ভারতে জি-২০ শীর্ষ বৈঠক সংক্রান্ত ৪টি বই প্রকাশ
“সর্বসম্মতভাবে গৃহীত নতুন দিল্লি ঘোষণাপত্র গোটা বিশ্বে খবরের শিরোনামে এসেছে”
“শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রয়াসের ফলে ভারত নতুন সুযোগ, নতুন বন্ধু এবং নতুন বাজার পাচ্ছে, তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে”
“ভারতের তরুণদের মধ্যেই আমার শক্তি নিহিত রয়েছে”
তিনি প্রশ্নের সুরে বলেন, ভারতের এই সাফল্যের কোনো তুলনা হতে পারে?
জি২০-তে স্থায়ী সদস্য হিসেবে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার জি২০-কে বিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি পড়ুয়ার কাছে নিয়ে গিয়েছে।
তাঁর যাবতীয় অনুপ্রেরণার পিছনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের তরুণদের মধ্যেই আমার যাবতীয় শক্তি নিহিত রয়েছে।"
তিনি বলেন, একশো বছর আগে আমাদের তরুণরা দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়েছিলেন এবং সমস্ত শক্তি নিয়ে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত সমৃদ্ধির নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এবং আত্মবিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লির ভারত মন্ডপমে জি-২০ ইউনিভার্সিটি কানেক্ট ফিনালে অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। ভারতের জি-২০ সভাপতিত্ব নিয়ে দেশের তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং জি২০-র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল। এই উপলক্ষে ৪টি বইও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতে ২ সপ্তাহ আগে জি-২০ শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে ভারত মন্ডপমে ব্যাপক কর্মতৎপরতা ও ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, এই স্থানটি ভবিষ্যৎ ভারতের সাক্ষী হয়ে উঠছে। জি২০-র মতো কর্মকাণ্ডের আয়োজনের মাধ্যমে ভারতের উত্তরণ এবং গোটা বিশ্বের নজর কাড়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। শ্রী মোদী বলেন, ভারতের প্রতিশ্রুতিবান তরুণ প্রজন্ম এ ধরনের অনুষ্ঠানের সঙ্গে নিজেদের যেভাবে যুক্ত করতে পেরেছে, তাতে তিনি আশ্চর্য নন। ভারতে এখন যা ঘটছে, তার জন্য তিনি পুরোপুরি কৃতিত্ব দেন যুবশক্তিকে। 

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত এখন নানা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গত ৩০ দিনের কর্মকাণ্ড থেকে তা স্পষ্ট। গত ৩০ দিনের নানা কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টানার পাশাপাশি চন্দ্রযান মিশনের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘চাঁদে ভারত’ এই শব্দবন্ধ এখন গোটা বিশ্বে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তাঁর কথায়, “দেশের জাতীয় মহাকাশ দিবস হিসেবে ২৩ অগাস্ট দিনটি স্মরণীয়।" এই সাফল্যের পথ ধরেই ভারত সফলভাবে সৌরমিশন সম্পন্ন করেছে। শ্রী মোদী বলেন, চন্দ্রযান ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে এবং সৌর প্রকল্পটি ১৫ লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। তিনি প্রশ্নের সুরে বলেন, ভারতের এই সাফল্যের কোনো তুলনা হতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ দিনে ভারতের কূটনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। জি-২০ শীর্ষ বৈঠকে ৬টি নতুন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তি এবং এই বৈঠকের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস সম্মেলনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে চার দশক পর গ্রিসের মাটিতে প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর পা রাখার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। জি-২০ শীর্ষ বৈঠকের আগে ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শ্রী মোদী। বিশ্বের কল্যাণে এই ভারত মন্ডপমে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিশেষ সাফল্য হল,  সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রের জন্য অভিন্ন মঞ্চ গড়ে তোলা। ভারতের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সর্বসম্মতভাবে গৃহীত নতুন দিল্লি ঘোষণাপত্র গোটা বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমে খবরের শিরোনাম  হয়ে উঠেছিল।" জি-২০ বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি ২১ শতকের পরিবর্তনের গোটা অভিমুখ বদলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। জি২০-তে স্থায়ী সদস্য হিসেবে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

