প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ গুজরাটের রাজকোটে কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের জন্য ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করলেন। অনুষ্ঠানে সমাবেশে ভাষণে শ্রী মোদী বলেন, ২০২৬-এর সূচনা হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম গুজরাট সফর। তিনি সকালেই উল্লেখ করেছিলেন যে, ভগবান সোমনাথের স্বর্গীয় দর্শন লাভ করেছেন তিনি এবং এখন রাজকোটে একটি বড় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন যে, ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’-র মন্ত্র সব জায়গায় অনুরণিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাগত জানান সারা দেশ এবং বিশ্ব থেকে আগত সহকর্মীদের।
ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলনের মঞ্চ যখনই তৈরি হয়, তখনই শ্রী মোদী সেটিকে শুধু একটি শিখর সম্মেলন হিসেবে নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক ভারতের যাত্রা হিসেবে দেখেন বলে জানান। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি স্বপ্ন নিয়ে এবং যা এখন বদলে গেছে অনড় আস্থায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দশকে ভাইব্র্যান্ট গুজরাটের যাত্রা একটি বিশ্বমানের মাপক হয়ে উঠেছে। এপর্যন্ত ১০টি সংস্করণ আয়োজিত হয়েছে। প্রত্যেকটিই শিখর সম্মেলনের পরিচিতি এবং ভূমিকাকে শক্তিশালী করেছে। প্রথম দিন থেকে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলনের দর্শনের সঙ্গে তিনি জড়িত জানিয়ে শ্রী মোদী স্মৃতিপন্থন করে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষ্য ছিল গুজরাটের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্বকে সজাগ করা, মানুষকে আসতে এবং লগ্নি করতে আমন্ত্রণ জানানো এবং এভাবেই ভারত এবং বিশ্বের লগ্নিকারকদের মঙ্গল করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আজ এই শিখর সম্মেলন লগ্নির সীমা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বৃদ্ধি, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের মঞ্চ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন, গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অংশীদারের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে এবং এই শিখর সম্মেলন অন্তর্ভুক্তির একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কর্পোরেট গোষ্ঠী, সমবায়, এমএসএমই, স্টার্টআপ, বহুপাক্ষিক এবং দ্বিপাক্ষিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি এখানে এক হয়েছে বার্তালাপ, আলোচনা এবং গুজরাটের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ দিয়ে চলতে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, গত দু দশকে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শিখর সম্মেলন ধারাবাহিকভাবে নতুনত্ব এবং বিশেষত্ব আমদানি করেছে এবং ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলন হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যের উদাহরণ। তিনি বলেন, এই আঞ্চলিক সম্মেলনের লক্ষ্য গুজরাটের বিভিন্ন অংশের সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তবায়িত করা। শ্রী মোদী বলেন, কিছু অঞ্চলে উপকূল রেখার শক্তি আছে, কারো বা আছে দীর্ঘ জনজাতি অঞ্চল, কারো কারো আছে শিল্পগুচ্ছের বড় পরিমণ্ডল আবার অন্যরা কৃষি এবং পশুপালনে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বহন করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন গুজরাটের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব শক্তি আছে এবং এই আঞ্চলিক সম্মেলন এগিয়ে চলেছে এইসব আঞ্চলিক সম্ভাবনাগুলির উপর নজর দিয়ে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ২৫ বছর ইতিমধ্যেই কেটে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত দ্রুত অগ্রগতি লাভ করেছে। গুজরাট এবং তার সব মানুষ তাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। তিনি জানান যে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে এবং তথ্য স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে ভারতের থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। শ্রী মোদী জানান, ভারত দ্রুত বৃদ্ধিকারী, অর্থনীতিতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, কৃষি উৎপাদনে নতুন নতুন রেকর্ড করছে, দুধ উৎপাদনে ভারত এক নম্বর, জেনেরিক ওষুধ তৈরিতে এক নম্বর এবং সারা বিশ্বে টিকার সবচেয়ে বড় উৎপাদক।
