After Independence, Sardar Patel united over 550 princely states; For him, the vision of 'Ek Bharat, Shreshtha Bharat' was paramount: PM
Every thought or action that weakens the unity of our nation must be shunned by every citizen, this is the need of the hour for our country: PM
This is Iron Man Sardar Patel's India, it will never compromise on its security or its self-respect: PM
Since 2014, our government has dealt a decisive and powerful blow to Naxalism and Maoist terrorism: PM
On Rashtriya Ekta Diwas, our resolve is to remove every infiltrator living in India: PM
Today, the nation is removing every trace of a colonial mindset: PM
By honouring those who sacrificed their lives for the nation, we are strengthening the spirit of 'Nation First': PM
To achieve the goal of a Viksit Bharat, we must thwart every conspiracy that seeks to undermine the unity of the nation: PM
The four pillars of India's unity are Cultural unity, Linguistic unity, Inclusive development & Connection of hearts through connectivity: PM
The devotion to Maa Bharti is the highest form of worship for every Indian: PM

আমি বলব সর্দার প্যাটেল, আর আপনারা সবাই বলবেন আমর রহে, অমর রহে।

সর্দার প্যাটেল - আমর রহে, আমর রহে। 

সর্দার প্যাটেল - আমর রহে, আমর রহে। 

সর্দার প্যাটেল - আমর রহে, আমর রহে। 

সর্দার প্যাটেলের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী এক ঐতিহাসিক উপলক্ষ। একতানগরের এই মনোরম সকাল, এই মনোরম দৃশ্য, সর্দার সাহেবের চরণে আমাদের উপস্থিতি সব মিলে আজ আমরা সকলেই এক দুর্দান্ত মুহূর্তের সাক্ষী। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐক্যের দৌড়, কোটি কোটি ভারতবাসীর উৎসাহে, আমরা নতুন ভারতের সংকল্প অনুভব করছি। গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত অসাধারণ উপস্থাপনা সহ সম্প্রতি এখানে যে কর্মসূচিগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে অতীতের ঐতিহ্য, বর্তমানের কঠোর পরিশ্রম এবং সাহসিকতা ও ভবিষ্যতের সাফল্যের এক ঝলক ছিল। সর্দার সাহেবের ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে একটি স্মারক মুদ্রা এবং একটি বিশেষ ডাকটিকিটও প্রকাশ করা হয়েছে। সর্দার সাহেবের জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় একতা দিবস (জাতীয় ঐক্য দিবস) উপলক্ষে আমি ১৪০ কোটি দেশবাসীকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা জানাই।

 

বন্ধুগণ, 

সর্দার প্যাটেল বিশ্বাস করতেন যে ইতিহাস রচনার সময় নষ্ট করা উচিত নয়, আমাদের ইতিহাস তৈরির জন্য কঠোর পরিশ্রম করা উচিত। এই অনুভূতি তাঁর জীবনীতে প্রতিফলিত হয়েছে। সর্দার সাহেবের গৃহীত নীতি, তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্ত, একটি নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। স্বাধীনতার পর, তিনি পাঁচশো পঞ্চাশটিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করার অসম্ভব কাজটি সম্ভব করেছিলেন। এক ভারত - এক মহান ভারত (এক ভারত - শ্রেষ্ঠ ভারত) এর ধারণা তাঁর কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই কারণেই আজ, সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী, স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় ঐক্যের এক মহা উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমরা যেমন ১৪০ কোটি দেশবাসী ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস এবং ২৬শে জানুয়ারী সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন করি, তেমনি একতা দিবসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা এবং গর্বের মুহূর্ত। আজ কোটি কোটি মানুষ ঐক্যের শপথ নিয়েছেন, আমরা সংকল্প করেছি যে আমরা এমন কাজ প্রচার করব যা দেশের ঐক্যকে শক্তিশালী করবে। এখানে একতা নগরেই, একতা মল এবং একতা গার্ডেনের মাধ্যমে ঐক্যের সুতোকে শক্তিশালী করতে দেখা যায়।

বন্ধুগণ, 

দেশের ঐক্যকে দুর্বল করে এমন কিছু থেকে প্রতিটি নাগরিককে দূরে থাকতে হবে। এটি একটি জাতীয় কর্তব্য; এটি সর্দার সাহেবের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। আজ দেশের এটাই প্রয়োজন, এটিই প্রতিটি ভারতীয়ের ঐক্য দিবসের বার্তা এবং সংকল্প।

