Maharaja Suheldev’s contribution to protect Indianness was ignored: PM Modi

Published By : Admin | February 16, 2021 | 11:24 IST
ভারতীয়ত্ব রক্ষায় মহারাজা সুহেলদেবের অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
ইতিহাস লেখকদের দ্বারা ইতিহাস প্রণেতাদের প্রতি অবিচারকে এখন সংশোধন করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
এই বসন্ত অতিমারি জনিত হতাশাকে পিছনে ফেলে ভারতের জন্য নতুন আশা নিয়ে এসেছে : প্রধানমন্ত্রী
কৃষি আইন নিয়ে লাগাতার মিথ্যা ও অপপ্রচার ক্রমেই প্রকাশ পাবে: প্রধানমন্ত্রী

নমস্কার!

 

উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল শ্রীমতী আনন্দিবেন প্যাটেলজি, রাজ্যের জনপ্রিয় এবং যশস্বী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথজি, উত্তরপ্রদেশ সরকারর অন্যান্য মন্ত্রীগণ, সাংসদ ও বিধায়কগণ, আর আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা!

 

নিজের পরাক্রম দিয়ে মাতৃভূমির সম্মান বৃদ্ধিকারী দেশনায়ক মহারাজা সুহেলদেবের জন্মভূমি আর অসংখ্য ঋষি-মুনির তপভূমি, বাহারাইচের এই পবিত্র মাটিকে আমি সাদর প্রণাম জানাই। আপনাদের সবাইকে, গোটা দেশকে বসন্ত পঞ্চমীর অনেক অনেক শুভকামনা। মা সরস্বতী ভারতকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে আরও সমৃদ্ধ করুন। আজকের দিনটির বিদ্যারম্ভ এবং অক্ষর জ্ঞানের জন্য অনেক শুভ দিন মানা হয়। আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে –

 

সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।

বিদ্যারূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহী নমহস্তুতে।।

অর্থাৎ, হে মহা ভাগ্যবতী, জ্ঞানরূপা, পদ্মের মতো বিশাল নয়না, জ্ঞানদাত্রী সরস্বতী, আমাকে বিদ্যা দিন, আমি আপনাকে প্রণাম জানাই। ভারতের যত মানুষ মানবতার সেবার জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনে ব্যস্ত আছেন, দেশ নির্মাণের কাজে আত্মোৎসর্গ করেছেন আর যত ছাত্রছাত্রী ও প্রত্যেক দেশবাসী যেন মা সরস্বতীর আশীর্বাদ পান, সাফল্য পান, এটাই আমাদের সকলের প্রার্থনা।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

রামচরিত মানসে গোস্বামী তুলসীদাসজি বলেছেন, “ঋতু বসন্ত বহ ত্রিবিধ বয়ারী” অর্থাৎ, বসন্ত ঋতুতে শীতল মৃদু-মন্দ সুরভী, এরকম তিন ধরনের বাতাস বইছে, এই বাতাস আবহাওয়ায় সমস্ত ফসলের খেত এবং বাগিচা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি অংশ আনন্দিত হয়ে উঠছে। সত্যিই আমরা যেদিকে তাকাই ফুলের বাহার দেখতে পাই, প্রতিটি জীব বসন্ত ঋতুকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায়। এই বসন্ত মহামারীর নিরাশাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া ভারতের জন্য নতুন আশা, নতুন উদ্দীপনা নিয়ে এসেছে। এই উল্লাসে আমাদের সংস্কৃতি, ভারতীয়ত্ব, আমাদের শিষ্টাচারের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মহানায়ক মহারাজা সুহেলদেবজির জন্মোৎসব আমাদের খুশিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বন্ধুগণ,

 

প্রায় দু’বছর আগে গাজিপুরে মহারাজা সুহেলদেবজির স্মৃতিতে একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। আজ বাহারাইচে তাঁর সুদৃশ্য স্মারকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সৌভাগ্য হল। এই আধুনিক এবং সুদৃশ্য স্মারক ঐতিহাসিক চিত্তৌরা সরোবরের উন্নয়ন, বাহারাইচের ওপর মহারাজা সুহেলদেবজির আশীর্বাদকে বাড়াবে, আগামী প্রজন্মকেও প্রেরণা জোগাবে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ মহারাজা সুহেলদেবজির নামে তৈরি মেডিকেল কলেজে একটি নতুন এবং সুদৃশ্য ভবন যুক্ত হয়েছে। বাহারাইচের মতো উন্নয়নের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী জেলায় স্বাস্থ্য পরিষেবা বৃদ্ধি, এখানকার জনগণকে জীবনকে সহজ করে তুলবে। এর দ্বারা পার্শ্ববর্তী শ্রাবস্তী, বলরামপুর, সিদ্ধার্থনগর এবং নেপাল থেকে আসা জনগণ উপকৃত হবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

