Amid numerous disruptions, this decade has been one of unprecedented development for India, marked by strong delivery and by efforts that have strengthened our democracy: PM
In this decade of the 21st century, India is riding the Reform Express: PM
We have made the Budget not only outlay-focused but also outcome-centric: PM
Over the past decade, we have regarded technology and innovation as the core drivers of growth: PM
Today, we are entering into trade deals with the world because today's India is confident and ready to compete globally: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লিতে ইটি নাউ গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০২৬-এ ভাষণ দেন। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল বিজনেস সামিট-এ উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ‘ একটি বাধাবিঘ্নময় দশক, একটি পরিবর্তনের শতাব্দী’-এই মূলভাবনা বিষয়ে নিজের বক্তব্য রাখেন। তিনি একবিংশ শতাব্দীর গত এক দশকে অভূতপূর্ব বাধাবিঘ্নের সাক্ষী থাকার কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাপী মহামারী, বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও যুদ্ধ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ভাঙ্গন যা বিশ্বব্যাপী ভারসাম্যকে নাড়া দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের সংকটগুলির মোকাবিলা একটি জাতির প্রকৃত শক্তি প্রকাশ করে, এবং গর্ব প্রকাশ করে বলেন যে এই বাধাবিঘ্ন সত্ত্বেও, ভারতের জন্য এই দশকটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন, অসাধারণ সরবরাহ এবং গণতন্ত্রের শক্তিশালীকরণ দ্বারা চিহ্নিত হয়েছে। শ্রী মোদী স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত দশক শুরু হওয়ার সময় ভারত ছিল বিশ্বের একাদশ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং অস্থিরতার মধ্যেও পতনের আশঙ্কা ছিল, কিন্তু আজ ভারত দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে।এই পরিবর্তনের শতাব্দীর জন্য ভারত একটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত  হবে বলে উল্লেখ করে শ্রী মোদী  বলেন যে, বর্তমানে ভারত বিশ্ব প্রবৃদ্ধিতে ষোল শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে এবং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে এই অবদান বছরের পর বছর বৃদ্ধি পাবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে ভারত বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির নতুন ইঞ্জিন হিসেবে আবির্ভূত হবে।
 

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার আবির্ভাব ঘটেছিল, কিন্তু সাত দশক পরে সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং বিশ্ব একটি নতুন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন - কেন এটি ঘটছে, এবং ব্যাখ্যা করেন যে পূর্ববর্তী ব্যবস্থাটি "এক আকারের সঙ্গে সবাইকে মানিয়ে নেওয়ার" পদ্ধতির উপর গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন যে, এটা ধরে নেওয়া হয়েছিল যে বিশ্ব অর্থনীতি মূলে থাকবে, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য থাকবে, আর দেশগুলিকে কেবল অবদানকারী হিসাবে দেখা হবে। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে এই মডেলটি এখন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে এবং ক্রমে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে, প্রতিটি দেশ বুঝতে পারছে যে তাদের নিজস্ব স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে হবে।

শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, আজ বিশ্ব যা নিয়ে আলোচনা করছে, ভারত ২০১৫ সালেই তাকে নিজেদের নীতি হিসেবে নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তিনি স্মরণ করেন যে, এক দশক আগে যখন নীতি আয়োগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন এর প্রতিষ্ঠাতা দলিলটিতে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে - ভারত বিদেশ থেকে একটিও উন্নয়ন মডেল আমদানি করবে না বরং উন্নয়নের জন্য নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই নীতি ভারতকে নিজস্ব চাহিদা এবং স্বার্থ অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এটি একটি প্রধান কারণ, এক দশকের বাধার পরেও, ভারতের অর্থনীতি দুর্বল হয়নি বরং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

