প্রতিটি ভারতীয় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং আমাদের সেনাবাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে গর্ব বোধ করেন, বললনে প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
দশকের পর দশক ধরে আমাদের বাহাদুর জওয়ানরা নীল হেলমেট পরিধান করে সমগ্র বিশ্বের শান্তিব্যবস্থা কায়েমের উদ্দেশ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
প্রত্যেক ভারতবাসী, তা তিনি যে কোনও অঞ্চল, জাতি, ধর্ম বা ভাষাভুক্ত হোন না কেন, আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানাতে সদা তৎপর: প্রধানমন্ত্রী #MannKiBaat
ভারত গর্বের সঙ্গে বলতে পারে, ভারতীয় সশস্ত্র সেনাবাহিনীতে শুধু পুরুষ শক্তিই নেই, নারীশক্তির যোগদানও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী শক্তিশালী তো বটেই এখন সশস্ত্রও হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
ত্রাণ এবং উদ্ধারকার্য হোক বা আপৎকালীন ব্যবস্থাপনা, বায়ুসেনার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য সমগ্র দেশ তাদের কাছে কৃতজ্ঞ, বললনে প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
ভারত আগামী দু–বছর ধরে মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন করবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
বাপুজী আমাদের সবাইকে এক প্রেরণাদায়ক মন্ত্র দিয়েছিলেন, যা ‘গান্ধীজীর জাদুমন্ত্র’ বলে আমরা জানি: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
লাল বাহাদুর শাস্ত্রী দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন, ‘জয় জওয়ান জয় কিষাণ’ মন্ত্রটি হল তাঁর বিরাট ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
শাস্ত্রীজির সৌম্য ব্যক্তিত্ব প্রত্যেক দেশবাসীর মন সর্বদা গর্বে ভরে দেয়, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
#MannKiBaat প্রধানমন্ত্রী মোদী 'স্বচ্ছতাই সেবা' আন্দোলনের সাফল্যে সকল স্বচ্ছতাপ্রেমী দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন
আসুন, ৩১শে অক্টোবর 'রান ফর ইউনিটি'-র মাধ্যমে, সমাজের প্রতিটি শ্রেণিকে, প্রতিটি ব্যক্তিকে একতার সূত্রে বাঁধার প্রয়াসকে আমরা শক্তিশালী করি, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat
#MannKiBaat সর্দার প্যাটেল সারাজীবন দেশের ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করেছেন, বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
কিছুদিনের মধ্যেই এনএইচআরসি–র পঁচিশ বছর পূর্ণ হবে, ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতীক চিহ্নে, বৈদিক যুগের আদর্শ নীতি, "সর্বে ভবন্তু সুখিন" অলংকৃত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী #MannKiBaat

আমার প্রিয় দেশবাসীনমস্কার!

 

এমন কোনও ভারতবাসী কি আছেন যিনি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীআমাদের সেনাবাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে গর্ব বোধ করেন না?প্রত্যেক ভারতবাসীতা তিনি যে কোনও অঞ্চলজাতিধর্ম বা ভাষাভুক্ত হোন না কেনআমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন জানাতে সদা তৎপর। গতকালই একশো পঁচিশ কোটি দেশবাসী পরাক্রম পর্ব’ পালন করেছেন। আমরা স্মরণ করেছি ২০১৬ সালে সংঘটিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর ঘটনাটিযখন আমাদের সেনারা আমাদের দেশে সন্ত্রাসবাদের আড়ালে প্রক্সি ওয়্যারের নামে যারা ধৃষ্টতা দেখাচ্ছিলতাদের যথোপযুক্ত জবাব দিয়েছিল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সেনারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল যাতে সিংহভাগ জনসাধারণবিশেষত দেশের যুব প্রজন্ম অনুভব করতে পারে আমাদের শক্তি কতখানিআমরা কতটা সক্ষম আর আমাদের সেনারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে কীভাবে দেশবাসীকে সুরক্ষা প্রদান করে। পরাক্রম পর্বর মত দিবস দেশের যুবশক্তির কাছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবপূর্ণ ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে। দেশের একতা এবং অখণ্ডতাকে সুনিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রেরণা দেয়। আমিও বীর যোদ্ধাদের ভূমি রাজস্থানের যোধপুরে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। এটা নিশ্চিত যে আমাদের সেনারা তাদের সবাইকে যথোপযুক্ত জবাব দেবে যারা আমাদের দেশের শান্তি ও উন্নতির পরিবেশকে নষ্ট করতে চাইবে। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করিআর শান্তি বজায় রাখার জন্য দায়বদ্ধও। কিন্তু সম্মানের সঙ্গে আপোস করে আর দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার বিনিময়ে কদাপি নয়। ভারত সদাসর্বদাই শান্তি ব্যবস্থা কায়েম রাখার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও সমর্পিত। বিংশ শতাব্দীর দুদুটি বিশ্বযুদ্ধে আমাদের এক লক্ষেরও বেশি সেনা শান্তির জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেনএই ঘটনা সেই যুদ্ধেরযার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক ছিল না। আমাদের দৃষ্টি কখনই অপর কোনও দেশের ভূমির ওপর পরেনি। এটা ছিল শান্তির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা। কিছুদিন আগেই ২৩শে সেপ্টেম্বর আমরা ইজরায়েলে Haifa যুদ্ধের শতবার্ষিকী উপলক্ষে মহীশূরহায়দ্রাবাদ ও যোধপুর ল্যান্সারের বীর সৈনিকদের স্মরণ করেছিযাঁরা আক্রমণকারীদের থেকে Haifa-কে মুক্ত করেছিলেন। এও ছিল শান্তিরক্ষার উদ্দেশ্যে আমাদের সৈনিকদের প্রদর্শিত এক পরাক্রম। আজও রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা বাহিনীগুলিতে সর্বাধিক সংখ্যায় সেনা পাঠানো দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। দশকের পর দশক ধরে আমাদের বাহাদুর জওয়ানরা blue helmet পরিধান করে সমগ্র বিশ্বের শান্তিব্যবস্থা কায়েমের উদ্দেশ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীআমাদের বায়ুশক্তি তুলনাহীন। আকাশে নিজেদের অপরিসীম শক্তির পরিচয় দিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনা প্রত্যেক দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে ও আমাদের সুরক্ষা সম্বন্ধে আশ্বস্ত করেছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে জনসাধারণ কুচকাওয়াজের যে অংশটির প্রতি সর্বাধিক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন তা হল Fly Past, যেখানে আমাদের বায়ুসেনার অভূতপূর্ব কলাকৌশল ও শক্তি প্রদর্শনের ঝলক থাকে। ৮ই অক্টোবর আমরা বায়ুসেনা দিবস’ পালন করি। ১৯৩২এ ছয়জন পাইলট ও ১৯ জন সেনাকে নিয়ে শুরু হওয়া আমাদের বায়ু সেনাবাহিনী আজ একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম সাহসী ও শক্তিশালী বায়ুসেনায় পরিনত হয়েছে। এ এক স্মরণীয় যাত্রা। দেশের প্রতি সমর্পিত সমস্ত বায়ুসেনানী ও তাদের পরিবারের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। ১৯৪৭এ যখন পাকিস্তানের আক্রমণকারীরা অতর্কিত আক্রমণ শুরু করে তখন

