We have One goal, one destination, ‘Viksit Bharat’: PM
Despite many global crises, the world's leaders and experts look to India with great hope: PM
If you want to be part of the future, you have to be in India : PM
India is not just progressing; India is moving to the Next level : PM
India will make every effort to ensure that its farmers and citizens are protected from the burden of global challenges : PM

আজ ১২ই মার্চ এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৩০ সালের আজকের দিনে মহাত্মা গান্ধী সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডি অভিযান শুরু করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এই দিনটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ডান্ডি যাত্রায় দেশের প্রতিটি প্রান্ত অভিন্ন এক লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছিল: ভারতের স্বাধীনতা। সেই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রায় ১০০ বছর পর আমরা ভারতীয়রা আরেকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এই লক্ষ্য হল, উন্নত ভারত গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলা। আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন, গন্তব্য অভিন্ন – উন্নত ভারত গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য পূরণের সময় এধরনের একটি সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে যা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। এনএক্সটি শিখর সম্মেলনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোয় আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। দেশ-বিদেশ থেকে অনেকে এখানে এসেছেন যাদের মধ্যে অনেকেই আমার পূর্ব পরিচিত। আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাই। 

বন্ধুগণ, 

একবিংশ শতাব্দীর এই সময়কালটি অনেকটা “না ভূত ন ভবিষ্যতি”। একদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে আবারও বিঘ্ন ঘটছে। রাষ্ট্রসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই প্রতিকূল অবস্থাতেও আমাদের ভারত কিন্তু এগিয়ে চলেছে। আজ ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে যে দেশের নাম সবথেকে বেশি আলোচিত হচ্ছে সেটি হল ভারত। বর্তমান এই সংকটের সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং জ্ঞানী ব্যক্তিরা ভারতের থেকে অনেক কিছু আশা করেন। সম্প্রতি ফিনল্যাণ্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টুব ভারতে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অভিমুখ এখন নির্ধারণ করবে দক্ষিণী বিশ্ব। এক্ষেত্রে যে শক্তিশালী দেশ সেই লক্ষ্য স্থির করবে সেটি হল ভারত। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি-ও একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী তিন দশকে বিশ্বের অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র ভারতে স্থানান্তরিত হবে। ফরাসি রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ বিশ্বাস করেন, বিশ্বের বড় বড় সমস্যাগুলির সমাধান করতে গেলে ভারতকে প্রয়োজন। আজ আমরা যদি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সারাংশ দেখি তাহলে দেখবো সবাই একটা কথাই বলছেন, আপনি যদি ভবিষ্যতেও প্রাসঙ্গিক থাকতে চান তাহলে আপনাকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। 

 

বন্ধুগণ,

দিক কয়েক আগে, ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে, সকলেই এরজন্য অত্যন্ত খুশি। অফিসে আলোচনায় এমনকি বিদেশেও যাঁরা কোনও কাজ করছেন তাঁরাও কাজের ফাঁকে ফাঁকে খেলার স্কোর দেখেছেন। কেউ কেউ আবার জানতেও চেয়েছেন এখন স্কোর কত? এই একই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আজ সকলে অর্থনীতির ধারাবিবরণী শুনতে চাইছেন, গতমাসে ভারতের অর্থনীতির অবস্থা কি ছিল? আজ কি অবস্থা? দেশবাসী এইসব বিষয় জানার জন্য অত্যন্ত উৎগ্রীব। আমার মনে পড়ছে না এর আগে এই বিষয়টি নিয়ে কবে এত আলোচনা হয়েছে। আর যদি হয়েও থাকে তাহলে কোন সময়ে হয়েছে। ভারতবাসীর উচ্চাকাঙ্খা এবং আত্মবিশ্বাস আজ তুঙ্গে। তাই সারা পৃথিবীর ভারতের প্রতি আস্থা গড়ে ওঠেছে।   


