চাষাবাদ থেকে শুরু করে আধুনিক উদ্ভাবকদেরও ভারতের অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচী অনেক সাহায্য করেছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমাদের পরমাণু বিজ্ঞানীরা আরও একটি বড় সাফল্যের মাধ্যমে ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। তামিলনাড়ুর কালপক্কমে ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমি তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই, যাঁরা ভারতের পরমাণু কর্মসূচীতে নিজেদের অমূল্য অবদান রেখেছেন: প্রধানমন্ত্রী মোদী
এখন ভারতের বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৫৬ গিগাওয়াটের বেশি হয়ে গিয়েছে। গত এক বছরেই প্রায় ৬ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজ বিশ্ব সংঘর্ষময় ও উত্তেজনাপ্রবণ, এমন সময়ে বুদ্ধের চিন্তাভাবনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
এবছরের বিটিং রিট্রিট সেরিমনিও অতীব স্মরণীয় ছিল। এয়ারফোর্স, আর্মি, নেভি ও CAPF এর ব্যান্ডরা অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স করেছিল: প্রধানমন্ত্রী মোদী
বিটিং রিট্রিটের মিউজিক প্রথমবারের জন্য ওয়েভস ওটিটিতেও পাওয়া যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
যখন আমরা প্রকৃতিকে বুঝি, তাকে সম্মান করি এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি, তখন পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা যায়: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজ পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাঁশ শিল্প বিকাশ লাভ করছে। মানুষ ক্রমাগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এর মান বৃদ্ধি করছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব যে আপনারা www.abhilekh-patal.in ওয়েবসাইটটি অবশ্যই ভিজিট করুন। এটা আপনাকে আপনার ইতিহাসের আশ্চর্য অনুভূতি দেবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
প্রত্যেক বছর সারা দেশের প্রায় ৬ লক্ষ ছাত্রী এই ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন: প্রধানমন্ত্রী মোদী
দেশের জনগণনা শুধু সরকারি কাজ নয়। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজ ভারতীয় চিজ পৃথিবীব্যাপী নিজের একটি স্থান তৈরি করছে। ব্রেকফাস্ট হোক, লাঞ্চ হোক বা ডিনার পৃথিবীর প্লেট জুড়ে ভারতের স্বাদ পৌঁছে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
কিছুদিনের মধ্যেই আগামী ৯ই মে, পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে আমরা গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মতিথি পালন করব: প্রধানমন্ত্রী মোদী

আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। ‘মন কি বাত’-এর আরও একটি পর্বে আপনাদের সবার সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ হচ্ছে। এদিকে এর মধ্যেই, নির্বাচনের ব্যস্ততা চলছে, কিন্তু আপনাদের চিঠি ও বার্তার মাধ্যমে আমরা দেশ ও দেশবাসীদের সাফল্য নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছি। এবার ‘মন কি বাত’ শুরু করছি দেশের তেমনি এক বিশাল সাফল্যের কথা বলে।

বন্ধুরা, ভারত বিজ্ঞানকে সর্বদা দেশের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছে। এই চিন্তাধারা নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচী রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর ফলে আমাদের শিল্পোন্নয়ন, শক্তি ক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্র – সবই খুব উপকৃত হয়েছে। চাষাবাদ থেকে শুরু করে আধুনিক উদ্ভাবকদেরও ভারতের অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচী অনেক সাহায্য করেছে।,

বন্ধুরা মাত্র কিছুদিন আগে, আমাদের পরমাণু বিজ্ঞানীরা আরও একটি বড় সাফল্যের মাধ্যমে ভারতের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। তামিলনাড়ুর কালপক্কমে ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে। আসলে, ক্রিটিক্যালিটি হল সেই স্তর, যেখানে রিয়্যাক্টর প্রথমবার স্বনির্ভর-পারমাণবিক-বিক্রিয়ার-শৃঙ্খলায় সফলতা অর্জন করে। এই স্তরটির অর্থ হল রিয়্যাক্টরের পরিচালন পর্বে পৌঁছে যাওয়া। ভারতের পরমাণু শক্তি বিকাশের যাত্রায় এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এবং বড় কথা হলো, এই পরমাণু রিয়্যাক্টর সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে নির্মিত।

