প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি নিকোস ক্রিস্টোড্যুলাইডেস, ২০-২৩ মে ২০২৬ পর্যন্ত ভারত সফর করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সিলে সাইপ্রাসের সভাপতিত্বকালে এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৫-এর জুন মাসে সাইপ্রাস সফরের ফলে যে  ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করে এই সফর সম্পন্ন হয়েছে। সেই সফর একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল এবং এটি ভারত-সাইপ্রাস সম্পর্ককে একটি ফলাফল-ভিত্তিক ও বাস্তব পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সূচনা করে।

উভয় নেতা ২০২৫ সালে জারি করা যৌথ ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক আলাপচারিতার অগ্রগতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সূচনা। পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারত-সাইপ্রাস অংশীদারিত্বের গভীরতাকে স্বীকৃতি দিয়ে, নেতৃবৃন্দ নতুন বাস্তবতা ও সুযোগকে প্রতিফলিত করার জন্য দ্বিপাক্ষিক ব্যাপক অংশীদারিত্বকে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছেন।

২২ মে ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের মা্ননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টোড্যুলাইডেসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি রাজঘাটে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি শৌধে  শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মাননীয়া রাষ্ট্রপতি এই সফররত বিশিষ্ট অতিথির সম্মানে একটি ভোজসভারও আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টোড্যুলাইডেস ২২ মে ২০২৬ তারিখে নতুনদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তৃত মত বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে ভারত ও সাইপ্রাসের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা ভারত-ইইউ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
দুই নেতা ভারত-সাইপ্রাস ব্যাপক অংশীদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উচ্চ রাজনৈতিক স্তরে নিয়মিত যোগাযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফরের সময় ঘোষিত ভারত-সাইপ্রাস যৌথ কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯ বাস্তবায়নে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় পক্ষ ২০২৭ সালে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৬৫তম বার্ষিকী উদযাপনেও সম্মত হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টোড্যুলাইডেসএআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ সফলভাবে আয়োজন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাইপ্রাসের প্রতিনিধিত্ব করেন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল নীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং তিনি শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রটি অনুমোদন করেন। উভয় নেতা এআই-এর নিরাপদ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার বিষয়ে তাঁদের মতামত বিনিময় করেছেন।

অভিন্ন মূল্যবোধ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা

দুই নেতা শান্তি, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, কার্যকর বহুপাক্ষিকতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি তাঁদের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের উপর ভিত্তি করে একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, অবাধ বাণিজ্য এবং সার্বভৌম সামুদ্রিক অধিকারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ সমুদ্র আইন সনদ (ইউএনসিএলওএস)-এর উপর জোর দিয়েছেন।

উভয় নেতা জরুরি আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা রাষ্ট্রসংঘ ও কমনওয়েলথসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।

উভয় নেতা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে এটিকে আরও কার্যকর, দক্ষ এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী করে তোলার উপায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিষয়সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলোতে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার বিষয়ে আন্তঃসরকারি আলোচনা সমাপ্ত করার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন। সাইপ্রাস একটি সংস্কারকৃত রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষ রাষ্ট্রসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক মঞ্চে একে অপরের প্রার্থি হওয়া সহ ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমর্থনে সম্মত হয়েছে।

সার্বভৌমত্ব ও শান্তির প্রতি সমর্থন

সাইপ্রাস ও ভারত, রাষ্ট্রসংঘের সম্মত কাঠামো এবং প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব  অনুসারে, রাজনৈতিক সমতা ও একটি দ্বি-আঞ্চলিক ও দ্বি-সাম্প্রদায়িক ফেডারেশনের ভিত্তিতে সাইপ্রাস প্রশ্নের একটি ব্যাপক, ন্যায়সঙ্গত এবং স্থায়ী নিষ্পত্তি অর্জনের জন্য আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। তারা সাইপ্রাসে রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং এর ম্যান্ডেটের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছে। রাষ্ট্রপতি ক্রিস্টোডুলাইডস ইউএনএআই সিওয়াইপি-তে ভারতের মূল্যবান অবদানের জন্য তাঁর প্রশংসা করেছেন।

ভারত সাইপ্রাস গণতন্ত্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং ঐক্যের প্রতি তার অবিচল ও ধারাবাহিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই একটি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য প্রাসঙ্গিক রাষ্ট্রসংঘ প্রস্তাবনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।

নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ দমন

উভয় নেতা আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদসহ এর সকল রূপ ও প্রকাশের সন্ত্রাসবাদের দ্ব্যর্থহীন ও সুস্পষ্ট নিন্দা জানিয়েছেন। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাইপ্রাস ভারতের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

উভয় নেতা ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলা এবং ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর নতুনদিল্লির লালকেল্লার কাছে  জঙ্গি হামলার ঘটনার কঠোরতম নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, এই হামলার জন্য দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। উভয় নেতা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি ব্যাপক ও টেকসই পদ্ধতিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সিদ্ধান্তমূলক এবং সমন্বিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি ব্যাপক, সমন্বিত এবং টেকসই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে তাঁরা দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার মধ্যে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই প্রেক্ষাপটে, নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টা জোরদার করার এবং রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক ব্যাপক কনভেনশনের দ্রুত চূড়ান্তকরণ ও গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা রাষ্ট্রসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন দ্বারা চিহ্নিত সকল সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সত্তা, যার মধ্যে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির আওতাভুক্তরাও অন্তর্ভুক্ত, তাদের সহযোগী প্রক্সি গোষ্ঠী, সহায়তাকারী, পৃষ্ঠপোষক, অর্থায়নকারী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন।

তাঁরা সহিংস চরমপন্থা ও মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং অর্থ পাচার মোকাবেলায় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং জঙ্গি নিয়োগ মোকাবেলার কথাও বলেছেন। উভয় পক্ষ রাষ্ট্রসংঘ এবং ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর মাধ্যমে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও পরিকাঠামো নির্মূল করা, জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছে।
তাঁরা সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাঁদের শূন্য-সহনশীলতার নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দ্বৈত নীতি, রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষিত সন্ত্রাসবাদ ও যেকোনো পরিস্থিতিতে এ ধরনের কাজের যেকোনো অজুহাতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নেতৃবৃন্দ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি যৌথ কার্যকরী গোষ্ঠী (জেডব্লিউজি) গঠনের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। 
উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে সাইবার জগতে নতুন ও উদীয়মান হুমকি মোকাবেলায়, বর্তমান ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার বিষয়টি দুই নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, নেতৃবৃন্দ দুই দেশের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত  আলোচনা শুরুর বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছেন।

