২৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চারলেনের এক্সপ্রেসওয়েটি ১৪ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে
এই এক্সপ্রেসওয়েটি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাবে
উত্তর প্রদেশ এক্সওয়ে প্রকল্পটি রাজ্যের প্রতিটি উপেক্ষিত অঞ্চল কে যুক্ত করছে
উত্তর প্রদেশের প্রতিটি প্রান্ত এখন নতুন স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে
সারা দেশে উত্তর প্রদেশের পরিচয় ক্রমশ বদলাচ্ছে
সময়ের আগে প্রকল্পের বাস্তব রূপ দিয়ে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করছি
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মনে রাখতে হবে এবং আগামী এক মাসে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে হবে
দেশের জন্য ক্ষতিকর সবকিছুই দেশের উন্নয়নে বিঘ্ন ঘটায়, তাই এগুলিকে দূরে রাখতে হবে
ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের জন্য কোনও সংক্ষিপ্ত পথ বা বিনামূল্যে সুবিধা প্রদানের পথ বেছে নেয়নি; কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে
দেশের রাজনীতি থেকে বিনামূল্যে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি সরাতে হবে
সামাজিক ন্যয় সুসংহত উন্নয়ন আনে

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর প্রদেশের জালাউনের ওরাই তহশিলের কাটিহেরি গ্রামে বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা।

জনসভায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের উন্নত সাংস্কৃতিক ও কঠোর পরিশ্রমের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেকথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “এই ভূমি থেকে অগণিত যোদ্ধা তৈরি হয়েছেন। এখানে রক্তে প্রবাহিত হয় দেশের শ্রদ্ধা। স্থানীয় ছেলেমেয়েদের কঠোর পরিশ্রম সর্বদাই দেশের নাম উজ্বল করেছে”।

এই এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে যে পরিবর্তন আসবে, সেকথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়ার ফলে চিত্রকূট থেকে দিল্লির দূরত্ব ৩-৪ ঘন্টা কমেছে। কিন্তু, এর উপকার আরও সুদূরপ্রসারী। এই এক্সপ্রেসওয়েটি কেবলমাত্র যানবাহনেই গতি আনবে তা নয়, সমগ্র বুন্দেলখন্ডের শিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে”।

পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন সুবিধা কিছু নির্দিষ্ট বড় শহর বা দেশের সীমিত অংশে পৌঁছনোর দিন ফুরিয়েছে। এখন ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ – এই মন্ত্রকে সঙ্গী করে দূরবর্তী ও পিছিয়ে থাকা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাতে ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই এক্সপ্রেসওয়েটি চালুর ফলে এই অঞ্চলে উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান ও স্বরোজগারের সুবিধাও বাড়বে। শ্রী মোদী বলেন, উত্তর প্রদেশের এই যোগাযোগ প্রকল্প অতীতে উপেক্ষিত বহু অংশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। উদাহরণ-স্বরূপ, বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়েটি চিত্রকূট, বান্দা, মহোবা, হামিরপুর, জালাউন, আউরাইয়া এবং ইটাওয়া – এই ৭টি জেলার মধ্য দিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি, এরকম আরও বিভিন্ন এক্সপ্রেসওয়ে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছে। এর ফলে, বর্তমানে ‘উত্তর প্রদেশের প্রত্যেক প্রান্তের নতুন স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতিকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত’। ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।

রাজ্যের আকাশপথে যোগাযোগের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়াগরাজে নতুন বিমানবন্দরের টার্মিনাল হচ্ছে। কুশীনগরে চালু হবে আরও একটি নতুন বিমানবন্দর। এর কাজ ইতিমধ্যেই চলছে। নয়ডাতেও নতুন বিমানবন্দর চালু করা হবে। রাজ্যের আরও অনেক শহরই এখন আকাশপথে যুক্ত। এর ফলে, পর্যটঁনের মানোন্নয়নের পাশাপাশি, অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজকর্মও গতি পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গকে কেন্দ্র করে মানোন্নয়নের পাশাপাশি, অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজকর্মও গতি পাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গকে কেন্দ্র করে পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলার কথা বলেন। তিনি দুর্গ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রীকে।

