Samrat Samprati Museum showcases the deep-rooted traditions of the Jain culture and its timeless values for humanity: PM
I bow at the feet of Lord Mahavira, From Koba Tirth, I extend greetings of Lord Mahavira Jayanti to all fellow countrymen: PM
Emperor Samprati Museum is the heritage of millions of people in India, heritage of India's glorious past: PM
Emperor Samprati extended Ahimsa after ascending the throne. He propagated Satya, Asteya and Aparigraha: PM
In India, knowledge has always been a free-flowing stream: PM
In every age, Tirthankaras and sages and thinkers have incarnated, the compilation of knowledge continued to grow, over time, much new material was added: PM

জয় জিনেন্দ্র!

জয় জিনেন্দ্র!

আচার্য ভগবন্ত শ্রী পদ্মসাগর সুরীশ্বরজি মহারাজ সাহেব, গুজরাটের মাননীয় রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতজি, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র ভাই, রাজ্যের মাননীয় উপ-মুখ্যমন্ত্রী ভাই হর্ষ সাংভিজি, পরম পূজ্য আচার্য ভগবন্তগণ, পূজ্য সাধু ভগবন্তগণ, সাধ্বীজি ভগবন্তগণ, এই পবিত্র সমাবেশে উপস্থিত সকল আচার্য ও মুনি ভগবন্তগণ, বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং উপস্থিত ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণ!


আজ, ভগবান মহাবীর জয়ন্তীর এই শুভ উৎসবে, এই পবিত্র জৈন তীর্থক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। প্রথমেই আমি ভগবান মহাবীরের চরণে আমার বিনম্র প্রণাম জানাই। এই 'কোবা তীর্থ' প্রাঙ্গন থেকে আমি সমস্ত দেশবাসীকে ভগবান মহাবীর জয়ন্তীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

বন্ধুগণ,

আজ আমি পরম পূজ্য আচার্য শ্রী কৈলাস সাগর সুরীশ্বরজি মহারাজ সাহেবের স্মৃতিতেও আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তাঁর স্বপ্ন আজ কোবার এই পুণ্যভূমিতে জ্ঞান ও আস্থার এই বিশাল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কোবা তীর্থের এই স্থানটি এক গভীর আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে আচ্ছন্ন। যে স্থানের শক্তি এতই দিব্য যে, যার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে বহু জৈন মুনি ও সাধু-সন্তের কঠোর তপস্যা – যেখানে সৃষ্টি ও সেবার ধারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বিকশিত ও পরিচালিত হতে থাকে। আমি বছরের পর বছর ধরে লক্ষ্য করে আসছি যে, কোবা তীর্থে অধ্যয়ন, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সংযমের এক ধারাবাহিক পরম্পরা কীভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। এখানে মূল্যবোধগুলি সুরক্ষিত থাকে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শক্তি সঞ্চয় করে এবং জ্ঞানের চর্চা ও বিকাশ ঘটে। এই 'ত্রিবেণী' হলো ভারতীয় সভ্যতার মূল ভিত্তি। এই ত্রিবেণীর ধারাকে সজীব ও প্রবহমান রাখা আমাদের সকলেরই মিলিত দায়িত্ব।

 

বন্ধুগণ,

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, ভারতের সহস্রাব্দের প্রাচীন ঐতিহ্য, জৈন দর্শনের কালজয়ী জ্ঞান, আমাদের অমূল্য সম্পদগুলি এবং তা থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণাগুলিকে আগামী শতাব্দীগুলির জন্য অমর করে রাখতে এবং সেগুলিকে এক নতুন ও আধুনিক রূপে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আমাদের সাধু-সন্তরা এই 'জৈন হেরিটেজ মিউজিয়াম'-এর পরিকল্পনা করেছিলেন। আজ সেই পরিকল্পনা এক বিশাল ও মহিমান্বিত রূপে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এই 'সম্রাট সম্প্রতি মিউজিয়াম' আজ জৈন দর্শন, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক পবিত্র কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই অনন্য ও মহৎ প্রচেষ্টার জন্য আমি আমাদের সকল জৈন মুনি ও সাধু-সন্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি তাঁদের চরণে আমার বিনম্র প্রণাম নিবেদন করছি। আমি সেই হাজার হাজার নিবেদিতপ্রাণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই, যাঁরা এই কাজে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

