নর্থ এবং সাউথ ব্লকের নির্মীয়মান জাতীয় সংগ্রহালয়ের ভার্চ্যুয়াল ওয়াক-থ্রু-র উদ্বোধন করেছেন
ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম এক্সপো-র ম্যাসকট, গ্র্যাফিক নভেল – আ ডে অ্যাট দ্য মিউজিয়াম, ডিরেক্টরি অফ ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামস, কর্তব্য পথ-এর পকেট ম্যাপ এবং মিউজিয়াম কার্ডের উদ্বোধন করেছেন
“অতীত থেকে অনুপ্রেরণা যোগায় এবং ভবিষ্যতের প্রতি কর্তব্যবোধ জাগায়”
“দেশে নতুন সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে”
“প্রতিটি রাজ্যের এবং সমাজের সকল শ্রেণীর ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় এবং গ্রামীণ সংগ্রহালয়গুলির সংরক্ষণে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে”
“বর্তমানে যা সারা বিশ্বের ভগবান বুদ্ধের অনুগামীদের ঐক্যবদ্ধ করছে”
“আমাদের ঐতিহ্য বিশ্ব ঐক্যের বার্তা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে”
“প্রত্যেকটি পরিবারই তার নিজের পরিবারের জন্য একটি পারিবারিক সংগ্রহালয় গড়ে তুলতে পারে”
“এগুলি সবই সম্ভব যখন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সংরক্ষণ কোনও একটি দেশের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হবে”
“যুব সমাজ বিশ্ব সাংস্কৃতিক কার্যকলাপের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে”
“কোনও দেশের কোনও সংগ্রহালয়ে এমন কোনও শিল্পসামগ্রী থাকা উচিত নয় যা কোনও না কোনও অনৈতিক উপায়ে সংগৃহীত হয়েছে। আমাদের সব সংগ্রহালয়ের জন্য একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতে হবে”
“আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে রক্ষা করব এবং একটি নতুন পরম্পরার সৃষ্টি করব”

আমার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সহকর্মী শ্রী কিশন রেড্ডিজি, শ্রীমতী মীনাক্ষ্মী লেখীজি, শ্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালজি, ল্যুভর মিউজিয়ামের নির্দেশক শ্রী ম্যানুয়েল রবাতেজি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সমাগত অতিথিবৃন্দ, অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

আপনাদের সবাইকে ‘ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম ডে’ উপলক্ষে অনেক অনেক শুভ কামনা জানাই। আজ এখানে সংগ্রহালয় জগতের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত হয়েছেন। আজকের এই অনুষ্ঠান আরও একটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারত তার স্বাধীনতার ৭৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অমৃত মহোৎসব পালন করছে।

 

বন্ধুগণ,

‘ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম এক্সপো’র ইতিহাসেরও ভিন্ন ভিন্ন অধ্যায়কে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবন্ত করে তোলা হচ্ছে। যখন আমরা কোনো মিউজিয়ামে যায় তখন এ রকম অনুভব হয় যেন আমাদের বিগত দিনের সঙ্গে সেই সময়কার ঘটনাবলীর সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে, সাক্ষাৎকার হচ্ছে। মিউজিয়াম বা সংগ্রহালয়ে যা যা প্রদর্শিত হয় সবই তথ্যে ভিত্তিতে প্রদর্শিত হয়, প্রত্যক্ষ হয় প্রমানের ভিত্তিতে হয়। মিউজিয়াম আমাদের একদিকে অতীত থেকে প্রেরণা যোগায় আর অন্যদিকে ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের মনে কর্তব্যবোধ জাগিয়ে তোলে।

আজকের যে মূল ভাবনা ‘সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং’ অর্থাৎ ‘স্থায়িত্ব এবং মঙ্গল’-এর ভাবনা যা আজকের বিশ্বের অগ্রাধিকারগুলিকে তুলে ধরে আর এই আয়োজনকে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করে তোলে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের প্রচেষ্টা সমস্ত সংগ্রহালয়ের প্রতি নবীন প্রজন্মের মানুষদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাঁদের আমাদের ঐতিহ্যগুলির সঙ্গে পরিচিত করাবে। আমি আপনাদের সবাইকে এইসব প্রচেষ্টার জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। এখানে আসার আগে আমার কিছুক্ষণ সময় মিউজিয়ামে কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছে। আমাদের সরকারি-বেসরকারী অনেক কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের সৌভাগ্য হয়। কিন্তু আমি বলতে পারি যে আমার মনে সম্পূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে তেমন পরিকল্পনা, শিক্ষা এবং সরকারও এই উচ্চতায় কতটা উৎকৃষ্ট কাজ করতে পারে তা দেখে খুব গর্ব হয়েছে। এটি এমনই সুন্দরভাবে প্রদর্শিত হয়েছে যে আমার গর্ব হয়। আমি মনে করি আজকের এই অনুষ্ঠান ভারতের মিউজিয়ামগুলির অগ্রগতিতে একটি অনেক বড় মোড় হিসেবে প্রতিপন্ন হবে। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

 

বন্ধুগণ,

কয়েকশো বছরের দাসত্বের দীর্ঘ কালখন্ডে ভারতের একটি বড় ক্ষতি হয়েছে যে আমাদের লিখিত-অলিখিত অনেক ঐতিহ্য ও সম্পদ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য পান্ডুলিপি, অনেক পুস্তকালয় দাসত্বের কালখন্ডে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে। এই ধ্বংসলীলায় শুধু ভারতের ক্ষতি হয়নি, গোটা বিশ্বের, সমগ্র মানবজাতির ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার পরেও আমাদের ঐতিহ্যগুলিকে সংরক্ষণ করার যতটা প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি।

