Our country fought COvid-19 with collective strength and will, says PM Modi
The divisive forces who questioned Pulwama attack have been exposed: PM
India is now moving towards becoming Aatmanirbhar in the area of defence. We have hawk eyes on our borders: PM

আমরা সবাই একটু আগেই লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বক্তব্যকে প্রসাদরূপে শুনতে পেলাম। আমার কথা বলার আগে আপনাদের সবার মুখে ভারতমাতার জয়ঘোষ শুনতে চাই। আর আপনাদের সবাইকে আমার অনুরোধ, ইউনিফর্ম পরিহিত জওয়ানদেরকেও আমার অনুরোধ, দূরদুরান্তের পাহাড়ে বসে আমার যে আদিবাসী ভাই–বোনেরা এই অনুষ্ঠান দেখছেন, তাঁদেরকেও আমার অনুরোধ যে এক হাত ওপরে তুলে সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে সর্দার সাহেবকে স্মরণ করে আমরা সবাই ভারতমাতার জয়জয়কার করব। আমি তিনবার বলব, পুলিশে কর্মরত বীর পুত্র–কন্যাদের নামে – ভারতমাতা কি জয়! করোনার সময়ে সেবারত করোনা ওয়ারিয়র্সদের নামে – ভারতমাতা কি জয়! আত্মনির্ভরতার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করতে কর্মরত কোটি কোটি মানুষের নামে – ভারতমাতা কি জয়! আমি বলব, সর্দার প্যাটেল, আপনারা সবাই দু'বার করে বলবেন, অমর রহে! অমর রহে!

সর্দার প্যাটেল – অমর রহে অমর রহে!

সর্দার প্যাটেল – অমর রহে অমর রহে!

সর্দার প্যাটেল – অমর রহে অমর রহে!

সমস্ত দেশবাসীকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন উপলক্ষে অনেক অনেক শুভকামনা। দেশের কয়েকশ' দেশীয় রাজ্য রাজরাজদের এক করে দেশের বিবিধতাকে স্বাধীন ভারতের শক্তি করে তুলে সর্দার প্যাটেল ভারতের বর্তমান স্বরূপ গড়ে তুলেছেন।

 

২০১৪ সাল থেকে আমরা সবাই তাঁর জন্মদিনকে ভারতের ঐক্যের উৎসব রূপে পালন করা শুরু করেছি। এই ছয় বছরে দেশের ছোট ছোট গ্রাম থেকে শুরু করে মহানগর পর্যন্ত, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত সবাই 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করে গেছেন। আজ আরেকবার এই দেশ ভারতমাতার এই মহান সুপুত্রকে, দেশের লৌহ পুরুষকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করছে। আজ আরেকবার এই দেশ সর্দার প্যাটেলের এই গগণচুম্বী মূর্তির সান্নিধ্যে, তার ছায়ায়, দেশের প্রগতির মহাযজ্ঞে সামিল হওয়ার সঙ্কল্প পুনরুচ্চারণ করছে। বন্ধুগণ, আমি গতকাল দুপুরেই কেভাডিয়া পৌঁছে গিয়েছিলাম। আর কেভাডিয়া পৌঁছনোর পর গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত এখানে এই কেভাডিয়ার জঙ্গল সাফারি পার্ক, একতা মল, চিলড্রেন নিউট্রিশন পার্ক এবং আরোগ্য বন–এর মতো অনেক নতুন নতুন গন্তব্যের উদ্বোধন করেছি। অত্যন্ত কম সময়ে সর্দার সরোবর বাঁধের সঙ্গে যুক্ত এই অসাধারণ নির্মাণ 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর ভাবনার, নতুন ভারতের প্রগতির তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনগুলিতে মা নর্মদার তটে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে এই জায়গাটি নিজের আকর্ষণ বাড়িয়েই যাবে। সেই লক্ষণগুলিও আজ স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান।

 

আজ এখানে সর্দার সরোবর থেকে সবরমতী রিভার ফ্রন্ট পর্যন্ত সি–প্লেন পরিষেবারও উদ্বোধন করা হচ্ছে। এটি দেশের প্রথম এবং একটি অতুলনীয় সি–প্লেন পরিষেবা। সর্দার সাহেবের দর্শনের জন্য, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি দেখার জন্য দেশবাসীর সামনে এখন এই সি–প্লেন পরিষেবার বিকল্পও প্রস্তুত। এই সমস্ত প্রচেষ্টা এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকেও অনেক বেশি উন্নত করবে। এর মাধ্যমে এখানকার জনগণের, আমার প্রিয় আদিবাসী ভাই–বোনেদের কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ খুলে যাবে। এই সাফল্যের জন্যও আমি গুজরাট সরকারকে, গুজরাটের সমস্ত নাগরিককে এবং ভারতের ১৩০ কোটি নাগরিককে শুভেচ্ছা জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

গতকাল যখন সারাদিন ধরে আমি এই এলাকায় ঘুরছিলাম, তখন এখানকার গাইড রূপে এই চারপাশের গ্রামের আমাদের মেয়েরা যে প্রত্যয়ের সঙ্গে, যে গভীরতার সঙ্গে, সমস্ত প্রশ্নের জবাব দ্রুততার সঙ্গে দিয়ে আমাকে গাইড করছিলেন, তাঁদের কথা আজ উল্লেখ না করে পারছি না। আমি মন থেকে বলছি, সত্যি বলছি, তাঁদের এই দক্ষতা দেখে আমার মাথা গর্বে উঁচু হয়ে গেছে। আমি দেশের গ্রামীণ আদিবাসী কন্যাদের এই সামর্থ্য, এই ক্ষমতা দেখে অভিভূত হয়ে গিয়েছি। আমি সেই সমস্ত কন্যাদের এত কম সময়ে এই দক্ষতা অর্জন করতে দেখে আপ্লুত। আর, একটি নতুন ধরনের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব তাঁদের চোখে–মুখে লক্ষ্য করেছি। আমি তাঁদের সকলকে হৃদয় থেকে অভিবাদন জানাই, তাঁদের মতো সমস্ত আদিবাসী কন্যাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

