Students should reach out to industry professionals and understand how they work: PM
Don’t see studies and art as separate: PM
You can use art to relieve stress and fatigue from studies: PM
PM urges citizens to not throw garbage or spit on the roads, stop at red lights, and not to waste food
Every small step will build Viksit Bharat @ 2047: PM
Discipline is the key, inspiration only adds on to it: PM
Don’t become a slave to technology: PM
Technology is a great teacher, Embrace it: PM
Travel not just to see places, but to understand them like a student: PM
India is incredible- travel and explore: PM
Whatever you study never goes to waste, it remains stored in your mind: PM
Make friends with those who struggle in studies and help them learn: PM
It is important to make sports a part of life: PM
To become a leader, develop the mindset to take initiative: PM
A good leader should communicate ideas clearly and effectively: PM
Strong infrastructure is the foundation for long-term development: PM
Practice by writing, Not just reading: PM
Don’t be impressed by success alone, learn from the humble beginnings of great people: PM
India’s progress is enriched by its tribal communities: PM
Never settle in life, always strive for more: PM
It’s important to reflect on ourselves: PM
One should do breathing exercises at least once a day: PM
Instead of being pressured by comparison, try to learn and do better: PM
Parents should not encourage a comparative environment at home: PM
Learn from people who are better than you: PM
Always believe in yourself: PM

প্রধানমন্ত্রী: আমার প্রিয় বন্ধুরা, পরীক্ষা পে চর্চা-র এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তোমাদের সবাইকে স্বাগত। এবারের পর্বটি একটু আলাদা, একটু বিশেষ। অনেক ছাত্রছাত্রীই প্রস্তাব দিয়েছিল যে পরীক্ষা পে চর্চা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া উচিত। তাই এবার আমি সারা ভারতের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বসে এই আলোচনা করছি। এই বিশেষ পর্বে সেটাই হচ্ছে। শুরু করা যাক তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর থেকে। তামিল ছাত্রছাত্রীদের উদ্যম ও কৌতূহল আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে। শুরু করি তাহলে।
প্রধানমন্ত্রী: ভানাক্কম!
ছাত্ররা: ভানাক্কম, স্যার!
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা খেয়েছ তো?
ছাত্ররা: হ্যাঁ স্যার, আমরা খেয়ে এসেছি।
প্রধানমন্ত্রী: কী খেয়েছ?
ছাত্ররা: বাড়ি থেকে আনা খাবার।
প্রধানমন্ত্রী: বাড়ি থেকে খুব ভালো।
ছাত্র: ওনাকে সামনে দেখে আমার চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না।
ছাত্র: আমি ভেবেছিলাম উনি খুব জাঁকজমকের সঙ্গে আসবেন, কারণ উনি তো প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু উনি খুবই সরল, বিনয়ী এবং মাটির কাছাকাছি মানুষ।
ছাত্র: উনি যখন হাঁটতে হাঁটতে ঢুকলেন, আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
প্রধানমন্ত্রী: অনেক বছর ধরে আমি দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পরীক্ষা পে চর্চা-র মাধ্যমে কথা বলছি। আমি এটা কাউকে পড়ানোর জন্য নয়, শেখার জন্য করি। আমার কাছে এটা এক বড় শেখার অভিজ্ঞতা। তাই আজ আমি তামিলনাড়ুর যুব প্রজন্মের সঙ্গে বসেছি—তোমাদের কাছ থেকে শেখার জন্য। যদি কেউ কিছু বলতে চাও, আমি শুনতে প্রস্তুত। কে শুরু করবে?
ছাত্রী: আমার নাম ছাভি জৈন। আমি একটি স্টার্টআপ শুরু করতে চাই। এর জন্য কোন বিষয়গুলো জানা দরকার এবং শিক্ষাগতভাবে আমার কী করা উচিত?
প্রধানমন্ত্রী: তুমি একদম ঠিক বলেছ। আজকাল আমি যেখানে যাই, তরুণরা স্টার্টআপ নিয়ে কথা বলে। প্রথমে ঠিক করো তুমি কী করতে চাও। কেউ ড্রোন বানাতে চায়, কেউ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে চায়। কারও প্রযুক্তিতে দক্ষতা আছে, কেউ ফাইন্যান্সে ভালো। চারজন বন্ধু মিলে ছোট একটি দল তৈরি করো। স্টার্টআপের জন্য ২৫ বছরের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই—যে কোনো সময় শুরু করা যায়। ছোট উদ্যোগও বড় হতে পারে। কাছাকাছি কোনো স্টার্টআপে গিয়ে বলো, “আমি স্কুলের ছাত্র/ছাত্রী, একটি প্রজেক্ট করছি।” ওরা তোমার থেকে কিছু লুকোবে না। ধীরে ধীরে শেখার সুযোগ পাবে।
ছাত্র: স্যার, পড়াশোনায় বেশি মন দিলে আমার প্যাশন নষ্ট হয়ে যায়, আবার প্যাশনে বেশি মন দিলে পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্যালান্স করব কীভাবে?
প্রধানমন্ত্রী: এই দুটো আলাদা নয়। ধরো তুমি আর্ট ভালোবাসো আর তুমি বিজ্ঞান পড়ছ। তুমি ল্যাবরেটরির ছবি আঁকতে পারো, কেমিক্যালের নাম লিখে রাখতে পারো, রঙ দিয়ে বিক্রিয়া দেখাতে পারো। এতে পড়াশোনাও হবে, আর্টও হবে। প্যাশন পড়াশোনার চাপ কমাতেও সাহায্য করে। সপ্তাহে কিছু সময় এর জন্য রাখো। সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা যেমন দরকার, তেমনি ব্যক্তিগত আগ্রহও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 
 

ছাত্র: ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত উন্নত দেশ হবে। আমরা তরুণরা কী করতে পারি?
