মানজনক কিছু বলে মানা হত না।

গ্রামে যদি কেউ নিজেকে খেলোয়াড় বলতেন, তখন গ্রামের লোকেরা বলতেন, “ও! তাহলে সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশে চাকরি পাওয়ার জন্য খেলছো?” অর্থাৎ, খেলাধূলার প্রতি ভাবনা এবং সামগ্রিক চিন্তাভাবনার পরিধি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে থেকে গিয়েছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলি যুব সম্প্রদায়ের এই সামর্থ্যকে কোনও গুরুত্বই দেয়নি। এই সরকারগুলির দায়িত্ব ছিল যে সমাজে খেলাধূলার প্রতি যে ভাবনা ছিল, সেই ভাবনাকে বদলে খেলা ও খেলোয়াড়দের এর থেকে বের করে আনা। কিন্তু তারা উল্টোটাই করেছে। অধিকাংশ খেলার প্রতিই দেশে অনীহা ছিল ক্রমবর্ধমান। এর পরিণামে, যে হকি খেলায় পরাধীন ভারতেও মেজর ধ্যানচাঁদের মতো প্রতিভারা দেশের গৌরব বাড়িয়েছেন, সেই খেলায় মেডেল পাওয়ার জন্য আমাদেরকে অনেক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেখানে হকি প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ থেকে ‘অ্যাস্ট্রোটার্ফ’-এর দিকে এগিয়ে গেছে, সেখানে আমরা এতদিন ঘাসের মাঠেই পড়েছিলাম। যখন আমরা অবশেষে জেগে উঠলাম, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তার ওপর প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে টিম নির্বাচন পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে স্বজনপোষণ, পরিবারতন্ত্র, জাতপাত আর দুর্নীতির খেলা। ক্রমাগত প্রত্যেক পদক্ষেপে বৈষম্য এবং অস্বচ্ছতা আমাদের হকির জগতকে আকীর্ণ করে রেখেছিল। বন্ধুগণ, হকি তো একটা উদাহরণ মাত্র। এটা প্রত্যেক খেলারই কাহিনী ছিল। পরিবর্তিত প্রযুক্তি, পরিবর্তিত চাহিদা, পরিবর্তিত দক্ষতার জন্য দেশের পূর্ববর্তী সরকারগুলি উন্নত ইকো-সিস্টেম তৈরি করতেই পারেনি।

বন্ধুগণ,

দেশের যুব সম্প্রদায়ের যে অসীম প্রতিভা ছিল তা সরকারি অনীহার কারণে, নানা রকম প্রতিকূলতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০১৪-র পর সেই শৃঙ্খল ভেঙে বাইরে বের করার জন্য আমরা প্রত্যেক স্তরে সংস্কার করেছি। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্য আমাদের সরকার খেলোয়াড়দের চারটি অস্ত্র দিয়েছে। খেলোয়াড়দের চাই ক্রীড়া উপকরণ, খেলোয়াড়দের চাই আধুনিক প্রশিক্ষণের সুবিধা, খেলোয়াড়দের চাই আন্তর্জাতিক এক্সপোজার, আর খেলোয়াড়দের চাই নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা। আমাদের সরকার বিগত বছরগুলিতে ভারতের খেলোয়াড়রা যাতে এই চারটি অস্ত্র অবশ্যই পান, তা সুনিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমরা ক্রীড়াক্ষেত্রের যুবক-যুবতীদের ফিটনেস এবং তাঁদের কর্মসংস্থান, স্বরোজগার, তাঁদের কেরিয়ারের সঙ্গে যুক্ত করেছি। ‘টার্গেট অলিম্পিক পডিয়াম স্কিম’ অর্থাৎ, ‘টপস’ এমনই একটি প্রচেষ্টা ছিল।

আজ সরকার দেশের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের খাওয়া-দাওয়া, ফিটনেস থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। ‘খেলো ইন্ডিয়া অভিযান’-এর মাধ্যমে আজ অত্যন্ত কম বয়সেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিভাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এমন খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট হিসেবে গড়ে তুলতে, তাঁদের সব ধরনের সম্ভাব্য সাহায্য করা হচ্ছে। এই প্রচেষ্টাগুলির ফলে আজ যখন ভারতের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করেন, তখন তাঁদের প্রদর্শনকে বিশ্ববাসী দেখেন, প্রশংসা করেন। গত বছর আমরা অলিম্পিকে দেখেছি, আবার প্যারালিম্পিকে দেখেছি, যা ইতিহাসে কখনও হয়নি, সেটাই গতবছর আমার দেশের বীর পুত্র-কন্যারা করে দেখিয়েছেন। তাঁরা এত বেশি মেডেল পেয়েছেন, এত পদক পেয়েছেন যে গোটা দেশ বলে উঠেছে, এক স্বরে বলে উঠেছে – ‘ক্রীড়া ময়দানে ভারতের উদয় হয়েছে’।

ভাই ও বোনেরা,

আজ আমরা দেখছি যে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডের অনেক ছোট ছোট গ্রামে সাধারণ পরিবারগুলি থেকে ছেলে-মেয়েরা উঠে এসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমন সব খেলায় আমাদের ছেলে-মেয়েরা এগিয়ে আসছেন, যেগুলিতে আগে সম্পদসম্পন্ন পরিবারের যুবক-যুবতীরাই অংশগ্রহণ করতে পারতেন। এই এলাকার অনেক খেলোয়াড়রা এবং অলিম্পিক্স এবং প্যারালিম্পিক্সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সরকার গ্রামে গ্রামে যে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তুলছে, এটা তারই পরিণাম। আগে ভালো স্টেডিয়াম শুধু বড় শহরগুলিতেই ছিল। আজ গ্রামের কাছেই খেলোয়াড়দের এই সুবিধাগুলি দেওয়া হচ্ছে।

