ভারতীয়ত্ব রক্ষায় মহারাজা সুহেলদেবের অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
ইতিহাস লেখকদের দ্বারা ইতিহাস প্রণেতাদের প্রতি অবিচারকে এখন সংশোধন করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
এই বসন্ত অতিমারি জনিত হতাশাকে পিছনে ফেলে ভারতের জন্য নতুন আশা নিয়ে এসেছে : প্রধানমন্ত্রী
কৃষি আইন নিয়ে লাগাতার মিথ্যা ও অপপ্রচার ক্রমেই প্রকাশ পাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশের বাহারাইচে মহারাজা সুহেলদেবের স্মৃতিসৌধ এবং চিত্তৌর হ্রদের উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন মহারাজা সুহেলদেব নামাঙ্কিত মেডিকেল কলেজ ভবনেরও উদ্বোধন করেছেন। অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের ইতিহাস কেবল ঔপনিবেশিকতা বা সেই মানসিকতার অধিকারীদের দ্বারা রচিত ইতিহাস নয়। ভারতীয় ইতিহাস হচ্ছে এমন, যা সাধারণ মানুষ তাঁদের লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে বিকশিত করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, যারা ভারত ও ভারতীয়ত্বের জন্য সমস্ত ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৭৫- তম বর্ষের সূচনায় সেই সমস্ত ব্যক্তির অবদানকে স্মরণ করাই এখন মহত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় ইতিহাসের লেখকদের দ্বারা ইতিহাস প্রণেতাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবিচার এখন সংশোধন করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণস্বরূপ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর লালকেল্লা থেকে আন্দামান নিকোবর, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি হিসেবে সরদার বল্লভভাই প্যাটেল, এবং পঞ্চতীর্থের মাধ্যমে বাবাসাহেব আম্বেদকরকে স্মরণের কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন অসংখ্য ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিভিন্ন কারণে স্বীকৃতি পাননি। চৌরিচৌরার সাহসী বাহিনীর সাথে কি ঘটেছিল তা কী ভুলতে পারা যায় এমন প্রশ্নও প্রধানমন্ত্রী তোলেন।

তেমনি ভারতীয়ত্ব রক্ষায় মহারাজা সুহেলদেবের অবদানও উপেক্ষিত হয়ে রয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। অবধ, তরাই এবং পূর্বাঞ্চলের লোককথার মাধ্যমে মহারাজা সুহেলদেব মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। যদিও ইতিহাসের পাঠ্য বইয়ে এসব উপেক্ষিত হয়ে রয়েছে। মহারাজা সুহেলদেবকে একজন সংবেদনশীল ও উন্নয়নমূলক শাসক হিসাবে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর এই স্মৃতিসৌধ নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। এর পাশাপাশি তাঁর নামাঙ্কিত মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসা পরিষেবার বিস্তার সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী মহারাজা সুহেলদেবের স্মরণে দু'বছর আগে একটি স্ট্যাম্প প্রকাশ করেছিলেন।

