পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী শ্রী এন রঙ্গস্বামী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মী শ্রী মনসুখ মান্ডভিয়া, পুদুচেরির উপ-রাজ্যপাল শ্রী কে কৈলাশনাথন, পুদুচেরির বিধানসভার অধ্যক্ষ শ্রী আর সেলভাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রী এ নমশিবায়ম, অন্য নেতৃবৃন্দ এবং আমার ভাই ও বোনেরা।
নমস্কার!
বন্ধুগণ,
পুদুচেরির এই অনুষ্ঠানে যোগদান আমার কাছে গর্বের বিষয়। এই ভূমি যোগী, সন্ত, কবি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পুণ্যস্থল। এখানেই মহাকবি সুব্রহ্মনিয়াম ভারতী দেশপ্রেমের শিখা প্রজ্জ্বলন করেছিলেন। এই পুণ্যভূমিতে শ্রী অরবিন্দ এবং মাদার সারা বিশ্বকে নতুন এক আধ্যাত্মিক চেতনার পথ দেখিয়েছেন।

বন্ধুগণ,
আগে যখন এখানে এসেছি, তখন বলেছি, বাণিজ্য, শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা এবং পর্যটন – সব ক্ষেত্রেই পুদুচেরিকে থাকতে হবে প্রথম সারিতে। বিগত সাড়ে চার বছর ধরে সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়েছে। সুপ্রশাসন এবং বিকাশের যাত্রায় এগিয়েছে এই ভূমি। যদি কেন্দ্র এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল একই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে এগিয়ে যায়, তা হলে অবশ্যই ফল মিলবে দ্রুত। পুদুচেরিতে মাথাপিছু আয় অনেকটা বেড়েছে। সামাজিক প্রগতি সূচকেও সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে এই অঞ্চল। ডবল ইঞ্জিন এনডিএ সরকার এই লক্ষ্যে আরও এগিয়ে যাবে। আজ ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হচ্ছে। এইসব প্রকল্পের রূপায়ণ মানুষের জীবন বদলে দেবে।
বন্ধুগণ,
ভারত জুড়ে উন্নতমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ বছরের বাজেটে এক্ষেত্রে বরাদ্দ রেকর্ড ১২ লক্ষ কোটি টাকা। এর ফলে, পুদুচেরির মানুষও উপকৃত হবেন। রাজ্যগুলির জন্য মূলধনী সহায়তা কর্মসূচিতে পুদুচেরিকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি আমরা। পরিকাঠামোর জন্য আরও তহবিলের অর্থ আরও ভালো রাস্তা, জল সরবরাহ, উপকূলীয় পরিকাঠামো, স্কুল, হাসপাতাল ইত্যাদি। এরফলে, সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হন।
বন্ধুগণ,
আমাদের বিকাশের মূল ভিত্তি হ’ল - শক্তিশালী যুবগোষ্ঠী। তাঁদের স্বপ্ন পূরণে আমরা উদ্যোগী। এনআইটি কারাইকালে ডঃ এপিজে আব্দুল কালামের নামাঙ্কিত নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্লক এবং আধুনিক ছাত্রাবাস প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে বিশেষভাবে সহায়ক হয়ে উঠবে। পণ্ডিচেরী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো আরও উন্নত করে তোলা হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন শ্রেণীকক্ষ, মেয়েদের হস্টেল এবং আরও অনেক কিছুই। পুদুচেরী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণ হয়েছে বলে আমি শুনেছি। বহুদিন ধরে এইসব পদে নিয়োগ হয়নি। কিন্তু, ডবল ইঞ্জিন সরকার তা করে দেখিয়েছে। নতুন কর্মীদের আমি শুভেচ্ছা জানাই।

বন্ধুগণ,
আজ পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণে জোর দিচ্ছে সারা বিশ্ব। বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারে অভ্যস্ত হচ্ছি আমরা। পুদুচেরির মতো পর্যটন স্থলে দূষণ প্রতিরোধে বিদ্যুৎ চালিত বাস বড় ভূমিকা নিতে পারে। পিএম ই-বাস সেবার আওতায় আজ বৈদ্যুতিক বাস চালু করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে যেসব আবাসন প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে, তার ফলে বহু পরিবার মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুবিধা পাবেন। পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলি। নতুন বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জোরদার করবে। বর্ষার সময়ে জল জমে থাকার সমস্যা দূর করতেও সরকার উদ্যোগী।
বন্ধুগণ,
মানবসম্পদ উন্নত না হলে, দেশ উন্নত হতে পারে না। সেজন্য স্বাস্থ্য পরিচর্যা ক্ষেত্র আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমরা মনে করি, সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে সকলের। এই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা। পুদুচেরির মানুষদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হবে – এমনটা মোটেও কাম্য নয়, বরং চিকিৎসার জন্য অন্য জায়গার মানুষ এখানে যাতে আসেন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এখানে ইতিমধ্যেই ৯টি মেডিকেল কলেজ আছে। জেআইপিএমইআর - এ রিজিওন্যাল ক্যান্সার সেন্টারের আধুনিকীকরণ এখানকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করবে। পিএম – এবিএইচআইএম এর আওতায় আজ ৩টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লকের শিলান্যাস হচ্ছে। পুদুচেরির সিদ্ধা চিকিৎসা প্রণালীর জন্য সুপরিচিত। কারাইক্কালের নতুন আয়ুষ হাসপাতাল সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বন্ধুরা,
উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমরা গ্রামীণ এবং শহুরে পরিকাঠামো উন্নত করে তোলায় জোর দিচ্ছি। গ্রামে হাজার হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হচ্ছে। উপকৃত হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক ও কর্মীরা। পাশাপাশি, পুদুচেরির মতো শহরে যানজট ও ভিড় কমাতেও আমরা উদ্যোগী। এই শহরের জন্য এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি উড়ালপুল।

