প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লির রাই পিথোরা কালচারাল কমপ্লেক্সে ‘দ্য লাইট অ্যান্ড দ্য লোটাস : রেলিকস অফ দ্য অ্যাওয়েকেন্ড ওয়ান’ শীর্ষক ভগবান বুদ্ধ সম্পর্কিত পবিত্র পিপরাহওয়া ধ্বংসাবশেষের বিশাল আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন। এই উপলক্ষে সমবেতদের উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২৫ বছর অপেক্ষার পর ভারতের ঐতিহ্য ফিরে এসেছে, ভারতের উত্তরাধিকার ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, আজ থেকে ভারতের মানুষ ভগবান বুদ্ধের এই পবিত্র ধ্বংসাবশেষ দর্শন করতে এবং তাঁর আশীর্বাদ লাভ করতে পারবেন। শ্রী মোদী এই শুভ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিকে স্বাগত জানান এবং শুভেচ্ছা জানান। তিনি উপস্থিত ভিক্ষু ও ধর্মগুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন যে, তাঁদের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে নতুন শক্তি জোগাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতেই এই শুভ উদযাপন অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। ভগবান বুদ্ধের আশীর্বাদে ২০২৬ সাল বিশ্বের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সম্প্রীতির এক নতুন যুগ নিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, স্থানে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, সেই স্থানটি নিজেই বিশেষ। তিনি বলেন, কিলা রাই পিথোরার এই স্থানটি ভারতের গৌরবময় ইতিহাসের এক ভূমি। পূর্ববর্তী শাসকরা প্রায় হাজার বছর আগে এখানে মজবুত ও সুরক্ষিত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন যে, আজ সেই একই ঐতিহাসিক নগর প্রাঙ্গণে ইতিহাসের এক আধ্যাত্মিক ও পবিত্র অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে। শ্রী মোদী বলেন, এখানে আসার আগে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলেন যে, ভগবান বুদ্ধের পবিত্র নিদর্শনগুলো আমাদের মধ্যে থাকাটা সকলের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, ভারত থেকে এগুলোর চলে যাওয়া এবং অবশেষে ফিরে আসা—উভয়ই নিজের মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। দাসত্ব যে কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নয়, বরং এটি আমাদের ঐতিহ্যকেও ধ্বংস করে—এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে শ্রী মোদী বলেন, ভগবান বুদ্ধের পবিত্র নিদর্শনগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। পরাধীনতার সময়ে এগুলি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রায় ১২৫ বছর দেশের বাইরে ছিল। তিনি বলেন, যারা এগুলো নিয়ে গিয়েছিল তারাও তাদের বংশধরদের কাছে এই নিদর্শনগুলো ছিল কেবলই প্রাণহীন প্রাচীন বস্তু। এই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক বাজারে এই পবিত্র নিদর্শনগুলো নিলামে তোলার চেষ্টা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, ভারতের কাছে এই নিদর্শনগুলো আমাদের পূজনীয় দেবতার অংশ, আমাদের সভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে এগুলোর প্রকাশ্য নিলাম হতে দেওয়া হবে না। শ্রী মোদী গোদরেজ গোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, তাদের সহযোগিতায় ভগবান বুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত এই পবিত্র নিদর্শনগুলো তাঁর কর্মভূমি, তাঁর ধ্যানভূমি, তাঁর মহাবোধি ভূমি এবং তাঁর মহাপরিনির্বাণ ভূমিতে ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান বুদ্ধের জ্ঞান এবং তাঁর দেখানো পথ সমগ্র মানবজাতির জন্য।” গত কয়েক মাসে এই অনুভূতি বারবার অনুভূত হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিকালে যেখানেই ভগবান বুদ্ধের পবিত্র নিদর্শনগুলো ভ্রমণ করেছে, সেখানেই বিশ্বাস ও ভক্তির ঢেউ উঠেছে। শ্রী মোদি বলেন যে, থাইল্যান্ডে, যেখানে এই পবিত্র নিদর্শনগুলো রাখা হয়েছিল, সেখানে এক মাসেরও কম সময়ে চল্লিশ লক্ষেরও বেশি ভক্ত দর্শনের জন্য এসেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভিয়েতনামে জনসমাগম এতটাই বেশি ছিল যে প্রদর্শনীর সময়কাল বাড়াতে হয়েছিল। নয়টি শহরে প্রায় ১.৭৫ কোটি মানুষ এই নিদর্শনগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন, মঙ্গোলিয়ায় হাজার হাজার মানুষ গান্দান মঠের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন এবং অনেকে বুদ্ধের দেশ থেকে আসা ভারতীয় প্রতিনিধিদের স্পর্শ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন যে, রাশিয়ার কালমিকিয়া অঞ্চলে মাত্র এক সপ্তাহে দেড় লক্ষেরও বেশি ভক্ত পবিত্র নিদর্শনগুলো দর্শন করেছেন। এই সংখ্যা সেখানকার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। বিভিন্ন দেশের এক সমাগমে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সরকারপ্রধান পর্যন্ত সকলেই সমান শ্রদ্ধায় একত্রিত হয়েছিলেন। শ্রী মোদি বলেন, ভগবান বুদ্ধ সকলের এবং তিনি সবাইকে সংযুক্ত করেন।

নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ভগবান বুদ্ধ তাঁর জীবনে এক গভীর স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি স্মরণ করেন যে, তাঁর জন্মস্থান ভাদনগর বৌদ্ধ শিক্ষার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং যেখানে ভগবান বুদ্ধ তাঁর প্রথম ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন সেই সারনাথ, তাঁর কর্মভূমি। তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব থেকে দূরে থাকাকালীনও তিনি তীর্থযাত্রী হিসেবে বৌদ্ধ স্থানগুলিতে ভ্রমণ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সারা বিশ্বের বৌদ্ধ তীর্থকেন্দ্রগুলি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নেপালের লুম্বিনিতে পবিত্র মায়া দেবী মন্দিরে প্রণাম করার কথা স্মরণ করেন এবং এটিকে একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন। শ্রী মোদী বলেন যে, বুদ্ধের বার্তা সময়ের সীমানা অতিক্রম করে একথা তিনি জাপানের তো-জি মন্দির এবং কিনকাকু-জি মন্দির দর্শনের সময় অনুভব করেছেন। তিনি চীনের শিয়ানে অবস্থিত জায়ান্ট ওয়াইল্ড গুজ প্যাগোডা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। এখান থেকে বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সেখানে ভারতের ভূমিকা আজও স্মরণ করা হয়। তিনি মঙ্গোলিয়ার গান্ডান মঠ পরিদর্শনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে, শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুরায় জয়া শ্রী মহাবোধি দর্শন করা ছিল সম্রাট অশোক, ভিক্ষু মহিন্দা এবং সংঘমিত্রার দ্বারা রোপিত ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এক অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, থাইল্যান্ডের ওয়াট ফো এবং সিঙ্গাপুরের বুদ্ধ টুথ রেলিক টেম্পল পরিদর্শনের মাধ্যমে ভগবান বুদ্ধের শিক্ষার প্রভাব সম্পর্কে তাঁর ধারণা আরও গভীর হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যেখানেই ভ্রমণ করেছেন, সেখানেই ভগবান বুদ্ধের ঐতিহ্যের একটি প্রতীক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, চীন, জাপান, কোরিয়া এবং মঙ্গোলিয়ায় তিনি বোধিবৃক্ষের চারা নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পারমাণবিক বোমায় বিধ্বস্ত হিরোশিমার বোটানিক্যাল গার্ডেনে যখন একটি বোধিবৃক্ষ দাঁড়িয়ে থাকে, তখন মানবজাতির জন্য এর গভীর বার্তাটি কল্পনা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভগবান বুদ্ধের এই অভিন্ন ঐতিহ্য প্রমাণ করে যে ভারত কেবল রাজনীতি, কূটনীতি এবং অর্থনীতির মাধ্যমেই সংযুক্ত নয়, বরং আরও গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত কেবল ভগবান বুদ্ধের পবিত্র ধ্বংসাবশেষের রক্ষকই নয়, বরং তাঁর ঐতিহ্যের জীবন্ত ধারকও।” তিনি বলেন, পিপরাহওয়া, বৈশালী, দেবনি মোরি এবং নাগার্জুনকোন্ডায় প্রাপ্ত ভগবান বুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ বুদ্ধের বার্তার জীবন্ত উপস্থিতি। তিনি নিশ্চিত করে বলেন যে, ভারত বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা উভয় মাধ্যমেই এই ধ্বংসাবশেষগুলিকে প্রতিটি রূপে সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ স্থানগুলির উন্নয়ন বজায় রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নেপালে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে যখন একটি প্রাচীন স্তূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তখন ভারত তার পুনর্গঠনে সহায়তা করেছিল। তিনি বলেন, মায়ানমারের ভূমিকম্পের পর ভারত ১১টিরও বেশি প্যাগোডার সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়। এই ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভারতের অভ্যন্তরেও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান এবং ধ্বংসাবশেষের অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের কাজ ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, গুজরাটে তাঁর জন্মস্থান ভাদনগর বৌদ্ধ ঐতিহ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সেখানে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত হাজার হাজার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে সরকার সেগুলির সংরক্ষণের উপর মনোযোগ দিচ্ছে এবং বর্তমান প্রজন্মকে সেগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করছে। তিনি বলেন, সেখানে একটি চমৎকার অভিজ্ঞতাভিত্তিক জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে, যা প্রায় ২৫০০ বছরের ইতিহাসের অভিজ্ঞতা প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লায় বৌদ্ধ যুগের একটি প্রধান বৌদ্ধ স্থান আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এখন এর সংরক্ষণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

গত ১০-১১ বছরে ভারতও বৌদ্ধ স্থানগুলোকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, বোধগয়ায় একটি কনভেনশন সেন্টার এবং ধ্যান ও অভিজ্ঞতা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সারনাথে ধামেক স্তূপে একটি আলোক ও শব্দ প্রদর্শনী এবং একটি বুদ্ধ থিম পার্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, শ্রাবস্তী, কপিলবস্তু এবং কুশীনগরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হয়েছে। তেলেঙ্গানার নালগোন্ডায় একটি ডিজিটাল অভিজ্ঞতা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সাঁচি, নাগার্জুন সাগর এবং অমরাবতীতে তীর্থযাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সমস্ত বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলোর মধ্যে উন্নত সংযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশে একটি বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বের ভক্ত ও তীর্থযাত্রীদের বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক গভীর অভিজ্ঞতা প্রদান করা হবে।
শ্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, “ভারতের প্রচেষ্টা হলো বৌদ্ধ ঐতিহ্য যেন স্বাভাবিকভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।” তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধসম্মেলন এবং বৈশাখ ও আষাঢ় পূর্ণিমার মতো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানগুলো এই চিন্তাধারার দ্বারাই পরিচালিত। তিনি বলেন, ভগবান বুদ্ধের অভিধর্ম, তাঁর বাণী এবং তাঁর শিক্ষাগুলো মূলত পালি ভাষায় ছিল। তিনি বলেন যে, ভারত সাধারণ মানুষের কাছে পালি ভাষাকে সহজলভ্য করার জন্য চেষ্টা করছে। এই কারণেই পালি ভাষাকে একটি ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এটি ধর্মকে তার মূল সত্তায় বোঝা ও ব্যাখ্যা করা সহজ করবে এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্য সম্পর্কিত গবেষণাকেও শক্তিশালী করবে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ভগবান বুদ্ধের জীবনদর্শন সীমানা ও ভৌগোলিক অঞ্চল অতিক্রম করে বিশ্বকে একটি নতুন পথ দেখিয়েছে। তিনি ভগবান বুদ্ধের শিক্ষার কয়েকটি পঙক্তি আবৃত্তি করেন। ভগবান বুদ্ধের কালজয়ী বার্তা ‘আত্মা দীপো ভব’-এর মধ্যে আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরশীলতা নিহিত রয়েছে উল্লেখ করে শ্রী মোদি সংঘাতের ঊর্ধ্বে ভারতের ঐক্যের দর্শনের কথা তুলে ধরেন এবং ধারণা ও করুণার মাধ্যমে বিশ্ব কল্যাণের কথা বলেন। তিনি বলেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে ভারত যেখানে বিরোধ রয়েছে সেখানে আলোচনা ও শান্তির প্রসারের মাধ্যমে অবদান রাখছে। পাশাপাশি মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন করছে। ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে তিনি প্রদর্শনীর দর্শনার্থীরা এই চিরন্তন অনুপ্রেরণার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
শ্রী মোদি আরও বলেন যে, ভগবান বুদ্ধের এই পবিত্র নিদর্শনগুলো ভারতের ঐতিহ্য এবং এক শতাব্দীর দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশে ফিরে এসেছে। তিনি দেশবাসীকে এই পবিত্র নিদর্শনগুলো দেখতে, ভগবান বুদ্ধের চিন্তাধারার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে এবং অন্তত একবার হলেও পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করেন। তিনি স্কুলছাত্র, কলেজছাত্র, তরুণ সাথী এবং ছেলে-মেয়েদের এই প্রদর্শনীটি অবশ্যই দেখার জন্য আবেদন জানান। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, এই প্রদর্শনীটি আমাদের অতীতের গৌরবকে আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি দুর্দান্ত মাধ্যম। পরিশেষে তিনি দেশবাসীকে এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন এবং এই অনুষ্ঠানের সাফল্যের জন্য সকলকে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্টজনেদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, শ্রী কিরেন রিজিজু, শ্রী রামদাস আঠাওয়ালে, শ্রী রাও ইন্দ্রজিৎ সিং এবং দিল্লির উপরাজ্যপাল শ্রী বিনয় সাক্সেনা।