ভারতের ইতিহাস শুধু তেমনই নয় যেমনটি ইতিহাসকারেরা দেশকে পরাধীন করা শাসকদের প্রভাবে দাসত্বের মানসিকতা নিয়ে লিখেছেন। ভারতের ইতিহাস সেটাও যা ভারতের সাধারণ মানুষ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মুখে মুখে সঞ্চারিত করেছেন যা ভারতের লোকগাথাগুলিতে পাওয়া যায়। আজ যখন ভারত তার স্বাধীনতার ৭৫তম বছরে প্রবেশ করছে, তখন এই ধরনের মহাপুরুষদের অবদান, তাঁদের ত্যাগ, তপস্যা, সংঘর্ষ, বীরত্ব, বলিদান – এই সবকিছুকে স্মরণ করা, তাঁদেরকে সাদর প্রণাম জানানো, তাঁদের থেকে প্রেরণা গ্রহণ করার জন্য এর থেকে বড় কোনও সুযোগ হতে পারে না। এটা দুর্ভাগ্য যে ভারত এবং ভারতীয়ত্ব রক্ষার যাঁরা জীবন সমর্পণ করেছেন, এমন অনেক নায়ক-নায়িকাকে সেই স্থান দেওয়া হয়নি যতটা দেওয়া উচিৎ ছিল। তথাকথিত ইতিহাস রচনাকাররা ইতিহাস রচনা করার নামে যে অন্যায় করেছেন, তা আজ ভারত শুধরাচ্ছে-ঠিক করছে। তাঁদের ভুলগুলি থেকে দেশকে মুক্ত করছে। আপনারা দেখুন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস, যিনি আজাদ হিন্দ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাঁর এই পরিচয় এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে কি সেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যতটা পাওয়া উচিৎ ছিল?

 

আজ লালকেল্লা থেকে শুরু করে আন্দামান-নিকোবর পর্যন্ত আমরা তাঁদের এই পরিচয়কে দেশ ও বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠা করেছি। ৫০০-রও বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারতে যোগদানের কঠিন কাজ যিনি করেছেন সেই সর্দার প্যাটেলজির সঙ্গে কি অবিচার করা হয়েছে তাও দেশের প্রতিটি শিশু ভালোভাবে জানে। আজ বিশ্বের বৃহত্তম মূর্তি স্ট্যাচু অফ ইউনিটি নির্মাণের মাধ্যমে সর্দার প্যাটেলজিকে আমরা সেই সম্মান দিয়েছি। এই মূর্তি এখন আমাদের প্রেরণা জোগাচ্ছে। দেশের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী বঞ্চিত, পীড়িত, শোষিত জনগণের আওয়াজকে তুলে ধরা বাবাসাহেব আম্বেদকরকেও নিছকই রাজনৈতিক চশমা দিয়ে দেখা হয়েছে। আজ আমরা ভারত থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড পর্যন্ত ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলিকে পঞ্চতীর্থ রূপে বিকশিত করছি।

বন্ধুগণ,

 

ভারতের এমন অনেক বীর সৈনিকের অবদানকে নানা কারণে সঠিক সম্মান দেওয়া হয়নি, তাঁদের পরিচয় তুলে ধরা হয়নি। চৌরিচৌরার বীরদেরকে যেভাবে অগ্রাহ্য করা হয়েছে তা কি আমরা ভুলতে পারি? মহারাজা সুহেলদেব এবং ভারতীয়ত্ব রক্ষাকারীদের প্রচেষ্টাকেও এভাবেই অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ইতিহাসের বইয়ে মহারাজ সুহেলদেবের শৌর্য, পরাক্রম, তাঁর বীরত্বের কাহিনী সেই স্থান না পেলেও আওধ এবং তরাই থেকে শুরু করে পূর্বাঞ্চলের লোকগাথায়, জনগণের হৃদয়ে তিনি অক্ষয় হয়ে রয়েছেন। শুধু বীরত্ব নয়, এক সংবেদনশীল এবং উন্নয়নবাদী শাসক রূপে তাঁর স্থান অক্ষয় হয়ে রয়েছে। নিজের শাসনকালে যেভাবে তিনি উন্নত সড়কপথ, সরোবর, পুকুর খনন, উদ্যান নির্মাণ এবং শিক্ষার প্রসারের কাজ করেছেন তা অভূতপূর্ব। তাঁর এই ভাবনার ছাপ এই স্মারকস্থলে প্রতিফলিত হবে।

 

বন্ধুগণ,

 

পর্যটকরা যাতে মহারাজ সুহেলদেবজির জীবন থেকে প্রেরণা নিতে পারেন সেজন্য এখানে তাঁর ৪০ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের মূর্তি স্থাপন করা হবে। এখানে নির্মীয়মান সংগ্রহালয়ে মহারাজা সুহেলদেবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক তথ্যাদি থাকবে। এর ভেতরের এবং চারপাশের সড়কগুলিকে প্রশস্ত করা হবে। শিশুদের জন্য পার্ক তৈরি হবে। পর্যটকদের জন্য থাকার জায়গা, সভাঘর, পার্কিং, ক্যাফেটেরিয়া – এরকম অনেক পরিষেবা গড়ে উঠবে। এর পাশাপাশি, স্থানীয় শিল্পী ও হস্তশিল্পীরা যাতে সহজে এখানে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারেন সেজন্য দোকান তৈরি করা হবে। এভাবে চিত্তৌরা সরোবরের ঘাট ও সিঁড়ি নির্মাণের এবং সৌন্দর্যায়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক সরোবরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। এই সমস্ত প্রচেষ্টা শুধু যে বাহারাইচের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তাই নয়, এখানে পর্যটকদের সংখ্যাও বাড়াবে। ‘মরী মাইয়া’-এর কৃপায় এই কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