প্রধানমন্ত্রী: এটা শুনে আমি খুব আনন্দিত। উন্নত দেশ মানে শুধু বড় বড় বিষয় নয়—ছোট ছোট অভ্যাস। রাস্তায় ময়লা না ফেলা, সিগনালে ঠিকমতো থামা, খাবার নষ্ট না করা। ভোকাল ফর লোকাল, মেড ইন ইন্ডিয়া—এই মনোভাবই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমি ভারতে তৈরি পণ্য কিনব। তাহলে আমি মেড ইন ইন্ডিয়া আমাদের অবদান রাখতে পারব। আমি এখন বলি ওয়েড ইন ইন্ডিয়া – ভারতে বিয়ে কর। ধনী অনেক মানুষ বিয়ে করতে দুবাইয়ে যায়। কিন্তু কেন ? ভারতে কম কি আছে ? ছোট ছোট দায়িত্ব নিলেও তোমরা উন্নত ভারত গড়ে তোলায় অবদান রাখবে। 
ছাত্র: আমরা খুবই অবাক হয়েছিলাম। ওহ মাই গড, প্রধানমন্ত্রী সত্যিই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের বলেছেন—বড় নয়, ছোট ছোট পদক্ষেপই আসল।
ছাত্র: আমার প্রশ্ন হলো, যখন একজন ছাত্র বা মানুষ তার জীবনযাপন করে, তখন তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। পরিস্থিতি কঠিন হলে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা কমে যায়। এমন সময়ে সফল হতে আমাদের অনুপ্রেরণা দরকার, নাকি শৃঙ্খলা?
প্রধানমন্ত্রী: জীবনে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। যদি শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে যত অনুপ্রেরণাই থাকুক, তার কোনো মূল্য থাকবে না। ধরো, একজন কৃষক তার প্রতিবেশীর ভালো ফসল দেখে অনুপ্রাণিত হলো। সে ভাবল, “আমার জমি তো বড়, আমাকেও বেশি উৎপাদন করতে হবে।” অনুপ্রেরণা পেল। কিন্তু বৃষ্টি আসার আগে জমি চাষ করতে সে দেরি করল—বলল, “আগামী সপ্তাহে করব।” যদি বৃষ্টির আগে চাষ না করে, তাহলে পরে যা-ই করুক, তার অবস্থা ভালো হবে না। তার অনুপ্রেরণা ছিল, কিন্তু শৃঙ্খলা ছিল না। জীবনে শৃঙ্খলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; অনুপ্রেরণা তাতে মূল্য যোগ করে। শৃঙ্খলা না থাকলে, সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণাও বোঝা হয়ে যায় এবং হতাশার কারণ হয়।
ছাত্র: এই প্রশ্নটা বহু বছর ধরে আমার মাথায় ছিল। আজ অবশেষে যাঁকে আমি আদর্শ মানি, তাঁর কাছ থেকে স্পষ্ট উত্তর পেয়ে আমি গর্বিত ও আনন্দিত।
ছাত্র: স্যার, আজকাল AI খুব প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। অনেক কোম্পানিতে মানুষ ছাড়াও AI কর্মী রয়েছে। আমাদের কি AI-কে ভয় পাওয়া উচিত? আর ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার বাছার সময় আমাদের কী মনে রাখা উচিত?
প্রধানমন্ত্রী: দেখো, প্রতিটা যুগেই নতুন প্রযুক্তি এলে এই আলোচনা হয়। কম্পিউটার আসার সময়ও এমনটাই হয়েছিল। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা হওয়া উচিত—আমরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে যাই। সিদ্ধান্তের মালিক আমি থাকব; প্রযুক্তি আমার প্রভু হবে না। আজ অনেক শিশু মোবাইলের দাস হয়ে গেছে—মোবাইল ছাড়া খেতে পারে না, টিভি ছাড়া থাকতে পারে না। আমরা দৃঢ় থাকব যে আমরা দাস হব না। প্রযুক্তিকে আমাদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে হবে। AI-কে জিজ্ঞেস করো “এই বিষয়ের ভালো বই কোনটা?”—এটা ভালো। কিন্তু যদি বলি, “আমি পড়ব না, তুমি সব বলে দাও”—এটা ঠিক নয়। কাজের ধরন বদলাবে, আগেও বদলেছে। গরুর গাড়ি থেকে বিমান—সবই বদলেছে। কিন্তু জীবন থামেনি। প্রযুক্তিকে বুঝে, নিজেকে বিস্তৃত করে, কাজে মূল্য যোগ করলে প্রযুক্তি সবসময় আমাদের কাজে লাগবে। ভয়ের কিছু নেই।
 

প্রধানমন্ত্রী: দেখো, প্রতিটা যুগেই নতুন প্রযুক্তি এলে এই আলোচনা হয়। কম্পিউটার আসার সময়ও এমনটাই হয়েছিল। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা হওয়া উচিত—আমরা যেন প্রযুক্তির দাস না হয়ে যাই। সিদ্ধান্তের মালিক আমি থাকব; প্রযুক্তি আমার প্রভু হবে না। আজ অনেক শিশু মোবাইলের দাস হয়ে গেছে—মোবাইল ছাড়া খেতে পারে না, টিভি ছাড়া থাকতে পারে না। আমরা দৃঢ় থাকব যে আমরা দাস হব না। প্রযুক্তিকে আমাদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করতে হবে। AI-কে জিজ্ঞেস করো “এই বিষয়ের ভালো বই কোনটা?”—এটা ভালো। কিন্তু যদি বলি, “আমি পড়ব না, তুমি সব বলে দাও”—এটা ঠিক নয়। কাজের ধরন বদলাবে, আগেও বদলেছে। গরুর গাড়ি থেকে বিমান—সবই বদলেছে। কিন্তু জীবন থামেনি। প্রযুক্তিকে বুঝে, নিজেকে বিস্তৃত করে, কাজে মূল্য যোগ করলে প্রযুক্তি সবসময় আমাদের কাজে লাগবে। ভয়ের কিছু নেই।
ছাত্র: বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে আমাকে এই সুযোগ দেওয়া হবে। এটা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
ছাত্র: মনে হচ্ছে তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, পরিবারের একজন।
প্রধানমন্ত্রী: বন্ধুরা, কোয়েম্বাটুরের আমাদের তরুণ সাথীরা পড়াশোনার পাশাপাশি AI, স্টার্টআপ ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন। এটাই ২০৪৭ সালের উন্নত ভারতের যুবচিন্তা।
প্রধানমন্ত্রী: পরীক্ষা পে চর্চা মানে একসঙ্গে বসে কথা বলা, একে অপরের থেকে শেখা। কোয়েম্বাটুরের পর আমরা রায়পুরে গেলাম। ওখানেও চমৎকার আলোচনা হলো—সাথে স্থানীয় খাবারও খেলাম।
ছাত্র: জয় জোহার, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: জয় জোহার।
প্রধানমন্ত্রী: কিছু খেতে দিয়েছিল?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
ছাত্র: আপনি এতো বৈঠক করেন। এখানে আমাদের সঙ্গে কিছু খাবেন? 
প্রধানমন্ত্রী: এই খাবার কীভাবে তৈরি হয়েছে? 