বন্ধুরা, একে ব্রিডার রিয়্যাক্টর কেন বলা হয়? এর পেছনেও একটি কারণ আছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে-সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য নতুন জ্বালানিও নিজেই তৈরি করে। বন্ধুরা, আমার মনে পড়ছে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের সেই সময়ের কথা, যখন আমি কালপক্কমে রিয়্যাক্টরের কোর লোডিং-এর সাক্ষী হয়েছিলাম। আমি তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই, যাঁরা ভারতের পরমাণু কর্মসূচীতে নিজেদের অমূল্য অবদান রেখেছেন। দেশবাসীর জীবন আরও উন্নত ও সহজ করতে তাঁদের এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এতে বিকশিত ভারত গড়ার অভিমুখে আমাদের সংকল্পও নতুন শক্তি পাবে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, ‘মন কি বাত’-এ আজ আমি এমন একটি শক্তির কথা বলতে চাই, যা অদৃশ্য, কিন্তু যা ছাড়া আমাদের জীবনের একটি মুহূর্তও চলে না। এই শক্তিই ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের বায়ু-শক্তি। আমাদের প্রাচীন গ্রন্থগুলিতে বলা হয়েছে –

'বায়ুর্বা ইতি ব্যষ্টিঃ, বায়ুরবৈ সমষ্টিঃ।' অর্থাৎ বায়ু শুধু একটি উপাদান নয়, এটি জীবনের শক্তি, এটি সমষ্টির শক্তি।

বন্ধুরা, আজ এই বায়ুশক্তিই ভারতের বিকাশের নতুন কাহিনী রচনা করছে। ভারত সম্প্রতি বায়ুশক্তি অর্থাৎ উইন্ড এনার্জিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন ভারতের বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা ৫৬ গিগাওয়াটের বেশি হয়ে গিয়েছে। গত এক বছরেই প্রায় ৬ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। বায়ুশক্তিতে ভারত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বন্ধুরা, আজ ভারত বায়ুশক্তি উৎপাদন ক্ষমতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে আছে। এটি আমাদের ইঞ্জিনীয়ারদের পরিশ্রম, এটি আমাদের তরুণদের পরিশ্রম, এটি দেশের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।

বন্ধুরা, গুজরাত, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান – দেশের অনেক রাজ্য এই ক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের পতাকা উড্ডীন করেছে। গুজরাতের কচ্ছ, পাটন, বনাসকাঁঠা-র মত অঞ্চল, যেখানে আগে শুধু মরুভূমি দেখা যেত, আজ সেখানে বড় রিনিউয়েবল এনার্জি পার্ক তৈরি হচ্ছে। এর সুফল তরুণরা পাচ্ছেন, নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, নতুন দক্ষতা বিকশিত হচ্ছে, কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলছে।

বন্ধুরা, ভারতের উন্নয়নের জন্য সৌর ও বায়ু শক্তি অপরিহার্য। এটি শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয় – এটি আমাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা। এতে আমাদের সবার ভূমিকা আছে। আমাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হবে, আমাদের পরিচ্ছন্ন শক্তি, ক্লিন এনার্জি গ্রহণ করতে হবে। দেশে প্রতিটি স্তরে এমন প্রচেষ্টা জরুরি। কারণ এগুলো থেকেই বড় পরিবর্তন আসে।

বন্ধুরা, মে মাসের সূচনা এক পবিত্র ক্ষণের সঙ্গে হতে চলেছে। কয়েকদিন পরেই আমরা বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপন করব। আমি সকল দেশবাসীকে আমার অগ্রিম শুভকামনা জানাই। ভগবান গৌতম বুদ্ধের জীবনের বার্তা আজও একইরকম প্রাসঙ্গিক। উনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, শান্তির সূচনা আমাদের অন্তরে হয়। তিনি বলেছেন, নিজেকে জয় করা হলো সবচেয়ে বড় জয়। আজ বিশ্ব সংঘর্ষময় ও উত্তেজনাপ্রবণ, এমন সময়ে বুদ্ধের চিন্তাভাবনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বন্ধুরা, দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে একটি সংস্থা ভগবান বুদ্ধের ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। লাদাখে জন্ম নেওয়া ড্রুবপোন ওটজার রিনপোচের প্রদর্শিত পথে কাজ চলছে। এই সংস্থা ধ্যান ও করুণাকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করছে। কচিগুয়াজ উপত্যকায় তৈরি হওয়া স্তুপ মানুষকে শান্তির অনুভূতি দিচ্ছে। সত্যিই এটি দেখে গর্ব হয়। ভারতের প্রাচীন ধারা বিশ্বে পৌঁছে যাচ্ছে। দূর দূরান্তের মানুষও এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।

