Listen to everyone’s advice, but change your pattern only when you want to: PM
PM advises teachers to inform students in advance to create curiosity and improve understanding
Goals should be within reach but not easily achievable - Aim and Act: PM
Plough the mind, then connect the mind, and then place the subjects of study, this will help you succeed: PM
Balancing studies, skills, rest and hobbies is the key to growth: PM
Books impart knowledge, but only practice makes you professionally skilled: PM
Don’t waste time dwelling on the past, think of living what lies ahead: PM
Education is not only for exams but for life, exams are meant to examine oneself: PM
Aspire, not to be, but to do: PM
The Present is God’s greatest ‘Present’ - Live here and now: PM
The more involved you are in a moment, the longer you remember it: PM
Collaborative learning helps everyone improve: PM
Revise and become wise: PM
Strengthen your foundation in school, competitive exams will follow in time: PM
PM advises parents to allow children to blossom according to their capacity, ability, and interest
Turn your hobbies into practical products and share them for free, Feedback fuels new ideas and success: PM
Discover Yourself, Experience all that life offers: PM
Exams are like Festivals, celebrate them: PM
Real confidence comes from inner truth, Be true to who you are: PM
Comfort zones don’t shape life - your way of living does: PM
Not having a dream is a crime - have a dream always: PM
Be your own anchor, celebrate your strengths: PM
Dream big, fear less - read biographies: PM
Maintaining Cleanliness is the foremost priority and our duty: PM
Technology is a great teacher, embrace it, AI increases our capabilities: PM
Harness AI wisely, boost your wisdom: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ 'পরীক্ষা পে চর্চা' (পিপিসি)-এর নবম সংস্করণে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে তাঁর বাসভবনে 'পরীক্ষা যোদ্ধা'-দের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলোচনায় যোগ দেন।

তোমার নিজস্ব শৈলী, তোমার নিজস্ব গতি

গুজরাটের একজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে যে, বাবা-মা তাদের জন্য চিন্তিত থাকেন, শিক্ষকরাও তাদের পাশে থাকেন, কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন শিক্ষকরা এক ধরনের পড়ার পদ্ধতির কথা বলেন, বাবা-মা অন্য একটি পদ্ধতির ওপর জোর দেন এবং শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে। এর ফলে তারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে যে কোন পদ্ধতিটি সঠিক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা সারা জীবনের ব্যাপার, প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও মানুষ তাঁকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ঠিক যেমন বাড়িতে ভাইবোনদের খাবারের অভ্যাস ভিন্ন হয়—কেউ সবজি দিয়ে শুরু করে, কেউ ডাল দিয়ে, আবার কেউ সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে খায়—তেমনি প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটি পদ্ধতি থাকে। নিজের পদ্ধতি অনুসরণ করলেই আনন্দ পাওয়া যায়। শ্রী মোদী ব্যাখ্যা করেন যে কেউ রাতে পড়তে পছন্দ করে, আবার কেউ খুব ভোরে, প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটি ছন্দ আছে। তিনি অসততার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন যে কিছু শিক্ষার্থী তাদের মাকে বলে যে তারা সকালে পড়বে কিন্তু পরে তা এড়িয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নিজের পদ্ধতির উপর বিশ্বাস রাখতে হবে, সবধরনের পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই উন্নতি করতে হবে, শুধু কেউ বলেছে বলেই নয়। তিনি বলেন যে যখন তিনি 'পরীক্ষা পে চর্চা' শুরু করেছিলেন তখন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেটির উন্নতি করেছেন, এমনকি বিভিন্ন রাজ্যেও অধিবেশন পরিচালনা করেছেন, মূল বিষয়বস্তু ঠিক রেখে বিন্যাস পরিবর্তন করেছেন। শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করে যে প্রধানমন্ত্রীর স্বভাব অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল এবং তিনি সহজেই তাদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে প্রত্যেকেরই বিভিন্ন পদ্ধতি শোনা উচিত, প্রতিটি থেকে ভালো গুণগুলো গ্রহণ করা উচিত, নিজের পদ্ধতির উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ধীরে ধীরে সেটিকে শক্তিশালী করা উচিত।

 

আরেকজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে যে, প্রায়শই শিক্ষার্থীরা স্কুল বা শিক্ষকদের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না, এবং যা বাদ পড়েছে তা পূরণ করার চেষ্টা করতে গিয়ে তারা পরবর্তী অধ্যায়গুলোর খেই হারিয়ে ফেলে পিছিয়ে পড়ে। শ্রী মোদী বলেন যে শিক্ষকদের উচিত তাদের গতি শিক্ষার্থীদের থেকে মাত্র এক ধাপ এগিয়ে রাখা, খুব বেশি নয়, যাতে লক্ষ্যটি নাগালের মধ্যে থাকে কিন্তু সহজে অর্জনযোগ্য না হয়। যখন শিক্ষার্থীটি 'পরীক্ষা যোদ্ধা' মন্ত্র ২৬, "লক্ষ্য নাগালের মধ্যে থাকবে কিন্তু সহজে অর্জনযোগ্য হবে না" স্মরণ করে, তখন প্রধানমন্ত্রী তার স্মৃতির প্রশংসা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে শিক্ষকরা যদি পঞ্চাশ ধাপ এগিয়ে যান, তবে শিক্ষার্থীরা হাল ছেড়ে দেবে, কিন্তু একজন কৃষক যেমন জমি চাষ করে, তেমনি শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের মনকে চাষ করতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন যে শিক্ষকদের প্রতি সপ্তাহে পড়ানো হবে এমন অধ্যায়গুলো আগে থেকে ঘোষণা করা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা পাঠ শুরু হওয়ার আগেই পড়া, প্রশ্ন করা বা অনলাইনে খোঁজা শুরু করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যখন প্রকৃত পাঠদান হবে, তখন কৌতূহল জাগবে, বোঝাপড়া গভীর হবে এবং মনোযোগ বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি কোনো অধ্যায় খুব আকর্ষণীয় হয়, তবে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি কিছু জানতে চাইবে, যা বিষয়বস্তু ভালোভাবে মনে রাখতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে এটি একটি সহজ পদ্ধতি, এবং জিজ্ঞাসা করেন যে তাহলে শিক্ষকের গতির সমস্যাটি কি থেকে যাবে? শিক্ষার্থীটি হ্যাঁ উত্তর দিলে, শ্রী মোদী তাকে সংশোধন করে বলেন, তা থাকবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা আর নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করবে না, যেহেতু তারা শিক্ষকের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “প্রথমে মনকে প্রস্তুত করো, তারপর মনকে সংযুক্ত করো, এবং তারপর অধ্যয়নের বিষয়গুলো উপস্থাপন করো। তোমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের সফল দেখতে পাবে।” শিক্ষার্থীরা জানায় যে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি বসে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এবং কথোপকথন করার সুযোগ সবাই পায় না, এবং তারা উল্লেখ করে যে তিনি তাদের শিক্ষকদের থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে না থেকে দুই ধাপ এগিয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, এতে তারা কখনোই পিছিয়ে পড়বে না।

