সুস্থ ভারত
September 06, 2018
শেয়ার
 
Comments

"ভারত সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা উদ্যোগ ৫০ কোটি ভারতীয়র ওপরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভারতের দরিদ্র জনগণকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ আমাদেরকেই নিতে হবে কারণ এই দারিদ্রতার জন্য তাঁরা চিকিৎসার ব্যায়ভার গ্রহণ করতে পারে না"।

- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রত্যেক ভারতীয়র সস্তায় উচ্চমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা পাওয়া উচিত। সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো খুব প্রয়োজনীয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সুস্থ ভারত গড়ে তোলার লক্ষে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য

প্রধানমন্ত্রী মাতৃ সুরক্ষিত মাতৃত্ব অভিযানের মাধ্যমে সুরক্ষিত, সুসংহত এবং উচ্চমানের মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে ৯মাস পর্যন্ত অন্তঃসত্ত্বা মা-কে। মা ও শিশুর সুসাস্থের জন্য প্রায় ১.৩ কোটি টাকা ব্যায়ে গর্ভাবতী মায়েদের চিকিৎসার জন্য ১৩,০৭৮টি স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়াও ৮০.৬৩ লক্ষ গর্ভাবতী মায়েদের টিকাকরণ করা হয়েছে। চিকিৎসার সময় ৬.৫ লক্ষ অতি ঝুঁকি সম্পন্ন গর্ভাবস্থা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।লা হয়েছে। এছাড়াও ৮০.৬৩ লক্ষ গকিৎসার সময় ৬.৫ লক্ষ অতি ঝুঁকি সম্পন্ন গর্ভাবস্থা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মাতৃমাত্রু বন্দনা যোজনার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় সন্তানসম্ভবা বা প্রথম সন্তানের দুগ্ধবতী জননীদের সন্তান হওয়ার আগে ও পরে যথেষ্ট বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। প্রত্যেক বছর প্রায় ৫০ লক্ষ মা-কে ৬০০০ টাকা নগদ দিয়ে এই সাহায্য করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শৈশব হচ্ছে স্বাস্থ্য গঠনের সময়। মিশন ইন্দ্রধনুষ যোজনা হচ্ছে এমনই একটি যোজনা যার মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে সমস্ত শিশুদের ডিপথেরিয়া, হুপিং, কফ, টিটেনাস, পোলিও, টিউবারকিউলসিস, মিসেলস এবং হেপাটাইটিস-বি ইত্যাদি টিকাকরণ করা হয়েছে অথবা হবে।

৫২৮টি জেলায় যেখানে ৮১.৭৮ লক্ষ গর্ভাবতী মহিলা এবং ৩.১৯ কোটি শিশুদের টিকাকরণের মাধ্যমে চার দফায় সম্পন্ন হয়েছে মিশন ইন্দ্রধনুষ প্রকল্প। ইনঅ্যাক্টিভেটেড পোলিও টিকা (আইপিভি) যা মৌখিক টিকাকরণের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী, এর সূচনা করা হয়েছে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে। ৪ কোটিরও বেশি ডোস শিশুদের দেওয়া হয়েছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে রেটা ভাইরাসের টিকা চালু হয়েছে যা প্রায় ১.৫ কোটি শিশুকে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মিসেলস রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে যা এখন অবধি ৮ কোটি শিশুকে দেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের মে মাসে নিউমোকোক্কাল কোনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে তা ইতিমধ্যেই ১৫ লক্ষ শিশুর দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রতিরোধক স্বাস্থ্যসেবা

দৈনন্দিন জীবনে নিত্য নতুন রোগের উদ্ভব হচ্ছে যা মানুষের শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে পৃথীবী পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যোগাসন যা দেহের একাধিক উপকার করে তা একটি জন-আন্দোলনের রুপ নিয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকে প্রত্যেক বছর জুনের ২১ তারিখ আন্তর্জাতিক যোগ দিবষ হিসেবে পালিত হয় যা সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এবং তাতে সারা বিশ্বের মানুষ যোগ দিয়েছেন।

দেশ থেকে অপুষ্টি মুছে ফেলতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পোষণ অভিযানের সুচনা করেছেন। দেশে এই প্রথম এই রকমের উদ্যোগ নেওয়া হল এই ধরণের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য। সঠিক পথে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এবং নির্দিষ্ট লক্ষে এগোলেই অপুষ্ট নিরাময় করা সম্ভব।

সুলভ এবং উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা

২০১৪ সালের মে মাসে মধ্যে কম খরচায় সুরক্ষিত স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে ১০৮৪টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ তার মধ্যে জীবনদায়ী ওষুধগুলিকে অর্থ নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে এর সম্পূর্ণ সুফল ভোগ করেছে ক্রেতারা, যা প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা।