বিগত কয়েক বছর ধরে সারা দেশে ইতিহাস, আস্থা, আধ্যাত্ম এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত যতগুলি স্মারক নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলির অনেক বড় লক্ষ্য পর্যটনকে উৎসাহ জোগানো। উত্তরপ্রদেশ তো পর্যটন এবং তীর্থ – উভয় ক্ষেত্রেই সমৃদ্ধ আর তার ক্ষমতাও অসীম। ভগবান রামের জন্মস্থান থেকে শুরু করে কৃষ্ণের বৃন্দাবন, ভগবান বুদ্ধের সারনাথ কিংবা কাশী বিশ্বনাথ, সন্ত কবীরের মগহরধাম থেকে শুরু করে বারাণসীতে সন্ত রবিদাসের জন্মস্থলের আধুনিকীকরণ, গোটা রাজ্যে বড় স্তরে কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলি উন্নয়নের জন্য ভগবান রাম, কৃষ্ণ এবং ভগবান বুদ্ধের জীবন সম্পর্কিত অঞ্চলগুলি যেমন অযোধ্যা, চিত্রকূট, মথুরা, বৃন্দাবন, গোবরধন, কুশীনগর, শ্রাবস্তী ইত্যাদি তীর্থস্থানগুলিকে যথাক্রমে রামায়ণ সার্কিট, আধ্যাত্মিক সার্কিট এবং বৌদ্ধ সার্কিটের উন্নয়ন করা হচ্ছে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

বিগত কয়েক বছরে যত চেষ্টা করা হয়েছে সেগুলির প্রভাবও পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। যে রাজ্যে অন্য সমস্ত রাজ্য থেকে বেশি পর্যটক আসেন, সেই রাজ্যের নাম উত্তরপ্রদেশ। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষিত করার ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ দেশের সেরা তিনটি রাজ্যের মধ্যে পরিগণিত হতে শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলির পাশাপাশি আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অযোধ্যার বিমানবন্দর এবং কুশীনগরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশী-বিদেশি পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক হয়ে উঠবে। উত্তরপ্রদেশে ছোট-বড় প্রায় এক ডজন বিমানবন্দর গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি এই পূর্বাঞ্চলেই তৈরি হচ্ছে। ‘উড়ান’ যোজনার মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের অনেক শহরকে সুলভ বিমান পরিষেবায় যুক্ত করার অভিযান চলছে।

 

তাছাড়া, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখন্ড এক্সপ্রেসওয়ে, গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, গোরক্ষপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে, বালিয়া লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ে-এর মতো আধুনিক এবং প্রশস্ত সড়কপথ সমগ্র উত্তরপ্রদেশে তৈরি করা হচ্ছে। আর এটা তো এক প্রকার আধুনিক উত্তরপ্রদেশের আধুনিক পরিকাঠামোর সূত্রপাত। বিমান এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়াও উত্তরপ্রদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অত্যাধুনিক হয়ে উঠছে। উত্তরপ্রদেশে দুটি বড় ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের জংশন রয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশেই ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের একটি বড় অংশের উদ্বোধন করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে যেভাবে আজ আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে তাতে উত্তরপ্রদেশে শিল্প স্থাপনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিশ্বের অনেক বিনিয়োগকারী উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন। এর ফলে এখানে নতুন শিল্পোদ্যোগের জন্য যেমন উন্নত সুযোগ গড়ে উঠছে, তেমনই এই অঞ্চলের নবীন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ গড়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

করোনার সঙ্কটকালে যেভাবে উত্তরপ্রদেশে কাজ হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কল্পনা করুন, উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি বিগড়ালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কী ধরনের সমালোচনা হত। কিন্তু যোগীজির এই সরকার, যোগীজির নেতৃত্বাধীন গোটা টিম এত ভালোভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে দেখিয়েছে যে উত্তরপ্রদেশ শুধু অধিকাংশ মানুষের জীবন বাঁচাতে সফল হয়ে থামেনি, বাইরে থেকে ফিরে আসা শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

করোনার বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের লড়াইয়ে বিগত ৩-৪ বছরে করা কাজগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। পূর্বাঞ্চলকে দশকের পর দশক ধরে সঙ্কটগ্রস্ত করে রাখা ‘মস্তিষ্কের জ্বর’-এর প্রভাবও উত্তরপ্রদেশ কম করতে পেরেছে। উত্তরপ্রদেশে ২০১৪ পর্যন্ত ১৪টি মেডিকেল কলেজ ছিল যা এখন বৃদ্ধি পেয়ে ২৪টি হয়েছে। পাশাপাশি, গোরক্ষপুর ও বেরিলিতে এইমস গড়ে তোলার কাজ চলছে। তাছাড়া, ২২টি নতুন মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হচ্ছে। বারাণসীতে গড়ে ওঠা আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতালের পরিষেবা এখন গোটা পূর্বাঞ্চলকে উপকৃত করছে। উত্তরপ্রদেশে জল জীবন মিশন অর্থাৎ, প্রত্যেক বাড়িতে নলের মাধ্যমে জল পৌঁছনোর অভিযানও প্রশংসনীয় সাফল্য পাচ্ছে। যখন পরিশ্রুত পানীয় জল প্রত্যেকের বাড়িতে পৌঁছবে, তখন এ রাজ্যে অসুখ-বিসুখ এমনিতেই আরও কমে যাবে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