ছাত্র: আমরা ময়দা মেখে ছোট ছোট রুটি তৈরি করে সেঁকেছি। 
প্রধানমন্ত্রী: ওহ‍! তাই?
ছাত্র: খেতে ভালো। 
প্রধানমন্ত্রী: কখন এটা খাওয়া হয়?
ছাত্র: প্রধানত দেওয়ালির সময়।
প্রধানমন্ত্রী: আচ্ছা দেওয়ালির সময়!
ছাত্র: প্রধানত দেওয়ালির সময়তেই। 
প্রধানমন্ত্রী: মহারাষ্ট্রের এটাকে কি বলে জানো? চাকলি।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: আর এটা কী?
ছাত্র: এটা খুরমি।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ।
ছাত্র: এটা গুড় আর ময়দা দিয়ে তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রী: এতো ভালো খাবারের জন্য অনেক ধন্যবাদ!
ছাত্র: তিনি আমাদের সকলকে একটুকরো করে খাওয়ালেনও। সত্যি!  
প্রধানমন্ত্রী: নিশ্চয়ই কিছু প্রশ্ন ঘুরছে তোমাদের মনে। বলে ফেলো।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার। 
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ বলো।
ছাত্র: স্যার, পরীক্ষার পর আমরা ভ্রমণে যেতে চাই। ভারতে পাঁচটা জায়গার নাম বলবেন?
প্রধানমন্ত্রী: তোমার বাড়ি কোথায়?
ছাত্র: রায়পুর।
প্রধানমন্ত্রী: প্রথমে নিজের এলাকার ৫ টি জায়গা বাছো। তারপরে জেলায়, তারপরে রাজ্যে। ট্রেনে যাতায়াত করো। মানুষকে দেখো। আর শেখো। 
ছাত্র: পরীক্ষার আগে অনেক সময় আমরা পড়া রিভাইস করতে পারি না, মন অস্থির হয়ে ওঠে। কী করব?
প্রধানমন্ত্রী: পরীক্ষার আগে এক সপ্তাহের কথা ভাবো। ততদিন তোমার পড়া হয়ে গেছে। কিছুই বিফলে যাবে না। শান্ত হও। প্রশ্নপত্র পেলে শান্তভাবে দেখো। ভালো ছাত্র হতে চাইলে তবেই হওয়া যায়। কিন্তু কীভাবে?   
ছাত্র: ধৈর্য্য, ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা।
প্রধানমন্ত্রী: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া, এগিয়ে যাওয়া। একজন খেলোয়াড়ও এভাবেই গড়ে ওঠেন। তোমার ক্লাসের পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা কারুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করো। তাকে অঙ্ক শেখাতে পারো। তোমারই ভালো হবে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার তাই করব। 
 

প্রধানমন্ত্রী: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া, এগিয়ে যাওয়া। একজন খেলোয়াড়ও এভাবেই গড়ে ওঠেন। তোমার ক্লাসের পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা কারুর সঙ্গে বন্ধুত্ব করো। তাকে অঙ্ক শেখাতে পারো। তোমারই ভালো হবে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার তাই করব। 
ছাত্র: আমি তাইকুন্ডু খেলোয়াড় হিসেবে নাম করতে চাই। পড়াশোনা সামলে কীভাবে এগোব?
প্রধানমন্ত্রী: জীবনে শিক্ষার প্রয়োজন আছে, সমাজেও এর প্রয়োজন আছে। একে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এই ভুলটা কোরো না যে, “আমি খেলাধুলায় ভালো, তাই পড়াশোনা করার দরকার নেই।” আবার এটাও ভেবো না যে, শুধু শিক্ষাই সবকিছু করে দেবে। তোমার ভেতরে যে প্রতিভাই থাকুক না কেন, তাকে বিকশিত করতে হবে। খেলাধুলা করে একজন ক্রীড়াবিদ হওয়াও এক ধরনের শিক্ষা, কিন্তু জীবনে ‘খেলা’ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবন টিকিয়ে রাখতে খেলাধুলা দরকার; জীবনে খেলাধুলা থাকতেই হবে। খেললে তুমি বড় হবে। পাশাপাশি পড়াশোনাও করতে হবে, যাতে কেউ না বলে, “ও কিছুই জানে না, তাই শুধু মাঠে পড়ে থাকে।” না—পড়াশোনা ও খেলাধুলা—দুটোতেই তোমাকে শক্ত হতে হবে।
ছাত্র: উনি যা বলেছেন, আমি তা আমার জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আজ যা ঘটেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ছাত্র: স্যার, আমার প্রশ্ন, কয়েক বছর আগে আপনি স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন। আমাদের নতুন রায়পুরও উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে। আমরা ছাত্র হিসেবে উন্নয়নে কীভাবে অবদান রাখতে পারি বা আমাদের পরিবেশকে কীভাবে রক্ষা করতে পারি?
প্রধানমন্ত্রী: প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা আমাদের স্বভাবের অংশ হওয়া উচিত। ধীরে ধীরে মানুষকে যুক্ত করতে হবে, তবেই পরিবর্তন আসবে। আমরা যদি নিজেদের জীবনে কিছু নিয়ম মেনে চলি,যেমন জল। বলো তো, আমি যদি দাঁত মাজছি আর কল খোলা থাকে, তাহলে কি সেটি বন্ধ করা উচিত নয়? শুধু মুখ ধোয়ার সময়ই জল ব্যবহার করব। এগুলো ছোট ছোট বিষয়। একবার আমি একটি গ্রামে গিয়েছিলাম। দূর থেকে একটি জায়গা দেখে মনে হলো ঘন সবুজ বন। জিজ্ঞেস করলাম, “এটা কী?” তারা বলল, “এটা একটি স্কুল।” ওই এলাকা ছিল শুষ্ক, কিন্তু স্কুলটি ছিল সবুজ। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি পেট্রোল পাম্প থেকে খালি তেলের ক্যান জোগাড় করে শিশুদের বলেছিলেন, “বাড়িতে খাবার ধোয়ার পর যে জলে খাবারের কণা থাকে, সেই জল এই বোতলে ভরে প্রতিদিন আনবে।” শিশুরা প্রতিদিন সেই জল নিয়ে আসত। তিনি প্রত্যেক শিশুকে একটি করে গাছ দিয়েছিলেন জল দেওয়ার জন্য। খাবারের কণাগুলো সার হিসেবে কাজ করত। এর ফলে পুরো স্কুলটাই সবুজ হয়ে উঠেছিল। একজন শিক্ষক এত বড় পরিবর্তন এনেছিলেন। আমরা যখন মানবিকভাবে কাজ করি, তখনই পরিবর্তন শুরু হয়। এগুলো খুব ছোট কাজ সহজেই করা যায়। সমাজের পরিবেশ আমাদের স্বভাবের অংশ হয়ে উঠতে হবে।
ছাত্র: আপনি এত বছর ধরে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের নেতা হিসেবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছ থেকে আপনি কী গুণ আশা করেন, যাতে আমরাও নেতা হতে পারি?
