প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি,
উভয় দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ,
সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,
নমস্কার!

প্রধানমন্ত্রী কার্নি-কে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। আমরা এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছি।

গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি আমাকে এবং আমাদের প্রতিনিধি দলকে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আজ তাঁকে স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছেন যাঁদের দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেতৃত্ব প্রদানের অভিজ্ঞতা আছে।

 

আমাদের প্রথম সাক্ষাতের পর থেকেই আমাদের সম্পর্কে এক নতুন শক্তি এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতার গতি বৃদ্ধির কৃতিত্ব আমি আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী কার্নি-কে দিতে চাই।

বন্ধুগণ,
ভারত ও কানাডা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখে। আমরা বৈচিত্র্যকে উদযাপন করি। মানবতার কল্যাণই আমাদের সহজাত দৃষ্টিভঙ্গি। এই দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। আজ আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে অংশীদারিত্বে রূপান্তরিত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

আমাদের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোই আমাদের  মূল লক্ষ্য। তাই আমরা খুব শীঘ্রই Comprehensive Economic Partnership Agreement চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি উভয় দেশে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
কানাডার পেনশন ফান্ড ভারতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এটি ভারতের বিকাশের কাহিনীর ওপর তাঁদের গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন।

আজ আমরা উভয় দেশের বাণিজ্য জগতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করব। তাঁদের পরামর্শ আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথ প্রশস্ত করবে।

বন্ধুগণ,
আমরা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একে অপরের অংশীদার। কানাডা ও ভারতের উদ্ভাবনমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন ধারণাকে সমাধানে রূপান্তর করতে চলেছি।

 

আমরা প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একে অপরের অংশীদার। কানাডা ও ভারতের উদ্ভাবনমূলক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা নতুন নতুন ধারণাকে সমাধানে রূপান্তর করতে চলেছি।

গত মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত এআই ইম্প্যাক্ট সম্মেলনের সাফল্যে কানাডার অবদানের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নি-কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা এআই-এর পাশাপাশি কোয়ান্টাম, সুপারকম্পিউটিং এবং সেমিকন্ডাক্টরের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধি করব।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ওপর আজকের সমঝোতাপত্রটি সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে আমরা উভয় দেশের স্টার্ট-আপ এবং শিল্প সংস্থাগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করব।

বন্ধুগণ,
প্রধানমন্ত্রী কার্নির জন্য পরিবেশ কোনো আলাদা কর্মসূচি নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারই একটি অংশ। জ্বালানি ক্ষেত্রে আমরা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি, যেখানে হাইড্রোকার্বনের পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং শক্তি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে কানাডা আন্তর্জাতিক সৌর জোট এবং গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্সে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের যৌথ প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে আমরা এই বছর ‘ভারত-কানাডা  পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ও সংরক্ষণ সম্মেলন’ আয়োজন করব।

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আমরা ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টর এবং উন্নত রিঅ্যাক্টরের ওপরও একসাথে কাজ করব।

কৃষিতে মূল্য সংযোজন, কৃষি-প্রযুক্তি এবং খাদ্য  নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েছি। এই লক্ষ্যে ভারতে ‘ভারত-কানাডা পালস প্রোটিন সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ স্থাপন করা হবে।

বন্ধুগণ,
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা আমাদের গভীর পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আমাদের সম্পর্কের পরিপক্কতার প্রতীক। আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প, সামুদ্রিক সচেতনতা এবং সামরিক আদান প্রদানের ওপর কাজ করব। এই উদ্দেশ্যে আজ আমরা ‘ভারত-কানাডা প্রতিরক্ষা সংলাপ’ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

বন্ধুগণ,
মানুষে-মানুষে নিবিড় যোগাযোগই আমাদের সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি। আজ আমরা সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এআই, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আজ বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নতুন অংশীদারিত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যাতে ভারতে ক্যাম্পাস খুলতে পারে, সে বিষয়েও একমত হয়েছি।

আদিবাসী এবং জনজাতিয় সম্প্রদায় আমাদের সহজাত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বন্ধুগণ,
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডা ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ‘ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন’-এ সহযোগী হওয়ার প্রতি তাঁদের আগ্রহকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি আমাদের সামুদ্রিক ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আমরা একমত যে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ এবং মৌলবাদ কেবল আমাদের দুটি দেশের জন্যই নয়, বরং সমগ্র মানবতার জন্য এক গভীর ও গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্বে চলমান বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়ে ভারতের চিন্তাভাবনা স্পষ্ট। আমরা সর্বদা শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছি। যখন দুটি গণতন্ত্র একসঙ্গে দাঁড়ায়, তখন শান্তির কণ্ঠস্বর আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

 

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ভারত আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমে সব বিরোধের সমাধানের পক্ষপাতি। আমরা ওই অঞ্চলের সব ভারতীয় নাগরিকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব দেশের সঙ্গে কাজ করে যাব।

মহামহিম,
আপনার এই সফর আমাদের সহযোগিতার প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। ভারতের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি এবং দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আমি আবারও আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'

Media Coverage

Nepal praises India's efforts in times of crisis; calls PM Modi 'exceptionally generous'
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 30 অগাস্ট 2026
August 30, 2026

Tiranga in Tashkent, Relief in Nepal: Soft Power Meets First Responder

Vocal for Local, Nari Shakti, Real Heroes: Mann Ki Baat’s Atmanirbhar Hour