বন্ধুগণ,

 

এটি একটি সংযোগের বিষয় যে আজ আদি কবি মহর্ষি বাল্মিকীর জন্ম জয়ন্তীও। আজ আমরা ভারতের যে সাংস্কৃতিক ঐক্যকে দেখতে পাচ্ছি, যে ভারতকে অনুভব করতে পারছি, তাকে আরও জীবন্ত এবং প্রাণশক্তিতে ভরপুর করে তোলার কাজ অনেক শতাব্দী আগে আদি কবি মহর্ষি বাল্মিকী করে গেছেন। ভগবান রামের আদর্শ, রামের শিষ্টাচার, আজ যেভাবে ভারতের প্রত্যেক প্রান্তকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করছে, তার কৃতিত্ব তো মহর্ষি বাল্মিকীরই। ভারত রাষ্ট্রকে, মাতৃভূমিকে সর্বোপরি রেখে মহর্ষি বাল্মিকীর যে ঘোষণা ছিল, “জননী জন্মভূমিশ্চ, স্বর্গাদপী গরিয়সী" – এই মন্ত্র, এটি আমাদের দেশের আজকে 'ইন্ডিয়া ফার্স্ট' সঙ্কল্পের মজবুত ভিত্তি।

 

আমি সমস্ত দেশবাসীকে মহর্ষি বাল্মিকী জয়ন্তী উপলক্ষে অন্তর থেকে শুভকামনা জানাই। বন্ধুগণ, তামিল ভাষার মহাকবি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী সুব্রহ্মনিয়ম ভারতীর একটি কবিতা আজকের দিনে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সুব্রহ্মনিয়ম ভারতীর এই কবিতার ভাবার্থ আমি হিন্দি পড়েছি। এতে ভারতের দূরদুরান্তের বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনা যেভাবে রয়েছে তা অত্যন্ত প্রেরণাদায়ী। সুব্রহ্মনিয়ম ভারতী যে মনোভাব ব্যক্ত করেছেন, তা তিনি বিশ্বের সর্বপ্রাচীন ভাষা তামিল ভাষায় করেছেন। আর কী সুন্দরভাবে তিনি ভারতমাতার বর্ণনা করেছেন। সুব্রহ্মনিয়ম ভারতীর কবিতার মূল বক্তব্য হল – "দেদীপ্যমান উত্তুঙ্গ হিমালয়, এটি আমাদের রক্ষা করে নগাধিরাজের মতো। বিশ্বে এটি অতুলনীয়। এই নগাধিরাজ আমাদেরই। এই হিমালয় থেকে বেরিয়ে আসা নদীগুলি আমাদেরই। এই গঙ্গা প্লাবিত করে মধুরস ধারা। প্রবাহিত হয় দেশের অনেক স্থানে। এর পবিত্র কলকল ধারা সারা বিশ্বের সমীহ আদায় করে নিয়েছে। এর মহিমা অনেক অমর গ্রন্থে বর্ণিত। এই আমাদের দেশ, এই আমাদের উপনিষদগুলির দেশ। আমরা সর্বদাএই দেশের যশোগাথা গাইব। এটাই আমাদের সোনার দেশ। বিশ্বে এর থেকে এগিয়ে কেউ নেই।"

দাসত্বের সেই সময়কালে সুব্রহ্মনীয়ম ভারতীজির এই বিশ্বাসকে লক্ষ্য করুন। তাঁর মনোভাবকে তিনি কিভাবে প্রকট করেছেন – "এটাই আমাদের সোনার দেশ। বিশ্বে এর থেকে এগিয়ে কেউ নেই।"

 

ভারতের জন্য এই অদ্ভূত ভাবনাকে আজ আমরা এখানে মা নর্মদার কিনারায় সর্দার সাহেবের সুউচ্চ মূর্তির ছায়ায় ও সান্নিধ্যে দাঁড়িয়ে আরও নিবিড়ভাবে অনুভব করতে পারছি। ভারতের এই শক্তি আমাদের প্রত্যেক বিপদ থেকে, প্রত্যেক বিপত্তি থেকে লড়তে শেখায়, আর জিততেও শেখায়। আপনারা দেখুন, গত বছর থেকেই যখন আমরা আজকের দিনে একতা দৌড়ে সামিল হয়েছিলাম, তখন কেউ কল্পনাও করেননি যে বিশ্বে গোটা মানবজাতিকে করোনার মতো বিশ্বব্যাপী মহামারীর সম্মুখীন হতে হবে। এই বিপদ হঠাৎই এসেছে। এই বিপদ গোটা বিশ্বে মানবজীবনকে এমনভাবে প্রভাবিত করেছে, আমাদের গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। কিন্তু এই মহামারীর সামনে আমাদের দেশ, ১৩০ কোটি দেশবাসী যেভাবে নিজেদের সামগ্রিক সামর্থ্য দিয়ে, নিজেদের সামগ্রিক ইচ্ছাশক্তিকে প্রমাণ করেছে তা অভূতপূর্ব। ইতিহাসে এর কোনও তুলনা নেই।

 

