বহু রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পজগতের নেতৃত্ব, উদ্ভাবক এবং স্টার্ট আপ জগতের সঙ্গে জড়িত মানুষজন এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের জন্য একত্রিত হয়েছেন ভারত মণ্ডপমে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে এআই ক্ষেত্রে ভারতের অদ্ভূত ক্ষমতা দেখার সুযোগ পেল দুনিয়া: প্রধানমন্ত্রী মোদী
ভারতীয়রা যেখানেই যান নিজের মাতৃভূমির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন, আর আপন কর্মভূমি অর্থাৎ যে দেশে বসবাস করেন তার বিকাশেও সহায়তা করেন: প্রধানমন্ত্রী মোদী
সম্প্রতি ভারতে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে। এতে সেইসব মানুষদের সাহায্য হচ্ছে যাদের এর প্রয়োজনীয়তা আছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজ দেশ দাসত্বের প্রতীকগুলিকে পিছনে ফেলে ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
২৩শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভবনে রাজাজি উৎসব পালিত হবে। সেই উপলক্ষে, রাষ্ট্রপতি ভবনের কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গনে সি. রাজগোপালাচারীর মূর্তি উন্মোচন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আজকাল পেনশন, ভর্তুকি, বিমা, ইউপিআই সব কিছুই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত: প্রধানমন্ত্রী মোদী
ওটিপি, আধার নম্বর অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্বন্ধিত তথ্য কাউকেই জানাবেন না। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, নিজের পাসওয়ার্ড মাঝে মধ্যে অবশ্যই বদলাবেন: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আমার এটা দেখে খুশি হয় যে আমাদের কৃষকেরা এখন শুধুমাত্র উৎপাদন নয়, বরং গুনমান, মূল্য সংযোজন আর নতুন নতুন বাজারের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন: প্রধানমন্ত্রী মোদী
মহাকুম্ভই হোক বা কেরালা কুম্ভ, এ কেবল স্নানের উৎসব নয়। এ স্মৃতির পুনর্জাগরণ। এ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ: প্রধানমন্ত্রী মোদী
উত্তর থেকে দক্ষিণ, নদী আলাদা হতে পারে, উপকূল আলাদা হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসের ধারা এক। এটাই ভারত: প্রধানমন্ত্রী মোদী
আম্মা জয়ললিতাজীর কথা উঠলেই তামিলনাড়ুর লোকদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠে । আমাদের নারীশক্তির সঙ্গে তাঁর যোগ তো আরও বিশেষ ছিল: প্রধানমন্ত্রী মোদী

আমার প্রিয় দেশবাসী, নমস্কার। মন কি বাতে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই আপনাদের। দেশ এবং দেশবাসীর সাফল্যকে সামনে আনার এক শক্তিশালী মঞ্চ মন কি বাত। সম্প্রতি এমন সাফল্য প্রত্যক্ষ করল দেশ, দিল্লির গ্লোবাল এআই ইমপ্যাক্ট সামিট চলাকালীন। 

বহু রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পজগতের নেতৃত্ব, উদ্ভাবক এবং স্টার্ট আপ জগতের সঙ্গে জড়িত মানুষজন এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের জন্য একত্রিত হয়েছেন ভারত মণ্ডপমে। আগামী দিনে এআই শক্তির প্রয়োগ কীভাবে করবে দুনিয়া, সেই প্রসঙ্গে নির্ণায়ক হয়ে দেখা দিয়েছে এই শীর্ষ সম্মেলন।

বন্ধুরা, শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্ব নেতৃত্ব এবং প্রযুক্তি সংস্থার সিইও-দের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ হল আমার। এআই সামিটের প্রদর্শনীতে বিশ্ব নেতৃত্বকে অনেক কিছু দেখালাম আমি। দুটো বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই আমি। শীর্ষ সম্মেলনে এই দুটো পণ্য সারা পৃথিবী থেকে আসা নেতৃত্বকে খুব প্রভাবিত করেছে। প্রথম পণ্যটি ছিল আমুলের বুথে। এতে বলা হয়েছে কীভাবে পশুরোগের চিকিৎসায় আমাদের সাহায্য করছে এআই আর কীভাবে 24 X 7 এআই-এর সহায়তায় কৃষক নিজের ডেয়ারি আর পশুদের হিসাব রাখে।

