প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল (৩০ জানুয়ারি) গুজরাটের সুরাট ও ডান্ডি সফর করবেন।এই সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী সুরাট বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনের সম্প্রসারণমূলক কাজের শিলান্যাস করবেন।৩৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ হাজার ৫০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে এই টার্মিনাল ভবনটি তৈরি করা হচ্ছে।অত্যাধুনিক ও পরিবেশ-বান্ধব এই ভবনে সৌরশক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি, এলইডি বাল্ব দিয়ে সাজানো হবে।ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলে, এখানে ব্যস্ততম সময়ে ১ হাজার ৮০০-রও বেশি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।বিমান চলাচল ও যাত্রী সংখ্যার দিক থেকে সুরাট গুজরাটের আমেদাবাদ ও ভদোদরা বিমানবন্দরের পর তৃতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর।
সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে পরিকাঠামো সম্প্রসারণ সর্বদাই সরকারের অগ্রাধিকার পেয়েছে।বিমান পরিবহণ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।গুজরাটে অসামরিক বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা হচ্ছে।উড়ান প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই কান্ডালার সঙ্গে মুম্বাইয়ের এবং পোরবন্দর – আমেদাবাদ – মুম্বাই বিমান পরিষেবা শুরু হয়েছে।এছাড়াও, রাজ্যের হিরাসার ও রাজকোটে নতুন গ্রিনফিল্ড বা পরিবেশ-বান্ধব বিমানবন্দর সহ আমেদাবাদ ও ভদোদরা বিমানবন্দরে নতুন এটিসি টাওয়ার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
সুরাটে নতুন ভারত যুব সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যুবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।এরপর, তিনি রাসিলাবেন সেবন্তিলাল শাহ্ভেনাস হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখবেন।
সুরাট পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য নবসারি জেলার ডান্ডি।এখানে তিনি বাপুর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয় লবণ সত্যাগ্রহ স্মৃতিসৌধ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন।এই স্মৃতিসৌধে মহাত্মা গান্ধীর পাশাপাশি, ঐতিহাসিক ডান্ডি লবণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৮০ জন সত্যাগ্রহীর মূর্তি গড়ে তোলা হয়েছে।১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক লবণ সত্যাগ্রহের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঘটনা ও কাহিনীও এই স্মৃতিসৌধে তুলে ধরা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী এই স্মৃতিসৌধটি ঘুরে দেখবেন এবং এক জনসভায় ভাষণ দেবেন।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহ অভিযান ডান্ডি অভিযান নামে অধিক পরিচিত।উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের বিরুদ্ধে গণআইন অমান্য অভিযানের অংশ হিসাবে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ৮০ জন সত্যাগ্রহী আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে ২৪১ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে উপকূলবর্তী গ্রাম ডান্ডিতে পৌঁছে সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করেছিলেন।ইতিহাসে এই ঘটনায় ডান্ডি অভিযান হিসাবে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর এটি দ্বিতীয় গুজরাট সফর।এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি শ্রী মোদী সুরাটের হাজিরাতে আর্মড সিস্টেম কমপ্লেক্স জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছিলেন।গান্ধীনগরে গত ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি আয়োজিত ভাইব্র্যান্ট গুজরাট শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি যোগ দিয়েছিলেন।