“একবিংশ শতাব্দীর এই দশকে, ভারত সংস্কার এক্সপ্রেসে চড়ছে”, প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই যে সংস্কারগুলি বাধ্যতামূলক নয় বরং প্রত্যয় এবং অঙ্গীকারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতির নেতারা ২০১৪ সালের পূর্ববর্তী সময় প্রত্যক্ষ করেছেন যখন সংস্কারগুলি কেবল সংকট বা বাধ্যতার অধীনেই করা হত। তিনি স্মরণ করেন যে ১৯৯১ সালের সংস্কারগুলি তখনই এসেছিল যখন দেশ দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল এবং সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছিল। তিনি একথাও বলেন যে পূর্ববর্তী সরকারগুলি একই ধরন অনুসরণ করেছে - কেবল বাধ্যতামূলক হলেই সংস্কার প্রবর্তন করা। শ্রী মোদী আরও উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন যেমন ২৬/১১-এর  সন্ত্রাসবাদী হামলার পর এনআইএ গঠন, গ্রিড ব্যর্থতার পর কেবল বিদ্যুৎ খাতে সংস্কার, এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং উপজাতি অঞ্চলে ক্ষুধা ছড়িয়ে পড়ার সময় খাদ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, তবুও তা দুর্বলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে বাধ্যবাধকতার কারণে সৃষ্ট সংস্কারগুলি কখনই জাতির জন্য উপযুক্ত ফলাফল বয়ে আনে না। তিনি গর্ব প্রকাশ করে বলেন যে গত এগারো বছরে নীতি, প্রক্রিয়া, বিতরণ এবং এমনকি মানসিকতা জুড়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সুপরিকল্পিত সংস্কারগুলি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যদি নীতি পরিবর্তন হয় কিন্তু প্রক্রিয়া এবং মানসিকতা একই থাকে, তাহলে সংস্কারগুলি কেবল কাগজে কলমেই থেকে যায়, যার কারণে তার সরকার সমগ্র ব্যবস্থাকে রূপান্তরিত করার জন্য কাজ করে। শ্রী মোদী প্রক্রিয়া সংস্কার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন, মন্ত্রিসভার ‘নোট’ বা টিপ্পনী তৈরিতে আগে সপ্তাহ বা মাস সময় লাগত, যা উন্নয়নকে ধীর করে দেয়। তাঁর সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সময়-সীমাবদ্ধ-নিশ্চিত করে যে ফাইলগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে থাকতে পারে না -এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক করে তুলেছে। আর এসব উদ্যোগের ফলাফল আজ দৃশ্যমান।

 

রেলওয়ে ওভারব্রিজ অনুমোদনের উদাহরণ তুলে ধরে শ্রী মোদী বলেন, আগে এই প্রক্রিয়া বহু বছর সময় নিতো, আর একাধিক অনুমোদনের প্রয়োজন হত; যা এখন সহজতর হয়েছে। এর ফলে দ্রুত পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি সীমান্ত পরিকাঠামোর কথাও তুলে ধরেন, স্মরণ করিয়ে দেন যে আগে সীমান্ত এলাকায় একটি সাধারণ রাস্তার জন্যও দিল্লির অনুমতি প্রয়োজন হত, যা স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করত। ২০১৪ সালের পর তাঁর সরকার স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষমতায়িত করেছে, যার ফলে দ্রুত গতিতে সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্বব্যাপী প্রভাব তৈরি করেছে এমন একটি সংস্কার হল ইউপিআই, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, যা আজ নিছকই একটি অ্যাপ নয় বরং নীতি, প্রক্রিয়া এবং সরবরাহের একীকরণের প্রমাণ। তিনি উল্লেখ করেন যে ইউপিআই এমন নাগরিকদের জন্য ব্যাংকিং এবং আর্থিক সুবিধা এনেছে যারা কখনও এই ধরণের পরিষেবা ব্যবহার করার কথা কল্পনাও করেননি। শ্রী মোদী আরও জোর দিয়ে বলেন যে ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম এবং জন ধন-আধার-মোবাইল এই ত্রিধারা বাধ্যতামূলক নয় বরং দৃঢ় প্রত্যয় থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যা পূর্বে বাদ পড়া নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে আজও, সরকার একই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