বন্ধুগণ,

আমরা যখনই একটি নতুন কর্মসংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, তখন এর জন্য তিনটি জিনিসের প্রয়োজন হয় – সান্নিধ্য, ভাবনা এবং সম্পদ। ক্রীড়ার সঙ্গে আমাদের সান্নিধ্য অনেক শতাব্দী প্রাচীন। কিন্তু ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য শুধু খেলার সঙ্গে আমাদের পূর্ণ সম্পর্ক দিয়েই কাজ চলবে না, আমাদের এর জন্য নতুন ভাবনা-চিন্তারও প্রয়োজন। দেশে বিভিন্ন ক্রীড়ার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় হল আমাদের যুবক-যুবতীদের মনে খেলা নিয়ে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা। খেলাকে তাঁদের পেশায় পরিণত করার সাহস বাড়ানো আর এটাই আমারও সঙ্কল্প, আমার স্বপ্নও এরকমই ছিল। আমি চাই, যেভাবে মানুষ অন্যান্য পেশাদারদের দেখে, তেমনভাবেই আমাদের নবীন প্রজন্ম ক্রীড়াকে দেখুক। আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে যাঁরাই খেলাধূলায় যাবেন, সবাই বিশ্বের ১ নম্বর হবেন না। এটা সম্ভব নয়। এর কোনও প্রয়োজনও নেই। আরে, দেশে যখন ক্রীড়া ইকো-সিস্টেম তৈরি হবে তখন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট বা ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্পোর্টস রাইটিং বা ক্রীড়া লিখন, ক্রীড়া সাংবাদিকতা, স্পোর্টস সাইকলজি বা ক্রীড়া মনস্তত্ত্ব – এরকম ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ধীরে ধীরে সমাজে এই বিশ্বাস জন্ম নেবে যে যুবক-যুবতীদের খেলার দিকে যাওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। এরকম ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন হয় অর্থের। যখন আমরা প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বিকশিত করে নিই, তখন ক্রীড়া সংস্কৃতি শক্তিশালী হতে শুরু করে। যদি খেলাধূলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বরাদ্দ থাকে, তাহলে দেশে ক্রীড়া সংস্কৃতিও প্রয়োজনীয় আকার নেবে, বিস্তারিত হবে।

সেজন্য আজ এই ধরনের ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠা এতটা জরুরি। এই ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় খেলার সংস্কৃতিকে পুষ্পিত ও পল্লবিত করার ক্ষেত্রে নার্সারির মতো কাজ করে। সেজন্যই স্বাধীনতার সাত দশক পর, ২০১৮-তে, আমাদের সরকার প্রথম ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি স্থাপন করে আমাদের উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুরে। বিগত সাত বছরে সারা দেশে ক্রীড়া-শিক্ষা এবং দক্ষতার সঙ্গে জড়িত অনেক প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক করে তোলা হয়েছে। আজ এখানে মেজর ধ্যানচাঁদ স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, এই ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ক্রীড়াক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার আরও একটি শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশ উপহার পেল।

বন্ধুগণ,

খেলার দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমি জানি যে মীরাটের মানুষ এ কথাটা খুব ভালোভাবেই জানেন। ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত পরিষেবা এবং সরঞ্জামের বিশ্ব বাজার লক্ষ কোটি টাকার। এখানে মীরাট থেকেই এখন ১০০-রও বেশি দেশে নানা ক্রীড়া সরঞ্জাম রপ্তানি হয়। মীরাট লোকালের জন্য যেমন ভোকাল হয়েছে, লোকালকে তেমন সাফল্যের সঙ্গে গ্লোবাল করে তুলেছে। আজ সারা দেশে এমন অনেক স্পোর্টস ক্লাস্টারও বিকশিত করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হল, দেশকে ক্রীড়ার নানা সরঞ্জাম ও উপকরণ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর করে তোলা।

এখন যে নতুন ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি চালু হচ্ছে, এই জাতীয় শিক্ষানীতিতেও ক্রীড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যক্রমে ক্রীড়াকে এখন সেই শ্রেণীতে রাখা হয়েছে, যেভাবে বিজ্ঞান, বাণিজ্য, গণিত, ভুগোল কিংবা অন্যান্য বিষয় নিয়ে পড়াশোনা হয়। আগে ক্রীড়াকে ‘একস্ট্রা কারিক্যুলার অ্যাক্টিভিটি’ বলে মনে করা হত, কিন্তু এখন স্কুলে স্পোর্টস একটি প্রধান বিষয় হিসেবে থাকবে। তাকে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হবে, যতটা অন্য যে কোনও বিষয়কে দেওয়া হয়।

বন্ধুগণ,

উত্তরপ্রদেশের যুব সম্প্রদায়ের এত প্রতিভা রয়েছে, আমাদের উত্তরপ্রদেশের যুবক-যুবতীরা এতই প্রতিভাবান যে তাঁদের জন্য যে কোনও আকাশই ছোট প্রমাণিত হবে। সেজন্য উত্তরপ্রদেশে ডবল ইঞ্জিন সরকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করছে। গোরক্ষপুরে ‘মহাযোগী গুরু গোরক্ষনাথ আয়ুষ ইউনিভার্সিটি’, প্রয়াগরাজে ‘ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ বিধি বিশ্ববিদ্যালয়’, লক্ষ্ণৌ-তে ‘স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ফরেন্সিক সায়েন্সেস’, আলিগড়ে ‘রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ সিং রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়’, সাহারানপুরে ‘মা শাকুম্বরী বিশ্ববিদ্যালয়’ আর এখানে, মীরাটে, ‘মেজর ধ্যানচাঁদ স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি’, - আমাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমাদের যুবক-যুবতীরা শুধুই রোল মডেল হবেন না, তাঁরা সমাজে তাঁদের রোল বা ভূমিকা সম্পর্কেও অবহিত হবেন।

