কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহকর্মীগণ, দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শ্রী রাজনাথ সিং জি, মঞ্চে উপস্থিত অন্য সকল বিশিষ্টজন, এনসিসি এবং এনএসএস ক্যাডেটরা যাঁরা সারা দেশ থেকে এসেছেন, ট্যাবলো শিল্পীরা, রাষ্ট্রীয় রঙ্গশালা থেকে সহকর্মীগণ এবং আমার প্রিয় তরুণ বন্ধুরা। আপনাদের সকলের কঠোর পরিশ্রম এখানে দৃশ্যমান হচ্ছে। আপনারা দারুণ সমন্বয়ের মাধ্যমে আপনাদের অনুষ্ঠান পরিবেশন করেছেন।
কিন্তু বন্ধুগণ,
আজ একটি দুঃখজনক ঘটনার দিন আমাদের কাছে। আজ সকালে মহারাষ্ট্রে একটি দুঃখজনক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওই দুর্ঘটনা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার জি এবং কয়েকজন সহকর্মীকে। অজিত দাদা মহারাষ্ট্র এবং দেশের উন্নয়নে মহান অবদান রেখে গেছেন। বিশেষ করে গ্রামে গ্রামে জীবনকে আরও সুন্দর করার জন্য তিনি সবসময় এগিয়ে গিয়ে কাজ করেছেন। আমি অজিত পাওয়ার জি-র পরিবারকে সমবেদনা জানাই। এই দুঃখের সময়ে দুর্ঘটনায় হারানো সহকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের পাশে আছি আমরা।
বন্ধুগণ,
এই দুঃখ এবং শোকের মুহূর্তের মধ্যে আমি এখানে উপস্থিত সকল ক্যাডেটকে অভিনন্দনও জানাই। যে সব ক্যাডেট এবং অফিসার বিভিন্ন বন্ধু দেশ থেকে এসেছেন। এবারেও গার্ল ক্যাডেটরা এসেছেন অনেক সংখ্যায়। আমি তাঁদের বিশেষ করে অভিনন্দন জানাই।

বন্ধুগণ,
এনসিসি এমন একটি সংগঠন, এমন একটি আন্দোলন যা ভারতের যুবশক্তিকে করে আত্মবিশ্বাসী। তাঁদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে, তাঁদের সচেতন করে তোলে এবং তাঁদের দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ নাগরিক করে তোলে। আপনারা সকলে প্রতি বছর আরও শক্তির সঙ্গে আপনাদের ভূমিকা পালন করে চলেছেন। গত কয়েক বছরে এনসিসি ক্যাডেটের সংখ্যা ১৪ লক্ষ থেকে বেড়ে ২০ লক্ষ হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের সীমান্ত অঞ্চলে, উপকূল অঞ্চলে এনসিসি ক্যাডেটদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আমার তরুণ বন্ধুগণ,
এনসিসি তরুণদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম এবং এই প্ল্যাটফর্মে একজন অবস্থান করে গর্বের সঙ্গে তাঁদের ঐতিহ্য নিয়ে। একটা উদাহরণ দিই, এবছর এনসিসি পূর্ণ উৎসাহ, উদ্দীপনার সঙ্গে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পালন করেছে। দেশের প্রতিটি কোণে আপনারা অনুষ্ঠান করেছেন। পরম বীর সাগর যাত্রাও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আপনারা সকলেই জানেন, কয়েক বছর আগে সরকার আন্দামান ও নিকোবরের ২১টি দ্বীপপুঞ্জকে আমাদের পরমবীর চক্র বিজেতাদের নামে নামকরণ করেছে। আপনারা সমুদ্র যাত্রার মাধ্যমে জাতীয় নায়কদের সম্মান জানানোর মনোভাবকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। একই রকম ভাবে লাক্ষ্মাদ্বীপে দ্বীপ উৎসবের মাধ্যমে আপনারা সব মিলিয়ে সমুদ্র, সংস্কৃতি এবং প্রকৃতির উদযাপন করেছেন।
বন্ধুগণ,
এনসিসি আমাদের স্মারকগুলির ইতিহাস মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত করে তুলেছে। আপনারা বাইসাইকেল যাত্রার মাধ্যমে বাজিরাও পেশওয়াজির সাহস, মহান যোদ্ধা লাচিত বরফুকানজির দক্ষতা এবং ভগবান বীরসা মুন্ডার নেতৃত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা জাগিয়েছেন। এই সব সাহসী কাজের জন্য আমি আপনাদের উচ্চ প্রশংসা করি। যাঁরা আজ সম্মানিত হলেন তাঁদের জানাই শুভেচ্ছা।