করোনা ওয়ারিয়র্সদের সম্মানে ১৩০ কোটি ভারতবাসী একত্রিত হয়ে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, লেহ থেকে লাক্ষাদ্বীপ, অটক থেকে কটক, কচ্ছ থেকে কোহিমা, ত্রিপুরা থেকে সোমনাথ – ১৩০ কোটি ভারতবাসী এক হয়ে নিজেদের উদ্দীপনা প্রদর্শন করেছেন। বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেছেন। সেই উদ্দীপনা বিগত আট মাস ধরে এই সঙ্কটে সামনে থেকে লড়াই করার এবং বিজয় পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। দেশ তাঁদের সম্মানে প্রদীপ জ্বালিয়েছে। তাঁদের অভিবাদন জানিয়েছে। আমাদের করোনা ওয়ারিয়র্স, আমাদের অনেক পুলিশের বীর বন্ধুরা অন্যদের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর মানব সেবার জন্য, নিরাপত্তার জন্য জীবন উৎসর্গ করা এ দেশের পুলিশবাহিনীগুলির একটি বৈশিষ্ট্য। আমার প্রায় ৩৫ হাজার পুলিশ বন্ধু জওয়ানরা স্বাধীনতার পর থেকে দেশের আইন–শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আত্মবলিদান দিয়েছেন। কিন্তু এই করোনাকালে আইন–শৃঙ্খলা নয়, মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়ে অন্যদের জীবন বাঁচানোর জন্য আমাদের পুলিশের জওয়ানরা অনেকেই সেবারত অবস্থাতেই নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছেন। ইতিহাস কখনই এই সোনালী মুহূর্তগুলি ভুলবে না। আর শুধু পুলিশের জওয়ানরাই নয়, ১৩০ কোটি ভারতবাসীও এই পুলিশ বীরদের এই সমর্পণভাবকে সর্বদা নতমস্তকে স্মরণ করবে এবং তাঁদের থেকে প্রেরণা গ্রহণ করবে।

বন্ধুগণ,

 

এটাই ভারতের ঐক্যের শক্তি। যে মহামারী বিশ্বের বড় বড় দেশগুলিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে, অসহায় করে তুলেছে, ভারত একে প্রতিহত করতে এর বিরুদ্ধে প্রাণপণে লড়াই করছে। আজ দেশ করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়েও চলেছে। এই সেই ঐক্য, যার কল্পনা লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল করেছিলেন। আমাদের সকলের এই ঐক্যবদ্ধতাই করোনার এই কঠিন সময়ে লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতি আমাদের সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

 

বন্ধুগন,

 

বিপর্যয় এবং সঙ্কটের মধ্যেই দেশ এমন কিছু কাজ করেছে যা কখনও অসম্ভব বলে মনে করা হত। এই কঠিন সময়েই আমাদের দেশের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে এক বছরে অনেক ভালো কাজ হয়েছে। কাশ্মীরের ভারতভুক্তির পর এই ৩১ অক্টোবরেই এই ধারা চালু হয়েছিল। তখন সর্দার সাহেব জীবিত ছিলেন। বাকি রাজরাজরাদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের কাজও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছিলেন। যেভাবে তিনি কাজ করছিলেন, এক্ষেত্রেও সেটা যদি তাঁকে করতে দেওয়া হত তাহলে স্বাধীনতার এত বছর পর এই ধারা বাতিল করার দায়িত্ব আমাদের ওপর বর্তাতো না। কিন্তু সর্দার সাহেবের এই কাজ অসম্পূর্ণ ছিল। তাঁর কর্মপদ্ধতি থেকে প্রেরণা নিয়েই ১৩০ কোটি ভারতবাসীর ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে সেই কাজকে সম্পূর্ণ করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। কাশ্মীরের উন্নয়নে যত ধরনের বাধা আসছিল, সেগুলিকে পেছনে ফেলে এখন কাশ্মীর উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে চলেছে। তেমনভাবে, উত্তর–পূর্ব ভারতে শান্তি বজায় রেখে সেই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমরা যে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছি, সেগুলি আজ দেশের ঐক্যকে নতুন মাত্রায় স্থাপিত করছে। সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নিমাণের মাধ্যমে সর্দার প্যাটেল ভারতের সাংস্কৃতিক গৌরবকে ফিরিয়ে আনার যে যজ্ঞ শুরু করেছিলেন, তার বিস্তার সম্প্রতি দেশবাসী অযোধ্যায় জারি থাকতেদেখেছেন। আজ দেশ রামমন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের সাক্ষী রয়েছে এবং এই অনিন্দ্যসুন্দর মন্দির তিল তিল করে আমাদের চোখের সামনে গড়ে উঠছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ আমরা ১৩০ কোটি ভারতবাসী মিলে এমন একটি দেশ গড়ে তুলছি যা যেমন শক্তিশালী তেমনই সক্ষম। যেখানে সাম্য থাকবে এবং সম্ভাবনাও থাকবে। সর্দার সাহেবও বলতেন এবং সর্দার সাহেবের শব্দ অনুযায়ী, “বিশ্বের ভিত্তি কৃষক ও মজুর। আমি ভাবি, এই কৃষক এবং মজুরকে কিভাবে দুর্বল থাকতে দিতে পারি? কিভাবে তাঁদের শক্তিশালী করে তাঁদের মাথা উঁচু করে চলার মতো তৈরি করে দিতে পারব?"

