প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসে ভবিষ্যতের কয়েকটি লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতি, উদ্ভাবন প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য অগ্রণী দেশের সঙ্গে ভারতকে সমান সারিতে নিয়ে আসার চিন্তাদর্শ থেকে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের এই লক্ষ্যগুলি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন। 
আজ ভারতের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে যে মূল বিষয়গুলির দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তার মধ্যে রয়েছেন - জীবনযাত্রাকে সহজতর করে তোলা, নালন্দার শিক্ষা ভাবনা ও শক্তির পুনরুজ্জীবন, ভারতে চিপ-সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে প্রসার ও ব্যপ্তি, দক্ষ ভারত গঠন, শিল্পোৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা, ভারতের নিজস্ব ডিজাইনকে বিশ্বমানের করে তোলা, খেলাধূলার ক্ষেত্রে ভারতকে অগ্রণী একটি দেশ রূপে চিহ্নিত করা, পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান ও গ্রীন হাইড্রোজেন মিশন, স্বাস্থ্য ভারত মিশন, রাজ্য পর্যায়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামুখিনতা, ভারতীয় মানকে বিশ্বমানে উন্নীত করা, জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যার কার্যকর মোকাবিলায় লক্ষ্য স্থির করে দেওয়া, চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার এবং তরুণ যুব প্রজন্মকে রাজনীতি মনস্ক করে তোলা। 

এই লক্ষ্যগুলি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ তাঁর ভাষণে জীবনযাত্রাকে আরও সহজ করে তোলার প্রচেষ্টাকে একটি মিশন রূপে গ্রহণ করার জন্য সকলের কাছে আহ্বান জানান। দেশের শহরাঞ্চলে জীবনযাত্রার মানগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়ন ও প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। 

সুপ্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ভাবনার শক্তি ও আদর্শকে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতকে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার একটি পীঠস্থান রূপে গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বের কাছে একটি আদর্শ শিক্ষাভূমি রূপে পরিচিত করানো। এবছর নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন প্রসঙ্গের অবতারণা করে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। 

অন্যদিকে, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বে এক নেতৃস্থানীয় অবস্থানে নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সেমিকন্ডাক্টর আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে প্রযুক্তিগত দিক থেকে ভারতকে স্বনির্ভর করে তোলাই যে তাঁর অন্যতম মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একথাও আজ দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন তিনি। 

এদিনের ভাষণে ২০২৪-এর বাজেট প্রসঙ্গের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের যুবসমাজকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের সামনে দক্ষতা বিকাশের রাজধানী রূপে প্রতিভাত করতে তিনি বিশেষ ভাবে আগ্রহী। 

ভারতকে বিশ্বের একটি উৎপাদন কেন্দ্র রূপে গড়ে তোলারও চিন্তা-ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এজন্য তিনি দেশের বিশাল সহায়সম্পদ এবং দক্ষ কর্মশক্তির মধ্যে মিলন ও সমন্বয় সাধনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। 

ভারতে বর্তমানে অনেক উৎপাদনেরই নতুন নতুন ডিজাইনই উদ্ভাবিত হচ্ছে। এই ভাবে দেশ-বিদেশের বাজারের দিকে লক্ষ্য রেখে উন্নত মানের পণ্য উৎপাদনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী মোদী আজ তাঁর ভাষণে বলেছেন যে ভারতে খেলাধূলার সাজসরঞ্জাম উৎপাদন ক্ষেত্রে ভারতের সমৃদ্ধ ও সুপ্রাচীন উত্তরাধিকার ও সাহিত্যকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ তার মধ্যে এর সমস্ত কিছুরই উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় পেশাদারদের এবিষয়ে বিশ্বের বাজার দখলেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে শুধুমাত্র খেলাধূলার জন্যই নয়, বরং নতুন নতুন ক্রীড়া ভাবনার জন্যও তা একান্ত জরুরী। প্রধানমন্ত্রীর মতে ভারতীয় খেলাধূলা সম্পর্কে সারা বিশ্বে আরও বেশি করে অগ্রহ জাগিয়ে তুলতে হবে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় ভারতের কর্ম প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভারতের মূল লক্ষ্য হল এখন পরিবেশবান্ধব সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দূষণ মুক্ত পরিবেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তা একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে, অন্যদিকে তেমনি পরিবেশ সুরক্ষার কাজেও উপকারে আসবে। 

এদিন, গ্রীন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে ভারতকে এক অগ্রণী স্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ভারতের অঙ্গীকারবদ্ধতার কথাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে নিরন্তর কর্মসংস্থান এই মুহূর্তে উন্নয়নের একটি পূর্ব শর্ত হয়ে উঠতে পারে। 

আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত'-এর স্বপ্নকে সফল করে তুলতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী। আজ তাই তাঁর ভাষণে শ্রী মোদী বলেন যে 'সুস্থ ভারত'-এর চিন্তাদর্শের পথ আমাদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। কারণ, রাষ্ট্রীয় পুষ্টি অভিযানের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই তার সূচনা হয়েছে। 

বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে  সুস্পষ্ট লক্ষ্য স্থির করার জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য রাজ্যগুলির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তথা উন্নত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে রাজ্যগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। 

শ্রী মোদী বলেন, ভারতীয় মানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আমাদের অবশ্যই অঙ্গীকার পালন করতে হবে। কারণ, এই বিষয়টিতে আমরা বরাবরই বিশেষ জোর দিয়ে আসছি। 

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে ভারত একটি উচ্চাকাঙ্খী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভারত হল জি২০ ভুক্ত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একমাত্র দেশ যা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণে সাফল্য দেখিয়েছে। 

আগামী ৫ বছরে দেশে ৭৫,০০০ নতুন চিকিৎসা শিক্ষার আসন যুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ভারতে চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করে তোলার ক্ষেত্রে তা এক বিশেষ অনুঘটকের কাজ করবে। শুধু তাই নয়, চিকিৎসকদের উত্তরোত্তও চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে রেখে এই আসন বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

ভারতীয় রাজনীতিতে এক লক্ষ যুবককে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যে সমস্ত পরিবার থেকে এতদিন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা গড়ে ওঠেনি, সেই পরিবারগুলির যুবকদের রাজনীতি মনস্ক করে তোলার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন যে বর্ণবিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা দূর করতে এবং দেশের রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন নতুন মুখ নিয়ে আসতে এই প্রচেষ্টা বিশেষ ভাবে কাজে আসবে। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Khichdi To Moringa Paratha: 7 Traditional Foods PM Modi Loves

Media Coverage

Khichdi To Moringa Paratha: 7 Traditional Foods PM Modi Loves
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
২৭শে আগস্ট ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ তরুণদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
August 26, 2026
Khelo India Dialogue will bring together sports, youth leadership, civic responsibility, volunteering, fitness and nation-building on a common platform
Yuva Samvaad under Khelo India Dialogue to Focus on Five Key Themes: Sports, Olympic Aspirations, Youth Leadership, Viksit Bharat and Nasha Mukt Yuva

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২৭শে আগস্ট সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এ ভাষণ দেবেন। তরুণদের ভারতের খেলাধুলোয় যুক্ত করা, তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলি তুলে ধরা এবং যুব-নেতৃত্বাধীন এক শক্তিশালী ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধারণা বা পরামর্শ প্রদান করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

‘মেরা যুব ভারত’ (MY Bharat)-এর আয়োজনে এবং ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস ২০২৬’-এর উদযাপনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে পরিচালিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি জেলার দুটি করে কলেজের তরুণরা অংশগ্রহণ করবেন। একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও ক্রীড়াপ্রেমী দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী আয়োজিত এই ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’ ক্রীড়া, যুব নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবা, শারীরিক সুস্থতা এবং দেশ গঠনের বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসবে। এটি তরুণদের জন্য দেশের ক্রীড়া-সংক্রান্ত লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি সরাসরি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া ভারতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক যে চলতি আলোচনা ও কর্মসূচিতে, তাদের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করবে।

এই জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও তরুণ অংশগ্রহণকারী, ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় বা আলোচনার আয়োজন করা হবে। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী তরুণদের সঙ্গে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও পদকজয়ীদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কর্মসূচির একটি কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হলো ‘যুব সংবাদ’। এখানে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের তাদের নিজস্ব ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই আলোচনাটি মূলত পাঁচটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে:

• উন্নত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন।

• বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিভা শনাক্তকরণ, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য প্রতিভাবানদের গড়ে তোলা।

• শাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন মঞ্চ ও ‘মাই ভারত’-এর নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

• নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্ষমতাবান করে তোলা।

• খেলাধুলা ও সমবয়সী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে ‘নেশা মুক্ত যুব’বা মাদক-মুক্ত যুবসমাজ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর অংশ হিসেবে ২ আগস্ট ২০২৬-এ শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১০০-সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী প্রচার অভিযানের আওতায় সাপ্তাহিক ‘জন-অংশীদারিত্ব’কর্মসূচি পরিচালিত হবে।