এক সুরেলা মুহূর্ত

সিকিমের একজন শিক্ষার্থী জানায় যে সে তিনটি ভাষায়—হিন্দি, নেপালি এবং বাংলায়—‘হামারা ভারত ভূমি’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক গান রচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী  জিজ্ঞাসা করেন যে সে কবিতা লিখতে ভালোবাসে কিনা, এবং সে ইতিবাচক উত্তর দিলে তাকে আবৃত্তি করতে উৎসাহিত করেন। তিনি তার প্রশংসা করেন এবং বলেন যে সে কীভাবে দেশের ঐক্যের কথা বলেছে—এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত। এরপর শ্রী মোদি আরেকজন শিক্ষার্থী মানসীকে গান গাইতে বলেন। মানসী তার মায়ের লেখা একটি গান পরিবেশন করে, যা শিক্ষার্থীদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেন এবং তার মাকে অভিনন্দন জানাতে বলেন। শিক্ষার্থীটি জানায় যে সে একটি ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চালায়, এবং ফেসবুকে তার ১.৫ লক্ষ ফলোয়ার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিস্মিত হয়ে বলেন, এমন প্রতিভাবানদের সঙ্গে দেখা করাটা গর্বের বিষয়।

 

এরপর শ্রী মোদী সকল শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানান এবং ব্যাখ্যা করেন যে তিনি আসামের গামোসা দিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যাকে তিনি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে গামোসা আসাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মহিলা ক্ষমতায়নের প্রতীক, এটি এই অঞ্চলের মহিলারা ঘরে বসে তৈরি করেন এবং এটি তাদের শক্তি ও অবদানের প্রতিফলন। তিনি বলেন যে শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে শিশুদের গামোসা উপহার দেওয়াটা তাঁর আন্তরিক ইচ্ছা ছিল।

উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রস্তুতি

ছাত্র সাবাভাত ভেঙ্কটেশ এরপর প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করে যে দক্ষতা নাকি নম্বর - কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই প্রসঙ্গে সে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভয়ের উল্লেখ করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনে ভারসাম্য অপরিহার্য, তা খাওয়া ও ঘুমের মধ্যে হোক, পড়াশোনা ও খেলার মধ্যে হোক, কিংবা দক্ষতা ও নম্বরের মধ্যে হোক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কোনো একদিকে বেশি ঝুঁকে পড়লে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, আর সঠিক ভারসাম্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে দক্ষতা দুই প্রকার—জীবন দক্ষতা এবং পেশাগত দক্ষতা—এবং উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ এবং পড়াশোনা ছাড়া কোনো দক্ষতা বিকশিত হতে পারে না এবং দক্ষতার শুরুই হয় জ্ঞান দিয়ে।

 

শ্রী মোদি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন: জীবন দক্ষতা ছাড়া একজন ব্যক্তি রান্না করা বা রেল স্টেশনে টিকিট কেনার মতো দৈনন্দিন কাজেও সমস্যায় পড়তে পারেন। শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাসহ জীবন দক্ষতা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করতে হবে। পেশাগত দক্ষতার বিষয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ডাক্তারদের ক্রমাগত তাদের দক্ষতা উন্নীত করতে হয়, কারণ শুধু বই পড়েই কেউ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হতে পারে না—প্রকৃত দক্ষতা আসে রোগীদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে। একইভাবে, আইনজীবীদের সাংবিধানিক বিধান জানার বাইরেও আদালতের দক্ষতা বিকাশের জন্য জ্যেষ্ঠদের অধীনে অনুশীলন করতে হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পেশাগত দক্ষতার জন্য ৪০ বছর বয়সেও ক্রমাগত শেখা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ চিকিৎসা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের অগ্রগতি ক্রমাগত আধুনিকীকরণের দাবি রাখে। তিনি বলেন যে শিক্ষা এবং দক্ষতা হলো যমজ ভাইবোনের মতো, অবিচ্ছেদ্য, এবং জীবনে দক্ষতা অপরিহার্য।

নম্বর এবং শিক্ষার মাধ্যম ছাড়িয়ে

মণিপুরের ইম্ফলের সৈনিক স্কুলের একজন ছাত্র প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলে, তার জন্মদিন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের সঙ্গে মিলে যায়। জবাবে শ্রী মোদী মন্তব্য করেন যে তিনি অতিবাহিত বছরগুলো গণনা করেন না, বরং ভবিষ্যতের বছরগুলোর উপর মনোযোগ দেন এবং শিক্ষার্থীদের অতীতের কথা ভেবে সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের জীবন নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করেন।

গত বছরের প্রশ্নপত্রের উপর ভিত্তি করে পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, প্রধানমন্ত্রী বলেন যে প্রশ্নপত্র কঠিন মনে হলে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই সমস্যায় পড়ে, তবে এর কারণ এই নয় যে প্রশ্নগুলো পাঠ্যক্রমের বাইরের, বরং কারণ হলো মনোযোগ কেবল পুনরাবৃত্ত প্যাটার্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই সমস্যা তার নিজের ছাত্রজীবনেও ছিল এবং কখনও কখনও শিক্ষকরাও কেবল নম্বরের জন্য পড়ানোর কারণে এটি বজায় থাকে। শ্রী মোদি জোর দেন যে ভালো শিক্ষকরা সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম পড়িয়ে এবং জীবনের সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করেন। ক্রিকেটের একজন বোলারের উদাহরণ দিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে কেবল কাঁধের পেশী শক্তিশালী করাই যথেষ্ট নয়; একজনকে ব্যায়াম করতে হবে, যোগব্যায়াম করতে হবে, পুরো শরীর ও মনকে শক্তিশালী করতে হবে, খাদ্যাভ্যাস ঠিক করতে হবে এবং সঠিকভাবে ঘুমাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, একইভাবে, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, জীবনের জন্য, এবং পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো নিজেকে যাচাই করা। নম্বরই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; জীবনের সম্পূর্ণ বিকাশই আসল লক্ষ্য। তিনি পরামর্শ দেন যে, শুধুমাত্র দশটি প্রশ্ন বা নির্দিষ্ট ধরনের প্রশ্নের উপর মনোযোগ দেওয়াটা সীমাবদ্ধতা তৈরি করে, এবং যদিও সেগুলোর অনুশীলন করা যেতে পারে, তবে তা প্রস্তুতির একটি ছোট অংশ হওয়া উচিত, এবং বেশিরভাগ প্রচেষ্টা সামগ্রিক শিক্ষার দিকে পরিচালিত করা উচিত।