 

এই বায়ুসেনাই শ্রীনগরকে আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতীয় বাহিনী ও যুদ্ধোপকরণ যাতে যুদ্ধের ময়দানে সঠিক সময়ে পৌঁছয় তা সুনিশ্চিত করেছিল। ১৯৬৫র যুদ্ধেও বায়ুসেনা শত্রুপক্ষকে উচিত জবাব দিয়েছিল। ১৯৭১এর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা কে না জানে১৯৯৯এ কারগিলকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করতেও বায়ুসেনা অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। টাইগার হিলএ শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে ক্রমাগত বোমাবর্ষণ করে বায়ুসেনা তাদের নাস্তানাবুদ করেছিল। ত্রাণ এবং উদ্ধারকার্য হোক বা আপৎকালীন ব্যবস্থাপনাবায়ুসেনার উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য সমগ্র দেশ তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তুফানঝঞ্ঝা,বন্যা বা ভয়াবহ দাবানলের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলির মোকাবিলায় ও দেশবাসীর সহায়তায় বায়ুসেনার অবদান দৃষ্টান্তমূলক। দেশেGender Equality অর্থাৎ নারীপুরুষের সমতা সুনিশ্চিত করতেও বায়ুসেনা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ও নিজেদের প্রত্যেক বিভাগের দ্বার দেশের কন্যাদের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এখন তো বায়ুসেনা মহিলাদের শর্ট সার্ভিস কমিশন’-এর সঙ্গে সঙ্গে পার্মানেন্ট কমিশন’-এর বিকল্পও বেছে নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছেযার ঘোষণা আমি এই বছর ১৫ আগষ্টের দিনটিতে লালকেল্লার প্রাকার থেকে করেছিলাম। ভারত গর্বের সঙ্গে বলতে পারেভারতীয় সশস্ত্র সেনাবাহিনীতে শুধু পুরুষ শক্তিই নেইনারীশক্তির যোগদানও দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী শক্তিশালী তো বটেই এখন সশস্ত্রও হচ্ছে।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীকদিন আগেই আমাদের নৌবাহিনীর এক আধিকারিকঅভিলাষ টোমি জীবনমৃত্যুর লড়াই লড়ছিল। সারা দেশ চিন্তিত ছিল ওকে কিভাবে বাঁচানো যায়। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন অভিলাষ টোমি নৌবাহিনীর এক নির্ভীকসাহসী ও বীর সৈনিক।  অভিলাষ প্রথম ভারতীয় যিনি কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই একটি ছোট্ট নৌকো নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করছিলেন। ৮০ দিন ধরে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণে গোল্ডেন গ্লোব রেস প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে যখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিলেন তখন এক ভয়ঙ্কর সামুদ্রিক ঝড়ের মধ্যে পড়েন। এত বিপদের মধ্যেও ভারতীয় নৌবাহিনীর এই বীর বেশ কদিন ধরে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যান। অপার সাগরের মধ্যে পানীয় জল বা খাবার ছাড়াই ভাসতে থাকেনকিন্তু হার স্বীকার করেন নি। সাহসসঙ্কল্পশক্তি আর দক্ষতার এ এক আশ্চর্য নিদর্শনকয়েকদিন আগেইঅভিলাষকে মাঝসমুদ্রে উদ্ধারের পরআমি ওর সঙ্গে ফোনে কথা বলি। এর আগেও অবশ্য আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। এত বড় বিপদ কাটিয়েও আবার এইরকম দুঃসাহসী কিছু করার সংকল্পের কথা আমাকে বলল… ওর মধ্যে এই মনোবলএই যে উদ্দীপনা রয়েছে… সেইটা আমাদের দেশের যুবসমাজের কাছেতরুণ প্রজন্মের কাছে একটা প্রেরণা। আমি অভিলাষ টোমির দ্রুত আরোগ্যের জন্যে প্রার্থনা করছি আর আশা করছি যে ওর এই সাহসএই বীরত্বএই দৃঢ়সংকল্প – এই লড়ে জিতে নেওয়ার শক্তি – আমাদের দেশের যুব প্রজন্মকে প্রেরণা ও উৎসাহ যোগাবে।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীরা অক্টোবর দিনটির কী মাহাত্ম্য — তা শিশুরাও জানে। এবছর এই দিনটির আরও বিশেষ এক গুরুত্ব রয়েছে। আমরা আগামী দুবছর ধরে মহাত্মাগান্ধীর সার্ধশত জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপনের জন্য বিশ্বজুড়ে নানান কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছি। মহাত্মা গান্ধীর ভাবধারা ও চিন্তাচেতনা আজ সারা বিশ্বে পৌঁছে গেছে। ডক্টর মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বা নেলসন ম্যাণ্ডেলার মত মণীষীরা প্রত্যেকেই গান্ধীজীর ভাবধারা থেকে শক্তি অর্জন করেছেন। তাঁরা স্বজাতির সমান অধিকার এবং সম্মান অর্জন করতে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন। আজকের মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের সঙ্গে পূজনীয় বাপুজীর আরও এক মহৎ কাজ নিয়ে আলোচনা করতে চাই — যা সমস্ত দেশবাসীরই জানা দরকার।