বন্ধুরা, দ্বিতীয় পণ্যটি যুক্ত ছিল আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে। গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব এটা দেখে বিস্মিত হয়েছেন যে কীভাবে আমরা এআই-এর সাহায্যে আমাদের প্রাচীন গ্রন্থ, আমাদের প্রাচীন জ্ঞান, আমাদের পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত করছি, আজকের প্রজন্মের উপযোগী করে তুলছি। 

বন্ধুরা, প্রদর্শনীতে দেখানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল সুশ্রুত সংহিতা। প্রথম ধাপে দেখানো হয় যে কীভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা পাণ্ডুলিপির ছবি সংশোধন করে সেটাকে পাঠযোগ্য করে তুলছি। দ্বিতীয় ধাপে এই চিত্রকে মেশিনের পড়বার উপযোগী বানানো হয়েছে। পরের ধাপে মেশিনের পাঠযোগ্য লিপি পাঠ করেছে এক এআই অবতার। এবং পরের ধাপে আমরা এও দেখিয়েছি যে কীভাবে এই অমূল্য ভারতীয় জ্ঞান বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা এবং বিদেশি ভাষায় প্রযুক্তির সাহায্যে অনুবাদ সম্ভব। ভারতের প্রাচীন জ্ঞানকে আধুনিক অবতারের মাধ্যমে জানার ব্যাপারে বিপুল আগ্রহ দেখান বিশ্ব নেতৃত্ব।

বন্ধুরা, এই শীর্ষ সম্মেলনে এআই ক্ষেত্রে ভারতের অদ্ভূত ক্ষমতা দেখার সুযোগ পেল দুনিয়া। এই সময় তিনটে 'মেড ইন ইণ্ডিয়া' এআই মডেলও সামনে এনেছে ভারত। এখনও পর্যন্ত সবথেকে বড় এআই শীর্ষ সম্মেলন ছিল এটা। এই শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে তরুণদের উৎসাহ আর উদ্দীপনা ছিল দেখার মত। প্রতিটি দেশবাসীকে এই শীর্ষ সম্মেলনের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানাই আমি।

বন্ধুরা, আমি প্রায়শই বলি যে, যারা খেলাধুলো করে তারা বিকশিত হয়। খেলা আমাদের একত্রিতও করে। এখন আপনারা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলা দেখছেন হয়ত। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে ম্যাচ দেখার সময় অনেক বার আমাদের নজর বিশেষ কোনো এক খেলোয়াড়ে আটকে যায়। জার্সি অন্য দেশের কিন্তু নাম শুনে মনে হয় - আরে, এ তো আমাদের দেশের! তখন হৃদয়ের কোনো এক কোণে হাল্কা একটা আনন্দের অনুভব হয়। যেহেতু সেই খেলোয়াড় ভারতীয় বংশোদ্ভূত আর তিনি খেলছেন সেই দেশের হয়ে যেখানে বসত করছে তাঁর পরিবার।

