ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ১৮ জুন ক্রোয়েশিয়ায় সরকারি সফরে যান। দুদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বিনিময়ের গতিশীলতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম ক্রোয়েশিয়া সফর।


দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন কৌশলগত সম্পর্ক এবং বহুপাক্ষিক স্তরে সহযোগিতা প্রসার নিয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সর্বাত্মক মতবিনিময় হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, বহুত্ববাদ এবং সমতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ক্রোয়েশিয়া ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে তাঁরা সহমত হয়েছেন। 


প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। উভয় দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে পরিপূরক বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষত পর্যটন, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির বিষয়টিকেও তুলে ধরা হয়েছে। উভয় প্রধানমন্ত্রী দুদেশের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছেন। জাগ্রেব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হিন্দি চেয়ার স্থাপন নিয়েও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। 

 

ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপীয় অর্থনৈতিক করিডর (আইএমইসি) উদ্যোগ সহ সংযোগ সম্পর্ক উন্নতির ওপরে উভয় নেতা গুরুত্ব দিয়েছেন। দুদেশের মধ্যে দীর্ঘ সামুদ্রিক ঐতিহ্যের দিকে তাকিয়ে তাঁরা উভয়ে বন্দর এবং জাহাজ চলাচল ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথা বলেছেন। মধ্য ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমধ্যসাগরীয় প্রবেশপথ হিসেবে ক্রোয়েশিয়ার সম্ভাবনার ক্ষেত্রকে আরও খতিয়ে দেখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনসিএলওএস-এ প্রতিফলিত সমুদ্র সম্বন্ধীয় আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানিয়ে সমুদ্রপথে সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সার্বভৌমত্বের আদর্শ, আঞ্চলিক সংহতি এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতার প্রতিও তাঁরা গুরুত্ব আরোপ করেছেন। 


বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রে উভয় নেতা দুদেশের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা এবং উন্নয়নের ওপর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী গবেষণা ক্ষেত্রে উদ্যোগ এবং ফলিত প্রযুক্তির উন্নয়নে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যবহারিক প্রক্রিয়াকে ভাগ করে নিতে উভয় দেশ তরুণ গবেষক বিনিময়ের ওপরেও গুরুত্ব দিয়েছে। 


প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা পত্র নিয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা সম্বন্ধকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন। নিয়মিত সহযোগিতা বিনিময় ও আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতা সম্ভাবনার দিকটিকেও আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ডিজিটাল প্রযুক্তি,  স্বাস্থ্য পরিষেবা-প্রযুক্তি, কৃষি প্রযুক্তি, স্বচ্ছ প্রযুক্তি, কৃত্রিম মেধা, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করা স্টার্টআপ এবং ইনকিউবেশন কেন্দ্রগুলির মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে ক্রোয়েশীয় এবং ভারতীয় বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডল বিশেষ উপকারে লাগবে। দুদেশের মধ্যে উদ্ভাবন ক্ষেত্রকে আরও ত্বরান্বিত করতে এবং স্টার্টআপগুলির মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় প্রধানমন্ত্রী ভারত-ক্রোয়েশিয়া স্টার্টআপ সেতুবন্ধকে আরও শক্তিশালী করার ওপরেও জোর দিয়েছেন। 

 

সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিনিময়ের গুরুত্বকে স্বীকার করে উভয়পক্ষ ২০২৬ থেকে ২০৩০ সময়কালের মধ্যে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের মধ্যে যোগাযোগ সূত্রকে আরও গভীরতা দেওয়ার ওপরে গুরুত্ব দিয়েছেন। দুদেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে সংস্কৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলে তাঁরা মনে করেন।


দক্ষতা উন্নয়নের ওপরেও উভয় প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রসারে উভয় দেশের মধ্যে কর্মী সম্প্রদায়ের সহজ চলাচলের জন্য  সমঝোতাপত্রের দ্রুত সম্পাদনের ওপরেও গুরুত্ব দেন তাঁরা। 