 

১৯৪১ সালে মহাত্মা গান্ধী constructive programme বা গঠনমূলক কার্যক্রম’ হিসেবে কিছু চিন্তাধারা লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। পরে১৯৪৫ সালে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম জোরদার হয়ে উঠলতখন গান্ধীজী তাঁর এই চিন্তাধারাগুলির সংশোধিত প্রতিলিপি তৈরি করলেন। পূজনীয় বাপুজী কৃষকগ্রামের মানুষ এবং শ্রমিক ভাইদের অধিকার রক্ষাস্বচ্ছতাশিক্ষার প্রসার ইত্যদি নানা বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেনযাকে Gandhi Charter–ও বলা হয়। পূজনীয় বাপুজী জনসংযোগকারী ছিলেন। মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ামানুষকে আপন করে নেওয়া বাপুজীর বিশেষত্বযা তাঁর স্বভাবেই ছিল। এটাই মহাত্মা গান্ধীর ব্যক্তিত্বের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রত্যেকে অনুভবও করেছেন। তিনি দেশবাসীকে উপলব্ধি করিয়েছিলেন যে তারা দেশের বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যক। এই উপলব্ধিকে তিনি এক সর্বাত্মক জন আন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন যা ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেরপ্রতিটি গোষ্ঠীর মানুষ নিজেকে সমর্পণ করে দিয়েছিলেন। বাপুজী আমাদের সবাইকে এক প্রেরণাদায়ক মন্ত্র দিয়েছিলেনযা গান্ধীজীর জাদুমন্ত্র’ বলে আমরা জানি।

 

সেখানে গান্ধীজী বলেছিলেন — “আমি তোমাদের এমন এক কৌশলের কথা বলে যাচ্ছিযখনই তোমাদের মনে সন্দেহ জাগবে অথবা অহংকার তোমাদের মনকে আচ্ছন্ন করবেতখনই আমার চিন্তাধারা স্মরণ কোরো। তুমি জীবনে সবচেয়ে দরিদ্র এবং দুর্বল যে মানুষটিকে দেখেছোতার মুখ মনে কোরো এবং নিজের মনকে প্রশ্ন কোরো — তুমি যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছো — তা ঐ মানুষটির জন্য কতখানি উপযোগী হবে। এতে কি সে লাভবান হবেএর ফলে কি তার জীবনে এবং ভাগ্যে কোনও পরিবর্তন আসবে?অর্থাৎ এতে কি কোটি কোটি ক্ষুধার্ত এবং অতৃপ্ত মানুষ স্বরাজ অর্জন করবেতখনই তুমি লক্ষ্য করবে তোমার সন্দেহ নিরসন হল এবং অহংকার নিবৃত্ত হল।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীগান্ধীজীর এক কৌশল আজও একইরকম গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তশ্রেণির আর্থিক শক্তি এবং ক্রয় ক্ষমতা আজ উর্দ্ধমুখী। এই প্রেক্ষিতে আমরা যখন কিছু কিনতে যাইতখনই পূজনীয় বাপুজীর সেই মহান কৌশল বা মন্ত্র স্মরণ করতে পারি। আমি যে পণ্যটি ক্রয় করছিতাতে আমাদের দেশের কোনও নাগরিকের লাভ হচ্ছে কিএতে কার মুখে খুশির আলো ঝলমল করবেকে সেই ভাগ্যবান — যার কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমার এই ক্রয় থেকে লাভ পৌঁছবে। দরিদ্রতর মানুষের কাছে যদি সেই লাভ পৌঁছয় — তাহলেই আমার খুশিও বহুগুণে বেড়ে যাবে।

 