জি-২০ শীর্ষ বৈঠক শেষ হতে না হতেই সৌদি আরবের যুবরাজের সফর এবং ভারতে সৌদি আরবের ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রী মোদী বলেন, গত ৩০ দিনে ৮৫ জন বিশ্ব নেতা অর্থাৎ গোটা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। তাঁর মতে, “এই ধরনের সাক্ষাৎকারের ফলে ভারত নতুন নতুন সুযোগ, নতুন নতুন বন্ধু এবং নতুন নতুন বাজার পাচ্ছে, তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।"

 

গত ৩০ দিনে তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, গরিব ও মধ্যবিত্তদের ক্ষমতায়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকর্মা জয়ন্তীতে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনায় কারিগর, হস্তশিল্পী এবং পরম্পরাগত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা উপকৃত হবেন। রোজগার মেলার মাধ্যমে ১ লক্ষের বেশি তরুণের হাতে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির নিয়োগ পত্র তুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শ্রী মোদী আরও জানান, রোজগার মেলা চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লক্ষের বেশি তরুণকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন এবং সেখানে পাশ হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম বিলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 

দেশে ব্যাটারি চালিত বৈদ্যুতিক যানের উন্নয়নে সরকারের অনুমোদন করা বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, দ্বারকায় যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধন, বারাণসীতে নতুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শিলান্যাস এবং ৯টি বন্দে ভারত ট্রেনের সূচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সেইসঙ্গে মধ্যপ্রদেশে পেট্রো কেমিক্যাল কমপ্লেক্স, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির আইটি পার্ক, একটি বড় শিল্প পার্ক এবং ৬টি নতুন শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা জানান শ্রী মোদী। তিনি বলেন, এইসব উন্নয়ন প্রকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতাও বৃদ্ধি করবে। 

 

বৃহত্তর পরিসরে ভাবনা-চিন্তা করার জন্য তরুণদের কাছে আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এমন কোনো সাফল্য নেই, যা আপনাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, বা এমন কোনো সাফল্য নেই, যেখানে দেশ আপনার পাশে নেই।" তিনি বলেন, কোনো কিছুকেই ছোটো করে দেখা উচিত নয় এবং প্রত্যেক প্রয়াসকে সাফল্যে রূপান্তরিত করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জি২০-র দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি কূটনৈতিক এবং দিল্লি-কেন্দ্রিক বৈঠক হতে পারত। কিন্তু, তার বদলে ভারত একে একটি জনসাধারণ-চালিত জাতীয় আন্দোলনের রূপ দিয়েছে। জি-২০ ইউনিভার্সিটি কানেক্ট কর্মসূচিতে দেশের ১০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষাধিক তরুণের অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার জি২০-কে বিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ৫ কোটি পড়ুয়ার কাছে নিয়ে গিয়েছে। 

আগামী ২৫ বছরের অমৃতকালের প্রসঙ্গ টেনে শ্রী মোদী বলেন, দেশ এবং তরুণ প্রজন্ম, দু’পক্ষের কাছেই এই সময়কাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের দ্রুত অগ্রগতি এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে দশম থেকে বিশ্বের পঞ্চম আর্থিক শক্তির দেশ হিসেবে ভারতের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের ওপর গোটা বিশ্বের গভীর আস্থা রয়েছে এবং দেশে বিদেশি বিনিয়োগ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি জানান, মাত্র ৫ বছরের মধ্যে ১৩.৫ কোটি মানুষ গরিব থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছেন । 


তরুণদের নতুন সম্ভাবনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইপিএফও-তে প্রায় ৫ লক্ষ নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমবার নতুন নথিভুক্তির সংখ্যা ৩.৫ কোটি। স্টার্টআপের সংখ্যা ২০১৪ সালের একশো থেকে বেড়ে বর্তমানে ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান তিনি। শ্রী মোদী বলেন, “মোবাইল ফোন তৈরিতে এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হল ভারত। ২০১৪-র তুলনায় প্রতিরক্ষা রপ্তানি বেড়েছে ২৩ গুণ। মুদ্রা যোজনা তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।" তিনি জানান, এই প্রকল্পে ৮ কোটি শিল্পোদ্যোগী তৈরি হয়েছে এবং গত ৯ বছরে ভারতে ৫ লক্ষ ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। 

রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, নীতি প্রণয়নে স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কারণে দেশের এই ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, গত ৯ বছরে সরকার দুর্নীতিরোধে নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবস্থা চালুর কথা জানান তিনি। শ্রী মোদী বলেন, “এখন সৎ ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে এবং অসৎদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।"

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ধারাবাহিক উন্নয়নের এই যাত্রায় স্বচ্ছতা, স্পষ্টতা এবং সরকারের স্থায়িত্ব থাকা বাধ্যতামূলক। তাঁর কথায়, "ভারতের তরুণরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে, ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত এবং আত্মনির্ভর দেশ গড়ার পথে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।" শ্রী মোদী বলেন, গোটা বিশ্বই এখন আশা নিয়ে ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এবং ভারত ও আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাঁর যাবতীয় অনুপ্রেরণার পিছনে তরুণদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের তরুণদের মধ্যেই আমার যাবতীয় শক্তি নিহিত রয়েছে।"


স্বচ্ছ ভারত প্রচারাভিযানের সাফল্যে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আগামী ১ অক্টোবর দেশজুড়ে স্বচ্ছতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সকলের কাছে আবেদন জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৭ জন করে দেশবাসীকে প্রশিক্ষিত করে তোলার জন্য তরুণদের কাছে তিনি আবেদন জানান। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে খাদির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগী হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে ক্যাম্পাসের মধ্যে খাদি ফ্যাশন শো অনুষ্ঠিত করারও পরামর্শ দেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মতো দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করার সুযোগ এখন আমরা না পেলেও, দেশের জন্য বেঁচে থাকার সমস্ত সম্ভাবনা আমাদের সামনে রয়েছে। তিনি বলেন, একশো বছর আগে আমাদের তরুণরা দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়েছিলেন এবং সমস্ত শক্তি নিয়ে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্ধুরা, আমার সঙ্গে হাঁটুন, আমি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমাদের সামনে ২৫ বছর সময় রয়েছে। একশো বছর আগে যা ঘটেছিল, তা আমাদের স্বরাজ এনে দিয়েছে। এখন আমরা সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারি।" তিনি আরও বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত সমৃদ্ধির নতুন দরজা খুলে দিয়েছে এবং আত্মবিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।"

 ভারতকে বিশ্বের প্রথম তিনটি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কারণে আমি আপনাদের সমর্থন এবং মা ভারতী ও ১৪০ কোটি দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 
Explore More
ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জনপ্রিয় ভাষণ

ভারতের ৭৭তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
Indian Air Force’s Made-in-India Samar-II to shield India’s skies against threats from enemies

Media Coverage

Indian Air Force’s Made-in-India Samar-II to shield India’s skies against threats from enemies
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
New India is finishing tasks at a rapid pace: PM Modi
February 25, 2024
Dedicates five AIIMS at Rajkot, Bathinda, Raebareli, Kalyani and Mangalagiri
Lays foundation stone and dedicates to nation more than 200 Health Care Infrastructure Projects worth more than Rs 11,500 crore across 23 States /UTs
Inaugurates National Institute of Naturopathy named ‘Nisarg Gram’ in Pune
Inaugurates and dedicates to nation 21 projects of the Employees’ State Insurance Corporation worth around Rs 2280 crores
Lays foundation stone for various renewable energy projects
Lays foundation stone for New Mundra-Panipat pipeline project worth over Rs 9000 crores
“We are taking the government out of Delhi and trend of holding important national events outside Delhi is on the rise”
“New India is finishing tasks at rapid pace”
“I can see that generations have changed but affection for Modi is beyond any age limit”
“With Darshan of the submerged Dwarka, my resolve for Vikas and Virasat has gained new strength; divine faith has been added to my goal of a Viksit Bharat”
“In 7 decades 7 AIIMS were approved, some of them never completed. In last 10 days, inauguration or foundation stone laying of 7 AIIMS have taken place”
“When Modi guarantees to make India the world’s third largest economic superpower, the goal is health for all and prosperity for all”

भारत माता की जय!

भारत माता की जय!