তারা নিজের নিজের দেশের জার্সি পড়ে মাঠে নামেন এবং সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। কানাডা দলে সর্বাধিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় আছেন। দলের অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার জন্ম পাঞ্জাবের গুরদাসপুরে হয়েছিল। নবনীত ধালিওয়াল চন্ডিগড় এর। এই তালিকায় হর্ষ ঠাকার, শ্রেয়াস মোবার মতো বেশ কিছু নাম রয়েছে যারা কানাডার পাশাপাশি ভারতেরও গৌরব বৃদ্ধি করছেন। আমেরিকা দলের বেশ কিছু মুখ ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এসেছেন। আমেরিকা দলের অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল গুজরাতের অনূর্ধ্ব ১৬ ও অনূর্ধ্ব ১৮ দলের হয়েও খেলেছেন। মুম্বাইয়ের সৌরভ, হরমিত সিং, দিল্লির মিলিন্দ কুমার এরা সকলে আমেরিকা দলের গর্ব। ওমানের দলে বেশ কয়েকজন মুখ আছেন যারা আগে ভারতের আলাদা আলাদা রাজ্যে খেলেছেন। যতিন্দর সিং, বিনায়ক শুক্লা, করণ, জয়, আশিসের মত খেলোয়াড়রা ওমানের ক্রিকেটে শক্তিশালী ভীত। নিউজিল্যান্ড, UAE, ও ইতালি দলেও ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছেন। এমনই কত কত ভারতীয় বংশোদ্ভুত ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা নিজের দেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন। সেখানকার যুবশক্তির কাছে প্রেরণা হয়ে উঠছেন। ভারতীয়তার এই তো বিশেষত্ব! ভারতীয়রা যেখানেই যান নিজের মাতৃভূমির শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন, আর আপন কর্মভূমি অর্থাৎ যে দেশে বসবাস করেন তার বিকাশেও সহায়তা করেন।

আমার প্রিয় দেশবাসী, যে কোনো বাবা মা'র কাছে নিজের সন্তান হারানোর থেকে বড় দুঃখ আর কিছুই হতে পারে না। শিশুকে হারিয়ে ফেলার কষ্ট তো আরো গভীর। কিছুদিন আগে আমরা কেরালার এক নিষ্পাপ শিশু আলিন শেরিন আব্রাহামকে হারিয়েছি। মাত্র ১০ মাস বয়সে সে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছে। কল্পনা করুন ওর সামনে পুরো জীবন ছিল যা অকস্মাৎ শেষ হয়ে গেল। কত না স্বপ্ন আর আকাঙ্খা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। ওর বাবা-মা যে কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন তা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না। কিন্তু এতটা গভীর বেদনার মধ্যেও আলিমের পিতা অরুণ আব্রাহাম এবং মা শেরিন এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাতে প্রত্যেক দেশবাসীর হৃদয় তাঁদের প্রতি সম্মানে ভরে উঠেছে। তারা আলিনের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই একটি সিদ্ধান্ত থেকে বোঝা যায় তাদের চিন্তাভাবনা কতটা উদার ও ব্যক্তিত্ব কতটা মহৎ। একদিকে তারা নিজেদের সন্তান হারানোর শোকে নিমজ্জিত ছিলেন কিন্তু পাশাপাশি অপরকে সাহায্য করার ভাবনায় তাদের হৃদয় পরিপূর্ণ ছিল। তারা চাইতেন কোন পরিবারকে যেন এমন দিন দেখতে না হয়। আলিন শেরিন আব্রাহাম আজ আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু তার নাম দেশের অল্পবয়সী অঙ্গদানকারীদের মধ্যে যুক্ত হয়েছে। বন্ধুরা, সম্প্রতি ভারতে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা ক্রমশ বাড়ছে। এতে সেইসব মানুষদের সাহায্য হচ্ছে যাদের এর প্রয়োজনীয়তা আছে। পাশাপাশি দেশের মেডিকেল রিসার্চও এতে শক্তিশালী হচ্ছে। অনেক সংস্থা এবং মানুষ এই ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করছেন ।

বন্ধুরা, কেরালার আলিন এর মতোই এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অঙ্গদানের মাধ্যমে কাউকে নতুন জীবন প্রদান করেছেন। যেমন দিল্লির লক্ষ্মী দেবীজি। তিনি গতবছর কেদারনাথ যাত্রা করেছিলেন। এর জন্য তাকে ১৪ কিলোমিটার ট্রেকিং করতে হয়েছিল। আপনারা শুনে বিস্মিত হবেন যে উনি এই যাত্রা হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট এর পর করেছিলেন। তার হৃদযন্ত্র কেবল ১৫ শতাংশই কাজ করছিলো। এই অবস্থায় তিনি এক ডোনারের হার্ট পেয়েছিলেন যার মৃত্যু হয়েছিলো। এরপর তো তার জীবনই বদলে গেল। পশ্চিমবঙ্গের গৌরাঙ্গ ব্যানার্জি দু'বার নাথুলা গিয়েছেন। যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ফুট। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার lung transplant-এর পর। রাজস্থানে সীকরের রামদেব সিং-কে কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হয়েছিল। এখন তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখাচ্ছেন। 

