মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসন,
মাননীয় উর্সুলা জি,
ইয়োর রয়্যাল হাইনেস,
ভলভো গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও,
ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিলের সভাপতি,
এখানে উপস্থিত ইউরোপের বিশিষ্ট ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ,
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ,

নমস্কার!

সবচেয়ে প্রথমে আমি এই রাউন্ড টেবিল বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসনকে  আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে এই বৈঠকটি "গথেনবার্গ"-এ আয়োজন করা হচ্ছে। এটি এমন এক শহর যা উদ্ভাবনের পাশাপাশি ইউরোপের উৎপাদক (ম্যানুফ্যাকচারিং) চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক।

বন্ধুগণ,

ইউরোপীয় রাউন্ড টেবিল ফর ইন্ডাস্ট্রির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বক্তব্য রাখা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।

আপনাদের মধ্যে কিছু বন্ধুর সঙ্গে আমার আগেও সাক্ষাৎ হয়েছে। কিছু জনের  সঙ্গে আজ প্রথমবার দেখা হচ্ছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, আপনারা সকলে কোনো না কোনোভাবে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

কারও উৎপাদন ব্যবস্থা ভারতে রয়েছে, কারও আর গবেষণা ও উন্নয়ন( আর এন্ড ডি) ব্যবস্থা ভারতে রয়েছে, কারও ট্যালেন্ট বেস ভারতে রয়েছে, কারও সরবরাহ শৃঙ্খলের যোগসূত্র ভারতের সঙ্গে রয়েছে, আবার কেউ ভারতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছেন। আজকের এই বৈঠক আমাদের এই অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি মোক্ষম সুযোগ।

বন্ধুগণ,

আজ ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ক এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারী স্তরে আমরা একটি উচ্চাভিলাষী এবং কৌশলগত এজেন্ডা নির্ধারণ করেছি।

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে সহমত তৈরি হয়েছে। উর্সুলা জি যেভাবে বলেছিলেন, এটি সত্যিই "মাদার অফ অল ডিলস" । আমাদের প্রচেষ্টা হলো এটি যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা।

সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পার্টনারশিপ এবং মোবিলিটি এগ্রিমেন্টও আমাদের সহযোগিতাকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল আমাদের অংশীদারিত্বকে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি প্রদান করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং উদ্ভাবন—এই সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত ও ইউরোপ একসঙ্গে কাজ করছে।

সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স পার্টনারশিপ এবং মোবিলিটি এগ্রিমেন্টও আমাদের সহযোগিতাকে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিল আমাদের অংশীদারিত্বকে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি প্রদান করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং উদ্ভাবন—এই সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত ও ইউরোপ একসঙ্গে কাজ করছে।

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোরের মতো ঐতিহাসিক উদ্যোগগুলি যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক একীকরণকে নতুন গতি প্রদান করছে। সবুজায়ন এবং উন্নয়ন নিয়েও আমাদের ভাবনা ও অগ্রাধিকার একই রকম।

অর্থাৎ, সামগ্রিক চিত্রটি দেখলে আমাদের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংগতি রয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ, নিরাপদ এবং সুস্থায়ী বিশ্বের জন্য ভারত ও ইউরোপ হলো কৌশলগত অংশীদার ।

কিন্তু বন্ধুগণ,

সরকার শুধুমাত্র কাঠামো, কাঠামোগত সহায়তা এবং নীতিগত নির্দেশনা দিতে পারে। বাস্তব স্তরে আসল পরিবর্তন আপনাদের সকলের প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব হবে। তাই আজ আমি আপনাদের ভারতের সঙ্গে একসাথে কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে এসেছি।

বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারত আজ এক নতুন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। ভারত ১৪০ কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার দেশ। আমাদের তরুণ জনসংখ্যা , ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ভারতের প্রবৃদ্ধিকে নতুন গতি দিচ্ছে।
গত বারো বছরে ভারত সংস্কার, কাজ এবং রূপান্তরের( রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম) মূলমন্ত্রে পরিচালিত হয়েছে এবং সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির কারণে এই সংস্কার এক্সপ্রেস আজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে।

পণ্য ও পরিষেবা কর( জি এস টি) ভারতকে এক জাতি, এক কর, এক বাজারের অভিমুখে এগিয়ে নিয়ে গেছে। ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্সি কোড ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিয়ে এসেছে। কর্পোরেট কর সংস্কার উৎপাদনকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। শ্রম বিধিগুলি আইন মেনে চলাকে সহজ এবং স্বচ্ছ করার পথ দেখিয়েছে।

সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগে সংস্কার বহু ক্ষেত্রকে বিশ্বব্যাপী পুঁজির জন্য উন্মুক্ত করেছে। পিএলআই স্কিমগুলি বৈদ্যুতিন, ওষুধ, গাড়ির যন্ত্রাংশ, সোলার মডিউল, টেলিকম, বয়নশিল্পের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদনে গতি নিয়ে এসেছে।
আমরা কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমিয়েছি। হাজার হাজার সেকেলে নিয়মকানুন বাতিল করেছি। ইজ অফ ডুইং বিজনেস-কে সুশাসনের অংশ করে তুলেছি। ডিজিটাল ইন্ডিয়া সরকারি পরিষেবাগুলিকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং সহজলভ্য করে তুলেছে।

ভারতে আজ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম রয়েছে। আমাদের স্টার্টআপগুলিকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা , ফিনটেক , মহাকাশ , ড্রোন , জৈব প্রযুক্তি , জলবায়ু প্রযুক্তি এবং গতিশীলতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সমাধান তৈরি করছে।

আজ ভারতে প্রতিভা আছে, স্কেল আছে, চাহিদা আছে, সুস্থায়ীত্ব আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা, ভারতে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের ইচ্ছাশক্তি রয়েছে। সেই কারণেই এখন সময় এসেছে আমাদের মনোভাব বিনিয়োগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

এই বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে পাঁচটি পরামর্শ বা প্রস্তাব রাখতে চাই:

 * প্রথম: টেলিকম এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো। ভোডাফোন, এরিকসন, নোকিয়া, অরেঞ্জের মতো কোম্পানিগুলির ভারতে বিশাল অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভারত ফাইভ-জি থেকে সিক্স-জি রূপান্তর , এআই-এনাবলড নেটওয়ার্ক , নিরাপদ সংযোগ এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় অংশীদার হতে পারে। আপনারা সকলে ভারতকে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উন্নয়ন( আর এন্ড ডি) হাব হিসেবে গড়ে তুলতে অবদান রাখতে পারেন।

 * দ্বিতীয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিন এবং ডিপ-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং । এএসএমএল , এনএক্সপি , এসএপি , ক্যাপজেমিনির মতো শীর্ষস্থানীয়রা আজ এখানে উপস্থিত আছেন। আমি আপনাদের ভারতের দ্রুত বিকাশশীল এন্ড-টু-এন্ড টেকনোলজি ইকোসিস্টেমের অংশীদার হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতের লক্ষ্য অত্যন্ত স্পষ্ট: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পরবর্তী অগ্রগতি যেন ভারতে হয়।

 * তৃতীয়: সবুজায়ন এবং ক্লিন এনার্জি বা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি। একটি অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিবেশে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর আলোকপাত করছে। ইএনজিআইই, টোটাল এনার্জিস , শেল , উমিকোরের মতো কোম্পানিগুলি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, হাইড্রোজেন, এনার্জি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং ডিকার্বোনাইজেশনের ক্ষেত্রে  শীর্ষস্থানে রয়েছে। আপনারা ভারতে বড় আকারে বিনিয়োগ করতে পারেন।

 * চতুর্থ: পরিকাঠামো, গতিশীলতা এবং আরবান ট্রান্সফরমেশন বা নগর রূপান্তর। ভলভো, মার্স্ক, এয়ারবাস, সাব, আরসেলরমিত্তল এবং হাইডেলবার্গ—এই সবকিছুরই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ভারতের রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সিমেন্ট, গ্রিন স্টিল, গতিশীলতা, লজিস্টিকস, বিমানক্ষেত্র, ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা—এই ক্ষেত্রগুলিতে ভারত ও ইউরোপের অংশীদারিত্ব বিশ্বমানের ফলাফল এনে দিতে পারে।

 * পঞ্চম: স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জীবন বিজ্ঞান। অ্যাস্ট্রাজেনেকা, রোশ, মার্ক, ফিলিপস, নেসলে এবং ইউনিলিভারের মতো কোম্পানিগুলির ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। এখন আমাদের এই অংশীদারিত্বকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া উচিত।

প্রতিষেধক, ক্যানসারের চিকিৎসা, ডিজিটাল হেলথ, নিউট্রিশন বা পুষ্টি এবং চিকিৎসা যন্ত্রের ক্ষেত্রে অনেক বড় সুযোগ রয়েছে। আপনারা 'ডিজাইন ফর ইন্ডিয়া, মেক ইন ইন্ডিয়া এবং এক্সপোর্ট ফ্রম ইন্ডিয়া' মডেলে এগিয়ে যেতে পারেন।

সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে আমি এখানে উপস্থিত সমস্ত কোম্পানির নাম নিতে পারিনি, তবে ভারতের এই সুযোগ সকলের জন্য উন্মুক্ত, এবং আমার আমন্ত্রণও আপনাদের সবার প্রতি রইল।

বন্ধুগণ,

এই পরামর্শগুলির পর আমি আপনাদের সামনে একটি চ্যালেঞ্জও রাখতে চাই। এখানে উপস্থিত প্রতিটি কোম্পানি কি ভারতের জন্য একটি নতুন এবং বড় প্রতিশ্রুতি করতে পারে? আমরা কি আগামী পাঁচ বছরে ভারতে শুরু করা যেতে পারে এমন ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পগুলি চিহ্নিত করতে পারি?