তাঁরা নিজ নিজ প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, নেতৃবৃন্দ সাইপ্রাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ ক্লাস্টার (সিওয়াইডিএসআইসি) এবং সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারার্স (এসআইডিএম)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ভারত-সাইপ্রাস দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে দুই নেতা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার (এসএআর) সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য কারিগরি চুক্তি স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানিয়েছেন। এগুলি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত ভারত-ইইউ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের গতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা এবং প্রযুক্তি অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে, পাশাপাশি বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে ২০২৬-২০৩১ সময়কালের জন্য দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রোডম্যাপ সমাপ্ত হওয়ায় নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন।

ভারত ও সাইপ্রাস যেহেতু গভীর নৌ ঐতিহ্যসম্পন্ন সামুদ্রিক দেশ, তাই উভয় নেতা সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজের নিয়মিত বন্দর পরিদর্শন এবং সামুদ্রিক সচেতনতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যৌথ সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ ও মহড়ার সুযোগ অন্বেষণ।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন

উভয় নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁরা বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার পাশাপাশি সেগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

নেতারা ভারতে সাইপ্রাস থেকে বিনিয়োগের ধারাবাহিক বৃদ্ধিকে স্বাগত জানান। এটি সাইপ্রাসকে ভারতে বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে। তাঁরা স্টার্টআপ, ডিজিটালাইজেশন, এআই এবং উদ্ভাবন-চালিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অব্যবহৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগানোর প্রতি তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্প্রদায়কে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোতে সক্রিয়ভাবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেন। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক পরিষেবা, সামুদ্রিক ক্ষেত্র, যোগাযোগ, লজিস্টিকস, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মহাকাশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন। নেতারা চলতি বছরের শুরুতে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের মাধ্যমে যে সুযোগগুলো তৈরি হবে, সেগুলোর ওপরও আলোকপাত করেন।

ফিনটেক সংযোগের মাধ্যমে শুধু আন্তঃসীমান্ত লেনদেনই নয়, আন্তঃসীমান্ত সংযোগও আরও শক্তিশালী হবে। নেতৃবৃন্দ আর্থিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গভীরতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালে এনআইপিএল এবং ইউরোব্যাঙ্ক সাইপ্রাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিও অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) টার্গেট ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সেটেলমেন্ট সিস্টেম (টিপস সিস্টেম)-এর সঙ্গে ভারতের ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর আন্তঃকার্যক্ষমতার জন্য একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছেন, যা নির্বিঘ্ন আন্তঃসীমান্ত লেনদেন সহজতর করবে এবং উভয় দেশের পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য লাভজনক হবে।

উভয় নেতা ত্রিপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্রমবর্ধমান গতিকেও স্বাগত জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা ভারত-গ্রীস-সাইপ্রাস (আইজিসি) ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিষদ প্রতিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন, যা ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা সংযোগ শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি এবং তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

২০২৫ সালের জুন মাসে লিমাসোলে অনুষ্ঠিত ভারত-সাইপ্রাস বিনিয়োগকারী গোলটেবিল বৈঠকের ফলে গড়ে ওঠা গতির ওপর ভিত্তি করে, এই সফরকালে মুম্বাইতে একটি ভারত-সাইপ্রাস বাণিজ্য মঞ্চের আয়োজন করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। মুম্বাইতে বাণিজ্যিক মঞ্চের ফাঁকে বি২বি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ দুই দেশের স্টার্টআপ, ইউনিকর্ন, উদ্ভাবনী পরিমন্ডল এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল নেটওয়ার্কের মধ্যে অব্যাহত সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। এটি উভয় দেশের স্টার্টআপ, ইনকিউবেটর, অ্যাক্সিলারেটর এবং উদ্ভাবনী সংস্থাগুলোর মধ্যে বিনিময়ের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করবে।

নেতৃবৃন্দ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সংযোগ শক্তিশালী করতে এবং বিশ্বস্ত সামুদ্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্তমসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে সামুদ্রিক ও নৌপরিবহন সহযোগিতার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে সাইপ্রাসের ভূমিকা এবং ট্রান্সশিপমেন্ট, স্টোরেজ, ডিস্ট্রিবিউশন ও লজিস্টিকসের জন্য একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়ে, তাঁরা পারস্পরিক সুবিধার জন্য সাইপ্রাস-ভিত্তিক এবং ভারতীয় সামুদ্রিক পরিষেবা প্রদানকারীদের নিয়ে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে উৎসাহিত করেন। এই প্রেক্ষাপটে, উভয় নেতা বিদ্যমান মার্চেন্ট শিপিং সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অধীনে সামুদ্রিক সহযোগিতার ইতিবাচক গতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হন।

সাইপ্রাসের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সামুদ্রিক পরিষেবা পরিমন্ডল এবং ভারতের দ্রুত সম্প্রসারণশীল সামুদ্রিক ও বন্দর পরিকাঠামোগত সক্ষমতার মধ্যেকার শক্তিশালী পরিপূরকতার কথা বিবেচনা করে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের একটি কৌশলগত স্তম্ভ হিসেবে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা ভারতীয় জাহাজ শিল্পের স্বার্থে সাইপ্রাসের একটি ইউরোপীয় সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং পরিচালন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনাকে স্বীকার করেছেন এবং ভারতীয় সামুদ্রিক অংশীদার ও সাইপ্রাসের জাহাজ শিল্প ও জাহাজ ব্যবস্থাপনা সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতর সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদে বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে, উভয় পক্ষ সামুদ্রিক পরিষেবা, বন্দর সংযোগ, লজিস্টিকস, সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সেইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব জাহাজ শিল্প এবং নিয়ন্ত্রক বিধি-বিধান প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

নেতারা বলেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী মোদী দুর্যোগ-মোকাবিলা পরিকাঠামো জোট (সিডিআরআই)-এ যোগদানের বিষয়ে সাইপ্রাসের আগ্রহ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন। উভয় নেতাই প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি দুর্যোগ-মোকাবিলা পরিকাঠামো ব্যবস্থায় বিনিয়োগ প্রসারের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে সিডিআরআই-এর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