জনগণের মনে আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এই ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সেজন্য স্বাধীনতার অমৃতকালে ভারত যে ‘পঞ্চ-প্রাণ’ ঘোষণা করেছে তার মধ্যে প্রধান হল- আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব। অমৃত মহোৎসবে আমরা ভারতের ঐতিহ্যগুলিকে সংরক্ষিত করার পাশাপাশি নতুন সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছি। দেশের এই সকল প্রচেষ্টার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আর ভারতের হাজার হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস।

আমাকে বলা হয়েছে যে আজকের এই আয়োজনে স্থানীয় এবং গ্রামীণ সংগ্রহালয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারও স্থানীয় এবং গ্রামীণ সংগ্রহালয়গুলিকে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের প্রতিটি রাজ্য, প্রত্যেক ক্ষেত্র এবং প্রতিটি সমাজের ইতিহাস সংরক্ষিত করার চেষ্টা চলছে। আমরা স্বাধীনত সংগ্রামে আমাদের বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের অবদানকে অমর করে রাখতে ১০টি বিশেষ সংগ্রহালয় নির্মাণ করছি।

আমি মনে করি এটা গোটা বিশ্বে এমন একটি অভিনব উদ্যোগ যাতে জনজাতি বৈচিত্র্যের এত ব্যাপক উদাহরণ তুলে ধরা হচ্ছে। লবন সত্যাগ্রহের সময় মহাত্মা গান্ধী যে পথ অনুসরণ করেছিলেন সেই ডান্ডি পথকেও সংরক্ষণ করা হয়েছে। যে স্থানে গান্ধীজি লবন আইন ভেঙেছিলেন সেখানে আজ একটি অনিন্দ্যসুন্দর স্মারক গড়ে তোলা হয়েছে। আজ দেশ ও বিশ্বের পর্যটকরা ডান্ডি কুটির দেখতে গান্ধীনগরে আসেন।

আমাদের সংবিধানের প্রধান রূপকার বাবাসাহেব আম্বেদকরের মহাপরিনির্বাণ যেখানে হয়েছে সেই স্থানটি অনেক দশক ধরে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। আমাদের সরকার দিল্লির ৫ নম্বর আলিপুর রোডে সেই স্থানটিকে একটি জাতীয় সংগ্রহশালায় রুপান্তরিত করেছে। বাবাসাহেবের জীবন সংশ্লিষ্ট পঞ্চতীর্থকেই আমরা সংরক্ষণের কাজ করেছি। মহুতে যেখানে তাঁর জন্ম হয়েছিল, লন্ডনে যেখানে তিনি ছিলেন, নাগপুরে যেখানে তিনি দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন আর মুম্বাইয়ের চৈত্যভূমিতে যেখানে তাঁর সমাধি রয়েছে সেই স্থানগুলিকেও সংরক্ষণের মাধ্যমে উন্নত করা হয়েছে। ভারতের ৫৮০টিরও বেশি দেশীয় রাজরাজরা ও নবাবদের রিয়াসতকে যিনি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেছেন সেই লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের গগণচুম্বি মূর্তি আমরা তৈরি করেছি। তার নাম দিয়েছি স্ট্যাচু অফ ইউনিটি। সেটি এখন দেশের অন্যতম গর্ব। সেই স্ট্যাচু অফ ইউনিটির ভিতরেও একটি অনিন্দ্যসুন্দর সংগ্রহশালা গড়ে উঠেছে।

পাঞ্চাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ থেকে শুরু করে গুজরাটের গোবিন্দ গুরুজির স্মারক, উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে মানমহল সংগ্রহালয়, গোয়ার মিউজিয়াম অফ ক্রিশ্চিয়ান আর্ট- এ রকম অনেক স্থানকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সংগ্রহালয় বিষয়ক আর একটি অভিনব উদ্যোগ আমাদের দেশে নেওয়া হয়েছে। আমরা রাজধানী দিল্লিতে দেশের সমস্ত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বর্ণময় জীবন এবং অবদানকে তুলে ধরে একটি বিশেষ ‘পিএম মিউজিয়াম’ গড়ে তুলেছি। আজ সারা দেশ থেকে মানুষ দিল্লিতে বেড়াতে এসে এই পিএম মিউজিয়াম দেখতে যান আর স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের উন্নয়ন যাত্রার সাক্ষী হয়ে উঠেন। আমি আজকের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসা অতিথিদের অনুরোধ জানাবো যে আপনারা অবশ্যই এই মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখে যাবেন।

বন্ধুগণ,

যখন কোনো দেশ তার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে শুরু করে তখন তার সামনে আর একটি দিক উঠে আসে। সেই দিকটি হল অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মীয়তা। ভগবান বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ভারত যেমন তার পবিত্র দেহাবশেষগুলিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সংরক্ষণ করেছে সেই পবিত্র দেহাবশেষগুলি এখন শুধু ভারত নয়, বিশ্বের কোটি কোটি বৌদ্ধ ও অনুগামীদের একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ করছে। গত বছরই আমরা বুদ্ধ পুর্ণিমার সময় বুদ্ধের চারটি পবিত্র দেহাবশেষ মঙ্গোলিয়াতে পাঠিয়েছিলাম। এই ঘটনা সমগ্র মঙ্গোলিয়ার জন্য আস্থা ও বিশ্বাসের একটি মহা পর্বে পরিণত হয়েছিল।