বন্ধুরা, বৌদ্ধ পরম্পরা আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়াও শেখায়। ভগবান বুদ্ধ একটি বৃক্ষের নিচে বোধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রকৃতি আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। দেশেও অনুরূপ প্রয়াস হচ্ছে। কর্নাটকের কর্মা মনাস্ট্রি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই মঠ একটি জীবন্ত অরণ্যভূমি যা ১০০ একর জুড়ে রয়েছে। এই অরণ্যে সাতশোর বেশি দেশীয় বৃক্ষকে সংরক্ষিত করা হয়েছে। বন্ধুরা, বুদ্ধের বার্তা কেবল অতীত নয়, তা আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধপূর্ণিমার এই ক্ষণ আমাদের প্রেরণা দেয় যে আমরা নিজেদের জীবনে শান্তিবৃদ্ধি করি, করুণা গ্রহণ করি এবং সমতা ও ভারসাম্যের সঙ্গে অগ্রসর হই।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আপনারা সবাই জানেন, আমাদের দেশে এখন ২৩ জানুয়ারি অর্থাৎ নেতাজী সুভাষের জন্মদিন থেকে শুরু করে ৩০ জানুয়ারি অর্থাৎ গান্ধীজীর পূণ্য তিথি পর্যন্ত গণতন্ত্রের মহোৎসব উদযাপন করা হয়। এই মহোৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিটিং রিট্রিট। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে বিটিং রিট্রিট নিয়ে আলোচনা করছি, এর পেছনে একটা বিশেষ কারণ আছে।

বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন এই সমারোহ পৃথক পৃথক ব্যান্ডের বিবিধ সংগীত-পরম্পরাকে তুলে ধরে।

 গত কয়েক বছর ধরে এতে ভারতীয় সংগীতের সমাবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা দেশের মানুষেরও অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। এবছরের বিটিং রিট্রিট সেরিমনিও অতীব স্মরণীয় ছিল। এয়ারফোর্স, আর্মি, নেভি ও CAPF এর ব্যান্ডরা অত্যন্ত ভালো পারফরম্যান্স করেছিল।

বন্ধুরা, চমৎকার মিউজিকের পাশাপাশি প্রাণবন্ত ফর্মেশন - এর এই অনুষ্ঠান সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এয়ারফোর্স ব্যান্ড সিঁদুর ফর্মেশন তৈরি করেছিল। নেভাল ব্যান্ড মৎস্য যন্ত্র ফর্মেশন করে। আর্মি ব্যান্ডের পারফর্মেন্সে বন্দেমাতরম এর ১৫০ বছর এবং ক্রিকেটে ভারতের সাফল্যও প্রদর্শিত হয়।

বন্ধুরা, বিটিং রিট্রিট সমাপ্ত হওয়ার পর এই সমগ্র পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যেত। কিন্তু এখন এটিকে নিয়ে অত্যন্ত ভালো একটি প্রয়াস হয়েছে। বিটিং রিট্রিটের মিউজিক প্রথমবারের জন্য ওয়েভস ওটিটিতেও পাওয়া যাচ্ছে। আগামী সময় এটি অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যাবে। আপনারা এটি অবশ্যই শুনবেন। আমাদের আর্মড ফোর্সেস এবং তাদের পরম্পরা নিয়ে আপনারা অত্যন্ত গর্ব অনুভব করবেন।