নতুন এবং উদীয়মান প্রযুক্তির রূপান্তরকারী সম্ভাবনাকে স্বীকার করে নেতৃবৃন্দ বলেন যে, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিষয়ক এই সমঝোতা স্মারকটি গবেষণা কেন্দ্র, স্টার্টআপ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে। এর পাশাপাশি, নৈতিক ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ উদীয়মান ও টেকসই প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকেও উৎসাহিত করবে।

আন্তর্জাতিক অগ্রগতি, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে মহাকাশ ক্ষেত্রী গুরুত্বকে একটি অপরিহার্য পরিকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে, উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অংশীদারিত্বের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, ভারতের মহাকাশ নীতি ২০২৩ বেসরকারি সংস্থাগুলোকে মহাকাশ ক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি সহায়ক ও গতিশীল কাঠামো প্রদান করে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সুবিধার জন্য সহযোগিতা বৃদ্ধির বর্তমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, নেতৃবৃন্দ ইরাটোস্থেনিস সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (ইসিওই) এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার (ইন-স্পেস)-এর মধ্যে চলতি যোগাযোগকে স্বাগত জানান।

শিক্ষা, গতিশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন

নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থী ও গবেষকসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান আদান-প্রদানকে স্বাগত জানান। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন যে, এটি উভয় দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোকে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করতে, বিনিময় বাড়াতে এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণে একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে।

উভয়নেতা সুষমা স্বরাজ ইনস্টিটিউট অফ ফরেন সার্ভিস (এসএসআইএফএস) এবং সাইপ্রাসের বিদেশমন্ত্রকের ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমির মধ্যে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন।এটি কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণে সহযোগিতার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

উভয়নেতা একটি অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই চুক্তিটি নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনে সহযোগিতা সহজতর করার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করবে এবং উচ্চ দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের টেকসই কর্মশক্তি গতিশীলতাকে সমর্থন করবে।উভয়নেতা যত দ্রুত সম্ভব একটি সামাজিক নিরাপত্তা চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করতেও সম্মত হয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে, নেতৃবৃন্দ ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (আইসিএআই) এবং ইনস্টিটিউট অফ সার্টিফাইড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ সাইপ্রাস (আইসিপিএসি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই সমঝোতা স্মারকটি তরুণ হিসাবরক্ষকদের পেশাগত ও নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড উন্নয়নে অবদান রাখা, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষার সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময় করা এবং অর্থ ও ব্যবসায়িক পরিষেবা ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির একটি ভালো সুযোগ করে দেবে।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক

নেতারা ভারত ও সাইপ্রাসের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। তাঁরা সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। এটি দৃশ্যকলা, পরিবেশন শিল্পকলা, শিল্পকলার জন্য শিক্ষামূলক কর্মসূচি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পের ক্ষেত্রে আদান-প্রদান সহজতর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নেতারা যৌথ উদ্যোগ, প্রদর্শনী এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করার জন্য জাদুঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে উৎসাহিত করেন এবং সাইপ্রাসে যোগ, আয়ুর্বেদ ও ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রশংসা করেন।

নেতারা দ্বিমুখী পর্যটনের আরও বিকাশের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেন, যা উভয় দেশের জনগণের মধ্যে বৃহত্তর বোঝাপড়া তৈরিতে অবদান রাখবে। উভয় পক্ষ পর্যটন সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দিকে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াতে কাজ করতে সম্মত হয়।

নেতারা বলেন যে, ক্রমবর্ধমান জন সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিতে কনস্যুলার বিষয়ে সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য একটি আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা কনস্যুলার পর্যায়ে আলোচনার শুরুর বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন যে এটি কনস্যুলার সমস্যা নিরসন ও সহযোগিতা জোরদার করার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করবে।

ভারত-ইইউ সম্পর্ক

উভয় নেতা ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষ ২০৩০ সালের জন্য যৌথ ভারত-ইইউ ব্যাপক কৌশলগত কর্মসূচিও অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য হলো উভয় অংশীদার এবং বৃহত্তর বিশ্বের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক, সুনির্দিষ্ট এবং রূপান্তরমূলক ফলাফল অর্জন করতে ইইউ-ভারত সহযোগিতাকে বিস্তৃত, গভীর এবং আরও ভালোভাবে সমন্বয় করার মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। 
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে, নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভ্যালু চেইনকে বৈচিত্র্যময় করা এবং নতুন বাজার চালুর মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য এর দ্রুত স্বাক্ষর এবং সময়োপযোগী বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

নেতারা প্রধান বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ভারত-ইইউ বাণিজ্য ও প্রযুক্তি পরিষদের (টিটিসি) কার্যক্রম আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন এবং জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য টিটিসি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ভারত-ইইউ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তি, সাইবার ও হাইব্রিড হুমকি, মহাকাশ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা আরও গভীর হবে। এ প্রসঙ্গে দুই নেতা ভারত-ইইউ তথ্য নিরাপত্তা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করারও আহ্বান জানান।

‘গতিশীলতার উপর ব্যাপক সহযোগিতা কাঠামো’ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং ভারতে একটি পরীক্ষামূলক ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিগ্যাল গেটওয়ে অফিস চালুর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে দুই নেতা পেশাজীবী, দক্ষ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য আইনি পথ সুগম করা এবং ভারত ও ইইউ-এর মধ্যে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয়, সংযোগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী

উভয়নেতা ইউএনসিএলওএস সহ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং নিয়ম-ভিত্তিক ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারত-প্রশান্তমহাসাগরীয় মহাসাগর উদ্যোগে যোগদানের জন্য সাইপ্রাসের প্রশংসা করেছেন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারে সহযোগিতা গভীর করার সম্ভাবনার ওপর জোর দিয়েছেন।

উভয় নেতাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সংযোগ এবং সমৃদ্ধিকে নতুন রূপদান ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের রূপান্তরমূলক সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁরা পূর্ব ভূমধ্যসাগর এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য  তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ভারত থেকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত গভীরতর সম্পৃক্ততা ও আন্তঃসংযোগের করিডোর গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা একটি দ্বিপাক্ষিক সংযোগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

