প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ গোয়ায় শ্রী সংস্থান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠের ৫৫০তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পবিত্র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর মন গভীর প্রশান্তিতে ভরে ওঠেছে। তিনি বলেন যে, সাধু-সন্তদের সান্নিধ্যে বসলে এক আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ হয়। এখানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভক্ত এই মঠের শতাব্দী প্রাচীন জীবন্ত শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করছে বলে উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন যে, আজকের এই অনুষ্ঠানে জনগণের মধ্যে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। তিনি বলেন, এখানে আসার আগে তিনি রাম মন্দির এবং বীর বিঠ্ঠল মন্দির পরিদর্শনের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। সেখানকার শান্তি ও পরিবেশ এই অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিকতাকে আরও গভীর করেছে।
শ্রী মোদী বলেন, "শ্রী প্রতিষ্ঠান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠ তার ৫৫০ তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, এটি একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ। গত ৫৫০ বছরে পরিবর্তিত যুগ, সময় এবং দেশ ও সমাজে অসংখ্য রূপান্তরের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি অনেক উত্থান-পতনের মুখোমুখি হয়েছে, তবুও এই মঠ কখনও তার দিকনির্দেশনা হারায়নি। পরিবর্তে, মঠ মানুষের জন্য একটি পথপ্রদর্শক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় পরিচয় হল ইতিহাসে প্রোথিত থাকা সত্ত্বেও, এটি সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে"। তিনি বলেন যে, মঠ যে চেতনা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা আজও সমানভাবে প্রাণবন্ত। এ হল এমন একটি চেতনা যা সাধনাকে সেবার সঙ্গে এবং ঐতিহ্যকে জনকল্যাণের সঙ্গে সংযুক্ত করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম, মঠ এই চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছে যে আধ্যাত্মিকতার আসল উদ্দেশ্য হল জীবনে স্থিতিশীলতা, ভারসাম্য এবং মূল্যবোধ প্রদান করা। তিনি বলেন যে, মঠের ৫৫০ বছরের যাত্রা সেই শক্তির প্রমাণ যা কঠিন সময়েও সমাজকে টিঁকিয়ে রাখে। তিনি এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে মঠাধিপতি শ্রীমদ্ বিদ্যাধীশ তীর্থ স্বামীজী, কমিটির সকল সদস্য এবং উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেন যে, যখন কোনও প্রতিষ্ঠান সত্য ও সেবার ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেটির শক্তিক্ষয় হয় না বরং সমাজকে সহ্য করার শক্তি জোগায়। তিনি বলেন যে, বর্তমানে এই ঐতিহ্য বজায় রেখে, মঠ একটি নতুন অধ্যায় রচনা করছে। এখানে ভগবান শ্রী রামের একটি বিশাল ৭৭ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন যে, মাত্র তিন দিন আগে তিনি অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের উপরে ধর্মধ্বজ উত্তোলনের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন এবং আজ তিনি এখানে ভগবান শ্রী রামের বিশাল মূর্তি উন্মোচন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। তিনি আরও বলেন যে, এই উপলক্ষে রামায়ণের উপর ভিত্তি করে একটি থিম পার্কও উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই মঠের সঙ্গে যুক্ত নতুন বিষয়গুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান, অনুপ্রেরণা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখানে গড়ে ওঠা জাদুঘর এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত থ্রি-ডি থিয়েটার মঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে তার ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। একইভাবে, দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের অংশগ্রহণে ৫৫০ দিন ধরে পরিচালিত শ্রী রাম নাম জপ যজ্ঞ এবং রাম রথযাত্রা সমাজের ভক্তি এবং শৃঙ্খলার সম্মিলিত শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সম্মিলিত শক্তি বর্তমানে দেশের প্রতিটি কোণে একটি নতুন চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। এই নির্মাণের জন্য তিনি সকলকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন যে, এই বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতীক হিসেবে স্মারক মুদ্রা এবং ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়েছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে আসা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