বন্ধুগণ,

নিশ্চিতভাবে যখন অনেকগুলি প্রত্যাশ্যা থাকে, যখন সারা পৃথিবী আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে তখন আমাদের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়ে যায়। 
 

বন্ধুগণ, 

আজ ভারত শুধু যে এগিয়ে যাচ্ছে তাই নয়, আগামীদিনের পরিকাঠামোও তৈরি করছে। আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে চলেছি। ইউপিআই ডিজিটাল লেনদেনের পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারা পৃথিবীর মধ্যে দ্রুততম পদ্ধতিতে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে।   


বন্ধুগণ, 

ভারত পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। রিফর্ম এক্সপ্রেস ছুটে চলেছে। একটা সময় ভারতে একসঙ্গে অনেক কাজ এবং অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অসম্ভব বলে বিবেচনা করা হতো, আজ ভারত সেই সিদ্ধান্তগুলিই নিচ্ছে। একসময় বলা হতো সংবিধানের ১৭০ ধারা বিলোপ সম্ভব নয়, কিন্তু আজ জম্মু-কাশ্মীরে ১৭০ ধারা বিলোপ করা হচ্ছে। আগে ভাবা হতো সকলকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় যুক্ত করা সম্ভব নয় কিন্তু আজ ৫০ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। একসময় ভাবা হতো, তিন তালাক প্রথা বিলোপ করা সম্ভব নয়, আজ মুসলিম বোনেরা সেই অবিচার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। লোকসভা এবং বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা তো কল্পনাই করতে পারতেন না, কিন্তু আজ সেই আইনও বলবত হয়েছে। অতীতে মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলি আলোচিত হতো, কিন্তু আজ চন্দ্র অভিযান, সেমিকন্ডাক্টর মিশন, কোয়ান্টাম মিশন- প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত সম্মুখ সারিতে রয়েছে।    

 

বন্ধুগণ,

আজ ভারত শুধু স্বপ্নই দেখছে না সেই স্বপ্নকে পূরণও করছে। তাই সারা পৃথিবী  বলছে ভারতের খালি উন্নতিই হচ্ছে না, ভারত আগামীর দিকে এগিয়ে চলেছে। 

বন্ধুগণ,

কোনও দেশের উন্নয়ন যাত্রায় বিভিন্ন সমস্যার কীভাবে সমাধান করা হচ্ছে সেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। আমরা সকলেই জানি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। বছর কয়েক আগে আমরা করোনা অতিমারি দেখেছি, তারপর দেখেছি রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট, আর এখন আরেকটি বড় যুদ্ধ আমাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছে। এই যুদ্ধ সারা পৃথিবীকে জ্বালানীর বড় এক সংকটের  সম্মুখীন করেছে।    

বন্ধুগণ,

এই পরিস্থিতিতে আমাদের দেশ কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করবে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমগ্র দেশ যেকোনও সংকটের সময় পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে ধৈর্য্য সহকারে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করে, মানুষকে সচেতন করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সকলেরই ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সংবাদ মাধ্যম, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা, যুব সম্প্রদায়, গ্রাম, শহর – প্রত্যেকের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। করোনার সময়কালে সকলে একজোট হয়ে কীভাবে সংকটের মোকাবিলা করেছিল তা আমরা দেখেছি। আজ দেশের সামনে আরেকটি চ্যালেঞ্জ এসেছে, তাই জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

বন্ধুগণ,

এখন রান্নার গ্যাস নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাইছে। এই সময়কালে আমি তাদের সম্পর্কে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করবো না, তবে আমি একটা কথা বলব, তারা নিজেরা আসলে কি সেটি মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের ক্ষতি করতে চাইছেন।  


বন্ধুগণ,

আন্তর্জাতিক এই সংকটের প্রভাব থেকে কোনও দেশই মুক্ত নয়। কমবেশি সকলেই পরিস্থিতির শিকার। ভারত সরকারও এই সংকট নিরসনে সবরকমের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমি গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। সরবরাহ শৃঙ্খলে যে বিঘ্ন ঘটছে তা দূর করতে আমরা উদ্যোগী হয়েছি।   