প্রধানমন্ত্রী: তুমি নেতা হতে চাও, না নির্ভীক হতে চাও?
ছাত্র: দুটোই।
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে আগে নির্ভীক হও।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: নিজের মনে ঠিক করো, অন্যরা করুক বা না করুক, আমি করব। যখন তুমি নিজে শুরু করবে, তখনই নেতৃত্ব গড়ে উঠতে শুরু করবে। যেমন, যদি রাস্তায় আবর্জনা পড়ে থাকে আর তুমি সেটি তুলে নাও, তোমার সঙ্গে হাঁটা আরও চারজনও সেটি তুলতে উৎসাহ পাবে। তাহলে তুমি নেতা হলে না? আমাদের সবসময় নিজেদেরকে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। নেতৃত্ব মানে নির্বাচনে দাঁড়ানো, রাজনৈতিক দল গঠন করা বা বড় বড় ভাষণ দেওয়া নয়। নেতৃত্ব মানে তোমার বক্তব্য দশজনকে বুঝিয়ে বলতে পারার ক্ষমতা চাপিয়ে দেওয়া নয়, ব্যাখ্যা করা। ব্যাখ্যা করতে হলে আগে বুঝতে হবে। যারা অন্যকে বোঝে, তারাই বোঝাতে পারে। যারা অন্যকে বোঝে না, তারা কিছুই বোঝাতে পারে না। তাই আমাদের চেষ্টা হওয়া উচিত অন্যকে বোঝার।
ছাত্র: উনি খুব সুন্দরভাবে বোঝালেন যে কেউ যদি কোনো বিষয়ে দায়িত্ব নেয়, তাহলেই বুঝতে হবে তার মধ্যে নেতৃত্বের গুণ আছে। পুরো ঘটনাটাকে আমি যদি এক কথায় বলি, এটা ছিল একটা স্বপ্ন।
ছাত্র: আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি।
ছাত্র: আমি খুব ভাগ্যবান।
ছাত্র: এটা অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা, যা জীবনে খুব কম মানুষই অর্জন করেন।
প্রধানমন্ত্রী: পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার সময় মাথায় আসা নানা চিন্তা, মানসিক চাপ, আর মানুষের প্রত্যাশা, এই সব বিষয় নিয়েই আমাদের আলোচনা বারবার হয়। পরীক্ষা পে চর্চা-র উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের তরুণ বন্ধুরা এই বিষয়গুলো খোলাখুলি ভাবে যাতে বলতে পারে, তার পরিসর তৈরি করা। পরীক্ষা পে চর্চা শুধু বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই নয়। তোমাদের প্রশ্নগুলো যখন আমি শুনি, স্বাভাবিকভাবেই তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি, জীবনের বহু দিকই আমাদের তরুণ বন্ধুদের মনে সবসময় ঘুরপাক খাচ্ছে। এখন আমি তোমাদের নিয়ে যাব গুজরাটে, যেখানে বাচ্চারা, বিশেষ করে আদিবাসী অঞ্চলের আমার আদিবাসী সন্তানরা—এমন সব প্রশ্ন করেছিল, যা আমাকে সত্যিই অবাক করে দিয়েছিল।
ছাত্র: নমস্তে স্যার। দেব মোগারা গ্রামে আপনাকে স্বাগত।
প্রধানমন্ত্রী: দারুণ। আমাকে বলা হয়েছিল, আজ সবাইকে হিন্দিতে কথা বলতে হবে…
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: ঠিক আছে।
ছাত্র: স্যার যখন এলেন, আমরা দেখলাম আপনি ওয়ারলি শিল্পকলা আঁকা একটি কোটি (জ্যাকেট) পরেছিলেন। আমাদের আদিবাসী সমাজে ওয়ারলি শিল্পের খুব গুরুত্ব আছে, তাই এটা দেখে আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম।
ছাত্র: আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমরা খুব উন্মুখ ছিলাম। যেকোনো পড়ুয়ারই আপনার কাছে অনেক প্রশ্ন থাকার কথা। কিন্তু আপনিই আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন—এটা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের।
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা কত দূর থেকে এসেছ?
ছাত্র: আমরা ডেডিয়াপাড়া থেকে এসেছি।
প্রধানমন্ত্রী: ডেডিয়াপাড়া থেকেই। আচ্ছা।
ছাত্র: আমি মান্ডভি থেকে এসেছি, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: মান্ডভি? আচ্ছা। তোমার নাম কী?
ছাত্র: জয়।
প্রধানমন্ত্রী: জয় আর অভি। তোমরা তো অনেক বড় হয়ে গেছ! ওদের কি বলেছিলে, তোমাদের সঙ্গে আমার কী কথা হচ্ছে?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তোমাদের কথা শুনে কি সবাই সাহস পেয়েছে?

ছাত্র: হ্যাঁ স্যার, পেয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী: ও একবার আগেও আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল।
প্রধানমন্ত্রী: আচ্ছা বলো তো, কিছু জানতে চাও? কিছু প্রশ্ন আছে?
ছাত্র: স্যার, আমাদের বাবা-মা আমাদের বলেছেন যে আগে কিছু আদিবাসী অঞ্চল খুব পিছিয়ে ছিল। তাঁরা এটাও বলেছেন যে গুজরাটের আদিবাসী অঞ্চলের প্রতি আপনার বিশেষ ভালোবাসা আছে এবং আপনি সেখানে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। তাই আমি জানতে চাই—এই কাজগুলোর অনুপ্রেরণা আপনি কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা কি পাল-চিতারিয়া ঘটনার কথা জানো?