বন্ধুগণ,

সরকারের ভূমিকা অভিভাবকের মতো হয়। যোগ্যতা থাকলে উৎসাহ দিতে হবে আর ভুল করলে এটা বলে দূরে সরালে চলবে না যে এরা ভুল করে। আজ যোগীজির নেতৃত্বাধীন সরকার যুবক-যুবতীদের রেকর্ড সংখ্যক সরকারি নিযুক্তি দিচ্ছে। আইটিআই থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে বড় বড় কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ প্রকল্পই হোক কিংবা প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা – লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। এবার অটলজির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ট্যাবলেট এবং স্মার্ট ফোন দেওয়ার অভিযানও শুরু করেছে।

বন্ধুগণ,

কেন্দ্রীয় সরকারের আরও একটি প্রকল্প সম্পর্কে উত্তরপ্রদেশের নবীন প্রজন্মের যুবক-যুবতীদের জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই প্রকল্পটি হল ‘স্বামীত্ব যোজনা’। এই যোজনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার গ্রামে বসবাসকারী জনগণকে ‘ঘরৌনী’ অর্থাৎ, তাঁদের সম্পত্তির মালিকানার অধিকার সংক্রান্ত কাগজ বা পরচা দিচ্ছে। ‘ঘরৌনী’ পেলে গ্রামের যুবক-যুবতীরা নিজেদের কাজকর্ম শুরু করার জন্য ব্যাঙ্ক থেকে সহজেই ঋণ পেতে পারবেন। এই ‘ঘরৌনী’ গরীব, দলিত, বঞ্চিত, পীড়িত, পিছিয়ে পড়া সমাজের প্রত্যেক বর্গের মানুষকে তাঁদের বাড়ির ওপর অবৈধ দখলদারির চিন্তা থেকে মুক্তি দেবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে যোগীজির সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এই ‘স্বামীত্ব যোজনা’কে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের ৭৫টি জেলায় ২৩ লক্ষেরও বেশি ‘ঘরৌনী’ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর যোগীজির সরকার এই অভিযানকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

ভাই ও বোনেরা,

এই এলাকার অধিকাংশ যুবক-যুবতী গ্রামাঞ্চলে থাকেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য আমাদের সরকার লাগাতার কাজ করে চলেছে। ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’র মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের লক্ষ লক্ষ কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রত্যক্ষ নগদ হস্তান্তর বা ডিবিটি-র মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। এর দ্বারা এই এলাকার ক্ষুদ্র কৃষকরাও অনেক উপকৃত হচ্ছেন।

বন্ধুগণ,

যাঁরা আগে ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা আপনাদের কাছ থেকে আখ কিনে তার দাম বিভিন্ন কিস্তিতে অল্প অল্প করে দিয়ে প্রতীক্ষায় রাখতেন। যোগীজির সরকারের আমলে কৃষকদের কাছ থেকে যত আখ কেনা হয়েছে আর যত টাকা কৃষকরা পেয়েছেন, ততটা পূর্ববর্তী দুটি সরকারের আমলেও হয়নি। পূর্ববর্তী দুটি সরকার চিনি কলগুলি জলের দরে বিক্রি করে দিয়েছে। একথা আপনারা আমার থেকে ভালোভাবে জানেন। জানেন কি জানেন না? অনেক চিনি কারখানাও পূর্ববর্তী সরকারগুলি কম দামে বেচে দিয়েছিল। অনেক দুর্নীতি হয়েছে। যোগীজির সরকারের আমলে আর নতুন করে কোনও চিনি কারখানা বিক্রি করা হয়নি, সেগুলিতে আর লকআউট হয় না, বরঞ্চ সেগুলিতে উৎপাদন বাড়ে। পাশাপাশি, নতুন নতুন চিনির কল খোলা হয়। এখন উত্তরপ্রদেশ আখ থেকে উৎপাদিত ইথানল উৎপাদনেও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বিগত সাড়ে চার বছরে উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ইথানল বিভিন্ন তেল কোম্পানিগুলি কিনেছে। সরকার কৃষি পরিকাঠামো এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ – এ ধরনের শিল্পোদ্যোগগুলিকেও দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত করছে। আজ গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে, গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তুলতে ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।