 

বিশেষ করে প্রি-বোর্ডের সময় পড়াশোনার চাপ সামলানো নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এটি একটি সাধারণ উদ্বেগ। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শিক্ষাকে কোনো বাধ্যবাধকতা বা বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এর জন্য সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। পূর্ণ সম্পৃক্ততা ছাড়া অসম্পূর্ণ শিক্ষা সাফল্য এনে দিতে পারে না। তিনি নম্বরের প্রতি আচ্ছন্নতার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন যে, গত বছর বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কোনো ছাত্রের নাম কারো মনে আছে কি না। যখন ছাত্রটি 'না' উত্তর দেয়, তখন শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে, যদিও এই ধরনের কৃতিত্বের প্রশংসা করা হয়, তবে তা শীঘ্রই ভুলে যাওয়া হয়, যা দেখায় যে নম্বরের গুরুত্ব কতটা কম। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে তারা যেন তাদের মনকে নম্বরের সঙ্গে বেঁধে না রাখে, বরং তাদের জীবন কোন দিকে যাচ্ছে তার উপর মনোযোগ দেয় এবং শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষ বা পরীক্ষার হলেই নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের ক্রমাগত পরীক্ষা করে।

কম চাপ, বেশি শিক্ষা

আলোচনা পর্ব চালিয়ে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী মোদীকে জিজ্ঞাসা করে যে, পড়াশোনার সময় কীভাবে শান্ত ও মনোযোগী থাকা যায়, কারণ অনেক বিভ্রান্তিকর চিন্তা আসে এবং পড়া মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী একটি উদাহরণ দিয়ে উত্তর দেন: “আজ যেমন তোমরা এখানে এসেছ, ২৫ বছর পরেও যদি কেউ তোমাকে এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কি ভুলে যাবে নাকি মনে রাখবে?” ছাত্রটি উত্তর দেয় যে এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে সর্বদা মনে থাকবে। শ্রী মোদী ব্যাখ্যা করেন যে এর কারণ হলো ছাত্রটি সম্পূর্ণরূপে এতে জড়িত ছিল, বর্তমান নিয়ে ভাবছিল, যা দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতি নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন যে, যখন কেউ সম্পূর্ণরূপে জড়িত থাকে এবং যখন অভিজ্ঞতা বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখন স্মৃতি স্থায়ী হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন যে তারা যেন কম আত্মবিশ্বাসী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এবং তাদের শেখায়, পাশাপাশি নিজেদের বোঝাপড়া যাচাই করার জন্য উজ্জ্বল সহপাঠীদের কাছ থেকে কয়েক মিনিটের জন্য নির্দেশনা নেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই দ্বৈত সুবিধা নতুন ধারণা নিয়ে আসে, মনকে উন্মুক্ত করে এবং মনোযোগকে শক্তিশালী করে।

 

পাঞ্জাবের আরেকজন শিক্ষার্থী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করে বলেন, যারা একই সঙ্গে বোর্ড পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাদের পরীক্ষার ধরণ ভিন্ন হয়, অনেক ক্ষেত্রে একই সময়ে দুটি পরীক্ষা পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী এই উদ্বেগটি স্বীকার করে একে একই সঙ্গে ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন যে, শিক্ষার্থীরা যদি তাদের পাঠ্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আয়ত্ত করে, তবে আলাদা প্রচেষ্টা ছাড়াই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা একটি আনুষঙ্গিক ফল হিসেবে আসবে। তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দেন যে, তারা যেন সন্তানদের তাদের সামর্থ্য, ক্ষমতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী বিকশিত হতে দেন।

নম্বর, খেলা এবং হাসির মধ্যে ভারসাম্য

একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য সামাজিক চাপ থাকা সত্ত্বেও গেমিংয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে একটি প্রশ্ন তোলে। প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, অভিভাবকরা প্রথমে প্রায়শই নিরুৎসাহিত করেন, কিন্তু একবার সাফল্য অর্জিত হলে তারা গর্ববোধ করেন এবং তা উদযাপন করেন। তিনি শিক্ষার্থীকে গেমিংয়ের প্রতি তার আগ্রহকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করেন। তিনি পঞ্চতন্ত্র বা পৌরাণিক ঘটনার মতো ভারতের সমৃদ্ধ গল্পের উপর ভিত্তি করে গেম তৈরি করতে এবং স্বীকৃতি অর্জনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সেগুলো শেয়ার করতে বলেন। তিনি বলেন যে গেমিং একটি দক্ষতা যার জন্য গতি এবং সতর্কতার প্রয়োজন, যা আত্ম-বিকাশে সহায়তা করে। তিনি উচ্চ-মানের গেমে দক্ষতা অর্জনের উপর মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি গেমিংয়ে জুয়া খেলার বিরুদ্ধে সতর্ক করেন এবং বলেন যে এই ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে গেমিংকে একটি গঠনমূলক দক্ষতা হিসেবেই গ্রহণ করা উচিত।

 

শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন পরিদর্শনে এসে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও তাঁর দেওয়া চিন্তাশীল উত্তরগুলোর প্রশংসা করে।