গৌতম বুদ্ধের যে দেহাবশেষগুলি আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় রয়েছে, গত বছর বুদ্ধ পুর্ণিমার সময় সেগুলিকে আমাদের দেশে কুশীনগরে আনা হয়েছিল। তেমনই গোয়ায় সেন্ট ক্যুইন কেটেওয়ান-এর পবিত্র দেহাবশেষ-এর ঐতিহ্য ভারতের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আমার মনে আছে যখন আমরা সেন্ট ক্যুইন কেটেওয়ান-এর পবিত্র দেহাবশেষগুলিকে জর্জিয়া পাঠিয়েছিলাম তখন সে দেশে কী রকম জাতীয় মহোৎসবের আবহ গড়ে উঠেছিল। সেদিন জর্জিয়ার অসংখ্য নাগরিক পথে বেড়িয়ে এসেছিলেন সারা দেশে মেলার মতো আবহ গড়ে উঠেছিল। অর্থাৎ আমাদের ঐতিহ্য বিশ্ব ঐক্যেরও সূত্রধার হয়ে উঠতে পারে। আর সেজন্য এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণকারী আমাদের সংগ্রহালয়গুলির ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পায়।

 

বন্ধুগণ,

আমরা যেমন পরিবারের সম্পদকে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করি তেমনই আমাদের গোটা বিশ্বকে একটি পরিবার ভেবে আমাদের সম্পদগুলিকে সংরক্ষণ করতে হবে। আমার পরামর্শ হল আমাদের এই সংগ্রহালয়গুলি এ ধরণের সমস্ত আন্তর্জাতিক উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুক। আমাদের পৃথিবী বিগত শতাব্দীগুলিতে অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করেছে। সেগুলির স্মৃতি এবং নির্দশনগুলি আজও বিদ্যমান। আমাদের উচিত অধিকাংশ সংগ্রহালয়ে সেসব নির্দশন সংগ্রহ করা, আর সংশ্লিষ্ট ফটোগুলি দিয়ে কী ভাবে গ্যালারি গড়ে তোলা যায় তা ভাবা।

আমরা বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর পরিবর্তিত ছবিও আঁকতে পারি। এরফলে আগামীদিনে জনগণের মনে পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। আমাকে বলা হয়েছে যে এই এক্সপোতে ‘গ্যাসট্রোনমিক এক্সপিরিয়েন্স’-এর জন্য একটি স্থান রাখা হয়েছে সেখানে আয়ুর্বেদ এবং মিলেটস- শ্রীঅন্ন ভিত্তিক বিভিন্ন রন্ধনপ্রণালী অভিজ্ঞতা জনগণ জানতে পারে।

ভারতের এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আয়ুর্বেদ এবং মিলেটস- শ্রীঅন্ন- উভয়কে নিয়েই আজ বিশ্বব্যাপি অভিযান শুরু হয়েছে। আমরা মিলেটস- শ্রীঅন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন বনস্পতির হাজার হাজার বছরের ব্যবহারযোগ্যতা ভিত্তিক নতুন সংগ্রহালয়ও গড়ে তুলতে পারি। এই ধরনের প্রচেষ্টা আমাদের এই জ্ঞান ব্যবস্থাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে এবং এগুলিকে অমর করে তুলবে।

বন্ধুগণ,

এই সকল প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা তখনও সাফল্য পাব যখন আমাদের ঐতিহাসিক উপাদানের সংরক্ষণকে আমরা জাতীয় স্বভাবে পরিণত করতে পারবো। এখন প্রশ্ন হল যে আমাদের ঐতিহ্যের সংরক্ষণকে কীভাবে দেশের সাধারণ মানুষের স্বভাবে পরিণত করা সম্ভব। আমি একটা ছোট উদাহরণ দিচ্ছি। ভারতের প্রত্যক পরিবার তাদের বাড়িতে একটি পারিবারিক সংগ্রহালয় গড়ে তুলতে পারে। বাড়ির প্রত্যেক সদস্য সম্পর্কে তথ্যাবলী ও তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সেখানে সংগৃহীত থাকবে। বিশেষ করে বাড়ির বয়স্ক মানুষদের পুরনো এবং কিছু প্রিয় জিনিস সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। আজ আপনারা যে কাগজে লেখেন সেটাকে সাধারণ বলেই মনে হয়, কিন্তু আপনাদের ব্যবহৃত সেই কাগজের টুকরো তিন-চার প্রজন্ম পর একটি ‘আবেগজড়িত সম্পদ’-এ পরিণত হবে। সে রকমই আমাদের স্কুলগুলিতে, ভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনে নিজস্ব সংগ্রহালয় গড়ে তোলা উচিত। দেখবেন এর মাধ্যমে আপনারা নিজেদের অজান্তেই ভবিষ্যতের জন্য কত বড় এবং ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ করে ফেলবেন।