ভারতের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বাজেটেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বাজেট ঘিরে আগের আলোচনাগুলি কেবলমাত্র ব্যয়ের উপরই কেন্দ্রীভূত ছিল - কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, কী সস্তা বা ব্যয়বহুল হয়েছে, কত নতুন ট্রেন পরিষেবা  ঘোষণা করা হয়েছে - এই ঘোষণাগুলির ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তাঁর সরকার বাজেটকে শুধুই     ব্যয়কেন্দ্রিক না রেখে ফলাফল-কেন্দ্রিকও করেছে। শ্রী মোদী বাজেটে আরেকটি বড় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, ২০১৪ সালের আগে, বাজেটের বাইরে ঋণ গ্রহণ আলোচনার উপর প্রাধান্য পেয়েছিল, সে জায়গায় এখন বাজেটের বাইরে সংস্কারগুলিই মূল বিষয়। তিনি বাজেটের বাইরে সংস্কারের কথা স্মরণ করেন যেমন পরবর্তী প্রজন্মের জিএসটি, পরিকল্পনা কমিশনের জায়গায় নীতি আয়োগ তৈরি, ৩৭০ ধারা বাতিল, তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইন, এবং নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম প্রণয়ন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে বাজেটে ঘোষণা করা হোক বা এর বাইরে, সংস্কার এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে গত এক বছরে বন্দর এবং সমুদ্র অর্থনীতি ক্ষেত্রে সংস্কার করা হয়েছে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, জন বিশ্বাস আইনের অধীনে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য শান্তি আইন চালু করা হয়েছে, শ্রম আইন সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আনা হয়েছে, ওয়াকফ আইনে সংস্কার করা হয়েছে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি নতুন ‘ বিকশিত(উন্নত) ভারত জি রাম জি বিল’ প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সারা বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের অসংখ্য সংস্কার করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে এই বছরের বাজেট আমাদের সংস্কার এক্সপ্রেসকে আরও এগিয়ে নিয়েছে এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর জোর দিয়েছে - মূলধন ব্যয় এবং প্রযুক্তি। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী বছরগুলির মতো, পরিকাঠামো ব্যয় প্রায় ১৭ লক্ষ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মূলধন ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য বহুমুখী প্রভাব উল্লেখ করে। তিনি পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় টাউনশিপ নির্মাণ, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরের শহরের জন্য নগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং সাতটি নতুন উচ্চ-গতির রেল করিডোরের মতো ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে এগুলিকে যুবসমাজ এবং জাতির ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত বিনিয়োগ হিসাবে বর্ণনা করেন।
গত দশক ধরে প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, স্টার্টআপ এবং হ্যাকাথন সংস্কৃতির প্রচারের মাধ্যমে, শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে ভারতে এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ কাজ করছে। তিনি আরও বলেন যে সরকার ঝুঁকি গ্রহণকে উৎসাহিত করেছে এবং উদ্ভাবনকে পুরস্কৃত করেছে, যার দৃশ্যমান ফলাফলও মিলেছে। তিনি বলেন যে এই বছরের বাজেট এই অগ্রাধিকারগুলিকে আরও শক্তিশালী করে, বিশেষ করে বায়োফার্মা, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার রাজ্যগুলিকেও ক্ষমতায়িত করেছে। তিনি পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বলেন যে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে রাজ্যগুলি কর বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে, যেখানে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যগুলি ইতিমধ্যেই ৮৪ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, এই বছরের বাজেটে প্রস্তাবিত প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকার মাধ্যমে, তাঁর সরকারের অধীনে রাজ্যগুলিতে মোট কর বিকেন্দ্রীকরণের পরিমাণ ১০০ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে, যার ফলে রাজ্য সরকারগুলি সারা দেশে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচনা এবং বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, তবে তিনি ২০১৪ সালের আগে কেন এই ধরণের চুক্তি সম্ভব ছিল না সে সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, একই দেশ, যুবশক্তি এবং সরকার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও, উন্নত দেশগুলির সঙ্গে ব্যাপক বাণিজ্য চুক্তি কেন আগে হয়নি! তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, নীতি, অভিপ্রায় এবং ভারতের বর্ধিত শক্তির মধ্যে এই পরিবর্তন নিহিত। তিনি উল্লেখ করেন যে, যখন ভারতকে ভঙ্গুর পাঁচ অর্থনীতির মধ্যে গণ্য করা হত, নীতিগত পক্ষাঘাত এবং কেলেঙ্কারীতে ঘেরা, তখন কোনও দেশই ভারতকে বিশ্বাস করতে রাজি ছিল না। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, ২০১৪ সালের আগে, ভারতের উৎপাদন ভিত্তি দুর্বল ছিল, এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলি আশঙ্কা করেছিল যে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাজার দখল এবং পণ্য ডাম্পিংয়ের দিকে পরিচালিত করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে হতাশার সেই পরিবেশে, পূর্ববর্তী সরকার মাত্র চারটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছিল। বিপরীতে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গত দশকে ভারত বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৮টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে আজকের ভারত আত্মবিশ্বাসী, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত এবং গত এগারো বছরে একটি শক্তিশালী উৎপাদন বাস্তুতন্ত্র তৈরি করেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এই শক্তি এবং ক্ষমতায়ন বিশ্বের আস্থা অর্জন করেছে, ভারতের বাণিজ্য নীতিতে একটি আদর্শ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে, যা একটি উন্নত ভারতের দিকে যাত্রার একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

সরকার প্রত্যেক নাগরিককে উন্নয়নে অংশগ্রহণকারী করে তোলার জন্য পূর্ণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করছে, যারা এতদিন পিছিয়ে ছিল তাঁদের অগ্রাধিকার দিয়ে, শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে পূর্ববর্তী সরকারগুলি কেবল দিব্যাঙ্গ নাগরিকদের জন্য ঘোষণা করেছিল, কিন্তু তাঁদের সরকার প্রকৃত সংবেদনশীলতার উদাহরণ হিসেবে ভারতীয় সাংকেতিক ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করে আসছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের মর্যাদা ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গত দশকে লক্ষ লক্ষ মহিলা তিন তালাকের প্রথা থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে সরকারি যন্ত্রের মানসিকতাও পরিবর্তিত হয়েছে, আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, যা বিনামূল্যে রেশন বিতরণের মতো প্রকল্পগুলিতে স্পষ্ট। তিনি এই প্রকল্পকে উপহাস করার জন্য বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন যে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছে, বিনামূল্যে রেশন দিয়ে যারা নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে প্রবেশ করছে তাঁরা যেন আবার দারিদ্র্যের শিকার না হন তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন যে সরকার এই প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করেছে, দরিদ্র এবং নব্য-মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে প্রচুর সহায়তা প্রদান করছে।