গান্ধীজীর এই কৌশলকে মনে রেখে আগামীদিনে আমরা যখনই কিছু কিনবগান্ধীজীর সার্ধশত জন্মজয়ন্তী যাপন করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে আমাদের প্রত্যেকটি ক্রয়ের ফলে যেন কোনও না কোনও দেশবাসীর ভালো হয় এবং পণ্যটির উৎপাদনে যাঁদের ঘাম ঝরেছেযাঁরা বিনিয়োগ করেছেনযাঁরা নিজেদের প্রতিভা কাজে লাগিয়েছেনতাঁদের প্রত্যেকের কাছেই যেন কিছু না কিছু লাভ পৌঁছয়। এটাই গান্ধীজীর কৌশলএটাই গান্ধীজীর বার্তা। আমার বিশ্বাস আপনাদের ছোট্ট একটি পদক্ষেপ দরিদ্রতম মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমার প্রিয় দেশবাসীগান্ধীজি যখন বলেছিলেন জঞ্জাল পরিষ্কার করলে স্বাধীনতা পাওয়া যাবে তখন হয়ত উনি জানতেনও না এটা কিভাবে হবে। কিন্তু এমনটা হয়েছে। ভারত স্বাধীনতা পেয়েছে। তেমন ভাবেই আজ আমাদের মনে হতে পারে আমাদের এই ছোট্ট কাজের মাধ্যমে ও আমার দেশের আর্থিক প্রগতিতেআর্থিক সশক্তিকরণ এর ক্ষেত্রে ,দরিদ্রকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি যোগাতে আমরা বড় অবদান রাখতে পারি। আর আমার মতে এটাই আজকের যুগের প্রকৃত দেশভক্তিএটাই পুজনীয় বাপুর কাজের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। যেমন বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাদি ও হস্তশিল্পজাত দ্রব্য কেনার কথা ভাবুন। এতে অনেক বয়ন শিল্পীর সাহায্য হবে। কথিত আছে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজী পুরনো বা ছেঁড়াফাটা খাদির কাপড়ও যত্ন করে রেখে দিতেন। কারণ তাতেও কারো পরিশ্রম জড়িয়ে থাকে। উনি বলতেন এইসব খাদির কাপড় অনেক পরিশ্রম করে বানানো হয়েছে। এর প্রতিটি সুতো যেন কাজে লাগে। দেশ ও দেশবাসীর প্রতি ভালোবাসা ওই ছোটখাটো চেহারার মহামানবের শিরায় শিরায় প্রবাহিত ছিল। দুদিন পর পূজনীয় বাপুর সঙ্গে আমরা শাস্ত্রীজির জন্মজয়ন্তী ও পালন করব। শাস্ত্রীজীর নাম উচ্চারিত হতেই আমাদের অর্থাৎ ভারতবাসীর মনে এক অসীম শ্রদ্ধার জন্ম হয়। ওর সৌম্য ব্যক্তিত্ব প্রত্যেক দেশবাসীর মন সর্বদা গর্বে ভরে দেয়। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর বিশেষত্ব ছিল বাইরে থেকে ওঁকে অত্যন্ত নরম দেখাতো। কিন্তু অন্তরে তিনি দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন। জয় জওয়ান জয় কিষাণ’ মন্ত্রটি ছিল তাঁর বিরাট ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। প্রায় দেড় বছরের সংক্ষিপ্ত কার্যকালে উনি দেশের যুবক ও কৃষকের সাফল্যকে শিখরে পৌঁছে দেওয়ার মন্ত্র দিয়ে গেছেন। এটা রাষ্ট্রের প্রতি ওর নিঃস্বার্থ তপস্যারই ফল।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীআজ যখন আমরা পূজনীয় বাপুকে স্মরণ করছি খুব স্বাভাবিক ভাবেই স্বচ্ছতার কথা তো বলতেই হয় 15সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছতা হি সেবা’ অভিযান শুরু হয়েছে। কোটি কোটি মানুষ এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন। আমারও সৌভাগ্য হয়েছে দিল্লির আম্বেদকার স্কুলে বাচ্চাদের সঙ্গে স্বচ্ছতা শ্রম দান করার। আমি সেই স্কুলে গেছিযার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন পূজনীয় বাবা সাহেব নিজে। 15 তারিখ থেকে দেশজুড়ে প্রতিটি শ্রেণির মানুষ এই শ্রম দানে যুক্ত হন। বিভিন্ন সংস্থা এতে অংশগ্রহণ করেছে। স্কুলের বাচ্চাকলেজের ছাত্র ছাত্রীএন সি সিএন এস এসযুব সংগঠনমিডিয়া গ্রুপকর্পোরেট জগত সবাই বৃহদাকারে স্বচ্ছতা শ্রম দান করেছেন। আমি এর জন্য সকল স্বচ্ছতাপ্রেমী দেশবাসীকে আন্তরিকভাবে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই। আসুন শোনা যাক একটি ফোন কল,

"নমস্কারআমার নাম শয়তান সিং। জেলা বিকানিরতহশীল পুগলরাজস্থান থেকে বলছি আমি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুটি চোখের একটিতেও আমি দেখতে পাই না। আমি সম্পূর্ণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। আমি বলতে চাই মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদীজি স্বচ্ছ ভারত’-এর যে পদক্ষেপ নিয়েছেনতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা শৌচকর্ম করতে যেতে খুবই অসুবিধায় পড়তাম। এখন প্রতিটি ঘরে শৌচালয় তৈরি হয়েছেতাই এতে আমাদের খুব সুবিধা হয়েছে। এই পদক্ষেপ খুবই প্রশংসনীয় এবং এই উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাক। অনেক অনেক ধন্যবাদ!

 

আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন। প্রত্যেকের জীবনেই স্বচ্ছতার নিজস্ব গুরুত্ব আছে। আর স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের ফলে আপনার ঘরে শৌচালয় তৈরি হয়েছে,

তাতে এখন আপনার সুবিধা হচ্ছেআমাদের সবার জন্য এর থেকে খুশির খবর আর কি হতে পারেসম্ভবত এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত মানুষরাও কল্পনা করতে পারবেন না যে প্রজ্ঞাচক্ষু হওয়ার কারণে শৌচালয় হওয়ার আগে আপনি কতটা অসুবিধার মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছিলেন আর শৌচালয় হওয়ার পর তা আপনার জন্য কত বড় আশীর্বাদ হয়েছে। আপনি যদি এই বিষয়টা জানিয়ে আমাদের ফোন না করতেন তাহলে হয়তো স্বচ্ছতা অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিদের মনেও এই সংবেদনশীল বিষয়টি আসত না। আপনার ফোনের জন্য আমি আপনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।

 

আমার প্রিয় দেশবাসী স্বচ্ছ ভারত মিশন’ শুধু দেশেই নয় বরং সারা পৃথিবীতে একটি সাফল্যের কাহিনি হয়ে উঠেছে যার বিষয়ে সকলেই আলোচনা করছেন। এবার ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বচ্ছতা সম্মেলন আয়োজন করতে চলেছে– ‘মহাত্মা গান্ধী আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা সম্মেলন’ অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্যানিটেশন কনভেনশন। সারা পৃথিবীর থেকে স্বচ্ছতা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা এসে স্বচ্ছতা সম্পর্কিত প্রয়োগ ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন। ‘Mahatma Gandhi International Sanitation Convention’-এর  সমাপ্তি  ২রা অক্টোবর,  ২০১৮তে বাপুর সার্ধশত জন্ম জয়ন্তীর শুভ সূচনার সঙ্গেই হবে।