ভাই ও বোনেরা,

যখন আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে শাশ্বত জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উদ্ভাবনী প্রয়াস চালায় এবং তাতে নতুনত্বের সঞ্চার করি, তখন এর মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং আগামী দিনগুলিও প্রেরণা লাভ করে। ‘সম্রাট সম্প্রতি সংগ্রহালয়’ হল, ভারতের কোটি কোটি মানুষের ঐতিহ্য; এটি ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের এক নিদর্শন। এ জন্য আমি সমস্ত দেশবাসীকে জানাই অসংখ্য অভিনন্দন।

বন্ধুগণ,

সম্রাট সম্প্রতি কেবল একজন ঐতিহাসিক রাজার নাম নয়। সম্রাট সম্প্রতি হলেন এমন এক সেতুবন্ধন, যা ভারতের দর্শন ও কর্মপদ্ধতির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। কারণ, আমরা যখন ইতিহাসের দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই যে, বিশ্বের বহু সভ্যতায় মহান চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের জন্ম হয়েছে। সেখানে মানবতার আদর্শগুলিকেও বিভিন্ন সংজ্ঞার মাধ্যমে রূপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, যখনই কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তখন অনেক শাসকই সেই আদর্শ ও মূল্যবোধগুলিকে উপেক্ষা বা অবহেলা করেছেন। আর ঠিক এই কারণেই চিন্তা ও কর্মের মধ্যে, কিংবা চিন্তা ও শাসনব্যবস্থার মধ্যে এক গভীর ব্যবধান তৈরি হতে থাকে। কিন্তু ভারতে এমন শাসকরাও ছিলেন, যেমন—সম্রাট সম্প্রতি; যিনি নিজের কর্তৃত্ব বা শাসনক্ষমতাকে সেবা ও আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবেই গণ্য করে কাজ করে গেছেন। যেখানে একদিকে কোনও কোনও শাসক সহিংসতাকে হাতিয়ার করে শাসনকার্য চালিয়েছেন, সেখানে অন্যদিকে সম্রাট সম্প্রতি সিংহাসনে আসীন থেকেই অহিংসার প্রসার ঘটিয়েছেন। তিনি সত্য, অস্তেয় এবং অপরিগ্রহের আদর্শ প্রচার করেছেন। এমন নির্লিপ্ততা ও নিঃস্বার্থ অনুভূতি নিয়ে জীবনযাপন করা এবং শাসনকার্যকে সেবারই একটি মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা – এই শিক্ষা আমরা কেবল ভারতের অতীত থেকেই লাভ করি। আর ঠিক সেই অতীতকেই আমরা এই সংগ্রহালয়ে সযত্নে সংরক্ষণ করে চলেছি।

 

বন্ধুগণ,

আমি লক্ষ্য করছিলাম, এই জাদুঘরটির এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যে, এর প্রতিটি পদক্ষেপে মহান ভারতের স্বকীয়তা ও পরিচয় ফুটে উঠেছে। এর সাতটি গ্যালারি—প্রতিটি গ্যালারিই ভারতের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিকে তুলে ধরছে। প্রথম গ্যালারিতে আমরা ‘নবপদ’ দর্শন করি। নবপদ বলতে বোঝায় – অরিহন্ত, সিদ্ধ, আচার্য, উপাধ্যায় এবং সাধু। সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান, সম্যক চরিত্র এবং সম্যক তপস্যা অর্থাৎ, আমরা তাঁদের কাছ থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করি, যাঁরা স্বয়ং তপস্যার মাধ্যমে জীবনকে উপলব্ধি করেছেন; আর আমরা যে জ্ঞান অর্জন করি, তা যেন সঠিক হয়! আমাদের চরিত্র যেন সঠিক হয়! কারণ, জ্ঞান যখন সঠিক হয়, তখন তা সমচিত্ততা ও সেবার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

বন্ধুরা,

তৃতীয় গ্যালারিতে আমাদের তীর্থঙ্করদের জীবনগাথা, তাঁদের শিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহকে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।