বন্ধুগণ, 

সর্দার সাহেব দেশের সার্বভৌমত্বকে সবকিছুর উপরে স্থান দিয়েছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সর্দার সাহেবের মৃত্যুর পরের বছরগুলিতে, তৎকালীন সরকারগুলি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি ততটা গুরুত্ব আরোপ করেনি। একদিকে, কাশ্মীরে করা ভুল, অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বে উদ্ভূত সমস্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নকশাল-মাওবাদী সন্ত্রাসবাদ, এগুলি ছিল দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তবে, সর্দার সাহেবের নীতি অনুসরণ না করে, সেই যুগের সরকারগুলি একটি মেরুদণ্ডহীন পদ্ধতি বেছে নিয়েছিল। দেশকে এর পরিণতি ভোগ করতে।

 

বন্ধুগণ, 

বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না যে সর্দার সাহেব চেয়েছিলেন সমগ্র কাশ্মীর অঞ্চলকে একীভূত করা হোক। কিন্তু নেহেরুজি তাঁর ইচ্ছা পূরণ হতে দেননি। কাশ্মীরকে একটি পৃথক সংবিধান এবং একটি পৃথক পতাকা দিয়ে ভাগ করা হয়েছিল!

বন্ধুগণ, 

কংগ্রেস কয়েক দশক ধরে কাশ্মীর নিয়ে যে ভুল করেছিল, তার আগুনে দেশ পুড়েছে। কংগ্রেসের দুর্বল নীতির কারণে কাশ্মীরের একটি অংশ পাকিস্তানের অবৈধ দখলে চলে যায়। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে, সেখানে দেশের পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ চলে। 

বন্ধুগণ, 

কাশ্মীর এবং দেশ এত বড় মূল্য দিয়েছে। তবুও, কংগ্রেস সর্বদা সন্ত্রাসবাদের কাছে নতি স্বীকার করেছে।

বন্ধুগণ, 

কংগ্রেস সর্দার সাহেবের দৃষ্টিভঙ্গি ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু আমরা ভুলিনি। ২০১৪ সালের পর, দেশ আবারও তাঁর অনুপ্রেরণামূলক দৃঢ় সংকল্প প্রত্যক্ষ করেছে। আজ, কাশ্মীর ৩৭০ ধারার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে মূলধারায় সম্পূর্ণরূপে একীভূত হয়েছে। আজ পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদের মূল শক্তিগুলিও ভারতের আসল শক্তি কী তা বুঝতে পেরেছে! সমগ্র বিশ্ব অপারেশন সিঁদুরে দেখেছে যে, আজ যদি কেউ ভারতকে ভ্রু-কুঞ্চিত করে দেখার সাহস করে তবে ভারত তাদের ঘরে ঢুকে পাল্টা আক্রমণ করে। প্রতিবারই ভারতের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে বড়, আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে। এটি ভারতের শত্রুদের জন্যও একটি বার্তা। এটি লৌহ পুরুষ সর্দার প্যাটেলের ভারত, যা কখনও তার নিরাপত্তা এবং সম্মানের সঙ্গে আপস করে না।

 

বন্ধুগণ, 

গত ১১ বছরে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল মাওবাদী সন্ত্রাসবাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। ২০১৪ সালের আগে আমাদের দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে নকশালপন্থী এবং মাওবাদীরা দেশের ভেতরে, দেশের কেন্দ্রস্থলে শাসন করত। নকশালপন্থী এলাকায় দেশের সংবিধান প্রয়োগ করা হত না। পুলিশ প্রশাসন সেখানে কাজ করতে পারত না। নকশালপন্থীরা প্রকাশ্যে নতুন নতুন ফরমান জারি করত। তারা রাস্তাঘাট নির্মাণে বাধা দিত। স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতাল বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হত। সরকার এবং প্রশাসন তাদের সামনে অসহায় বলে মনে হচ্ছিল।