ভাই ও বোনেরা,

ডবল ইঞ্জিনের সরকার যুব সম্প্রদায়ের সামর্থ্যের পাশাপাশি এই এলাকার সামর্থ্য বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছে। মীরাটের রেউরি-গজক, হ্যান্ডলুম, ব্রাস ব্যান্ড, বস্ত্র ইত্যাদির ব্যবসা এখানকার পরিচয়কে গৌরবান্বিত করছে। মীরাট-মুজফফরনগরে আরও অনেক ক্ষুদ্র এবং অতিক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোগ যেন গড়ে ওঠে, পাশাপাশি বড় শিল্পোদ্যোগের ভিত্তি যেন গড়ে ওঠে, এখানকার কৃষিপণ্য, এখানকার প্রতিটি পণ্য যেন নতুন বাজার পায়, এসব কিছু সুনিশ্চিত করতে আজ নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আজ এই অঞ্চলকে দেশের সবচাইতে আধুনিক এবং সবচাইতে কানেক্টেড রিজিয়ন গড়ে তোলার জন্য কাজ চলছে। দিল্লি-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে ওঠার ফলে আজ দিল্লির দূরত্ব মাত্র ১ ঘন্টার হয়ে গেছে। এই তো কিছুদিন আগেই যে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে, সেটিও মীরাট থেকেই শুরু হবে। এই মীরাটের কানেক্টিভিটি উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য শহরের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলবে, সমস্ত আদানপ্রদানকে সহজ করে তুলবে। দেশের প্রথম রিজিওনাল র‍্যাপিড রেল ট্রানজিট সিস্টেমও মীরাটকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করছে। মীরাট দেশের প্রথম এমন শহর হবে যেখানে মেট্রো এবং হাইস্পিড রেল একসঙ্গে ছুটবে। মীরাটের আইটি পার্ক, যা পূর্ববর্তী সরকারের নিছকই একটি ঘোষণা হয়ে রয়ে গিয়েছিল, আমরা সেটির রূপায়ণের কাজ সম্পন্ন করে উদ্বোধনও করে ফেলেছি।

বন্ধুগণ,

এখানেই ডবল বেনিফিট বা দ্বিগুণ লাভ, ডবল স্পিড বা দ্বিগুণ গতি, ডবল ইঞ্জিন সরকারের এটাই পরিচয়। এই পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। আমার পশ্চিম-উত্তরপ্রদেশের জনগণ জানেন যে আপনারা ওদিকে হাত লম্বা করলে লক্ষ্ণৌ-এ যোগীজিকে পাবেন আর এদিকে হাত লম্বা করলে দিল্লিতে আমাকে পাবেন। উন্নয়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। নতুন বছরে আমরা নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এগিয়ে যাব। আমার নবীন প্রজন্মের বন্ধুগণ, আজ গোটা ভারত মীরাটের শক্তি দেখতে পাচ্ছে, পশ্চিম-উত্তরপ্রদেশের শক্তি দেখতে পাচ্ছে, নবীন প্রজন্মের মানুষদের শক্তি দেখতে পাচ্ছে। এই শক্তিই দেশের আসল শক্তি। এই শক্তিকে আরও উৎসাহ যোগানোর জন্য একটি নতুন বিশ্বাস নিয়ে আরও একবার আপনাদের মেজর ধ্যানচাঁদ স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানাই!

ভারতমাতার জয়! ভারতমাতার জয়!

বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!

Explore More
ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জনপ্রিয় ভাষণ

ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

Media Coverage

"India of 21st century does not think small...": PM Modi
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
India is the Future: PM Modi
February 27, 2024
“If today the world thinks India is ready to take a big leap, it has a powerful launchpad of 10 years behind it”
“Today 21st century India has stopped thinking small. What we do today is the best and biggest”
“Trust in government and system is increasing in India”
“Government offices are no longer a problem but are becoming allies of the countrymen”
“Our government created infrastructure keeping the villages in mind”
“By curbing corruption, we have ensured that the benefits of development are distributed equally to every region of India”
“We believe in Governance of Saturation, not Politics of Scarcity”
“Our government is moving ahead keeping the principle of Nation First paramount”
“We have to prepare 21st century India for its coming decades today itself”
“India is the Future”

मेरे यहां पुराने जमाने में युद्ध में जाने से पहले बहुत जोरो की डुगडुगी बजाई जाती थी, बड़े बिगुल बजाए जाते थे ताकि जाने वाला जरा जोश में जाए, थैंक्यू दास! TV Nine के सभी दर्शकों को मेरा नमस्कार और यहां उपस्थित आप सबको भी… मैं अक्सर भारत की डायवर्सिटी की चर्चा करता रहता हूं। इस डाइवर्सिटी को TV Nine का न्यूजरूम, आपकी रिपोर्टिंग टीम में बखूबी वो नजर आता है, ये रिप्रेजेंट करता है। TV Nine के अनेक भारतीय भाषाओं में मीडिया प्लेटफॉर्म्स हैं। आप भारत की वाइब्रेंट डेमोक्रेसी, उसके प्रतिनिधि भी हैं। मैं अलग-अलग राज्यों में, अलग-अलग भाषाओं में, TV Nine में काम करने वाले सभी पत्रकार साथियों का, आपकी टेक्निकल टीम का बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

आज TV Nine की टीम ने इस समिट के लिए बड़ा Interesting Topic चुना है। India: Poised For The Next Big लीप. और Big लीप तो हम तभी ले सकते हैं, जब हम जोश में हों, ऊर्जा से भरे हुए हों। कोई हताश-निराश देश हो या व्यक्ति Big लीप के बारे में सोच ही नहीं सकता है। ये थीम ही अपने आप में ये बताने के लिए काफी है कि आज के भारत का आत्मविश्वास किस ऊंचाई पर है, आकांक्षा क्या है? अगर आज दुनिया को लगता है कि भारत एक बड़ा लीप लेने के लिए तैयार है, तो उसके पीछे 10 साल का एक पावरफुल लॉन्चपैड है। तो 10 वर्ष में ऐसा क्या बदला, कि आज हम यहां पहुंचे हैं? ये बदलाव Mindset का है। ये बदलाव Self-Confidence और Trust का है। ये बदलाव Good Governance का, सुशासन का।