শ্রী মোদী বলেন যে, ১৪৭৫ সালে শ্রীমদ্ নারায়ণ তীর্থ স্বামীজী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই মঠটি সেই জ্ঞান ঐতিহ্যেরই একটি সম্প্রসারণ যার মূল উৎস হলেন অনন্য আচার্য, জগদ্গুরু শ্রী মাধ্বাচার্য। তিনি এই আচার্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণাম করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উদুপি এবং পারতাগলি একই আধ্যাত্মিক নদীর জীবন্ত প্রবাহ এবং ভারতের পশ্চিম উপকূলের সাংস্কৃতিক প্রবাহকে পরিচালিত করে। তিনি মন্তব্য করেন যে, একই দিনে এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য তাঁর জন্য একটি বিশেষ কাকতালীয় ঘটনা।
শ্রী মোদী বলেন, এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শৃঙ্খলা, জ্ঞান, কঠোর পরিশ্রম এবং উৎকর্ষতাকে তাদের জীবনের ভিত্তি করে তুলেছে। এটি গর্বের বিষয়। বাণিজ্য থেকে অর্থায়ন এবং শিক্ষা থেকে প্রযুক্তি পর্যন্ত, তাদের মধ্যে পরিলক্ষিত প্রতিভা, নেতৃত্ব এবং নিষ্ঠা এই জীবনদর্শনের গভীর ছাপ বহন করে। তিনি বলেন যে, এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত পরিবার এবং ব্যক্তিদের মধ্যে সাফল্যের অনেক অনুপ্রেরণামূলক গল্প রয়েছে এবং এই সমস্ত সাফল্যের শিকড় নম্রতা, মূল্যবোধ এবং সেবার মধ্যে নিহিত। এই মূল্যবোধ সংরক্ষণে এই মঠ ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে বলে প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক মঠের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য - সেবার মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন যে, শতাব্দী আগে, যখন এই অঞ্চলে প্রতিকূল পরিস্থিতি এসেছিল এবং মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নতুন জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তখন এই মঠই তাদের সমর্থন করেছিল, সংগঠিত করেছিল এবং নতুন জায়গায় মন্দির, মঠ এবং আশ্রয়স্থল স্থাপনা করেছিল। শ্রী মোদী বলেন যে, মঠ কেবল ধর্মকেই নয়, মানবতা ও সংস্কৃতিকেও রক্ষা করেছিল এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সেবার ধারা আরও প্রসারিত হয়েছে। তিনি বলেন যে, বর্তমানে, শিক্ষা থেকে শুরু করে ছাত্রাবাস, বয়স্কদের যত্ন থেকে শুরু করে দরিদ্র পরিবারের সহায়তা, এই সব জনকল্যাণেই মঠ সর্বদা নিজের সম্পদ উৎসর্গ করেছে। তিনি বলেন যে, বিভিন্ন রাজ্যে নির্মিত ছাত্রাবাস, আধুনিক স্কুল, অথবা কঠিন সময়ে ত্রাণ কাজ, প্রতিটি উদ্যোগই প্রমাণ করে যে যখন আধ্যাত্মিকতা এবং সেবা একসঙ্গে চলে, তখন সমাজ স্থিতিশীলতা এবং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা উভয়ই লাভ করে।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, এমন সময় এসেছে যখন গোয়ার মন্দির এবং স্থানীয় ঐতিহ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও চাপের মুখে পড়েছে, তবুও এই পরিস্থিতি সমাজের আত্মাকে দুর্বল করেনি বরং আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন যে, গোয়ার অনন্য বৈশিষ্ট্য হল, প্রতিটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এর সংস্কৃতি তার মূল সারাংশ সংরক্ষণ করেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পুনরুজ্জীবিতও করেছে । আর এই কাজে পারতাগলি মঠের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।
শ্রী মোদী বলেন, " বর্তমানে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের পুনর্নির্মাণ, কাশী বিশ্বনাথ ধামের বিশাল পুনর্নির্মাণ এবং উজ্জয়িনীর মহাকাল মহালোকের সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভারত এক অসাধারণ সাংস্কৃতিক নবজাগরণের সাক্ষী হচ্ছে। এই সবই দেশের জনগণের সচেতনতাকে প্রতিফলিত করে। "তিনি বলেন যে রামায়ণ সার্কিট, কৃষ্ণ সার্কিট, গয়াজি'তে উন্নয়নমূলক কাজ এবং কুম্ভমেলার অভূতপূর্ব ব্যবস্থাপনার মতো উদ্যোগগুলি এমন উদাহরণ যা দেখায় যে বর্তমান ভারত কীভাবে নতুন সংকল্প এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই জাগরণ ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে অনুপ্রাণিত করে।