ভাই ও বোনেরা,

এই জাদুঘরে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য এবং সবচেয়ে বড় শক্তিটি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। যেমনটি আমি আগেই উল্লেখ করেছি, আমাদের সেই শক্তিটি হল, ভারতের বৈচিত্র্য এবং সেই বৈচিত্র্যের মাঝেই নিহিত থাকা একতা। বিশ্বাস, ধর্ম ও আস্থার নামে বিশ্বজুড়ে সর্বদা সংঘাত ও বিরোধ দেখা গেছে; কিন্তু এই সংগ্রহালয়ে ভারতের অন্যান্য সমস্ত ধর্মেরও এক গৌরবোজ্জ্বল ও শ্রদ্ধাপূর্ণ উপস্থাপনা রয়েছে। বৈদিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্য, বেদ, পুরাণ, আয়ুর্বেদ, যোগশাস্ত্র, দর্শন – বিভিন্ন ঐতিহ্যের এই বিচিত্র রংয়ের ছটা যখন রামধনুর মতো একসূত্রে গাঁথা হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে, তখন এমন দৃশ্য শুধুমাত্র ভারতেই দেখা সম্ভব।

 

বন্ধুরা,

বর্তমান বিশ্বে যে ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেভাবে সমগ্র বিশ্ব অস্থিরতা ও অশান্তির আগুনে পুড়ছে – তাতে এই জাদুঘরের ঐতিহ্য ও এর বার্তা কেবল ভারতের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের চেষ্টা এমন হওয়া উচিত যে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে আগত কৌতূহলী দর্শনার্থী, শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের সংখ্যা যেন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। যাঁরা এখানে আসবেন, তাঁরা যেন ভারতের শিক্ষা এবং জৈনধর্মের আদর্শকে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেন।

বন্ধুরা,

ভারতে জ্ঞানের প্রবাহ সর্বদা ছিল মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত। প্রতিটি যুগেই এখানে তীর্থঙ্কর এবং ঋষি-মনীষীদের জন্ম হয়েছে। জ্ঞানের ভাণ্ডার ক্রমাগত সমৃদ্ধ হয়েছে এবং সময়ের পরিক্রমায় তাতে যুক্ত হয়েছে বহু নতুন উপাদান। একবার কল্পনা করে দেখুন, একসময় আমাদের তক্ষশীলা ও নালন্দার মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লক্ষ লক্ষ গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপিতে পরিপূর্ণ থাকত। কিন্তু, বিদেশি আক্রমণকারীরা ধর্মীয় সংকীর্ণতার বশবর্তী হয়ে জ্ঞানকেও নিজেদের শত্রু মনে করেছিল এবং সেগুলিকে পুড়িয়ে দিয়েছিল; এভাবেই মানবতার এমন মহান ঐতিহ্যগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই কঠিন সময়ে, মানুষ বংশপরম্পরায় অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলিকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল এবং সেগুলির সুরক্ষিত করেছিল। স্বাধীনতার পর, সেগুলিকে খুঁজে বার করা এবং সংরক্ষণ করা হওয়া উচিত ছিল দেশেরই দায়িত্ব; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ পরাধীনতার মানসিকতার কারণে এই বিষয়ে কোনও মনোযোগই দেওয়া হয়নি। আচার্য ভগবন্ত শ্রী পদ্মসাগর সুরীশ্বর জি মহারাজের মতো মহান ব্যক্তিত্ব ও সাধু-সন্তরা এর গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন; তাঁরা তাঁদের গোটা জীবন এই কাজের জন্যই উৎসর্গ করেছিলেন। জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, শহর থেকে শহরে, দেশের প্রতিটি প্রান্তে তাঁরা পাণ্ডুলিপিগুলির সন্ধান চালিয়েছিলেন। তিন লক্ষেরও বেশি এমন পাণ্ডুলিপি —যেগুলিতে তালপাতা ও ভুজপত্রে শত শত বছরের প্রাচীন জ্ঞান লিপিবদ্ধ রয়েছে —আজ ‘কোবা’-য় সুরক্ষিত ও সংকলিত অবস্থায় রক্ষিত আছে। এটি ভারতের অতীত, ভারতের বর্তমান এবং আমাদের ভবিষ্যতের প্রতি এক অত্যন্ত মহৎ সেবা।