বন্ধুগণ, 

২০১৪ সালের পর, আমাদের সরকার নকশালবাদ-মাওবাদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে।  আমরা আদর্শের যুদ্ধে জয়লাভ করেছি এবং তাদের মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিতে তাদের মোকাবেলা করেছি; ফলাফল আজ দেশের সামনে। ২০১৪ সালের আগে, দেশের প্রায় ১২৫টি জেলা মাওবাদী সন্ত্রাসের কবলে ছিল। আজ, এই সংখ্যা কমে মাত্র ১১টিতে দাঁড়িয়েছে। আজ, একতা নগরের এই মাটি থেকে, আমি সমগ্র দেশকে আশ্বস্ত করছি যে যতক্ষণ না দেশ নকশালবাদ, মাওবাদ এবং সন্ত্রাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত না হয়, আমরা থামব না, আমরা শান্তিতে বসে থাকব না।

বন্ধুগণ, 

বর্তমানে অনুপ্রবেশ জাতির ঐক্য এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। বিদেশী অনুপ্রবেশকারীরা কয়েক দশক ধরে দেশে আসতে থাকে, তারা দেশবাসীর সম্পদ দখল করে, জনসংখ্যার ভারসাম্য বিঘ্নিত করে, দেশের ঐক্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলি এত বড় সমস্যার প্রতি চোখ বন্ধ করে ছিল। ভোট ব্যাংকের রাজনীতির জন্য জাতির নিরাপত্তা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপন্ন করা হয়েছিল। এখন প্রথমবারের মতো দেশ এই বড় হুমকির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি লাল কেল্লা থেকে ডেমোগ্রাফি মিশন ঘোষণা করেছি।

 

কিন্তু বন্ধুগণ, 

আজ যখন আমরা এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করছি, তখন কিছু মানুষ  জাতীয় স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা অনুপ্রবেশকারীদের অধিকার দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক লড়াই করছে। তারা বিশ্বাস করে যে একবার দেশ বিভক্ত হয়ে গেলে, এটি যদি বিভক্ত হতে থাকে তবে তাদের কোনও সমস্যা নেই। যদিও সত্য হল যে যদি দেশের নিরাপত্তা এবং পরিচয় বিপদে পড়ে, তাহলে প্রতিটি ব্যক্তি বিপদে পড়বে। তাই, আজ জাতীয় ঐক্য দিবসে, আমাদের আবারও শপথ নিতে হবে যে আমরা ভারতে বসবাসকারী প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দেব।

বন্ধুগণ, 

যখন আমরা গণতন্ত্রে জাতীয় ঐক্যের কথা বলি, তখন এর একটি দিক হল আমরা বিভিন্ন ধারণাকে সম্মান করি। গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু হৃদয়ের ভিন্নতা থাকা উচিত নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর, দেশ যাদের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেছিল, তারাই 'আমরা জনগণ'-এর চেতনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তারা তাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং আদর্শ থেকে ভিন্ন প্রতিটি ব্যক্তি এবং সংগঠনকে ঘৃণা করেছিল এবং এটিকে অসম্মান করার চেষ্টা করেছিল। রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতাকে দেশে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছিল। আমরা সকলেই জানি কংগ্রেস সরকারের অধীনে সর্দার প্যাটেল এবং তাঁর উত্তরাধিকারের কী হয়েছিল? বাবা সাহেব আম্বেদকরের জীবদ্দশায় এবং এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরেও তারা কী করেছিল? তারা নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে কী করেছিল? কংগ্রেস ডঃ লোহিয়া এবং জয়প্রকাশ নারায়ণের মতো বিশিষ্ট জনের সঙ্গেও একই আচরণ করেছিল। এই বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ১০০ তম বার্ষিকী। সংঘের উপর কী ধরণের আক্রমণ এবং ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল! 