বন্ধুগণ,

ভারতে দ্রুত উন্নয়নকে সহায়তা করতে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানীর ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগটিকে শক্তিশালী করতে আমরা দুভাবে কাজ করে চলেছি। প্রথমত দেশে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানী সংগ্রহ করতে আমরা পরিকাঠামো গড়ে তুলছি। দ্বিতীয়ত, জ্বালানীর জন্য যাতে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে না হয় তারজন্যেও আমরা কাজ করছি। জ্বালানী ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে উঠতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি আপনাদের কাছে গ্যাসক্ষেত্রের সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরবো। ২০১৪ সালে দেশে ১৪ কোটি রান্নার গ্যাসের সংযোগ ছিল, দেশের মোট পরিবারের অর্ধেকের কাছে এলপিজি গ্যাসের সংযোগ পৌঁছেছিল, আজ ৩৩ কোটি বাড়িতে রান্নার গ্যাসের সংযোগ পৌঁছেছে। গত ১১ বছরে আমরা গ্যাস সিলিন্ডার ভরার ক্ষমতা দ্বিগুণ করেছি। সরবরাহ কেন্দ্র ১৩,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,০০০ হয়েছে। ২০১৪ সালে দেশে মাত্র ৪টি এলএনজি টার্মিনাল ছিল আজ সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৪ সালে ৩,৫০০ কিলোমিটার গ্যাসের পাইপলাইন ছিল, আজ তা বৃদ্ধি পেয়ে ১০,০০০ কিলোমিটার হয়েছে। দেশে রান্নার গ্যাসের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। গ্যাস আমদানির জন্য দেশের বড় বড় বন্দরগুলিতে ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।    

 

বন্ধুগণ,

২০১৪ সালের আগে পিএনজির মাধ্যমে পাইপে করে মাত্র ২৫ থেকে ২৬ লক্ষ বাড়িতে ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হতো। আজ সেই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষতে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালে ১০ লক্ষ গাড়ি সিএনজিতে চালানো হতো, আজ সেই সংখ্যা ৭০ লক্ষের বেশি। সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গত ১ দশকে ৬০০-এর বেশি জেলায় পৌঁছে গেছে তাই এগুলি সম্ভব হয়েছে।  
 

বন্ধুগণ, 

আন্তর্জাতিক এই সংকট আরও একবার দেখিয়ে দিলো প্রতিটি দেশের কেন আত্মনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। আর তাই গত কয়েক বছর ধরে আমরা জ্বালানী ক্ষেত্রে ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলার জন্য সর্বাঙ্গীণ এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। 

বন্ধুগণ,

পেট্রোলিয়ামের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে আমরা ইথানল এবং বায়োফুয়েলের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হয়েছি। ২০১৪ সালের আগে দেশে মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ ইথানল মিশ্রণের ক্ষমতা ছিল। আজ পেট্রোলের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলি যদি না নেওয়া হতো তাহলে গত ১১ বছরে আমাদের ১৮ কোটি ব্যারেল অতিরিক্ত তেল কিনতে হতো। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বলা যায় ইথানলের জন্য আমরা প্রতিবছর ৪.৫ কোটি ব্যারেল কম তেল আমদানি করছি। এরফলে আমাদের দেড় লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। 

বন্ধুগণ, 

ভারতে পেট্রোলিয়ামের এক বৃহৎ উপভোক্তা হল আমাদের রেল। ৬০ বছর আগে রেলপথের বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট রেলপথের মাত্র ২০ শতাংশে এই কাজ শেষ হয়। বাকি পথগুলিতে হাজার হাজার ডিজেল ইঞ্জিন চলতো। আজ ব্রডগেজ নেটওয়ার্কে প্রায় ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ হয়েছে। ফলে ২০২৪-২৫ সালে ভারতীয় রেল প্রায় ১৮০ কোটি লিটার ডিজেল সাশ্রয় করেছে। বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ না হলে প্রতিবছর বাড়তি অশোধিত তেল আমদানি করতে হতো। একইভাবে আমরা মেট্রোরেলের সম্প্রসারণ করছি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছি।    