আমার প্রিয় দেশবাসীসংস্কৃতে একটা কথা আছে, "ন্যায়মূলং  স্বরাজ্যং  স্যাতঅর্থাৎ স্বরাজের  মূলে থাকে ন্যায়। যখন ন্যায়ের বিষয়ে আলোচনা  হয়,  তখন মানবাধিকারের চিন্তাভাবনা  সেখানে সম্পূর্ণরূপে  অন্তর্নিহিত থাকে। শোষিতপীড়িত এবং বঞ্চিত মানুষদের স্বাধীনতা,  শান্তি  এবং  তাদের প্রতি ন্যায় সুনিশ্চিত করার জন্য এটা অনিবার্য। ডক্টর বাবাসাহেব আম্বেদকার রচিত সংবিধানে গরীবদের মূল অধিকারগুলি রক্ষার জন্য বেশ কিছু উপায় রয়েছে। তাঁর ভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে১২ ই অক্টোবর  ১৯৯৩ সালে, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ অর্থাৎ "National Human Rights Commission" (NHRC) গঠন করা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই NHRC–র পঁচিশ বছর পূর্ণ হবে। NHRC শুধু মানবাধিকার রক্ষা করেনিআত্মিক গৌরব বৃদ্ধিতেও সাহায্য করেছে। আমাদের পরমপ্রিয় নেতাপ্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত অটল বিহারী বাজপেয়ী স্পষ্ট রূপে বলেছিলেন যেমানবাধিকার আমাদের কাছে কোনও বিদেশী ধারণা নয় । আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতীক চিহ্নে,  বৈদিক যুগের আদর্শ নীতি, "সর্বে  ভবন্তু  সুখিনঃঅলংকৃত  রয়েছে। NHRC মানবাধিকার নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় সচেতনতা সৃষ্টি করেছেসঙ্গে এর অপব্যবহার আটকাতেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। পঁচিশ  বছরের  এই  সফরে  এই  কমিশন  দেশবাসীর  মধ্যে  আশা  ও  বিশ্বাসের এক পরিবেশ তৈরি করেছে। আমার মনে হয় এটা একটা সুস্থ সমাজ গঠনের জন্যগণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য খুব আশাব্যঞ্জক। এখন জাতীয় স্তরে মানবাধিকার বিষয়ে কাজের পাশাপাশি, 26 টি রাজ্য মানবাধিকার কমিশন’  গঠন  করা  হয়েছে। সমাজবদ্ধভাবে আমাদের মানবাধিকারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে ও আমাদের আচরণেও তা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটাই সবকা সাথ সবকা বিকাশঅর্থাৎ সকলের  সাথে সকলের  উন্নতির” মূল চিন্তাধারা।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীঅক্টোবর মাসে জয়প্রকাশ নারায়ণজীর জন্মজয়ন্তী। রাজমাতা বিজয়ারাজে সিন্ধিয়াজীরও জন্ম শতবর্ষের শুভ সূচনা হবে।  এই  সকল মহাপুরুষরা  আমাদের  অনুপ্রেরণা  দিয়েছেনএঁদের আমরা প্রণাম জানাই। 31 শে  অক্টোবর সর্দারসাহেবেরও  জন্ম জয়ন্তী।  আমি আগামী  'মান কি বাত'-এ এই  নিয়ে বিস্তারিত  আলোচনা  করবকিন্তু এটি আজ আমি অবশ্যই উল্লেখ করতে চাই যে কিছু বছর ধরে সর্দারসাহেবের জন্মজয়ন্তী৩১ অক্টোবরে ভারতের প্রতিটি ছোটছোট শহরেমফঃস্বলে,গ্রামে, ‘Run for Unity’ অর্থাৎ ঐক্যের জন্য দৌড়’-এর আয়োজন করা হয়। এই  বছরেও আসুন  আমরা নিজেদের গ্রামেগঞ্জেশহরে,মহানগরে, ‘Run for Unity’-র আয়োজন করতে সচেষ্ট হই। ঐক্যের জন্য দৌড়’ — এটাই তো  সর্দার  সাহেবকে স্মরণ করার সঠিক উপায়,  কারণ  তিনি সারাজীবন দেশের ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ জানাই যে ৩১শে অক্টোবর  "Run for Unity"–র মাধ্যমেসমাজের  প্রতিটি  শ্রেণিকেপ্রতিটি ব্যক্তিকে একতার সূত্রে  বাঁধার  এই  প্রয়াসকে  আমরা শক্তিশালী  করি  এবং  সেটাই  হবে তাঁর প্রতি উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

 

আমার প্রিয় দেশবাসীনবরাত্রিদুর্গাপূজাবিজয়াদশমী — এই সকল পবিত্র উৎসবের জন্য আমি  আপনাদের  সকলকে আন্তরিকভাবে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই । ধন্যবাদ!