 

বন্ধুগণ,

 

কৃষক, মজুর, গরীবের ক্ষমতায়ন তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন তাঁরা সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হয়ে উঠবেন। সর্দার সাহেবের স্বপ্ন এটাই ছিল। তিনি বলতেন, “কৃষক, মজুর, গরীবের ক্ষমতায়ন তখনই সম্পূর্ণ হবে যখন তাঁরা সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর হয়ে উঠবেন।" আর যখন কৃষক ও মজুররা আত্মনির্ভর হয়ে উঠবেন তখন দেশও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। বন্ধুগণ, আত্মনির্ভর দেশই নিজের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারে। আর সেজন্য আজ দেশ নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার পথে এগিয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, সীমান্তে ভারতের নজর এবং দৃষ্টিভঙ্গি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। আজ ভারতের মাটির দিকে যারা কু–নজর দেবে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার শক্তি আমাদের বীর জওয়ানদের রয়েছে। আজকের ভারত সীমান্তে শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করছে। কয়েক ডজন সেতু, অনেক সুড়ঙ্গ নিয়মিত নির্মিত হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সম্মান রক্ষার জন্য আজকের ভারত সম্পূর্ণরূপে সজাগ, দায়বদ্ধ এবং সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

 

কিন্তু বন্ধুগণ, উন্নয়নের এই প্রচেষ্টাগুলির মাঝে এমন অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে যেগুলির সম্মুখীন আজ ভারত তথা সমগ্র বিশ্বকে হতে হচ্ছে। বিগত অনেক বছর ধরে বিশ্বের অনেক দেশের যে অবস্থা, যেভাবে কিছু মানুষ সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে, তা আজ মানবতার জন্য, বিশ্বের জন্য, শান্তির উপাসকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। আজকের আবহে বিশ্বের সমস্ত দেশকে, সমস্ত সরকারকে, সমস্ত মতবাদসম্পন্ন সরকারগুলির উচিৎ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করা। শান্তি, সৌভ্রাতৃত্ব এবং পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধই মানবতার প্রকৃত পরিচয়। শান্তি, ঐক্য এবং সদ্ভাবই তার একমাত্র পথ। সন্ত্রাসবাদ, হিংসা থেকে কখনও কারোর কল্যাণ হতে পারে না। ভারত তো বিগত কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদে ভুক্তভোগী এবং পীড়িত। ভারত তার হাজার হাজার বীর শহীদদের হারিয়েছে। ভারত তার নির্দোষ নাগরিকদেরও হারিয়েছে। অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে। অনেক বোন তাঁদের ভাইদের হারিয়েছেন। আতঙ্কের পীড়াকে ভারত খুব ভালোভাবে জানে। ভারত সন্ত্রাসবাদকে সর্বদা নিজের ঐক্যবদ্ধতা এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি দিয়ে জবাব দিয়েছে। আজ গোটা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্ত শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। যারা সন্ত্রাসের সঙ্গে রয়েছে, তারাই সন্ত্রাসবাদকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

 

ভারতের জন্য একতা শব্দটির অর্থের বিস্তার সর্বদাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই মানুষ যারা 'স র্বে ভবন্তু সুখিনঃ' – এই মন্ত্র থেকে প্রেরণা গ্রহণ করি। আমরা সেই মানুষ যারা 'বসুধৈব কুটুম্বকম'–এর মন্ত্রকে আপন করে নিয়েছি। আর এটাই হল আমাদের মূল জীবনধারা। ভগবান বুদ্ধ থেকে শুরু করে মহাত্মা গান্ধী পর্যন্ত ভারত গোটা বিশ্বকে শান্তি এবং একতার বার্তা দিয়েছে। বন্ধুগণ, রাষ্ট্রকবি রামধারী সিং দিনকরজি লিখেছিলেন, “ভারত একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা স্বর্গকে মাটিতে নিয়ে আসে। ভারত একটি মনোভাব যা পেলে মানুষ জেগে ওঠে। আমাদের এই রাষ্ট্র, আমাদের ভাবনা দিয়ে, আমাদের চেতনা দিয়ে, আমাদের প্রচেষ্টা দিয়ে আমাদের সবাইকে মিলেমিশে গড়ে তুলতে হবে। আর এর অনেক বড় শক্তি হল ভারতের বৈচিত্র্য। এর অসংখ্য কথ্যভাষা, এতগুলি ভাষা, এত ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পরিধান, খাওয়া–দাওয়া এবং রীতি–রেওয়াজ।”

 

এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আর কোনও দেশে পাওয়া যাবে না। আমাদের বেদবাক্যেও বলা হয়েছে –

জনং বিভ্রতি বহুধা বিওয়াচসং নানা ধর্মানং পৃথ্বিবী যশৌকসম্

সহস্রং ধারা দ্রবিণস্য মে দুহাঁ ধ্রুবেব ধেনুরনপ্রস্ফুরন্তি।।

 

