পরীক্ষা পে চর্চা ২০২৬-এর দ্বিতীয় পর্বে কোয়েম্বাটুর, রায়পুর, দেবমগরা এবং গুয়াহাটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর অমায়িক আচরণে পড়ুয়ারা মুগ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা পে চর্চার মাধ্যমে তিনি বেশ কয়েক বছর দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মত বিনিময় করছেন। কোনও শিক্ষার্থী ঠিক কি করতে চায় তা স্থির করে নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তি কিংবা আর্থিক বিষয়ে দল বেঁধে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। স্টার্ট আপ সংস্থা পরিদর্শন এক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
পড়াশোনা এবং ভালো লাগার অন্য ধরনের কাজের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই এবং সামঞ্জস্য বজায় রেখে এগোলে দুটি দিকেই পারদর্শিতা সম্ভব বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।
২০৪৭ নাগাদ ভারতকে উন্নত দেশগুলির তালিকায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। স্থানীয় পণ্যের প্রসার অর্থাৎ ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মন্ত্রের বাস্তবায়নেও শিক্ষার্থীরা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলে তাঁর মন্তব্য। খাদ্যের অপচয় রোধ করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো বিষয়গুলি জাতীয় ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।
উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগ এবং শৃঙ্খলাবোধের পারস্পরিক সম্বন্বয় সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন।

কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সময় পর্বেই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে জনমানসে প্রাথমিকভাবে ভীতির সঞ্চার হয়েছে এবং পরে তা দূরও হয়েছে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি সহযোগী প্রকৌশল হলেও তা কখনও প্রকৃত শিক্ষার বিকল্প হতে পারে না বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

পর্যটনের অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন। পরিবেশ সংরক্ষণে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন পড়ুয়াদের।
আগামী প্রজন্ম নেতৃত্বদানের ক্ষমতায় বলীয়ান হয়ে উঠুক – এমনটাই চান প্রধানমন্ত্রী। এই ক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে নির্ভীক মনোভাব এবং অপরের প্রতি সংবেদনশীলতা প্রাথমিক শর্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরীক্ষার চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে পেপার সলভ করা এবং লেখার অভ্যাস বিশেষ জরুরি বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। হাসিখুশি থাকা এবং রাতে ভালো করে ঘুমোনোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যোগ এবং প্রাণায়ামের উপকারিতাও তিনি তুলে ধরেছেন।
একজন শিক্ষার্থীর মানসিক গঠনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা ফের তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন জনজাতি গোষ্ঠীর অবদানের উল্লেখ করেন তিনি। খেলাধূলোর ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠীভুক্ত ছেলে মেয়েরা দেশকে গর্বিত করছে - বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাসী হতে বলেছেন এবং এক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দের উদাহরণ অনুসরণীয় বলে বার্তা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।