ভাই ও বোনেরা, 

আমরা গর্বিত যে আমরা দেশকে বিভক্তকারী এই রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার অবসান ঘটিয়েছি। আমরা সর্দার প্যাটেলের জন্য স্ট্যাচু অফ ইউনিটি তৈরি করেছি। আমরা বাবা সাহেবের পঞ্চতীর্থ তৈরি করেছি। কংগ্রেস আমলে অবহেলার কারণে দিল্লিতে বাবা সাহেবের বাড়ি, তাঁর মহাপরিনির্বাণের স্থান, জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। আমরা সেই পবিত্র স্থানটিকে একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভে রূপান্তরিত করেছি। কংগ্রেস শাসনকালে, কেবলমাত্র একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নামে একটি জাদুঘর ছিল। আমরা রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সকল প্রধানমন্ত্রীর অবদানের জন্য নিবেদিত প্রধানমন্ত্রী জাদুঘর তৈরি করেছি। আমরা কর্পুরী ঠাকুরের মতো জনপ্রিয় নেতাকে ভারতরত্ন প্রদান করেছি। আমরা প্রণব দাকে ভারতরত্ন প্রদান করেছি, যিনি কংগ্রেস দলের জন্য তার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা মুলায়ম সিং যাদবজির মতো বিরোধী আদর্শের নেতাকে পদ্ম পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেছি। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ধারণা ছিল রাজনৈতিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির জন্য ঐক্যের চেতনাকে শক্তিশালী করা। অপারেশন সিঁদুরের পরে বিদেশে যাওয়া আমাদের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের মধ্যেও আমরা ঐক্যের এই ঝলক দেখেছি।

 

বন্ধুগণ, 

রাজনৈতিক লাভের জন্য দেশের ঐক্যকে আক্রমণ করার ধারণা দাসত্বের মানসিকতারই অংশ। কংগ্রেস কেবল ব্রিটিশদের কাছ থেকে দল এবং ক্ষমতা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে তা নয়, বরং দাসত্বের মানসিকতাও আত্মস্থ করেছে। দেখুন, মাত্র কয়েকদিন পরেই আমাদের জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম ১৫০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। ১৯০৫ সালে যখন ব্রিটিশরা বাংলা ভাগ করে, তখন বন্দে মাতরম  প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। বন্দে মাতরম দেশের ঐক্য ও সংহতির কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। ব্রিটিশরা  বন্দে মাতরম বলার ধারণাটিও নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। ব্রিটিশরা এই প্রচেষ্টায় সফল হয়নি! বন্দে মাতরমের স্লোগান ভারতের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। তবে, ব্রিটিশরা যা করতে পারেনি তা কংগ্রেসই করেছে। ধর্মীয় কারণে কংগ্রেস বন্দে মাতরমের একটি অংশ সরিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, কংগ্রেস সমাজকে বিভক্ত করেছে এবং ব্রিটিশদের চিন্তাভাবনাকেও এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজ আমি অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে একটা কথা বলছি - যেদিন কংগ্রেস বন্দে মাতরম ভাঙার, কাটার এবং ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেদিনই ভারত ভাগের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। কংগ্রেস যদি সেই পাপ না করত, তাহলে আজ ভারতের চিত্র অন্যরকম হত!

বন্ধুগণ, 

সেই সময়ের সরকারে বসে থাকা ব্যক্তিদের এই ধরণের চিন্তাভাবনার কারণেই দেশ এত দশক ধরে দাসত্বের প্রতীক বহন করে আসছে। মনে আছে, যখন আপনারা আমাদের দেশের সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, তখন আমাদের নৌবাহিনীর পতাকা থেকে দাসত্বের চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছিল। আমরা যখন এই পরিবর্তন এনেছিলাম, তখন রাজপথ কর্তব্য পথে পরিণত হয়েছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের স্থান আন্দামানের সেলুলার জেলকে কেবল মোরারজি দেশাই সরকারের সময়ই জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। কিছু সময় আগে পর্যন্ত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নামকরণ করা হয়েছিল ব্রিটিশদের নামে। আমরা নেতাজি সুভাষের নামে এগুলোর নামকরণ করেছি। অনেক দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে পরমবীর চক্র বিজয়ীদের নামে। আমরা ইন্ডিয়া গেটে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর একটি মূর্তিও স্থাপন করেছি।

বন্ধুগণ, 

দাসত্ব মানসিকতার কারণে দেশ রক্ষায় শহীদ হওয়া সৈনিকরাও যথাযথ সম্মান পাননি। আমরা জাতীয় যুদ্ধ স্মারক স্থাপন করে সেই স্মৃতিগুলিকে অমর করে তুলেছি। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায়ও, ৩৬ হাজার পুলিশ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ৩৬ হাজার শহীদ, এই সংখ্যাটি কম নয়। আমাদের পুলিশ, বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ, সিআরপিএফ, আমাদের সমস্ত আধাসামরিক বাহিনী, তাদের সাহসিকতাকেও সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আমাদের সরকারই পুলিশ স্মারক তৈরি করে সেই শহিদদের সম্মান জানিয়েছে। আজ, সর্দার প্যাটেলের পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে, আমি সারা দেশের সেই সমস্ত মানুষকে স্যালুট জানাই যারা পুলিশ বাহিনীতে থেকে সেবা করেছেন, যারা আজ পুলিশ বাহিনীতে থেকে দেশের সেবা করছেন। আমি তাদের জন্য গর্ববোধ করি, আমি তাদের সম্মান জানাই। আজ দেশ দাসত্ব  মানসিকতার প্রতিটি চিহ্ন মুছে ফেলছে। দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেন তাদের সম্মান জানিয়ে আমরা 'নেশন ফার্স্ট'-এর চেতনাকে শক্তিশালী করছি।