ভয়কে শক্তিতে পরিণত করা - মানসিক চাপ, সময় এবং আত্মবিশ্বাসের পরিচালনা

শিক্ষার্থীরা জানায় যে কীভাবে 'এক্সাম ওয়ারিয়র' বইটি তাদের পরীক্ষার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করে যে আগে পরীক্ষা মানসিক চাপ এবং ভয়ের কারণ ছিল, কিন্তু বইটি পড়ার পর পরীক্ষা বন্ধুর মতো হয়ে গেছে। আরেকজন শিক্ষার্থী বলে যে আগে তারা অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে উদ্বিগ্ন বোধ করত, কিন্তু এখন তারা বুঝতে পেরেছে যে তাদের নিজস্ব কৌশলটি অনন্য এবং কার্যকর। একজন শিক্ষার্থী উল্লেখ করে যে সময় ব্যবস্থাপনা সবসময়ই একটি কঠিন কাজ ছিল, কিন্তু 'এক্সাম ওয়ারিয়র' থেকে শেখার পর তারা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা এবং কাজগুলো আরও ভালোভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী সময় ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সহজ পদ্ধতির পরামর্শ দেন: ঘুমানোর আগে একটি ডায়েরিতে কাজগুলো লিখে রাখা, পরের দিন সেগুলো মিলিয়ে দেখা এবং কেন কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে তা বিশ্লেষণ করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সময়কে উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করতে শিখলে চাপ এবং ক্লান্তি দূর হয়। তিনি জানান যে তাঁর নিজের সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহারের অভ্যাসই তাঁকে অসংখ্য দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও চাপমুক্ত রাখে। শিক্ষার্থীরা জানায় যে গণিতের মতো বিষয় সম্পর্কে তাদের ভয় কীভাবে আগ্রহে পরিণত হয়েছে, এবং একজন শিক্ষার্থী উল্লেখ করে যে গণিত একসময় ভয়ের কারণ ছিল, কিন্তু এখন তা একটি নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বৈদিক গণিত অন্বেষণ করতে উৎসাহিত করেন, এটিকে আনন্দদায়ক ও জাদুকরী হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আগ্রহ বাড়ানোর জন্য বন্ধুদের সঙ্গে এই ধরনের পদ্ধতিগুলো ভাগ করে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

 

আরেকজন শিক্ষার্থী জানায় যে পরীক্ষার তারিখগুলো একসময় ভয়ের কারণ ছিল, কিন্তু পরীক্ষাগুলোকে উৎসব হিসেবে দেখার যে মূলমন্ত্র বইটিতে রয়েছে, তা তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন যে 'পরীক্ষা পে চর্চা' থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া উচিত, কারণ তারাও সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।

শিক্ষার্থীরা কম নম্বর পাওয়ার ভয়কে কীভাবে কাটিয়ে উঠেছে, তা নিয়ে আলোচনা করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে নম্বরই সবকিছু নয় এবং ব্যর্থতা সত্ত্বেও অধ্যবসায়ের জন্য ডঃ এপিজে আব্দুল কালামের উদাহরণ তুলে ধরেছে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে মানসিক চাপ কমলে মন নতুন দক্ষতা যেমন গান গাওয়া, ছবি আঁকা বা কবিতা লেখার মতো বিষয় শেখার জন্য উন্মুক্ত হয় এবং যারা সৃজনশীল কাজে হাত দিয়েছে, সেইসব শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন।

বই থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাস শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনার ভয় কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে আত্মবিশ্বাস আসে সত্য এবং অভিজ্ঞতা থেকে, ঠিক যেমন সাধারণ মানুষ নিজের দেখা ঘটনা বর্ণনা করার সময় স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস তাদের নিজেদের প্রচেষ্টা এবং কৃতিত্বের সত্য থেকে আসে।

 

 

বই থেকে অর্জিত আত্মবিশ্বাস শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনার ভয় কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করেছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে আত্মবিশ্বাস আসে সত্য এবং অভিজ্ঞতা থেকে, ঠিক যেমন সাধারণ মানুষ নিজের দেখা ঘটনা বর্ণনা করার সময় স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস তাদের নিজেদের প্রচেষ্টা এবং কৃতিত্বের সত্য থেকে আসে।

এক শিক্ষার্থী জানায় যে দীর্ঘ সাহিত্যপত্রের কারণে একসময় তার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতো, কিন্তু এখন সে দ্রুত লেখার এবং হাতের লেখা উন্নত করার অনুশীলন করে। প্রধানমন্ত্রী ৩০ সেকেন্ড বিরতি নেওয়া, গভীর শ্বাস নেওয়া এবং পরীক্ষা শুরু করার আগে মনকে স্থির করার মতো কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জ্ঞানের অভাবে নয়, বরং তাড়াহুড়োর কারণেই ভুল হয়। সঠিক কৌশল এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার ভয় কাটিয়ে উঠতে এবং সফল হতে পারে।

কোলাহলের মধ্যেও অবিচল থাকা

এক শিক্ষার্থী জানতে চায়, বাড়ির কোলাহল এবং বাবা-মায়ের সমর্থনের অভাবের মধ্যেও কীভাবে পড়াশোনা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী পণ্যবোঝাই গরুর গাড়ির উপর বসে এক শিশুর পড়াশোনার একটি ভিডিওর কথা স্মরণ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে সাফল্যের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য অপরিহার্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে বোর্ডের পরীক্ষায় অনেক শীর্ষস্থান অধিকারী শিক্ষার্থী বিলাসবহুল জীবন ছাড়াই ছোট গ্রাম থেকে আসে এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ক্রিকেটে জয়ী হওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েদের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্পটি শেয়ার করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে জীবন আরামদায়ক পরিবেশ দ্বারা নয়, বরং মানুষ কীভাবে জীবনযাপন করে তা দ্বারাই গঠিত হয়।

 

তামিলনাড়ুর আরেকজন শিক্ষার্থী বাড়িতে আসা অতিথিদের কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি উত্থাপন করে। প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের তাদের শৈশবের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন, যার ফলে মনোযোগ অন্য দিকে সরে যায় এবং চাপ কমে।

বড় স্বপ্ন, আরও বড় পদক্ষেপ

লাদাখের একজন শিক্ষার্থী জানতে চায় যে শিশুদের বড় স্বপ্ন দেখা উচিত কিনা এবং কীভাবে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কাজ শুরু করা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে স্বপ্ন না দেখা একটি অপরাধ, তবে স্বপ্নের পেছনে অবশ্যই কর্ম থাকতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে মহাকাশচারী হওয়ার মতো আকাঙ্ক্ষার জন্য পড়াশোনা, জীবনী পড়া এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ প্রয়োজন, তবে উপহাস এড়াতে স্বপ্নকে সর্বজনীন না করার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের তাদের স্বপ্ন লিখে রাখতে এবং ব্যক্তিগতভাবে সেগুলোকে লালন করতে উৎসাহিত করেন।