বন্ধুরা, গত কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রকৃতি-সংরক্ষণের প্রেরণাদায়ক কাহিনী সামনে আসছে। এই কাহিনীগুলি আমাদের বিশ্বাস যোগায় এবং গর্বে পরিপূর্ণ করে। আমি মন কি বাত-এর শ্রোতাদের সঙ্গে কিছু উদাহরণ ভাগ করে নিতে চাই। এগুলি শুনে আপনাদের মন প্রসন্ন হয়ে যাবে। প্রথমে বলি কচ্ছের রানের কথা। বর্ষা শেষ হতেই এখানকার মাটি জীবন্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ফ্ল্যামিংগো এখানে আসে। সারা এলাকা গোলাপী রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। তাই একে ফ্ল্যামিংগো সিটি বলা হয়। এই পাখি এখানেই বাসা বানায় এবং নিজেদের বাচ্চাদের বড় করে। কচ্ছের মানুষ এদের লাখাজির বারাতি বলেন। এখন লাখাজির এই বারাতিরা কচ্ছের পরিবেশ-সংরক্ষণের খুব সুন্দর প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বন্ধুরা, দ্বিতীয় ঘটনাটি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহযোগিতার। এটি উত্তরপ্রদেশের ঘটনা। এখানে তরাই অঞ্চলে ফসলের সময় হাতির দল গ্রামের দিকে আসে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ে। কিন্তু এখন ইউপিতেও "গজমিত্র"-র মত প্রয়াস শুরু হয়েছে। গ্রামের মানুষই দল তৈরি করে হাতিদের উপর নজর রাখেন, সময় থাকতে থাকতে মানুষদের সতর্ক করেন। এতে সংঘর্ষ কম হচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে ভরসা বাড়ছে।

বন্ধুরা, মধ্য ভারত থেকেও একটি ভালো খবর এসেছে। ছত্তিশগড়ে ব্ল্যাকবাক (Blackbuck) অর্থাৎ কৃষ্ণসার হরিণ আবার দেখা যাচ্ছে। একসময় এদের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল, কিন্তু ক্রমাগত চেষ্টা চালানো হয়েছিলো এবং সংরক্ষণের কাজ বৃদ্ধি করা হয়েছিলো। এখন এদের আবার খোলা প্রান্তরে ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। এটি আমাদের হারিয়ে যেতে থাকা ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন।

একই ধরনের আশা দেখা যাচ্ছে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড (Great Indian Bustard) অর্থাৎ গোদাবণ পাখি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও। এই পাখি আমাদের মরুভূমি এলাকার পরিচয় বহন করত। কিন্তু, একসময় এর সংখ্যা অত্যন্ত কমে গিয়েছিল। অবস্থা এমন হয়েছিল যে এই পাখিটি প্রায় বিলুপ্তির পথে পৌঁছে গিয়েছিল। এখন এদের সংরক্ষণের জন্য বড় ধরনের অভিযান চলছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রজনন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে এবং এখন নবজাতকের আবির্ভাবও দেখা যাচ্ছে।

বন্ধুরা, প্রকৃতি এবং মানুষ আলাদা নয়। আমরা একে অপরের সঙ্গী। যখন আমরা প্রকৃতিকে বুঝি, তাকে সম্মান করি এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলি, তখন পরিবর্তন স্পষ্ট দেখা যায়। আজ এই পরিবর্তনই দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে নতুন আশার আলো নিয়ে সামনে আসছে।

আমার প্রিয় দেশবাসী, উত্তর-পূর্ব ভারত (Northeast) আমাদের সকলের কাছে অষ্টলক্ষ্মী হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতিভার প্রাচুর্য রয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ‘মন কি বাত’-এও আমরা প্রায়েই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের নানান ক্ষেত্রে অর্জিত বিভিন্ন সাফল্য নিয়ে আলোচনা করে এসেছি। আজ আমি আপনাদের সঙ্গে এমনই আরেকটি সাফল্যের কথা আলোচনা করব এবং সেটি হলো - বাঁশজাত শিল্পে (Bamboo sector) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাফল্য।

বন্ধুরা, যে জিনিসটিকে একসময় অপ্রয়োজনীয় বোঝা হিসেবে দেখা হতো, তা আজ কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করছে। আমাদের মা-বোনেরা এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। আপনারা জেনে অবাক হবেন যে বাঁশের সংজ্ঞা পরিবর্তন করার ফলে কত বড় পরিবর্তন এসেছে। বন্ধুরা, ইংরেজদের তৈরি আইন অনুযায়ী বাঁশকে বৃক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত নিয়মগুলো খুব কঠোর ছিল। যেকোনো জায়গায় বাঁশ নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে এখানকার মানুষজন বাঁশের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কাজকর্ম থেকে দূরে সরে গিয়েছিলন।