বন্ধুরা,
ইস্ট কোস্ট রোড এবং গ্র্যান্ড সাদার্ন ট্রাঙ্ক রোড আরও উন্নত করে তুলে চেন্নাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দৃঢ় করা হচ্ছে। এই প্রকল্প রূপায়িত হলে চেন্নাই যাতায়াতের সময় দাঁড়াবে দেড় থেকে দু’ঘন্টা। পুদুচেরি থেকে কুড্ডালোর জাতীয় সড়কের সংযোগ ইতিমধ্যেই স্থাপিত। কারাইকাল জাতীয় সড়ককেও আরও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। কন্যাকুমারী পর্যন্ত ইস্ট কোস্ট করিডরকে আরও সাজিয়ে তুলতে আমরা ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করছি। এর ফলে, পুদুচেরি থেকে চেন্নাইয়ের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু কিংবা কোয়েম্বাটুর যাওয়াও অনেক সহজ হয়ে উঠবে। পর্যটন ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও গতি আসবে।
বন্ধুরা,
পর্যটন পুদুচেরির অন্যতম আকর্ষণ। বহু মানুষ এখানে সপ্তাহান্ত কাটাতে আসেন। আধ্যাত্মিক পর্যটন, পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন এবং স্বাস্থ্য পর্যটনে গুরুত্ব দিলে এই বিষয়টিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ‘প্রসাদ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন মন্দির প্রাঙ্গণকে আরও সজ্জিত করে তোলা হচ্ছে। শ্রী অরবিন্দ এবং মাদার অরোভিলকে সর্বজনীন চেতনার কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। আমি খুব আনন্দিত যে আজ অরোভিলে বিশ্ব আধ্যাত্মিকতা মহোৎসবের সূচনা হচ্ছে।
বন্ধুরা,
ডবল ইঞ্জিন সরকারের ভালো কাজ অবশ্যই মনে রাখা দরকার। কিন্তু, তার সঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার, আগে পরিস্থিতি কেমন ছিল। কংগ্রেস-ডিএমকে আমলে পুদুচেরির মানুষ অনেক সমস্যায় ছিলেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, অপরাধ এবং দরিদ্রদের নিষ্পেষণ ছিল স্বাভাবিক বিষয়। রেশন দোকানে চাল পাওয়া যেত না। কর্মীদের বেতন পেতে দেরি হত। রাস্তায় ঘুরে বেড়াত গুন্ডা এবং ড্রাগ মাফিয়া।
বন্ধুরা,
কংগ্রেস পুদুচেরিকে দিল্লিতে বসবাসকারী একটি পরিবারের এটিএম করে তুলেছিল। ডিএমকে-র আমলেও আপনারা একের পর এক কেলেঙ্কারি দেখেছেন। পুদুচেরির উন্নয়নের যাত্রায় বাধা দিয়েছে কংগ্রেস ও ডিএমকে। তারা পুনরায় ক্ষমতার জন্য লালায়িত হয়ে উঠেছে। কিন্তু পুদুচেরি কি সেই দুর্নীতি ও অপরাধের কালো অধ্যায়ে ফিরে যাবে। আমি নিশ্চিত যে পুদুচেরির মানুষ কোনভাবেই সেটা চাননা।
বন্ধুরা,
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে পুদুচেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। অনেক বিখ্যাত নেতার জন্ম এখানে। অনেকে এখানে এসে কাজ করেছেন। তাঁদের অবদানই ১৯৪৭-এ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। ২০৪৭-এ উন্নত পুদুচেরি এবং উন্নত ভারত গড়ে তুলতেই হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। বাণিজ্য, শিক্ষা, আধ্যাত্মিকতা, পর্যটন – সব ক্ষেত্রেই প্রথম সারিতে থাকবে এই ভূমি।