সারা ভারতে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি কেন্দ্র খোলা হয়েছে, সেখান থেকে ঔষধ কিনলে সাশ্রয় হয় প্রায় ৫০ শতাংশ সেই সঙ্গে অমৃত (আফোর্ডেবল মেডিসিন্স এন্ড রিলায়েবল ইমপ্লান্টস ফর ট্রিটমেন্ট) ঔষধ বিপনী থেকে ক্যানসার, হৃদরোগের সঙ্গে হৃদ যন্ত্র প্রতিস্থাপন চিকিৎসার সামগ্রী প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার হৃদরোগের স্টান্ট এবং হাটু প্রতিস্থাসপনের খরচ কমিয়ে দিয়েছে ৫০-৭০ শতাংশ। এই পদক্ষেপ রোগীদের বড়সড় খরচের হাত থেকে রেহাই দিয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ডায়ালিসিস কর্মসূচী ২০১৬ সালে শুরু করা হয়েছে, এর মাধ্যমে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে ডায়ালিসিস করানো হয় এবং ন্যাশনাল হেল্থ মিশনের আওতায় ভর্তুকি দিয়ে সেকেটস করা হয়। এই যোজনার আওতায় প্রায় ২.৫ লক্ষ রোগী এই সুবিধা পেয়ে থাকে এবং প্রায় ২৫ লক্ষ ডায়ালিসিস শিবির করা হয়েছে। এখন প্রায় ৪৯৭টি ডায়ালিসিস অপারেশনাল কেন্দ্র এবং মোট ৩৩৩০টি ডায়ালিসিস মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারত

চিকিৎসার বিপুল খরচ লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে দারিদ্রতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে বিশাল সংখক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা আসরে নেমেছে। আয়ুষ্মান ভারত এরকমই একটি প্রকল্প যেটা সুসংহত, সুলভ এবং উচ্চ মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে থাকে। এটা পৃথিবীর সব থেকে বড় স্বাস্থ্য বীমা, এর আওতায় প্রায় ৫০ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা দেওয়া হবে। এতে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা পাবে প্রতিটি পরিবার। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, ১.৫ লক্ষ উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সারা ভারত জুড়ে হেল্থ এন্ড ওয়েলনেস সেন্টার (এইচডব্লুসিএস) গড়ে তোলা হবে, যা প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দেবে।

গোটা ভারত জুড়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে:

  • ২০টি নতুন এইমস-এর মত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে

  • বিগত চার বছরে ৯২টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে, যার ফলে ১৫,৩৫৪টি এমবিবিএস আসন বৃদ্ধি পেয়েছে

  • ৭৩টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে উন্নত করা হয়েছে

  • ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ছটি কার্যকরী এইমস-এ ১৫৭৫টি হাসপাতাল শয্যা যুক্ত করা হয়েছে
  • ২টি নতুন এইমস-এর ঘোষণা করা হয়েছে ঝাড়খন্ড ও গুজরাতে

মোট ১২,৬৪৬টি পিজি সিট (ব্রড এন্ড  সুপার স্পেসিয়ালিটি কোর্স) বিগত চার বছরে নতুন করে সংযোজন করা হয়েছে

নীতি এবং আইন

প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধানে ২০১৭ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতির প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয়-অর্থনীতি এবং মহামারী সংক্রান্ত চিত্রের ওপর ভর করে বাস্তব সমস্যা এবং আসন্ন চ্যালেঞ্জের পরিবর্তন হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য সবথেকে বেশি অবহেলিত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃতাধীন এনডিএ সরকার তার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকটা। মেন্টাল হেল্থ এক্ট, ২০১৭ মানসিক রোগীদের জন্য অধিকারের ভিত্তিতে একটা কাঠামো তৈরি করেছে ভারতে এবং সেই সঙ্গে মানসিক সমস্যা সম্পন্ন মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা পরিষেবা দিতে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করছে।

রোগ দূরীকরণ

টিউবারকিউলসিস (টিবি) একটি ছোঁয়াচে ব্যাধি। বিশ্বের টিবি আক্রান্তদের মধ্যে এক চতুর্থ অংশই ভারতীয়। ২০৩০ সালের মধ্যে স্থিতিশীল উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ থেকে টিবি সম্পূর্ণ মুছে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত থেকে টিবি মুছে ফেলার উদ্যোগকে আরও জোরদার করা হচ্ছে, ঔষধ নির্ভর এই টিবি রোগ চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ৪ লক্ষ ডট কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। প্রকট টিবি রোগীদের ক্ষেত্রে সরকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় ৫.৫কোটি মানুষের চিকিৎসা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যেহেতু টিবি আক্রান্তের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং রোজকার প্রায় তলানিতে এসে ঠেকে তাই চিকিৎসা চলাকালীন রোগীদের ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

