মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক,
দু’দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ,
সংবাদমাধ্যমের বন্ধুগণ,

নমস্কার।

ওয়ারশ-র মতো একটি মনোরম নগরীতে প্রধানমন্ত্রী টাস্কের উষ্ণ অভ্যর্থনা, আতিথেয়তা এবং মৈত্রীপূর্ণ কথায় আমি মুগ্ধ। সেজন্য তাঁর প্রতি জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। 

আপনি ভারতের দীর্ঘদিনের এক ভালো বন্ধু। ভারত ও পোল্যান্ডের মৈত্রী সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে তোলার পেছনে আপনার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। 

 

বন্ধুগণ,

ভারত ও পোল্যান্ডের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আজ হল একটি তাৎপর্যময় দিন। 

দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে এসেছেন পোল্যান্ড সফরের উদ্দেশে।

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আমার তৃতীয় মেয়াদকালের সূচনাকালে এই সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

আজ এই উপলক্ষে পোল্যান্ডের সরকার এবং জনসাধারণকে জানাই আমার বিশেষ কৃতজ্ঞতা। 

২০২২ সালে ইউক্রেনের সংঘাত ও সংঘর্ষজনিত পরিস্থিতিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা যেভাবে আটকে পড়েছিলেন তা থেকে তাঁদের মুক্ত করার কাজে আপনারা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন, তা আমাদের, অর্থাৎ ভারতীয়দের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

আমাদের দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এটি হল ৭০তম বছর। 

এই উপলক্ষে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে এক কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি। 

গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের মতো দুটি মিলিত মূল্যবোধকে ভিত্তি করে ভারত ও পোল্যান্ডের মধ্যে এই বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। 

আমাদের এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা স্থির করতে কয়েকটি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকেও আজ আমরা চিহ্নিত করেছি। 

 

দুটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে আমাদের সংসদগুলির মধ্যে বিনিময় কর্মসূচিকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। 

বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার স্বার্থে বেসরকারি উদ্যোগকেও আমাদের এই প্রচেষ্টায় সামিল করতে হবে। 

আমরা মনে করি যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বিশ্বের অগ্রণী রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পোল্যান্ড হল অন্যতম।

তাই, ভারতে নির্মীয়মান মেগা ফুড পার্কগুলিতে পোলিশ সংস্থাগুলির অংশগ্রহণে আমরা আগ্রহী। 

ভারতে দ্রুত নগরোন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জল পরিশোধন, কঠিন বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধারও আমরা প্রস্তাব করেছি। 

আমাদের দু’দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ কয়লা প্রযুক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন, পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম মেধাশক্তি। 

ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য পোলিশ সংস্থাগুলিকে আমরা আমন্ত্রণ জানাই। 

ফিনটেক, ফার্মা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রগুলিতে ভারত নানা সাফল্য দেখিয়েছে। 

তাই, এই ক্ষেত্রগুলিতে পোল্যান্ডের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পেলে আমরা আনন্দিত হব।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নিবিড় সহযোগিতাও আমাদের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের গভীরতার এক বিশেষ প্রতীক।

এই ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতাকেও আরও জোরদার করে তোলার প্রয়োজন।

আমাদের দু’দেশেই উদ্ভাবন ও মেধা অন্বেষণ হল যুবশক্তির লক্ষণ। 

দক্ষ শ্রমশক্তি, দক্ষ শ্রমিক-কর্মী এবং যাতায়াত তথা পরিবহণের উন্নয়নে কল্যাণ কর্মসূচির লক্ষ্যে আমাদের দ্বিপাক্ষিক একটি চুক্তিতে আমরা সম্মতি জানিয়েছি সামাজিক নিরাপত্তাকে জোরদার করে তোলার উদ্দেশ্যে।

বন্ধুগণ,

আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলিতেও ভারত ও পোল্যান্ড পরস্পরের সঙ্গে সমম্বয় ও সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে।

আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ তথা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার যে আশু জরুরি, এই বিষয় দু’টিতেও আমাদের দুটি দেশ সহমত প্রকাশ করে। 