ছাত্র: হ্যাঁ।
প্রধানমন্ত্রী: ওই জায়গায় আদিবাসী সমাজ স্বাধীনতার জন্য তুমুল লড়াই করেছিল। একবার সেখানে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। সেই সময় আমি বহুদিন ওই এলাকায় থেকেছি এবং কাজ করেছি। তখনই আমার মনে হয়েছিল—শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া খুব জরুরি। পরে যখন সুযোগ পেলাম, যখন আমি মুখ্যমন্ত্রী হলাম, তখন আমি সেই দিকেই বিশেষ মনোযোগ দিলাম। তোমরা শুনে অবাক হবে—একটা সময় ছিল, যখন উমরগাঁও থেকে আম্বাজি পর্যন্ত একটাও বিজ্ঞান স্কুল ছিল না। পরে তোমরাই দেখেছ—এখন সেখানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, বিজ্ঞান স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, আইটিআই—অনেক পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে মানুষের খুব উপকার হয়েছে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: আজও তোমরা জানো, আমি পিএম জনমন যোজনা শুরু করেছি। আদিবাসীদের মধ্যেও এমন কিছু অঞ্চল ও কিছু মানুষ ছিল, যারা এখনও পিছিয়ে ছিল। তাই তাদের জন্য আলাদা প্রকল্প, আলাদা বাজেট করতে হয়েছে। তখন থেকেই আমি বুঝেছি—শিক্ষার ওপর যত বেশি জোর দেওয়া হবে, উন্নয়ন তত দ্রুত হবে। আরেকটা বিষয় আমার মনে ছিল—আমি উমরগাঁও থেকে আম্বাজি পর্যন্ত একটি জাতীয় সড়ক (হাইওয়ে) তৈরি করিয়েছি। উন্নয়নের জন্য পরিকাঠামো খুব দরকার। মানুষ যাতায়াত শুরু করে, সুযোগ বাড়ে, তাই এই দিকেও আমি গুরুত্ব দিয়েছি।
ছাত্র: আমার প্রশ্ন হলো, পহেলগাম হামলার পর আমাদের বাড়িতে আলোচনা হচ্ছিল, এরপর কী হবে। পুরো দেশ আপনার দিকে তাকিয়ে ছিল। তারপর অপারেশন সিন্দুর হলো এবং আমাদের সেনাবাহিনী জয়ী হলো। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কীভাবে নিজের মানসিক চাপ সামলান? আমরা তো শুধু পরীক্ষার চাপই সামলাই।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ, তোমরা পরীক্ষার চাপ অনুভব করো…
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তুমি যখন নিজের আগের পরীক্ষার দিনগুলোর কথা মনে করো, তখন নিশ্চয়ই মনে হয়—হ্যাঁ, তখন একটু টেনশন ছিল, কিন্তু পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আর কিছুই ছিল না।
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তাই তো?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার, ঠিকই।
প্রধানমন্ত্রী: পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে ভালো অভ্যাস হলো প্রশ্নপত্র সমাধান করার, লিখে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা। অধিকাংশ মানুষ শুধু পড়ে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা যদি নিজেরা এইভাবে নিয়মিত অনুশীলন করো, আমি নিশ্চিত—তোমরা কখনোই মানসিক চাপ অনুভব করবে না।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: আমরা কী করি? সারাদিন বই পড়ি। আরে, মাঝে মধ্যে একটু হাসিও। আরেকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেটা আজকাল মানুষ গুরুত্ব দেয় না—ঘুম। তোমাদের অবশ্যই ভালো ঘুম দরকার। তোমরা ভাবতে পারো, “এই কেমন প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুমের কথা বলছেন? আমরা তো পরীক্ষার কথা জিজ্ঞেস করেছি।” কিন্তু যদি ঠিকমতো ঘুমাও, তাহলে বাকি সময়টা তোমরা সতেজ থাকবে—নতুন ভাবনা, নতুন আইডিয়া আসবে, আর মন থাকবে প্রফুল্ল।

 

ছাত্র: হ্যাঁ স্যার। আমরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা অফিসার হতে চাই। কীভাবে আমাদের ক্যারিয়ার বেছে নেব?
প্রধানমন্ত্রী: এক মাসের মধ্যে যদি তুমি দশটা আলাদা আলাদা কথা বলো, তাহলে পরিবার কী বলবে? “এর কোনো দিশা নেই।” কারও দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ভাবা—“আমি যদি ওর মতো হতে পারি” এটা ভালো কথা। বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখা ভুল নয়। কিন্তু এমন কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা কোরো না, যে ইতিমধ্যেই বড় হয়ে গেছে। দেখো সে কোথা থেকে শুরু করেছিল। যদি এভাবে ভাবো, তাহলে তুমি নিজেই বলবে, “হ্যাঁ, আমিও এখান থেকেই শুরু করব।” ধরো, কেউ বলল,“আমি ক্রিকেটার হয়েছি।” কিন্তু যখন সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত, তখন সে ভোর ৪টেয় উঠে সাইকেল চালিয়ে স্টেডিয়ামে যেত, দু’ঘণ্টা অনুশীলন করত। তখন তুমি বুঝবে, “আহা, এত পরিশ্রম লাগে!” তারপর তুমি নিজে শুরু করবে। এখন তোমরা শুধু দেখো “ও শতরান করল, ওর ছবি পেপারে বেরোল।” স্বপ্নের জন্য বাঁচতে শিখো, স্বপ্ন অনুযায়ী জীবন গড়ো। কিন্তু মনে রেখো, তুমি যদি কথাই বলে যাও, তাহলে কিছুই হবে না।
ছাত্র: হ্যাঁ।
প্রধানমন্ত্রী: যেই না তুমি নাম্বার ওয়ান হবে, সাফল্য তো আসবেই না?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: পুরো স্কুল জানবে, তাই না?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: পুরো গ্রাম জানবে, তাই না?
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: সেই দিকেই তো আমাদের চেষ্টা থাকা উচিত।

ছাত্র: স্যার যা যা বললেন, আমি যা যা শুনলাম—সেগুলো নিয়ে আমি সারাজীবন ভাবব, এগিয়ে যাওয়ার জন্য, কিছু একটা হয়ে ওঠার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী: নিশ্চয়ই।
ছাত্র: স্যার, এখন আমরা আপনাকে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত কিছু জিনিস দেখাব। স্যার, এগুলো কার্ডবোর্ডে করা ওয়ারলি চিত্রকলা। এগুলো সবই আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্যার, আমরা আমাদের আদিবাসী এলাকার শিল্পকলাও উপহার দিয়েছি—যেমন এই পেন্টিংগুলো, এটা লিপ্পন শিল্প, আর এটা আমি নিজে বানিয়েছি—পিথোরা শিল্প।
প্রধানমন্ত্রী: তুমি নিজেই বানিয়েছ?
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার। আপনার জন্যই বানিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী: তোমার নাম কী?