मंच पर उपस्थित गुजरात के लोकप्रिय मुख्यमंत्री श्रीमान भूपेंद्र भाई पटेल, केंद्र में मंत्रिपरिषद के मेरे सहयोगी मनसुख मांडविया, गुजरात प्रदेश भारतीय जनता पार्टी के अध्यक्ष और संसद में मेरे साथी सी आर पाटिल, मंच पर विराजमान अन्य सभी वरिष्ठ महानुभाव, और राजकोट के मेरे भाइयों और बहनों, नमस्कार।

आज के इस कार्यक्रम से देश के अनेक राज्यों से बहुत बड़ी संख्या में अन्य लोग भी जुड़े हैं। कई राज्यों के माननीय मुख्यमंत्री, माननीय गवर्नर श्री, विधायकगण, सांसदगण, केंद्र के मंत्रीगण, ये सब इस कार्यक्रम में वीडियो कांफ्रेंसिंग से हमारे साथ जुड़े हैं। मैं उन सभी का भी हृदय से बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूं।

एक समय था, जब देश के सारे प्रमुख कार्यक्रम दिल्ली में ही होकर रह जाते थे। मैंने भारत सरकार को दिल्ली से बाहर निकालकर देश के कोने-कोने तक पहुंचा दिया है और आज राजकोट पहुंच गए। आज का ये कार्यक्रम भी इसी बात का गवाह है। आज इस एक कार्यक्रम से देश के अनेकों शहरों में विकास कार्यों का लोकार्पण और शिलान्यास होना, एक नई परंपरा को आगे बढ़ा रहा है। कुछ दिन पहले ही मैं जम्मू कश्मीर में था। वहां से मैंने IIT भिलाई, IIT तिरुपति, ट्रिपल आईटी DM कुरनूल, IIM बोध गया, IIM जम्मू, IIM विशाखापट्टनम और IIS कानपुर के कैंपस का एक साथ जम्‍मू से लोकार्पण किया था। और अब आज यहां राजकोट से- एम्स राजकोट, एम्स रायबरेली, एम्स मंगलगिरी, एम्स भटिंडा, एम्स कल्याणी का लोकार्पण हुआ है। पांच एम्स, विकसित होता भारत, ऐसे ही तेज गति से काम कर रहा है, काम पूरे कर रहा है।

साथियों,

आज मैं राजकोट आया हूं, तो बहुत कुछ पुराना भी याद आ रहा है। मेरे जीवन का कल एक विशेष दिन था। मेरी चुनावी यात्रा की शुरुआत में राजकोट की बड़ी भूमिका है। 22 साल पहले 24 फरवरी को ही राजकोट ने मुझे पहली बार आशीर्वाद दिया था, अपना MLA चुना था। और आज 25 फरवरी के दिन मैंने पहली बार राजकोट के विधायक के तौर पर गांधीनगर विधानसभा में शपथ ली थी, जिंदगी में पहली बार। आपने तब मुझे अपने प्यार, अपने विश्वास का कर्जदार बना दिया था। लेकिन आज 22 साल बाद मैं राजकोट के एक-एक परिजन को गर्व के साथ कह सकता हूं कि मैंने आपके भरोसे पर खरा उतरने की पूरी कोशिश की है।

आज पूरा देश इतना प्यार दे रहा है, इतने आशीर्वाद दे रहा है, तो इसके यश का हकदार ये राजकोट भी है। आज जब पूरा देश, तीसरी बार-NDA सरकार को आशीर्वाद दे रहा है, आज जब पूरा देश, अबकी बार-400 पार का विश्वास, 400 पार का विश्वास कर रहा है। तब मैं पुन: राजकोट के एक-एक परिजन को सिर झुकाकर नमन करता हूं। मैं देख रहा हूं, पीढ़ियां बदल गई हैं, लेकिन मोदी के लिए स्नेह हर आयु सीमा से परे है। ये जो आपका कर्ज है, इसको मैं ब्याज के साथ, विकास करके चुकाने का प्रयास करता हूं।