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
With HPV vaccine rollout, AIIMS oncologist says it’s the beginning of the end for cervical cancer in India

Media Coverage

With HPV vaccine rollout, AIIMS oncologist says it’s the beginning of the end for cervical cancer in India
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
The HPV vaccination campaign, launched from Ajmer, marks a significant step towards empowering the nation’s Nari Shakti: PM Modi in Rajasthan
February 28, 2026
Our government is committed to all-round development: PM
Today, I had the privilege of launching the nationwide HPV vaccination campaign from Ajmer, inaugurating and laying foundation stones for multiple projects and distributing appointment letters to the youth: PM
The HPV vaccination campaign has commenced from Ajmer, this campaign is a significant step towards empowering the Nari Shakti of the country: PM
The double-engine government is moving forward by taking both Rajasthan’s heritage and development together: PM
The campaign to link rivers started by our government will significantly benefit Rajasthan: PM
There is no shortage of sunlight in Rajasthan, this very sunshine is becoming a source of savings and income for the common man: PM
A very significant role is being played by the PM Surya Ghar Free Electricity Scheme, this scheme has the power to change Rajasthan's destiny: PM

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

भारत माता की जय।

तीर्थराज पुष्कर और माता सावित्री की इस पावन भूमि पर, आज मुझे आप सबके बीच आने का, आपके आशीर्वाद प्राप्त करने का अवसर मिला है। इस मंच से मैं सुरसुरा के तेजाजी धाम को, पृथ्वीराज की भूमि अजमेर को प्रणाम करता हूं।

मेरे साथ बोलिए –

तीर्थराज पुष्कर की जय।

तीर्थराज पुष्कर की जय।

वीर तेजाजी महाराज की जय।

वीर तेजाजी महाराज की जय।

भगवान देव नारायण की जय।

भगवान देव नारायण की जय।

वरूण अवतार भगवान झूलेलाल जी की जय।

भगवान झूलेलाल जी की जय।

मंच पर विराजमान राजस्थान के राज्यपाल हरिभाउ बागडे जी, राज्य के लोकप्रिय मुख्यमंत्री श्री भजनलाल शर्मा जी, पूर्व मुख्यमंत्री बहन वसुंधरा जी, केंद्रीय मंत्रिमंडल में मेरे साथी भगीरथ चौधरी जी, उपमुख्यमंत्री प्रेमचंद भैरवा जी, दिया कुमारी जी, संसद में मेरे साथी, भाजपा के प्रदेश अध्यक्ष मदन राठौर जी, उपस्थित अन्य मंत्रिगण, अन्य महानुभाव और राजस्थान के मेरे प्यारे भाई और बहनों। मैं पूज्य संतों का बहुत आभारी हूं, कि हमें आशीर्वाद देने के लिए इतनी बड़ी संख्या में पूज्य संतगण यहां मौजूद हैं।

साथियों,

अजमेर आस्था और शौर्य की धरती है। यहां तीर्थ भी है और क्रांतिवीरों के पदचिन्ह भी हैं। अभी कल ही मैं इजराइल की यात्रा को पूरा करके भारत लौटा हूं। राजस्थान के सपूत मेजर दलपत सिंह के शौर्य को इजराइल के लोग आज भी गौरव से याद करते हैं। मुझे भी इजराइल की संसद में, मेजर दलपत सिंह जी के शौर्य को नमन करने का सौभाग्य मिला। राजस्थान के वीर बाकुरों की, इजराइल के हाइफा शहर को आजाद कराने में जो भूमिका थी, मुझे उसका गौरवगान करने का अवसर मिला है।

साथियों,

कुछ समय पहले ही, राजस्थान में भाजपा की डबल इंजर सरकार को दो साल पूरे हुए हैं, मुझे संतोष है कि आज राजस्थान विकास के नए पथ पर अग्रसर है। विकास के जिन वायदों के साथ भाजपा सरकार आपकी सेवा में आई थी, उन्हें तेजी के साथ पूरा कर रही है। और आज का दिन, विकास के इसी अभियान को तेज करने का दिवस है। थोड़ी देर पहले यहां राजस्थान के विकास से जुड़ी करबी 17 हजार करोड़ रूपयों की परियोजनाओं का शिलान्यास और लोकार्पण हुआ है। सड़क, बिजली, पानी, स्वास्थ्य, शिक्षा, हर क्षेत्र में नई शक्ति जुड़ रही है। ये सारे प्रोजेक्टस राजस्थान की जनता की सुविधा बढ़ाएंगे और राजस्थान के युवाओं के लिए, रोजगार के भी अवसर पैदा करेंगे।

साथियों,

भाजपा की डबल इंजर सरकार लगातार युवा शक्ति को सशक्त कर रही है। दो साल पहले तक राजस्थान से भर्तियों में भ्रष्टाचार और पेपर लीक की ही खबरें चमकती रहती थीं, आती रहती थीं। अब राजस्थान में पेपर लीक पर लगाम लगी है, दोषियों पर सख्त कार्रवाई हो रही है। आज यहां इसी मंच से राजस्थान के 21 हजार से अधिक युवाओं को नियुक्ति पत्र भी सौंपे गए हैं। ये बहुत बड़ा बदलाव आया है। मैं इस बदलाव के लिए, नई नौकरियों के लिए, विकास के सभी कामों के लिए, राजस्थान के आप सभी लोगों को बहुत-बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

आज वीरांगनाओं की इस धरती से, मुझे देशभर की बेटियों के लिए एक अहम अभियान शुरू करने का अवसर मिला है। यहां अजमेर से HPV वैक्सीनेशन अभियान शुरू हुआ है। ये अभियान, देश की नारीशक्ति को सशक्त करने की दिशा में अहम कदम है।

साथियों,

हम सब जानते हैं कि परिवार में जब मां बीमार होती है, तो घर बिखर सा जाता है। अगर मां स्वस्थ है, तो परिवार हर संकट का सामना करने में सक्षम रहता है। इसी भाव से, भाजपा सरकार ने महिलाओं को संबल देने वाली अनेक योजनाएं चलाई हैं।

साथियों,

हमने 2014 से पहले का वो दौर देखा है, जिसमें शौचालय के अभाव में बहनों-बेटियों को कितनी पीड़ा, कितना अपमान झेलना पड़ता था। बच्चियां स्कूल छोड़ देती थीं, क्योंकि वहां अलग टॉयलेट की सुविधा नहीं होती थी। गरीब बेटियां सेनिटरी पैड्स नहीं ले पाती थीं। पहले जो सत्ता में रहे, उनके लिए ये छोटी बातें थीं। इसलिए इन समस्याओं की चर्चा तक नहीं होती थी। लेकिन हमारे लिए ये बहनों-बेटियों को बीमार करने वाला, उनके अपमान से जुड़ा संवेदनशील मसला था। इसलिए, हमने इनका मिशन मोड पर समाधान किया।