বড় স্বপ্ন পূরণের জন্য দৈনন্দিন অভ্যাস সম্পর্কিত আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে শ্রী মোদি মহান ব্যক্তিত্বদের জীবনী পড়ার পরামর্শ দেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, তাঁদের সংগ্রাম এবং প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো শিক্ষার্থীদের নিজেদের সঙ্গে মেলাতে এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে সাহায্য করে, যা তাঁদের ধাপে ধাপে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তা দেখায়।

 

এরপর একজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীকে উৎসর্গ করে একটি কবিতা আবৃত্তি করে, যেখানে তাঁকে ভারতের গর্ব, মানবতার সেবক এবং জাতির স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কবিতাটির উষ্ণ প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীকে সাধুবাদ জানান।

যখন প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক হলেন

প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেন যে, তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখেন, যা স্বাধীনতার শতবর্ষের সঙ্গে মিলে যাবে, এবং জোর দিয়ে বলেন যে, সেই সময়ে ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী যুবকরাই এই স্বপ্নের সুফল ভোগ করার জন্য তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মহাত্মা গান্ধী ১৯১৫ সালে আফ্রিকা থেকে ফিরে এসে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ভগত সিং-এর মতো নেতাদের আত্মত্যাগ, একের পর এক প্রজন্মকে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সেই সময়ে যদি অমন বড়মাপের উদ্যোগ নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব হয়, তবে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে উন্নত ভারতের সংকল্পের বাস্তবায়নও অবশ্যই ঘটানো যাবে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উন্নত ভারতের প্রতি তাঁদের ব্যক্তিগত অঙ্গীকারগুলো লিখে রাখতে বলেন এবং তাঁদের পাঁচটি পদক্ষেপ চিহ্নিত করতে বলেন, যেখানে দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং দেশীয় পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কিত তাঁদের প্রতিক্রিয়াগুলো উল্লেখ করতে বলা হয়। তিনি বলেন যে, স্বদেশী গ্রহণ শুরু হয় মনকে প্রস্তুত করা এবং ঔপনিবেশিক মানসিকতা ত্যাগ করার মাধ্যমে। কীভাবে এমনকি স্কুলেও বিদেশি পণ্যের প্রতি মোহ রয়েছে, তা তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের তাদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য সমস্ত জিনিসের একটি তালিকা তৈরি করতে, বিদেশি পণ্যগুলো চিহ্নিত করতে এবং ধীরে ধীরে সেগুলোকে ভারতীয় বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে নির্দেশ দেন, যাতে এক বছরের মধ্যে তাঁদের বাড়িঘর ভারতীয় পণ্যে ভরে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যদি ভারতীয়রা নিজেরাই নিজেদের পণ্যের প্রতি গর্ব অনুভব না করে, তবে বিশ্বও করবে না। তিনি দেরির জন্য "ভারতীয় সময়কে" দায়ী করার প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন যে, এই ধরনের মনোভাব জাতিকে হেয় করে এবং পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উন্নত দেশগুলো পরিচ্ছন্ন দেখায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নয়, বরং নাগরিকদের আবর্জনা না ফেলার কারণে, এবং তিনি আহ্বান জানান যে, ভারতীয়দের অবশ্যই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কখনও আপস না করার সংকল্প করতে হবে, এমনকি যারা আবর্জনা ফেলে তাদের লজ্জা দেওয়ার জন্য নিজেদের হাতেও আবর্জনা তুলতে হবে। তিনি বলেন যে, স্বাস্থ্য বজায় রাখাও একটি কর্তব্য, এবং যদি নাগরিকরা এই ধরনের দায়িত্ব পালন করে, তবে কোনো শক্তি ভারতকে উন্নত হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না, এবং যুবকরা যখন পরিপক্ক হবে তখন তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করবে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের জন্য ফলপ্রসূ হয় এমন কাজ করা উচিত কিনা, ছাত্রছাত্রীরা তাতে সম্মতি জানায়। এরপর তিনি বর্তমান প্রজন্মের জন্য, বিশেষ করে প্রযুক্তিক্ষেত্রের বিশাল সুযোগগুলোর কথা তুলে ধরেন এবং মন্তব্য করেন যে, যদিও তাঁর সময়ে এমন সুযোগ ছিল না, আজকের তরুণদের অবশ্যই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সযত্নে ব্যবহার করতে হবে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, কেবল জীবনী সারসংক্ষেপ করার জন্য এআই ব্যবহার করলে খুব বেশি মূল্য যোগ হয় না, কিন্তু বয়স ও আগ্রহের ভিত্তিতে জীবনী সুপারিশ করার জন্য এআই-কে অনুরোধ করে সেই বইগুলো পড়লে প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এআই কেবল বিনোদনের মাধ্যম না হয়ে শক্তি ও জ্ঞান বৃদ্ধির একটি হাতিয়ার হওয়া উচিত। ছাত্রছাত্রীরা এআই ব্যবহারের বিষয়ে তাঁর নির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং এটিকে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টার জন্য প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করে।

 

প্রধানমন্ত্রী একজন ছাত্রের কর্ণাটকী শাস্ত্রীয় শৈলীতে বাঁশির পরিবেশনা শোনেন এবং তার প্রশংসা করেন। তিনি একজন ছাত্রের দেওয়া হাতে তৈরি ফুলের তোড়ার প্রশংসা করেন এবং বসন্ত পঞ্চমী উপলক্ষে উত্তরাখণ্ডের ঐতিহ্যবাহী তাৎপর্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি ত্রিপুরার ঐতিহ্যের উল্লেখ স্বীকার করেন এবং ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া জৈব চা ও অসমীয়া গামছার প্রশংসা করেন, সেইসঙ্গে তাদের কবিতা লেখা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। তিনি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

‘পরীক্ষা পে চর্চা’-র আসন্ন পর্বের কিছু ঝলক শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, অনেক ছাত্রছাত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছিল, যা এই বিশেষ পর্বে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পরিবারের মধ্যে ভাইবোনদের ভালো গুণাবলী থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং মহৎ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা ভুল নয়, তবে তা যেন কোনো তুলনার সঙ্গে যুক্ত না হয়। তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং খেলাধুলাকেও জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের তাদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা খোলাখুলিভাবে ভাগ করে নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

পরবর্তী পর্বটি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় প্রচারিত হবে।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress

Media Coverage

Govt directs faster processing of city gas projects, hikes commercial LPG allocation to ease supply stress
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
This is the New India that leaves no stone unturned for development: PM Modi
March 23, 2026
Today, India is moving forward with a new confidence; Now India faces challenges head-on: PM
From the Gulf to the Global West and from the Global South to neighbouring countries, India is a trusted partner for all: PM
What gets measured gets improved and ultimately gets transformed: PM
This is the new India, It is leaving no stone unturned for development: PM

नमस्कार!