বন্ধুরা, অনুপ্রেরণা যোগানোর মতো এমন অনেক উদাহরণ আপনারা দেখতে পাবেন। এ থেকে এই কথাটা আবারও প্রমাণ হয় যে-- একজন মানুষের সৎ উদ্যোগ অসংখ্য মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। যারা এই ধরনের মহৎ কাজ করছেন, আমি মন থেকে তাদের সকলের প্রশংসা করছি।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আজাদী কি অমৃত মহোৎসব চলাকালীন লালকেল্লা থেকে আমি পঞ্চপনের কথা উল্লেখ করেছিলাম। যার মধ্যে একটি ছিল দাসত্বের মানসিকতা থেকে মুক্তি। আজ দেশ দাসত্বের প্রতীকগুলিকে পিছনে ফেলে ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ব্যাপারগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে, আমাদের রাষ্ট্রপতি ভবন-ও একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কাল অর্থাৎ 23 শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভবনে রাজাজি উৎসব পালিত হবে। সেই উপলক্ষে, রাষ্ট্রপতি ভবনের কেন্দ্রীয় প্রাঙ্গনে সি. রাজগোপালাচারীর মূর্তি উন্মোচন করা হবে। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম ভারতীয় গভর্নর জেনারেল ছিলেন। তিনি সেই সমস্ত মানুষদের মধ্যে একজন ছিলেন যারা ক্ষমতাকে পদ হিসেবে নয়, সেবা হিসেবে দেখতেন। জনজীবনে তার ব্যবহার, আত্মসংযম, এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পরেও রাষ্ট্রপতি ভবনে ব্রিটিশ আধিকারিকদের মূর্তিগুলো রাখা ছিলো, কিন্তু দেশের মহান সন্তানদের জায়গা দেওয়া হয়নি। ব্রিটিশ স্থপতি এডউইন লুটইয়েনসের (Edwin Lutyens) মূর্তিও রাষ্ট্রপতি ভবনে রাখা ছিল। এখন এই মূর্তির জায়গায় রাজাজির মূর্তি স্থাপন করা হবে। রাজাজি উৎসব চলাকালীন রাজগোপালাচারীর উপর একটি প্রদর্শনীও চলবে। এই প্রদর্শনী ২৪শে ফেব্রুয়ারি থেকে পয়লা মার্চ অবধি চলবে। সময়-সুযোগ করে আপনিও সেটা অবশ্যই একবার দেখতে যাবেন। 

আমার প্রিয় দেশবাসী, মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের সঙ্গে ডিজিটাল অ্যারেস্ট নিয়ে বিস্তারিতভাবে কথা বলেছিলাম। এরপর দেশজুড়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং ডিজিটাল ফ্রড নিয়ে সমাজে যথেষ্ট সচেতনতা তৈরি হয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের চারপাশে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে, যা ক্ষমার অযোগ্য। নির্দোষ মানুষকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট এবং আর্থিক জালিয়াতির নিশানা করা হচ্ছে। অনেক সময় জানা যাচ্ছে কোন প্রবীণ নাগরিকের সারা জীবনের সঞ্চয় ঠকিয়ে নিয়ে নেয়া হয়েছে। কখনো সেই অর্থ প্রতারণা করে নেওয়া হয়, যা কেউ সন্তানের পড়াশোনার ফীস দেওয়ার জন্য সঞ্চয় করেছিল। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার খবরও আমরা পাচ্ছি। কেউ ফোন করে এবং বলে-- আমি একজন বড় আধিকারিক বলছি | আপনাকে কিছু ডিটেইলস শেয়ার করতে হবে। এরপর সরল সাদাসিধে মানুষ সেটাই করে বসছেন। সেই জন্য আপনার সচেতন থাকা এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধুরা, আপনারা সবাই KYC- Know Your Customer অর্থাৎ 'নিজের গ্রাহক কে জানুন' - এই process টির সঙ্গে নিশ্চয়ই পরিচিত। মাঝে মাঝে , যখন আপনার কাছে আপনার ব্যাঙ্ক থেকে KYC Update অথবা re- KYC করার message আসে, তখন মনে প্রশ্ন ওঠে- আমি তো প্রথমেই KYC করিয়ে রেখেছি, তাহলে আবার কেন? আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ, বিরক্ত হবেন না, এটা আপনাদের অর্থের সুরক্ষার জন্যই। আমরা সবাই জানি আজকাল pension, subsidy, বিমা, UPI সব কিছুই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত। এই জন্যই ব্যাঙ্ক মাঝে মাঝে re- KYC করায়, যাতে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকে। হ্যাঁ, এরই মধ্যে একটা কথা আপনাকে মনে রাখতে হবে, যে প্রতারক সে ভুয়ো call করে, sms আর link পাঠায়। সেইজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে আর এমন প্রতারকদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।