২০১৮ সালের মধ্যেও কুষ্ঠ রোগ, প্রাথমিকভাবে ২০২০ সালের মধ্যে হাম এবং ২০২৫ -এর মধ্যে টিবি দেশ থেকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত সরকার। ভারত মাতৃকালীন ও জন্মপূর্বক টিকাকরণ চালু করেছে ২০১৫ সালের মে মাসে, যার মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বর।

donation
Explore More
আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় ভাষণ

আমাদের ‘চলতা হ্যায়’ মানসিকতা ছেড়ে ‘বদল সাকতা হ্যায়’ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
India claims top 10 in list of fastest-growing cities

Media Coverage

India claims top 10 in list of fastest-growing cities
...

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
শেয়ার
 
Comments

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কোনও দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এটা সকলেরই জানা যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর আলাদা করে জোর দেওয়া হয়েছে। নতুন ভারতের স্বপ্ন চরিতার্থ করার জন্য এনডিএ সরকার রেলপথ, সড়কপথ, জলপথ, আকাশপথ এবং সাধ্যের মধ্যে বাসস্থানের ওপর ব্যাপক জোর দিয়েছে।

রেলপথ

ভারতীয় রেলপথ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের অধীনে রেল ট্র্যাকের পুনর্নবীকরণের গতি, প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং অপসারণ এবং ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেলওয়ে সুরক্ষা বিষয়ে সর্বকালের সেরা রেকর্ড গড়েছে, ২০১৭-১৮ সালে ১০০টিরও কম রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্যে উঠে এসেছে যে, ২০১৩-১৪ সালে ১১৮টি রেল দূর্ঘটনা ঘটেছিল, ২০১৭-১৮ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩টি-তে। তুলে দেওয়া হয়েছে প্রহরাবিহীন ৫,৪৬৯টি লেভেল ক্রসিংকে, ২০০৯-১৪-র তুলনায় ২০ শতাংশের থেকেও বেশি। ২০২২ সালের মধ্যে ব্রডগেজ রুটগুলির সমস্ত প্রহরাবিহীন লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেল উন্নয়নে গতি ফিরছে, ২০১৭-১৮ সালে ট্র্যাক পুনর্নবীকরণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৪০৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, যা ২০১৩-১৪-তে ছিল ২,৯২৬ কিলোমিটার। গত ৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে ২০০৯-১৪ (৭,৬০০কিমি) সালের থেকে অনেক বেশি (৯,৫২৮ কিমি) কাজ করেছে।

এই প্রথমবার উত্তর-পূর্ব ভারত ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের ফলে দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হল। ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পর মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামকে রেলওয়ে মানচিত্র মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।

নতুন ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজন। মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদের মধ্যে যে বুলেট ট্রেন চালু করা পরিকল্পনা করা হয়েছে, এতে করে এই রুটে যাতায়াতের সময় ৮ ঘন্টা থেকে ২ ঘন্টায় নেমে আসবে।

বিমান পরিষেবা

অসামরিক বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও আমুল পরিবর্তন আসছে। উড়ান (উড়ে দেশ কা আম নাগরিক) কর্মসূচির আওতায় সাধ্যের মধ্যে আকাশপথে যাত্রা সম্ভব হয়েছে, মাত্র ৪ বছরের মধ্যে ২৫টি বিমানবন্দর এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৭৫টি বিমানবন্দর ছিল দেশে।  আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালু করা হয়েছে দেশের পিছিয়ে পরা ছোট বিমানবন্দরগুলিতে, আঞ্চলিক রুটে এক ঘন্টার যাত্রা পথে বিমানের নির্ধারিত ভাড়া ২৫০০ টাকা করার ফলে অনেক ভারতীয়র বিমানে যাত্রা করার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। যার ফলে এই প্রথমবার দেশের বহু মানুষ শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনে নয় বিমানে যাতায়াত করেছেন।

বিগত তিন যাত্রী পরিবহনের মাত্রা ১৮-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিমান পরিবহণ ক্ষেত্ররূপে চিহ্নিত হয়েছে। ২০১৭ সালে আন্তঃদেশীয় বিমানের যাত্রী সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন অতিক্রম করেছে।