উত্তরপ্রদেশের এই উন্নয়ন যাত্রায় বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, সড়ক ও স্বাস্থ্য পরিষেবার দ্বারা সরাসরি গ্রাম, গরীব এবং কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে, যে ছোট কৃষকদের কম জমি রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পগুলির দ্বারা বেশি উপকৃত হচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশে এমন প্রায় ২.৫ কোটি কৃষক পরিবারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পিএম কিষাণ সম্মান নিধির মাধ্যমে সরাসরি টাকা জমা করা হয়েছে। এঁরা সেই কৃষক পরিবার যাঁরা কখনও বিদ্যুতের বিল কিংবা সারের বস্তা কেনার জন্য অন্যদের থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হতেন। এ ধরনের ছোট কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আমাদের সরকার সরাসরি ২৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি জমা করেছে। এখানকার কৃষকদের বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হত, সারা রাত বোরিং-এর জলের জন্য জাগতে হত, অপেক্ষা করতে হত যে তাঁদের নম্বর কখন আসবে, এ ধরনের সমস্ত সমস্যা এখন বিদ্যুৎ সঠিক হওয়ার কারণে দূরীভূত হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাষের জন্য জমি ক্রমশঃ ছোট হচ্ছে। সেজন্য দেশে কিষাণ উৎপাদক সঙ্ঘ গড়ে তোলার অনেক প্রয়োজন রয়েছে। আজ সরকার ছোট কৃষকদের জন্য কয়েক হাজার কিষাণ উৎপাদক সঙ্ঘ বা এফপিও তৈরি করছে। এক-দুই বিঘা জমির মালিক ৫০০টি কৃষক পরিবার যখন সংগঠিত হয়ে বাজারে নামবে তখন তাঁরা ৫০০-১,০০০ বিঘা জমির মালিক কৃষকদের থেকেও বেশি শক্তিশালী হবেন। এভাবে কিষাণ রেলের মাধ্যমে সব্জি, ফল, দুধ, মাছ এবং এ ধরনের অনেক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছোট কৃষকরা এখন বড় বড় বাজারগুলির সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। যে নতুন কৃষি সংস্কার করা হয়েছে তার দ্বারা ছোট এবং প্রান্তিক কৃষকরা সবচাইতে বেশি লাভবান হবেন। উত্তরপ্রদেশে এই নতুন আইন তৈরির পর নানা জায়গা থেকে কৃষকদের ভালো অভিজ্ঞতার কথা শোনা যাচ্ছে। এই কৃষি আইনগুলি নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। এটা গোটা দেশ দেখছে যে যাঁরা দেশের কৃষি বাজারে বিদেশি কোম্পানিগুলিকে ডাকার জন্য আইন বানিয়েছেন, তাঁরাই আজ দেশি কোম্পানির নামে কৃষকদের ভয় দেখাচ্ছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

রাজনীতির জন্য মিথ্যা এবং অপপ্রচারের এই ষড়যন্ত্র এখন সবাই বুঝতে পারছেন। নতুন আইন চালু হওয়া সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশে এবার গত বছরের তুলনায় কৃষকদের থেকে দ্বিগুণ ধান কেনা হয়েছে।

 

এবার প্রায় ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উত্তরপ্রদেশ থেকে কেনা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শুধু তাই নয়, যোগীজির সরকার আখ চাষীদের কাছ থেকেও গত বছরের তুলনায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি আখ কিনেছে। করোনাকালেও যাতে আখ চাষীদের কোনও অসুবিধা না হয় সেজন্য যথাসম্ভব সাহায্য করা হয়েছে। চিনি কারখানাগুলি যাতে কৃষকদের প্রাপ্য টাকা ঠিকমতো মেটায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারকে ১,০০০ কোটি টাকা দিয়েছে। আখ চাষীরা যাতে যথাসময়ে নিজেদের প্রাপ্য টাকা পেতে পারেন, সেজন্য যোগীজির সরকারের প্রচেষ্টা এখনও চালু রয়েছে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

সকলের এই সমস্ত প্রচেষ্টা গ্রাম এবং কৃষকদের জীবনকে উন্নততর করে তুলছে। কৃষক ও গ্রামে বসবাসকারী গরীবরা যাতে সমস্যায় না পড়েন, তাঁদের বাড়ি যাতে অবৈধভাবে দখল না হয়ে যায় সেই আশঙ্কা থেকে মুক্তি দিতে তাঁদের জন্য ‘স্বামীত্ব’ যোজনা আজ গোটা উত্তরপ্রদেশে সাফল্যের মুখ দেখছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আজকাল উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৫০টি জেলায় ড্রোনের মাধ্যমে জরিপের কাজ চলছে। প্রায় ১২ হাজার গ্রামে ড্রোন জরিপের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে আর ইতিমধ্যেই ২ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে ‘প্রপার্টি কার্ড’ বা পাট্টা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই পরিবারগুলি এখন সমস্ত ধরনের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ গ্রামের গরীব ও কৃষকরা দেখতে পাচ্ছেন তাঁদের ছোট বাড়িটিকে বাঁচানোর জন্য, তাঁদের জমি বাঁচানোর জন্য প্রথমবার সরকার এতবড় প্রকল্প চালু করেছে। এতবড় রক্ষাকবচ প্রত্যেক গরীব, প্রত্যেক কৃষককে ও প্রত্যেক গ্রামবাসীকে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য যখনই কোনও কৃষি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের জমি ছিনিয়ে নেওয়ার গুজব রটানো হয়, তখন কি কেউ এই গুজবকে বিশ্বাস করতে পারে? আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সামর্থ্যবান করে তোলা। আমাদের সঙ্কল্প দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলা। এই সঙ্কল্পকে সিদ্ধিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা সমর্পণভাব নিয়ে কাজ করতে থাকব। আমি রামচরিত মানসের একটি চৌপাই উচ্চারণ করে আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করব :

 

“প্রবিসি নগর কীজে সব কাজা।

হৃদয়ঁ রাখি কোসলপুর রাজা।।”

অর্থাৎ, হৃদয়ে ভগবান রামের নাম ধারণ করে আমরা যে কাজই করি না কেন তাতে সাফল্য সুনিশ্চিত।

 

আরেকবার মহারাজা সুহেলদেবজিকে প্রণাম জানিয়ে আপনাদের সবাইকে এই নতুন পরিষেবাগুলির জন্য অনেক অনেক শুভকামনা জানিয়ে যোগীজি এবং তাঁর গোটা টিমকে অভিনন্দন জানিয়ে অনেক অনেক ধন্যবাদ!!