বন্ধুগণ,
আমি লাল কেল্লা থেকে বলেছিলাম – এটা সময়, এটাই সঠিক সময়। আমাদের দেশের তরুণদের জন্য আজকের সময়টাই সবচেয়ে বেশি সুযোগের সময়। এটা সরকারের প্রয়াস যে আমাদের তরুণরা যেন এই সময়ের সবচেয়ে বেশি সুযোগ পায়। গতকালই আপনারা এর উদাহরণ দেখেছেন। ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ভারত ওমান, নিউ জিল্যান্ড, ব্রিটেন, আরব আমিরশাহী, অস্ট্রেলিয়া এবং মরিশাসের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই সব চুক্তিতে আমাদের লক্ষ্য কোটি কোটি তরুণদের জন্য অগুন্তি সুযোগ নিয়ে আসা।
বন্ধুগণ,
আজ সমগ্র বিশ্ব গভীর আস্থা নিয়ে তরুণ ভারতের তরুণ সমাজের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্বের এই আস্থার কারণ – দক্ষতা এবং মূল্যবোধ! ভারতের তরুণদের আছে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, আমাদের তরুণরা সব ধরনের বৈচিত্র্যকে শ্রদ্ধা জানানোর মূল্যবোধ বহন করছে, ভারতের তরুণদের মধ্যে সমগ্র বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে ভাবার মূল্যবোধ আছে। এবং সেই জন্য যেখানেই ভারতের তরুণরা যায় তাঁরা সহজেই সেই দেশের মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, তাঁরা তাঁদের হৃদয় জয় করে। আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে সেই দেশের উন্নয়নে সাহায্য করি। এটাই আমাদের মূল্যবোধ, এটাই আমাদের প্রকৃতি। মাতৃভূমির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং কর্মভূমির প্রতি অতুলনীয় নিষ্ঠা, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।
বন্ধুগণ,
যখন আমি বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে কথা বলি এবং সেই কথাবার্তার ভিত্তিতে আমি বলি এবং পুরো দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে, ভারতের তরুণরা কঠোর পরিশ্রমী এবং দুর্দান্ত পেশাদার এবং সেই জন্য ভারতের তরুণদের জন্য চাহিদা খুব বেশি। এই যেমন উপসাগরীয় দেশগুলির দিকে তাকান, সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ বহু বছর ধরে কাজ করেছেন। আমাদের চিকিৎসক এবং ইঞ্জিনিয়াররা অনেক দেশে দারুণ স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা এবং দারুণ পরিকাঠামো গড়ে তুলছে। শিক্ষকরা অনেক দেশেই সমাজে নতুন মূল্যবোধ যুক্ত করছে।

বন্ধুগণ,
তাঁদের এই বিশ্বের প্রতি অবদানের পাশাপাশি সারা বিশ্ব আমাদের দেশের তরুণদের সাফল্যের প্রশস্তি করছে। এই সব তরুণদের জন্য ভারত বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তি মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে এবং এখন এই তরুণ প্রজন্মের শক্তি স্টার্টআপে, মহাকাশে, ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সব জায়গায় নতুন বিপ্লব এনেছে।
বন্ধুগণ,
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে যে সহমত হয়েছে বিশ্ব তার প্রশংসা করে বলছে ‘মাদার অফ অল ডিলস’। এটা বিশ্বের কাছে পটপরিবর্তনের চুক্তি। এই এফটিএ হল আপনাদের জন্য ‘ফ্রিডম টু অ্যাস্পায়ার’। এই চুক্তি বিশ্বের জিডিপি-র এক চতুর্থাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক তৃতীয়াংশ।
বন্ধুগণ,
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের চুক্তি মানে বিশ্বের ২৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি। এর সুযোগ পাবে ভারতের স্টার্টআপরা। অর্থ এবং উদ্ভাবন পরিমণ্ডলের সুবিধা পাবে ভারতীয় স্টার্টআপরা আরও সহজ পথে। এই চুক্তি থেকে আমাদের সৃজনশীল অর্থনীতি – ফিল্ম, গেমিং, ফ্যাশন, ডিজিটাল কন্ট্রেন্ট, মিউজিক এবং ডিজাইন অত্যন্ত উপকৃত হবে এবং এর পাশাপাশি গবেষণা এবং শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি এবং অন্যান্য পেশাদারি পরিষেবায় ভারতের তরুণদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বন্ধুগণ,
এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলা হচ্ছে, কারণ এটা সর্বাত্মক, অত্যন্ত গভীর, নতুন উচ্চতার এবং সুবিধার তালিকা অনেক দীর্ঘ। এটা আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে আরও গতি দেবে। মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড সংকল্পকে শক্তি যোগাবে। কারণ, এই চুক্তিতে ৯৯ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর শুল্ক হয় থাকবে না বা অত্যন্ত কম হবে। ফলে, ভারতের বস্ত্রশিল্প, চর্মশিল্প, রত্ন এবং গহনা, পাদুকা শিল্প এবং ইঞ্জনিয়ারিং পণ্য এবং এমএসএমই-গুলি অত্যন্ত উপকৃত হবে। আমাদের হস্তশিল্পীরা, কারুশিল্পীরা এবং ছোট উদ্যোগপতিরা ২৭টি ইউরোপীয় দেশের বিশাল বাজারে পৌঁছোবার সরাসরি সুযোগ পাবেন।