साथियों,

मैं आप सबकी भी क्षमा चाहता हूं, और सभी अलग-अलग राज्यों में माननीय मुख्यमंत्री और वहां के जो नागरिक बैठे हैं, मैं उन सबसे भी क्षमा मांगता हूं क्योंकि मुझे आज आने में थोड़ा विलंब हो गया, आपको इंतजार करना पड़ा। लेकिन इसके पीछे कारण ये था कि आज मैं द्वारका में भगवान द्वारकाधीश के दर्शन करके, उन्हें प्रणाम करके राजकोट आया हूं। द्वारका को बेट द्वारका से जोड़ने वाले सुदर्शन सेतु का लोकार्पण भी मैंने किया है। द्वारका की इस सेवा के साथ-साथ ही आज मुझे एक अद्भुत आध्यात्मिक साधना का लाभ भी मिला है। प्राचीन द्वारका, जिसके बारे में कहते हैं कि उसे खुद भगवान श्रीकृष्ण ने बसाया था, आज वो समुद्र में डूब गई है, आज मेरा सौभाग्य था कि मैं समुद्र के भीतर जाकर बहुत गहराई में चला गया और भीतर जाकर मुझे उस समुद्र में डूब चुकी श्रीकृष्‍ण वाली द्वारका, उसके दर्शन करने का और जो अवशेष हैं, उसे स्पर्श करके जीवन को धन्य बनाने का, पूजन करने का, वहां कुछ पल प्रभु श्रीकृष्ण का स्मरण करने का मुझे सौभाग्य मिला। मेरे मन में लंबे अर्से से ये इच्छा थी कि भगवान कृष्ण की बसाई उस द्वारका भले ही पानी के भीतर रही हो, कभी न कभी जाऊंगा, मत्था टेकुंगा और वो सौभाग्य आज मुझे मिला। प्राचीन ग्रंथों में द्वारका के बारे में पढ़ना, पुरातत्वविदों की खोजों को जानना, ये हमें आश्चर्य से भर देता है। आज समंदर के भीतर जाकर मैंने उसी दृश्य को अपनी आंखों से देखा, उस पवित्र भूमि को स्पर्श किया। मैंने पूजन के साथ ही वहां मोर पंख को भी अर्पित किया। उस अनुभव ने मुझे कितना भाव विभोर किया है, ये शब्दों में बताना मेरे लिए मुश्किल है। समंदर के गहरे पानी में मैं यही सोच रहा था कि हमारे भारत का वैभव, उसके विकास का स्तर कितना ऊंचा रहा है। मैं समुद्र से जब बाहर निकला, तो भगवान श्रीकृष्ण के आशीर्वाद के साथ-साथ मैं द्वारका की प्रेरणा भी अपने साथ लेकर लाया हूं। विकास और विरासत के मेरे संकल्पों को आज एक नई ताकत मिली है, नई ऊर्जा मिली है, विकसित भारत के मेरे लक्ष्य से आज दैवीय विश्वास उसके साथ जुड़ गया है।

साथियों,

आज भी यहां 48 हज़ार करोड़ से ज्यादा के प्रोजेक्ट्स आपको, पूरे देश को मिले हैं। आज न्यू मुंद्रा-पानीपत पाइपलाइन प्रोजेक्ट का शिलान्यास हुआ है। इससे गुजरात से कच्चा तेल सीधे हरियाणा की रिफाइनरी तक पाइप से पहुंचेगा। आज राजकोट सहित पूरे सौराष्ट्र को रोड, उसके bridges, रेल लाइन के दोहरीकरण, बिजली, स्वास्थ्य और शिक्षा सहित अनेक सुविधाएं भी मिली हैं। इंटरनेशनल एयरपोर्ट के बाद, अब एम्स भी राजकोट को समर्पित है और इसके लिए राजकोट को, पूरे सौराष्‍ट्र को, पूरे गुजरात को बहुत-बहुत बधाई! और देश में जिन-जिन स्‍थानों पर आज ये एम्स समर्पित हो रहा है, वहां के भी सब नागरिक भाई-बहनों को मेरी तरफ से बहुत-बहुत बधाई।