पिछले कुछ समय में मुझे एक-दो बार टीवी9 भारतवर्ष देखने का मौका मिला है। नॉर्मली भी युद्धों और मिसाइलों पर आपका बहुत फोकस होता है और आजकल तो आपको कंटेंट की ओवरफीडिंग हो रही है। बड़े-बड़े देश टीवी9 को इतना सारा कंटेंट देने पर तुले हुए हैं, लेकिन On a Serious Note, आज विश्व जिन गंभीर परिस्थितियों से गुजर रहा है, वो अभूतपूर्व है और बेहद गंभीर है। और इन स्थितियों के बीच, आज टीवी-9 नेटवर्क ने विचारों का एक बेहद महत्वपूर्ण मंच बनाया है। आज इस समिट में आप सभी India and the world, इस विषय पर चर्चा कर रहे हैं। मैं आप सबको बधाई देता हूं। इस समिट के लिए अपनी शुभकामनाएं देता हूं। सभी अतिथियों का अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

आज जब दुनिया, conflicts के कारण उलझी हुई है, जब इन conflicts के दुष्प्रभाव पूरी दुनिया पर दिख रहे हैं, तब India and the world की बात करना बहुत ही प्रासंगिक है। भारत आज वो देश है, जिसकी अर्थव्यवस्था तेजी से आगे बढ़ रही है। 2014 के पहले की स्थितियों को पीछे छोड़कर के आज भारत एक नए आत्मविश्वास के साथ आगे बढ़ रहा है। अब भारत चुनौतियों को टालता नहीं है बल्कि चुनौतियों से टकराता है। आप बीते 5-6 साल में देखिए, कोरोना की महामारी के बाद चुनौतियां एक के बाद एक बढ़ती ही गई हैं। ऐसा कोई साल नहीं है, जिसने भारत की, भारतीयों की परीक्षा न ली हो। लेकिन 140 करोड़ देशवासियों के एकजुट प्रयास से भारत हर आपदा का सामना करते हुए आगे बढ़ रहा है। इस समय युद्ध की परिस्थितियों में भी भारत की नीति और रणनीति देखकर, भारत का सामर्थ्य देखकर दुनिया के अनेकों देश हैरान हैं। हमारे यहां कहावत है, सांच को आंच नहीं। 28 फरवरी से दुनिया में जो उथल-पुथल मची है, इन कठोर विपरीत परिस्थितियों में भी भारत प्रगति के, विकास के, विश्वास के संकल्प के साथ आगे बढ़ रहा है। इन 23 दिनों में भारत ने अपनी Relationship Building Capacity दिखाई है, Decision Making Capacity दिखाई है और Crisis Management Capacity दिखाई है।

साथियों,

आज जब दुनिया इतने सारे खेमों में बंटी हुई है, भारत ने अभूतपूर्व और अकल्पनीय bridges बनाए हैं। Gulf से लेकर Global West तक, Global South से लेकर पड़ोसी देशों तक भारत सभी का trusted partner है। कुछ लोग पूछते हैं, हम किसके साथ हैं? तो उनको मेरा जवाब यही है कि हम भारत के साथ हैं, हम भारत के हितों के साथ हैं, शांति के साथ हैं, संवाद के साथ हैं।

साथियों,

संकट के इसी समय में जब global supply chains डगमगा रही हैं, भारत ने diversification और resilience का मॉडल पेश किया है। Energy हो, fertilizers हों या essential goods अपने नागरिकों को कम से कम परेशानी हो, इसके लिए भारत ने निरंतर प्रयास किया है और आज भी कर रहे है।

साथियों,

जब राष्ट्रनीति ही राजनीति का मुख्य आधार हो, तब देश का भविष्य सर्वोपरि होता है। लेकिन जब राजनीति में व्यक्तिगत स्वार्थ हावी हो जाता है, तब लोग देश के फ्यूचर के बजाय अपने फ्यूचर के बारे में सोचते हैं। आप ज़रा याद कीजिए 2004 से 2010 के बीच क्या हुआ था? तब कांग्रेस सरकार के समय पेट्रोल-डीजल और गैस की कीमतों का संकट आया था और तब कांग्रेस ने देश की नहीं बल्कि अपनी सत्ता की चिंता की। उस वक्त कांग्रेस ने एक लाख अड़तालीस हज़ार करोड़ रुपए के ऑयल बॉन्ड जारी किए थे और प्रधानमंत्री मनमोहन सिंह जी ने खुद कहा था कि वो आने वाली पीढ़ी पर कर्ज का बोझ डाल रहे हैं। यह जानते हुए भी कि ऑयल बॉन्ड का फैसला गलत है, जो रिमोट कंट्रोल से सरकार चला रहे थे, उन लोगों ने अपनी सत्ता बचाने के लिए यह गलत निर्णय किया क्योंकि जवाबदेही उस समय नहीं होनी थी, उस बॉन्ड पर री-पेमेंट 2020 के बाद होनी थी।

साथियों,

बीते 5-6 वर्षों में हमारी सरकार ने कांग्रेस सरकार के उस पाप को धोने का काम किया है, और इस धुलाई का खर्चा कम नहीं आया है, ऐसी लाँड्री आपने देखी नहीं होगी। 1 लाख 48 हज़ार करोड़ रुपए की जगह, देश को 3 लाख करोड़ रुपए से अधिक की पेमेंट करनी पड़ी क्योंकि इसमें ब्याज भी जुड़ गया था। यानी हमने करीब-करीब दोगुनी राशि चुकाने के लिए मजबूर हुए। आजकल कांग्रेस के जो नेता बयानों की मिसाइलें दाग रहे हैं, मिसाइल आई तो टीवी9 को मजा आएगा, उनकी इस विषय का जिक्र आते ही बोलती बंद हो जाती है।