साथियों,

गर्भावस्था के दौरान कुपोषण माताओं के जीवन के लिए बहुत बड़ा खतरा होता था। हमने सुरक्षित मातृत्व के लिए योजना चलाई, मां को पोषक आहार मिले, इसके लिए पांच हज़ार रुपए बहनों के खाते में जमा करने की योजना शुरु की। मां धुएं में खांसती रहती थी, लेकिन उफ्फ तक नहीं करती थी। हमने कहा ये नहीं चलेगा। और इसलिए उज्जवला गैस योजना बनाई गई। ये सब इसलिए संभव हुआ, क्योंकि भाजपा सरकार, सत्ता भाव से नहीं, संवेदनशीलता के साथ काम करती है।

साथियों,

21वीं सदी का एक चौथाई हिस्सा बीत चुका है। आज का समय राजस्थान के विकास के लिए बड़ा महत्वपूर्ण है। भाजपा की डबल इंजन सरकार, राजस्थान की विरासत और विकास, दोनों को साथ लेकर चल रही है। हम सब जानते हैं, अच्छी सड़क, अच्छी रेल और हवाई सुविधा सिर्फ सफर आसान नहीं करती, वो पूरे इलाके की किस्मत बदल देती है। जब गांव-गांव तक अच्छी सड़क पहुँचती है, तो किसान अपनी फसल सही दाम पर बेच पाता है। व्यापारी आसानी से अपना सामान बाहर भेज पाते हैं। और हमारा अजमेर-पुष्कर तो, उसकी पर्यटन की ताकत कौन नहीं जानता। अच्छी कनेक्टिविटी का पर्यटन पर सबसे अच्छा असर पड़ता है। जब सफर आसान होता है, तो ज्यादा लोग घूमने आते हैं।

और साथियों,

जब पर्यटक आते हैं तो स्वाभाविक है होटल चलते हैं, ढाबे चलते हैं, कचौड़ी और दाल बाटी ज्यादा बिकती है, यहां राजस्थान के कारीगरों का बनाया सामान बिकता है, टैक्सी चलती है, गाइड को काम मिलता है। यानी एक पर्यटक कई परिवारों की रोज़ी-रोटी बन जाता है। इसी सोच के साथ हमारी सरकार, राजस्थान में आधुनिक कनेक्टिविटी पर बहुत बल दे रही है।

साथियों,

जैसे-जैसे राजस्थान में कनेक्टिविटी का विस्तार हो रहा है, वैसे-वैसे यहां निवेश के लिए भी अवसर लगातार बढ़ते जा रहे हैं। दिल्ली-मुंबई इंडस्ट्रियल कॉरिडोर के इर्द-गिर्द उद्योगों के लिए एक बहुत ही शानदार इंफ्रास्ट्रक्चर बनाया जा रहा है। यानी राजस्थान को अवसरों की भूमि बनाने के लिए, डबल इंजन सरकार हर संभव, अनेक विध काम कर रही है।

साथियों,

राजस्थान की माताएं अपने बच्चों को पालने में ही, राष्ट्र भक्ति का संस्कार देती हैं। राजस्थान की ये धरा जानती है कि देश का सम्मान क्या होता है, और इसीलिए आज राजस्थान की इस धरा पर, मैं आप लोगों से एक और बात कहने आया हूं।

साथियों,

हाल में ही, दिल्ली में, दुनिया का सबसे बड़ा AI सम्मेलन हुआ, Artificial Intelligence इसमें दुनिया के अनेक देशों के प्रधानमंत्री, अनेक देशों के राष्ट्रपति, अनेक देशों के मंत्रि, उस कार्यक्रम में आए थे। दुनिया की बड़ी-बड़ी कंपनियां, उन कंपनियों के कर्ता-धर्ता वो भी एक छत के नीचे इकट्ठे हुए थे। सबने भारत की खुले मन से प्रशंसा की। मैं जरा राजस्थान के मेरे भाई-बहनों से पूछना चाहता हूं। जब दुनिया के इतने सारे लोग, भारत की प्रशंसा करते हैं, ये सुनकर के आपको गर्व होता है की नहीं होता है? आपको गर्व होता है कि नहीं होता है? आपको अभिमान होता है कि नहीं होता है? आपका माथा ऊंचा हुआ या नहीं हुआ? आपका सीना चौड़ा हुआ कि नहीं हुआ?

साथियों,

आपको गर्व हुआ, लेकिन हताशा निराशा में डूबी, लगातार पराजय के कारण थक चुकी कांग्रेस ने क्या किया, ये आपने देखा है। दुनियाभर के मेहमानों के सामने, कांग्रेस ने देश को बदनाम करने की कोशिश की। इन्होंने विदेशी मेहमानों के सामने देश को बेइज्जत करने के लिए पूरा ड्रामा किया।

साथियों,

कांग्रेस, पूरे देश में ल्रगातार हार रही है, और गुस्से में वो इसका बदला, वो भारत को बदनाम करके ले रही है। कभी कांग्रेस, INC यानी इंडियन नेशनल कांग्रेस थी, लेकिन अब INC नहीं बची है, इंडियन नेशनल कांग्रेस नहीं बची है, आज वो INC के बजाय MMC, MMC बन गई है। MMC यानी मुस्लिम लीगी माओवादी कांग्रेस हो चुकी है।

राजस्थान के मेरे वीरों,

इतिहास गवाह है, मुस्लिम लीग भारत से नफरत करती थी, और इसलिए मुस्लिम लीग ने देश बांट दिया। आज कांग्रेस भी वही कर रही है। माओवादी भी, भारत की समृद्धि, हमारे संविधान और हमारे सफल लोकतंत्र से नफरत करते हैं, ये घात लगाकर हमला करते हैं, कांग्रेस भी घात लगाकर, देश को बदनाम करने के लिए कहीं भी घुस जाती है। कांग्रेस के ऐसे कुकर्मों को देश कभी माफ नहीं करेगा।