ছাত্র: কিষাণ।
প্রধানমন্ত্রী: এটা কি তোমার নিজের হাতের লেখা?
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: ওহ, অসাধারণ!
ছাত্র: ধন্যবাদ, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: কত সুন্দর!
ছাত্র: আমরা এগুলো আমাদের বাড়ির দেওয়ালে এঁকেছি, আর এগুলোর আমরা পূজাও করি।
প্রধানমন্ত্রী: বাহ্! তাহলে তো তুমি সত্যিই একজন বড় শিল্পী হয়ে উঠেছ!
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আমার আঁকা ছবি গ্রহণ করেছেন—এতে আমি খুবই খুশি। আর স্যার আমাদের সঙ্গে এত বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বললেন যে মনে হচ্ছিল, আমরা যেন নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গেই কথা বলছি।
ছাত্র: আমার আপনার কাছে প্রশ্ন, আপনার জীবনে আপনার শিক্ষকদের ভূমিকা কী ছিল?
প্রধানমন্ত্রী: খুব বড় ভূমিকা, সত্যিই খুব বড় ভূমিকা। যেমন আমি আগেও বলেছি—আমাদের একজন শিক্ষক প্রতিদিন বলতেন লাইব্রেরিতে যেতে, টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকার সম্পাদকীয় থেকে একটি বাক্য বেছে নিয়ে লিখে আনতে, তারপর পরের দিন সেটা নিয়ে আলোচনা করতে। এমন অনেক বিষয় ছিল। আরেকটি উদাহরণ দিই, ফিটনেসের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্কুলে আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম ছিল পরমার। তিনি শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে খুবই কঠোর ছিলেন। তিনি আমাদের যোগব্যায়াম শেখাতেন, মল্লখম্ভ শেখাতেন। আমরা সবাই খেলোয়াড় হইনি, কিন্তু বুঝতে শিখেছিলাম, শরীরের জন্য ফিটনেস কতটা জরুরি। তাই জীবনে প্রতিটি শিক্ষকই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পৃথিবীতে যত বড় মানুষকেই দেখো না কেন, তাদের জীবনে দুটি কথা অবশ্যই পাবে এক, তারা বলবে তাদের মায়ের ভূমিকা তাদের জীবনে খুব বড় ছিল।
ছাত্র: হ্যাঁ।
প্রধানমন্ত্রী: আর দুই, তারা বলবে —তাদের শিক্ষকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্র: আমাদের দেশ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। তাহলে আপনি কি বলতে পারেন—দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আদিবাসী সমাজ কীভাবে অবদান রাখতে পারে?
প্রধানমন্ত্রী: খুব বড় অবদান! দেখো, আজ দেশ যে এগিয়েছে, তার পেছনে আদিবাসী সমাজের বড় ভূমিকা আছে। আজ দেশের পরিবেশ সংরক্ষিত রয়েছে আদিবাসী সমাজের জন্যই। তারা প্রকৃতির পূজা করে, প্রকৃতিকে রক্ষা করে। আজও আমাদের দেশের সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে আসে আদিবাসী সমাজ থেকে। দেশের কোনও ক্ষেত্রেই আজ কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়, আমাদের কাছেও কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের খেলোয়াড় আছে, আর আমাদের আদিবাসী সন্তানরাও অনেক বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। তাদের অগ্রগতি দেশকে গর্বিত করেছে। তোমরা তো জানো, সম্প্রতি আমাদের মহিলা ক্রিকেট দল জিতেছে, তাই না?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: মধ্যপ্রদেশের ক্রান্তি গৌড় নামে একজন মেয়ে আছে, সে আদিবাসী সমাজের কন্যা।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: সে খেলাধুলায় দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: আসলে আমাদের দেশের অনেক খেলোয়াড়ই আদিবাসী সমাজ থেকে এসেছেন, আর তারা দেশকে গৌরবান্বিত করেছেন। ঠিক সেইভাবেই—প্রতিভা! তোমাদের মধ্যে এত সুন্দর শিল্পবোধ আছে। যদি এর সঙ্গে প্রযুক্তির জ্ঞান যুক্ত করো, তাহলে এই ক্ষমতা আরও অনেক দূর এগোবে।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তাই জীবন শুধু চাকরির জন্য হতে পারে না।
ছাত্র: না।
প্রধানমন্ত্রী: স্বপ্ন হওয়া উচিত—আমি কেমন জীবন কাটাতে চাই, আর সেই অনুযায়ী আমি আমার জীবন গড়ব। আমরা যদি তাই করি, তাহলে অনেক লাভ হবে। চলো, একটা গান গাওয়া যাক।
ছাত্র: জঙ্গলু রেনারি তু পাহাড়ু রেনারি, জঙ্গলু রেনারি তু পাহাড়ু রেনারি…
ছাত্র: আমরা সবাই স্যারের জন্য একটি গান গাইলাম। সেই গানটা ছিল মোগি মাতাকে নিয়ে, তিনি কোথায় থাকেন, কীভাবে থাকেন—সবকিছুই গানের কথায় ছিল।
ছাত্র: স্যারের সঙ্গে আমাদের অনেক কথা হয়, কীভাবে জীবনে সবসময় খুশি থাকা যায়, কীভাবে মানসিক চাপ দূর করা যায়, সময় কীভাবে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয়, আর কীভাবে ভয় না পেয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়।
ছাত্র: প্রথমে আমার চোখকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে আছেন। সময় যে কীভাবে কেটে গেল, আমরা বুঝতেই পারিনি।
প্রধানমন্ত্রী: পরীক্ষা পে চর্চা-র আমাদের যাত্রা পৌঁছেছিল অষ্টলক্ষ্মীতে—অর্থাৎ উত্তর-পূর্ব ভারতে। আর গুয়াহাটিতে, প্রবহমান ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে আনন্দের সঙ্গে নৌকাভ্রমণের মধ্যেই পরীক্ষা পে চর্চা চলেছিল।
ছাত্র: নমস্কার, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: বসো বসো।
ছাত্র: প্রণাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা সবাই আপনাকে একটি গামোছা উপহার দিতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী: অবশ্যই। অসমে আসব আর গামোছা পাবো না তা কী হয়! অসাধারণ।
ছাত্র: ওঁনার উপস্থিতিটা খুবই আনন্দদায়ক, সব দুশ্চিন্তা যেন উধাও হয়ে গেল। আমরা একসঙ্গে অনেক কথা বলেছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা কি আগে কখনও টিভিতে পরীক্ষা পে চর্চা অনুষ্ঠান দেখেছ?