দেশের বিভিন্ন শহরে সিটি মিউজিয়ামের কিছু প্রকল্প গড়ে তুলে সেগুলিকে আধুনিক পদ্ধতিতে সাজানে যেতে পারে। সেখানে সেই শহরগুলির ঐতিহাসিক উপাদানগুলি সংরক্ষিত করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধর্মে ও ধর্মস্থানগুলিতে যে তথ্য সংরক্ষণের পুরনো পরম্পরা আমরা দেখি সেগুলিও আমাদের এক্ষেত্রে খুব সাহায্য করবে।

 

বন্ধুগণ,

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে সংগ্রহালয় আজকের যুব সম্প্রদায়ের জন্য নিছকই একটি ভ্রমণস্থান নয়, সেগুলি একটি পেশার সুযোগও গড়ে তুলছে। কিন্তু আমি চাইবো যে আমাদের নবীন প্রজন্ম সংগ্রহালয়গুলিকে নিছকই কর্মক্ষেত্রের দৃষ্টিকোন থেকে না দেখেন। ইতিহাস এবং স্থাপত্য শৈলীর মতো বিষয়গুলি নিয়ে অধ্যয়নরত যুব সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। এই  যুবক-যুবতীরা অন্যান্য দেশে শিক্ষা সফরে যেতে পারেন। সেখানকার যুব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে শিখতে পারেন। ভারতের সংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের শেখাতে পারেন। এর অভিজ্ঞতা এবং অতীতের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

বন্ধুগণ,

আজ যখন আমরা যৌথ ঐতিহ্যের কথা বলি, সম্মিলিত ঐতিহ্যের কথা বলি, তখন আমি একটি সম্মিলিত সমস্যার মোকাবিলার প্রসঙ্গও তুলে ধরতে চাই। এই সমস্যাটি হল বিভিন্ন কলাকৃতি বা শিল্প সামগ্রী চুরি, তস্করী ও বিকৃত করা। ভারতের মতো প্রাচীন সংস্কৃতি সম্পন্ন দেশ হাজার হাজার বছর ধরে এই চুরি, তস্করী ও বিকৃতকরণের শিকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এবং স্বাধীতার পরেও আমাদের দেশ থেকে অনেক শিল্পসামগ্রী অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধের মোকাবিলা করতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ সারা পৃথিবীতে ভারতের ক্রমবর্ধমান সখ্যতার ফলে সারা পৃথিবী থেকে এ ধরনের পাচার হয়ে যাওয়া শিল্পসামগ্রী সেসব দেশ ফিরিয়ে দিচ্ছে। বেনারস থেকে চুরি হওয়া মা অন্নপূর্ণার মূর্তি থেকে শুরু করে গুজরাট থেকে চুরি হওয়া মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি, চোল সাম্রাজ্যের সময় নির্মিত নটরাজের বেশ কিছু মূর্তি- এ রকম প্রায় ২৪০টি প্রাচীন শিল্প সামগ্রী ভারত বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। আমরা সরকারের ক্ষমতায় আসার পূর্ববর্তী কয়েক দশকে এ ধরনের ২০টিরও কম চুরি হয়ে যাওয়া প্রাচীন শিল্পসামগ্রীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। বিগত ৯ বছরে ভারত থেকে এ ধরনের সাংস্কৃতিক শিল্প সামগ্রীর পাচারও হ্রাস পেয়েছে।

গোটা বিশ্বের শিল্পবোদ্ধা বিশেষজ্ঞদের প্রতি আমার অনুরোধ বিশেষ করে সংগ্রহালয়গুলির সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের প্রতি আমার আবেদন যে এক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির চেষ্টা করুন। কোনো দেশের কোনো সংগ্রহালয় থেকে এমন কোনো শিল্প সামগ্রী যেন অবৈধভাবে পাচার হয়ে আমাদের দেশের সংগ্রহালয়গুলিতে স্থান করে না নিতে পারে। আমাদের সংগ্রহালয়গুলির জন্য এটা যেন একটা নৈতিক দায়বদ্ধতা হিসেবে পরিগণিত হয়।

 

বন্ধুগণ,

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা অতীতের সঙ্গে যুক্ত থেকে ভবিষ্যতের জন্য এ ধরনের নতুন নতুন ভাবনা কীভাবে গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে কাজ করে যাবো। আমাদের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করবো আবার নতুন নতুন ঐতিহ্য নির্মাণও করবো। এই কামনা নিয়ে আপনাদের সকলকে অন্তর থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
 PLI schemes attract over Rs 2.16 lakh crore investment, generate 14.39 lakh jobs

Media Coverage

PLI schemes attract over Rs 2.16 lakh crore investment, generate 14.39 lakh jobs
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Uttar Pradesh has now emerged as one of the states with the highest number of international airports in India: PM Modi in Jewar
March 28, 2026
The inauguration of Phase-I of Noida International Airport marks a major step in Uttar Pradesh’s growth story and India’s aviation future: PM
UP has now emerged as one of the states with the highest number of international airports in India: PM
Airports are not just basic facilities in any country, they give wings to progress: PM
Our government is making unprecedented investments in modern infrastructure to build a Viksit Bharat: PM