উভয়নেতা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘ সনদের নীতি অনুসারে ইউক্রেনে একটি পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে, মূল অংশীদারদের মধ্যে আলোচনা, কূটনীতি এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউক্রেনের সংঘাতের দ্রুত সমাধানে তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে, উভয় নেতৃবৃন্দ সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচলসহ অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আলোচনা ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।

উভয় নেতা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে ভারতের যোগদানের তাৎপর্যকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

উপসংহার
উভয় নেতা ভারত-সাইপ্রাস সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভারত-সাইপ্রাস কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, তাঁরা উভয় পক্ষকে ভারত-সাইপ্রাস যৌথ কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯-এর সময়মতো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নেতারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার অভিন্ন চেতনার উপর ভিত্তি করে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন।

সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি, তাঁর  সফরের সময় ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আয়োজিত চমৎকার আয়োজনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নেতারা শান্তি, স্থিতিশীলতা, সংযোগ এবং সমৃদ্ধি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর এবং ভারত-প্রশান্তমহাসাগরের মধ্যে কৌশলগত অংশীদার ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী হিসেবে সাইপ্রাস ও ভারতকে দেখার তাঁদের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তাঁরা ভারত-সাইপ্রাস যৌথ কর্ম পরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯-এর অধীনে বাস্তব ফলাফল অর্জনে এবং বৃহত্তর ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি গতিশীল স্তম্ভ হিসেবে ভারত-সাইপ্রাস সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এই সফরটি ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সম্পর্ককে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন পর্যায়ে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ বলে দুই নেতা একমত হন। সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতির এই সফর দুই দেশের অংশীদারিত্বকে সহযোগিতার আরও এক উচ্চাভিলাষী, আধুনিক, কৌশলগত এবং ভবিষ্যৎ-কেন্দ্রিক কাঠামোতে উন্নীত করবে। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
New Smart Drug RK-251 Developed as Replacement for Chemotherapy

Media Coverage

New Smart Drug RK-251 Developed as Replacement for Chemotherapy
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
The world is seeing India as a bright spot of growth and hope: PM Modi at Economic Times World Leaders Forum 2026
August 21, 2026
The world sees India as a bright spot for growth and hope: PM
Today, India is implementing next-generation reforms at the policy level and undertaking reforms at governance level: PM
Increasing production was met with punishment earlier but today, our government is providing incentives for boosting production
India has political stability and continuity in its policies: PM
Earlier, the approach of regulations was, 'prohibited unless permitted’; We are changing this approach and taking it towards 'permitted unless prohibited’: PM
The relationship between the government and citizens should be based on trust, not suspicion: PM
Today, we are shaping policies that are pro-people, pro-growth and pro-development: PM

World Leaders Forum का ये प्रतिष्ठित मंच, Business और Industry की दुनिया के सभी जाने माने दिग्गज, पॉलिसी मेकर्स, अन्य महानुभाव, देवियों और सज्जनों।

आप सबके बीच आकर के खुश होना बहुत स्वाभाविक भी है। इस साल समिट का फोकस Shared Future पर है। पिछले कुछ वर्षों में दुनिया ने अनेक उतार-चढ़ाव देखे हैं। और इन अनुभवों ने एक बात बहुत स्पष्ट कर दी है, कोई चाहे या ना चाहे, हर देश का भविष्य, उसका फ्यूचर, एक-दूसरे से जुड़ा हुआ ही है, Isolation में कुछ संभव नहीं है। इसीलिए Shared Futures की ये theme, आज और भी अधिक प्रासंगिक हो गई है। और भारत तो हमेशा से इसी भावना को लेकर चला है। जी-20 की अध्यक्षता में इसलिए ही भारत का मंत्र रहा, One Earth, One Family, One Future. Shared Future की ये भावना और इसके साथ जुड़ा दायित्वबोध, 21वीं सदी के इस विश्व की अनेक समस्याओं का समाधान देता है।

साथियों,

आज दुनिया में growth को लेकर के कई तरह की चिंताएं हैं। दुनिया ने बड़ा भयंकर एक रूप देखा है इन दिनों। Resources का वेपनाइजेशन हो रहा है। अविश्वास का वातावरण विश्व के लिए अनेक नई चुनौतियां लेकर के आ रहा है। लेकिन ऐसे समय में भी, दुनिया भारत को growth और hope के bright spot के रूप में देख रही है। भारत ने पिछले 10-12 साल में अपनी 25 करोड़ आबादी को गरीबी से बाहर निकाला है। इतना ही नहीं, अगर आने वाले दिनों की चर्चा करें, तो IMF का forecast है कि भारत दुनिया की fastest growing major economy बना रहेगा। और भारत निरंतर वो कदम उठा रहा है, जो उसके विकास को गति दे रहे हैं।

Friends,

अभी पिछले हफ्ते ही, 15 अगस्त को मैंने लाल किले से सप्त-धारा की सप्त-शक्तियों की बात की है। मैन्यूफैक्चरिंग, टेक्नोलॉजी और इनोवेशन, फूड प्रोसेसिंग, ग्रीन और ब्लू इकोनॉमी समेत, मैंने ऐसे सात सेक्टर्स की बात की है, जिन पर भारत का आज बहुत ज्यादा फोकस है। और इसलिए भारत आज, Policy level पर, नेक्स्ट जनरेशन reforms कर रहा है, ताकि हमारा future सुरक्षित हो। Governance पर reforms कर रहा है, Ease of Living के लिए reforms कर रहा है। पिछली बार जब मैं इसी मंच के माध्यम से आपसे जुड़ा था, तब भी मैंने कहा था, ये Reforms हमारे लिए Compulsion नहीं है। ये हमारा commitment है, ये हमारा conviction है।

साथियों,

2014 में, जब हमारी सरकार बनी, तो उसके बाद से ही रिफॉर्म्स ने कैसे देश की दिशा और दशा बदली है, मैं इसका एक बहुत दिलचस्प उदाहरण आपको देना चाहता हूं। यहां मौजूद शायद ही किसी को PLP के बारे में पता होगा, कोई है, जिसको PLP के बारे में पता है? अपना हाथ उठाएं। यहां इतने मीडिया के दिग्गज बैठे हैं, PLP आपको पता है? और आप सुनकर के हैरान हो जाएंगे। PLP यानी प्रोडक्शन लिंक्ड पनिशमेंट, इसके बारे में किसी को पता नहीं है। और एक दूसरा टर्म आपने जरूर सुना है PLI, ये ज्यादातर लोगों को पता होगा। PLI- यानी प्रोडक्शन लिंक्ड इंसेंटिव।