साथियों,

एक बहुत पुरानी कहावत है- मन के हारे हार है, मन के जीते जीत। अभी दास का मैं quote सुन रहा था लेकिन मैं उसमें थोड़ा differ करता हूं। उन्होंने कहा कि इतिहास एक प्रकार से बडे महानुभावों की बायोग्राफी होती है। ये हो सकता है पश्चिम की सोच हो, हिन्‍दुस्‍तान में सामान्य मानवीय की बायोग्राफी, वही इतिहास होती है। वही देश का सच्चा सामर्थ्य होता है और इसलिए बड़े लोग आए, चले गए… देश अजर-अमर रहता है।

साथियों,

हारे हुए मन से विजय मिलनी बहुत मुश्किल होती है। इसलिए पिछले 10 साल में Mindset में जो बदलाव आया है, जो लीप हमने लिया है, वो वाकई अद्भुत है। आज के बाद दशकों तक जिन्होंने सरकार चलाई, उनका भारतीयता के सामर्थ्य पर ही विश्वास नहीं था। उन्होंने भारतीयों को Underestimate किया, उनके सामर्थ्य को कम करके आंका। तब लाल किले से कहा जाता था कि हम भारतीय निराशावादी हैं, पराजय भावना को अपनाने वाले हैं। लाल किले से ही भारतीयों को आलसी कहा गया, मेहनत से जी चुराने वाला कहा गया। जब देश का नेतृत्व ही निराशा से भरा हुआ हो, तो फिर देश में आशा का संचार कैसे होता? इसलिए देश के अधिकांश लोगों ने भी ये मान लिया था कि देश तो अब ऐसे ही चलेगा! ऊपर से करप्शन, हजारों करोड़ के घोटाले, पॉलिसी पैरालिसिस, परिवारवाद, इन सबने देश की नींव को तबाह करके रख दिया था।

पिछले 10 वर्षों में हम उस भयावह स्थिति से देश को निकालकर यहां लाए हैं। सिर्फ 10 साल में भारत, दुनिया की टॉप फाइव अर्थव्यवस्थाओं में आ गया है। आज देश में जरूरी नीतियां भी तेजी से बनती हैं और निर्णय भी उतनी ही तेजी से लिए जाते हैं। Mindset में बदलाव ने कमाल करके दिखा दिया है। 21वीं सदी के भारत ने छोटा सोचना छोड़ दिया है। आज हम जो करते हैं, वो Best और Biggest करते हैं। आज भारत की उपलब्धियां देखकर दुनिया हैरान है। दुनिया, भारत के साथ चलने में अपना फायदा देख रही है। अरे, भारत ने ये भी कर लिया- ये रिएक्शन, अच्छा भारत ने ये कर लिया? भारत में ये हो गया? ये रिएक्‍शन, आज की दुनिया का न्यू नॉर्मल है। बढ़ती विश्वसनीयता, आज भारत की सबसे बड़ी पहचान है। आप 10 साल पहले के और आज के FDI के आंकड़े देखिए। पिछली सरकार के 10 साल में 300 बिलियन डॉलर की FDI भारत में आई। हमारी सरकार के 10 साल में 640 बिलियन डॉलर की FDI भारत में आई। 10 साल में जो डिजिटल क्रांति आई है, कोरोना के समय में वैक्सीन पर जो भरोसा बैठा है, आज टैक्स देने वालों की बढ़ती हुई संख्या हो, ये चीजें बता रही हैं, कि भारत के लोगों का सरकार और व्यवस्था पर भरोसा बढ़ रहा है।

मैं आपको एक और आकंड़ा देता हूं। यहां इस हॉल में ज्यादातर लोग ऐसे होंगे जो म्यूचुअल फंड में इन्वेस्ट करते होंगे। साल 2014 में देश में लोगों ने करीब 9 लाख करोड़ रुपए म्यूचुअल फंड में इन्वेस्ट कर के रखे थे। अगर मैं साल 2024 की बात करूं तो आज देश के लोगों ने 52 लाख करोड़ रुपए उससे भी ज्यादा म्यूचुअल फंड में इन्वेस्ट कर रखा है। ये इसलिए हुआ है क्योंकि हर भारतीय को ये विश्वास है कि देश मजबूती से आगे बढ़ रहा है। और जितना विश्वास उसे देश पर है, उतना ही खुद पर भी है। हर भारतीय ये सोच रहा है– मैं कुछ भी कर सकता हूं, मेरे लिए कुछ भी असंभव नहीं है। और ये बात TV Nine के दर्शक भी नोट करते होंगे कि अनेक लोगों का प्रिडिक्शन जहां अटक जाता है, उससे भी कहीं ज्यादा बेहतर परफॉर्म करके हमने दिखाया है।

साथियों,

आज इस Mindset और Trust में परिवर्तन का सबसे बड़ा कारण, हमारी सरकार का Work-Culture है, गवर्नेंस है। वही अफसर हैं, वही ऑफिस हैं, वही व्यवस्थाएं हैं, वही फाइलें हैं, लेकिन नतीजे कुछ और आ रहे हैं। सरकार के दफ्तर आज समस्या नहीं, देशवासियों के सहयोगी बन रहे हैं। ये व्यवस्था आने वाले समय के लिए गवर्नेंस के नए आदर्श स्थापित कर रही है।