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

उद्धघाटन हो गया? उद्धघाटन हो गया? नहीं, अभी आधा काम हुआ है। मैंने सिर्फ वो पर्दा हटाया है, लेकिन मैं आज चाहता हूं इस एयरपोर्ट का उद्धघाटन यहां जो भी उपस्थित हैं, आप सब करें, और इसलिए आप अपना मोबाइल फोन निकालिये, अपने मोबाइल फोन का फ्लैश लाईट कीजिए और आपका इसका उद्धघाटन कर रहे हैं। आप दीया जलाकर के यहां उपस्थित हर व्यक्ति, आज इस एयरपोर्ट का उद्धघाटन कर रहा है। ये आपकी अमानत है, ये आपका भविष्य है, ये आपका पुरूषार्थ है और इसलिए इसका उद्धघाटन भी आपके हाथों से हो रहा है, आप अपने भारत माता की जय बोलकर के, हाथ ऊपर करके, फ्लैश लाईट पूरी तरह से दिखाइये। भारत माता जी जय। भारत माता जी जय। भारत माता जी जय। बहुत-बहुत धन्यवाद। अब उद्धघाटन हो गया।

उत्तरप्रदेश की राज्यपाल आनंदीबेन पटेल, यहां के मुख्यमंत्री योगी आदित्यनाथ जी, उप-मुख्यमंत्री केशव प्रसाद मौर्या, ब्रजेश पाठक, केंद्रीय मंत्रिमंडल के मेरे सहयोगी श्री राममोहन नायडू जी, पंकज चौधरी जी, ज्यूरिक एयरपोर्ट के चेयरमैन जोसेफ फेल्डर जी, अन्य मंत्रिगण, सांसद, विधायक, अन्य महानुभाव और मेरे प्यारे भाइयों और बहनों।

मैं देख रहा हूं, आज जहां भी मेरी नजर पड़ रही है, सारे युवा मुझे नजर आ रहे हैं, उत्साह से भरे युवा हैं, जोश से भरे हुए युवा हैं, क्योंकि इन युवाओं को पता है, ये जो काम हो रहा है ना, ये नौजवानों के भविष्य को नई उड़ान देने वाला काम हो रहा है। आज हम विकसित यूपी-विकसित भारत अभियान का एक नया अध्याय शुरू कर रहे हैं। देश का सबसे बड़ा प्रदेश, आज देश के सबसे अधिक इंटरनेशनल एयरपोर्ट्स वाले राज्यों में से एक हो गया है। और आज मेरे लिए गर्व और प्रसन्नता के दो कारण हैं। एक तो ये है कि इस एयरपोर्ट का शिलान्यास भी करने का सौभाग्य आप सबने मुझे दिया था और आप सबने इस एयरपोर्ट के उद्धघाटन का सौभाग्य भी मुझे दिया, लेकिन मैंने उस सौभाग्य को आपके साथ बांट दिया और आपके हाथों से उद्धघाटन करवा दिया। दूसरा, जिस उत्तर प्रदेश ने मुझे अपना प्रतिनिधि चुना, जिस उत्तर प्रदेश ने मुझे सांसद बनाया, उसकी पहचान के साथ, उस उत्तर प्रदेश की पहचान के साथ इस भव्य एयरपोर्ट का नाम भी जुड़ गया है।

साथियों,

नोएडा का ये एयरपोर्ट, आगरा, मथुरा, अलीगढ़, गाजियाबाद, मेरठ, इटावा, बुलंदशहर, फरीदाबाद, इस पूरे क्षेत्र को बहुत बड़ा लाभ होने वाला है। हिन्दुस्तान को और उत्तर प्रदेश को तो होना ही होना है। ये एयरपोर्ट पश्चिमी उत्तर प्रदेश के किसानों, छोटे और लघु उद्योगों, यहां के नौजवानों के लिए, अनेक नए अवसर लेकर आने वाला है। यहां से दुनिया के लिए विमान तो उड़ेंगे ही, साथ ही, ये विकसित उत्तर प्रदेश की उड़ान का भी प्रतीक बनेगा। मैं उत्तर प्रदेश को, विशेष रूप से पश्चिम उत्तर प्रदेश की जनता को इस भव्य एयरपोर्ट के लिए बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

आज का ये कार्यक्रम, भारत के नए मिज़ाज का प्रतीक है। आप सभी देख रहे हैं कि आज पूरा विश्व कितना चिंतित है। पश्चिम एशिया में एक महीने से युद्ध चल रहा है। युद्ध की वजह से कई सारे देशों में खाने-पीने के सामान, पेट्रोल-डीज़ल-गैस, खाद, ऐसी कई ज़रूरी चीज़ों का चारो तरफ संकट पैदा हो गया है। हर देश इस संकट का सामना करने के लिए कुछ न कुछ कोशिश कर रहा है, प्रयास कर रहा है। और हमारा भारत भी इस संकट का पूरी शक्ति से मुकाबला कर रहा है, देशवासियों की ताकत के भरोसे कर रहा है। भारत तो बहुत बड़ी मात्रा में कच्चा तेल और गैस, ये जहां युद्ध चल रह है ना, इस युद्ध से प्रभावित इलाके से मंगाता रहा है। इसलिए सरकार हर वो कदम उठा रही है, जिससे सामान्य परिवारों पर, हमारे किसान भाई-बहनों पर, इस संकट का बोझ न पड़े।

साथियों,

संकट के इस समय में भी, भारत ने अपने तेज़ विकास को निरंतर जारी रखा है। मैं सिर्फ पश्चिमी उत्तर प्रदेश की ही बात करुं, तो पिछले कुछ सप्ताह में ही, ये चौथा बड़ा प्रोजेक्ट है, जिसका शिलान्यास या लोकार्पण हुआ है। इन कुछ ही सप्ताह में, इस दौरान नोएडा में बहुत बड़ी सेमीकंडक्टर फैक्ट्री का शिलान्यास हुआ, इसी कालखड में देश की पहली दिल्ली-मेरठ नमो-भारत ट्रेन ने गति पकड़ी, इसी कालखंड में मेरठ मेट्रो का विस्तार किया गया, और इतने कम समय में आज नोएडा इंटरनेशनल एयरपोर्ट का आप सबके हाथों से उद्धघाटन भी हो गया।