জম্মু ও কাশ্মীরের পহলগাঁও-য়ে ২২ এপ্রিল সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ক্রোয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি যে সৌহার্দ্য ও সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছিল তার জন্যে  প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই সন্ত্রাসবাদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করেন। সেইসঙ্গে আন্তঃরাষ্ট্রীয় এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসকে তাঁরা ধিক্কার জানিয়েছেন। কোনও অবস্থাতেই এই জাতীয় কার্যকলাপের প্রতি কোনওরকম সমর্থন জানানো হবে না বলে তাঁরা জানান। সন্ত্রাসবাদীদের যারা ছায়া হিসেবে ব্যবহার করছেন তাদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করে এই জাতীয় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রসংঘের বিশ্বব্যাপী কৌশলের পূর্ণ রূপায়ণের প্রতি তারা তাঁদের সমর্থন জানান।  সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের পথকে রোধ করতে রাষ্ট্রসংঘ, এফএটিএফ এবং আঞ্চলিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ স্বর্গ এবং সন্ত্রাসবাদীদের পরিকাঠামোকে ধ্বংস করে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে জড়িত অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত সম্পাদন করার ওপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। 


ইউক্রেন যুদ্ধ সহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বিশ্বের নানা বিষয় নিয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী মত বিনিময় করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইউক্রেনে যথাযথ চিরস্থায়ী শান্তির প্রতিও তারা সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে পনিরাপত্তার বাতাবরণ ভেঙে পড়া নিয়ে উভয় নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে ইজরায়েল ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমন করার ওপরেও গুরুত্ব দেন তাঁরা। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মুক্ত শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধির বাতাবরণ গড়ে তুলতে উভয় নেতা তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। 

 

নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলায় সমর্থন সহ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি উভয় পক্ষ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রসার সহ রাষ্ট্রসংঘ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কারের প্রতি উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়ে তাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকরী করার কথা বলেন। সেইসঙ্গে সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে তাকিয়ে তা যেন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে তার ওপরেও জোর দেন তাঁরা। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী এবং অস্থায়ী সদস্য দেশগুলির সংখ্যা বৃদ্ধির ওপরেও তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। 


ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা নতুন করে গতিপ্রাপ্ত হওয়াকে উভয় নেতা স্বাগত জানিয়েছেন। মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং বহুত্ববাদী সমাজের তা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বলেও তাঁরা মনে করেন। ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কলেজ অফ কমিশনারদের ঐতিহাসিক ভারত সফরে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এক বছরের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার ওপরেও জোর দেন তাঁরা। 


ক্রোয়েশিয়ার তরফ থেকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রতি আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদর্শনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। এই সফরে ইতিবাচক ফলাফলে উভয় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা ভারত ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক প্রসারে পুনরায় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
In a first, NCERT adds Emergency to Class 9 textbooks; chapter details rights suspension and press censorship

Media Coverage

In a first, NCERT adds Emergency to Class 9 textbooks; chapter details rights suspension and press censorship
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
State Visit of Prime Minister to Seychelles (June 27-29, 2026)
June 25, 2026

​At the invitation of the President of Seychelles, Dr. Patrick Herminie, Prime Minister Shri. Narendra Modi will undertake a State Visit to Seychelles from 27-29 June 2026 to attend the Golden Jubilee celebrations of the National Day of Seychelles as the Guest of Honour. Prime Minister last visited Seychelles in 2015. A contingent of the Indian defence forces, along with two Indian Navy ships, will participate in the celebrations.

During the visit, Prime Minister will hold talks with President Herminie to review the full spectrum of bilateral cooperation and exchange views on regional and international issues of mutual interest. Prime Minister will also address the National Assembly of Seychelles and interact with members of the Indian diaspora.

India and Seychelles share a longstanding partnership rooted in shared historical, cultural and people to people ties. As a key maritime neighbour in the Indian Ocean region, Seychelles holds a special place in India’s Vision MAHASAGAR (Mutual and Holistic Advancement for Security and Growth Across Regions) and our commitment to the Global South.

The visit will reaffirm the strong and enduring friendship between India and Seychelles and reinforce the shared commitment of both countries to enhance the bilateral relationship across all sectors.