গোয়ার পবিত্র ভূমির নিজস্ব স্বতন্ত্র আধ্যাত্মিক পরিচয় রয়েছে, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভক্তি, সাধু ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলনের ধারাবাহিক প্রবাহ রয়েছে, একথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন যে, এই ভূমি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে 'দক্ষিণ কাশীর' পরিচয় বহন করে, যা পারতাগলি মঠে আরও গভীর হয়েছে। তিনি বলেন যে, মঠের যোগাযোগ কেবল কোঙ্কন এবং গোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ঐতিহ্য দেশের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে এবং বারাণসীর পবিত্র ভূমির সঙ্গেও যুক্ত। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে, প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রী নারায়ণ তীর্থ উত্তর ভারতে ভ্রমণের সময় বারাণসীতে একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার ফলে মঠের আধ্যাত্মিক ধারা দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রসারিত হয়েছিল। তিনি বলেন যে, আজও বারাণসীতে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটি সমাজের সেবা করে চলেছে।

এই পবিত্র মঠের ৫৫০ বছর পূর্ণ হওয়ার উপর জোর দিয়ে শ্রী মোদী বলেন, আমরা কেবল ইতিহাস উদযাপন করছি না, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করছি। তিনি বলেন, উন্নত ভারতের পথ ঐক্যের মধ্য দিয়ে যায় এবং যখন সমাজ একত্রিত হয়, যখন প্রতিটি অঞ্চল এবং প্রতিটি অংশ ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন দেশ ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, শ্রী সংস্থান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠের প্রাথমিক লক্ষ্য হল মানুষকে সংযুক্ত করা, মনকে সংযুক্ত করা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। এক উন্নত ভারতের যাত্রায়, এই মঠ একটি প্রধান অনুপ্রেরণা কেন্দ্রের ভূমিকা পালন করে।
শ্রী মোদী বলেন যে, আজ তিনি জনগণের মধ্যে এসেছেন, স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মনে কিছু চিন্তাভাবনা তৈরি হয়েছে যা তিনি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। তিনি বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে এমন ৯-টি আবেদন তিনি তাদের সামনে রাখতে চান। তিনি বলেন যে, এই আবেদনগুলি নয়টি সংকল্পের মতো। শ্রী মোদী বলেন, উন্নত ভারতের স্বপ্ন তখনই পূরণ হবে যখন আমরা পরিবেশ রক্ষাকে আমাদের কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করব, কারণ পৃথিবী আমাদের মা এবং মঠের শিক্ষা আমাদের প্রকৃতিকে সম্মান করতে পরিচালিত করে। তিনি মন্তব্য করেন যে, তাই প্রথম সংকল্প হওয়া উচিত জল সংরক্ষণ,এবং নদী রক্ষা করা। দ্বিতীয় সংকল্প হওয়া উচিত গাছ লাগানো। তিনি বলেন যে, "এক পেঢ় মা কে নাম" এর দেশব্যাপী প্রচার গতি লাভ করছে এবং যদি এই প্রতিষ্ঠান এতে যোগ দেয়, তাহলে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তৃতীয় সংকল্প হওয়া উচিত পরিচ্ছন্নতার মিশন, যাতে প্রতিটি রাস্তা, পাড়া এবং শহর পরিষ্কার থাকে তা নিশ্চিত করা যায়। চতুর্থ সংকল্পে স্বদেশী গ্রহণ করা উচিত বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ভারত আত্মনির্ভর ভারত এবং স্বদেশীর মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই সংকল্প আমাদেরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রী মোদী বলেন, এটি 'দেশ দর্শন' হওয়া উচিত, যা দেশের বিভিন্ন অংশকে জানার এবং বোঝার জন্য সকলকে উৎসাহিত করবে। ষষ্ঠ প্রস্তাবটি হল প্রাকৃতিক কৃষিকাজকে জীবনের অংশ করে তোলা। সপ্তম প্রস্তাবটি হল একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা, 'শ্রী অন্ন' - বাজরাকে গ্রহণ করা এবং খাদ্যে তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমানো। অষ্টম প্রস্তাবটি হওয়া উচিত যোগব্যায়াম এবং খেলাধুলা করা এবং নবম প্রস্তাবটি হওয়া উচিত কোনও না কোনওভাবে দরিদ্রদের সহায়তা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, মঠ এই সংকল্পগুলিকে সম্মিলিত জনপ্রতিশ্রুতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। এই মঠের ৫৫০ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে ঐতিহ্য সমাজকে তখনই এগিয়ে নিয়ে যায় যখন এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দায়িত্বগুলি প্রসারিত করে। তিনি বলেন, শতাব্দী প্রাচীন এই মঠ সমাজকে যে শক্তি দিয়েছে তা এখন ভবিষ্যতের ভারত গঠনের দিকে পরিচালিত করতে হবে।