শ্রী মোদী বলেন, উত্তর প্রদেশে সরযূ নদী প্রকল্প শেষ হতে ৪০ বছর সময় লেগেছে। গোরক্ষপুর সার কারখানা ৩০ বছর বন্ধ ছিল। এখানেই অর্জুন বাঁধ প্রকল্প সম্পূর্ণ হতে সময় লেগেছে ১২ বছর। আমেথি রাইফেল কারখানা কেবলমাত্র একটি নাম হয়েই ছিল। উত্তর প্রদেশেই রায়বেরেলি রেল বগী নির্মাণ কারখানাতে কেবলমাত্র বগীগুলি রং করা হ’ত। আর এখন এই উত্তর প্রদেশেই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। সারা দেশের মধ্যে এই রাজ্যের পরিচয় দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেল লাইন ডবলিং করার কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। আগে যেখানে প্রতি বছরে এই কাজ হ’ত ৫০ কিলোমিটার, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০০ কিলোমিটার। সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্রগুলির সংখ্যাও উত্তর প্রদেশে এখন বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার মাত্র। উত্তর প্রদেশে বর্তমানে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা আগে ছিল ১২টি, যা এখন  বেড়ে হয়েছে ৩৫টি। আরও ১৪টি মেডিকেল কলেজ তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কেবলমাত্র নতুন সুবিধাই দিচ্ছি তা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ-ও তৈরি করছি। উত্তর প্রদেশে সম্পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলির বাস্তব রূপ দেওয়া হচ্ছে। বাবা বিশ্বনাথধামের পুনর্নির্মাণ, গোরক্ষপুর এইমস্‌ তৈরি এবং দিল্লি-মীরাট এক্সপ্রেসওয়ে ও বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ে বর্তমান সরকারের অনন্য কাজের নজির। সময়ের আগে এই প্রকল্পগুলির বাস্তব রূপ দিয়ে আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করেছি, বলে মন্তব্য করেন শ্রী মোদী। নতুন শপথের বাতাবরণ গড়তে হবে আগামী এক মাসে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা স্মরণে রেখে আমাদের নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর চিন্তাভাবনা করে নীতি-নির্ধারণের ফলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পক্ষে হানিকর, উন্নয়নের গতি মন্থর করে দেওয়ার জন্য দায়ী সবকিছুই সরিয়ে রাখতে হবে। ‘অমৃতকাল’ এক দুর্লভ সুযোগ। আমাদের দেশের উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে ফেলা কখনই উচিৎ নয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনামূল্যে সুবিধা দিয়ে ভোট চাইবার সংস্কৃতি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিনামূল্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। জনগণকে এ বিষয়ে সদাসতর্ক থাকতে হবে।

যারা বিনামূল্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করে, তারা কখনই আপনাদের জন্য নতুন এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর বা প্রতিরক্ষা করিডর নির্মাণ করবে না। বিনামূল্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো ব্যক্তিরা মনে করেন, এভাবেই তারা সাধারণ মানুষের ভোট কিনতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী একযোগে এই চিন্তাভাবনাকে পরাজিত করে দেশ থেকে বিনামূল্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি দূর করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার প্রকল্প নির্মাণ, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি, যেমন – পাকা বাড়ি, রেল লাইন, সড়ক, পানীয় জলের সুবিধা, বিদ্যুৎ প্রকল্প সহ নানা পরিকাঠামো উন্নয়ন করছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বিনামূল্যে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মতো কোনও সংক্ষিপ্ত পথে নয়, কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে।

সুসংহত উন্নয়ন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ছোট শহর এবং উপেক্ষিত অঞ্চলগুলিতেও উন্নয়ন পৌঁছেছে। এর ফলে, সকলে সামাজিক ন্যায়বিচার পাচ্ছেন। আধুনিক পরিকাঠামো বর্তমানে বুন্দেলখন্ডেও পৌঁছেছে। দরিদ্রদের জন্য শৌচাগার, সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নলকূপের মাধ্যমে জল সরবরাহের মতো সুবিধা প্রদানও সামাজিক ন্যায়ের পরিচায়ক। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার প্রত্যেক বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহের জন্য ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাতৌলি বাঁধ ও ভবানী বাঁধের মাধ্যমে বুন্দেলখন্ডের কৃষকদের কৃষিকাজে জল সরবরাহের জন্য কাজ চলছে। কেন-বেতোয়া সংযোগ প্রকল্প এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি জেলায় ৭৫ অমৃত সরোবর প্রচারাভিযানের জন্য বুন্দেলখন্ডের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে মজবুত করার জন্য ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারের ভূমিকা উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি খেলনা শিল্পের সাফল্য তুলে ধরেন। সরকারের এই প্রচেষ্টায় খেলনা আমদানী ব্যাপক কমেছে বলে তিনি জানান। এর ফলে, দরিদ্র, অবহেলিত, পিছিয়ে পড়া উপজাতি, দলিত ও মহিলারা উপকৃত হবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান।

ক্রীড়া ক্ষেত্রে বুন্দেলখন্ডের ভূমিকা উত্থাপন করেন শ্রী মোদী। এখানকার স্থানীয় সন্তান মেজর ধ্যানচাঁদের নামেই দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট শাইলি সিং-এর নামও উল্লেখ করেন তিনি।

বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ে

সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে চলছে সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। নতুন ভারতের কর্মসংস্কৃতির পরিচায়ক এই এক্সপ্রেসওয়েটির কাজ মাত্র ২৮ মাসেই শেষ হয়েছে। ২৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চারলেনের এক্সপ্রেসওয়েটির ১৪ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা নেবে। স্থানীয় মানুষের জন্য তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার হাজার কর্মসংস্থান। বান্দা ও জালাউনের মধ্যে শিল্প করিডর তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'

Media Coverage

Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 30 অগাস্ট 2026
August 30, 2026

Tiranga in Tashkent, Relief in Nepal: Soft Power Meets First Responder

Vocal for Local, Nari Shakti, Real Heroes: Mann Ki Baat’s Atmanirbhar Hour