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Engineering goods exports up 10.4% in January,2026, crosses $100 billion mark in April-January Period of FY26

Media Coverage

Engineering goods exports up 10.4% in January,2026, crosses $100 billion mark in April-January Period of FY26
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s address at the News18 Rising Bharat Summit
February 27, 2026

इजराइल की हवा यहाँ भी पहुँच गई है।

नमस्कार!

नेटवर्क 18 के सभी पत्रकार, इस व्यवस्था को देखने वाले सभी साथी, यहां उपस्थित सभी महानुभाव, देवियों और सज्जनों!

आप सभी राइजिंग भारत की चर्चा कर रहे हैं। और इसमें strength within पर आपका जोर है, यानी साधारण शब्दों में कहूं, तो देश के अपने खुद के सामर्थ्य पर आपका फोकस है। और हमारे यहां तो शास्त्रों में कहा गया है - तत् त्वम असि! यानी जिस ब्रह्म की खोज मे हम निकले हैं, वो हम ही हैं, वो हमारे भीतर ही है। जो सामर्थ्य हमारे भीतर है उसे हमें पहचानना है। बीते 11 वर्षों में भारत ने अपना वही सामर्थ्य पहचाना है, और इस सामर्थ्य को सशक्त करने के लिए आज देश निरंतर प्रयास कर रहा है।

साथियों,

सामर्थ्य किसी देश में अचानक पैदा नहीं होता, सामर्थ्य पीढ़ियों में बनता है। वो ज्ञान से, परंपरा से, परिश्रम से और अनुभव से निखरता है, लेकिन इतिहास के एक लंबे कालखंड में, गुलामी की इतनी शताब्दियों में, हमारे सामर्थ्यवान होने की भावना को ही हीनता से भर दिया गया था। दूसरे देशों से आयातित विचारधारा ने समाज में कूट-कूट कर ये भर दिया था, कि हम अशिक्षित हैं और अनुगामी यानी, फॉलोअर हैं, हमारे यहां ये भी कहा गया है – यादृशी भावना यस्य, सिद्धिर्भवति तादृशी। यानी जैसी जिसकी भावना होती है, उसे वैसी ही सिद्धि प्राप्त होती है। जब भावना में ही हीनता थी, तो सिद्धि भी वैसी ही मिल रही है। हम विदेशी तकनीक की नकल करते थे, विदेशी मुहर का इंतजार करते थे, ये वो गुलामी थी जो राजनीतिक और भौगोलिक से ज्यादा मानसिक गुलामी थी। दुर्भाग्य से आजादी के बाद भी, भारत गुलामी की मानसिकता से बाहर नहीं निकल पाया। और इसका नुकसान हम आज तक उठा रहे हैं। इसका ताजा उदाहरण, हम ट्रेड डील्स में हो रही चर्चा में देख रहे हैं। कुछ लोग चौंक गए हैं कि अरे ये क्या हो गया, कैसे हो गया, विकसित देश भारत से ट्रेड डील्स करने में इतने उत्सुक क्यों हैं। इसका उत्तर है हताशा, निराशा से बाहर निकल रहा आत्मविश्वासी भारत। अगर देश आज भी 2014 से पहले वाली निराशा में होता, फ्रेजाइल फाइव में गिना जाता, पॉलिसी पैरालिसिस से घिरा होता, अगर ये हाल होते तो कौन हमारे साथ ट्रेड डील्स करता, अरे हमारी तरफ देखता भी नहीं।

लेकिन साथियों,

बीते 11 वर्षों में देश की चेतना में नई ऊर्जा का प्रवाह हुआ है। भारत अब अपने खोये हुए सामर्थ्य को वापस पाने का प्रयास कर रहा है। एक समय में जब भारत का वैश्विक अर्थव्यवस्था में सबसे ज्यादा दबदबा था, तो हमारा क्या सामर्थ्य था? भारत की मैन्युफैक्चरिंग, भारत के प्रोडक्टस की क्वालिटी, भारत की अर्थ नीति, अब आज का भारत फिर से इन बातों पर फोकस कर रहा है। इसलिए हमने मैन्युफैक्चरिंग पर काम किया, हमने मेक इन इंडिया पर बल दिया, हमने अपनी बैंकिंग सिस्टम को सशक्त किया, महंगाई जो डबल डिजिट की दर से भाग रही थी, उसका कंट्रोल किया और भारत को दुनिया का ग्रोथ इंजन बनाया। भारत का यही सामर्थ्य है कि दुनिया के विकसित देश सामने से भारत के साथ ट्रेड डील करने के लिए खुद आगे आ रहे हैं।

साथियों,

जब किसी राष्ट्र के भीतर, छिपी हुई उसकी शक्ति जागती है, तो वह नई उपलब्धियां हासिल करता है। मैं आपको कुछ और उदाहरण देता हूं। जैसे मैं जब कभी दूसरी देशों के हेड ऑफ द गर्वमेंट से मिलता हूं, तो वो जनधन, आधार और मोबाइल की इतनी शक्ति के बारे में सुनने के लिए बहुत उत्सुक होते हैं। जिस भारत में एटीएम भी, दुनिया की विकसित देशों की तुलना में काफी समय बाद आया, उस भारत ने डिजिटल पेमेंट सिस्टम में ग्लोबल लीडरशिप कैसे हासिल कर ली? जहां पर सरकारी मदद की लीकेज को कड़वा सच मान लिया गया था, वो भारत डीबीटी के जरिये 24 लाख करोड़ रूपये, यानी Twenty four trillion रुपीज कैसे लाभार्थियों को भेज पा रहा है? भारत का डिजिटल पब्लिक इंफ्रास्ट्रक्चर, आज पूरे विश्व के लिए चर्चा का विषय बन चुका है।

साथियों,

दुनिया हैरान होती है, कि जिस भारत में 2014 तक, करीब तीन करोड़ परिवार अंधेरे में थे, वो आज सोलर पावर कैपेसिटी में दुनिया के टॉप के देशों में कैसे आ गया? जिस भारत के शहरों में पब्लिक ट्रांसपोर्ट सुधरने की कोई उम्मीद ना थी, वो भारत आज दुनिया का तीसरा बड़ा मेट्रो नेटवर्क वाला देश कैसे बन गया? जिस भारत के रेलवे की पहचान सिर्फ लेट-लतीफी और धीमी-रफ्तार से होती थी, वहां वंदे भारत, नमो भारत, ऐसी सेमी-हाईस्पीड कनेक्टिविटी कैसे संभव हो पा रही है?