প্রেক্ষাপট
এই প্রদর্শনীতে প্রথমবারের মতো এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রত্যাবাসিত পিপরাহওয়ার ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে নতুন দিল্লি ন্যাশনাল মিউজিয়াম এবং কলকাতা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের সংগ্রহে সংরক্ষিত পিপরাহওয়ার আসল ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে।
১৮৯৮ সালে আবিষ্কৃত পিপরাহওয়ার ধ্বংসাবশেষগুলি আদি বৌদ্ধধর্মের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় একটি প্রধান স্থান অধিকার করে আছে। এগুলি ভগবান বুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ ধ্বংসাবশেষের ভাণ্ডারের অন্যতম। প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে পিপরাহওয়া স্থানটিকে প্রাচীন কপিলবাস্তুর সঙ্গে যুক্ত করে।
এই প্রদর্শনীটি ভগবান বুদ্ধের শিক্ষার সঙ্গে ভারতের গভীর এবং অবিচ্ছিন্ন সভ্যতার সংযোগকে তুলে ধরে এবং ভারতের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ধারাবাহিক সরকারি প্রচেষ্টা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই ধ্বংসাবশেষগুলি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রদর্শনীটি বিষয়ভিত্তিক ভাবে সংগঠিত। এর কেন্দ্রে রয়েছে সাঁচি স্তূপ দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি পুনর্নির্মিত ব্যাখ্যামূলক মডেল। এটি জাতীয় সংগ্রহ থেকে প্রাপ্ত আসল ধ্বংসাবশেষ এবং ফিরিয়ে আনা রত্নগুলিকে একত্রিত করেছে। অন্যান্য বিভাগগুলির মধ্যে রয়েছে পিপরাহওয়া পুনঃদর্শন, বুদ্ধের জীবনের খণ্ডচিত্র, মূর্তের মধ্যে বিমূর্ত : বৌদ্ধ শিক্ষার নান্দনিক ভাষা, সীমানা ছাড়িয়ে বৌদ্ধ শিল্প ও আদর্শের বিস্তার এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রত্যাবাসন : চলমান প্রচেষ্টা।
জনসাধারণের বোঝাপড়া বাড়ানোর জন্য, প্রদর্শনীটি একটি ব্যাপক দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যম দ্বারা সমর্থিত। এতে রয়েছে নিমগ্ন চলচ্চিত্র, ডিজিটাল পুনর্নির্মাণ, ব্যাখ্যামূলক প্রক্ষেপণ এবং মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা। এই উপাদানগুলি ভগবান বুদ্ধের জীবন, পিপরাহওয়ার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার, বিভিন্ন অঞ্চলে সেগুলির স্থানান্তর এবং সেগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত শৈল্পিক ঐতিহ্য সম্পর্কে সহজবোধ্য অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
For India, the sacred relics of Bhagwan Buddha are not merely artefacts; they are a part of our revered heritage and an inseparable part of our civilisation. pic.twitter.com/RxtISK4zGX
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026
The wisdom and path shown by Bhagwan Buddha belong to all of humanity. pic.twitter.com/CkAhd75nVm
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026
Bhagwan Buddha belongs to everyone and unites us all. pic.twitter.com/brhXvjxuCE
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026
India is not only the custodian of the sacred relics of Bhagwan Buddha, but also a living carrier of that timeless tradition. pic.twitter.com/84ylJpMluf
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026
India has made continuous efforts to contribute to the development of Buddhist heritage sites across the world. pic.twitter.com/Om9OwTkxTT
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026
Bhagwan Buddha's teachings are originally in the Pali language. Our effort is to take Pali to a broader audience. For this, Pali has been accorded the status of a classical language. pic.twitter.com/kCCN6H9EXn
— PMO India (@PMOIndia) January 3, 2026