 

আমার প্রিয় দেশবাসী, 

ঐক্য হলো একটি দেশ ও সমাজের অস্তিত্বের ভিত্তি। যতক্ষণ সমাজে ঐক্য থাকবে, ততক্ষণ দেশের অখণ্ডতা সুরক্ষিত থাকবে। অতএব, উন্নত ভারতের লক্ষ্য অর্জনের জন্য, দেশের ঐক্য ভাঙার প্রতিটি ষড়যন্ত্রকে আমাদের নস্যাৎ করতে হবে, ঐক্যের শক্তি দিয়ে তা নস্যাৎ করতে হবে। সেই কারণেই, আজ দেশ জাতীয় ঐক্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরন্তর কাজ করছে। ভারতের ঐক্যের চারটি স্তম্ভ রয়েছে। ঐক্যের প্রথম স্তম্ভ হল সাংস্কৃতিক ঐক্য! ভারতের সংস্কৃতিই হাজার হাজার বছর ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বিশেষে ভারতকে দেশ হিসেবে অমর করে রেখেছে। আমাদের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গ, সাতটি পুরী, চারটি ধাম, ৫০টিরও বেশি শক্তিপীঠ, তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য, এগুলোই জীবনীশক্তি যা ভারতকে একটি সচেতন দেশ করে তোলে। আজ, আমরা সৌরাষ্ট্র তামিল সংগম এবং কাশী তামিল সংগমের মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মাধ্যমে, আমরা ভারতের মহান যোগ বিজ্ঞানকেও একটি নতুন পরিচয় দিচ্ছি। আজ, আমাদের যোগ মানুষকে সংযুক্ত করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠছে।

বন্ধুগণ, 

আমাদের ঐক্যের দ্বিতীয় স্তম্ভ হল ভাষাগত ঐক্য! ভারতের শত শত ভাষা এবং উপভাষা ভারতের উন্মুক্ত এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার প্রতীক। কারণ, এখানে কোনও সমাজ, শক্তি বা সম্প্রদায় কখনও ভাষাকে তার অস্ত্র করেনি। একটিও ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি। সেই কারণেই ভারত ভাষাগত বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বের এত সমৃদ্ধ দেশ হয়ে উঠেছে। আমাদের ভাষাগুলি বিভিন্ন সঙ্গীতের সুরের মতো আমাদের পরিচয়কে শক্তিশালী করেছে। আমরা গর্বের সঙ্গে বলি যে ভারতে বিশ্বের প্রাচীনতম ভাষা তামিল রয়েছে এবং আমরা এর জন্য গর্বিত। সংস্কৃতের মতো আমাদের জ্ঞানের ঐতিহ্য রয়েছে। একইভাবে, প্রতিটি ভারতীয় ভাষার নিজস্ব স্বতন্ত্রতা, নিজস্ব সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পদ রয়েছে। আমরা প্রতিটি ভারতীয় ভাষার প্রচার করছি। আমরা চাই ভারতের শিশুরা তাদের মাতৃভাষায় পড়াশোনা করুক এবং এগিয়ে যাক। ভারতের জনগণেরও দেশের অন্যান্য ভাষাগুলি জানা এবং শেখা উচিত। 