বন্ধুরা, ২০১৭ সালে আইন পরিবর্তন করে আমরা বাঁশকে বৃক্ষের তালিকা থেকে বাইরে নিয়ে আসি। যার ফলাফল সবার সামনে। আজ পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাঁশ শিল্প বিকাশ লাভ করছে। মানুষ ক্রমাগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এর মান বৃদ্ধি করছে।

বন্ধুরা, ত্রিপুরার গোমতী জেলার বিজয় সূত্রধর এবং দক্ষিণ ত্রিপুরার প্রদীপ চক্রবর্তীর কথাই বলা যাক। তাঁরা এই নতুন আইনকে নিজেদের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এরপর তাঁরা তাঁদের কাজকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। আজ তাঁরা আগের চেয়ে অনেক ভালো এবং আরও বেশিকরে বাঁশজাত পণ্য তৈরি করছেন।

নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর এবং আশেপাশের এলাকায় এমন অনেক স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে যারা বাঁশের সঙ্গে বিভিন্ন ফুড প্রোডাক্ট-এ ভ্যালু এডিশন করেছে। সেখানে খোরোলো ক্রিয়েটিভ ক্রাফটের মতো দলও রয়েছে, যারা বাঁশের আসবাবপত্র এবং হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করছে।

বন্ধুরা, মিজোরামের মামিত্ জেলায় এমন কিছু দল রয়েছে, যারা বাঁশের টিস্যু কালচার এবং পলি-হাউস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছে। আমি সিকিমের গ্যাংটকের কাছে ল্যাগাস্টাল ব্যাম্বু এন্টারপ্রাইজ টিমের (Lagastal Bamboo Enterprise Team) সম্পর্কেও জানতে পেরেছি। তারা বাঁশ দিয়ে হস্তশিল্প সামগ্রী, ধুপকাঠি, আসবাবপত্র এবং অন্দরসজ্জার সামগ্রী তৈরি করে।

বন্ধুরা, আমি এখানে কয়েকটি মাত্রই উদাহরণ দিয়েছি। দেশে বাম্বু সেক্টরের সাফল্যের এই তালিকা আরও বড়। আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করবো যে উত্তর পূর্বের কোন একটা বাঁশের তৈরি জিনিস অবশ্যই কিনুন। আপনারা এটা গিফট হিসেবেও দিতে পারেন। আপনার এই প্রচেষ্টার ফলে সেই মানুষগুলোর উৎসাহ বাড়বে, যাঁরা বাঁশের তৈরি জিনিস উৎপাদন করার জন্য নিজেদের পরিশ্রম ব্যয় করছেন।

আমার প্রিয় দেশবাসী, দ্রুত বদলে যাওয়া এই সময়ে প্রযুক্তি আমাদের জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। আজ আমরা নিজেদের অতীতকে বর্তমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির কামাল দেখতে পাচ্ছি। এই ক্ষেত্রে সম্প্রতি এমন একটা ডেভলপমেন্ট হয়েছে যেখানে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকা মানুষ এবং ইতিহাসের প্রতি আগ্রহীরা খুব খুশি হয়েছেন। বন্ধুরা কিছুদিন আগেই ন্যাশনাল আর্কাইভস অফ ইন্ডিয়া একটি বিশেষ পোর্টালে এক চমৎকার ডেটাবেস শেয়ার করেছে। এই সংস্থাটি ২০ কোটিরও বেশি মূল্যবান ফাইলকে ডিজিটাল করে সকলের জন্য উপলব্ধ করেছেন। এর মধ্যে কিছু তো খুবই আকর্ষণীয়, যেমন সপ্তম শতাব্দীর গিলগিট পাণ্ডুলিপি ভূর্জ্যপত্রে লেখা ছিল। এখানে আপনারা অষ্টম শতাব্দীর একটি আকর্ষণীয় বই শ্রী ভূবালয় দেখতে পাবেন। অংকের এই বইটি একটি গ্রিডের আকারে রয়েছে।