साथियों,

पश्चिम एशिया में बनी परिस्थितियों पर मैंने आज लोकसभा में अपना वक्तव्य दिया है। दुनिया में जहां भी युद्ध हो रहे हैं, वो भारत की सीमा से दूर हैं। लेकिन आज की व्यवस्थाओं में कोई भी देश युद्धों से दुष्प्रभाव से दूर रहे, ऐसा संभव नहीं होता। अनेक देशों में तो स्थिति बहुत गंभीर हो चुकी है। और इन हालातों में हम देख रहे हैं कि राजनीतिक स्वार्थ से भरे कुछ लोग, कुछ दल, संकट के इस समय में भी अपने लिए राजनीतिक अवसर खोज रहे हैं। इसलिए मैं टीवी9 के मंच से फिर कहूंगा, यह समय संयम का है, संवेदनशीलता का है। हमने कोरोना महासंकट के दौरान भी देखा है, जब देशवासी एकजुट होकर संकट का सामना करते हैं, तो कितने सार्थक परिणाम आते हैं। इसी भाव के साथ हमें इस युद्ध से बनी परिस्थितियों का सामना करना है।

साथियों,

दुनिया की हर उथल-पुथल के बीच, भारत ने अपनी प्रगति की गति को भी बनाए रखा है। अगर मैं 28 फरवरी को युद्ध शुरू होने के बाद, बीते 23 दिनों का ही ब्यौरा दूं, तो पूरब से पश्चिम तक, उत्तर से दक्षिण तक देश में हजारों करोड़ के डेवलपमेंट प्रोजेक्ट्स का काम हुआ है। दिल्ली मेट्रो रेल के महत्वपूर्ण कॉरिडोर्स का लोकार्पण, सिलचर का हाई स्पीड कॉरिडोर का शिलान्यास, कोटा में नए एयरपोर्ट का शिलान्यास, मदुरै एयरपोर्ट को इंटरनेशनल एयरपोर्ट का दर्जा देना, ऐसे अनेक काम बीते 23 दिनों में ही हुए हैं। बीते एक महीने के दौरान ही औद्योगिक विकास को गति देने के लिए भव्य स्कीम को मंजूरी दी गई है। इसके तहत देशभर में 100 plug-and-play industrial parks विकसित किए जाएंगे। देश में Small Hydro Power Development Scheme को भी हरी झंडी दी गई है। इससे आने वाले वर्षों में 1,500 मेगावाट नई hydro power capacity जोड़ी जाएगी। इसी दौरान जल जीवन मिशन को साल 2028 तक बढ़ाने का निर्णय लिया गया है। किसानों के हित में भी अनेक बड़े निर्णय लिए गए हैं। बीते एक महीने में ही पीएम किसान सम्मान निधि के तहत 18 हजार करोड़ रुपए से अधिक सीधे किसानों के खातों में ट्रांसफर किए गए हैं। और जो हमारे MSMEs हैं, जो हमारे निर्यातक हैं, उनके लिए भी करीब 500 करोड़ रुपए के राहत पैकेज की भी घोषणा की गई है। यह सारे कदम इस बात का प्रमाण हैं कि विकसित भारत बनाने के लिए देश कितनी तेज गति से काम कर रहा है।

साथियों,

Management की दुनिया में एक सिद्धांत कहा जाता है - What gets measured, gets managed. लेकिन मैं इसमें एक बात और जोड़ना चाहता हूं, What gets measured, gets improved और ultimately, gets transformed. क्योंकि आकलन जागरूकता पैदा करता है। आकलन जवाबदेही तय करता है और सबसे महत्वपूर्ण आकलन संभावनाओं को जन्म देता है।

साथियों,

अगर आप 2014 से पहले के 10-11 साल और 2014 के बाद के 10-11 साल का आप आकलन करेंगे, तो यही पाएंगे कि कैसे इसी सिद्धांत पर चलते हुए, भारत ने हर सेक्टर को Transform किया है। जैसे पहले हाईवे बनते थे, करीब 11-12 किलोमीटर प्रति दिन की रफ्तार से, आज भारत करीब 30 किलोमीटर प्रतिदिन की स्पीड से हाईवे बना रहा है। पहले पोर्ट्स पर शिप का Turnaround Time, 5-6 दिन का होता था। आज वही काम, करीब-करीब 2 दिन से भी कम समय में पूरा हो रहा है। पहले Startup Culture के बारे में चर्चा ही नहीं होती थी। 2014 से पहले, हमारे देश में 400-500 स्टार्ट अप्स ही थे। आज भारत में 2 लाख से ज्यादा रजिस्ट्रर्ड स्टार्ट अप्स हैं। पहले मेडिकल education में सीटें भी सीमित थीं, करीब 50-55 हजार MBBS seats थीं, आज यह बढ़कर सवा लाख से ज्यादा हो चुकी हैं। पहले देश के Banking system से भी करोड़ों लोग बाहर थे। देश में सिर्फ 25 करोड़ के आसपास ही बैंक account थे। वहीं जनधन योजना के माध्यम से 55 करोड़ से ज्यादा बैंक अकाउंट खुले हैं। पहले हमारे देश में airports की संख्या भी 70 से कम थी। आज एयरपोर्ट्स की संख्या भी बढ़कर 160 से ज्यादा हो चुकी है।

साथियों,

पहले भी योजनाएं तो बनती थीं, लेकिन आज फर्क है, आज परिणाम दिखते हैं। पहले गति धीमी थी, आज भारत fastrack पर है। पहले संभावनाएं भी अंधकार में थीं, आज संकल्प सिद्धियों में बदल रहे हैं। इसलिए दुनिया को भी यह संदेश मिल रहा है कि यह नया भारत है। यह अपने विकास के लिए कोई कोर-कसर बाकी नहीं छोड़ रहा है।

