২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি “বিশেষ আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব”-এ উন্নীত করেন এবং যৌথভাবে ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। তাঁরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সাইবার স্পেস, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, শিক্ষাগত সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বর্ধিত ও বৈচিত্র্যময় সহযোগিতার আহ্বান জানান।
হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ এবং দুই দেশের যৌথ উদ্ভাবন যাত্রার উপর ভিত্তি করে, ভারত ও ফ্রান্স উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং প্রযুক্তিগত ও শিল্প সার্বভৌমত্বের একটি কেন্দ্রীয় চালিকাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। উভয় পক্ষই একমত যে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব দুই দেশের পূর্ণ উদ্ভাবনী সম্ভাবনাকে উন্মোচন করতে এবং আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবদান রাখতে সাহায্য করবে।
উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে ভারতের ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর রূপকল্প এবং ফ্রান্সের ‘ফ্রান্স ২০৩০’-এর অধীনে থাকা উচ্চাকাঙ্ক্ষা একটি ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক উদ্ভাবন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য শক্তিশালী অভিন্নতা প্রদান করে। এটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। তাই ভারত ও ফ্রান্স ‘ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন রোডম্যাপ ২০৩০’-কে একটি কাঠামো হিসেবে গ্রহণ করছে, যা গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে যৌথ উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়া, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি পরিমন্ডলকে শক্তিশালী করা, পড়াশোনা ও গবেষণা গতিশীলতাকে গভীরতর করা এবং মানুষ, পৃথিবী ও যৌথ সমৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে তাদের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টাকে পথ দেখাবে।

এই রোডম্যাপটিতে নিম্নলিখিত মূল বিষয়গুলি রয়েছে:

১. ‘নির্ভরযোগ্য এআই’-এর জন্য অংশীদারিত্ব, যা উদ্ভাবনী অংশীদারিত্বের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক ভারত-ফ্রান্স ঘোষণাপত্র এবং যথাক্রমে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ফ্রান্স ও ভারতে আয়োজিত এআই অ্যাকশন অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট সামিটের উপর ভিত্তি করে, উভয় দেশ ‘নির্ভরযোগ্য এআই’-কে তাদের উদ্ভাবনী অংশীদারিত্বের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে।

● নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য এআই সিস্টেম: উভয় পক্ষই নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং নির্ভরযোগ্য এআই সিস্টেমের প্রসারে একসঙ্গে কাজ করবে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, বৈষম্য ও ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করবে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ এজেন্ডাকে সমর্থন করবে। তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মান নির্ধারণকারী সংস্থা এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে, যাতে অত্যাধুনিক ও জেনারেটিভ মডেলসহ এআই গভর্নেন্সের জন্য আন্তঃকার্যকরী ও ঝুঁকি-ভিত্তিক পদ্ধতির অগ্রগতি সাধিত হয় এবং একই সঙ্গে উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়ন যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা যায়।

● তাদের এআই অংশীদারিত্বের অগ্রাধিকার হিসেবে অনলাইনে শিশু সুরক্ষায় সহযোগিতা: ডিজিটাল পরিবেশে দুর্বল জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুদের জন্য এআই-সক্ষম পরিষেবাগুলি যে তীব্র ঝুঁকি তৈরি করে, তা স্বীকার করে ভারত ও ফ্রান্স তাদের এআই অংশীদারিত্বের অগ্রাধিকার হিসেবে অনলাইনে শিশু সুরক্ষায় সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬-এ আয়োজিত ‘এআই ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সম্পৃক্ততা গোষ্ঠী’ এবং অনলাইনে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে ভারতের উদীয়মান প্রযুক্তি-আইনি কাঠামোর উপর ভিত্তি করে, উভয় পক্ষ তাদের চলতি উদ্যোগগুলোর মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় গড়ে তুলবে। এর মধ্যে রয়েছে গোপনীয়তা-সংরক্ষক বয়স-নিশ্চয়তা, ডিজাইন-ভিত্তিক সুরক্ষা স্থাপত্য এবং শিশুদের সঙ্গে বস্তুগতভাবে যোগাযোগকারী এআই সিস্টেমের জন্য ফলাফল-ভিত্তিক সুরক্ষা মান।