বন্ধুগণ, 

আমাদের ঐক্যের তৃতীয় স্তম্ভ হলো বৈষম্যমুক্ত উন্নয়ন! কারণ দারিদ্র্য ও বৈষম্য হলো সামাজিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। দেশের শত্রুরা সবসময় এই দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগিয়েছে। সেই কারণেই সর্দার সাহেব দেশের দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন। সর্দার প্যাটেল একবার বলেছিলেন যে, ভারত যদি ১৯৪৭ সালের চেয়ে ১০ বছর আগে স্বাধীনতা অর্জন করত, তাহলে ১৯৪৭ সালের মধ্যে ভারত খাদ্য ঘাটতির সংকট থেকে মুক্ত হত। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি যেমন দেশীয় রাজ্যগুলিকে একীভূত করার চ্যালেঞ্জ সমাধান করেছিলেন, তেমনি খাদ্য ঘাটতির চ্যালেঞ্জ সমাধান না করা পর্যন্ত তিনি থামবেন না। এটাই ছিল সর্দার সাহেবের ইচ্ছাশক্তি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্যও আমাদের এই ইচ্ছাশক্তি প্রদর্শন করতে হবে।  আমি গর্বিত যে আমাদের সরকার সর্দার সাহেবের এই অসম্পূর্ণ সংকল্পগুলিও পূরণ করার জন্য কাজ করছে। গত দশকে, আমরা ২৫ কোটি দেশবাসীকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করেছি। আজ কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ ঘর পাচ্ছে। প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ জল পৌঁছে যাচ্ছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন, এটাই আজ দেশের লক্ষ্য এবং দৃষ্টিভঙ্গি। এই বৈষম্য এবং দুর্নীতিমুক্ত নীতিগুলি আজ জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করছে।

 

বন্ধুগণ, 

জাতীয় ঐক্যের চতুর্থ স্তম্ভ হল - সংযোগের মাধ্যমে হৃদয়ের সংযোগ। আজ দেশে রেকর্ড সংখ্যক হাইওয়ে এবং এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হচ্ছে। বন্দে ভারত এবং নমো ভারত এর মতো ট্রেনগুলি ভারতীয় রেলপথকে রূপান্তরিত করছে। এমনকি ছোট শহরগুলিও এখন বিমানবন্দর সুবিধার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। এই আধুনিক পরিকাঠামো ভারতের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণরূপে বদলে দিচ্ছে। এটি দেশের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে দূরত্বও হ্রাস করেছে। আজ, মানুষ পর্যটন এবং ব্যবসার জন্য সহজেই অন্যান্য রাজ্যে ভ্রমণ করছে। এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের একটি নতুন যুগ। এটি জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করছে, এবং যে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটেছে তা এই ঐক্যকে শক্তিশালী করার সুযোগও দিয়েছে। আজ, ডিজিটাল সংযোগ হৃদয়কে সংযুক্ত করার জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করছে।

 

বন্ধুগণ, 

সর্দার প্যাটেল একবার বলেছিলেন, "দেশের জন্য কাজ করলে আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দ পাই।" আজ আমি দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে একই আবেদন জানাই। দেশের জন্য কাজ করার চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। ভারত মাতার পূজা দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সবচেয়ে বড় পূজা। যখন ১৪০ কোটি ভারতবাসী একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন পাথর নিজেই পথ থেকে সরে যায়। যখন ১৪০ কোটি দেশবাসী এক কণ্ঠে কথা বলে, তখন সেই শব্দগুলি ভারতের সাফল্যের ঘোষণা হয়ে ওঠে। আমাদের ঐক্যের এই মৌলিক মন্ত্রকে আমাদের সংকল্প করতে হবে। আমাদের বিভক্ত হওয়া উচিত নয়; আমাদের দুর্বল হওয়া উচিত নয়। এটিই সর্দার সাহেবের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি নিশ্চিত যে একসঙ্গে আমরা 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর সংকল্পকে শক্তিশালী করব। একসঙ্গে আমরা একটি উন্নত ভারত এবং একটি আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন পূরণ করব। এই ভাবনা নিয়ে, আমি আবারও সর্দার সাহেবের চরণে আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছি। আমার সঙ্গে বলুন - ভারত মাতা কি জয়। বন্ধুগণ, এই কণ্ঠস্বর দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছাতে হবে।

ভারত মাতা কি জয়!

ভারত মাতা কি জয়!

ভারত মাতা কি জয়!

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

বন্দে মাতরম। 

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ!

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India at Davos: From presence to partnership in long-term global growth

Media Coverage

India at Davos: From presence to partnership in long-term global growth
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 24 জানুয়ারি 2026
January 24, 2026

Empowered Youth, Strong Women, Healthy Nation — PM Modi's Blueprint for Viksit Bharat