साथियों,

ये सारे प्रोजेक्ट्स, यूपी के विकास के लिए, डबल इंजन सरकार के प्रयासों का शानदार उदाहरण हैं। सेमीकंडक्टर फैक्ट्री, भारत को टेक्नोलॉजी में आत्मनिर्भर बना रही है। मेरठ मेट्रो और नमो भारत रेल, तेज और स्मार्ट कनेक्टिविटी दे रही है। और ये हमारा जेवर एयरपोर्ट, पूरे उत्तर भारत को दुनिया से जोड़ रहा है। और आपने अभी वीडियो में देखा, ये ऐसा एयरपोर्ट बन रहा है, हर दो मिनट में एक जहाज उड़ेगा, हर दो मिनट में एक जहाज उड़ेगा। पहले सपा वालों ने नोएडा को अपनी लूट का ATM बना लिया था। लेकिन आज भाजपा सरकार में वही नोएडा, यूपी के विकास का सशक्त इंजन बन रहा है।

साथियों,

जेवर का ये एयरपोर्ट, डबल इंजन सरकार की कार्यसंस्कृति का भी बहुत अच्छा उदाहरण है। अब आप सोचिये, इस एयरपोर्ट को अटल बिहारी वाजपेयी जी की सरकार ने 2003 में ही फाइल में मंजूरी दे दी थी। 2003 में, आपमें से बहुत होंगे जिसका जन्म नहीं हुआ होगा, बहुत वो लोग होंगे जो उस समय 25-30 साल के 35 साल के हुए होंगे और आज रिटायर भी हो गए, लेकिन एयरपोर्ट नहीं बना। लेकिन केंद्र में कांग्रेस और यहां की पहले की सरकारों ने सालों तक इस एयरपोर्ट की नींव तक नहीं पड़ने दी। 2004 से 2014 तक ये एयरपोर्ट फाइलों में ही दबा रहा। जब हमारी सरकार बनी तो यूपी में सपा की सरकार थी। शुरु के दो-तीन सालों में सपा वालों ने इस पर काम नहीं होने दिया। लेकिन जैसे ही यहां भाजपा-NDA की सरकार बनी, दिल्ली में भाजपा-एनडीए की सरकार बनी, तो जेवर एयरपोर्ट की नींव भी पड़ी, निर्माण भी हुआ और अब ये शुरु भी हो गया है।

साथियों,

एयरपोर्ट के अलावा ये क्षेत्र देश के दो बड़े फ्रेट कॉरिडोर्स का भी हब बन रहा है। ये फ्रेट कॉरिडोर मालगाड़ियों के लिए बिछाई गई स्पेशल पटरियां हैं। इससे उत्तर भारत की बंगाल और गुजरात के समंदर से कनेक्टिविटी बेहतर हो गई है। और दादरी वो स्थान है जहां ये दोनों कॉरिडोर्स आपस में मिलते हैं। यानी यहां किसान जो उगाते हैं, यहां उद्योग जो कुछ बनाते हैं, वो जमीन से, हवाई मार्ग से, दुनिया के कोने-कोने तक तेज़ी से जा पाएगा। ऐसी मल्टी-मोडल कनेक्टिविटी के कारण, यूपी दुनियाभर के निवेशकों के लिए बहुत बड़ा आकर्षण बन रहा है।

साथियों,

जिस नोएडा को पहले अंधविश्वास के कारण अपने हाल पर छोड़ दिया गया था, कुर्सी जाने के डर से पहले के सत्ताधारी यहां आने से डरते थे, मुझे याद है यहां की सपा सरकार थी और मैंने नोएडा आने का कार्यक्रम बनाया, तो मुख्यमंत्री इतने डरे हुए थे कि वो उस कार्यक्रम में नहीं आए और मुझे भी डराने की लोगों ने कोशिश की, कि नोएडा मत जाओ मोदी जी, अभी-अभी प्रधानमंत्री बने हो। मैंने कहा इस धरती का आशीर्वाद लेने जा रहा हूं, जो मुझे लंबे अर्से तक सेवा करने का मौका देगा। अब वही इलाका पूरी दुनिया का स्वागत करने के लिए तैयार है। ये पूरा क्षेत्र, आत्मनिर्भर भारत के संकल्प को सशक्त कर रहा है।

साथियों,

इस क्षेत्र की अर्थव्यवस्था में, खेती-किसानी का बहुत महत्व है। मैं आज उन मेरे किसान भाई-बहनों का विशेष रूप से आभार व्यक्त करता हूं, जिन्होंने इस प्रोजेक्ट को साकार करने के लिए अपनी जमीनें दी है। उन किसानों के लिए जोरदार तालियां बजाइये दोस्तों, मेरे किसान भाई-बहनों के लिए जोरदार तालियां बजाइये। मेरे किसान भाई-बहन, आपके इस योगदान से ही, इस पूरे क्षेत्र में विकास का एक नया दौर शुरु होने जा रहा है। आधुनिक कनेक्टिविटी का जो विस्तार यहां हो रहा है, उससे पश्चिमी यूपी में फूड प्रोसेसिंग की संभावनाओं को और बल मिलेगा। अब यहां के कृषि उत्पाद दुनिया के बाज़ारों में और बेहतर तरीके से जा पाएंगे।