গোয়ার আধ্যাত্মিক গৌরব তার আধুনিক উন্নয়নের মতোই স্বতন্ত্র, একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, গোয়া এমন রাজ্যগুলির মধ্যে একটি যেখানে মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি এবং পর্যটন, ওষুধ এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গোয়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে এর পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ করছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, মহাসড়ক, বিমানবন্দর এবং রেল যোগাযোগের সম্প্রসারণ ভক্ত এবং পর্যটক উভয়ের জন্য ভ্রমণকে সহজ করে তুলেছে। তিনি বলেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারতের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে পর্যটন একটি প্রধান উপাদান এবং গোয়া এর সর্বোত্তম উদাহরণ ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে, যেখানে যুবসমাজের শক্তি, দেশের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের প্রতি তাদের আকর্ষণ একযোগে এক নতুন ভারত গঠন করছে।” তিনি বলেন যে, উন্নত ভারতের সংকল্প তখনই পূর্ণ হবে যখন আধ্যাত্মিকতা, জাতীয় সেবা এবং উন্নয়ন একযোগে এগিয়ে যাবে। পরিশেষে শ্রী মোদী বলেন যে, গোয়ার পবিত্র ভূমি এবং এই মঠ এই দিকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই পবিত্র উদযাপন উপলক্ষে তিনি আবারও সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গোয়ার রাজ্যপাল শ্রী পুষ্পপতি অশোক গজপতি রাজু, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডঃ প্রমোদ সাওয়ান্ত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী শ্রীপাদ নায়েক উপস্থিত ছিলেন।
পটভূমি -
শ্রী সংস্থান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠের ৫৫০তম বার্ষিকী উদযাপন 'সারধা পঞ্চশতমনোৎসব' উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ গোয়ার কানাকোনায় মঠ পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শ্রী সংস্থান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠে ব্রোঞ্জের তৈরি প্রভু শ্রী রামের ৭৭ ফুট উঁচু মূর্তির উন্মোচন করেন এবং মঠ নির্মিত 'রামায়ণ থিম পার্ক গার্ডেন'-এর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ডাকটিকিট এবং একটি স্মারক মুদ্রাও প্রকাশ করেন।
শ্রী সংস্থান গোকর্ণ পারতাগলি জীবোত্তম মঠ হল প্রথম গৌড় সারস্বত ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব মঠ। এটি দ্বৈত ধারা অনুসরণ করে। মঠটির সদর দপ্তর দক্ষিণ গোয়ার কুশাবতী নদীর তীরে অবস্থিত একটি ছোট শহর পারতাগলিতে অবস্থিত।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
श्री संस्थान गोकर्ण पर्तगाळी जीवोत्तम मठ अपनी स्थापना की 550वीं वर्षगांठ मना रहा है। ये बहुत ऐतिहासिक अवसर है।
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
बीते 550 वर्षों में इस संस्था ने समय के कितने ही चक्रवात झेले हैं, युग बदला, दौर बदला, देश और समाज में कई परिवर्तन हुए, लेकिन बदलते युगों और चुनौतियों के बीच भी इस मठ…
ऐसे समय भी आए जब गोवा के मंदिरों और स्थानीय परंपराओं को संकट का सामना करना पड़ा।
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
जब भाषा और सांस्कृतिक पहचान पर दबाव बना।
लेकिन ये परिस्थितियां समाज की आत्मा को कमजोर नहीं कर पाईं,
बल्कि उसे और दृढ़ बनाया: PM @narendramodi
गोवा की यही विशेषता है कि यहां की संस्कृति ने... हर बदलाव में अपने मूल स्वरूप को बनाए रखा और समय के साथ पुनर्जीवित भी किया।
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
इसमें पर्तगाळी मठ जैसे संस्थानों का बहुत बड़ा योगदान रहा है: PM @narendramodi
आज भारत एक अद्भुत सांस्कृतिक पुनर्जागरण का साक्षी बन रहा है।
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025
अयोध्या में राम मंदिर का पुनर्स्थापन, काशी विश्वनाथ धाम का भव्य पुनरुद्धार और उज्जैन में महाकाल महालोक का विस्तार, ये सब हमारे राष्ट्र की उस जागरूकता को प्रकट करते हैं जो अपनी आध्यात्मिक धरोहर को नई शक्ति के साथ उभार…
आज का भारत... अपनी सांस्कृतिक पहचान को नए संकल्पों और नए आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ा रहा है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) November 28, 2025


