মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার,
উভয় দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ,

গণমাধ্যমের বন্ধুরা
নমস্কার!

প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টার্মারকে আজ মুম্বাইয়ে তাঁর প্রথম ভারত সফরে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।

বন্ধুগণ,

প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের নেতৃত্বে, ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই বছরের জুলাই মাসে আমার যুক্তরাজ্য সফরের সময়ে, আমরা ঐতিহাসিক সার্বিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA) সম্পন্ন করেছি। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে আমদানি খরচ কমাবে, যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, বাণিজ্য বাড়াবে এবং আমাদের শিল্প ও ক্রেতা সাধারণ উভয়কেই উপকৃত করবে।

চুক্তির মাত্র কয়েক মাস পরে, সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আপনার ভারত সফর, ভারত-যুক্তরাজ্য অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নতুন শক্তি এবং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটাবে।

 

বন্ধুগণ,

গতকাল ভারত ও যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী নেতাদের বৃহত্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ, আমরা ভারত-যুক্তরাজ্য সিইও ফোরাম এবং গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টিভালেও ভাষণ দেব। এগুলি মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে আসবে এবং ভারত-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন পথ উন্মোচন করবে।

বন্ধুরা,

ভারত এবং যুক্তরাজ্য স্বাভাবিক অংশীদার। আমাদের সম্পর্ক গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধের উপর নির্মিত। আজকের বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে, আমাদের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

আজকের বৈঠকে, আমরা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং ইউক্রেনে বর্তমান সংঘাতের বিষয়েও মতামত বিনিময় করেছি। ইউক্রেন সংঘাত এবং গাজার বিষয়গুলিতে, ভারত সংলাপ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি পুনরুদ্ধারের সকল প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বন্ধুরা,

ভারত এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যুক্তরাজ্যের শিল্প দক্ষতা এবং গবেষণা ও উন্নয়নকে ভারতের প্রতিভা এবং মাত্রার সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য কাজ করছি।

গত বছর, আমরা ভারত-যুক্তরাজ্য প্রযুক্তি সুরক্ষা উদ্যোগ চালু করেছি। এই উদ্যোগের অধীনে, আমরা গুরুত্বপূর্ণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণা এবং উদ্ভাবনের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করেছি। উভয় দেশের যুবসমাজকে একটি উদ্ভাবনী সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত করার জন্য, আমরা 'কানেকটিভিটি অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার' এবং 'জয়েন্ট এআই রিসার্চ সেন্টার' প্রতিষ্ঠা সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

 

আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের উপর সহযোগিতার জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রি গিল্ড এবং একটি সাপ্লাই চেইন অবজারভেটরি বা সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণাগার প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর স্যাটেলাইট ক্যাম্পাসটি আইএসএম ধানবাদে অবস্থিত হবে।

সুস্থিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রতি আমাদের একটি যৌথ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এই লক্ষ্যে, আমরা ভারত-যুক্তরাজ্য অফশোর উইন্ড টাস্কফোর্স গঠনকে স্বাগত জানাই।

আমরা জলবায়ু প্রযুক্তি স্টার্টআপ তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছি। এটি জলবায়ু, প্রযুক্তি এবং এআই ক্ষেত্রে কাজ করা উভয় দেশের উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করবে।

বন্ধুরা,

প্রতিরক্ষা এবং সুরক্ষা থেকে শিক্ষা এবং উদ্ভাবন পর্যন্ত, ভারত এবং যুক্তরাজ্য তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা তৈরি করছে।

আজ, প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারের সঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিনিধিদল রয়েছে। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে বেশ কয়েকটি যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এখন ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপন করছে। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুগ্রাম ক্যাম্পাস সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রথম ব্যাচ ইতিমধ্যেই যোগদান করেছে। এছাড়াও, GIFT সিটিতে আরও তিনটি যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ চলছে।

আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। আমরা প্রতিরক্ষা সহ-উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে সংযুক্ত করছি। আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে, আমরা সামরিক প্রশিক্ষণে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি, যার অধীনে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ফ্লাইং প্রশিক্ষকরা যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিমান বাহিনীর সাথে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করবেন।

 

এটি একটি বিশেষ কাকতালীয় ঘটনা যে এই বৈঠকটি দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়, আমাদের নৌবাহিনীর জাহাজগুলি "কোঙ্কণ ২০২৫" যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে।

বন্ধুরা,

যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ১৮ লক্ষ ভারতীয় আমাদের অংশীদারিত্বের একটি জীবন্ত সেতু। ব্রিটিশ সমাজ এবং অর্থনীতিতে তাদের মূল্যবান অবদানের মাধ্যমে, তারা আমাদের দুই জাতির মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং অগ্রগতির বন্ধনকে শক্তিশালী করেছে।

বন্ধুরা,

ভারতের গতিশীলতা এবং যুক্তরাজ্যের দক্ষতা একযোগে একটি অনন্য সমন্বয় তৈরি করে। আমাদের অংশীদারিত্ব বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতিভা এবং প্রযুক্তি দ্বারা চালিত। আর আজ, যখন প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার এবং আমি এই মঞ্চে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, তখন এটি আমাদের উভয় দেশের জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতির স্পষ্ট উচ্চারণ।

আবারও, আমি প্রধানমন্ত্রী স্টার্মার এবং তার প্রতিনিধিদলকে ভারত সফরের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Pyaaz Khaate Hai, Dimaag Nahi': PM Modi's Jhalmuri Video Breaks The Internet With 100M+ Views

Media Coverage

Pyaaz Khaate Hai, Dimaag Nahi': PM Modi's Jhalmuri Video Breaks The Internet With 100M+ Views
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister shares Sanskrit Subhashitam emphasising that Service to the nation is the foundation of a Developed India
April 21, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, shared a Sanskrit Subhashitam emphasising that the Service to the nation is the foundation of a ‘Developed India.’ Shri Modi remarked that on the proud occasion of Civil Services Day, let us reaffirm our commitment to building an empowered, prosperous, and compassionate India by bringing the person standing at the last mile into the mainstream of development.

The Prime Minister shared a Sanskrit Subhashitam-

"शीलं परहितासक्तिः अनुत्सेकः क्षमा धृतिः।

अलोभश्चेति विद्यायाः परिपाकोञ्चलं फलम्॥"

The Subhashitam conveys, that modesty, benevolence, humility, forgiveness, patience and non- greed, all these are the bright fruits of the perfection of knowledge.

The Prime Minister posted on X:

"राष्ट्रसेवा ही ‘विकसित भारत’ की नींव है। सिविल सेवा दिवस के गौरवशाली अवसर पर आइए, अंतिम पंक्ति में खड़े व्यक्ति को विकास की मुख्यधारा से जोड़कर सशक्त, समृद्ध एवं संवेदनशील भारतवर्ष के निर्माण का संकल्प दोहराएं। 

शीलं परहितासक्तिः अनुत्सेकः क्षमा धृतिः। 

अलोभश्चेति विद्यायाः परिपाकोञ्चलं फलम्॥"