বসন্ত পঞ্চমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই বসন্ত ভারতের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করবে। করোনা অতিমারি জনিত নিরাশা থেকে মুক্তি দেবে। তিনি কামনা করেন যে, মা সরস্বতী জ্ঞান এবং বিজ্ঞান ও গবেষনা এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশ গঠনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি দেশবাসীকে আশীর্বাদ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন বিকাশের জন্য সরকার বিগত কয়েক বছরে ইতিহাস, মানুষের বিশ্বাস এবং আধ্যাত্বিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত স্মৃতিসৌধ গড়ে তুলেছেন। উত্তর প্রদেশও তার থেকে বাদ নেই। পর্যটন বিকাশের জন্য সেখানে ভগবান রামের জীবনী সম্পর্কিত রামায়ণ সার্কিটস, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন সম্পর্কিত স্পিরিচুয়াল সার্কিটস, ভগবান বুদ্ধর জীবনী সম্পর্কিত বুদ্ধিস্ট সার্কিটস গড়ে তোলা হয়েছে। যেমন রয়েছে অযোধ্যা, চিত্রকূট, মথুরা, বৃন্দাবন, গোবর্ধন, কুশিনগর, শ্রাভাস্তি প্রভৃতি স্থানে। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির চেয়ে উত্তর প্রদেশ পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছেও ভারতের তিনটি আকর্ষণীয় রাজ্যের মধ্যে উত্তর প্রদেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উত্তরপ্রদেশে অযোধ্যা বিমানবন্দর এবং কুশিনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুবই কাজে লাগবে। এর পাশাপাশি ওই রাজ্যে আরও বেশ কয়েকটি ছোট ও বড় মাপের বিমান বন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখান্ড এক্সপ্রেসওয়ে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, গোরখপুর লিংক এক্সপ্রেসওয়ে, বালিয়া লিংক এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে উত্তর প্রদেশে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন উত্তর প্রদেশে পণ্য পরিবাহী করিডোরের দুটি বড় জংশন রয়েছে। শিল্পোদ্যোগীরাও বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছেন। শিল্প এবং কর্মসংস্থানের প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের ভূমিকার প্রধানমন্ত্রী ভুয়সি প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অতিমারি জনিত কারণে ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের জন্য উত্তরপ্রদেশ সরকার কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টার ফলে ম্যানেনজাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যাও রাজ্যে কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, উত্তরপ্রদেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা গত ৬ বছরে ১৪ থেকে বেড়ে ২৪ হয়েছে। গোরখপুর এবং বেরিলিতে এইমস তৈরির কাজও এগিয়ে চলেছে। এর বাইরে, ২২টি নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরির কাজ চলছে। বারাণসীর মতো আধুনিক মানের ক্যান্সার হাসপাতালের পরিষেবা পূর্বাঞ্চলেও মিলবে।

উত্তরপ্রদেশে জল জীবন মিশন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।

উত্তরপ্রদেশের গ্রামের দরিদ্র এবং কৃষকরা এখন বিদ্যুৎ, পানীয় জল, রাস্তা এবং স্বাস্থ্য সুবিধার মাধ্যমে পরিষেবা পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পে উত্তরপ্রদেশে প্রায় আড়াই কোটি কৃষক পরিবারের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যারা এক সময় অন্যদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল, বিশেষত সার ক্রয়ের জন্য। আগে সেখানে কৃষকরা জমিতে জল সেচের জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজনে সারারাত জেগে থাকতেন। রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ পরিষেবার উন্নয়নের ফলে সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই।

