উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জি, আমার সহকর্মী অশ্বিনী বৈষ্ণব জি, জিতিন প্রসাদ জি, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীগণ, ফক্সকন সেমিকন্ডাক্টর বিজনেস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট বব চেন, এইচসিএল টেকনোলজিসের চেয়ারপার্সন রোশনী নাদার জি, শিল্প জগতের নেতৃবৃন্দ, ভদ্রমহোদয় ও মহোদয়াগণ!
উন্নত দেশের হওয়ার লক্ষ্যে ভারত আজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে। ২০২৬-এর শুরু থেকে এই গতি আরও বেড়েছে। ১২ জানুয়ারি বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ-এ লক্ষ লক্ষ তরুণ যোগ দিয়েছিলেন। ১৬ জানুয়ারি আমরা জাতীয় স্টার্টআপ দিবস পালন করেছি, যা ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবে নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। জানুয়ারিতেই ইন্ডিয়া এনার্জি সামিটে ভারত বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছিল। গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রনেতা, প্রযুক্তি দুনিয়ার কর্তাব্যক্তি, সকলেই দিল্লিতে সমবেত হয়েছিলেন। মাত্র গতকাল এই শীর্ষ বৈঠকের সমাপ্তি ঘটেছে এবং এখন আমরা ভারতে সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত এক বড় কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠছি।

বন্ধুগণ,
ভারত এখন বিশ্বের সেরা দেশগুলির সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই ভারত কাজ করে চলেছে। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের যে, উত্তরপ্রদেশও ভারতের সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডলের এক বড় কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এইচসিএল এবং ফক্সকনের নতুন ইউনিট উত্তরপ্রদেশের নতুন পরিচয়কে আরও জোরদার করবে। উত্তরপ্রদেশের একজন সাংসদ হিসেবে এটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। এই সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ইউনিটে উত্তরপ্রদেশ এবং দেশের অন্য অংশের বিপুল সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান হবে।
বন্ধুগণ,
আমি প্রায়ই বলি, এই দশক হল ভারতের প্রযুক্তির দশক। এই দশকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত যা কিছু করছে, তা ২১ শতকে আমাদের সম্ভাবনার ভিত্তি হয়ে উঠবে। পরিবেশবান্ধব শক্তি, মহাকাশ প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উৎপাদন প্রযুক্তি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যাই হোক না কেন, ভারত আজ প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিনিয়োগ করে চলেছে, যা মানুষের ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করবে। ভারতে শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর পরিমণ্ডলের উন্নয়ন এর এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেমিকন্ডাক্টর মিশনের আওতায় ভারতে এ পর্যন্ত ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ইউনিট খুব শীঘ্রই তাদের উৎপাদন শুরু করতে চলেছে।
বন্ধুগণ,
বিকশিত ভারত তখনই তৈরি হবে, যখন ভারত নিজেই স্বনির্ভর হবে এবং সেই কারণে মেক-ইন-ইন্ডিয়া চিপ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেক ইন ইন্ডিয়া চিপ থাকলে আমাদের আর অন্যদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। ডিজিটাল ইন্ডিয়া, এআই, ৫জি-৬জি, বৈদ্যুতিন গাড়ি, প্রতিরক্ষা – আজ প্রতিটি ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর একান্ত প্রয়োজনীয়।

বন্ধুগণ,
ফক্সকন-এর মত বড় সংস্থা আজ ভারতে আসছে এবং চিপ তৈরিতে সহায়তা করছে, যা বিশ্বের কাছে এক বার্তাও দিচ্ছে। ভারতের মতো একটা গণতান্ত্রিক দেশ বিশ্বের এক বিশ্বস্ত অংশীদার। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে আজ বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এর বড় কারণ হল, ভারতেরও প্রতিভা রয়েছে। ভারত সরকার স্টার্টআপ কর্মসূচিতে চিপের কাজও শুরু করেছে। ভারতের লক্ষ্য হল, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের ক্ষেত্রে ৮৫ হাজারের বেশি তরুণকে শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তোলা। এই বছরের বাজেটে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই বছরের বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, দেশে রেয়ার আর্থ করিডোর গড়ে তোলা হবে, যা সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে ব্যাপক উৎসাহ যোগাবে।
বন্ধুগণ,
কয়েক বছর আগে দেশ যখন মেক ইন ইন্ডিয়ার সংকল্প গ্রহণ করেছিল, তখন কিছু মানুষ সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আজ মেক ইন ইন্ডিয়া এক শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিগত ১১ বছরে ভারতে বৈদ্যুতিন উৎপাদন প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে। বৈদ্যুতিন রপ্তানিও বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮ গুণ। মোবাইল ফোন উৎপাদন ২৮ গুণের বেশি বেড়েছে এবং আমাদের মোবাইল ফোন রপ্তানি বেড়েছে ১০০ গুণেরও বেশি।
বন্ধুগণ,
ভারতের উৎপাদন সাফল্যের পেছনে এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে উত্তর প্রদেশ। উত্তর প্রদেশের উৎপাদন নিয়ে আজ আলোচনা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা লগ্নির খবর শিরোনামে আসছে। এখানে নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি হচ্ছে। আজ উত্তরপ্রদেশ এই এক্সপ্রেসওয়ের রাজ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা করিডরের জন্য আলোচনায় উঠে আসছে উত্তরপ্রদেশের নাম। দেশ এবং বিশ্বের মানুষের কাছে উত্তর প্রদেশ একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

বন্ধুগণ,
বিশ্বের লগ্নিকারীরা আজ উত্তর প্রদেশে আসছেন, কারণ তাঁরা জানেন, তাঁদের লগ্নির বিনিময়ে বড় লাভ সুনিশ্চিত। পণ্য পরিবহণ করিডরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে, যা গোটা অঞ্চলের উন্নয়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট উত্তর প্রদেশের উন্নয়নে আরও গতি আনবে।
আপনাদের সকলকে আবার শুভেচ্ছা জানাই।
আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।