ভারত সরকার এই সমস্ত প্রকল্প সময়মতো সম্পন্ন করতে আপনাদের সম্পূর্ণ সাহায্য করবে। আমরা এই সমস্ত প্রকল্পের নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে পারি।

বন্ধুগণ,
   
আমরা বছরে একবার ভারত-ইউরোপ সিইও রাউন্ড টেবিল আয়োজন করতে পারি। এতে ভারত ও ইউরোপের শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা যেতে পারে। ক্ষেত্র-ভিত্তিক কার্যকিরী সমিতি(ওয়ার্কিং গ্রুপ)ও গঠন করা যেতে পারে।
   
আমি এই পরামর্শও দেব যে ইআরটি একটি 'ইন্ডিয়া ডেস্ক' বা 'ইন্ডিয়া অ্যাকশন গ্রুপ' তৈরি করুক। এর দায়িত্ব বা ম্যান্ডেট হবে অত্যন্ত সহজ: যে কোম্পানিগুলি ভারতে রয়েছে তাদের সম্প্রসারণে সহায়তা করা; যে নতুন কোম্পানিগুলি ভারতে আসতে চায় তাদের প্রবেশকে সহজতর করা; এবং ব্যবসায়িক উদ্বেগের সক্রিয় সমাধান করা।

বন্ধুগণ,

ভারত ও ইউরোপের অংশীদারিত্ব কেবল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি যৌথ মূল্যবোধের অংশীদারিত্ব। এটি গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র্যের অংশীদারিত্ব। এটি বিশ্বাস এবং স্বচ্ছতার অংশীদারিত্ব। এটি উদ্ভাবন এবং অন্তর্ভুক্তির অংশীদারিত্ব।

আজকের এই বিশ্বে যেখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলগুলি চাপের মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পদক্ষেপ উভয়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে—এমন সময়ে ভারত ও ইউরোপ একসঙ্গে মিলে স্থিতিশীলতা , সুস্থায়ী উন্নয়ন এবং যৌথ সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারে।

এই চেতনা নিয়েই আমি আপনাদের সকলকে ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমার বিশ্বাস যে আজ "গথেনবার্গ" থেকে যে সংলাপ শুরু হচ্ছে, তা আগামী বছরগুলিতে ভারত ও ইউরোপের শিল্প অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে।

আপনারা এত বিপুল সংখ্যায় এসেছেন এবং এই শীর্ষবৈঠকে আমাকে আপনাদের মাঝে নিজের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দিয়েছেন, এর জন্য আমি আপনাদের সকলের প্রতি বিশেষ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Tier-2 cities drive growth in India's tech hiring as GCC expansion spreads beyond metros

Media Coverage

Tier-2 cities drive growth in India's tech hiring as GCC expansion spreads beyond metros
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister condoles loss of lives in a mishap in Bengaluru
July 02, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi, condoled loss of lives due to a mishap in stone quarry in Bengaluru. "I extend my deepest condolences to those who have lost their loved ones. Praying for the speedy recovery of the injured", Shri Modi stated.

The Prime Minister posted on X:

Pained to hear about the loss of lives due to a mishap in stone quarry in Bengaluru Urban district of Karnataka. I extend my deepest condolences to those who have lost their loved ones. Praying for the speedy recovery of the injured: PM @narendramodi

ಕರ್ನಾಟಕದ ಬೆಂಗಳೂರು ನಗರ ಜಿಲ್ಲೆಯ ಕಲ್ಲು ಗಣಿಯಲ್ಲಿ ಸಂಭವಿಸಿದ ದುರ್ಘಟನೆಯಲ್ಲಿ ಪ್ರಾಣಹಾನಿ ಸಂಭವಿಸಿರುವುದು ನೋವು ತಂದಿದೆ. ಪ್ರೀತಿಪಾತ್ರರನ್ನು ಕಳೆದುಕೊಂಡವರಿಗೆ ನನ್ನ ಸಂತಾಪವನ್ನು ವ್ಯಕ್ತಪಡಿಸುತ್ತೇನೆ. ಗಾಯಾಳುಗಳು ಶೀಘ್ರ ಗುಣಮುಖರಾಗಲಿ ಎಂದು ಪ್ರಾರ್ಥಿಸುತ್ತೇನೆ: ಪ್ರಧಾನಮಂತ್ರಿ
@narendramodi