साथियों,

आज का दिन सिर्फ राजकोट और गुजरात के लिए ही नहीं, बल्कि पूरे देश के लिए भी ऐतिहासिक है। दुनिया की 5वीं बड़ी अर्थव्यवस्था का हेल्थ सेक्टर कैसा होना चाहिए? विकसित भारत में स्वास्थ्य सुविधाओं का स्तर कैसा होगा? इसकी एक झलक आज हम राजकोट में देख रहे हैं। आज़ादी के 50 सालों तक देश में सिर्फ एक एम्स था और भी दिल्ली में। आज़ादी के 7 दशकें में सिर्फ 7 एम्स को मंजूरी दी गई, लेकिन वो भी कभी पूरे नहीं बन पाए। और आज देखिए, बीते सिर्फ 10 दिन में, 10 दिन के भीतर-भीतर, 7 नए एम्स का शिलान्यास और लोकार्पण हुआ है। इसलिए ही मैं कहता हूं कि जो 6-7 दशकों में नहीं हुआ, उससे कई गुना तेजी से हम देश का विकास करके, देश की जनता के चरणों में समर्पित कर रहे हैं। आज 23 राज्यों और केंद्र शासित प्रदेशों में 200 से अधिक हेल्थ केयर इंफ्रास्ट्रक्चर प्रोजेक्ट्स का भी शिलान्यास और लोकार्पण हुआ है। इनमें मेडिकल कॉलेज हैं, बड़े अस्पतालों के सैटेलाइट सेंटर हैं, गंभीर बीमारियों के लिए इलाज से जुड़े बड़े अस्पताल हैं।

साथियों,

आज देश कह रहा है, मोदी की गारंटी यानि गारंटी पूरा होने की गारंटी। मोदी की गारंटी पर ये अटूट भरोसा क्यों है, इसका जवाब भी एम्स में मिलेगा। मैंने राजकोट को गुजरात के पहले एम्स की गारंटी दी थी। 3 साल पहले शिलान्यास किया और आज लोकार्पण किया- आपके सेवक ने गारंटी पूरी की। मैंने पंजाब को अपने एम्स की गारंटी दी थी, भटिंडा एम्स का शिलान्यास भी मैंने किया था और आज लोकार्पण भी मैं ही कर रहा हूं- आपके सेवक ने गारंटी पूरी की। मैंने यूपी के रायबरेली को एम्स की गारंटी दी थी। कांग्रेस के शाही परिवार ने रायबरेली में सिर्फ राजनीति की, काम मोदी ने किया। मैंने रायबरेली एम्स का 5 साल पहले शिलान्यास किया और आज लोकार्पण किया। आपके इस सेवक ने गारंटी पूरी की। मैंने पश्चिम बंगाल को पहले एम्स की गारंटी दी थी, आज कल्याणी एम्स का लोकार्पण भी हुआ-आपके सेवक ने गारंटी पूरी कर दी। मैंने आंध्र प्रदेश को पहले एम्स की गारंटी दी थी, आज मंगलगिरी एम्स का लोकार्पण हुआ- आपके सेवक ने वो गारंटी भी पूरी कर दी। मैंने हरियाणा के रेवाड़ी को एम्स की गारंटी दी थी, कुछ दिन पहले ही, 16 फरवरी को उसकी आधारशिला रखी गई है। यानि आपके सेवक ने ये गारंटी भी पूरी की। बीते 10 वर्षों में हमारी सरकार ने 10 नए एम्स देश के अलग-अलग राज्यों में स्वीकृत किए हैं। कभी राज्यों के लोग केंद्र सरकार से एम्स की मांग करते-करते थक जाते थे। आज एक के बाद एक देश में एम्स जैसे आधुनिक अस्पताल और मेडिकल कॉलेज खुल रहे हैं। तभी तो देश कहता है- जहां दूसरों से उम्मीद खत्म हो जाती है, मोदी की गारंटी वहीं से शुरू हो जाती है।