আবার, সন্ত্রাসবাদ হল আমাদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। 

তাই, ভারত ও পোল্যান্ডের মতো দুটি দেশের মধ্যে আরও বেশি করে সহযোগিতার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। কারণ, আমরা মানবতায় বিশ্বাসী।

ঠিক একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা আমাদের দুটি দেশের কাছেই একটি অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

দূষণমুক্ত এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দু’দেশের শক্তিকে আমাদের অবশ্যই একত্রিত করতে হবে। 

২০২৫-এর জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছে পোল্যান্ড। 

আপনাদের সহযোগিতায় ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যে এক বলিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠবে, এ সম্পর্কে আমি স্থির আশাবাদী। 

বন্ধুগণ,

ইউক্রেন এবং মধ্য এশিয়ায় যে সংঘাত ও সংঘর্ষজনিত পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে, তা আমাদের কাছে এক গভীর উদ্বেগের বিষয়। 

ভারত দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ রণক্ষেত্র হতে পারে না। 

যেকোন ধরনের সঙ্কটে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি বিশ্বের মানবতাবাদী রাষ্ট্রগুলির কাছে এক বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ।

শান্তি ও স্থিতিশীলতার পুনরুদ্ধারে আলাপ-আলোচনা ও কূটনৈতিক দৌত্যের ওপর আমরা আস্থাশীল।

সেজন্য ভারত তার বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে মিলিতভাবে সম্ভাব্য সকল রকম সমর্থন ও সহযোগিতার পথে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।

বন্ধুগণ,

পোল্যান্ডে ভারতবিদ্যা এবং সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহের এক বিশেষ পরম্পরা রয়েছে।

ভারতীয় সভ্যতা ও ভাষার প্রতি গভীর আগ্রহ ও অনুরাগ আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের এক বলিষ্ঠ ভিত গড়ে তুলেছে।

গতকাল দু’দেশের জনসাধারণের মধ্যে গভীর সম্পর্কের এক উজ্জ্বল উদাহরণ আমি প্রত্যক্ষ করেছি। 

ভারতীয় মহারাজাদের স্মৃতিতে নির্মিত সৌধগুলিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের এক সুযোগ আমার হয়েছিল।

পোল্যান্ডবাসীও যে মানবতাবাদ ও মহত্ত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল, আজ একথা জেনে আমি আনন্দিত। 

নওয়ানগরের জাম সাহেবের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ভারত ও পোল্যান্ডের মধ্যে যুব বিনিময় কর্মসূচির আমরা সূচনা করতে চলেছি। 

প্রতি বছর পোল্যান্ডের ২০ জন যুব প্রতিনিধিকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। 

বন্ধুগণ,

প্রধানমন্ত্রী টাস্ক এবং তাঁর মৈত্রী সম্পর্কের জন্য আমি আরও একবার তাঁর প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমাদের অঙ্গীকারের কথাও আমি একইসঙ্গে পুনরুচ্চারণ করছি।

আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি ছিল হিন্দিতে

 

 

 

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
PM Modi becomes first world leader to cross 100 million Instagram followers

Media Coverage

PM Modi becomes first world leader to cross 100 million Instagram followers
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister Pays Tribute to Veer Savarkar Ji on his Punya Tithi
February 26, 2026

Prime Minister Narendra Modi today paid humble tributes to the great revolutionary Veer Savarkar Ji on his Punya tithi.

In a message honoring the freedom fighter, the Prime Minister stated that he dedicated his life to free the country from the chains of slavery. He further remarked that Veer Savarkar Ji’s personality and work will continue to inspire every generation for national service.

The Prime Minister wrote on X;

महान क्रांतिकारी वीर सावरकर जी को उनकी पुण्यतिथि पर सादर नमन। देश को गुलामी की जंजीरों से मुक्त कराने के लिए उन्होंने अपना जीवन समर्पित कर दिया। उनका व्यक्तित्व और कृतित्व हर पीढ़ी को राष्ट्रसेवा के लिए प्रेरित करता रहेगा।