साथियों,

ये दोनों टर्म, भारत के दो अलग-अलग Time Period को डिफाइन करते हैं। आजकल Explainer का जमाना है, तो मैं आपको Explain करता हूं।

साथियों,

आज की युवा पीढ़ी को ये सुनकर हैरानी होगी, कि हमारे देश में एक समय ऐसा भी था, कि अगर कोई कंपनी तय लिमिट से ज्यादा प्रॉडक्शन कर दे, तो उसे पनिशमेंट दिया जाता था। ये पहले की लाइसेंस राज वाली सरकारों का, PLP यानी प्रोडक्शन लिंक्ड पनिशमेंट मॉडल था। ऐसे भी उदाहरण रहे हैं कि अगर किसी फैक्ट्री ने ज्यादा डिमांड देखते हुए ज्यादा प्रॉडक्शन कर दिया, तो उसे नोटिस भेज दिया जाता था। मजबूरी में वो कंपनी अपना प्रॉडक्ट मार्केट में बेचने के बजाय, उसे खुद ही नष्ट कर देती थी।

साथियों,

आज जो लोग Make In India और आत्मनिर्भर भारत अभियान का मजाक उड़ाते हैं, उनके पुरखों की सोच यही थी, PLP यानी प्रोडक्शन लिंक्ड पनिशमेंट। ऐसा करने के पीछे एक विशेष तरह की विकृत मानसिकता काम करती थी। ऐसी मानसिकता वाले लोग हमेशा चाहते थे कि जरूरी चीजों की किल्लत बनी रहे। देश के नागरिकों को अभाव में रखना उनकी पॉलिसी थी। वो चाहते थे कि जनता उनके सामने हाथ जोड़े, हाथ फैलाए, आप समझ गए मैं किन लोगों की बात कर रहा हूं। लोगों से हाथ जुड़वाने के बाद उपकार करना, उन सरकारों का तरीका था, इसलिए वो प्रोडक्शन लिंक्ड पनिशमेंट मॉडल पर चलते थे। आप कल्पना कर सकते हैं, ऐसे करके उन लोगों ने Employment Generation के बेसिक principal का गला घोंट दिया था। और हैरानी ये, इन लोगों के दरबारियों ने again I repeat, इन लोगों के दरबारियों ने, कभी इसके खिलाफ कोई आवाज नहीं उठाई।

साथियों,

हर reform की शुरुआत सबसे पहले, आपके सोचने के तरीके, आपके मानसिक, किस रेंज में आप काम कर रहे हैं, इस सोच के reform से ही होती है। जहां पहले production बढ़ाने पर पनिशमेंट मिलता था, वहीं आज हमारी सरकार production बढ़ाने पर incentive दे रही है। और आज PLI स्कीम की सक्सेस दुनिया देख रही है। सिर्फ इस एक योजना की वजह से, मैं सारी योजनाओं की बात नहीं करता हूं, एक की बात करता हूं, करीब ढाई लाख करोड़ रुपए का actual investment हुआ है। 22 लाख करोड़ रुपए से ज्यादा का production और sales हुई है। 15 लाख करोड़ रुपए से ज्यादा का exports हुआ है, और 14 लाख से ज्यादा direct और indirect jobs बनी हैं। और मैं फिर याद दिलाउंगा, ये आंकड़े सिर्फ एक स्कीम के हैं। आप सोचिए, पहले का लाइसेंस राज वाली सरकार का पनिशमेंट मॉडल जहां बेरोजगारी बढ़ाता था, वहीं आज का हमारा incentive मॉडल लाखों नई जॉब्स क्रिएट कर रहा है।

साथियों,

आज भारत में ये तेज विकास, ये तेज रिफॉर्म इसलिए हो रहे हैं, क्योंकि भारत में और जिसका अभी सत्य ने उल्लेख किया, political stability है, हमारी policy में continuity है। पहले देश में रिफॉर्म्स की बात करने वाले घोषणा तो कर देते थे, बाद में भूल जाते थे। लेकिन हमने रिफॉर्म्स को लेकर एक क्लियर रोडमैप बनाया। इस रोडमैप की प्रमुख दिशा रही है- गवर्नेंस लेवेल के रिफॉर्म्स हों! इसके लिए, आज 21वीं सदी के भारत में, हम सिर्फ regulations नहीं बदल रहे हैं, हम regulation की पूरी philosophy बदल रहे हैं। पहले regulations की अप्रोच थी- “Prohibited unless permitted.” यानी जब तक सरकार इजाजत ना दे, तब तक आप वो काम नहीं कर सकते। हम इस approach को बदलकर, “Permitted unless prohibited” की तरफ ले जा रहे हैं। यानी, जो काम कानून ने स्पष्ट रूप से मना नहीं किया है, उसके लिए हर कदम पर permission की कोई जरूरत नहीं होनी चाहिए। और इसके पीछे सोच बहुत सीधी है, सरकार और नागरिक के रिश्ते का आधार, Suspicion नहीं, trust होना चाहिए।

साथियों,

यही सोच आपको Jan Vishwas बिल में भी दिखाई देती है। मैं मानता हूं, हर procedural गलती को criminal offence मान लेना ठीक नहीं है। इसीलिए अनेक offences को decriminalise किया गया है। कई मामलों में जेल की जगह केवल आर्थिक penalty का प्रावधान किया गया है। Government और enterprise के रिश्ते में, हम इसी reform mindset को आगे बढ़ा रहे हैं। बीते वर्षों में 40 हजार से ज्यादा compliances हटाए गए हैं, 40 thousand. डेढ़ हजार से ज्यादा, 15 hundred, डेढ़ हजार से ज्यादा, पुराने और बेकार हो चुके कानून हमने खत्म किए, और जब इन सारे reforms को एक साथ देखते हैं, तो अंदाजा होता है, हमारी industries और businesses के कंधों से कितना बड़ा बोझ कम हुआ है।