साथियों,

भारत के विकास को गति देने के लिए, Big लीप लेने के लिए ये बहुत जरूरी था कि जिस गीयर पर पहले भारत चल रहा था, उस गीयर को बदला जाए। पहले की सरकारों में भारत किस तरह रिवर्स गीयर में था, मैं आपको कुछ उदाहरण देता हूं। यूपी में 80 के दशक में सरयू नहर परियोजना का शिलान्यास हुआ था। ये परियोजना चार दशक तक अटकी रही। 2014 में सरकार बनने के बाद हमने इस परियोजना को तेजी से पूरा किया। सरदार सरोवर परियोजना, उस परियोजना का शिलान्यास तो पंडित नेहरू ने 60 के दशक में किया था। 60 साल तक सरदार सरोवर डैम का काम ऐसे ही लटका रहा। सरकार बनने के बाद 2017 में हमने इस डैम का काम पूरा करके इसका लोकार्पण किया। महाराष्ट्र की कृष्णा कोयना परियोजना भी 80 के दशक में प्रारंभ हुई थी। साल 2014 तक ये भी ऐसे ही लटकी हुई थी। इस डैम का काम भी हमारी ही सरकार ने पूरा करवाया।

साथियों,

बीते कुछ दिनों में आपने अटल टनल के आसपास बर्फबारी की बहुत शानदार तस्वीरें देखी हैं। अटल टनल का शिलान्यास हुआ था 2002 में। 2014 तक ये टनल भी अधूरी लटकी हुई रही। इसका काम भी पूरा कराया हमारी सरकार ने और इसका 2020 में लोकार्पण किया गया। असम का बोगीबील ब्रिज भी आपको याद होगा। ये ब्रिज भी 1998 में स्वीकृत हुआ। सरकार में आने के बाद हमने इसे तेजी से पूरा कराया और 20 साल बाद साल 2018 में इसका लोकार्पण किया। Eastern Dedicated Fright Corridor, साल 2008 में स्वीकृत किया गया। ये प्रोजेक्ट भी लटकता रहा और 15 साल बाद, 2023 में हमने इसे पूरा कराया। मैं आपको ऐसे कम से कम 500 प्रोजेक्ट गिना सकता हूं। ऐसे सैकड़ों प्रोजेक्ट्स को 2014 में हमारी सरकार आने के बाद तेजी से पूरा कराया गया।

प्रधानमंत्री कार्यालय में टेक्नोलॉजी की मदद से हमने एक आधुनिक व्यवस्था विकसित की है- प्रगति के नाम से। हर महीने मैं खुद एक-एक प्रोजेक्ट की फाइल लेकर बैठता हूं, सारा डेटा लेकर बैठता हूं, दशकों से अटके हुए प्रोजेक्ट्स की समीक्षा करता हूं और मेरे सामने ऑनलाइन, सभी राज्‍यों के मुख्‍य सचिव और भारत सरकार के सभी सचिव पूरा समय मेरे सामने होते हैं। एक-एक चीज का वहां analysis होता है। मैं पिछले 10 साल में... 17 लाख करोड़ रुपए से ज्यादा के प्रोजेक्ट्स की समीक्षा कर चुका हूं। 17 लाख करोड़ रुपया… तब जाकर ये प्रोजेक्ट पूरे हुए हैं।

आप मुझे बताइए, जिस देश में पहले की सरकारें, उस स्पीड से काम करती रही हों, तो देश Big लीप कैसे लगा पाता? आज हमारी सरकार ने लटकाने-भटकाने वाली उस पुरानी अप्रोच को पीछे छोड़ दिया है। मैं आपको हमारी सरकार के कुछ उदाहरण दूंगा। मुंबई का अटल सेतु, देश का सबसे बड़ा ब्रिज, सी ब्रिज। इसका शिलान्यास साल 2016 में हुआ। हमने कुछ सप्ताह पहले इसका लोकार्पण भी कर दिया। संसद की नई बिल्डिंग। इसका शिलान्यास साल 2020 में किया। पिछले ही साल इसका लोकार्पण हो गया। जम्मू एम्स का शिलान्यास साल 2019 में हुआ था। पिछले सप्ताह 20 फरवरी को इसका लोकार्पण भी हो गया है। राजकोट एम्स का शिलान्यास साल 2020 में हुआ था। अभी कल ही इसका भी लोकार्पण हो गया है। इसी तरह, IIM संभलपुर का शिलान्यास साल 2021 में हुआ...और... साल 2024 में लोकार्पण हो गया। त्रिचि एयरपोर्ट के नये टर्मिनल का शिलान्यास 2019 में हुआ और कुछ सप्ताह पहले इसका लोकार्पण भी हो गया। IIT भिलाई का शिलान्यास साल 2018 में हुआ और कुछ दिन पहले हमने इसका भी लोकार्पण कर दिया है। गोवा के नए एयरपोर्ट का शिलान्यास 2016 में हुआ और 2022 में इसका लोकार्पण भी हो गया। लक्षद्वीप तक समुद्र के नीचे ऑप्टिकल फाइबर बिछाना बहुत चैलेंजिंग माना जाता था। इस काम को हमने साल 2020 में शुरू करवाया और कुछ सप्ताह पहले इसे पूरा भी कर दिया।

बनारस की बनास डेयरी का शिलान्यास साल 2021 में हुआ और कुछ दिन पहले इसका लोकार्पण हुआ। कल ही आपने द्वारका में सुदर्शन ब्रिज की शानदार तस्वीरें देखी हैं। हिंदुस्तान का सबसे लंबा केबल ब्रिज, देश की शान बढ़ा रहा है। इसका भी शिलान्यास हमारी सरकार ने साल 2017 में किया था। मैं जो मोदी की गारंटी की बात करता हूं ना, उसका एक पहलू ये भी है। जब ये स्पीड होती है, तेजी से काम करने की इच्छा शक्ति होती है... जब टैक्सपेयर्स के पैसे का सम्मान होता है... तब देश आगे बढ़ता है, तब देश Big लीप के लिए तैयार होता है।