● গোপনীয়তা-সংরক্ষক ডেটা আদান-প্রদান কাঠামোর কেন্দ্রীয়তা: ভারত ও ফ্রান্স মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রেখে এআই এবং ডেটা-চালিত উদ্ভাবনের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য গোপনীয়তা-সংরক্ষক ডেটা আদান-প্রদান কাঠামোর কেন্দ্রীয়তাকে স্বীকার করে। ভারতের ডেটা এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড প্রোটেকশন আর্কিটেকচার এবং বিশ্বস্ত ডেটা স্পেস ও স্বাস্থ্য ডেটা প্ল্যাটফর্মের উপর ফ্রান্সের নিজস্ব কাজ পরিপূরক শক্তি প্রদান করে, যা গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসেবার জন্য নিরাপদ ও সম্মতি-ভিত্তিক ডেটা প্রবাহকে সমর্থন করতে পারে।

২. অ্যাকাডেমিক গতিশীলতার মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অংশীদারিত্ব: হরাইজন ২০৪৭ কাঠামোর অধীনে যৌথ উদ্দেশ্য অনুসারে, উভয় পক্ষই স্বীকার করে যে এসটিইএম শিক্ষা, গবেষণা অংশীদারিত্ব, প্রতিভার গতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে, উভয় পক্ষই ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০,০০০ ভারতীয় শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানানোর ফ্রান্সের উদ্দেশ্যের গুরুত্ব স্বীকার করে এবং দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ভিত্তি হিসাবে জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষ নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানায়:

● যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি (এমআরকিউ): দীর্ঘমেয়াদী উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে গতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক একীকরণের কেন্দ্রীয় ভূমিকা স্বীকার করে, উভয় পক্ষ উচ্চশিক্ষা এবং পেশাগত যোগ্যতার জন্য পারস্পরিক স্বীকৃতির কাঠামো শক্তিশালী করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। ২০১৮ সালে ফ্রান্স প্রথম দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি (এমআরকিউ) চুক্তি সম্পন্ন করে, এই বিষয়টি স্মরণ করে উভয় পক্ষ আরও বিস্তৃত পরিসরের প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সম্প্রসারিত ও হালনাগাদকৃত কাঠামোর দিকে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে।

● এছাড়া, ভারত ও ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান বা 'একাডেমিক মোবিলিটি'র ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে সম্মত হয়েছে [সমঝোতা স্মারক বা MoU-এর তালিকা পরিশিষ্টে দেখা যাবে]।

III. শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব ও উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়নের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব: উভয় দেশই স্বীকার করে যে, উদ্ভাবন-চালিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এবং কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, শিল্প ক্ষেত্র, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা অপরিহার্য। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় পক্ষই নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর গুরুত্ব স্বীকার করে:

● 'ইন্দো-ফ্রেঞ্চ সেন্টার ফর দ্য প্রমোশন অফ অ্যাডভান্সড রিসার্চ' -এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা; এটি দ্বিপাক্ষিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার একটি প্রধান মাধ্যম, যা উদ্ভাবন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির যৌথ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে।

● 'ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্ক'-এর গুরুত্ব; এটি 'ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অফ ইনোভেশন' (ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন বর্ষ)-এর একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং উভয় দেশের উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক পরিমন্ডলকে সংযুক্ত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। উভয় দেশই এর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; এর মধ্যে আইএফআইএন-এর সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একটি যৌথ ভারত-ফ্রান্স স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

● 'ফ্রাঙ্কো-ইন্ডিয়ান ক্যাম্পাস ফর লাইফ সায়েন্সেস ফর হেলথ' - এর প্রাসঙ্গিকতা; এটি বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স ও স্বাস্থ্য-বিষয়ক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে সহায়তা প্রদানকারী একটি বিদ্যমান প্ল্যাটফর্ম। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবন-বিষয়ক অংশীদারিত্বে এর অবদান আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গবেষণাগারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার, সিইএফআইপিআরে, যৌথ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিটি, 'স্টেশন-এফ'  ও ফ্রেন্ড – এক্স এর মাধ্যমে স্টার্টআপ সহযোগিতা এবং 'ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোভেশন নেটওয়ার্ক' চালুর মধ্য দিয়ে উভয় দেশই তাদের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের গবেষক ও উদ্যোক্তারা যাতে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এছাড়া, উভয় পক্ষ নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলোর বিষয়েও সম্মত হয়েছে:

● অ্যারোনটিক্স বা বিমানচালনা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ারের জন্য 'ফ্রাঙ্কো-ইন্ডিয়ান ক্যাম্পাস': এই গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি ও বিনিময়ের লক্ষ্যে ফ্রান্স ও ভারত যৌথভাবে কানপুরে একটি অ্যারোনটিক্যাল ট্রেনিং ক্যাম্পাস স্থাপন করবে।