साथियों,

एक समय था, जब भारत नई टेक्नोलॉजी का सिर्फ और सिर्फ कंज्यूमर था। आज भारत नई टेक्नोलॉजी का निर्माता भी है और नए मानक भी स्थापित कर रहा है। और ऐसा इसलिए हुआ है क्योंकि हमने अपने सामर्थ्य को पहचाना है, जिस Strength Within की आप चर्चा कर रहे हैं, ये उसका ही उदाहरण है।

साथियों,

जब हम गर्व से आगे बढ़ते हैं, तो दुनिया हमें जिस नजर से देखती रही है, वो नजर भी बदली है। आप याद कीजिए, कुछ साल पहले तक दुनिया में, ग्लोबल मीडिया में, भारत के किसी इवेंट की कितनी कम चर्चा होती थी। भारत में होने वाले इवेंट्स को उतनी तवज्जो ही नहीं दी जाती थी। और आज देखिए, भारत जो करता है, जो एक्शन यहां होते हैं, उसका वैश्विक विश्लेषण होता है। AI समिट का उदाहरण आपके सामने है, इसी भवन में हुआ है। AI समिट में 100 से ज्यादा देश शामिल हुए, ग्लोबल नॉर्थ हो या फिर ग्लोबल साउथ, सभी एक साथ, एक ही जगह, एक टेबल पर बैठे। दुनिया के बड़े-बड़े कॉर्पोरेशन्स हों या फिर छोटे-छोटे स्टार्ट अप्स, सभी एक साथ जुटे।

साथियों,

अब तक जितनी भी औद्योगिक क्रांतियां आई हैं, उनमें भारत और पूरा ग्लोबल साउथ सिर्फ फॉलोअर रहा है। लेकिन आर्टिफिशियल इंटेलीजेंस के इस युग में, भारत निर्णयों में सहभागी भी है और उन्हें शेप भी कर रहा है। आज हमारे पास खुद का AI स्टार्टअप इकोसिस्टम है, डेटा-सेंटर में निवेश करने की ताकत है और AI डेटा को स्टोर करने के लिए, प्रोसेस करने के लिए, जिस पावर की सबसे ज्यादा ज़रूरत है, उस पर भी भारत तेजी से काम कर रहा है। हमने न्यूक्लियर पावर सेक्टर में जो Reform किया है, वो भी भारत के AI इकोसिस्टम को मजबूती देने में मदद करेगा।

साथियों,

AI समिट का आयोजन पूरे भारत के लिए गौरव का पल था। लेकिन दुर्भाग्य से देश की सबसे पुरानी पार्टी ने, देश के इस उत्सव को मैला करने का प्रयास किया। विदेशी अतिथियों के सामने कांग्रेस ने सिर्फ कपड़े नहीं उतारे, बल्कि इसने कांग्रेस के वैचारिक दिवालिएपन को भी expose कर दिया है। जब नाकामी की निराशा-हताशा मन में हो, और अहंकार सिर चढ़कर बोलता हो, तब देश को बदनाम करने की ऐसी सोच सामने आती है। ज़ाहिर है, कांग्रेस की इस हरकत से देश में गुस्सा है। इसलिए, इन्होंने अपने पाप को सही ठहराने के लिए महात्मा गांधी जी को आगे कर दिया। कांग्रेस हर बार ऐसा ही करती है। जब अपने पाप को छुपाना हो तो कांग्रेस बापू को आगे कर देती है, और जब अपना गौरवगान करना हो, तो एक ही परिवार को सारा क्रेडिट देती है।

साथियों,

कांग्रेस अब विचारधारा के नाम पर केवल विरोध की टूलकिट बनकर रह गई है। और ये अंध-विरोध की मानसिकता इतनी बढ़ गई है, कि ये देश को हर मंच, हर प्लेटफॉर्म पर नीचा दिखाने से नहीं चूकते। देश कुछ भी अच्छा करे, देश के लिए कुछ भी शुभ हो रहा हो, कांग्रेस को विरोध ही करना है।

साथियों,

मेरे पास एक लंबी सूची है, देश की संसद की नई इमारत बनी, उसका विरोध। संसद के ऊपर अशोक स्तंभ के शेरों का विरोध। अब जिनके बब्बर शेर सामान्य नागरिकों के जूते खाकर के भाग रहे थे, उनके संसद भवन के शेर के दांत देखकर के डर लग गया उनको। कर्तव्य भवन बना, उसका भी विरोध। सेनाओं ने सर्जिकल स्ट्राइक की, उसका भी विरोध। बालाकोट में एयर स्ट्राइक हुई, उसका भी विरोध। ऑपरेशन सिंदूर हुआ, उसका भी विरोध। यानी देश की हर उपलब्धि पर कांग्रेस के टूलकिट से एक ही चीज निकलती है- विरोध।