অর্থাৎ, আমাদের এই মাতৃভূমি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলা, ভিন্ন আচার, বিচার, ব্যবহারসম্পন্ন মানুষকে একটি বাড়িতে ধারণ করছে। সেজন্য আমাদের এই বৈচিত্র্যই আমাদের অস্তিত্ব। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে একতাকে জীবন্ত রাখাই আমাদের রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা এক, সেজন্য আমরা অপরাজেয়। আমরা এক, সেজন্যই আমরা অসাধারণ। আমরা এক, সেজন্যই আমরা অদ্বিতীয়। কিন্তু বন্ধুগণ, আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে যে ভারতের এই ঐক্য, এই শক্তি অন্যদের অনেকের ঈর্ষার কারণ। তারা আমাদের এই বৈচিত্র্যকেই আমাদের দুর্বলতায় পর্যবসিত করতে চায়। আমাদের এই বৈচিত্র্যকে ভিত্তি করে তারা পরস্পরের মধ্যে গভীর খাদ নির্মাণ করতে চায়। এহেন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু এই শক্তি থেকে প্রত্যেক ভারতবাসীকে অনেক বেশি সতর্ক থাকারও প্রয়োজন রয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ এখানে যখন আমি আধা–সামরিক বাহিনীর প্যারেড দেখছিলাম, আপনাদের সকলের অদ্ভূত কৌশল দেখছিলাম, তখন মনের মধ্যে আরেকটি চেহারা ফুটে উঠছিল। এই চেহারা হল পুলওয়ামা হামলার চিত্র। সেই হামলায় আমাদের অনেক অর্ধ সৈনিক পুলিশ বন্ধু শহীদ হয়েছিলেন। দেশ কখনও তার এই বীর সন্তানদের ভুলতে পারবে না। যারা এই ঘটনায় দুঃখ পাননি, তারাই পুলওয়ামা হামলাকেও নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন। তারা সেখান থেকেও রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছিলেন। দেশ কখনও ভুলতে পারবে না তখন কী ধরনের কথা বলা হচ্ছিল, কিভাবে একের পর এক বয়ান দেওয়া হচ্ছিল। দেশ ভুলতে পারবে না যখন দেশের শরীরে এতবড় আঘাত লেগেছিল, তখন স্বার্থ ও অহঙ্কারে ভরা নোংরা রাজনীতি কতটা কিভাবে চলছিল। আর সেই সময় ওই বীরদের দিকে তাকিয়ে আমি সমস্তরকম কলহ থেকে দূরে থেকে এই আরোপগুলি, এই গালিগালাজগুলি শুনে গেছি। আমাদের হৃদয়ে পুলওয়ামার বীর শহীদদের প্রতি গভীর ক্ষত ছিল। কিন্তু বিগত দিনে প্রতিবেশী দেশ থেকে যে খবরগুলি এসেছে, যেভাবে সেখানকার সংসদে এই সত্যকে স্বীকার করা হয়েছে, তা আমাদের দেশের এই রাজনীতি করা মানুষদের আসল চেহারাকে দেশের সামনে তুলে ধরেছে। তারা নিহিত স্বার্থের জন্য, রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য কোন পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারে, পুলওয়ামা হামলার পর তারা যে রাজনীতি করেছেন এটা তার অনেক বড় উদাহরণ। আমি এই ধরনের রাজনৈতিক দলগুলির কাছে, এই ধরনের মানুষদের কাছে অনুরোধ জানাই এবং আজকের সময়ে আরও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই। আর সর্দার সাহেবের প্রতি আপনাদের মনে শ্রদ্ধা থাকলে এই মহাপুরুষের এই বিরাট মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে আপনাদেরকে অনুরোধ করব যে দেশের স্বার্থে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীগুলির মনোবল তুঙ্গে রাখার স্বার্থে অনুগ্রহ করে এরকম রাজনীতি করবেন না। এরকম রাজনীতি থেকে দূরে থাকুন। নিজের স্বার্থের জন্য অজান্তেই আপনারা দেশ বিরোধী শক্তিগুলির হাতের পুতুলে পরিণত হচ্ছেন। তাদের স্বার্থে কথা বলছেন। আপনারা এভাবে দেশের ভালো করতে পারবেন না। নিজের দলেরও ভালো করতে পারবেন না।

বন্ধুগণ,

 

আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে আমাদের সকলের জন্য সবার ওপরে যদি কিছু থেকে থাকে সেটা হল রাষ্ট্রহিত। যখন আমরা সবার ভালো করার কথা ভাবব, তখনই আমাদের প্রত্যেকেরই উন্নয়ন হবে। তখনই আমাদেরও উন্নয়ন হবে। ভাই ও বোনেরা, আজকের এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে, এই বিরাট উঁচু ব্যক্তিত্বের চরণে দাঁড়িয়ে আমরা সেই ভারতের নির্মাণের সঙ্কল্প পুনরুচ্চারণ করব, যার স্বপ্ন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেখে গিয়েছিলেন। একটি এমন ভারত যা হবে ক্ষমতায়িত, সমৃদ্ধ এবং আত্মনির্ভর। আসুন, এই পবিত্র অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমরা আরেকবার দেশের প্রতি নিজেদের সমর্পণ ভাবকে তুলে ধরি। আসুন, সর্দার প্যাটেলের পায়ে নতমস্তক হয়ে আমরা এই প্রতিজ্ঞা নিই যে সর্বদা দেশের গৌরব এবং মান বাড়াব, এই দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাব।

এই সঙ্কল্প নিয়ে সমস্ত দেশবাসীকে আজকের একতা পর্ব উপলক্ষে আরেকবার অনেক অনেক শুভকামনা জানাই। আজ আমরা সমাদরে সর্দার সাহেবকে প্রণাম জানিয়ে, শ্রদ্ধা সহকারে, সর্দার সাহেবকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে, দেশবাসীকে বাল্মিকী জয়ন্তী উপলক্ষে শুভকামনা জানাই। সর্দার সাহেবের জন্মজয়ন্তীর শুভকামনার পাশাপাশি, আমার বক্তব্যে ইতি টানছি।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress

Media Coverage

Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
This is the New India that leaves no stone unturned for development: PM Modi
March 23, 2026
Today, India is moving forward with a new confidence; Now India faces challenges head-on: PM
From the Gulf to the Global West and from the Global South to neighbouring countries, India is a trusted partner for all: PM
What gets measured gets improved and ultimately gets transformed: PM
This is the new India, It is leaving no stone unturned for development: PM

नमस्कार!

पिछले कुछ समय में मुझे एक-दो बार टीवी9 भारतवर्ष देखने का मौका मिला है। नॉर्मली भी युद्धों और मिसाइलों पर आपका बहुत फोकस होता है और आजकल तो आपको कंटेंट की ओवरफीडिंग हो रही है। बड़े-बड़े देश टीवी9 को इतना सारा कंटेंट देने पर तुले हुए हैं, लेकिन On a Serious Note, आज विश्व जिन गंभीर परिस्थितियों से गुजर रहा है, वो अभूतपूर्व है और बेहद गंभीर है। और इन स्थितियों के बीच, आज टीवी-9 नेटवर्क ने विचारों का एक बेहद महत्वपूर्ण मंच बनाया है। आज इस समिट में आप सभी India and the world, इस विषय पर चर्चा कर रहे हैं। मैं आप सबको बधाई देता हूं। इस समिट के लिए अपनी शुभकामनाएं देता हूं। सभी अतिथियों का अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