साथियों,

यहां मैं अपने किसान साथियों का एक और बात के लिए भी आभार व्यक्त करना चाहता हूं। आपके गन्ने से जो इथेनॉल बनाया गया है, उससे कच्चे तेल, कच्चे तेल पर देश की निर्भरता कम हुई है। अगर इथेनॉल का उत्पादन ना बढ़ता, पेट्रोल में उसकी ब्लेंडिंग ना बढ़ती, तो देश को हर वर्ष साढ़े चार करोड़ बैरल, साढ़े चार करोड़ बैरल यानी लगभग 700 करोड़ लीटर कच्चा तेल विदेशों से मंगवाना पड़ता। किसानों के परिश्रम ने देश को इस संकट के समय में इतनी बड़ी राहत दी है।

साथियों,

इथेनॉल से देश को तो फायदा हुआ ही है, किसानों को भी बहुत बड़ा लाभ हुआ है। इससे करीब डेढ़ लाख करोड़ रुपए की विदेशी मुद्रा बची है। यानी इथेनॉल न बनाते तो ये पैसा विदेश जाना जय था। बीते वर्षों में इतना सारा पैसा, देश के किसानों को मिला है, गन्ना किसानों को मिला है।

साथियों,

यहां के गन्ना किसानों ने तो पहले के वो दिन भी देखे हैं, जब कई-कई सालों तक गन्ने का बकाया लटका रहता था। लेकिन आज भाजपा की डबल इंजन सरकार के प्रयासों से गन्ना किसानों की स्थिति बेहतर हुई है।

साथियों,

किसी भी देश में एयरपोर्ट सिर्फ एक सामान्य सुविधा नहीं होता। ये एयरपोर्ट प्रगति को भी उड़ान देते हैं। साल 2014 से पहले, देश में सिर्फ 74 एयरपोर्ट थे। आज 160 से अधिक एयरपोर्ट्स देश में हैं। अब महानगरों के अलावा, देश के छोटे-छोटे शहरों में भी हवाई कनेक्टिविटी पहुंच रही है। पहले जो सरकारें रही हैं, वे मानती थीं कि हवाई यात्रा सिर्फ अमीरों के लिए ही होनी चाहिए। लेकिन भाजपा सरकार ने, सामान्य भारतीय के लिए हवाई यात्रा को आसान बना दिया है। हमारी सरकार ने उत्तर प्रदेश में हवाई अड्डों के नेटवर्क का तेज़ी से विस्तार करते हुए उनकी संख्या बढ़ाकर सत्रह कर दी है।

साथियों,

भाजपा सरकार का निंरतर प्रयास रहा है कि एयरपोर्ट भी बने और किराया-भाड़ा भी सामान्य परिवारों की पहुंच में रहे। इसलिए, हमने उड़ान योजना शुरु की थी। इस स्कीम के कारण, बीते कुछ सालों में एक करोड़ साठ लाख से अधिक देशवासियों ने उड़ान योजना से टिकट लेकर सस्ती दरों पर हवाई यात्रा की है। और मैं आपको एक और जानकारी देना चाहता हूं। हाल में ही केंद्र सरकार ने उड़ान योजना को और विस्तार दिया है। इसके लिए लगभग 29 हज़ार करोड़ रुपए की स्वीकृति दी गई है। आने वाले वर्षों में इसके तहत, छोटे-छोटे शहरों में 100 नए एयरपोर्ट और 200 नए हेलीपैड बनाने की योजना है। यूपी को भी इससे बहुत अधिक लाभ होगा।

साथियों,

भारत का एविएशन सेक्टर, बहुत तेज़ से गति और विकास कर रहा है। जैसे-जैसे भारत में नए-नए एयरपोर्ट बन रहे हैं, वैसे-वैसे नए हवाई जहाज़ों की ज़रूरत भी बढ़ती जा रही है। इसलिए देश की अलग-अलग एयरलाइन्स ने सैकड़ों नए जहाजों के ऑर्डर दिए हैं। ये जो नई सुविधाएं हैं, नए जहाज आ रहे हैं, इनको उड़ाने वाले, इनमें सर्विस देने वाले, मेंटनेस से जुड़े, ऐसे हर काम के लिए बहुत बड़ी संख्या में वर्कफोर्स की ज़रूरत रहेगी। ये युवाओं के लिए बहुत बड़ा अवसर है। इसलिए हमारी सरकार, एविएशन सेक्टर में ट्रेनिंग की सुविधाओं का भी विस्तार कर रही है।

साथियों,

आप जब अपनी कोई गाड़ी खरीदते हैं, तो ये जरूर देखते हैं कि उस गाड़ी बनाने वाली कंपनी का सर्विसिंग सेंटर आसपास है या नहीं है। आप जानकर हैरान हो जाएंगे कि हमारे देश में हवाई जहाजों की सर्विसिंग, यानी उनके मैंटनेंस, रिपेयर एंड ओवरहॉल की पुख्ता व्यवस्थाएं ही नहीं थीं। भारत के 85 एयरपोर्ट, 85 परसेंट हवाई जहाजों को आज भी मैंटनेंस, रिपेयर एंड ओवरहॉल यानी MRO के लिए, इस काम के लिए विदेश भेजना पड़ता है। इसलिए हमारी सरकार ने ठाना है कि MRO सेक्टर में भी भारत को आत्मनिर्भर बनाएंगे। अब भारत में ही, बहुत बड़े पैमाने पर MRO सुविधाएं विकसित की जा रही हैं। आज यहां जेवर में भी MRO सुविधा का शिलान्यास हुआ है। ये सुविधा जब तैयार हो जाएगी, तो ये देश-विदेश के विमानों को सेवा देगी। इससे देश को कमाई भी होगी, हमारा पैसा भी देश में ही रहेगा, और युवाओं को अनेक रोजगार भी मिलेंगे।