কৃষক উৎপাদক সংস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি একীকরণের জন্য করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কৃষক তাঁর চাষের ক্ষেত্র সংকুচিত করার বিষয়টি সমাধান করতে পারে। যখন ১-২ দুই বিঘা জমিতে ৫০০ কৃষক পরিবার সংঘটিত হয়, তখন তাঁরা ৫০০-১০০০ বিঘা জমির মালিক কৃষকের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়। এর পাশাপাশি, শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, মাছ এবং এই জাতীয় ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছোট কৃষকরা বিপণনের জন্য এখন কিষান রেলের মাধ্যমে বড়বাজার গুলির সাথে যুক্ত হতে পারছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিককালের চালু হওয়া কৃষি সংস্কার গুলি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উপকৃত করবে। কৃষি আইনের ইতিবাচক প্রভাব সারাদেশ জুড়ে মিলবে। তিনি বলেন, কৃষি আইন নিয়ে নানা রকমের ভুলভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। যারা এই আইন প্রণয়ন করেছেন তাঁরা বিদেশি কোম্পানিগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে নতুন কৃষি আইন করেছেন বলে রটানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই মিথ্যা এবং অপপ্রচারের বিষয়টি এখন উন্মোচিত হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর গত বছরের তুলনায় উত্তরপ্রদেশে এবার ধান সংগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে। যোগী সরকার ইতিমধ্যে আখ চাষীদের ১ লক্ষ কোটি টাকা প্রদান করেছে। এছাড়াও কেন্দ্র সরকার চিনিকল গুলিকে কৃষকদের অর্থ প্রদানের জন্য বিভিন্ন রাজ্য সরকার মারফত কয়েক হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আখ চাষীদের যাতে সময় মত অর্থ দেওয়া হয় তা নিশ্চিত করতে উত্তরপ্রদেশ সরকার সর্বতোভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস দেন যে, গ্রামবাসী এবং কৃষকদের মান উন্নয়নের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। স্বামীত্ব প্রকল্পটি কোন গ্রামের বাড়ির অবৈধ দখলের সম্ভাবনা থেকে মুক্তি দেবে। এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৫০ টি জেলায় ড্রোন দিয়ে জরিপের কাজ চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার গ্রামে ড্রোন মারফত জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। যার ফলে এখনো পর্যন্ত ২ লক্ষেরও বেশি পরিবার সম্পত্তির কার্ড পেয়েছেন। যে কারণে ওই পরিবারগুলি এখন সব ধরনের ভয় ভীতি থেকে মুক্ত হয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছেন যে, কৃষক সংস্কার আইনের ফলে কৃষকের জমি দখল হয়ে যাবে। কিন্তু, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সশক্তিকরণ। সরকারের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, দেশকে আত্মনির্ভর করা এবং এই কাজে আমরা নিবেদিত।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, গোস্বামী তুলসী দাস রচয়িত রামচরিত মানস মহাকাব্য থেকে একটি শ্লোক উদ্ধৃত করেন, যার অর্থ হলো, সঠিক উদ্দেশ্যে কোন কাজ করা হলে এবং ভগবান রামকে হৃদয়ের মধ্যে রেখে স্মরণ করলে সেই কাজ সফল হতে বাধ্য।

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Indian economy, banks well positioned to tackle West Asia crisis, trade risks: RBI Governor Malhotra

Media Coverage

Indian economy, banks well positioned to tackle West Asia crisis, trade risks: RBI Governor Malhotra
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Shri Ram Nath Kovind’s autobiography will become a treasure for Indian democracy and Indian society: PM Modi
August 12, 2026
Today, we have the opportunity to release the autobiography of Shri Ram Nath Kovind ji; I am happy to be a part of this program: PM
His journey reflects a life dedicated to public service and the progress of our nation:PM
My prolonged acquaintance with Kovind Ji and his special affection and warmth towards me have been my greatest assets: PM
Mahatma Gandhi, Babasaheb Ambedkar, Jyotiba Phule, and Savitribai Phule dreamed of a new India where the poorest and the most disadvantaged could reach the top: PM
Individuals like Kovind Ji have transformed their own lives and also played a pivotal role in bringing their dream and vision for India to fruition: PM
Even after retiring as President; he is working on 'One Nation, One Election'; Its resolution can start a new chapter in Democracy: PM


हमारे पूर्व राष्ट्रपति श्रीमान रामनाथ कोविंद जी, लोकसभा के अध्यक्ष आदरणीय ओम बिरला जी, श्रीमती सविता कोविंद जी, सभाग्रह में सभी वरिष्ठ जन बैठे हैं, सबका उल्लेख नहीं कर पाऊंगा, लेकिन मेरे लिए बहुत आनंद है कि एक पारिवारिक कार्यक्रम लग रहा है।