KYC অথবা re- KYC শুধুমাত্র নিজের ব্যাঙ্কের শাখা বা Official app বা authorised medium থেকেই করাবেন। OTP , আধার নম্বর অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্বন্ধিত তথ্য কাউকেই জানাবেন না। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, নিজের password মাঝে মধ্যে অবশ্যই বদলাবেন। যেরকম ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যাভাস বদলে যায়, বেশভুষা বদলায়, সেই রকমই নিয়ম করে কিছুদিন অন্তর আপনাকে আপনার password ও পরিবর্তন করতে হবে।

বন্ধুরা, সম্প্রতি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই বিষয়ের ওপর ' আর্থিক সাক্ষরতা সপ্তাহ ' - র আয়োজন করেছিল। আর্থিক সাক্ষরতার এই অভিযান এখন পুরো বছর ধরে চলবে। এইজন্য ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের message মাথায় রাখবেন আর আপনার KYC Update রাখবেন।

মনে রাখবেন-

সঠিক KYC, সময় মত re- KYC অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখে।

হয়ে উঠুন সক্ষম নাগরিক,

কারণ সক্ষম নাগরিক ই বানায় মজবুত এবং আত্মনির্ভর ভারত।

আমার প্রিয় দেশবাসী, আমাদের কৃষকরা শুধুমাত্র অন্নদাতাই নন, তাঁরা ধরিত্রীর সত্যিকারের পুজারী। মাটিকে সোনা বানানো কি, এটা আমাদের কৃষক দের থেকে শেখা উচিৎ । আর আমাদের আজকের কৃষকেরা তো ঐতিহ্য আর প্রযুক্তি দুটোই সঙ্গে নিয়ে চলেন । আমার এটা দেখে খুশি হয় যে আমাদের কৃষকেরা এখন শুধুমাত্র উৎপাদন নয়, বরং গুনমান, value addition আর নতুন নতুন বাজারের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন । ওডিশার হিরোদ পটেল নামের এক তরুণ কৃষকের তথ্যটি খুবই প্রেরণামুলক। প্রায় আট বছর আগে তিনি তাঁর বাবা শিব শঙ্কর পটেলের সঙ্গে প্রথাগত পদ্ধতিতে ধান চাষ করতেন, কিন্তু, তারপর উনি চাষবাস কে নতুন দৃষ্টিতে দেখা শুরু করেন। নিজের জমির পুকুরের ওপর উনি মজবুত জালের কাঠামো তৈরী করেন। তার ওপর লতানে সব্জী ফলান, পুকুরের চারপাশে কলা, পেয়ারা আর নারকেল লাগান আর পুকুরের জলে মাছ চাষ শুরু করেন। অর্থাৎ, একই জায়গায়- প্রথাগত চাষ ও চলছে, সব্জী, ফল, মাছ ও হছে । এরফলে জমির উন্নততর ব্যবহার করা গেছে, জল বাঁচানো গেছে আর অতিরিক্ত আমদানী ও সম্ভব হয়েছে। এখন দূর দূরান্ত থেকে কৃষকেরা তাঁর model দেখতে আসে।

