Seva Teerth and Kartavya Bhavan have been built to fulfil the aspirations of the people of India: PM
As we move towards a Viksit Bharat, it is vital that India sheds every trace of colonial mindset: PM
Race Course Road was renamed Lok Kalyan Marg, this was not merely a change of name, it was an effort to transform the mindset of power into a spirit of service: PM
The new Prime Minister's Office has been named Seva Teerth; Seva, or the spirit of service, is the soul of India, it is the identity of India: PM

কেন্দ্রীয় সরকারের সম্মানিত মন্ত্রীগণ, সংসদ সদস্যগণ, সরকারি কর্মচারীগণ, বিশিষ্ট অতিথিগণ এবং আমার প্রিয় সহকর্মীগণ!

আজ, আমরা একটি নতুন ইতিহাস রচনার সাক্ষী হচ্ছি। ২০৮২ সালের বিক্রম সংবতের এই শুভ দিনে, ফাল্গুন কৃষ্ণপক্ষ, বিজয়া একাদশী - যা ১৯৪৭ সালের মাঘ ২৪, শক সংবতের সঙ্গেও সম্পর্কিত, এবং আজকের সাধারণ ক্যালেন্ডারে, ১৩ ফেব্রুয়ারি - ভারতের উন্নয়ন যাত্রা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। আমাদের শাস্ত্রে, বিজয়া একাদশীর তাৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এই দিনে গৃহীত যেকোনো সংকল্প সফল হবেই। আজ, আমরাও একটি উন্নত ভারতের সংকল্প নিয়ে সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবনে প্রবেশ করছি। আমাদের লক্ষ্যে বিজয়ের ঐশ্বরিক আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। সেবা তীর্থ এবং নতুন ভবন উদ্বোধনের জন্য আমি আপনাদের সকলকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্পূর্ণ দল, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। এর নির্মাণে অবদান রাখা প্রকৌশলী এবং কর্মীদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

বন্ধুগণ,

স্বাধীনতার পর, সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লকের ভবনগুলিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং নীতি গৃহীত হয়েছিল। তবে এটাও সত্য যে এই স্থাপনাগুলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতীক হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ রাখা।

বন্ধুগণ,

আপনারা ভালো করেই জানেন যে একসময় কলকাতা ভারতের রাজধানী ছিল। কিন্তু ১৯০৫ সালে বাংলা বিভাগের সময় কলকাতা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। অতএব, ১৯১১ সালে, ব্রিটিশরা রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করে। পরবর্তীকালে, ঔপনিবেশিক শাসনের চাহিদা এবং মানসিকতা পূরণের জন্য নর্থ ব্লক এবং সাউথ ব্লকের নির্মাণ শুরু হয়। রাইসিনা হিলসের এই ভবনগুলি যখন উদ্বোধন করা হয়েছিল, তখন তৎকালীন ভাইসরয় ঘোষণা করেছিলেন যে এগুলি ব্রিটিশ রাজার ইচ্ছার প্রতিফলন। অর্থাৎ দাসত্বপ্রাপ্ত ভারতের উপর রাজার দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য এগুলি ছিল হাতিয়ার। এই ভবনগুলি যাতে অন্য ভবনের  চেয়ে উঁচুতে থাকে তাই রাইসিনা হিলস ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বিপরীতে, সেবা তীর্থ কোনও হিলসের উপর স্থাপিত নয় বরং মাটির কাছাকাছি অবস্থিত। সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লক ঔপনিবেশিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন ভারতীয় জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এখানে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কোনও রাজার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে নয়, বরং ১৪০ কোটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই চিন্তাভাবনা নিয়ে, আমি ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন উৎসর্গ করছি।