भाइयों-बहनों,

आज हमें श्री रामनाथ कोविंद जी की आत्मकथा के विमोचन का अवसर मिला है। मुझे खुशी है कि मुझे भी इस कार्यक्रम का हिस्सा बनने का सौभाग्य मिला है। कोविंद जी से मेरा बहुत लंबा परिचय रहा है, उन्हें करीब से जानने का भी अवसर मिला और राष्ट्रपति के रूप में उनका मार्गदर्शन और इस सबके साथ-साथ उनका मेरे प्रति विशेष स्नेह, उनकी आत्मीयता, ये मेरी बहुत बड़ी पूंजी रही है। मैंने उनके जीवन को जितना समझा है, उनकी कार्यक्षमताओं को जितना जाना है, मैं पूरे विश्वास से कह सकता हूं कि श्री रामनाथ कोविंद जी की ऑटो-बायोग्राफ़ी अपने आप में भारतीय लोकतंत्र और भारतीय समाज के लिए एक धरोहर बनेगी। कोविंद जी की जीवन यात्रा, समाज और राष्ट्र के लिए उनका योगदान, ऐसा कितना कुछ है जिसके बारे में मैं विस्तार से बात कर सकता हूं, लेकिन बुक रिलीज़ में केवल ‘कर्टन रेज़र’ ही होना चाहिए। आप सब किताब का पूरा लाभ पढ़कर ही लें, तो ही ज्यादा अच्छा है।

साथियों,

कोविंद जी की जीवन यात्रा को आप उनके शब्दों में जानें, उनकी लेखनी को, उनके अनुभवों को देश की नई पीढ़ी पढ़े, इससे हर किसी को काफी कुछ सीखने को मिलेगा। मैं रामनाथ कोविंद जी को इस आत्मकथा के लिए बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

कोविंद जी ने अपनी इस पुस्तक को बहुत ही सटीक नाम दिया है- “Triumph of the Indian Republic: My Life, My Struggles” कहने का भाव ये कि जीवन और जीवन के संघर्ष उनके व्यक्तिगत हैं, लेकिन उन संघर्षों के परिणामस्वरूप मिली जीत, भारत के गणतंत्र की है, भारत के लोकतंत्र की है।

साथियों,

हम सब अक्सर अनुभव करते हैं कि इंसान का एक स्वभाव होता है, लोग अपनी सफलता का श्रेय खुद को देते हैं और जीवन की मुश्किलों के लिए, कठिनाइयों के लिए समाज को जिम्मेदार ठहराते हैं। लेकिन, जब हृदय उदार हो, भारतीय संस्कार हों, तब व्यक्ति समाज की कमियाँ निकालने में समय नहीं गँवाता, वो उसके सकारात्मक पक्ष पर फोकस करता है, वो अपनी सफलता में समाज को बराबर का भागीदार मानता है। कोविंद जी की आत्मकथा और उसका शीर्षक इसके उदाहरण हैं। आप उनका जीवन देखिए, एक बेहद सामान्य परिवार में, कानपुर देहात में उनका जन्म हुआ। कोविंद जी ने अभी भी कुछ वर्णन किया और अपनी किताब में भी लिखा है, कैसे गर्मी के मौसम में एक दिन उनके घर में आग लग गई, उनकी माँ अपनी चिंता छोड़कर घर की चीजों को बचा रही थीं। आखिर, एक सामान्य परिवार में, माँ के लिए एक-एक चीज बच्चों के पालन-पोषण का जरिया होती है। उसी कोशिश में, आग में फंसकर उनकी माता जी की मृत्यु हो गई। आप कल्पना कर सकते हैं, छोटी सी उम्र में इस तरह की घटना, माँ को इस तरह खो देना, ये कितना दर्दनाक रहा होगा। मैं तो भाग्यशाली रहा हूं, मेरी मां 100 साल से भी अधिक जीवित रही और मुझे आशीर्वाद देती रही। उसके बावजूद भी, आज भी मैं मां की कमी महसूस करता हूं।

साथियों,

उनके जीवन का एक ऐसा दर्दनाक ये घटनाक्रम था, कोई भी इससे टूट सकता था, लेकिन कोविंद जी को उन मुश्किलों ने मजबूत किया। पड़ोस की एक माता जी ने उनके पालन-पोषण में मदद की। इससे उन्होंने समाज की एकता और सौहार्द की ताकत को समझा। इस घटना के बाद कोविंद जी के जीवन में उनके पिता की भूमिका और बड़ी हो गई और जिस तरह से उन्होंने अपने परिवार को संभाला, बच्चों को संस्कार दिये, इसीलिए, कोविंद जी अपने पिता को अपना हीरो मानते हैं।