साथियों,

आज हमारी सरकार की प्राथमिकता देश के नागरिकों की सुविधा है। देश के नागरिक का समय बचे और उसकी जेब पर ज्यादा बोझ भी न पड़े, ये हमारा लक्ष्य है। मेट्रो और वंदे भारत जैसी आधुनिक रेल सेवाओं का इसी भाव से ही विस्तार किया जा रहा है। दिल्ली-मेरठ नमो भारत रेल, इसका कितना फायदा हो रहा है, ये भी हम सब देख रहे हें। अभी तक नमो भारत, ढाई करोड़ से अधिक लोग सफर कर चुके हैं। दिल्ली-मेरठ के जिस सफर में पहले घंटों लग जाते थे, अब वो सफर मिनटों में ही पूरा हो रहा है।

साथियों,

विकसित भारत के विकसित आधुनिक इंफ्रास्ट्रक्चर पर हमारी सरकार अभूतपूर्व निवेश कर रही है। बीते 11 वर्षों में इंफ्रास्ट्रक्चर का बजट छह गुणा से अधिक बढ़ाया गया है। इन वर्षों में 17 लाख करोड़ रुपये हाईवे और एक्सप्रेसवे पर खर्च किए गए हैं, एक लाख किलोमीटर से अधिक के हाईवे का निर्माण किया गया है। 2014 तक रेलवे में सिर्फ 20 हजार किलोमीटर रूट का बिजलीकरण हुआ था। जबकि 2014 के बाद से 40 हजार किलोमीटर से ज्यादा रेलवे ट्रैक का बिजलीकरण किया गया है। आज ब्रॉडगेज नेटवर्क का लगभग शत-प्रतिशत बिजलीकरण हो चुका है। आज कश्मीर घाटी हो या नॉर्थ ईस्ट की राजधानियां, ये पहली बार रेल नेटवर्क से जुड़ रही हैं। पोर्ट यानी बंदरगाहों की क्षमता, बीते दशक में दोगुने से अधिक हुई है। देश में नदी जलमार्गों की संख्या भी लगातार बढ़ रही है। विकसित भारत के निर्माण के लिए जरूरी हर क्षेत्र में भारत तेज़ी से काम कर रहा है।

साथियों,

विकसित भारत बनाने के लिए सबका प्रयास बहुत ज़रूरी है। ये आवश्यक है कि 140 करोड़ देशवासी कड़े से कड़ा परिश्रम करे, और वैश्विक संकटों का एकजुट होकर सामना करें। अभी जो युद्ध चल रहा है, इससे पैदा हुए संकटों का सामना कैसे करना है, इसके बारे में मैंने संसद में भी विस्तार से बताया है। मेरी कल देश के सभी मुख्यमंत्रियों से भी लंबी चर्चा हुई है और बड़ी सकारात्मक चर्चा हुई है। मैं आज आप सभी जनता-जनार्दन से फिर कहूंगा, मैं देशवासियों से फिर से कहूंगा। हमें शांत मन से, धैर्य के साथ, एकजुटता के साथ, मिल जुलकर के, इस संकट का सामना करना है। ये पूरे विश्व में परेशानी पैदा करने वाला संकट है। हमें अपने देश की सबसे ज्यादा चिंता करनी है। और यही हम भारतीयों की सबसे बड़ी ताकत है। मैं यूपी के, देश के सभी राजनीतिक दलों से भी आग्रहपूर्वक कहना चाहता हूं, विनती पूर्वक कहना चाहता हूं, इस प्रकार के संकट में ऐसी बातें करने से बचें, जो देश के लिए नुकसानदायक हैं। जो भारतीयों के हक में है, जो भारत के हित में है, वही भारत सरकार की नीति और रणनीति है। राजनीति के लिए गलत बयानबाज़ी करने वाले, राजनीतिक बहस में तो कुछ नंबर पा लेंगे, लेकिन देश को नुकसान पहुंचाने वाली हरकतों को देश की जनता कभी माफ नहीं करती। कोरोना के महासंकट के दौरान भी, कुछ लोगों ने अफवाहें फैलाईं, वैक्सीन को लेकर झूठ बोले, ताकि सरकार का काम मुश्किल हो, देश को नुकसान हो। परिणाम क्या हुआ? जनता ने चुनावों के दौरान ऐसी राजनीति को नकार दिया, ठुकरा दिया। मुझे पूरा भरोसा है, कि देश के सभी राजनीतिक दल भी इससे सबक सीखेंगे और देश के एकजुट प्रयासों को वो बल देंगे, ताकत देंगे। इसी आग्रह के साथ, एक बार फिर से उत्तर प्रदेश को इस शानदार एयरपोर्ट के लिए बहुत-बहुत शुभकामनाएं।

मेरे साथ बोलिये-

भारत माता की जय!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

वंदे मातरम्!

बहुत-बहुत धन्यवाद।