साथियों,

देश ने आर्टिकल 370 की दीवार गिराई, देश खुश हुआ। लेकिन कांग्रेस ने विरोध किया। हमने CAA का कानून बनाया- उसका विरोध। हम महिला आरक्षण कानून लाए- उसका विरोध। तीन तलाक के विरुद्ध कानून लाए- उसका विरोध। हम UPI लेकर आए, उसका विरोध। स्वच्छ भारत अभियान लेकर आए, उसका विरोध। देश ने कोरोना वैक्सीन बनाई, तो उसका भी विरोध।

साथियों,

लोकतंत्र में विपक्ष का मतलब सिर्फ अंध-विरोध नहीं होता, डेमोक्रेसी में विपक्ष का मतलब वैकल्पिक विजन होता है। इसलिए देश की प्रबुद्ध जनता, कांग्रेस को सबक सिखा रही है, आज से नहीं, बीते चार दशकों से लगातार ये काम देश की जनता कर रही है। मैं जो कहने जा रहा हूं, मीडिया के साथी उसका भी ज़रा एनालिसिस करिएगा। आपको पता लगेगा कि कांग्रेस के वोट चोरी नहीं हो रहे, बल्कि देश के लोग अब कांग्रेस को वोट देने लायक ही नहीं मानते। और इसकी शुरुआत 1984 के बाद ही होनी शुरू हो गई थी। 1984 में कांग्रेस को 39 परसेंट वोट मिले थे, और 400 से अधिक सीटें मिली थीं। इसके बाद हुए चुनावों में कांग्रेस के वोट कम ही होते चले गए। और आज कांग्रेस की हालत ये है कि, देश में सिर्फ, सिर्फ चार राज्य ऐसे बचे हैं, जहां कांग्रेस के पास 50 से ज्यादा विधायक हैं। बीते 40 वर्षों में युवा वोटर्स की संख्या बढ़ती गई और कांग्रेस साफ होती गई। कांग्रेस, परिवार की गुलामी में डूबे लोगों का एक क्लब बनकर रह गई है। इसलिए पहले मिलेनियल्स ने कांग्रेस को सबक सिखाया, और अब जेन जी भी तैयार बैठी है।

साथियों,

कांग्रेस और उसके साथियों की सोच इतनी छोटी है, कि उन्होंने दूरदृष्टि से काम करने को भी गुनाह बना दिया है। आज जब हम विकसित भारत 2047 की बात करते हैं, तो कुछ लोग पूछते हैं— “इतनी दूर की बात अभी क्यों कर रहे हो?” कुछ लोग ये भी कहते हैं कि तब तक मोदी जिंदा थोड़ी रहेगा, सच्चाई यह है कि राष्ट्र निर्माण कभी भी तात्कालिक सोच से नहीं होता। वो एक बड़े विजन, धैर्य और समय पर लिए गए निर्णयों से होता है। मैं कुछ और तथ्य नेटवर्क 18 के दर्शकों के सामने रखना चाहता हूं। भारत हर साल विदेशी समुद्री जहाजों से मालढुलाई पर 6 लाख करोड़ रुपये से अधिक खर्च करता है किराए पर। फर्टिलाइजर के आयात पर हर साल सवा दो लाख करोड़ रुपये खर्च होते हैं। पेट्रोलियम आयात पर हर साल 11 लाख करोड़ रुपये खर्च होते हैं। यानी हर वर्ष लाखों करोड़ रुपये देश से बाहर जा रहे हैं। अगर यही निवेश 20–25 वर्ष पहले आत्मनिर्भरता की दिशा में किया गया होता, तो आज ये पूंजी भारत के इंफ्रास्ट्रचर, रिसर्च, इंडस्ट्री, किसान और युवाओं की क्षमताओं को मजबूत कर रही होती। आज हमारी सरकार इसी सोच के साथ काम कर रही है। विदेशी जहाजों को 6 लाख करोड़ रुपए ना देना पड़े इसलिए भारतीय शिपिंग और पोर्ट इंफ्रास्ट्रक्चर को मजबूत किया जा रहा है। फर्टिलाइजर का domestic प्रोडक्शन बढ़ाने के लिए नए प्लांट लग रहे हैं, नैनो-यूरिया को बढ़ावा दिया जा रहा है। पेट्रोलियम पर निर्भरता कम करने के लिए एथेनॉल ब्लेंडिंग, ग्रीन हाइड्रोजन मिशन, सोलर और इलेक्ट्रिक मोबिलिटी को प्राथमिकता दी जा रही है।

और साथियों,

हमें भविष्य की ओर देखते हुए भी आज ही निर्णय लेने हैं। इसलिए आज भारत में सेमीकंडक्टर इकोसिस्टम का निर्माण हो रहा है। रक्षा उत्पादन में, मोबाइल मैन्युफैक्चरिंग में, ड्रोन टेक्नोलॉजी में, क्रिटिकल मिनरल्स सेक्टर में, और उसमें निवेश, आने वाले दशकों की आर्थिक सुरक्षा की नींव है। 2047 का लक्ष्य कोई राजनीतिक नारा नहीं है। यह उस ऐतिहासिक भूल को सुधारने का संकल्प भी है, जहाँ कांग्रेस की सरकारों के समय कई क्षेत्रों में समय रहते निवेश नहीं किया। आज अगर हम ख़ुद स्वदेशी जहाज, स्वदेशी शिप्स बनाएँगे, ख़ुद एनर्जी का प्रोडक्शन करेंगे, ख़ुद नई टेक्नोलॉजी डेवलप करेंगे, तो आने वाली पढ़ियाँ इम्पोर्ट के बोझ की नहीं, एक्सपोर्ट की क्षमता पर चर्चा करेंगी। राष्ट्र की प्रगति “आज की सुविधा” से नहीं, “कल की तैयारी” से तय होती है। और दूरदृष्टि से की गई मेहनत ही 2047 के आत्मनिर्भर, सशक्त और समृद्ध भारत की आधारशिला है। और इसके लिए कांग्रेस अपने कितने ही कपड़े फाड़ ले, हम निरंतर काम करते रहेंगे।