একইভাবে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানীর ক্ষেত্রে আমরা বড় উদ্যোগ নিয়েছি। আজ দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অর্ধেক আসছে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে। এক্ষেত্রে আমরা এক ইতিহাস গড়েছি। বর্তমানে দেশের ২৫০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একবার ভাবুন, ২০১৪ সালে ভারতের সৌরশক্তি উৎপাদিত হতো মাত্র ২ গিগাওয়াট, আজ তা ৪০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩০ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। বাড়িতে গ্যাসের পরিবর্তে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনা বাস্তবায়িত হয়েছে। ৩০ লক্ষ পরিবার তাদের বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়েছে।  

   
বন্ধুগণ,  

এছাড়াও আমরা গোবর্ধন প্রকল্প নিয়েও কাজ করছি। এই প্রকল্পে কমপ্রেসড বায়োগ্যাস তৈরি করা হচ্ছে। এপর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০০টি বায়োগ্যাস তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। আরও ৬০০টি কারখানার কাজ চলছে। 

 

বন্ধুগণ, 

পেট্রোল এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হয়েছি। ২০১৪ সালের আগে ভারতে কৌশলগতভাবে পেট্রোলিয়াম মজুত রাখার কোনও ব্যবস্থাই ছিল না। সংকটের সময়ে অশোধিত তেল জমা রাখার কোনও সুযোগ ছিল না। আজ আমাদের ৫০ লক্ষ টন পেট্রোলিয়াম মজুত রাখার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এই ক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে। গত ১ দশকে আমাদের তেল শোধনাগারগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এইভাবেই ভারত শোধিত তেলের বৃহৎ কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছে। যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা যে আমরা করতে পারবো, সেবিষয়ে আমরা নিশ্চিত। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা যেমন সংগঠিতভাবে করোনা সমস্যার সমাধান করেছে, একইভাবে এই আন্তর্জাতিক সংকটও মোকাবিলা করতে পারবো। আমি আবারও বলতে চাই সরকার এক্ষেত্রে কোনওরকমে শৈথিল্যকে প্রশয় দেবে না। জনস্বার্থকে সবসময়ই গুরুত্ব দেওয়া হবে।  


বন্ধুগণ, 

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত আমরা দেখেছি কীভাবে এই যুদ্ধগুলি আন্তর্জাতিক বাজারকে প্রভাবিত করে। যুদ্ধের বোঝা যাতে দেশবাসীর কাঁধে না এসে পড়ে তারজন্য সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ ভারত সরকার গ্রহণ করেছে। যেমন ধরুন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের ফলে সারের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে। এক ব্যাগ ইউরিয়া আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, আমরা কৃষকদের কাছে তা ৩০০ টাকায় পৌঁছে দিতাম। অন্যদেশে ৩,০০০ টাকা দিতে  হলেও আমাদের দেশে তা ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়। এক্ষেত্রেও দাম ওঠানামার ফলে আমাদের কৃষক সহ দেশবাসীর ওপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।  


বন্ধুগণ, 

বর্তমান সময়ে রাজ্য সরকারগুলির কাছে আমাদের কিছু অনুরোধ আছে, কালোবাজারি যাতে না হয়, গুজব যাতে না ছড়ায় তার জন্য পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে। যারা কালো বাজারিতে যুক্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। 