বন্ধুগণ,

পূর্ববর্তী সরকারগুলি পাণ্ডুলিপিগুলিকে অবহেলা করে যে ভুল করেছিল, আজ আমরা সেই ভুলেরই সংশোধন করছি। এই লক্ষ্যে, আমরা ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ চালু করেছি। এই কাজে আমরা প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছি। এই মিশনের আওতায় প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলির ডিজিটাইজেশন বা ডিজিটাল রূপান্তরের কাজ চলছে এবং সেগুলিকে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। স্ক্যানিং, রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ডিজিটাল সংগ্রহ গড়ে তোলার মতো যাবতীয় চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  গত রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আমি সবিস্তারে উল্লেখ করেছিলাম যে, এই লক্ষ্যে একটি সমীক্ষাও শুরু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাঁদের নিজেদের সংগ্রহে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলির ছবি বা তথ্য আপলোড করছেন। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই অভিযান এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

বন্ধুগণ,

সরকারি স্তরে পরিচালিত ‘জ্ঞান ভারতম মিশন’ এবং ‘কোবা তীর্থে'র অসাধারণ অবদান —সমাজ ও সরকারের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা ভারতের এক নব-সাংস্কৃতিক জাগরণেরও প্রতীক।

বন্ধুগণ,

আজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং বিশ্বের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা প্রতিটি স্তরেই চলছে।  পাণ্ডুলিপি ও জ্ঞান-ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ অব্যাহত রয়েছে, তার পাশাপাশি প্রাচীন মন্দিরগুলোর সংস্কার, তীর্থস্থানগুলোর উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থানগুলোর বিকাশ এবং আয়ুর্বেদ ও যোগব্যায়ামের প্রচার ও প্রসারের কাজও প্রতিটি স্তরেই করা হচ্ছে। ঠিক এখানেই, গুজরাটের লোথালে একটি বিশাল সামুদ্রিক জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের বৃহত্তম সামুদ্রিক মিউজিয়ামে পরিণত হতে চলেছে; এটি এখান থেকে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, ভাদনগরেও একটি অত্যন্ত বিশাল জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে; এটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের সেরা জাদুঘরগুলির তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া দিল্লিতে ‘যুগে যুগে ভারত’ জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। আজ এই প্রথমবার, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে তার পূর্ণাঙ্গ রূপে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, অতীতে এই কাজগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হতো। কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবারের আখ্যান বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা যায়, কীভাবে কেবল ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে বক্তব্য রাখা যায়, সবকিছুই মূলত এই বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হত। আমরা সেই মানসিকতার অবসান ঘটিয়েছি। আমরা এখন সবার সাথে, সবার বিকাশ—এই মন্ত্রকে পাথেয় করেই এগিয়ে চলেছি। আর এই মন্ত্রটিই হলো একটি ‘উন্নত ভারত’-এর স্বপ্ন বা ভিশনের মূল প্রাণশক্তি।

বন্ধুগণ,

আপনারা সকল সাধু-সন্তরা ভারতের ঐতিহ্যকে লালন করার লক্ষ্যে যে অসাধারণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যখন আমরা আমাদের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করি, তখন দেশের উন্নয়নের গতি আরও ত্বরান্বিত হয়। ঠিক এই অনুভূতি থেকেই, আমি দিল্লিতে আয়োজিত ‘নবকার মহামন্ত্র দিবস’-এর অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করেছিলাম। সেই অনুষ্ঠানে চারটি ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমি নয়টি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং নয়টি সংকল্পের কথা উল্লেখ করেছিলাম—যার কথা আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র ভাইও এইমাত্র তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করলেন। আমি প্রতিটি অনুষ্ঠানেই আপনাদের সামনে সেই নয়টি সংকল্পের কথা পুনরায় তুলে ধরি। আজকের এই শুভ উপলক্ষটিও সেই সংকল্পগুলি আবারও স্মরণ করারই একটি বিশেষ মুহূর্ত। প্রথম সংকল্প—জল সংরক্ষণ সংকল্প। দ্বিতীয় সংকল্প— মায়ের নামে একটি বৃক্ষরোপণ। তৃতীয় সংকল্প —পরিচ্ছন্নতা অভিযান। চতুর্থ সংকল্প—‘ভোকাল ফর লোকাল’। পঞ্চম সংকল্প—‘দেশ দর্শন’ । ষষ্ঠ সংকল্প—প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতি গ্রহণ। সপ্তম সংকল্প—সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। অষ্টম সংকল্প—জীবনযাত্রায় যোগ ও খেলাধুলার অন্তর্ভুক্তি। নবম সংকল্প হলো—দরিদ্রদের সহায়তার সংকল্প; আর দশম সংকল্পটি আপনারা নিজেরাই যুক্ত করেছেন, আর তা হলো—ভারতের ঐতিহ্যের সংরক্ষণ। আজকের এই অনুষ্ঠানটিই হলো এর এক সার্থক প্রতিফলন।