साथियों,

भारत आज जिस स्केल पर काम कर रहा है, वो अप्रत्याशित, कल्पना से परे है। मैं आपको सिर्फ बीते एक सप्ताह के कुछ उदाहरण और देना चाहता हूं… एक week के… 20 फरवरी को मैंने जम्मू से एक साथ देश के दर्जनों IIT-IIM, ट्रिपल IT जैसे Higher Education Institutes का लोकार्पण किया। 24 फरवरी को मैंने राजकोट से देश के 5 एम्स का एक साथ लोकार्पण किया। आज सुबह मैंने देश के 27 राज्यों के 500 से ज्यादा रेलवे स्टेशन्स के री-डेवलपमेंट का शिलान्यास किया। आज के उसी कार्यक्रम में देश में डेढ़ हजार से ज्यादा ओवरब्रिज और अंडरपास पर एक साथ काम शुरू हुआ। अभी मैंने इस कार्यक्रम में आने से पहले ही सोशल मीडिया साइट- एक्स पर एक थ्रेड शेयर किया है। इसमें मैंने अपने आने वाले 2 दिनों के कार्यक्रमों के बारे में बताया है। मैं कल सुबह केरला, तमिलनाडु और महाराष्ट्र जाने वाला हूं। वहां स्पेस के कार्यक्रम हैं... MSME के कार्यक्रम हैं, पोर्ट से जुड़े कार्यक्रम हैं, ग्रीन हाईड्रोजन से जुड़े कार्यक्रम हैं... किसानों से जुड़े कार्यक्रम हैं... भारत ऐसी स्केल पर काम करके ही Big लीप लगा सकता है। हम पहली, दूसरी, तीसरी औद्योगिक क्रांति में पीछे रह गए। अब हमें चौथी औद्योगिक क्रांति में दुनिया का नेतृत्व करना है। और इसके लिए भारत में हर रोज हो रहे विकास कार्यों से, देश की रफ्तार को ऊर्जा मिल रही है।

भारत में हर दिन, आप एक के बाद एक दिमाग जरा अलर्ट रखिए… भारत में हर दिन दो नए कॉलेज खुले हैं, हर हफ्ते एक यूनिवर्सिटी खुली है। भारत में हर दिन 55 पेटेंट्स और 600 ट्रेडमार्क रजिस्टर किए गए हैं। भारत में हर दिन करीब डेढ़ लाख मुद्रा लोन बांटे गए हैं। भारत में हर दिन सैंतीस नए स्टार्टअप बने हैं। भारत में हर दिन सोलह हजार करोड़ रुपए के यूपीआई ट्रांजैक्शन हुए हैं। भारत में हर दिन 3 नए जन औषधि केंद्रों की शुरुआत हुई है। भारत में हर दिन चौदह किलोमीटर रेलवे ट्रैक का निर्माण हुआ है। भारत में हर दिन 50 हजार से अधिक एलपीजी कनेक्शन दिए गए हैं। भारत में हर सेकंड, हर सेकंड… एक नल से जल का कनेक्शन दिया गया है। भारत में हर दिन 75 हजार लोगों को गरीबी से बाहर निकाला गया है। हमने तो हमेशा से ही गरीबी हटाओ के सिर्फ नारे सुने थे। किसने सोचा था कि 10 साल में 25 करोड़ लोग गरीबी से बाहर निकल आएंगे। लेकिन ये हुआ है और हमारी ही सरकार में हुआ है।

साथियों,

भारत में consumption को लेकर हाल ही में एक रिपोर्ट आई है, जिससे नए ट्रेंड का पता चलता है। भारत में गरीबी अब तक के सबसे कम स्तर... यानि single digit में पहुंच गई है। इस डेटा के मुताबिक, पिछले एक दशक की तुलना में Consumption ढाई गुना बढ़ गया है। यानी भारत के लोगों की विभिन्न सेवाओं और सुविधाओं पर खर्च करने की क्षमता और बढ़ गई है। ये भी सामने आया है कि पिछले 10 साल में, गांवों में consumption शहरों की तुलना में कहीं ज्यादा तेज गति से बढ़ा है। यानी गांव के लोगों का आर्थिक सामर्थ्य बढ़ रहा है, उनके पास खर्च करने के लिए ज्यादा पैसे हो रहे हैं। ये ऐसे ही नहीं हुआ, ये हमारे उन प्रयासों का परिणाम है, जिनका फोकस गांव, गरीब और किसान है। 2014 के बाद से हमारी सरकार ने गांवों को ध्यान में रखकर इंफ्रास्ट्रक्चर का निर्माण किया। गांव और शहर के बीच कनेक्टिविटी बेहतर हुई, रोजगार के नए अवसर तैयार किए गए, महिलाओं की आय बढ़ाने के साधन विकसित किए गए। विकास के इस मॉडल से ग्रामीण भारत सशक्त हुआ है। मैं आपको एक और आंकड़ा दूंगा। भारत में पहली बार, कुल खर्च में भोजन पर होने वाला खर्च 50 परसेंट से भी कम हो गया है। यानी, पहले जिस परिवार की सारी शक्ति भोजन जुटाने में खर्च हो जाती थी, आज उसके सदस्य सारी चीजों पर पैसे खर्च कर पा रहे हैं।

साथियों,

पहले की सरकारों की एक और सोच ये थी कि वो देश की जनता को अभाव में रखना पसंद करती थीं। अभाव में रह रही जनता को ये लोग चुनाव के समय थोड़ा-बहुत देकर, अपना स्वार्थ सिद्ध कर लेते थे। इसके चलते ही देश में एक वोट बैंक पॉलिटिक्स का जन्म हुआ। यानी सरकार केवल उसके लिए काम करती थी जो उन्हें वोट देता था।