বন্ধুরা, কেরালার ত্রিসূর জেলায় এমন এক গ্রাম আছে, যেখানে একই ক্ষেতে ৫৭০ রকমের ধান চাষ হয়। এর মধ‍্যে স্হানীয় প্রজাতি আছে, হার্বাল প্রজাতি আছে, আবার অন‍্য রাজ‍্য থেকে নিয়ে আসা প্রজাতিও আছে।এটা শুধু চাষ নয়, বীজের বৈচিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার এক মহান অভিযান ও। আমাদের কৃষকদের পরিশ্রমের ফল পরিসংখ‍্যানে স্পষ্ট।ভারত আজ বিশ্বে সব থেকে বড় চাল উৎপাদনকারী দেশ।১৫কোটি টনের ওপর চাল উৎপাদন কম কথা নয়। আমরা আমাদের প্রয়োজন পূরণ করে বিশ্ব food basket এও যোগান দিচ্ছি।বন্ধুরা, এখন তো কৃষিজ পণ‍্য অত‍্যন্ত সহজে আকাশপথে বিদেশে পৌঁছে যাচ্ছে। কর্ণাটকের নঞ্জনগুড কলা, মহীশূর পানের পাতা, ইন্ডি লেবু মালদ্বীপে পাঠানো হয়েছে। এই কৃষি পণ‍্য তার স্বাদ ও গুণমানের র জন‍্য প্রসিদ্ধ এবং তাদের GI tag ও দেওয়া হয়েছে।আজকের কৃষকরা qualityও চান, quantity ও বাড়াচ্ছেন আর নিজেদের পরিচয় ও তৈরী করছে ।

আমার প্রিয় দেশবাসী, গত বছর এই সময় মহাকুম্ভর সেই আশ্চর্য চিত্র আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। সঙ্গম তটে উপচে পড়া জনস্রোত, বিশ্বাসের প্লাবন আর স্নানের সেই পবিত্র মুহূর্তে , যেন ভারত তার নিজের সনাতন চেতনার মুখোমুখি হচ্ছিল । বন্ধুরা, মহাকুম্ভর ওই ধারা, ওই মাঘ মাস, ওই শ্রদ্ধার ধ্বনি যখন উত্তর থেকে দক্ষিণের দিকে এগোতে থাকে তখন তা এক নতুন রূপ নেয়।

বন্ধুরা, কেরালাতে ভারতপ্পুঝা নদীর তীরে তীরুনাবায়াতে এক প্রাচীন পরম্পরা রয়েছে- মামঙ্গম।একে বহু মানুষ মহা মাঘ মহোৎসব বা কেরালা কুম্ভ ও বলে থাকেন।মাঘ মাসে পবিত্র নদীতে স্নান আর ওই মুহুর্ত টিকে চিরস্মরণীয় করে রাখা হলো এই উৎসবে্র মূলমন্ত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরম্পরা হারিয়ে গিয়েছিলো । প্রায় আড়াইশো বছর ধরে এই উৎসব সেই ভাবে পালিত হচ্ছিল না, যেমনটি আগে হতো। কিন্তু আজ আমাদের দেশ আবার আমাদের ঐতিহ্য কে চিনতে পারছে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে । এবার কোনরকম ঘোষণা ছাড়াই কেরালা কুম্ভ সফল ভাবে আয়োজিত হয়েছে। মানুষ একে অপর কে এসম্বন্ধে বলেছেন, জনে জনে সংবাদ পৌঁছে গেছে, আর দেখতে দেখতেই শ্রদ্ধাবনত মানুষ তিরুনাবায়া পৌঁছে গেছেন।

বন্ধুরা, মহাকুম্ভই হোক বা কেরালা কুম্ভ, এ কেবল স্নানের উৎসব নয়। এ স্মৃতির পুনর্জাগরণ। এ সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ। উত্তর থেকে দক্ষিণ, নদী আলাদা হতে পারে, উপকূল আলাদা হতে পারে, কিন্তু বিশ্বাসের ধারা এক। এটাই ভারত।

বন্ধুরা, আমাদের দেশে সেই মানুষরাই সর্বদা জনগণের হৃদয়ে বাস করেন যাঁরা সমাজের কল‍্যাণের জন‍্য কাজ করেন, নিজেদের ভালো কাজগুলোর মধ‍্যে জনসাধারণ কে প্রাধান‍্য দেন।