साथियों,

आज हमारा प्रयास है कि अतीत में विकास का जो असंतुलन पैदा हो गया था, उसको अवसरों में बदला जाए। अब जैसे हमारा पूर्वी भारत है। हमारा पूर्वी भारत संसाधनों से समृद्ध है, दशकों तक वहां जिन्होंने सरकारें चलाई हैं, उनकी उपेक्षा ने पूर्वी भारत के विकास पर ब्रेक लगा दी थी। अब हालात बदल रहे हैं। जिस असम में कभी गोलियों की आवाज सुनाई देती थी, आज वहां सेमीकंडक्टर यूनिट बन रही है। ओडिशा में सेमीकंडक्टर से लेकर पेट्रोकेमिकल्स तक अनेक नए-नए सेक्टर का विकास हो रहा है। जिस बिहार में 6-7 दशक में गंगा जी पर एक बड़ा पुल बन पाया था एक, उस बिहार में पिछले एक दशक में 5 से ज्यादा नए पुल बनाए गए हैं। यूपी में कभी कट्टा मैन्युफैक्चरिंग की कहानियां कही जाती थीं, आज यूपी, मोबाइल फोन मैन्युफैक्चरिंग में दुनिया में अपनी पहचान बना रहा है।

साथियों,

पूर्वी भारत का एक और बड़ा राज्य पश्चिम बंगाल है। पश्चिम बंगाल, एक समय में भारत के कल्चर, एजुकेशन, इंडस्ट्री और ट्रेड का हब होता था। बीते 11 वर्षों में केंद्र सरकार ने पश्चिम बंगाल के विकास के लिए बड़ी मात्रा में निवेश किया है। लेकिन दुर्भाग्य से, आज वहां एक ऐसी निर्मम सरकार है, जो विकास पर ब्रेक लगाकर बैठी है। TV9 बांग्ला के जो दर्शक हैं, वो जानते हैं कि बंगाल में आयुष्मान योजना पर निर्मम सरकार ने ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम सूर्यघर मुफ्त बिजली योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। पीएम आवास योजना पर ब्रेक लगाया हुआ है। चाय बागान श्रमिकों के लिए शुरू हुई योजना के लिए ब्रेक लगाया हुआ है। यानी विकास और जनकल्याण से ज्यादा प्राथमिकता निर्मम सरकार अपने राजनीतिक स्वार्थ को दे रही है।

साथियों,

देश में इस तरह की राजनीति की शुरुआत जिस दल ने की है, वो अपने गुनाहों से बच नहीं सकती और वो पार्टी है - कांग्रेस। कांग्रेस पार्टी की राजनीति का एक ही लक्ष्य रहा है, किसी भी तरह विकास का विरोध और कांग्रेस यह तब से कर रही है, जब मैं गुजरात में था। गुजरात में वर्षों तक जनता ने हमें आशीर्वाद दिया, तो कांग्रेस ने उस जनादेश को स्वीकार नहीं किया। उन्होंने गुजरात की छवि पर सवाल उठाए, उसकी प्रगति को कटघरे में खड़ा किया और जब यही विश्वास पूरे देश में दिखाई दिया, तो कांग्रेस का विरोध भी रीजनल से नेशनल हो गया।

साथियों,

जब राजनीति में विरोध, विकास के विरोध में बदल जाए, जब आलोचना देश की उपलब्धियों पर सवाल उठाने लगे, तब यह सिर्फ सरकार का विरोध नहीं रह जाता, यह देश की प्रगति से असहज होने की मानसिकता बन जाती है। आज कांग्रेस इसी मानसिकता की गुलाम बन चुकी है। आज स्थिति यह है कि देश की हर सफलता पर प्रश्न उठाया जाता है, हर उपलब्धि में कमी खोजी जाती है और हर प्रयास के असफल होने की कामना की जाती है। कोविड के समय, देश ने अपनी वैक्सीन बनाई, तो कांग्रेस ने उस पर भी संदेह जताया। Make in India की बात हुई, तो कहा गया कि यह सफल नहीं होगा, बब्बर शेर कहकर इसका मजाक उड़ाया गया। जब देश में डिजिटल इंडिया अभियान शुरू हुआ, तो उसका मजाक उड़ाया गया। लेकिन हर बार यह कांग्रेस का दुर्भाग्य और देश का सौभाग्य रहा कि भारत ने हर चुनौती को सफलता में बदला। आज भारत दुनिया की सबसे बड़ी वैक्सीनेशन ड्राइव का उदाहरण है। भारत डिजिटल पेमेंट्स में दुनिया का अग्रणी देश है। भारत मैन्युफैक्चरिंग और स्टार्टअप्स में नई ऊंचाइयों को छू रहा है।

साथियों,

लोकतंत्र में विरोध जरूरी होता है। लेकिन विरोध और विद्वेष के बीच एक रेखा होती है। सरकार का विरोध करना लोकतांत्रिक अधिकार है। लेकिन देश को बदनाम करना, यह कांग्रेस की नीयत पर सवाल खड़ा करता है। जब विरोध इस स्तर तक पहुंच जाए कि देश की उपलब्धियां भी असहज करने लगें, तो यह राजनीति नहीं, यह दृष्टिकोण की समस्या है। अभी हमने ग्लोबल AI समिट में भी देखा है। जब पूरी दुनिया भारत में जुटी हुई थी, तो कांग्रेस के लोग कपड़े फाड़ने वहां पहुंच गए थे। इन लोगों को देश की इज्जत की कितनी परवाह है, यह इसी से पता चलता है। इसलिए आज आवश्यकता है कि देशहित को, दलहित से ऊपर रखा जाए क्योंकि अंत में राजनीति से ऊपर, राष्ट्र होता है, राष्ट्र का विकास होता है।

साथियों,

आज का यह दिन भी हमें यही प्रेरणा देता है। आज के ही दिन शहीद भगत सिंह, शहीद राजगुरु और शहीद सुखदेव ने देश के लिए सर्वोच्च बलिदान दिया था। आज ही, समाजवादी आंदोलन के प्रखर आदर्श डॉ. राम मनोहर लोहिया जी की जयंती भी है। यह वो प्रेरणाएं हैं, जिन्होंने देश को हमेशा स्व से ऊपर रखा है। देशहित को सबसे ऊपर रखने की यही प्रेरणा, भारत को विकसित भारत बनाएगी। यही प्रेरणा भारत को आत्मनिर्भर बनाएगी। मुझे पूरा विश्वास है कि टीवी9 की यह समिट भी भारत के आत्मविश्वास और दुनिया के भरोसे पर, भारतीयों पर जो भरोसा है, उस भरोसे को और सशक्त करेगी। आप सभी को मेरी तरफ से बहुत-बहुत शुभकामनाएं हैं और आपके बीच आने का अवसर दिया, आप सबसे मिलने का मौका लिया, इसलिए बहुत-बहुत धन्यवाद!

नमस्‍कार!