आज जब दुनिया, conflicts के कारण उलझी हुई है, जब इन conflicts के दुष्प्रभाव पूरी दुनिया पर दिख रहे हैं, तब India and the world की बात करना बहुत ही प्रासंगिक है। भारत आज वो देश है, जिसकी अर्थव्यवस्था तेजी से आगे बढ़ रही है। 2014 के पहले की स्थितियों को पीछे छोड़कर के आज भारत एक नए आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ रहा है। अब भारत चुनौतियों को टालता नहीं है बल्कि चुनौतियों से टकराता है। आप बीते 5-6 साल में देखिए, कोरोना की महामारी के बाद चुनौतियां एक के बाद एक बढ़ती ही गई हैं। ऐसा कोई साल नहीं है, जिसने भारत की, भारतीयों की परीक्षा न ली हो। लेकिन 140 करोड़ देशवासियों के एकजुट प्रयास से भारत हर आपदा का सामना करते हुए आगे बढ़ रहा है। इस समय युद्ध की परिस्थितियों में भी भारत की नीति और रणनीति देखकर, भारत का सामर्थ्य देखकर दुनिया के अनेकों देश हैरान हैं। हमारे यहां कहावत है, सांच को आंच नहीं। 28 फरवरी से दुनिया में जो उथल-पुथल मची है, इन कठोर विपरीत परिस्थितियों में भी भारत प्रगति के, विकास के, विश्वास के संकल्प के साथ आगे बढ़ रहा है। इन 23 दिनों में भारत ने अपनी Relationship Building Capacity दिखाई है, Decision Making Capacity दिखाई है और Crisis Management Capacity दिखाई है।

साथियों,

आज जब दुनिया इतने सारे खेमों में बंटी हुई है, भारत ने अभूतपूर्व और अकल्पनीय bridges बनाए हैं। Gulf से लेकर Global West तक, Global South से लेकर पड़ोसी देशों तक भारत सभी का trusted partner है। कुछ लोग पूछते हैं, हम किसके साथ हैं? तो उनको मेरा जवाब यही है कि हम भारत के साथ हैं, हम भारत के हितों के साथ हैं, शांति के साथ हैं, संवाद के साथ हैं।

साथियों,

संकट के इसी समय में जब global supply chains डगमगा रही हैं, भारत ने diversification और resilience का मॉडल पेश किया है। Energy हो, fertilizers हों या essential goods अपने नागरिकों को कम से कम परेशानी हो, इसके लिए भारत ने निरंतर प्रयास किया है और आज भी कर रहे है।

साथियों,

जब राष्ट्रनीति ही राजनीति का मुख्य आधार हो, तब देश का भविष्य सर्वोपरि होता है। लेकिन जब राजनीति में व्यक्तिगत स्वार्थ हावी हो जाता है, तब लोग देश के फ्यूचर के बजाय अपने फ्यूचर के बारे में सोचते हैं। आप ज़रा याद कीजिए 2004 से 2010 के बीच क्या हुआ था? तब कांग्रेस सरकार के समय पेट्रोल-डीजल और गैस की कीमतों का संकट आया था और तब कांग्रेस ने देश की नहीं बल्कि अपनी सत्ता की चिंता की। उस वक्त कांग्रेस ने एक लाख अड़तालीस हज़ार करोड़ रुपए के ऑयल बॉन्ड जारी किए थे और प्रधानमंत्री मनमोहन सिंह जी ने खुद कहा था कि वो आने वाली पीढ़ी पर कर्ज का बोझ डाल रहे हैं। यह जानते हुए भी कि ऑयल बॉन्ड का फैसला गलत है, जो रिमोट कंट्रोल से सरकार चला रहे थे, उन लोगों ने अपनी सत्ता बचाने के लिए यह गलत निर्णय किया क्योंकि जवाबदेही उस समय नहीं होनी थी, उस बॉन्ड पर री-पेमेंट 2020 के बाद होनी थी।

साथियों,

बीते 5-6 वर्षों में हमारी सरकार ने कांग्रेस सरकार के उस पाप को धोने का काम किया है, और इस धुलाई का खर्चा कम नहीं आया है, ऐसी लाँड्री आपने देखी नहीं होगी। 1 लाख 48 हज़ार करोड़ रुपए की जगह, देश को 3 लाख करोड़ रुपए से अधिक की पेमेंट करनी पड़ी क्योंकि इसमें ब्याज भी जुड़ गया था। यानी हमने करीब-करीब दोगुनी राशि चुकाने के लिए मजबूर हुए। आजकल कांग्रेस के जो नेता बयानों की मिसाइलें दाग रहे हैं, मिसाइल आई तो टीवी9 को मजा आएगा, उनकी इस विषय का जिक्र आते ही बोलती बंद हो जाती है।

साथियों,

पश्चिम एशिया में बनी परिस्थितियों पर मैंने आज लोकसभा में अपना वक्तव्य दिया है। दुनिया में जहां भी युद्ध हो रहे हैं, वो भारत की सीमा से दूर हैं। लेकिन आज की व्यवस्थाओं में कोई भी देश युद्धों से दुष्प्रभाव से दूर रहे, ऐसा संभव नहीं होता। अनेक देशों में तो स्थिति बहुत गंभीर हो चुकी है। और इन हालातों में हम देख रहे हैं कि राजनीतिक स्वार्थ से भरे कुछ लोग, कुछ दल, संकट के इस समय में भी अपने लिए राजनीतिक अवसर खोज रहे हैं। इसलिए मैं टीवी9 के मंच से फिर कहूंगा, यह समय संयम का है, संवेदनशीलता का है। हमने कोरोना महासंकट के दौरान भी देखा है, जब देशवासी एकजुट होकर संकट का सामना करते हैं, तो कितने सार्थक परिणाम आते हैं। इसी भाव के साथ हमें इस युद्ध से बनी परिस्थितियों का सामना करना है।