আম্মা জয়ললিতা জী, এমনই এক জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন। ২৪শে ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিন । তামিলনাড়ুর মানুষের সঙ্গে তাঁর কি গভীর সম্পর্ক ছিল, তা আজও আমার সে রাজ‍্যে গেলে চোখে পড়ে। আম্মা জয়ললিতাজীর কথা উঠলেই তামিলনাড়ুর লোকদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠে । আমাদের নারীশক্তির সঙ্গে তাঁর যোগ তো আরও বিশেষ ছিল।

এটা এইজন্যেই আরও হয়েছে কারণ সরকারে থাকার সময়ে তিনি মা-বোন এবং কন্যাদের জন্যে বেশ কিছু প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। রাজ্যে আইন ব্যবস্থাকে সফল রাখার জন্যেও তিনি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। দেশভক্তি তাঁর অন্তরে পরিপূর্ণ ছিল। তারসঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নিয়েও তিনি ছিলেন গর্বিত। আম্মা জয়ললিতাজির সঙ্গে যত দেখাসাক্ষাৎ, যত কথাবার্তা হয়েছে, তার সব স্মৃতি আজও আমার মনে একেবারে সজীব রয়েছে। গুজরাটে ২০০২ এবং ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত আমার দুটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন। আমরা দুজনেই যখন নিজের নিজের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম, তখন good governance জাতীয় বিষয় নিয়ে প্রায়ই আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হত। আম্মার চিন্তাধারা একেবারে স্পষ্ট ছিল, এবং বিচার বিবেচনাও ছিল অত্যন্ত পরিণত। এ ছিল তাঁর একটি বড় বৈশিষ্ট্য। বেশ কয়েক বছর আগে পোঙ্গলের পবিত্র উৎসবের সময়ে তিনি আমাকে একবার মধ্যান্যভোজন এর জন্যে চেন্নাইতে আমন্ত্রণ করেছিলেন। তাঁর সেই স্নেহভরা অনুভব আমার কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। আবার একবার আমি তাঁর উদ্দেশে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। 

জয়ললিতা অবরগলক্ক,

ইয়েন নিনৈবাঞ্জলি -গল,

সমুদায়ত্তিরক্কু,

অবোর আত্রিয় সেবই যেনগাম...নিনৈবিল ইরুক্কুম।

(জয়ললিতাজির জন্যে আমার শ্রদ্ধা,

জনগণের জন্য তাঁর সেবা, তাঁর কাজ চিরকাল স্মরণে থেকে যাবে।) 

আমার প্রিয় দেশবাসী, এখন আমি কথা বলব, আমার প্রিয় সম্ভাবনাময় ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে। সেইসব বাচ্চা এইসময়ে যাদের পরীক্ষা চলছে। আমার বিশ্বাস, তোমরা নিশ্চয়ই এ মাসের শুরুতে 'পরীক্ষা পে চর্চা' অনুষ্ঠানটি দেখেছো, আর তা থেকে কিছু শিখতেও পেরেছো । কিন্তু তার পরেও আমি জিজ্ঞাসা করব, পড়াশোনার জন্যে তোমরা বেশি টেনশন নিচ্ছ না তো?

আমার প্রিয় ছোটরা, তোমরা তো সবাই exam warriors। আমার বিশ্বাস যে তোমরা সকলেই খুব মন দিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ। হ্যাঁ, এই সময়ে একটু ভয় পাওয়াও খুবই স্বাভাবিক। কখনও মনে হয়, সব মনে থাকবে কি থাকবেনা। আবার কখনও চিন্তা হয়, সময় কম পড়ে যাবেনা তো! তোমরা একা নও , সব প্রজন্মের বাচ্চারাই এরকম দুশ্চিন্তায় ভুগেছে । মনে রাখবে, তোমাদের গুরুত্ব কিন্তু mark sheet দিয়ে ধার্য হবেনা। কাজেই, নিজের ওপরে ভরসা রাখ । যা পড়েছ, সেটাই পুরো মন দিয়ে লেখ । আর যেটা পারলে না , সেই প্রশ্নটিকে মনকে ভারাক্রান্ত করতে দেবে না । আর একটি কথা, নিজের বাবা-মা, শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে থাক । তাঁদের কাছে তোমার প্রচেষ্টাই তোমার পরিচয়, নম্বর নয়। তোমরা পরিশ্রম করলেই তাঁরা খুশি থাকেন । আমার পুরো ভরসা আছে যে তোমরা পরীক্ষাতেও সফল হবে এবং সেইসঙ্গে নিজেদের জীবনেও সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারবে। 