 

শ্রী মোদী দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য সম্পর্কে আরও মন্তব্য করেন যে, কেন তিনি ২০৪৭ সালের কথা বলেন এবং ভারতের উন্নয়নের কথা বলেন, তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা এই অগ্রগতিকে ‘অনিশ্চিত’ বলে উড়িয়ে দিতে চান। তিনি পাল্টা বলেন যে, যদি স্বাধীনতা সংগ্রামীরা একইভাবে চিন্তা করতেন, তাহলে ভারত কখনোই স্বাধীনতা অর্জন করতে পারত না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যখন জাতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখন প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং নীতি দেশের জন্য প্রণীত হয়।প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেন যে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট - ভারতকে উন্নত করার জন্য ক্রমাগত কাজ করা। তিনি আরও বলেন যে, আজকের প্রজন্ম ২০৪৭ সাল পর্যন্ত থাকুক বা না থাকুক, জাতি এবং তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থাকবে, এবং তাই বর্তমানের কর্তব্য হলো ভবিষ্যৎ নিরাপদ এবং উজ্জ্বল করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে বিশ্বকে এখনই বাধাগুলির সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তাদের প্রকৃতি বিকশিত হতে থাকবে কিন্তু ব্যবস্থাও দ্রুত পরিবর্তিত হবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ইতিমধ্যেই যে বাধাগুলি দেখা যাচ্ছে তা তুলে ধরেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে আরও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে, যার জন্য ভারত প্রস্তুত। শ্রী মোদী ঘোষণা করেন যে কয়েক দিনের মধ্যে, বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব শীর্ষ সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং প্রযুক্তি নেতারা অংশগ্রহণ করবেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, সবাই মিলে একসঙ্গে একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই আত্মবিশ্বাস নিয়ে, শীর্ষ সম্মেলনের সাফল্যের জন্য তাঁর শুভকামনা জানান।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'Key Partner In Indian Ocean': PM Modi's Landmark Address In Seychelles Parliament

Media Coverage

'Key Partner In Indian Ocean': PM Modi's Landmark Address In Seychelles Parliament
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
State Visit of Prime Minister to Seychelles
June 28, 2026

As part of Prime Minister Shri Narendra Modi’s State Visit to Seychelles from 27-29 June 2026, Prime Minister and the President of Seychelles, H.E. Dr. Patrick Herminie today held official talks at the State House in Victoria, Mahe.

The talks covered the full spectrum of bilateral relations, with the leaders agreeing to further strengthen cooperation in health, education, capacity building, digital transformation, sustainable development, social infrastructure, renewable energy, maritime security and defence. They also exchanged views on regional and global developments, including challenges in the Indian Ocean region, such as illegal fishing, drug trafficking and piracy. Both leaders expressed satisfaction at the progress made in the implementation of projects and initiatives under the Special Economic Package announced by India. Prime Minister reaffirmed India’s commitment to supporting the development priorities of Seychelles and to further deepen the close and enduring partnership between the two countries.

Following the official talks, both leaders released a joint commemorative logo marking 50 years of the establishment of diplomatic relations between the two countries. Several MoUs/agreements in the fields of Capacity Building, UPI, Health, Agriculture, Shipping, Space, Extradition and Line of Credit were exchanged thereafter. The amount of the Line of Credit stands at INR 1250 crores. The full list of MoUs/agreements may be seen here [link]. In addition, several announcements in the fields of food security, infrastructure, health, vocational training, maritime security and defence were made in support of the development needs of Seychelles. The details of these announcements may be seen here [link]. Seychelles also announced that it is joining the Coalition for Disaster Resilient Infrastructure [CDRI].

Later in the day, Prime Minister addressed an Extraordinary Sitting of the National Assembly of Seychelles, becoming the first Indian Prime Minister to do so. In his address, he highlighted the historical bonds of friendship between India and Seychelles and underscored the shared values of democracy, rule of law and people-centric governance that guide the two countries. He noted that mutual trust and close cooperation have shaped a robust partnership spanning development cooperation, maritime security, technology, innovation, health and capacity building. Prime Minister also called for enhanced parliamentary exchanges between the two democracies. The full address of Prime Minister may be seen here [link]

The Leader of Opposition of Seychelles, H.E. Mr. Bernard Georges, also called on Prime Minister. The two leaders discussed India-Seychelles bilateral ties and conveyed their strong support to further build the special friendship between the two countries.