ছাত্ররা: হ্যাঁ স্যার, দেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী: ভালো। ওই বইটা কি দেখেছ?
ছাত্ররা: হ্যাঁ স্যার—এক্সাম ওয়ারিয়র।
প্রধানমন্ত্রী: বইটা পড়ে বা অনুষ্ঠানটা দেখে পরীক্ষার আগে তোমাদের আগের ভাবনার সঙ্গে কী পার্থক্য হলো? কী উপকার পেয়েছ?
ছাত্র: এখন আর পরীক্ষাকে এতটা ভয় লাগে না। পরীক্ষাকে উৎসবের মতো উদ্‌যাপন করার যে মন্ত্র আপনি দিয়েছেন, তাতে পরীক্ষাভীতি অনেকটাই কমে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী: কিন্তু আসলে তো পরিবারের লোকজনই তোমাদের ভয় দেখায়, তাই না?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ।
ছাত্র: ওঁরা বলেন, “এক নম্বর কম পেলে কেন? সেই এক নম্বরটা কোথায় গেল?”

প্রধানমন্ত্রী: জীবনে যদি আমরা সন্তুষ্ট হয়ে বলি, “হয়ে গেছে, আর কী চাই?”—তাহলে অগ্রগতি থেমে যায়।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: মনে জয়ের ইচ্ছা থাকা উচিত। সেই জন্যই আমি একটা মন্ত্র দিয়েছি।
ছাত্র: স্যার, আমাদের অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী: বাহ! একদম ঠিক। হ্যাঁ—আমি বলেছি, আমাদের সবসময় নিজেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কেউ বলতে পারে, “৯৯ পেয়েছ, ১০০ কেন নয়?”—এটা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু তোমাকে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে, “আমার জীবনে এই পরিবর্তনটা কেন এলো? কোথায় ঘাটতি রইল? তার কারণ কী?”—এটাই ভালো। মনে প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করো।
ছাত্র: আমার প্রশ্ন—আমি শুনেছি, সুস্থ থাকার জন্য আপনি দৈনন্দিন জীবনে একটি নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। তাহলে আমরা ছাত্ররা শক্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে, পরীক্ষায় সেরা পারফরম্যান্স দিতে—কোনো ‘জাদুকরী’ ডায়েট অনুসরণ করব?
প্রধানমন্ত্রী: সত্যি কথা বলতে কী, আমার কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট সিস্টেম নেই। আগে আমি বিভিন্ন পরিবারের বাড়িতে খেতাম। যেহেতু আমি নিরামিষাশী, তাই নিরামিষ খাবারই খেতাম। সেই বাড়িতে যা পাওয়া যেত, তাই খেতাম। কখনও কখনও নিজেকেই রান্না করতে হতো, কখনও খিচুড়ি বানাতাম। তোমরা কি খিচুড়ি খাও?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তোমাদের খাবার হওয়া উচিত তোমাদের রুচি অনুযায়ী। সেটা যেন ওষুধের মতো জোর করে খেতে না হয়। ভাবো, তোমরা কি পেট ভরাতে খাও, না মন ভরাতে?
ছাত্র: মন ভরাতে।
প্রধানমন্ত্রী: আর সাধারণত কী হয়, লোকজন খেতেই থাকে, যতক্ষণ না কেউ বলে থামতে। শস্য খেয়ে পেট ভরে যায়। কিন্তু শ্বাস নিতে নিতে বুক ভরে যায়, এমনটা আমরা করি না। এখানে ঠিক উল্টোটা হওয়া উচিত। দিনের মধ্যে যখনই সুযোগ পাবে, গভীর শ্বাস নাও, যেন শরীরটা পুরোপুরি ভরে যায়। সম্ভব হলে কয়েক মুহূর্ত ধরে রেখে ধীরে ধীরে ছাড়ো। আমরা খাবার তো খাই, কিন্তু আরও পঞ্চাশটা কাজের ভিড়ে শরীরকে সবার শেষে রাখি, শেষ অগ্রাধিকার। এখন বলো তো, তোমাদের মধ্যে ক’জন নিয়ম করেছে যে সূর্যোদয় দেখবে?
প্রধানমন্ত্রী: সূর্যোদয়।
ছাত্ররা: আমরা দেখব, স্যার!
প্রধানমন্ত্রী: এতে শরীর সতেজ হয়, শক্তি আসে। এটাকে আমাদের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শরীরকে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ছাত্র: স্যার, অনেক সময় বাবা-মা আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে তুলনা করেন। কিন্তু নিজের ভাই-বোনের সঙ্গে তুলনা করলে চাপটা আরও বেশি হয়। এমন অবস্থায় আমাদের কী করা উচিত?
প্রধানমন্ত্রী: ধরো, বাবা বললেন—“তোমার বোনের হাতের লেখা কত সুন্দর!” একজন ভালো মানুষ কী বলবে? সে বোনকে বলবে, “আমাকে শেখাও, কীভাবে আমার হাতের লেখা ভালো করা যায়।” আর আরেকজন ভাববে, “আমার বাবা-মা শুধু আমার বোনকেই পছন্দ করে। ওর প্রশংসাই করে। আমি যে এত পরিশ্রম করি, সেটা দেখে না।” পরিবারে যদি কারও কোনো ভালো গুণের কথা বলা হয়, তাহলে সেই গুণটা ভাই বা বোনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করা উচিত। বাবা-মাকে বলা উচিত, “আপনি একটা ভালো দিক দেখিয়েছেন। আমার মধ্যে সেটা নেই। দয়া করে বলুন, আমি কীভাবে এটা গড়ে তুলতে পারি।” তাহলে বাবা-মা দেখবেন—তুমি মন খারাপ করোনি, বরং শিখতে চাইছ। বাবা-মায়েরও তুলনা এড়ানো উচিত। আমি সবসময় বাবা-মাকে বলি—এক সন্তানকে অন্যদের সামনে এতটা প্রশংসা করবেন না, যাতে অন্য সন্তান অবহেলিত বোধ করে। আমাদের কাছের কেউ যদি কোনো বিষয়ে ভালো হয়, তাহলে মনে মনে তাকে গুরু মেনে নেওয়া উচিত, সে যেন সেটা না-ই জানে। ধরো, বললে—“তুমি ব্যাডমিন্টন খুব ভালো খেলো। আমি কোথায় ভুল করছি? একটু শেখাও।” তাহলে সে নিজেকে বড় মনে করবে না, ভাববে—“ও শিখতে চাইছে।” সে তোমাকে নিজের সমান হিসেবেই দেখবে।

ছাত্র: স্বাভাবিকভাবেই একটু নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে ভীষণ উত্তেজিতও ছিলাম। মোদীজির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি, ভেবে খুব খুশি হয়েছিলাম। কখনও ভাবিনি এমন কিছু আমার জীবনে ঘটবে। কিন্তু যখন ঘটল, তখন সত্যিই ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলাম।
ছাত্র: স্যার, অনেক সময় ছাত্ররা মঞ্চে বা মানুষের সামনে কথা বলতে ভয় পায়। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আপনি আমাদের কী পরামর্শ দেবেন?