শ্রী মোদী বলেন, “ভারতের উন্নয়নের তথ্য রিফর্ম, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম মন্ত্রের সফল কাহিনী।” তিনি বলেন, গত ১১ বছরে ভারত মোবাইল ডেটার সবচেয়ে বড় উপভোক্তা হয়ে উঠেছে এবং ইউপিআই সারা বিশ্বে এক নম্বর তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেন মঞ্চ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন যে, আগে ১০টির মধ্যে ৯টি মোবাইল ফোন আমদানি করা হতো কিন্তু আজ ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, ভারতে এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ পরিমণ্ডল আছে। সৌরশক্তি উৎপাদনে প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। বিমান চলাচলের বাজারে তৃতীয় বৃহত্তম হয়ে উঠেছে এবং সারা বিশ্বে মেট্রো নেটওয়ার্কের নিরিখে প্রথম তিনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

আজ প্রত্যেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ভারতকে নিয়ে ভাবছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ ভারতকে বলেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ইঞ্জিন। এসঅ্যান্ডপি ১৮ বছর পরে ভারতকে উন্নীত করেছে এবং ফিচ রেটিং ভারতের অর্থনৈতিক সুস্থিরতা এবং আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশংসা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারতের উপর সারা বিশ্বের এই আস্থা হয়েছে কারণ, বিশ্বুজড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত অভূতপূর্ব নিশ্চয়তাযুগের সাক্ষী থাকছে। তিনি বলেন, ভারতে আছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী যা ভারতকে করে তুলেছে অসীম সম্ভাবনার দেশ। লালকেল্লায় যা বলেছিলেন, অর্থাৎ ‘এটাই সময়, এটাই সঠিক সময়’ সেটির পুনরুল্লেখ করে শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন যে দেশ এখন বিশ্বের প্রত্যেক লগ্নিকারকের জন্য এটাই নিশ্চিতভাবে সঠিক সময় ভারতের সম্ভাবনার সুযোগগুলি নেওয়ার। তিনি আরও বলেন, ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলন সফল লগ্নিকারককে একই বার্তা দিচ্ছে – যে সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছে লগ্নি করার এটাই সময়, সঠিক সময়।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, সৌরাষ্ট্র কচ্ছ গুজরাটের এমন অঞ্চল যা আমাদের শেখায় যতই বড় সমস্যা হোক যদি কেই সততার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, সাফল্য নিশ্চিত। তিনি বলেন, এটাই সেই একই কচ্ছ, যা এই শতাব্দীর শুরুতে ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছিল। আর এই সৌরাষ্ট্রই বহু বছর খরায় ভুগেছে, মা ও বোনেদের কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো পানীয় জলের জন্য, বিদ্যুৎ ছিল অনিশ্চিত, সব দিকেই অসুবিধা। তিনি বলেন যে, আজকের ২০-২৫ বছরের তরুণ তরুণীরা শুধু সেই সময়ের গল্প শুনেছে, যখন মানুষ বেশি দিন কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রে বেশি দিন থাকতে চাইতো না। মনে হতো এই পরিস্থিতির কোনোদিনই বদল হবে না। তিনি বলেন যে, ইতিহাস সাক্ষী, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এরও পরিবর্তন হয়েছে। সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছের মানুষ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের নিয়তির বদল ঘটিয়েছে।
আজ সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ শুধুমাত্র সুযোগের অঞ্চল নয়, বরং ভারতের উন্নয়নের একটি বড় অঞ্চল। সেকথা জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, এই অঞ্চলগুলি আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের বড় কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক উৎপাদন হাবে ভারতকে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যেটি বাজার চালিত এবং সেই জন্যই লগ্নিকারকদের বিশ্বাস বাড়ায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজকোটেই ২.৫ লক্ষের বেশি এমএসএমই আছে। সবধরনের যন্ত্রপাতি তারা তৈরি করে। এই অঞ্চল সস্তাদরের জিনিস থেকে উন্নত প্রযু্ক্তির জিনিসের সমগ্র মূল্যশৃঙ্খলকে সহায়তা করে। এখানকার গয়না শিল্প বিশ্ববিখ্যাত। যা দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের নজির।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলাং-এ বিশ্বের বৃহত্তম জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড আছে। যেখানে বিশ্বের জাহাজের একতৃতীয়াংশ ভেঙে পুনঃচক্রায়িত করা হয়। চক্রাকার অর্থনীতিতে ভারতের নেতৃত্বের এ এক নিদর্শন। তিনি বলেন যে ভারত টালি উৎপাদনে অন্যতম বৃহত্তম। এতে সবচেয়ে বেশি অবদান আছে মোরবি জেলার। যেখানে কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের টালি তৈরি করা হয়। শ্রী মোদী বলেন, তিনি একবার বলেছিলেন, মোরবি, জামনগর এবং রাজকোট একসঙ্গে একটি ত্রিভুজ হয়ে মিনি জাপান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, সেই সময়ে তাঁর কথা নিয়েও অনেকেই ঠাট্টা করেছিল। কিন্তু আজ নিজের চোখে দেখা যাচ্ছে সেই স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
ঢোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন আধুনিক উৎপাদন শিল্পে একটি বড় কেন্দ্র হয়ে উঠে আসছে জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ভারতের প্রথম সেমিকনডাকটর ফেব্রিকেশন কারখানা গড়ে উঠেছে ঢোলেরায়। যার ফলে এই অঞ্চলটি আগাম কিছু উন্নত প্রযুক্তিগত সুবিধা পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে লগ্নি করার জমি প্রস্তুত।
শ্রী মোদী বলেন, সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ ভারতের গ্রিন গ্রোথ, গ্রিন মবিলিটি এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তায় বড় হাব হয়ে উঠছে। কচ্ছে তৈরি হচ্ছে ৩০ গিগাওয়াটের পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ পার্ক, যা হবে বিশ্বের বৃহত্তম। প্যারিস শহরের থেকে ৫ গুণ বড়। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে স্বচ্ছ শক্তি শুধু একটি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কচ্ছ এবং জামনগর বড় কেন্দ্র হয়ে উঠছে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনে। একটি বড় ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ ব্যবস্থাও গড়ে উঠছে কচ্ছতে।

সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছের আরেকটি বড় শক্তি তাদের বিশ্বমানের বন্দরের, যার মাধ্যমে ভারতের রপ্তানির সিংহভাগ হয়। গাড়ি রপ্তানিতে পিপাভাও এবং মুন্দ্রা বন্দর বড় হাব হয়ে উঠেছে। গুজরাটের বন্দরগুলি থেকে গত বছর প্রায় ১.৭৫ লক্ষ গাড়ি রপ্তানি হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দরের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অসীম লগ্নির সুযোগ আছে। গুজরাট সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে মৎস্য ক্ষেত্রে, বড় মাত্রায় পরিকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে এবং রয়েছে সমুদ্রজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ লগ্নিকারকদের জন্য জোরালো পরিমণ্ডল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকাঠামোর পাশাপাশি আজকের প্রয়োজন শিল্পের উপযোগী কর্মীবল। এক্ষেত্রে গুজরাট সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ততা দিচ্ছে। শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল রয়েছে গুজরাটে। কৌশল্যা স্কিল ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে মিলে তরুণদের তৈরি করছে এবং দক্ষ করে তুলছে। তিনি বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি ভারতের প্রথম জাতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি গতিশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করছে দক্ষ মানুষ, সড়ক, রেল পথ, বিমান পথ, জল পথ এবং লজিস্টিক্সের জন্য। শ্রী মোদী বলেন, গুজরাটে আছে অসংখ্য প্রতিভা। অনেক বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। গুজরাট হয়ে উঠেছে তাদের পছন্দের গন্তব্য। রাজ্যে ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাস তৈরি করেছে দুটি বড় অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়। ভবিষ্যতে আরও হওয়ার আশা আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুজরাটে আছে প্রকৃতি, রোমাঞ্চকর অভিযান, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। যা তাকে করে তুলেছে সম্পূর্ণ পর্যটন অভিজ্ঞতার জায়গা। লোথাল ভারতের ৪ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক, যেখানে আছে বিশ্বের সবথেকে বেশি পুরনো মানুষের তৈরি ডকইয়ার্ড। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স। তিনি বলেন, রান উৎসব বর্তমানে উদযাপিত হচ্ছে কচ্ছে, যেখানে আছে তাঁবুর শহর যা দিচ্ছে একটি অভিনব অভিজ্ঞতা। বন্য প্রাণী সম্পর্কে উৎসাহীরা গির অরণ্যে যেতে পারেন এশিয়াটিক লায়ন দেখার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে। প্রতি বছর সেখানে যায় ৯ লক্ষের বেশি পর্যটক। যারা সমুদ্র ভালোবাসে তারা যেতে পারে শিবরাজপুর বিচে, যেটি ব্লু ফ্ল্যাগ শংসয়িত। এর পাশাপাশি আছে মাণ্ডবী, সোমনাথ এবং দ্বারকা। বিচ পর্যটনের পক্ষে প্রভূত সম্ভাবনা আছে যেখানে। কাছাকাছি দিউ জায়গাটি জলক্রীড়া এবং সাগরবেলার খেলাধুলোর একটি বড় গন্তব্য হয়ে উঠছে।

সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ শক্তি এবং সম্ভাবনাপূর্ণ। শ্রী মোদী লগ্নিকারকদের তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছে প্রত্যেকটি বিনিয়োগ গুজরাটের উন্নয়নকে এগিয়ে দেবে, দেশের অগ্রগতি ঘটাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারত উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছে। এই যাত্রায় বড় ভূমিকা নিয়েছে ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, রিফর্ম এক্সপ্রেসের অর্থ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার। এই সূত্রে তিনি উল্লেখ করেন, জিএসটি সংস্কার যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সব ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে এমএসএমই-ই ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, বীমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ এফডিআই-এর অনুমতি দিয়ে একটি সংস্কার ঘটানো হয়েছে, যা নাগরিকদের সকলকে বীমার আওতায় আনার অভিযানকে গতি দেবে। তিনি বলেন, প্রায় ৬ দশক পর আয়কর আইন আধুনিকীকরণ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ করদাতা উপকৃত হচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত ঐতিহাসিক শ্রম সংস্কার রূপায়ণ করেছে। মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিল্পকে একটি ছাতার তলায় এনে শ্রমিক এবং শিল্পের দু পক্ষেরই উপকার হচ্ছে।
ডেটা ড্রিভন ইনোভেশন, এআই গবেষণা এবং সেমি কনডাকটর উৎপাদনে ভারত হয়ে উঠছে গ্লোবাল হাব। শ্রী মোদী বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার জন্য নিশ্চিত বিদ্যুৎ জরুরি এবং এটা পেতে পরমাণু বিদ্যুৎ একটা বড় মাধ্যম। তিনি বলেন, পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার ঘটানো হয়েছে। অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে খুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য আইনের মাধ্যমে।
তিনি সকল বিনিয়োগকারীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারতের রিফর্ম এক্সপ্রেস থামবে না এবং দেশের সংস্কারের পথে যাত্রা এগিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের দিকে। কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রে লগ্নি করা প্রত্যেকটি টাকা ভালো ফল দেবে জানিয়ে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জানান।

রাজকোটের বিশিষ্ট শিল্পপতি জ্যোতি সিএনসি অটোমেশনের সিএমডি শ্রী পরাক্রম সিংজি জাদেজা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন অনুষ্ঠানে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর অসাধারণ ভাবনা এবং নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন গুজরাটকে ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিনে রূপান্তর করার জন্য।
আদানি পোর্টসের এমডি শ্রী করণ আদানি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রূপান্তরকারী নেতৃত্বের উল্লেখ করেন, যা ভারতের মাত্রা এবং মানসিকতাকে নতুনভাবে তৈরি করেছে। তিনি বলেন, শ্রী মোদী দেশকে শিখিয়েছেন দীর্ঘ মেয়াদে ভাবতে।

রাজকোটের বিশিষ্ট শিল্পপতি জ্যোতি সিএনসি অটোমেশনের সিএমডি শ্রী পরাক্রম সিংজি জাদেজা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন অনুষ্ঠানে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর অসাধারণ ভাবনা এবং নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন গুজরাটকে ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিনে রূপান্তর করার জন্য।
আদানি পোর্টসের এমডি শ্রী করণ আদানি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রূপান্তরকারী নেতৃত্বের উল্লেখ করেন, যা ভারতের মাত্রা এবং মানসিকতাকে নতুনভাবে তৈরি করেছে। তিনি বলেন, শ্রী মোদী দেশকে শিখিয়েছেন দীর্ঘ মেয়াদে ভাবতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুজরাটে আছে প্রকৃতি, রোমাঞ্চকর অভিযান, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। যা তাকে করে তুলেছে সম্পূর্ণ পর্যটন অভিজ্ঞতার জায়গা। লোথাল ভারতের ৪ হাজার ৫০০ বছরের পুরনো সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতীক, যেখানে আছে বিশ্বের সবথেকে বেশি পুরনো মানুষের তৈরি ডকইয়ার্ড। সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স। তিনি বলেন, রান উৎসব বর্তমানে উদযাপিত হচ্ছে কচ্ছে, যেখানে আছে তাঁবুর শহর যা দিচ্ছে একটি অভিনব অভিজ্ঞতা। বন্য প্রাণী সম্পর্কে উৎসাহীরা গির অরণ্যে যেতে পারেন এশিয়াটিক লায়ন দেখার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে। প্রতি বছর সেখানে যায় ৯ লক্ষের বেশি পর্যটক। যারা সমুদ্র ভালোবাসে তারা যেতে পারে শিবরাজপুর বিচে, যেটি ব্লু ফ্ল্যাগ শংসয়িত। এর পাশাপাশি আছে মাণ্ডবী, সোমনাথ এবং দ্বারকা। বিচ পর্যটনের পক্ষে প্রভূত সম্ভাবনা আছে যেখানে। কাছাকাছি দিউ জায়গাটি জলক্রীড়া এবং সাগরবেলার খেলাধুলোর একটি বড় গন্তব্য হয়ে উঠছে।
সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ শক্তি এবং সম্ভাবনাপূর্ণ। শ্রী মোদী লগ্নিকারকদের তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছে প্রত্যেকটি বিনিয়োগ গুজরাটের উন্নয়নকে এগিয়ে দেবে, দেশের অগ্রগতি ঘটাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারত উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছে। এই যাত্রায় বড় ভূমিকা নিয়েছে ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, রিফর্ম এক্সপ্রেসের অর্থ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার। এই সূত্রে তিনি উল্লেখ করেন, জিএসটি সংস্কার যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সব ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে এমএসএমই-ই ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, বীমা ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ এফডিআই-এর অনুমতি দিয়ে একটি সংস্কার ঘটানো হয়েছে, যা নাগরিকদের সকলকে বীমার আওতায় আনার অভিযানকে গতি দেবে। তিনি বলেন, প্রায় ৬ দশক পর আয়কর আইন আধুনিকীকরণ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ করদাতা উপকৃত হচ্ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত ঐতিহাসিক শ্রম সংস্কার রূপায়ণ করেছে। মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শিল্পকে একটি ছাতার তলায় এনে শ্রমিক এবং শিল্পের দু পক্ষেরই উপকার হচ্ছে।

ডেটা ড্রিভন ইনোভেশন, এআই গবেষণা এবং সেমি কনডাকটর উৎপাদনে ভারত হয়ে উঠছে গ্লোবাল হাব। শ্রী মোদী বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার জন্য নিশ্চিত বিদ্যুৎ জরুরি এবং এটা পেতে পরমাণু বিদ্যুৎ একটা বড় মাধ্যম। তিনি বলেন, পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার ঘটানো হয়েছে। অসামরিক পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রকে খুলে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য আইনের মাধ্যমে।
তিনি সকল বিনিয়োগকারীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ভারতের রিফর্ম এক্সপ্রেস থামবে না এবং দেশের সংস্কারের পথে যাত্রা এগিয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের দিকে। কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রে লগ্নি করা প্রত্যেকটি টাকা ভালো ফল দেবে জানিয়ে তিনি সকলকে শুভেচ্ছা এবং ধন্যবাদ জানান।
রাজকোটের বিশিষ্ট শিল্পপতি জ্যোতি সিএনসি অটোমেশনের সিএমডি শ্রী পরাক্রম সিংজি জাদেজা তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলেন অনুষ্ঠানে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর অসাধারণ ভাবনা এবং নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন গুজরাটকে ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিনে রূপান্তর করার জন্য।
আদানি পোর্টসের এমডি শ্রী করণ আদানি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রূপান্তরকারী নেতৃত্বের উল্লেখ করেন, যা ভারতের মাত্রা এবং মানসিকতাকে নতুনভাবে তৈরি করেছে। তিনি বলেন, শ্রী মোদী দেশকে শিখিয়েছেন দীর্ঘ মেয়াদে ভাবতে।
ওয়েলস্পান গ্রুপের চেয়ারম্যান বি কে গোয়েঙ্কা গুজরাটে বিশেষ করে কচ্ছ এবং সৌরাষ্ট্রের রূপান্তরে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের উপর জোর দেন।
আরআইএল-এর চেয়ারম্যান শ্রী মুকেশ আম্বানি বলেন, ভাইব্র্যান্ট গুজরাট আঞ্চলিক সম্মেলন উদযাপন করছে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং দূরদৃষ্টির। শ্রী আম্বানি বলেন, ইতিহাস মোদী যুগকে মনে রাখবে এমন একটা সময় হিসেবে যখন ভারত সম্ভাবনা থেকে বাস্তবে, প্রত্যাশা থেকে কাজে এবং অনুগামী থেকে বিশ্বশক্তিতে অগ্রসর হচ্ছে।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
India is the world's fastest-growing large economy. pic.twitter.com/HlhiPzjkNx
— PMO India (@PMOIndia) January 11, 2026
The fact sheet on India's growth is a success story of the Reform-Perform-Transform mantra. pic.twitter.com/NVqWs8UqW7
— PMO India (@PMOIndia) January 11, 2026
At a time of great global uncertainty, India is moving ahead with remarkable certainty. pic.twitter.com/bbvyoIlFmz
— PMO India (@PMOIndia) January 11, 2026
Along with infrastructure, an industry-ready workforce is today's biggest need. pic.twitter.com/dNnMFn6lr8
— PMO India (@PMOIndia) January 11, 2026
Today's India is moving rapidly towards becoming a developed nation. The Reform Express is playing a crucial role in achieving this objective. pic.twitter.com/nKpNTNtR6E
— PMO India (@PMOIndia) January 11, 2026