বন্ধুগণ, 

গত এক দশকে স্বনির্ভর হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আমরা উদ্যোগী হয়েছি। আমাদের দেশের বহু মানুষকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন। দিল্লিতে বসে থাকা কংগ্রেস সরকারগুলি সেই বিষয়টি ভুলেই গিয়েছিল। আমাদের সরকার উন্নয়ন যাত্রায় যাতে কেউ বাদ না পড়ে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। আজ গৃহনির্মাণ, সড়ক নির্মাণ এবং স্কুল কলেজগুলির মতো বিভিন্ন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। উচ্চাকাঙ্খী জেলা প্রকল্প, উচ্চাকাঙ্খী ব্লক প্রকল্প এবং পিএম জনমন প্রকল্প কার্যকর করা হচ্ছে। 

বন্ধুগণ,   

কংগ্রেস সরকারের বড় অন্যায় হল তারা দেশের বিস্তৃর্ণ অঞ্চল মাওবাদীদের হাতে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। দেশের প্রায় সব বড় বড় রাজ্যগুলিতে মাওবাদী সমস্যা ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে যে সংকল্প নেওয়া হয়েছে, আমরা তার ফল উপলব্ধি করতে পারছি। ২০১৩ সালে ১৮০টির বেশি জেলায় মাওবাদী সমস্যায় দীর্ণ ছিল, আজ সেই সংখ্যা ১ অঙ্কে নেমে এসেছে।  
 

বন্ধুগণ,  

শুধুমাত্র গত বছরই ২১০০ জন নক্সাল আত্ম সমর্পণ করেছিল। ৯০০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছে। যারা অস্ত্র ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল না, এধরনের ৩০০ জন নক্সাল নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ফলস্বরূপ অতীতে যে অঞ্চলগুলিতে মানুষ ভয়ে ভয়ে বেঁচে থাকতো সেখানে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। 

বন্ধুগণ,  

ভারত যে গতিতে এগিয়ে চলেছে তার থেকে এটি স্পষ্ট যে দেশের উন্নয়নকে থামানো অসম্ভব। ১৪০ কোটি ভারতবাসী আরও উচ্চাকাঙ্খী হয়ে উঠেছেন। আমি জানি, যখন একটি স্বপ্নপূরণ হয় তখন নতুন স্বপ্ন, নতুন উচ্চাকাঙ্খা তৈরি হয়। আমি একে কোনও বোঝা বলে বিবেচনা করি না, বরং এটিকে মানুষের আস্থার মূলধন বলে মনে করি। হ্যাঁ... আমার কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী রয়েছেন দেশে। এরা মনে করেন উচ্চাকাঙ্খার বোঝায় মোদী একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের চাহিদা এতটাই বাজে যে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। দেশবাসীর আশীর্বাদ যতক্ষণ রয়েছে, ততক্ষণ তাদের আশা পূরণ হবে না। এখন শুধু ১৪০ কোটি ভারতবাসীর উচ্চাকাঙ্খা পূরণ করতে হবে। ভারতকে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত উন্নতি করবে। এই ভাবনা নিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি। আপনাদের সকলকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India expands export reach, enters new global markets: Yashvir Singh, Department of Commerce Additional Secretary

Media Coverage

India expands export reach, enters new global markets: Yashvir Singh, Department of Commerce Additional Secretary
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Narendra Modi shares a Sanskrit Subhashitam highlighting agriculture and crops as the foundation of human life
June 11, 2026

Prime Minister Shri Narendra Modi shared a Sanskrit Subhashitam today highlighting that agriculture is not merely a means of livelihood, but the fundamental basis of the nourishment of society and the nation.

The Prime Minister posted on X:

"कृषि केवल जीविका का साधन नहीं, बल्कि समाज और राष्ट्र के पोषण का मूल आधार है। हमारे किसान भाई-बहनों का पसीना जब मिट्टी में मिलता है तो अन्न बनकर देशवासियों के जीवन को संबल देता है।

ते कृषिं च सस्यं च मनुष्या उप जीवन्ति।
कृष्टराधिरुपजीवनीयो भवति य एवं वेद॥

#12YearsOfKisanSamriddhi"

Agriculture and crops are the very foundation of human life. One who understands this truth carries out agricultural work properly and through it, society is sustained and nourished.