বন্ধুরা, এখন রমজান চলছে। এই পবিত্র মাসের উপলক্ষে আমি সকলকে শুভকামনা জানাই। কিছুদিন পরেই আসছে হোলির পরব। অর্থাৎ রং গুলাল আর হাসিখুশি আনন্দে ভরা সময় দুয়ারে হাজির। আপনারা সকলে নিজেদের পরিবার এবং আপনজনদের নিয়ে সানন্দে সকল উৎসব উদযাপন করুন। আর হ্যাঁ, কিছু মন্ত্র সবসময়ে মনে রাখবেন, যেমন, vocal for local. আমাদের হোলি কিংবা অন্যান্য উৎসবে এমন অনেক জিনিস ঢুকে পড়েছে যা আদতে বিদেশী। এদের উৎসব থেকে, হোলি থেকে দূরে রাখুন। যা স্বদেশী, তাকেই গ্রহণ করুন। যখন আপনারা স্বদেশী জিনিস কেনেন, তখন তার মাধ্যমে দেশকে আত্মনির্ভর করে তোলার অভিযানকেও শক্তি যোগান।

 

বন্ধুরা, 'মন কি বাত'-এর জন্যে প্রতি মাসেই আমি আপনাদের অনেক পরামর্শ পাই। আপনাদের পাঠানো সেইসব বার্তা দেশের নানান কোণে লুকিয়ে থাকা বহু অনন্য প্রতিভার সন্ধান মেলে। নিজের সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে গিয়ে সমাজের জন্যে কিছু করতে পারার অনেক প্রেরণাদায়ক কাহিনী আপনাদের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। আপনারা এভাবেই নিজেদের প্রয়াস বজায় রাখবেন। আমি আপনাদের বার্তার অপেক্ষায় থাকব। আবার একবার আপনাদের এবং আপনাদের পরিবারকে আমি আসন্ন উৎসবের মরসুমের জন্যে অজস্র শুভকামনা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ। নমস্কার।

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Standing for medical science, together with AIIMS

Media Coverage

Standing for medical science, together with AIIMS
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Cabinet approves construction of 1200 MW Kalai-II Hydro Electric Project in Arunachal Pradesh - Use this title for the last one
April 08, 2026

The Cabinet Committee on Economic Affairs, chaired by the Prime Minister Shri Narendra Modi has approved investment of Rs.14,105.83 crore for construction of Kalai-II Hydro Electric Project (HEP) on Lohit river in Anjaw District of Arunachal Pradesh. The estimated completion period for the project is 78 months.

The project with an installed capacity of 1200 MW (6 x 190 MW & 1 x 60 MW) is expected to generate 4852.95 MU of energy annually. As the first hydro project in the Lohit Basin, it will strengthen power supply in the State, support in peak demand management, and contribute to balancing the national grid.

The Project will be implemented through a Joint Venture Company between THDC India Limited and the Govt. of Arunachal Pradesh. Government of India shall extend ₹599.88 crore as budgetary support for construction of roads, bridges and associated transmission line under enabling infrastructure besides Central Financial Assistance of ₹750 crore towards equity share of the State.

The State will receive 12% free power and an additional 1% earmarked for the Local Area Development Fund (LADF), along with significant infrastructure development and socio-economic benefits for the region.

There will be significant improvement in infrastructure in Namsai and Anjaw District of Arunachal Pradesh, including the development of around 29 kilometres of roads and bridges, for the project which shall be mostly available for local use. Local populace shall also be benefitted from many sorts of compensations, employment and CSR activities.