साथियों,

गवर्नेंस रिफॉर्म्स की इस प्रक्रिया, उस पर हम निरंतर काम कर रहे है। अभी संसद के मॉनसून सत्र में हमने ‘बैंकर्स बुक एविडेंस बिल’ पारित किया है। और वो भी तब जब विपक्ष ने संसद में लगातार गतिरोध बनाया हुआ था। हमने देश की सेवा करने का काम रूकने नहीं दिया। अब इस कानून ने 19वीं सदी के अंग्रेजी कानून को रिप्लेस किया है। अब बैंकों के डिजिटल रिकॉर्ड्स की स्वीकार्यता को कानूनी मान्यता दी गई है। इससे कानूनी उलझनें कम होंगी, सिस्टम में पारदर्शिता होगी, Ease of Doing Business बढ़ेगा।

साथियों,

गवर्नेंस में रिफॉर्म का एक मतलब ये भी है कि सिस्टम ऐसे बनें, जिसमें एक-एक मानव जीवन और उसके समय के प्रति संवेदनशीलता हो। मैं रेलवे का उदाहरण देता हूं। हमारी रेलवेज में भी इसी अप्रोच के साथ काम हुआ है। आज साढ़े 6 हजार से ज्यादा रेलवे स्टेशनों पर इलेक्ट्रॉनिक इंटरलॉकिंग की व्यवस्था है। 10 हजार से ज्यादा लेवल क्रॉसिंग गेट्स को भी इंटरलॉकिंग से जोड़ा जा चुका है। इससे ह्यूमन एरर से होने वाले हादसों की आशंका बहुत कम हुई है।

साथियों,

जब 2014 में हमारी सरकार आई, तो करीब 9 हजार फाटक ऐसे थे जो Un-Manned थे। इन्हें हटाना कोई रॉकेट साइंस नहीं था। Un-Manned क्रॉसिंग्स की वजह से हजारों लोगों को अपनी जान गंवानी पड़ी, लेकिन पहले की सरकारों को इससे बहुत फर्क नहीं पड़ता था। हमने मिशन मोड में, गत दस वर्ष में, इन Un-Manned क्रॉसिंग्स को समाप्त कर दिया। हमने रोड ओवर ब्रिज और रोड अंडर ब्रिज बनाने की गति भी कई गुना बढ़ा दी। और इसी का नतीजा है कि 2014 के पहले के मुकाबले ट्रेन दुर्घटनाओं की संख्या में Ninety Percent तक की कमी आई है, 90, Ninety Percent. 12 साल पहले जहां एक साल में करीब डेढ़ सौ रेल दुर्घटनाएं होती थीं, वहीं अब इनकी संख्या घटकर 15-20 रह गई है। और हम इसे और कम से कम करने का प्रयास लगातार कर रहे हैं।

साथियों,

Railways में स्वच्छता भी गवर्नेंस रिफॉर्म का एक बड़ा उदाहरण है। एक समय था, जब रेल पटरियों पर गंदगी और human waste एक बड़ी समस्या हुआ करती थी। आज स्थिति पूरी तरह बदल गई है। 2014 से पहले हमारी ट्रेनों में जहां लगभग 12 हजार बायो-टॉयलेट्स लगाए गए थे, वहीं 2014 के बाद ट्रेनों में 3 लाख 60 हजार से ज्यादा बायो-टॉयलेट्स लगाए गए हैं। यानी, 97 प्रतिशत से ज्यादा बायो-टॉयलेट्स पिछले 12 वर्षों में लगे हैं। ये बदलाव सिर्फ सफाई का नहीं, यात्रियों की गरिमा, स्वच्छता और आधुनिक भारत के निर्माण की दिशा में गवर्नेंस का एक नया मॉडल है। ये करोड़ों यात्रियों को बेहतर अनुभव देने का अभियान भी है।

साथियों,

गवर्नेंस की क्वालिटी का एक और पैमाना, और वो पैमाना है - समय। जो प्रोजेक्ट शुरू हो, वो समय पर पूरा हो। और जो सर्विस लोगों को मिले, वो भी समय की कसौटी पर खरी उतरे। दिल्ली-मेरठ नमो भारत रैपिड रेल सिस्टम इसका बहुत अच्छा उदाहरण है। इस कॉरिडोर पर 160 किलोमीटर प्रति घंटे की रफ्तार से ट्रेनें चल रही हैं। ये हमारे देश में पहले कभी सोचा नहीं जा सकता था। अब तक 4 करोड़ से ज्यादा यात्री इसमें ट्रैवल कर चुके हैं। और इसका एक और अहम फैक्टर है, जिसकी चर्चा नहीं होती है। दिल्ली मेरठ नमो भारत रैपिड रेल की पंक्चुअलिटी 99.9 परसेंट है। वरना हम तो हर चीज में कहते हैं, लेट हो तो कहते थे, ये तो इंडियन टाइम है। वक्त बदला है, ये मैं छोटी-छोटी चीजें इसलिए बताता हूं, कि हमें अंदाज आए कि कितने बड़े व्यापक स्तर पर काम हो रहा है। इसी तरह, Delhi Metro की पंक्चुअलिटी। Delhi Metro की पंक्चुअलिटी 99.9 परसेंट है। और ये punctuality, New York, Hong Kong और Paris जैसे शहरों की Metro से करीब-करीब बराबर हो चुकी है। ये सिर्फ समय पर चलती हुई Metro और नमो रेपिड रेल की कहानी नहीं है, ये समय के साथ बदलते हुए भारत की पहचान है। मैं जानता हूं कि अभी भी, और र्मैं कोई इतने से संतोष मानकर बैठने वाला व्यक्ति नहीं हूं, अभी भी इस दिशा में हमें बहुत कुछ करना है, बहुत कुछ बाकी है, लेकिन हम लगातार कर रहे हैं। लेकिन एक शुरूआत तो हुई है और ये शुरुआत सराहनीय है।