साथियों,

बचपन के इन संघर्षों के बीच, कोविंद जी ने शिक्षा को, अपने सामर्थ्य को बढ़ाने का मार्ग बनाया। उन्होंने मेहनत की, उन्होंने संसाधनों की कमी को कमजोरी नहीं बनने दिया। और, एक ऐसे मुकाम तक पहुंचे, जिसकी कल्पना भी तब लोगों ने नहीं की थी। वो भारत जैसे विशाल देश के राष्ट्रपति बने।

साथियों,

इतने बड़े पद पर पहुंचने के बाद भी कोविंद जी का विनम्र व्यक्तित्व, उनकी सादगी ऐसे ही कायम रही। मुझे याद है प्रधानमंत्री के तौर पर मैं राष्ट्रपति भवन में उनसे मिलने जाता था। प्रोटोकॉल के हिसाब से जो बातें नहीं हो सकती हैं, वो बातें वो करते थे। वो प्रधानमंत्री को छोड़ने के लिए गाड़ी के दरवाजे तक आते थे। मैं शुरू में उनको प्रार्थना करता रहता था, प्लीज आप ऐसा मत कीजिए, लेकिन उन्होंने जीवन के आखिर तक अपनी उस विनम्रता को कभी छोड़ा नहीं। राष्ट्रपति बनने के बाद जब वे अपने गांव परौंख गए, तो उन्होंने वहाँ अपने गुरुओं के पैर छूकर उन्हें प्रणाम किया। गाँव की मिट्टी को नमन करके उन्होंने गाँव के सामान्य लोगों का धन्यवाद किया। पूरे देश ने वो भावुक दृश्य देखा था। उनके इस आचरण ने दुनिया के सामने भारत के संस्कारों की ऐसी तस्वीर सामने रखी, जिस पर हर भारतवासी गर्व करता है।

साथियों,

गुलामी के सैकड़ों साल में हमारे देश ने आर्थिक और सामाजिक रूप से बहुत कुछ खोया था। हमारे पूर्वजों ने सदियों तक संघर्ष किया। महात्मा गांधी, बाबा साहब अंबेडकर, ज्योतिबा फुले, सावित्रबाई फुले, ऐसी कितनी ही महान विभूतियों ने भारत के नवनिर्माण का सपना देखा था। एक ऐसा भारत जहां गरीब से गरीब, वंचित से वंचित को शिखर तक पहुँचने का अवसर मिल सके। कोविंद जी जैसे व्यक्तित्वों ने अपने श्रम और काबिलियत से केवल खुद का जीवन ही बदला, इतना नहीं है, उन्होंने सदियों के उस स्वप्न को, उस विज़न को भी साकार करने में अपनी अहम भूमिका निभाई है। और इस दिशा में हम सबके प्रयास अभी भी जारी हैं। हमें भविष्य में कोविंद जी जैसे अनेकों युवा चाहिए, जो परेशानियों से परास्त न हों, जो मुश्किलों के सामने मायूस न हों, बल्कि अपनी मेहनत से हर मंजिल को आसान बनाने का हौसला रखें। इसी बदलाव से सशक्त भारत के निर्माण का संकल्प पूरा होगा। यहीं से आत्मनिर्भर और विकसित भारत का रास्ता बनेगा।

साथियों,

ऐसे युवाशक्ति के निर्माण के लिए जो प्रेरणा चाहिए, कोविंद जी की ऑटोबायोग्राफ़ी उसका अहम स्रोत बन सकती है।