বন্ধুগণ,

২১ শতকের প্রথম প্রান্তিক এখন শেষ হয়েছে। উন্নত ভারতের  লক্ষ্যে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেবল নীতি ও পরিকল্পনাতেই নয়, আমাদের কর্মক্ষেত্র এবং প্রতিষ্ঠানেও প্রতিফলিত হতে হবে। যে স্থানগুলি থেকে দেশ পরিচালিত হয় সেগুলি কার্যকর এবং অনুপ্রেরণামূলক, চিত্তাকর্ষক কিন্তু প্রেরণাদায়ক উভয়ই হতে হবে। নতুন প্রযুক্তি আমাদের পরিবেশকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে, কিন্তু এই অগ্রগতিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য পুরনো ভবনগুলি অপর্যাপ্ত। সাউথ ব্লক এবং নর্থ ব্লক স্থানের সীমাবদ্ধতা, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ছিল এবং প্রায় এক শতাব্দী পুরনো ভবনগুলি ভেতর থেকে ক্রমশ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তাছাড়া, চ্যালেঞ্জগুলি অব্যাহত ছিল: স্বাধীনতার কয়েক দশক পরেও, দিল্লি জুড়ে ৫০টিরও বেশি বিভিন্ন স্থান থেকে মন্ত্রকগুলি পরিচালিত হয়েছিল। প্রতি বছর, এই ভবনগুলির ভাড়ার জন্য ১,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হত। ৮,০০০-১০,০০০ কর্মচারীর অফিস থেকে অন্য অফিসে যাতায়াতের জন্য দৈনিক খরচ ছিল বেশি। সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন নির্মাণের ফলে, এই ব্যয় হ্রাস পাবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

 

বন্ধুগণ,

এই রূপান্তরের মধ্যেও, পু্রনো ভবনগুলির স্মৃতি আমাদের সঙ্গে থাকবে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রাঙ্গণগুলি দেশকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং অসংখ্য সংস্কারের সাক্ষী হয়েছে। এগুলি ভারতের ইতিহাসের এক অমর অংশ। তাই, আমরা সেই ভবনগুলিকে দেশের জন্য জাদুঘর হিসেবে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এগুলি যুগে যুগে ভারত জাদুঘরের অংশ হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। তরুণরা যখন এখানে আসবে, তখন ঐতিহাসিক ঐতিহ্য তাদের পথ দেখাবে।

বন্ধুগণ,

একটি উন্নত ভারতের দিকে এই যাত্রায়, আমাদের দাসত্বের মানসিকতা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতার পরেও, ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীকগুলি আমাদের বোঝা করেই চলেছে। আগের পরিস্থিতি বিবেচনা করুন : প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে রেসকোর্স রোড বলা হত। উপরাষ্ট্রপতির কোনও নির্দিষ্ট বাসভবন ছিল না। গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার রাস্তাটিকে রাজপথ বলা হত। স্বাধীনতার পরে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের জন্য, কোনও স্মৃতিস্তম্ভ ছিল না। এভাবে, স্বাধীন ভারতের রাজধানী ঔপনিবেশিক মানসিকতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল, এর ভবনগুলি পরাধীনতার প্রতীকের মাধ্যমে চিহ্নিত ছিল।

কিন্তু বন্ধুগণ,

যেমন সকলে বলে, সময় কখনও একই থাকে না। ২০১৪ সালে, দেশ সংকল্প করেছিল যে ঔপনিবেশিক মানসিকতা আর থাকবে না। আমরা এটি পরিবর্তনের জন্য একটি অভিযান শুরু করেছি। আমরা আমাদের শহীদদের সম্মান জানাতে জাতীয় যুদ্ধ স্মারক তৈরি করেছি। আমরা আমাদের পুলিশের বীরত্বকে সম্মান জানাতে পুলিশ স্মারক তৈরি করেছি। রেসকোর্স রোডের নামকরণ করা হয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ। এটি কেবল নাম পরিবর্তন ছিল না, বরং শাসনের চেতনাকে সেবার চেতনায় রূপান্তরিত করার একটি পবিত্র প্রচেষ্টা ছিল।

 