রানী লক্ষ্মীবাঈ সম্পর্কে কিছু মূল্যবান চিঠিও আপনারা এখানে দেখতে পাবেন। ১৮৫৭ সালে ওঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কথা এখানে জানা যায় যা ওর শৌর্যর প্রমাণ। যাঁরা নেতাজী সুভাষ চন্দ্রের অনুরাগী তাঁদের জন্য এখানে নেতাজীর জীবন, আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং তাঁর বক্তৃতার সম্পর্কে অনেক নথি রয়েছে। আপনারা পন্ডিত মদনমোহন মালব‍্যজির সম্পর্কে অনেক নথিও পাবেন। এখানে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং হিন্দি সাহিত্য সম্মেলনের সঙ্গে সম্পর্কিত বহু মূল্যবান তথ্য রয়েছে। এখানে আমাদের সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেক মূল্যবান নথিও রয়েছে। আমি আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব যে আপনারা www.abhilekh-patal.in ওয়েবসাইটটি অবশ্যই ভিজিট করুন। এটা আপনাকে আপনার ইতিহাসের আশ্চর্য অনুভূতি দেবে।

বন্ধুরা, একটু কল্পনা করুন আপনারা এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রতিভাবান মানুষদের মধ্যে রয়েছেন। আপনার কাছে অংকের একটা খুব কঠিন প্রশ্ন রয়েছে। এটা সমাধান করার জন্য সময় রয়েছে মাত্র সাড়ে চার ঘন্টা। অর্থাৎ সময় অনেকটা কম কিন্তু প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক মানের, খুব কঠিনও। এমন পরিস্থিতিতে নার্ভাস হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতিতেই আমাদের মেয়েরা বাজিমাত করেছেন। এই মাসের শুরুতেই ফ্রান্সের বোর্দোয় ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিকাল অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র-ছাত্রীদের অঙ্কে আগ্রহ রয়েছে তাদের জন্য এটি একটি বিরাট প্রতিযোগিতা। বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে এটি একটি। এই অলিম্পিয়াডে আমাদের মেয়েরা এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন। এই প্রতিভাবান টিমকে নিয়ে আমি খুব গর্বিত। এরমধ্যে মুম্বাইয়ের শ্রেয়া মুন্ধড়া, তিরুবনন্তপুরমের সঞ্জনা চাকো, চেন্নাইয়ের শিবানী ভরত কুমার এবং কলকাতার শ্রীময়ী বেরা রয়েছেন। এই প্রতিযোগিতায় আমাদের টিম বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। শ্রেয়া, স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়েছেন সঞ্জনা রৌপ‍্যপদক, শিবানী ব্রোন্জ পদক জিতেছেন।

বন্ধুরা, এই অলিম্পিয়াডদের জন্য ভারতে যে বাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে সেটা যথেষ্ট কঠিন। এই পরীক্ষায় মাল্টি স্টেজ সিলেকশন প্রসেস আছে। এখানে রিজিওনাল, স্টেট এবং ন্যাশনাল লেভেলে কঠিন পরীক্ষা পেরোতে হয়। এরপর সবচেয়ে ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের এক মাসের জন্য ম্যাথেমেটিকস ট্রেনিং ক্যাম্পে যেতে হয়। এইটা টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ-এর হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশনে আয়োজিত হয়। এই ক্যাম্পের শেষে টিম সিলেকশন টেষ্ট হয়। এখানে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভারতের টিম নির্ধারণ করা হয়।

বন্ধুরা, প্রত্যেক বছর সারা দেশের প্রায় ৬ লক্ষ ছাত্রী এই Mathematical Olympiad Program এ অংশগ্রহণ করেন। সময়ের সঙ্গে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে, অর্থাৎ দেশের মেয়েদের মধ্যে অলিম্পিয়াডের এই কালচার দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এই প্রতিভাবান মেয়েদের সাপোর্ট করার জন্য আমি তাদের অভিভাবকদের প্রশংসা করতে চাই।

     আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের দেশে এই সময় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চলছে যার সম্বন্ধে প্রত্যেক ভারতীয়র জানা উচিত। এটি হলো জনগণনার অভিযান,এটি পৃথিবীর সবথেকে বড় জনগণনা। বন্ধুরা যারা আগে এইরকম প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছেন, এইবারের জনগণনায় তাদের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে চলেছে। জনগণনা ২০২৭ কে ডিজিটাল বানানো হয়েছে। সমস্ত তথ্য সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে রেকর্ড করা হচ্ছে। যে সমস্ত কর্মচারী ঘরে ঘরে যাচ্ছেন তাদের কাছে মোবাইল অ্যাপ আছে। তারা আপনাদের সঙ্গে কথা বলে তাতেই ওই তথ্য রেকর্ড করবেন। বন্ধুরা, এইবার জনগণনায় আপনার অংশগ্রহণকে সহজ করা হয়েছে, আপনারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য রেকর্ড করতে পারবেন। কর্মচারীদের আসার ১৫ দিন আগে থেকে আপনাদের জন্য এই সুবিধা শুরু হবে। আপনি আপনার সময় অনুযায়ী তথ্য ভরতে পারবেন। যখন আপনি এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন, তখন আপনার কাছে একটি বিশেষ আইডি আসবে। এই আইডি আপনার মোবাইল বা ইমেইলে আসবে। পরে যখন কর্মচারী আপনার ঘরে আসবে তখন আপনি সেই আইডি দেখিয়ে তথ্যগুলি নিশ্চিত করতে পারবেন। এতে তথ্য দ্বিতীয়বার দেওয়ার দরকার পড়বে না।এতে সময়ও বাঁচে এবং প্রক্রিয়া সহজ হয়ে যায়। বন্ধুরা, যেসব রাজ্যে স্ব-গননার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, সেখানে গণনা কর্মচারীদের দ্বারা বাড়ি চিহ্নিতকরনের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত প্রায় এক কোটি কুড়ি লক্ষ পরিবারের বাড়ি চিহ্নিতকরণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। বন্ধুরা, দেশের জনগণনা শুধু সরকারি কাজ নয়। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। আপনাদের অংশীদারী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত এবং গোপনীয় রাখা হয়, ডিজিটাল সুরক্ষার সাথে একে সুরক্ষিত করা হয়। আসুন আমরা সবাই মিলে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করি। জনগণনা ২০২৭ কে সফল বানাই।

          বন্ধুরা, আমাদের দেশে খাওয়া-দাওয়ার পরম্পরা শুধু স্বাদ পর্যন্ত সীমিত নয়। এই পরম্পরার একটি আকর্ষণীয় অংশ হলো ভারতের cheese। কিছুদিন আগে আমি টুইট করে একটি তথ্য ভাগ করেছিলাম। ব্রাজিলে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক চিজ প্রতিযোগিতায় ভারতীয় চিজ এর দুটি ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠিত পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ের চর্চা সোশ্যাল মিডিয়াতেও অনেক হয়েছে। অনেকেই আমাকে বলেছেন ভারতের চিজে যে বৈচিত্র আছে তা নিয়েও চর্চা হওয়া উচিত।

           বন্ধুরা, ভারতের ডেয়ারি সেক্টরে অনেক বড় পরিবর্তন আসছে। এই সেক্টরে ভ্যালু এডিশনের ফলে আমাদের পারম্পরিক স্বাদ একটি নতুন পরিচয় পেয়েছে। আজ ভারতীয় চিজ পৃথিবীব্যাপী নিজের একটি স্থান তৈরি করছে। ব্রেকফাস্ট হোক, লাঞ্চ হোক বা ডিনার পৃথিবীর প্লেট জুড়ে ভারতের স্বাদ পৌঁছে যাচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরের কলারি চিজ এর কথাই ভাবুন- একে 'কাশ্মীরের মোজারেলা' বলা হয়ে থাকে। গুজ্জার-বকরওয়াল অর্থাৎ ছাগল পালনকারী সম্প্রদায়ের মানুষ, বহু প্রজন্ম থেকে এই চিজ বানাচ্ছে এবং খেয়ে আসছে। অন্যদিকে সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ আর লাদাখেও 'ছুরপী' খুব জনপ্রিয়। পাহাড়ের সরলতা ও কোমলতা এর স্বাদের মধ্যে অনুভব করা যায়। এই চিজ এর বিশেষত্ব হলো যে এটি ইয়াকের দুধ থেকে তৈরি হয়।