साथियों,

हमारे रिफॉर्म्स रोडमैप का एक और बड़ा आयाम है- पॉलिसी लेवल पर होने वाले रिफॉर्म्स! आज हम ऐसी policies बना रहे हैं, जो pro-people हों, Pro-growth हों, pro development हों! पॉलिसीज़ देश और देश के लोगों की जरूरत के हिसाब से होनी चाहिए न कि पॉलिसीज़ बनाकर देश को उनके हिसाब से चलने को मजबूर होना पड़े! मैं आपको एक और Interesting उदाहरण देना चाहता हूं। कुछ साल पहले तक हमारे यहाँ देश का नक्शा बनाना भी गैर-कानूनी था, मैप बनाए तो गैर कानूनी था, आप जेल चले जाएंगे। बिना परमिशन के आप देश में मैपिंग का काम भी नहीं कर सकते थे। आप सोचिए, विदेशी सैटेलाइट टेक्नोलॉजी के जरिए भारत के किसी भी कोने को मैप कर सकती थी, लेकिन भारत में भारतीयों पर भारत का मैप बनाने पर पाबंदी लगी हुई थी।

साथियों,

आज टेक्नोलॉजी के इस दौर में, इस एक पाबंदी से कितने स्टार्टअप्स की हत्या हो सकती थी! कितने ideas implement होने से वंचित रह सकते थे! हमने इस व्यवस्था को भी बदला। हमने Geospatial डेटा का Deregulation किया और आज Geospatial डेटा कितने ही स्टार्टअप्स का आधार बन रहा है।

साथियों,

आज आप लगातार ड्रोन्स की उपयोगिता बढ़ते हुए देख रहे हैं। एग्रीकल्चर में, डिफेंस में, डिलिवरी में, शूटिंग में, कंटेंट क्रिएशन में, ये सब संभव ही नहीं होता, अगर सरकार ने इससे जुड़े नियमों में Reform नहीं किए होते। पहले देश में ड्रोन फ्लाइंग पूरी तरह नियमों में, बंधनों में जकड़ी हुई थी। हमने उसे बंधनों से आजाद किया, और आज भारत की ड्रोन इंडस्ट्री, एक अभूतपूर्व उड़ान के साथ आगे बढ़ रही है।

साथियों,

पहले border areas को लेकर सरकारों की सोच थी कि बॉर्डर पर roads और infrastructure बढ़ेगा, तो उसका फायदा दुश्मन भी उठा सकता है। हमने इस सोच को बदला। हमने कहा, Border infrastructure कमजोरी नहीं, देश की ताकत है। और इसीलिए आज border areas में roads, bridges और tunnels का network तेजी से बढ़ रहा है। सिर्फ 2024 और 2025 में ही, BRO के 250 infrastructure projects देश को समर्पित किए गए हैं। सोच बदली, तो border infrastructure की तस्वीर भी बदल गई।

साथियों,

एक उदाहरण न्यूक्लियर रिफॉर्म्स का भी है। एक ऐसे समय में, जब विकास पूरी तरह से energy dependent है, बंदिशों और प्रतिबंधों के कारण, देश अपने न्यूक्लियर potential का इस्तेमाल नहीं कर पा रहा था। हमने शांति बिल के जरिए इसमें भी बड़ा रिफॉर्म किया है। आज भारत में न्यूक्लियर एनर्जी में प्राइवेट सेक्टर के लिए रास्ता खुल चुका है। इसी तरह, हमने एक बड़ा पॉलिसी रिफॉर्म डिफेंस सेक्टर में भी किया। 200 साल के पहले जो व्यवस्था चली आ रही थी, उसे बदलकर हमने 40 से ज्यादा ordnance फैक्ट्रीज़ को मर्ज करके 7 फैक्ट्रीज़ बना दी। और उसका परिणाम हमें देखने को मिल रहा है। आज भारत अपनी रक्षा जरूरतों के लिए भी आत्मनिर्भर बन रहा है, और 2014 की तुलना में, हमारा डिफेंस एक्सपोर्ट 55 गुना बढ़ा है। और इसलिए, कई बार रिफॉर्म्स हमारे जीवन में इस तरह घुल-मिल जाते हैं कि हमारा उनकी तरफ ध्यान ही नहीं जाता। आप सोचिए, आपका कोई सामान्य दिन आज कैसे बीतता है। आप सुबह उठते हैं, फोन पर घर का सामान ऑर्डर कर देते हैं, और जब तक ऑफिस के लिए रेडी होते हैं, वो सारा सामान आपके घर आकर के पहुंच जाता है। आपकी गली के स्ट्रीट वेंडर से लेकर, आपकी गाड़ी के शो रूम तक, आपकी सारी पेमेंट्स, सिर्फ एक क्यूआर कोड स्कैन करके हो जाती है। अगर आपकी बेटी, किसी दूसरे शहर में पढ़ती है, तो आप फोन से उसे पैसे भेज सकते हैं, और वो पैसा, कुछ सेकंड्स में उसके पास भी पहुंच जाता है। कई बार तो बिटिया क्यूआर ही शेयर कर देती है कि ‘पापा-मां मैंने ये ड्रेस ले ली है, इसकी पेमेंट कर दीजिए, और आप उसकी शॉपिंग अपने घर बैठे-बैठे करवा देते हैं। ये चीजें Remarkable हैं, लेकिन अब ये कोई भारत के लोगों को कम से कम हैरानी नहीं होती, बाहर के लोग आते हैं, उनको आश्चर्य होता है, अच्छा ऐसे होता है। भारत के लोगों का रूटीन हो गया है। ये भारत के सामान्य मानवी के जीवन का हिस्सा बन चुका है। आप सोचिए, 2014 से पहले ऐसी कितनी ही बातें क्या पॉसिबल थीं?

साथियों,

भारत ने बीते 10-12 सालों में Ease of Living से जुड़े जो रिफॉर्म्स किए हैं, उसकी वजह से लोगों का, खासतौर पर हमारे मिडिल क्लास का जो जीवन बदला है, वो दुनिया के कई विकसित देशों में आज भी एक सपना ही है।

साथियों,

आज दुनिया का सबसे सस्ता डेटा भारत में है, हम सस्ते और अच्छे स्मार्टफोन्स बना रहे हैं। अभी सत्या ने उसका वर्णन किया। भारत दुनिया के fastest 5G rollouts करने वाले देशों में से एक है। हमने आधार को बैंकिंग, मोबाइल कनेक्टिविटी और सर्विसेज से जोड़कर, ई-के.वाई.सी और Digital Authentication जैसी सर्विसेज को पॉसिबल किया है। आज आपको अगर बैंक अकाउंट खोलना है, तो उसके लिए बैंक जाने तक की जरूरत नहीं है। सरकार ने बैंक को ही, आपके पास पहुंचा दिया है। आज चाहे कोई बिल जमा करना हो, कोई टिकट करानी हो, किसी सरकारी दफ्तर में जाने की जरूरत नहीं पड़ती, ये सारा काम ऑनलाइन हो जाता है। इनकम टैक्स की फाइलिंग का काम आसान हुआ है। ऐसी व्यवस्था बनी है कि फॉर्म में मैक्सिमम जानकारियां पहले से भरी होती हैं। आप ये इन्फॉर्मेशन वेरिफाई करते हैं, कुछ जोड़ना है तो जोड़ देते हैं, और सबमिट करते हैं, आपका काम पूरा हो जाता है। पहले जो रिफंड आने में महीनों लगते थे, अब वो भी कुछ ही दिनों में आ जाता है।