● 'ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোক্সচেঞ্জ ব্রিজ': উভয় পক্ষই 'ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইনোক্সচেঞ্জ ব্রিজ'-এর সম্ভাবনাকে স্বীকার করে। এটি একটি দ্বিপাক্ষিক স্টার্টআপ ও উদ্ভাবন বিনিময় উদ্যোগ, যার লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে গবেষণা ও উদ্যোক্তা-উন্নয়ন বিষয়ক একটি নিবেদিত করিডোর বা সংযোগপথ গড়ে তোলা। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগগুলোর ওপর ভিত্তি করে, 'ইনোক্সচেঞ্জ ব্রিজ'  উভয় দেশের গবেষণাাগার, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম, উদ্ভাবনী ক্লাস্টার, বিনিয়োগকারী এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমের মধ্যে সুসংহত ও পারস্পরিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এর ফলে স্টার্ট-আপ ও উদ্ভাবকরা গবেষণা কার্যক্রম (রিসার্চ রেসিডেন্সি), যৌথ উদ্ভাবন ও সহযোগিতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি উভয় দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক সহায়তা বা 'সফট ল্যান্ডিং'-এর সুবিধা পাবেন।

● উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করে, উভয় পক্ষই এসএমই পরিমন্ডলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়া আরও বাড়ানোর উপায় অন্বেষণ করতে আগ্রহী।

● ফ্রান্স ও ভারত মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এবং উভয় দেশের বেসরকারি মহাকাশ ক্ষেত্রের পরিমন্ডলের মধ্যে আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সপ্তাহে ভারত ও ফ্রান্স দুটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ কর্মসূচি আয়োজন করবে। এগুলি হল ৭-৯ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে 'বেঙ্গালুরু স্পেস এক্সপো' এবং ৯-১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে 'ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট'। এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলি দ্বিপাক্ষিক মহাকাশ সহযোগিতাকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি সুসংহত ও যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ  এবং মানব-চালিত মহাকাশ অভিযান, যার আওতায় ফ্রান্সের 'জিরো-জি' সক্ষমতা ও দক্ষতা এবং ভারতের 'লো আর্থ অরবিট' -এ ভবিষ্যৎ মহাকাশ স্টেশন সংক্রান্ত যৌথ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি এটি ফ্রান্স ও ভারতের সংশ্লিষ্ট পরিমন্ডলগুলিকে একত্রিত করতে সহায়তা করবে।

IV. স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এআই ও গবেষণা-ভিত্তিক সমাধান তৈরির লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব

● সম্মতি-ভিত্তিক তথ্য আদান-প্রদান: ভারতের আইসিএমআর এবং ফ্রান্সের 'হেলথ ডেটা হাব' -এর মধ্যে পাইলট প্রকল্পের মতো চলতি সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে, উভয় পক্ষ নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সম্মতি-ভিত্তিক কাঠামো তৈরির কাজ করবে। এই কাঠামোটি জাতীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং এর পরিধি বাড়ানো, অন্যান্য ক্ষেত্রে অভিযোজন এবং 'গ্লোবাল সাউথ'-সহ আগ্রহী অংশীদারদের সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের সুযোগ থাকবে। এআই উদ্ভাবন ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট গবেষণার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এমন আন্তঃকার্যক্ষম ও অধিকার-সুরক্ষাকারী ডেটা পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত ও ফ্রান্স তাদের ডেটা মধ্যস্থতাকারী সংস্থা, কারিগরি মান নির্ধারণকারী সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।

ভারত ও ফ্রান্স এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এমন এক অংশীদারিত্ব বজায় রাখবে যা পারস্পরিক বিশ্বাস, অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এবং বিশ্বস্ত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানব-কেন্দ্রিক উদ্ভাবনের প্রতি অভিন্ন প্রতিশ্রুতির দ্বারা পরিচালিত হবে।

ভারত-ফ্রান্স উদ্ভাবন রোডম্যাপ ২০৩০-এর সংযোজনী
চুক্তিসমূহ

১. আইআইটি বোম্বে এবং ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট পলিটেকনিক ডি প্যারিস (আইপিপি)-এর মধ্যে অনুবাদ, ইনকিউবেশন এবং অ্যাক্সিলারেশন (ত্বরান্বিতকরণ) ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।

২. আইআইটি বোম্বে এবং ফ্রান্সের প্যারিস-স্যাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনুবাদ, ইনকিউবেশন এবং অ্যাক্সিলারেশন (ত্বরান্বিতকরণ) ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বর্তমান সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।

৩. আইআইটি বোম্বে এবং ফ্রান্সের নিস-এ অবস্থিত ইউনিভার্সিটি কোট ডি'আজুর-এর মধ্যে শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মী, বিভাগ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা।