বন্ধুরা, মহারাষ্ট্র আর গুজরাটের "টোপলি নু পনির" যা 'সুরতি চিজ" নামেও পরিচিত। তারও নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে। এখানে আমি কয়েকটি নাম বলেছি কিন্তু আমাদের দেশের স্বাদের জগত খুব বিস্তৃত। আজ এই ঐতিহ্য নতুন শক্তি অর্জন করছে। অনেক ভারতীয় ব্যবসায়ী এই খাতে বিনিয়োগ করছেন। আধুনিক প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে, প্যাকেজিং আরও উন্নত হচ্ছে এবং আমাদের পণ্য বিশ্বমানের হয়ে উঠছে। ফলস্বরূপ, ভারতীয় চিজ এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ববাজার এবং রেস্তোরাঁয় পৌঁছে যাচ্ছে। যখন আমরা স্থানীয় থেকে বিশ্বব্যাপী প্রসারের কথা বলি, তখন ভারতীয় চিজের উদাহরণ আমাদের পথ দেখায়। আমার বিশ্বাস যে ভারতের স্বাদ, ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ভারতীয় গুণমান বিশ্বজুড়ে মানুষকে একটি নতুন অভিজ্ঞতা দেবে এবং ভারতের সঙ্গে একটি নতুন সংযোগ তৈরি করবে।

প্রিয় দেশবাসী, এই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নববর্ষসহ নানান উৎসব পালিত হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আগামী ৯ই মে, পঁচিশে বৈশাখ উপলক্ষে আমরা গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মতিথি পালন করব। গুরুদেব ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি শুধু একজন মহান লেখক ও চিন্তাবিদই ছিলেন না, বহু বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছিলেন। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন শিল্পের পক্ষপাতী ছিলেন যা নিশ্চিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে গ্রামেরও উন্নতি করে। রবীন্দ্রসংগীতের প্রভাব আজও সারা বিশ্বজুড়ে। আমার শান্তিনিকেতন ভ্রমণের স্মৃতি অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। এই সেই প্রতিষ্ঠান যাকে তিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে লালন পালন করেছেন। তাঁর প্রতি আমার আবারও বিনীত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

বন্ধুরা, মে মাস আমাদের ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। আমি ভারতমাতার সেই সকল বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যাঁরা জনগণের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন। এই সময়টা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ছুটিরও সময়। আমার আবেদন তারা যেন তাদের ছুটি পুরোপুরি উপভোগ করে এবং নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করে। গ্রীষ্মের এই মরসুমে, আপনারা সবাই নিজেদের স্বাস্থ্যেরও পূর্ণ যত্ন নেবেন। আগামী মাসে আবার কথা হবে কিছু নতুন বিষয় নিয়ে এবং আমাদের দেশবাসীর কিছু নতুন সাফল্য নিয়ে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Gyan Bharatam Portal Houses Over 88,800 Manuscripts, Government Informs Lok Sabha

Media Coverage

Gyan Bharatam Portal Houses Over 88,800 Manuscripts, Government Informs Lok Sabha
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister expresses delight as Sarnath is inscribed on the UNESCO World Heritage List
July 25, 2026

Prime Minister Shri Narendra Modi today expressed that it is a proud moment for every Indian, sharing his delight that Sarnath in Uttar Pradesh has been inscribed on the UNESCO World Heritage List.

He noted that Sarnath has a close association with Lord Buddha, whose timeless message of wisdom, compassion and harmony inspires the world.

Shri Modi highlighted that this recognition celebrates India’s profound civilisational and spiritual heritage. The Prime Minister observed that it will also inspire more people across the world to come to Sarnath and connect with the ideals of Lord Buddha.

In a post on X, the Prime Minister shared:

 "A proud moment for every Indian!

Delighted that Sarnath in Uttar Pradesh has been inscribed on the UNESCO World Heritage List.

Sarnath has a close association with Lord Buddha, whose timeless message of wisdom, compassion and harmony inspires the world.

This recognition celebrates India’s profound civilisational and spiritual heritage. It will also inspire more people across the world to come to Sarnath and connect with the ideals of Lord Buddha.

@UNESCO"