साथियों,

दुनिया की हर उथल-पुथल के बीच, भारत ने अपनी प्रगति की गति को भी बनाए रखा है। अगर मैं 28 फरवरी को युद्ध शुरू होने के बाद, बीते 23 दिनों का ही ब्यौरा दूं, तो पूरब से पश्चिम तक, उत्तर से दक्षिण तक देश में हजारों करोड़ के डेवलपमेंट प्रोजेक्ट्स का काम हुआ है। दिल्ली मेट्रो रेल के महत्वपूर्ण कॉरिडोर्स का लोकार्पण, सिलचर का हाई स्पीड कॉरिडोर का शिलान्यास, कोटा में नए एयरपोर्ट का शिलान्यास, मदुरै एयरपोर्ट को इंटरनेशनल एयरपोर्ट का दर्जा देना, ऐसे अनेक काम बीते 23 दिनों में ही हुए हैं। बीते एक महीने के दौरान ही औद्योगिक विकास को गति देने के लिए भव्य स्कीम को मंजूरी दी गई है। इसके तहत देशभर में 100 plug-and-play industrial parks विकसित किए जाएंगे। देश में Small Hydro Power Development Scheme को भी हरी झंडी दी गई है। इससे आने वाले वर्षों में 1,500 मेगावाट नई hydro power capacity जोड़ी जाएगी। इसी दौरान जल जीवन मिशन को साल 2028 तक बढ़ाने का निर्णय लिया गया है। किसानों के हित में भी अनेक बड़े निर्णय लिए गए हैं। बीते एक महीने में ही पीएम किसान सम्मान निधि के तहत 18 हजार करोड़ रुपए से अधिक सीधे किसानों के खातों में ट्रांसफर किए गए हैं। और जो हमारे MSMEs हैं, जो हमारे निर्यातक हैं, उनके लिए भी करीब 500 करोड़ रुपए के राहत पैकेज की भी घोषणा की गई है। यह सारे कदम इस बात का प्रमाण हैं कि विकसित भारत बनाने के लिए देश कितनी तेज गति से काम कर रहा है।

साथियों,

Management की दुनिया में एक सिद्धांत कहा जाता है - What gets measured, gets managed. लेकिन मैं इसमें एक बात और जोड़ना चाहता हूं, What gets measured, gets improved और ultimately, gets transformed. क्योंकि आकलन जागरूकता पैदा करता है। आकलन जवाबदेही तय करता है और सबसे महत्वपूर्ण आकलन संभावनाओं को जन्म देता है।

साथियों,

अगर आप 2014 से पहले के 10-11 साल और 2014 के बाद के 10-11 साल का आप आकलन करेंगे, तो यही पाएंगे कि कैसे इसी सिद्धांत पर चलते हुए, भारत ने हर सेक्टर को Transform किया है। जैसे पहले हाईवे बनते थे, करीब 11-12 किलोमीटर प्रति दिन की रफ्तार से, आज भारत करीब 30 किलोमीटर प्रतिदिन की स्पीड से हाईवे बना रहा है। पहले पोर्ट्स पर शिप का Turnaround Time, 5-6 दिन का होता था। आज वही काम, करीब-करीब 2 दिन से भी कम समय में पूरा हो रहा है। पहले Startup Culture के बारे में चर्चा ही नहीं होती थी। 2014 से पहले, हमारे देश में 400-500 स्टार्ट अप्स ही थे। आज भारत में 2 लाख से ज्यादा रजिस्ट्रर्ड स्टार्ट अप्स हैं। पहले मेडिकल education में सीटें भी सीमित थीं, करीब 50-55 हजार MBBS seats थीं, आज यह बढ़कर सवा लाख से ज्यादा हो चुकी हैं। पहले देश के Banking system से भी करोड़ों लोग बाहर थे। देश में सिर्फ 25 करोड़ के आसपास ही बैंक account थे। वहीं जनधन योजना के माध्यम से 55 करोड़ से ज्यादा बैंक अकाउंट खुले हैं। पहले हमारे देश में airports की संख्या भी 70 से कम थी। आज एयरपोर्ट्स की संख्या भी बढ़कर 160 से ज्यादा हो चुकी है।

साथियों,

पहले भी योजनाएं तो बनती थीं, लेकिन आज फर्क है, आज परिणाम दिखते हैं। पहले गति धीमी थी, आज भारत fastrack पर है। पहले संभावनाएं भी अंधकार में थीं, आज संकल्प सिद्धियों में बदल रहे हैं। इसलिए दुनिया को भी यह संदेश मिल रहा है कि यह नया भारत है। यह अपने विकास के लिए कोई कोर-कसर बाकी नहीं छोड़ रहा है।

साथियों,

आज हमारा प्रयास है कि अतीत में विकास का जो असंतुलन पैदा हो गया था, उसको अवसरों में बदला जाए। अब जैसे हमारा पूर्वी भारत है। हमारा पूर्वी भारत संसाधनों से समृद्ध है, दशकों तक वहां जिन्होंने सरकारें चलाई हैं, उनकी उपेक्षा ने पूर्वी भारत के विकास पर ब्रेक लगा दी थी। अब हालात बदल रहे हैं। जिस असम में कभी गोलियों की आवाज सुनाई देती थी, आज वहां सेमीकंडक्टर यूनिट बन रही है। ओडिशा में सेमीकंडक्टर से लेकर पेट्रोकेमिकल्स तक अनेक नए-नए सेक्टर का विकास हो रहा है। जिस बिहार में 6-7 दशक में गंगा जी पर एक बड़ा पुल बन पाया था एक, उस बिहार में पिछले एक दशक में 5 से ज्यादा नए पुल बनाए गए हैं। यूपी में कभी कट्टा मैन्युफैक्चरिंग की कहानियां कही जाती थीं, आज यूपी, मोबाइल फोन मैन्युफैक्चरिंग में दुनिया में अपनी पहचान बना रहा है।