৪. আইআইটি দিল্লি এবং ফ্রান্সের ইনস্টিটিউট মাইনস-টেলিকম-এর মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একাডেমিক ও বৈজ্ঞানিক আদান-প্রদান এবং যৌথ কার্যক্রম।

৫. আইআইটি দিল্লি এবং ফ্রান্সের 'ফাউন্ডেশন ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার' ও 'রাসিন্স ডি ফ্রান্স' -এর মধ্যে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক অংশীদারিত্ব, বিশেষ করে জ্বালানি, টেকসই উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ক্ষেত্রে। 

৬. আইআইটি দিল্লি, ফাউন্ডেশন ফর ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ট্রান্সফার এবং ডিডিআই ইনকিউবেটরের মধ্যে শক্তি, স্থায়িত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা-সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব।

৭. আইআইটি দিল্লি, ফাউন্ডেশন ফর ইনোভেশন এবং জি২আই ভেঞ্চার ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড (তাদের ফরাসি প্রতিষ্ঠান এসসি কনসেইল -এর প্রতিনিধিত্বে)-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলকে বাজার-উপযোগী পণ্য ও সমাধানে রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা-সংক্রান্ত অংশীদারিত্ব।

৮. আইআইটি গান্ধীনগর এবং ফ্রান্সের কোমুটো এসএ/ব্লাব্লাকার -এর মধ্যে গতিশীলতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্থায়িত্ব, স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনী বাস্তুতন্ত্রের ক্ষেত্রে শিক্ষা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও গবেষণা বিষয়ক সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আগ্রহ প্রকাশ।

৯. আইআইটি তিরুপতি এবং ফ্রান্সের সাফরান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ডিফেন্স -এর মধ্যে পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কৌশলগত শিক্ষা-শিল্প অংশীদারিত্ব, যার মূল লক্ষ্য ভারতে একটি জাতীয় বাস্তুতন্ত্র গড়ে তোলা।

১০. পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও গবেষণা বিষয়ক সহযোগিতার প্রসারে আইআইটি-সমূহ, আইআইএসসি এবং ইউডাইস নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগের ঘোষণা।

১১. আইআইটি হায়দ্রাবাদ, ক্রিমসন এনার্জি এক্সপার্টস এবং ডাসল্ট সিস্টেমস -এর মধ্যে থ্রি-ডি কম্পিউটিং সিস্টেম নিয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক।

১২. সাইরান এআই এবং সাফরান এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনস -এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

১৩. আইআইটি মাদ্রাজ এবং ইউনিভার্সিটি দ্য লিমোজ -এর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তির নবীকরন।

১৪. আইআইটি মাদ্রাজ এবং ইএসসিপি বিজনেস স্কুলের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তি।

১৫. আইআইটি মাদ্রাজ এবং ক্লারমন্ট ওভারন ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল পলিটেকনিক -এর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তি।

১৬. আইআইটি মাদ্রাজ এবং ইউনিভার্সিটি দ্য টেকনোলজি দ্য কমপিয়েঁ -এর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তি।

১৭. আইআইটি মাদ্রাজ এবং সেন্ট্রাল-সুপেলেক ইউনিভার্সিটি প্যারিস-স্যাকলে -এর মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তির নবীকরন।

১৮. ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি গ্রেনোবল আল্পস এবং ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, বেঙ্গালুরু -এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক।

১৯. আইআইটি মাদ্রাজ এবং ইকোল ন্যাশনাল সুপিরিয়র ডেস মাইনস ডি সেন্ট-এতিয়েন -এর মধ্যে শিক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থী বিনিময় চুক্তি।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
How India, Australia clinched Uranium deal

Media Coverage

How India, Australia clinched Uranium deal
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister expresses grief over loss of lives due to boat capsizing in South 24 Parganas district of West Bengal
July 13, 2026
Prime Minister announces ex-gratia

The Prime Minister, Shri Narendra Modi has expressed deep grief over the loss of lives due to the capsizing of a boat in the South 24 Parganas district of West Bengal.

The Prime Minister conveyed his thoughts to the bereaved families in this hour of grief and prayed for the speedy recovery of the injured.

The Prime Minister announced that an ex-gratia of Rs. 2 lakh from the Prime Minister’s National Relief Fund (PMNRF) would be given to the next of kin of each deceased. The injured would be given Rs. 50,000.

The Prime Minister’s Office posted on X;

“The loss of lives due to the capsizing of a boat in the South 24 Parganas district of West Bengal is deeply painful. My thoughts are with the bereaved families in this hour of grief. May the injured recover at the earliest.

An ex-gratia of Rs. 2 lakh from PMNRF would be given to the next of kin of each deceased. The injured would be given Rs. 50,000: PM @narendramodi”