বন্ধুগণ,

এই সিদ্ধান্তের পিছনে একটি গভীর অনুভূতি, একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি আমাদের বর্তমান, অতীত এবং ভবিষ্যতকে ভারতের গর্বের সঙ্গে সংযুক্ত করে। একসময় রাজপথ নামে পরিচিত স্থানটিতে জনগনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবস্থার অভাব ছিল। আমরা এটিকে কর্তব্য পথ হিসাবে পুনর্গঠিত করেছি। এটি এখন দেশজুড়ে দর্শনার্থীদের জন্য একটি প্রাণবন্ত জনসাধারণের স্থান। এই একই কমপ্লেক্সে, আমরা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করেছি। দীর্ঘদিন ধরে, আমাদের রাজধানীতে আমাদের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলির অভাব ছিল। আমরা সংকল্প করেছিলাম যে নতুন প্রজন্মকে রাজধানীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে হবে। রাষ্ট্রপতি ভবন কমপ্লেক্সেও পরিবর্তন আনা হয়েছে: মুঘল উদ্যানের নামকরণ করা হয়েছে অমৃত উদ্যান। যখন নতুন সংসদ ভবন নির্মিত হয়েছিল, তখন আমরা পুরানোটিকে ভুলে যাইনি; আমরা এটিকে সংবিধান সদন নামে একটি নতুন পরিচয় দিয়েছিলাম। যখন মন্ত্রকগুলিকে একটি কমপ্লেক্সে একত্রিত করা হয়েছিল, তখন সেই ভবনগুলির নামকরণ করা হয়েছিল কর্তব্য ভবন। নামকরণের এই উদ্যোগগুলি কেবল শব্দের খেলা ছিল না; তারা একটি সুসংগত আদর্শগত সূত্র প্রতিফলিত করেছিল – যা ছিল ঔপনিবেশিক চিহ্নমুক্ত স্বাধীন ভারতের জন্য একটি স্বাধীন পরিচয়।

বন্ধুগণ,

নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে সেবা তীর্থ। সেবার চেতনা ভারতের আত্মা, ভারতের প্রকৃত পরিচয়। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস বলতেন : শিব জ্ঞান থেকে জীব জ্ঞান সেবা - মানবতার সেবা ঈশ্বরের সেবা। এটি কেবল একটি আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা নয়, বরং দেশ গঠনের দর্শন। এই ভবনটি আমাদের প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেবে যে শাসন মানে সেবা, দায়িত্ব মানে উৎসর্গ। আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে: সেবা পরমো ধর্মঃ - সেবাই সর্বোচ্চ কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সরকারের এটাই দৃষ্টিভঙ্গি। অতএব, সেবা তীর্থ কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি সংকল্প। সেবা তীর্থ মানে জনগনের সেবার  পবিত্র স্থান। এটি এমন একটি স্থান যেখানে সেবার সংকল্প পূর্ণ হয়। তীর্থের অর্থই হল "যা একজনকে অতিক্রম করতে, লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।" বর্তমান ভারত একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার, আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্যের মুখোমুখি। আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করতে হবে, দাসত্বের মানসিকতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে - এবং এটি কেবল সেবার শক্তির মাধ্যমেই অর্জন করা হবে।

বন্ধুগণ,

আজ, যখন ভারত সংস্কার এক্সপ্রেসে যাত্রা করছে, যখন ভারত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় লিখছে, যখন নতুন বাণিজ্য চুক্তি সুযোগের দ্বার উন্মোচন করছে, এবং দেশ যখন দ্রুত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আপনাদের কাজের নতুন গতি এবং সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবনের প্রতি আপনাদের নতুন আস্থা দেশের লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