साथियों,

पूर्वी भारत का एक और बड़ा राज्य पश्चिम बंगाल है। पश्चिम बंगाल, एक समय में भारत के कल्चर, एजुकेशन, इंडस्ट्री और ट्रेड का हब होता था। बीते 11 वर्षों में केंद्र सरकार ने पश्चिम बंगाल के विकास के लिए बड़ी मात्रा में निवेश किया है। लेकिन दुर्भाग्य से, आज वहां एक ऐसी निर्मम सरकार है, जो विकास पर ब्रेक लगाकर बैठी है। TV9 बांग्ला के जो दर्शक हैं, वो जानते हैं कि बंगाल में आयुष्मान योजना पर निर्मम सरकार ने ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम आवास योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। चाय बागान श्रमिकों के लिए शुरू हुई योजना के लिए ब्रेक लगाया हुआ है। यानी विकास और जनकल्याण से ज्यादा प्राथमिकता निर्मम सरकार अपने राजनीतिक स्वार्थ को दे रही है।

साथियों,

देश में इस तरह की राजनीति की शुरुआत जिस दल ने की है, वो अपने गुनाहों से बच नहीं सकती और वो पार्टी है - कांग्रेस। कांग्रेस पार्टी की राजनीति का एक ही लक्ष्य रहा है, किसी भी तरह विकास का विरोध और कांग्रेस यह तब से कर रही है, जब मैं गुजरात में था। गुजरात में वर्षों तक जनता ने हमें आशीर्वाद दिया, तो कांग्रेस ने उस जनादेश को स्वीकार नहीं किया। उन्होंने गुजरात की छवि पर सवाल उठाए, उसकी प्रगति को कटघरे में खड़ा किया और जब यही विश्वास पूरे देश में दिखाई दिया, तो कांग्रेस का विरोध भी रीजनल से नेशनल हो गया।

साथियों,

जब राजनीति में विरोध, विकास के विरोध में बदल जाए, जब आलोचना देश की उपलब्धियों पर सवाल उठाने लगे, तब यह सिर्फ सरकार का विरोध नहीं रह जाता, यह देश की प्रगति से असहज होने की मानसिकता बन जाती है। आज कांग्रेस इसी मानसिकता की गुलाम बन चुकी है। आज स्थिति यह है कि देश की हर सफलता पर प्रश्न उठाया जाता है, हर उपलब्धि में कमी खोजी जाती है और हर प्रयास के असफल होने की कामना की जाती है। कोविड के समय, देश ने अपनी वैक्सीन बनाई, तो कांग्रेस ने उस पर भी संदेह जताया। Make in India की बात हुई, तो कहा गया कि यह सफल नहीं होगा, बब्बर शेर कहकर इसका मजाक उड़ाया गया। जब देश में डिजिटल इंडिया अभियान शुरू हुआ, तो उसका मजाक उड़ाया गया। लेकिन हर बार यह कांग्रेस का दुर्भाग्य और देश का सौभाग्य रहा कि भारत ने हर चुनौती को सफलता में बदला। आज भारत दुनिया की सबसे बड़ी वैक्सीनेशन ड्राइव का उदाहरण है। भारत डिजिटल पेमेंट्स में दुनिया का अग्रणी देश है। भारत मैन्युफैक्चरिंग और स्टार्टअप्स में नई ऊंचाइयों को छू रहा है।

साथियों,

लोकतंत्र में विरोध जरूरी होता है। लेकिन विरोध और विद्वेष के बीच एक रेखा होती है। सरकार का विरोध करना लोकतांत्रिक अधिकार है। लेकिन देश को बदनाम करना, यह कांग्रेस की नीयत पर सवाल खड़ा करता है। जब विरोध इस स्तर तक पहुंच जाए कि देश की उपलब्धियां भी असहज करने लगें, तो यह राजनीति नहीं, यह दृष्टिकोण की समस्या है। अभी हमने ग्लोबल AI समिट में भी देखा है। जब पूरी दुनिया भारत में जुटी हुई थी, तो कांग्रेस के लोग कपड़े फाड़ने वहां पहुंच गए थे। इन लोगों को देश की इज्जत की कितनी परवाह है, यह इसी से पता चलता है। इसलिए आज आवश्यकता है कि देशहित को, दलहित से ऊपर रखा जाए क्योंकि अंत में राजनीति से ऊपर, राष्ट्र होता है, राष्ट्र का विकास होता है।

साथियों,

आज का यह दिन भी हमें यही प्रेरणा देता है। आज के ही दिन शहीद भगत सिंह, शहीद राजगुरु और शहीद सुखदेव ने देश के लिए सर्वोच्च बलिदान दिया था। आज ही, समाजवादी आंदोलन के प्रखर आदर्श डॉ. राम मनोहर लोहिया जी की जयंती भी है। यह वो प्रेरणाएं हैं, जिन्होंने देश को हमेशा स्व से ऊपर रखा है। देशहित को सबसे ऊपर रखने की यही प्रेरणा, भारत को विकसित भारत बनाएगी। यही प्रेरणा भारत को आत्मनिर्भर बनाएगी। मुझे पूरा विश्वास है कि टीवी9 की यह समिट भी भारत के आत्मविश्वास और दुनिया के भरोसे पर, भारतीयों पर जो भरोसा है, उस भरोसे को और सशक्त करेगी। आप सभी को मेरी तरफ से बहुत-बहुत शुभकामनाएं हैं और आपके बीच आने का अवसर दिया, आप सबसे मिलने का मौका लिया, इसलिए बहुत-बहुत धन्यवाद!

नमस्‍कार!