साथियों,

भारत ने कोरोना को कैसे हराया, इसकी चर्चा आज पूरी दुनिया में होती है। हम ये इसलिए कर पाए, क्योंकि बीते 10 वर्षों में भारत का हेल्थ केयर सिस्टम पूरी तरह से बदल गया है। बीते दशक में एम्स, मेडिकल कॉलेज और क्रिटिकल केयर इंफ्रास्ट्रक्चर के नेटवर्क का अभूतपूर्व विस्तार हुआ है। हमने छोटी-छोटी बीमारियों के लिए गांव-गांव में डेढ़ लाख से ज्यादा आयुष्मान आरोग्य मंदिर बनाए हैं, डेढ़ लाख से ज्यादा। 10 साल पहले देश में करीब-करीब 380-390 मेडिकल कॉलेज थे, आज 706 मेडिकल कॉलेज हैं। 10 साल पहले MBBS की सीटें लगभग 50 हज़ार थीं, आज 1 लाख से अधिक हैं। 10 साल पहले मेडिकल की पोस्ट ग्रेजुएट सीटें करीब 30 हज़ार थीं, आज 70 हज़ार से अधिक हैं। आने वाले कुछ वर्षों में भारत में जितने युवा डॉक्टर बनने जा रहे हैं, उतने आजादी के बाद 70 साल में भी नहीं बने। आज देश में 64 हज़ार करोड़ रुपए का आयुष्मान भारत हेल्थ इंफ्रास्ट्रक्चर मिशन चल रहा है। आज भी यहां अनेक मेडिकल कॉलेज, टीबी के इलाज से जुड़े अस्पताल और रिसर्च सेंटर, PGI के सैटेलाइट सेंटर, क्रिटिकल केयर ब्लॉक्स, ऐसे अनेक प्रोजेक्ट्स का शिलान्यास और लोकार्पण किया गया है। आज ESIC के दर्जनों अस्पताल भी राज्यों को मिले हैं।

साथियों,

हमारी सरकार की प्राथमिकता, बीमारी से बचाव और बीमारी से लड़ने की क्षमता बढ़ाने की भी है। हमने पोषण पर बल दिया है, योग-आयुष और स्वच्छता पर बल दिया है, ताकि बीमारी से बचाव हो। हमने पारंपरिक भारतीय चिकित्सा पद्धति और आधुनिक चिकित्सा, दोनों को बढ़ावा दिया है। आज ही महाराष्ट्र और हरियाणा में योग और नेचुरोपैथी से जुड़े दो बड़े अस्पताल और रिसर्च सेंटर का भी उद्घाटन हुआ है। यहां गुजरात में ही पारंपरिक चिकित्सा पद्धति से जुड़ा WHO का वैश्विक सेंटर भी बन रहा है।

साथियों,

हमारी सरकार का ये निरंतर प्रयास है कि गरीब हो या मध्यम वर्ग, उसको बेहतर इलाज भी मिले और उसकी बचत भी हो। आयुष्मान भारत योजना की वजह से गरीबों के एक लाख करोड़ रुपए खर्च होने से बचे हैं। जन औषधि केंद्रों में 80 परसेंट डिस्काउंट पर दवा मिलने से गरीबों और मध्यम वर्ग के 30 हजार करोड़ रुपए खर्च होने से बचे हैं। यानि सरकार ने जीवन तो बचाया, इतना बोझ भी गरीब और मिडिल क्लास पर पड़ने से बचाया है। उज्ज्वला योजना से भी गरीब परिवारों को 70 हज़ार करोड़ रुपए से अधिक की बचत हो चुकी है। हमारी सरकार ने जो डेटा सस्ता किया है, उसकी वजह से हर मोबाइल इस्तेमाल करने वाले के करीब-करीब 4 हजार रुपए हर महीने बच रहे हैं। टैक्स से जुड़े जो रिफॉर्म्स हुए हैं, उसके कारण भी टैक्सपेयर्स को लगभग ढाई लाख करोड़ रुपए की बचत हुई है।

साथियों,

अब हमारी सरकार एक और ऐसी योजना लेकर आई है, जिससे आने वाले वर्षों में अनेक परिवारों की बचत और बढ़ेगी। हम बिजली का बिल ज़ीरो करने में जुटे हैं और बिजली से परिवारों को कमाई का भी इंतजाम कर रहे हैं। पीएम सूर्य घर- मुफ्त बिजली योजना के माध्यम से हम देश के लोगों की बचत भी कराएंगे और कमाई भी कराएंगे। इस योजना से जुड़ने वाले लोगों को 300 यूनिट तक मुफ्त बिजली मिलेगी और बाकी बिजली सरकार खरीदेगी, आपको पैसे देगी।