 

বন্ধুগণ,

আগামী দিনগুলিতে আমাদের সামনে বিশাল লক্ষ্য রয়েছে; আমাদের বড় বড় সংকল্পগুলি পূরণ করতে হবে। এই যাত্রাপথে আমাদের ঐক্য এবং আমাদের এই সাংস্কৃতিক অবলম্বনগুলিই হয়ে উঠবে আমাদের মূল শক্তি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আগামী সময়ে এই ‘সম্রাট সম্প্রতি সংগ্রহালয়’ এই অভিমুখে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি জ্ঞানচর্চা, আধ্যাত্মিক সাধনা এবং সংস্কৃতির এমন এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে, যেখান থেকে নবীন প্রজন্ম পাবে অনুপ্রেরণা এবং সমাজ পাবে এক নতুন প্রাণশক্তি। এই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই, আপনাদের এই মহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য আমি আবারও আপনাদের সকলকে জানাই অসংখ্য অভিনন্দন।

 

একই সাথে, আমি আপনাদের সকলের কাছে একটি বিশেষ অনুরোধও জানাতে চাই যে, মহারাজ সাহেব যখন এত কিছু গড়ে তুলেছেন, তখন আমরা যদি তা স্বচক্ষে দেখার জন্য সামান্য সময়টুকুও ব্যয় না করি, তবে তা কীভাবে সার্থক হবে? এমন যেন না হয় যে, মানুষ কেবল এখানে এলেন, ঘুরে দেখলেন আর চলে গেলেন; বরং আপনারা জানার চেষ্টা করুন, বোঝার চেষ্টা করুন—এটি এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার। আমি চাই, গুজরাটের প্রতিটি প্রজন্মের মানুষ সপরিবারে এখানে আসুন; মন ভরে এই সংগ্রহালয় পরিদর্শন করুন এবং এখানকার জ্ঞানভাণ্ডার ও মহান ঐতিহ্যের জন্য গর্ব অনুভব করুন। আর আমার কাছে, আজকের এই ‘মহাবীর জয়ন্তী’ নানা কারণেই অত্যন্ত শুভ ও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গান্ধীনগরে এসে গুজরাটের মাটিতে পা রাখার পরপরই আমার প্রথম কর্মসূচিটি ছিল—নিজের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা; আর এখান থেকেই আমি এখন যাব সানন্দে। সেখানে রয়েছে আমার দ্বিতীয় কর্মসূচি, তা হলো গো বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। এখানে আমি আমাদের মহান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং গৌরবোজ্জ্বল অতীতের সুধা পান করলাম; আর সানন্দে হতে চলেছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘চিপ’ নির্মাণের শুভ সূচনা—সেখানে শুরু হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের এক নতুন অধ্যায়। এখানে যেমন রয়েছে নিজের শিকড়ের সাথে যুক্ত হওয়ার বার্তা, তেমনি সানন্দে রয়েছে সমগ্র বিশ্বের সাথে যুক্ত হওয়ার আহ্বান—আর এই সবকিছুই আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে গুজরাটের মাটিতে, ভারতের মাটিতে। আপনাদের সকলের জন্য রইল অসংখ্য শুভকামনা। আপনাদের সকলকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

জয় জিনেন্দ্র!

জয় জিনেন্দ্র!

জয় জিনেন্দ্র!

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Rolls-Royce joins with HAL at the wheel to make India a major aerospace hub

Media Coverage

Rolls-Royce joins with HAL at the wheel to make India a major aerospace hub
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 15 মে 2026
May 15, 2026

Viksit Bharat Unleashed: PM Modi's Blueprint Delivers Energy Independence, Tech Boom, and Diplomatic Dominance