নমস্কার!
দেবভূমি উত্তরাখন্ডে তরুণ বন্ধুদের রোজগার মেলা উপলক্ষে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আজ যারা নিয়োগপত্র পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই দিনটি এক নতুন সূচনার বার্তা বাহক। এটা নিশ্চিতভাবে আপনাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসবে। যে সেবাকর্মে আজ আপনারা অবতীর্ণ হচ্ছেন তা কেবল আপনাদের জীবনেরই রূপান্তর ঘটাবে না, এক বিরাট পরিবর্তন সাধনের মাধ্যম হিসেবেও তা কাজ করবে। রাজ্য তথা দেশের উন্নয়নে আপনাদেরকে সর্বোৎকৃষ্ট অবদান রাখতে হবে। আপনাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষা ক্ষেত্রে নিযুক্ত হবেন। নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতির মাধ্যমে আমরা নতুন শতাব্দীর ভারতীয় তরুণদের উপযুক্ত করে তোলার সংকল্প নিয়েছি। উত্তরাখন্ডের পৃষ্ঠভূমিতে এই সংকল্প রূপায়ণের দায়ভার আপনাদের মতো তরুণদের কাঁধে ন্যস্ত।
বন্ধুগণ,
কেন্দ্রীয় সরকার হোক অথবা উত্তরাখন্ডের বিজেপি সরকারই হোক, আমরা সব সময়ই এটা সুনিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে প্রত্যেক তরুণ-তরুণী তার নিজের ইচ্ছা এবং সক্ষমতা অনুযায়ী নতুন সম্ভাবনার সুযোগ পান এবং অগ্রবর্তী হওয়ার লক্ষ্যে তারা সঠিক মাধ্যম খুঁজে পাক। এই লক্ষ্যপূরণে সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের এই অভিযান একটি উদ্যোগ। গত কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের যুবক-যুবতীদের কয়েক লক্ষ নিয়োগপত্র দিয়েছে। দেশ জুড়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে বিরাটভাবে অভিযান চলছে। আমি খুশি যে উত্তরাখন্ড এই অভিযানে যোগ দিয়েছে।
বন্ধুগণ,
‘পার্বত্য এলাকায় জল এবং যুবশক্তিকে কাজে লাগানো হয়না’ পুরনো এই বিশ্বাসে আমাদের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এই কারণবশত কেন্দ্রীয় সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে যাতে উত্তরাখন্ডে যুব সম্প্রদায় তাদের গ্রামে ফিরে যায়। এ’জন্য পাহাড়ে নতুন কর্মসংস্থান এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। আজ আপনারা দেখছেন যে অনেক রাস্তা, অনেক রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে। উত্তরাখন্ডের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ প্রান্তবর্তী গ্রামগুলিতে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। এ’জন্য বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। নির্মাণ কাজ হোক, কারিগরি বা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কাঁচামাল বা দোকানই হোক কাজের সুযোগ সর্বত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবহণ ক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকায় যুব সম্প্রদায় নতুন সুযোগ পাচ্ছেন। ইতিপূর্বে এই জাতীয় কাজের ক্ষেত্রে উত্তরাখন্ডের গ্রামাঞ্চলের যুবদেরকে শহরাঞ্চলে যেতে হতো। আজ হাজারো যুব প্রত্যেক গ্রামে ইন্টারনেট পরিষেবা যোগানের কাজে যুক্ত সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্রগুলিতে কাজ পাচ্ছেন।
বন্ধুগণ,
উত্তরাখন্ডের দূরবর্তী এলাকাগুলিও সড়ক, রেল এবং ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় পর্যটন ক্ষেত্র প্রসারলাভ করছে। পর্যটন ম্যাপে নতুন নতুন পর্যটন এলাকা জায়গা পাচ্ছে। ফলস্বরূপ উত্তরাখন্ডের যুব সম্প্রদায় বাড়ির কাছাকাছি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন ইতিপূর্বে যে জন্য তাদেরকে শহরে যেতে হতো। মুদ্রা যোজনা পর্যটন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এবং স্বনিযুক্তি প্রসারে দারুনভাবে সাহায্য করছে। এই প্রকল্পে যারা দোকান, ধাবা, গেস্ট হাউস, হোম-স্টে’র মতো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তারা কোনোরকম জমানত ছাড়াই ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তারা ঋণের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশ জুড়ে এ পর্যন্ত ৩৮ কোটি মুদ্রা ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ঋণের সুবিধা পেয়ে এই প্রথম ৮ কোটি যুব উদ্যোগপতি হয়ে উঠেছেন। এক্ষেত্রে তপশীলি জাতি, উপজাতি এবং অন্য অনগ্রসর শ্রেণীর মহিলা এবং তরুণ বন্ধুদের সংখ্যা সর্বাধিক। উত্তরাখন্ডের কয়েক সহস্র যুবক-যুবতী এই সুযোগ লাভ করেছেন।
বন্ধুগণ,
ভারতের যুব সম্প্রদায়ের জন্য অসাধারণ সম্ভাবনার এটা এক ‘অমৃতকাল’। আপনাদের সেবাকর্মের মধ্যে দিয়ে এতে সর্বাধিক গতি সঞ্চার করতে হবে। আরও উন্নত উত্তরাখন্ড গড়ে তুলতে উত্তরাখন্ডের মানুষের সেবায় আপনারা ব্যাপৃত হবেন এই আশা নিয়ে আরও একবার আপনাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। এইসব প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশ আরও বলিষ্ঠ, সক্ষম এবং সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
প্রধানমন্ত্রীর মূল ভাষণটি হিন্দিতে।