साथियों,

एक तरफ हम हर परिवार को सौर ऊर्जा का उत्पादक बना रहे हैं, तो वहीं सूर्य और पवन ऊर्जा के बड़े प्लांट भी लगा रहे हैं। आज ही कच्छ में दो बड़े सोलर प्रोजेक्ट और एक विंड एनर्जी प्रोजेक्ट का शिलान्यास हुआ है। इससे रिन्यूएबल एनर्जी के उत्पादन में गुजरात की क्षमता का और विस्तार होगा।

साथियों,

हमारा राजकोट, उद्यमियों का, श्रमिकों, कारीगरों का शहर है। ये वो साथी हैं जो आत्मनिर्भर भारत के निर्माण में बहुत बड़ी भूमिका निभा रहे हैं। इनमें से अनेक साथी हैं, जिन्हें पहली बार मोदी ने पूछा है, मोदी ने पूजा है। हमारे विश्वकर्मा साथियों के लिए देश के इतिहास में पहली बार एक राष्ट्रव्यापी योजना बनी है। 13 हज़ार करोड़ रुपए की पीएम विश्वकर्मा योजना से अभी तक लाखों लोग जुड़ चुके हैं। इसके तहत उन्हें अपने हुनर को निखारने और अपने व्यापार को आगे बढ़ाने में मदद मिल रही है। इस योजना की मदद से गुजरात में 20 हजार से ज्यादा लोगों की ट्रेनिंग पूरी हो चुकी है। इनमें से प्रत्येक विश्वकर्मा लाभार्थी को 15 हजार रुपए तक की मदद भी मिल चुकी है।

साथियों,

आप तो जानते हैं कि हमारे राजकोट में, हमारे यहाँ सोनार का काम कितना बड़ा काम है। इस विश्वकर्मा योजना का लाभ इस व्यवसाय से जुड़े लोगों को भी मिला है।

साथियों,

हमारे लाखों रेहड़ी-ठेले वाले साथियों के लिए पहली बार पीएम स्वनिधि योजना बनी है। अभी तक इस योजना के तहत लगभग 10 हज़ार करोड़ रुपए की मदद इन साथियों को दी जा चुकी है। यहां गुजरात में भी रेहड़ी-पटरी-ठेले वाले भाइयों को करीब 800 करोड़ रुपए की मदद मिली है। आप कल्पना कर सकते हैं कि जिन रेहड़ी-पटरी वालों को पहले दुत्कार दिया जाता था, उन्हें भाजपा किस तरह सम्मानित कर रही है। यहां राजकोट में भी पीएम स्वनिधि योजना के तहत 30 हजार से ज्यादा लोन दिए गए हैं।

साथियों,

जब हमारे ये साथी सशक्त होते हैं, तो विकसित भारत का मिशन सशक्त होता है। जब मोदी भारत को तीसरे नंबर की आर्थिक महाशक्ति बनाने की गारंटी देता है, तो उसका लक्ष्य ही, सबका आरोग्य और सबकी समृद्धि है। आज जो ये प्रोजेक्ट देश को मिले हैं, ये हमारे इस संकल्प को पूरा करेंगे, इसी कामना के साथ आपने जो भव्‍य स्‍वागत किया, एयरपोर्ट से यहां तक आने में पूरे रास्ते पर और यहां भी बीच में आकर के आप के दर्शन करने का अवसर मिला। पुराने कई साथियों के चेहरे आज बहुत सालों के बाद देखे हैं, सबको नमस्ते किया, प्रणाम किया। मुझे बहुत अच्छा लगा। मैं बीजेपी के राजकोट के साथियों का हृदय से अभिनंदन करता हूं। इतना बड़ा भव्य कार्यक्रम करने के लिए और फिर एक बार इन सारे विकास कामों के लिए और विकसित भारत के सपने को साकार करने के लिए हम सब मिलजुल करके आगे बढ़ें। आप सबको बहुत-बहुत बधाई। मेरे साथ बोलिए- भारत माता की जय! भारत माता की जय! भारत माता की जय!

बहुत-बहुत धन्यवाद!

डिस्क्लेमर: प्रधानमंत्री के भाषण का कुछ अंश कहीं-कहीं पर गुजराती भाषा में भी है, जिसका यहाँ भावानुवाद किया गया है।