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে তোমরাই যদি পরামর্শ দিতে চাও, কী বলবে? এসো, এগিয়ে এসো—সবাই এগিয়ে এসো। কেউ যদি এক, দুই, তিন, কিছু বলতে চায়, কেমন হবে?
ছাত্র: স্যার, আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী: আত্মবিশ্বাস শব্দটা দু’টা শব্দ নিয়ে গঠিত। কোন দু’টা?
ছাত্র: আত্মা আর বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী: যার নিজের ওপর বিশ্বাস আছে, সে কখনও ভয় পায় না। তোমাদের কি নিজের ওপর বিশ্বাস আছে?
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: যদি নিজের ওপর বিশ্বাস থাকে, তাহলে যেকোনো কিছু অতিক্রম করা যায়। আত্মবিশ্বাসী মানুষ কী করে? সে পুরো পরিস্থিতিটা মনে মনে বিশ্লেষণ করে। স্বামী বিবেকানন্দ একবার শিকাগোতে তাঁর বিখ্যাত বক্তৃতার পর একটি চিঠি লিখেছিলেন।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: বিবেকানন্দ খুব প্রশংসিত হয়েছিলেন।
ছাত্র: হ্যাঁ স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: কিন্তু তিনি তাঁর শিষ্যকে লিখেছিলেন, শিকাগোতে বক্তৃতা দিতে যাওয়ার আগে তিনি খুব নার্ভাস ছিলেন। ভেবেছিলেন, “এত বড় বড় পণ্ডিত, এত জ্ঞানী, এত সন্ন্যাসী, আমি কী বলব?” তিনি লিখেছিলেন যে তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন। তারপর তিনি মা সরস্বতীর কথা স্মরণ করে প্রার্থনা করেছিলেন, “মা, আমার ভেতরের সব শক্তিকে জাগিয়ে দিন। আমি যা শিখেছি, সব একসঙ্গে আমার জিহ্বায় এসে যাক।” এই প্রার্থনা করে তিনি মঞ্চে উঠেছিলেন। তিনি যখন বলেছিলেন, “Sisters and Brothers of America”, তখন শ্রোতারা একটানা দু’মিনিট করতালি দিয়েছিল। সেটাই ছিল একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। তখন তিনি বুঝেছিলেন—“না, আমি নিজেকে যেমন ভাবছিলাম, আমি তেমন নই। আমার ভেতরে আরও কিছু আছে।” সেখান থেকেই আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়। সবচেয়ে বড় বক্তা, সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়দের জীবনেও এটা হয়। শচীন তেন্ডুলকর কি কখনও শূন্য রানে আউট হননি?
ছাত্র: হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে কি তিনি মাথায় হাত দিয়ে হতাশ হয়ে বসে পড়েছিলেন?
ছাত্র: না, স্যার।
প্রধানমন্ত্রী: তাই আমাদের পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য করতে হবে, মূল্যায়ন করতে হবে, তারপর ভাবতে হবে, “ঠিক আছে, আমি পারব।” আত্মবিশ্বাস মানে আসলে নিজের ওপর বিশ্বাস। এটা আমাদের হয়ে আর কেউ এনে দেবে না। আমাদেরই নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
ছাত্র: আমি আপনার সামনে একটি গান গাইতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী: হ্যাঁ, গান গাও।
ছাত্র: হ্যাঁ ড. ভূপেন হাজরিকার গান।
প্রধানমন্ত্রী: বাহ্, দারুণ! গাও, গাও।
ছাত্র: (অসমীয়া ভাষায় গান)
প্রধানমন্ত্রী: চমৎকার।
ছাত্র: আমাদের গ্রামে, আমাদের বাড়ির কাছেই একটি চা–বাগান আছে। আমার মা সেখানে আট বছর ধরে চা–পাতা তোলার কাজের তদারকি করছেন।
প্রধানমন্ত্রী: ওহ, তাহলে তুমি চা–বাগানের ছেলে।

ছাত্র: হ্যাঁ।
প্রধানমন্ত্রী: তুমি ভালো পড়াশোনা করছ, তোমার মা তোমাকে পড়ান, আর তিনিও চা–বাগানে কাজ করেন। তো তুমি আমার জন্য কী এনেছ?
ছাত্র: আমি আপনার জন্য চা–পাতা এনেছি।
প্রধানমন্ত্রী: তাহলে তো আমাকে চা বানাতেই হবে। অনেক ধন্যবাদ। দয়া করে তোমার মাকে আমার প্রণাম দিও।
ছাত্র: আমি কখনও ভাবিনি—একজন চা–বাগানের ছেলে হয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে পাব। সত্যিই আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।
ছাত্র: বয়সের এতো ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, তিনি যখন আমাদের কথা বোঝেন, তখন খুব ভালো লাগে।
প্রধানমন্ত্রী: তোমরা দেখেছ—আমরা যেমন পরীক্ষার কথা বলেছি, তেমনই স্থানীয় সঙ্গীত, অসমের চা—এসবও পরীক্ষা পে চর্চা-র স্মরণীয় অংশ হয়ে উঠেছে। পরীক্ষা একটি সুযোগ, আর সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব আমাদের প্রস্তুতিকে আরও ভালো করে তোলে। এই সব আলোচনায় জায়গা আলাদা ছিল, ছাত্ররা আলাদা ছিল, অভিজ্ঞতাও আলাদা ছিল। কিন্তু প্রতিটি আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল একটাই—প্রতিটি ছাত্রের কথা শোনা, বোঝা, আর একসঙ্গে কিছু শেখা। তোমাদের সকলের জন্য আমার আন্তরিক শুভকামনা। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Spirituality remains key driver for travel in Asia, India ranks top: Report

Media Coverage

Spirituality remains key driver for travel in Asia, India ranks top: Report
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 26 মার্চ 2026
March 26, 2026

India’s Economy, Innovative Spirit and Global Standing Continue to Thrive with the Modi Government