साथियों,

आज ई-संजीवनी की मदद से, शायद इसकी चर्चा अभी बहुत कम होती है, ई-संजीवनी की मदद से, गांव के दूर दराज के लोग भी, कहीं से भी डॉक्टर्स के साथ सीधी अपनी चर्चा करके अपने उपचार का रास्ता लेते हैं। और इससे जिन लोगों को अस्पताल जाने के लिए कई किलोमीटर का सफर करना पड़ता था, आज डॉक्टर उनके घर पर, उनकी स्क्रीन पर उपलब्ध है। अब तक ये आंकड़ा भी आपको जरूर आश्चर्य करेगा। यानी भारत ने टेक्नोलॉजी को किस प्रकार से अडाप्ट किया है, सामान्य मानवीय के जीवन को कैसे सरल किया है। अब तक ईं-संजीवनी के तहत करीब-करीब 50 करोड़ टेली-कंसल्टेशंस हो चुकी हैं।

साथियों,

आज भारत में Travel Experience बदल रहा है, भारत के नागरिकों की यात्राएं पूरी तरह बदल गई हैं। यहां इस हॉल में ऐसा व्यक्ति खोजना मुश्किल होगा, जिसने एयरपोर्ट पर डिजी यात्रा का इस्तेमाल ना किया हो। ऐसे ही आजकल बहुत सारा काम Seamless तरीके से हो रहा है। हाइवे पर फास्ट टैग चल रहे हैं, ताकि आप बिना रुके टोल देकर आगे बढ़ सकें। Ease of Living का सही अर्थ यही है। समय की बचत हो रही है, जीवन आसान हो रहा है, और करोड़ों लोग अपनी प्रगति पर फोकस कर पा रहे हैं।

साथियों,

Politics में अक्सर वही फैसले headlines बनते हैं, जिनका असर आज दिखाई दे, यानी उसकी उमर 24 घंटे हो। पहले की सरकारों ने इलेक्शन सामने देख कर भी घोषणाएं करने का फॉर्मूला अपनाया। लेकिन ऐसी घोषणाओं से देश नहीं बदला। देश बदलने वाले फैसले वो होते हैं, जिनका प्रभाव जमीन पर दिखे, जो वर्तमान और भविष्य, दोनों को ध्यान में रखकर के लिए गए होने चाहिए।

साथियों,

पीएम कुसुम योजना और पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना इसका बहुत बड़ा यूनीक Example है। कुसुम योजना से किसानों को बिजली की चिंता से मुक्ति मिली है। और सूर्यघर योजना से मिडिल क्लास को बहुत फायदा हुआ है।

साथियों,

मैं ये जानता हूं कि अगर मैंने ये अनाउंस कर दिया होता कि आज से लाखों-लाख परिवारों के लिए बिजली मुफ्त है, तो सारा मीडिया, सारी स्क्रीन्स, सारे न्यूजपेपर्स, बड़ी-बड़ी हेडलाइन बनाकर के खबर दे देते कि मोदी जी ने आज अनाउंस कर दिया है। लेकिन हमने कुछ दूसरे अप्रोच से काम शुरू किया। हमने हर घर की छत पर एक सूरज उगाने की ठान ली, और आज देश के 50 लाख से ज्यादा परिवार, पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना से जुड़े हैं। सरकार ने 22 हजार करोड़ रुपए से ज्यादा इन परिवारों को दिए हैं, ये सोलर सिस्टम लगाने के लिए, ताकि उनकी छत पर सोलर प्लांट लगाकर सोलर पावर पैदा की जा सके। अब ये परिवार, एक्स्ट्रा बिजली को, बिजली ग्रिड में बेचकर, पैसे भी कमा रहे हैं। खुद का बिल तो जीरो हुआ, कमाई भी होने लगी। इस योजना से लोगों के सपनों को भी विस्तार मिल रहा है। बिजली बिल कम हुआ है, तो अब घर में फ्रिज, कूलर, वाशिंग मशीन, टीवी जैसी चीजें लोग खरीदकर रखने लगे हैं। अब ये डर नहीं होता कि बिजली कटौती की वजह से दूध फट जाएगा, अब चिंता नहीं रहती है। अब स्कूल जाने वाले बच्चे रातभर चैन से सो पाते हैं। मैं फिर कहता हूं- इलेक्शन हो या ना हो, लेकिन ये सूर्यघर और उसकी रोशनी बनी रहेगी, इस प्लांट का फायदा, सालों तक देश के परिवारों को होता रहेगा।

साथियों,

आने वाले समय में Ease of Living और Ease of Doing Business का और विस्तार होगा। देश के Youth के लिए, नारीशक्ति के लिए, Farmers के लिए, गरीब और Middle Class के लिए, हमारी सरकार लगातार काम करती रहेगी, हमारी Reform Express और अधिक गति से आगे बढ़ने वाली है। विकसित भारत का लक्ष्य पूरा करने के लिए, हम पूरी प्रतिबद्धता के साथ काम करते रहेंगे। और मैं, मेरे लिए भारत का future अगर सुनिश्चित हो गया ना, तो दुनिया के future में भी स्थिरता लाने का बहुत बड़ा काम इसी धरती से होने वाला है। इस आत्मविश्वास के साथ भारत जितना स्टेबल होगा, भारत का future जितना सुरक्षित होगा, विश्व को सुरक्षत्व का एहसास देने की ताकत यहीं से पैदा होने वाली है। इस सामर्थ्य के साथ, इसी संकल्प के साथ, मैं एक बार फिर, आज के इस कार्यक्रम में मुझे आमंत्रित करने के लिए, Economic Times की पूरी टीम का हृदय से बहुत-बहुत धन्यवाद करता हूं। वन्दे मातरम् !