বন্ধুগণ,

আমাদের সংস্কৃতি আমাদের শেখায় যে প্রতিটি শুভ কাজের আগে, আমরা আশীর্বাদ প্রার্থনা করি, মঙ্গল কামনা করি এবং মঙ্গলের শপথ গ্রহণ করি। বৈদিক মন্ত্র আমাদের পথ দেখায়: "আনো ভদ্রাঃ কৃতভো যন্তু বিশ্বতঃ" - সকল দিক থেকে আমাদের কাছে মহৎ চিন্তাভাবনা আসুক। এটিই এই ভবনের প্রাণ হওয়া উচিত। ভারতের মহান গণতন্ত্রে, জনগণের ধারণাই আমাদের শক্তি, তাদের স্বপ্নই আমাদের মূলধন, তাদের প্রত্যাশাই আমাদের অগ্রাধিকার এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাই আমাদের পথপ্রদর্শক আলো। এই অনুভূতি এবং এই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনও প্রাচীর, কোনও দূরত্ব থাকা উচিত নয়। নীতিগুলি তখনই জীবন্ত হবে যখন আপনি জনগণের স্বপ্ন বুঝতে পারবেন; জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। গত ১১ বছরে, আমরা শাসনব্যবস্থার একটি নতুন মডেল প্রত্যক্ষ করেছি - যেখানে নাগরিক প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। "নাগরিক দেবো ভব" - নাগরিক হলেন ঐশ্বরিক -  এটি কেবল একটি বাক্যাংশ নয়, এটি আমাদের কর্মসংস্কৃতি। এই নতুন ভবনগুলিতে প্রবেশ করার সময় আপনাকে এই চেতনাকে ধারণ করতে হবে। সেবা তীর্থে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত, এখানে প্রক্রিয়াজাত প্রতিটি ফাইল, এখানে অতিবাহিত প্রতিটি মুহূর্ত ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জীবন উন্নত করার জন্য নিবেদিত হওয়া উচিত। আমি প্রত্যেক কর্মকর্তা, প্রত্যেক কর্মচারী, প্রত্যেক কর্মযোগীকে অনুরোধ করছি: যখনই আপনি এই ভবনে পা রাখবেন, এক মুহূর্ত থেমে ভাবুন, এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন - আমার আজকের কাজ কি লক্ষ লক্ষ নাগরিকের জীবনকে সহজ করে তুলবে? এই আত্ম-প্রতিফলন এই স্থানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।

বন্ধুগণ,

আমরা এখানে কর্তৃত্ব প্রদর্শন করতে আসিনি; আমরা এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসেছি এবং আমরা দেখেছি যে শাসনব্যবস্থা যখন পরিষেবা দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন ফলাফল অসাধারণ হয়। এভাবেই ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসে, এভাবেই অর্থনীতি নতুন গতি লাভ করে।

বন্ধুগণ,

আজ, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গঠন কেবল আমাদের লক্ষ্য নয় - এটি বিশ্বের সামনে ভারতের অঙ্গীকার। অতএব, এখানে প্রণয়ন করা প্রতিটি নীতি, এখানে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিরন্তর সেবার চেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। একদিন, যখন আপনি অবসর নেবেন বা এই ভবন থেকে সরে যাবেন, তখন আপনি এই দিনগুলির দিকে গর্বের সঙ্গে তাকাবেন। আপনি বলতে সক্ষম হবেন: হ্যাঁ, সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবনে থাকাকালীন, আমি প্রতিদিন জনগনের সেবা করেছি, আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে ছিল। সেই মুহূর্তটি আপনাকে শান্তি এনে দেবে, সেই মুহূর্তটি হবে আপনার সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন, সেই মুহূর্তটি হবে আপনার ব্যক্তিগত সম্পদ এবং সেই সম্পদ আপনার জীবনকে সম্মানে ভরে দেবে।

 