साथियों,

कोविंद जी ने अपनी जीवनी में मोरारजी भाई देसाई के साथ अनुभवों के बारे में भी इसमें विस्तार से बताया है। कोविंद जी के भीतर देशसेवा की जो भावना थी, मोरारजी भाई के साथ काम करके उन्हें जो सीखने को मिला, जो रास्ता मिला। कोविंद जी ने राजनीति और समाजसेवा को अपना मार्ग बनाया। वो अपने कर्तव्यों के लिए समर्पित रहे। सेवा को उन्होंने अपना लक्ष्य बनाकर काम किया। संसद में उनका कार्यकाल गवाह है। राज्यपाल के रूप में भी उन्होंने एक उदाहरण प्रस्तुत किया। राष्ट्रपति के रूप में भी हमें उनकी यही कर्तव्यनिष्ठा दिखाई देती रही। यहाँ तक कि राष्ट्रपति जैसे सर्वोच्च पद से सेवामुक्त होने के बाद भी उन्होंने विश्राम नहीं लिया है। वो अभी भी ‘एक देश, एक चुनाव’ One Nation, One Election जैसे महत्वपूर्ण विषय पर काम कर रहे हैं। देश को जगा रहे हैं। ये एक ऐसा विषय है, जिसका समाधान देश के लोकतंत्र का नया अध्याय शुरू कर सकता है। मैं मानता हूँ, कोविंद जी की इस कर्तव्यनिष्ठा और सेवाभाव से देश के लोग बहुत कुछ सीख सकते हैं।

साथियों,

सामाजिक जीवन में सक्रिय रहते हुये ऑटोबायोग्राफ़ी के लिए समय निकाल पाना बहुत मुश्किल होता है। कोविंद जी ने ये काम हम सबके लिए किया है, क्योंकि उनके जीवन में ऐसा कितना कुछ है, जिसमें गरीब वंचित तबके से आए तमाम लोग अपने जीवन की परछाई देख सकते हैं। कैसे एक साधारण परिवार मुश्किल हालातों में भी जीवन की शुचिता और ईमानदारी से समझौता नहीं करता, कैसे वही आदर्श आगे चलकर हमारे जीवन का आधार बनते हैं, हमारे कठिन समय के मूल्य किस तरह जीवनभर हमें रोशनी देते हैं, कैसे इस पवित्रता से हमें राष्ट्र सेवा की शक्ति मिलती है। अलग-अलग पदों का दायित्व निभाते हुए, कोविंद जी ने समाज को निरंतर इसकी प्रेरणा दी है।

साथियों,

मुझे विश्वास है, कोविंद जी की ऑटोबायोग्राफ़ी, इसमें उनके जीवन की ही नहीं, बल्कि हमारे लोकतंत्र की भी अहम स्मृतियाँ सुरक्षित होंगी। मैं एक बार फिर उन्हें उनकी आत्मकथा के लिए शुभकामनाएं देता हूं। और मैं खास करके युवा पीढ़ी से आग्रह करूंगा, रील का जमाना है, सोशल मीडिया में इनफ्लुएंसर आपको खींच के कहीं-कहीं ले जाते हैं। इस शॉर्टकट के युग में भी एक बात हम जरूर याद रखें, रेलवे स्टेशन पर लिखा हुआ होता है, कुछ लोगों को पटरी पर कूद कर के जाने की आदत होती है, ब्रिज पर नहीं जाते। तो वहां लिखा होता है, शॉर्टकट विल कट यू शॉर्ट। और अगर शॉर्टकट के रास्ते से भी कहीं बाहर निकलना है, तो मैं नौजवानों को कहूंगा आपको जिसका भी पसंद हो ऑटोबायोग्राफी जरूर पढ़ें। ऑटोबायोग्राफी उस कालखंड की इतिहास की घटनाओं को अलग तरीके से समझने का अवसर देती है। इतिहास से काफी निकट होता है वो कालखंड बायोग्राफी का और इसलिए मैं जरूर चाहूंगा कि कोविंद जी की जो मेहनत है, वो आने वाली पीढ़ियों को काम आए, युवा पीढ़ी को विशेष रूप से काम आए। बहुत-बहुत शुभकामनाएं। बहुत-बहुत धन्यवाद।