জাহাজ চলাচল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের অধীনে ভারত নৌবিভাগেও ব্যাপক উন্নতি করেছে। বন্দর অঞ্চলগুলি উন্নত হওয়ার ফলে দেশের বড় বড় বন্দরগুলিতে যাতায়াতের সমব কমে গেছে প্রায় তিনগুন, ২০১৩-১৪ সালে যেখানে ৯৪ ঘন্টা লাগত ২০১৭-১৮ সালে তা কমে দাড়িয়েছে ৬৪ ঘন্টায়।

প্রধান বান্দরগুলিতে পণ্য পরিবহনের উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবর্ষের ৫৭০.৩২ মেট্রিক টন থেকে কমে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে ৫৪৫.৭৯ মেট্রিক টন হয়েছিল। কিন্তু এনডিএ সরকারের অধীনে ১০০ মেট্রিক টনেও থেকেও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ৬৭৯.৩৬৭ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে।

অন্তর্দেশীয় জলপথে যাতায়াত বাড়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় খরচ কমেছে অনেকটা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে এবং সেইসঙ্গে কমেছে দূষণ। বিগত ৪ বছরে ১০৬টি জাতীয় জলপথ যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বিগত ৩০ বছর ধরে যেখানে ছিল মাত্র ৫টি জাতীয় জলপথ।

সড়ক উন্নয়ন

রূপান্তরমূলক প্রকল্প ভারত মালা পরিযোজনার অধীনে মাল্টি-মোডাল পদ্ধতিতে জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণ একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০১৭-১৮ সালে জাতীয় সড়ক ১,২০,৫৪৩ কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ২০১৩-১৪ সালে ছিল ৯২,৮৫১ কিলোমিটার।

সুরক্ষিত সড়কের জন্য সেতু ভারত প্রকল্পে ২০,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে সমস্ত জাতীয় মহাসড়ককে রেলওয়ে ক্রসিং থেকে মুক্ত করার জন্য রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে।

সড়ক নির্মাণের গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে প্রতিদিনে ১২ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হত, যা ২০১৭-১৮ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ কিলোমিটারে।

 

জম্মুতে ভারতের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গ চেনানি-নাসরি তৈরি করার পাশাপাশি অরুনাচল প্রদেশে ধোলা-সাদিয়া ভারতের দীর্ঘতম সেতু নির্মানের মাধ্যমে ভারতের দূরতমস্থানে উন্নয়ন পৌছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি সরকার নিয়েছিল তা পালন করতে পেরেছে। কোটা অঞ্চলে ভারুচ ও চম্বলের মাঝে নর্মদা নদীর ওপরে সেতু নির্মাণ করার মাধ্যমে আরো শক্তিশালী হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

গ্রামীন উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অনুঘটকের মতো কাজ করে। বিগত ৪ বছরে প্রায় ১.৬৯ লক্ষ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালে দিনে ৬৯ কিলোমিটার গ্রামীন সড়ক নির্মান করা হত, ২০১৭-১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৩৪ কিলোমিটার প্রতিদিনে। বর্তমানে, গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেড়েছে প্রায় ৮২ শতাংশের বেশি, যা ২০১৪ সালে ছিল ৫৬ শতাংশ, এর ফলে গ্রামগুলি ভারতের বিকাশের কাহানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যটন বারানোর পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের জন্য চার ধাম মহার্মাগ বিকাশ পরিযোজনার সুচনা করা হয়েছে। এর ফলে যাত্রায় গতি ও সুরক্ষা এসেছে এবং সহজলভ্য হয়েছে যাত্রা। এর অধীনে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার আনুমানিক ব্যয়ে ৯০০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে

পরিকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করতে নানা ধরনের কৌশল গ্ৰহন করা হয়েছে তাতে মজবুত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। শুধুমাত্র এনডিএ সরকারের উদ্যোগে ২০১৭-১৮ সালে রেকর্ড পরিমান মাল পরিবহন (১,১৬০ মেট্রিক টন) হয়েছে।

নগর উন্নয়ন

স্মার্ট সিটির মাধ্যমে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০টি নগর কেন্দ্র বেছে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা ও উন্নতিসাধন করা সম্ভব হয়েছে। এই শহরগুলিতে বিভিন্ন রকমের উন্নয়নমূলক কাজে প্রায় ১০ কোটি ভারতীয় প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত করেছে। এই প্রকল্পে খরচ হবে প্রায় ২,০১,৯৭৯ কোটি টাকা।  

গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ক্রয়সীমার মধ্যে প্রায় ১ কোটি গৃহ নির্মান করা সম্ভব হয়েছে। মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ৪ শতাংশ ও ৩ শতাংশ সুদের হারে ৯ লক্ষ ও ১২ লক্ষ টাকা গৃহ ঝণ প্রদান করা হয়েছে।