साथियों,

राष्ट्र निर्माण की, Nation Building की एक बहुत अहम शर्त होती है- नेक नीयत की। कांग्रेस और उसके साथी दल, इसमें भी फेल रहे हैं। कांग्रेस और उसके साथियों ने कभी नेक नीयत के साथ काम नहीं किया। गरीब का दुख, उसकी तकलीफ से भी इन्हें कोई वास्ता नहीं है। जैसे बंगाल में आज तक आयुष्मान भारत योजना लागू नहीं हुई। अगर नेक नीयत होती तो क्या गरीबों को 5 लाख रुपए तक मुफ्त इलाज देने वाली इस योजना को बंगाल में रोका जाता क्या? नहीं। आप भी जानते हैं कि देश में पीएम आवास योजना के तहत गरीबों के लिए पक्के घर बनवाए जा रहे हैं। नेटवर्क 18 के दर्शकों को मैं एक और आंकड़ा देता हूं। तमिलनाडु के गरीब परिवारों के लिए, करीब साढ़े नौ लाख पक्के घर एलोकेट किए गए हैं, साढ़े नौ लाख। लेकिन इनमें से तीन लाख घरों का निर्माण अटक गया है, क्यों, क्योंकि DMK सरकार गरीबों के इन घरों के निर्माण में दिलचस्पी नहीं दिखा रही। इसकी वजह क्या है? इसकी वजह है, नीयत नेक नहीं है।

साथियों,

मैं आपको एग्रीकल्चर सेक्टर का भी उदाहरण देता हूं। कांग्रेस के समय में खेती-किसानी को अपने हाल पर छोड़ दिया गया था। छोटे किसानों को कोई पूछता नहीं था, फसल बीमा का हाल बेहाल था, MSP पर स्वामीनाथन कमेटी की रिपोर्ट फाइलों में दबा दी गई थी, कांग्रेस बजट में घोषणाएं जरूर करती थी, लेकिन ज़मीन पर कुछ नहीं होता था, क्योंकि उसकी नीयत ही नहीं थी। हमने देश के किसानों के लिए नेक नीयत के साथ काम करना शुरू किया, और आज उसके परिणाम दुनिया देख रही है। आज भारत दुनिया के बड़े एग्रीकल्चर एक्सपोर्टर्स में से एक बन रहा है। हमने हर स्तर पर किसानों के लिए एक सुरक्षा कवच बनाया है। पीएम किसान सम्मान निधि के माध्यम से किसानों के खाते में चार लाख करोड़ रुपए से अधिक जमा किए गए हैं। हमने लागत का डेढ़ गुणा MSP तय किया और रिकॉर्ड खरीद भी की है। मैं आपको सिर्फ दाल का ही आंकड़ा देता हूं। UPA सरकार ने 10 साल में सिर्फ 6 लाख मीट्रिक टन दाल, किसानों से MSP पर खरीदी- 6 लाख मीट्रिक टन। और हमारी सरकार अभी तक, करीब 170 लाख मीट्रिक टन, यानी लगभग 30 गुणा अधिक दाल MSP पर खरीद चुकी है। अब आप तय करिये, कौन किसानों के लिए काम करता है।

साथियों,

यूपीए सरकार किसान क्रेडिट कार्ड के जरिए भी किसानों को मदद देने में कंजूसी करती थी। अपने 10 साल में यूपीए सरकार ने सात लाख करोड़ रुपए का कृषि ऋण किसानों को दिया। 7 lakh crore rupees. जबकि हमारी सरकार इससे चार गुणा अधिक यानी 28 लाख करोड़ रुपए दे चुकी है। यूपीए सरकार के दौरान जहां सिर्फ पांच करोड़ किसानों को इसका लाभ मिलता था, आज ये संख्या दोगुने से भी अधिक करीब-करीब 12 करोड़ किसानों को पहुंची है। यानी देश के छोटे किसान को भी पहली बार मदद मिली है। हमारी सरकार ने पीएम फसल बीमा योजना का सुरक्षा कवच भी किसानों को दिया। इसके तहत करीब 2 लाख करोड़ रुपए किसानों को संकट के समय मिल चुके हैं। हम नेक नीयत से काम कर रहे हैं, इसलिए भारत के किसानों का आत्मविश्वास बढ़ रहा है, उनकी प्रोडक्टिविटी बढ़ रही है, और आय में भी वृद्धि हो रही है।

साथियों,

21वीं सदी का एक चौथाई हिस्सा बीत चुका है। अब अगला चरण भारत के विकास का निर्णायक दौर है। वर्तमान में लिए गए निर्णय ही भविष्य की दिशा तय करेंगे। हमें अपने सामर्थ्य को पहचानते हुए, उसे बढ़ाते हुए आगे चलना है। हर व्यक्ति अपने क्षेत्र में श्रेष्ठता को लक्ष्य बनाए, हर संस्था excellence को अपना संस्कार बनाए, हम सिर्फ उत्पाद न बनाएं, best-quality product बनाएं, हम सिर्फ रुटीन काम न करें, world-class काम करें, हम क्षमता को performance में बदलें। मैंने लाल किले से कहा है- यही समय है, सही समय है। यही समय है, भारत को नई ऊँचाइयों पर ले जाने का। एक बार फिर आप सभी को बहुत-बहुत शुभकामनाएं, बहुत-बहुत धन्यवाद। नमस्कार।