साथियों,

देश को बदनाम करना, देश की सेनाओं को कमजोर करना, ये कांग्रेस की पुरानी आदत रही है। आप याद कीजिए, यही कांग्रेस है, जिसने हमारी सेना के जवानों को हथियारों और वर्दी तक के लिए तरसा कर रखा था। ये वही कांग्रेस है, जिसने सालों तक हमारे सैनिक परिवारों को वन रैंक वन पेंशन से वंचित रखा था। ये वही कांग्रेस है, जिसके जमाने में विदेशों से होने वाले रक्षा सौदों में बड़े-बड़े घोटाले होते थे।

साथियों,

बीते 11 वर्षों में भारत की सेना ने हर मोर्चे पर आतंकियों पर, देश के दुश्मनों पर करारा प्रहार किया। हमारी सेना, हर मिशन, हर मोर्चे में विजयी रही। सर्जिकल स्ट्राइक से लेकर ऑपरेशन सिंदूर तक, वीरता का लोहा मनवाया, लेकिन कांग्रेस के नेताओं ने इसमें भी दुश्मनों के झूठ को ही आगे बढ़ाया। देश के लिए जो भी शुभ है, जो भी अच्छा है, जो भी देशवासियों का भला करने वाला है, कांग्रेस उस सबका विरोध करती है। इसलिए, देश आज कांग्रेस को सबक सिखा रहा है।

साथियों,

राजस्थान में तो आपने कांग्रेस के कुशासन को करीब से अनुभव किया है। यहां जितने दिन कांग्रेस की सरकार रही, वो भ्रष्टाचार करने और आपसी लड़ाई-झगड़े में ही उलझी रही। कांग्रेस ने हमारे किसानों को भी हमेशा धोखा दिया है। आप याद कीजिए, कांग्रेस ने दशकों तक सिंचाई की परियोजनाओं को कैसे लटकाए रखा। इसका राजस्थान के किसानों को बहुत अधिक नुकसान हुआ है। ERCP परियोजना को कांग्रेस की सरकारों ने केवल फाइलों और घोषणाओं में उलझाकर रखा। हमारी सरकार ने आते ही इस स्कीम को फाइलों से निकालकर धरातल पर उतारने का प्रयास किया है।

साथियों,

हमारी सरकार ने नदियों को जोड़ने का जो अभियान शुरु किया है, उसका बहुत अधिक फायदा राजस्थान को मिलना तय है। संशोधित पार्वती-कालीसिंध-चंबल लिंक परियोजना हो, यमुना-राजस्थान लिंक प्रोजेक्ट हो, डबल इंजन सरकार ऐसी अनेक सिंचाई परियोजनाओं का लाभ किसानों तक पहुंचाने के लिए प्रतिबद्ध है। आज भी झालावाड़, बारां, कोटा और बूंदी जिले के लिए पानी की अनेक परियोजनाओं पर काम शुरु हुआ है। हमारा प्रयास है, कि राजस्थान में भूजल का स्तर भी ऊपर उठे।

साथियों,

भाजपा सरकार, राजस्थान के सामर्थ्य को समझते हुए, योजनाएं बना रही है, उन्हें लागू कर रही है। मुझे खुशी है कि राजस्थान अब, सूरज की ताकत से समृद्धि कमाने वाली धरती बन गया है। हम सब जानते हैं, हमारे राजस्थान में धूप की कोई कमी नहीं। अब यही धूप, सामान्य मानवी के घर की बचत और कमाई का साधन बन रही है। और इसमें बहुत बड़ी भूमिका है, प्रधानमंत्री सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना की। इस योजना में राजस्थान का भाग्य बदलने की ताकत है। इस योजना में भाजपा सरकार लोगों को अपनी छत पर सोलर पैनल लगाने के लिए 78 हजार रुपए की सहायता देती है। सरकार सीधे आपके बैंक खाते में पैसे भेजती है। आजादी के बाज सब बजट, सब योजनाएं देख लीजिए, जिसमें मध्यम वर्ग को सबसे ज्यादा लाभ होने वाला है, ऐेसी योजना कभी नजर नहीं आएगी, आज इन परिवारों को सोलर पैनल लगाने के लिए 78 हजार रुपए सीधा सरकार देती है। सबसे अधिक लाभ मध्यम वर्ग के लोग ले रहे हैं। और जिससे घर पर एक छोटा सा बिजली घर तैयार हो जाता है। दिन में सूरज की रोशनी से बिजली बनती है, घर में वही बिजली काम आती है और जो ज्यादा बिजली बनती है, वो बिजली ग्रिड में जाती है। और जिस घर में बिजली बनी होती है, उसे भी इसका लाभ मिलता है।

साथियों,

आज राजस्थान में सवा लाख से अधिक परिवार इस योजना से जुड़ चुके हैं। और इस योजना की वजह से, कई घरों का बिजली बिल लगभग जीरो आ रहा है। यानी खर्च कम हुआ है, बचत ज़्यादा हुई है।

साथियों,

विकसित राजस्थान से विकसित भारत के मंत्र पर हम लगातार काम कर रहे हैं। आज जिन योजनाओं पर काम शुरू हुआ है, वो विकसित राजस्थान की नींव को और अधिक मजबूत करेंगे। जब राजस्थान विकसित होगा, तो यहां के हर परिवार का जीवन समृद्ध होगा। आप सभी को एक बार फिर, विकास परियोजनाओं के लिए बहुत-बहुत शुभकामनाएं। मेरे साथ बोलिये-

भारत माता की जय!

भारत माता की जय!

वंदे मातरम के 150 साल देश मना रहा है। मेरे साथ बोलिये-

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

वंदे मातरम।

बहुत-बहुत धन्यवाद।