लेकिन साथियों,

बीते 10 वर्षों में, भारत इस Scarcity Mindset को पीछे छोड़कर आगे बढ़ चला है। भ्रष्टाचार पर लगाम लगाकर हमने ये सुनिश्चित किया है कि विकास का लाभ भारत के हर क्षेत्र को समान रूप से दिया जाए। हम Politics of Scarcity नहीं, Governance of Saturation पर विश्वास करते हैं। हमने तुष्टिकरण ना करके, देशवासियों के संतुष्टिकरण का रास्ता चुना है। बीते 10 वर्षों में यही हमारा एकमात्र मंत्र है, यही हमारी सोच है। यही सबका साथ-सबका विकास है। हमने वोटबैंक पॉलिटिक्स को पॉलिटिक्स ऑफ परफॉर्मेंस में बदला है। जब अभाव होता है तो करप्शन होता है, भेदभाव होता है। जब सैचुरेशन होता है तो संतुष्टि होती है, सद्भाव होता है।

आज सरकार अपनी तरफ से, घर-घर जाकर लाभार्थियों को सुविधाएं दे रही है। आपने बीते समय में मोदी की गारंटी वाली गाड़ी के बारे में जरूर सुना होगा। देश में पहले कभी ऐसा नहीं हुआ कि सरकार के अफसर गाड़ी लेकर गांव-गांव जाएं और पूछे कि सरकार की इन योजनाओं का लाभ आपको मिला या नहीं मिला? आज हमारी सरकार खुद लोगों के दरवाजे पर जाकर कह रही है कि सरकारी योजनाओं का लाभ उठाइए। इसलिए मैं कहता हूं, जब सैचुरेशन एक मिशन बन जाए, तो हर प्रकार के भेदभाव की गुंजाइश खत्म हो जाती है। इसलिए मैं कहता हूं कि हम राजनीति नहीं राष्ट्रनीति पर विश्वास करने वाले लोग हैं।

साथियों,

हमारी सरकार Nation First के सिद्धांत को सर्वोपरि रखते हुए आगे बढ़ रही है। पहले की सरकारों के लिए कोई काम नहीं करना… ये सबसे बड़ा आसान काम बन गया था। लेकिन इस वर्क-कल्चर से ना देश बन सकता है और ना देश आगे बढ़ सकता है। इसलिए हमने देशहित में निर्णय लिए, पुरानी चुनौतियों का समाधान किया। आर्टिकल 370 की समाप्ति से लेकर… मैं Movie के बात नहीं कर रहा हूं। आर्टिकल 370 की समाप्ति से लेकर राम मंदिर निर्माण तक, ट्रिपल तलाक के अंत से लेकर महिला आरक्षण तक, वन रैंक वन पेंशन से लेकर चीफ ऑफ डिफेंस स्टाफ पद तक, सरकार ने Nation First की सोच के साथ ऐसे हर अधूरे काम पूरे किए।

साथियों,

21वीं सदी के भारत को अपने आने वाले दशकों के लिए भी हमें आज ही तैयार करना होगा। इसलिए आज भारत भविष्य की योजनाओं में भी तेजी से आगे बढ़ रहा है। स्पेस से सेमीकंडक्टर तक डिजिटल से ड्रोन तक AI से क्लीन एनर्जी तक 5G से Fintech तक भारत आज दुनिया की अगली कतार में पहुंच गया है। भारत आज, ग्लोबल वर्ल्ड में डिजिटल पेमेंट्स की सबसे बड़ी ताकतों में से एक है। भारत आज, Fintech Adoption Rate में सबसे तेजी से बढ़ता देश है। भारत आज, चंद्रमा के दक्षिणी ध्रुव पर उतरने वाला पहला देश है। भारत आज, Solar Installed Capacity में दुनिया के अग्रणी देशों में से है। भारत आज, 5 जी नेटवर्क के विस्तार में यूरोप को भी पीछे छोड़ चुका है। भारत आज, सेमीकंडक्टर सेक्टर में भी तेजी से आगे बढ़ रहा है। भारत आज, ग्रीन हाइड्रोजन जैसे फ्यूचर के फ्यूल पर तेज़ी से काम कर रहा है।

आज भारत अपने उज्ज्वल भविष्य के लिए दिन-रात मेहनत कर रहा है। भारत Futuristic है। और इसलिए आज सब लोग कहने लगे हैं- India is the Future. आने वाला समय और महत्वपूर्ण है, आने वाले 5 साल बहुत महत्वपूर्ण हैं। और मैं ये सब जो audience यहां बैठा है और बड़ी जिम्मेदारी के साथ कहता हूं- हमारे तीसरे कार्यकाल में… हमारे तीसरे कार्यकाल में हमें भारत के सामर्थ्य को नई ऊंचाई तक पहुंचाना है। विकसित भारत की संकल्प यात्रा में आने वाले पांच वर्ष हमारे देश की प्रगति और प्रशस्ति के वर्ष हैं। इसी कामना के साथ और पूरे विश्वास के साथ ये सेमिनार होता या न होता, Big लीप जरूर होता। इतना फायदा जरूर हुआ कि आपने Big लीप का कार्यक्रम रखा, तो मुझे भी अपने लिप खोलने का मौका मिल गया। इस कार्यक्रम के लिए आपको ढेर सारी शुभकामनाएं! आप लोग सुबह से बैठ करके Brainstorming करते होंगे तो कुछ हंसी-खुशी की शाम भी हो गई।

बहुत बहुत धन्यवाद!