বন্ধুগণ,

মহাত্মা গান্ধী বিশ্বাস করতেন যে অধিকারের বিশাল ভবন কর্তব্যের ভিত্তির উপর নির্মিত। যখন আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করি, তখন আমরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলিরও মুখোমুখি হতে পারি এবং সমাধান খুঁজে নিতে পারি। আমাদের সংবিধান প্রণেতারা এই কারণেই কর্তব্যের উপর জোর দিয়েছিলেন। আমাদের মনে রাখতে হবে: লক্ষ লক্ষ নাগরিকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কর্তব্যের উপর নির্ভর করে। কর্তব্য হলো শুরু, কর্তব্য হলো এই প্রাণবন্ত দেশের প্রাণ। কর্তব্য হলো করুণা ও পরিশ্রমের বন্ধন। কর্তব্য হলো সংকল্পের আশা, কঠোর পরিশ্রমের শিখর, প্রতিটি সমস্যার সমাধান এবং উন্নত ভারতের বিশ্বাস। কর্তব্য হলো সমতা, কর্তব্য হলো স্নেহ, কর্তব্য হলো সর্বজনীন, কর্তব্য হলো সর্বব্যাপী। কর্তব্য হলো সবকা সাথ, সবকা বিকাশের মন্ত্র। কর্তব্য হলো দেশের প্রতি নিবেদনের চেতনা। কর্তব্য হলো ইচ্ছাশক্তি যা প্রতিটি জীবনকে আলোকিত করে। কর্তব্য হলো আত্মনির্ভর ভারতের আনন্দ। কর্তব্য হলো আগামী প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গ্যারান্টি। কর্তব্য হলো ভারত মাতার প্রাণশক্তির পতাকাবাহী। কর্তব্য হলো দেশের প্রতি নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পাদিত প্রতিটি কাজ। কর্তব্য হলো নাগরিক দেবো ভব অনুশীলনের জাগ্রত পথ।

বন্ধুগণ,

কর্তব্যের এই চেতনাকে সর্বোচ্চে রেখে, আমাদের অবশ্যই দায়িত্ববোধের সঙ্গে সেবা তীর্থ এবং নবনির্মিত কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে হবে।

 

বন্ধুগণ,

আজ, ভারত দ্রুত নতুন উচ্চতায়, একটি নতুন যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী বছরগুলিতে, আমাদের পরিচয় কেবল অর্থনীতির দ্বারা নয়, বরং আমাদের শাসনের মান, আমাদের নীতির স্পষ্টতা এবং আমাদের কর্মযোগীদের নিষ্ঠা দ্বারা সংজ্ঞায়িত হবে। সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবনে গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত কেবল একটি ফাইলের সমাধান হবে না - এটি ২০৪৭ সালে একটি উন্নত ভারত গঠনের দিকনির্দেশনা তৈরি করবে। মনে রাখবেন, ২০৪৭ কেবল একটি তারিখ নয়; এটি আ৪০ কোটি স্বপ্নের জন্য সময়সীমা। এই যাত্রায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেক কর্মচারী, প্রত্যেক কর্মযোগী গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই সেবা তীর্থ সংবেদনশীল শাসনের প্রতীক হয়ে উঠুক,  হয়ে উঠুক জনগন-কেন্দ্রিক প্রশাসনের একটি রোল মডেল , এটি হোক এমন একটি জায়গা যেখানে ক্ষমতা নয়, সেবা দৃশ্যমান; যেখানে পদ নয়, প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট; যেখানে কর্তৃত্ব নয়, দায়িত্ব সর্বাধিক গুরুত্ব লাভ করে। আমি নিশ্চিত যে আমাদের সংকল্প ইতিহাস লিখবে, এবং আমাদের কঠোর পরিশ্রম প্রজন্মকে পথ দেখাবে। যেমনটি আমি লাল কেল্লা থেকে বলেছিলাম: "এখনই সময়, সঠিক সময়।" আসুন আমরা প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাই। আসুন আমরা "দেশ প্রথম" এই চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ করি, যাতে ভবিষ্যতের শতাব্দীগুলি বলতে পারে যে, এই সময়টি ছিল সেই সময় যখন ভারত তার ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করেছিল; এই সময়টি ছিল সেই সময় যখন ভারত নতুন শক্তি এবং নতুন গতিতে হাজার বছরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল। এই দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে, আমি আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। অনেক ধন্যবাদ।

বন্দে মাতরম!

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Odisha’s Dhenkanal farmers export 3 tonne of mango to London

Media Coverage

Odisha’s Dhenkanal farmers export 3 tonne of mango to London
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 14 মে 2026
May 14, 2026

Kisan Kalyan to Viksit Bharat: PM Modi Delivers Jobs, Markets & Dignity Across Rural and Industrial India