বন্ধুগণ,
এই চুক্তির আর একটি বড় দিক আছে। ভারতে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে। দেশে নতুন নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক্স, কেমিক্যাল, ফার্মা এবং অন্য উৎপাদনশীল কারখানা তৈরি হবে। এর থেকে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং মৎস্য শিল্পের জন্য বড় বাজারের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। এটা কৃষক, মৎস্যজীবী এবং গ্রামীণ তরুণ সমাজের জন্য বিশাল সুযোগ।
আমার তরুণ বন্ধুরা,
এই এফটিএ ভারতের তরুণদের সরাসরি যোগ ঘটিয়ে দেবে ইউরোপের চাকরির বাজারের সঙ্গে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং, গ্রিনটেক, ডিজাইন, লজিস্টিকস এবং উন্নত উৎপাদন শিল্পে, অসংখ্য সুযোগ তৈরি হবে। এর অর্থ ভারতের তরুণদের জন্য, আপনাদের জন্য ২৭টি দেশে নতুন সুযোগের পথ খুলে যাবে।
বন্ধুগণ,
সরকার এই সব আন্তর্জাতিক সুযোগ তৈরি করছে, যা হবে আরও প্রসারিত সার্বিক সংস্কারের মাধ্যমে। সংস্কারের অর্থ দেশ আজ তরুণ শক্তির সামনে থেকে সব ধরনের বাধা সরিয়ে দিচ্ছে। দেশের সামনে সুযোগ বাড়ছে। এই মূল্যবোধ এবং আপনাদের এই শৃঙ্খলা, যা জড়িয়ে আছে এনসিসি-র সঙ্গে তা যেন সোনার সোহাগা।
বন্ধুগণ,
আপনারা এখানে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একটি সুন্দর ট্যাবলো প্রদর্শন করেছেন। অপারেশন সিঁদুরের সময় আপনাদের প্রয়াসের আমি বিশেষভাবে প্রশংসা করি। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের এনসিসি ক্যাডেটরা ভালোভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কেউ কেউ সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতিতে সাহায্য করেছিল, কেউ রক্ত দান শিবিরের আয়োজন করে ছিল, কেউ ফাস্টএইড ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা করেছিলেন। আপনারা দেখিয়েছেন যে, কুচকাওয়াজের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এনসিসি-তে ‘দেশই প্রথম’ এই ভাবনাটার প্রশিক্ষণ হয়। এটাই এনসিসি-র কাছ থেকে পাওয়া দেশাত্ববোধ। এটাই সেই নেতৃত্ব যা দেশের জন্য কাজের অনুপ্রেরণা দেয় সঙ্কটের সময়ে পূর্ণ শক্তিতে। আর এটাই যা এনসিসি আমাদের শেখায়। আমরা সেখান থেকে শিখি। আমি যখন এনসিসি-তে ছিলাম আমার দেশই প্রথম এই মনোভাব শক্তিশালী হয়েছিল এবং আজ আমি গর্বিত বোধ করছি এনসিসি-তে আপনাদের তা শিখতে দেখে।

বন্ধুগণ,
অপারেশন সিঁদুর আরও একবার ভারতের সম্ভাবনা এবং আমাদের সেনাবাহিনীর শৌর্যকে তুলে ধরেছে। অপারেশন সিঁদুর এও দেখিয়েছে আমাদের দেশজ অস্ত্রশস্ত্র কতটা উন্নত এবং উচ্চ প্রযুক্তির।
বন্ধুগণ,
বর্তমানে আধুনিক যুদ্ধে তরুণদের দক্ষতার ভূমিকা অনেক বেড়েছে। যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে ট্যাঙ্ক, বন্দুক এবং গোলায় সীমিত নয়। বর্তমানে যুদ্ধ লড়া হয় অনেক ফ্রন্টে। বর্তমানে যুদ্ধ হয় কোডে এবং ক্লাউডে। যে সব দেশ প্রযুক্তিতে পিছিয়ে তারা শুধুমাত্র অর্থনীতিতে নয়, নিরাপত্তাতেও পিছিয়ে।
সেই জন্য বন্ধুগণ,
তরুণ হিসেবে আমরা আমাদের দেশের জন্য নতুন কী উদ্ভাবন করছি – এই কিছু করার মনোভাব দেশাত্ববোধকে শক্তিশালী করে এবং দেশের নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখে। আপনারা সকলে জানেন বর্তমানে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে সেনাবাহিনীতে উদ্ভাবনী চিন্তাযুক্ত তরুণ মানুষের জন্য। এমনকী প্রযুক্তির মাধ্যমে। বর্তমানে আমাদের তরুণদের প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ চমৎকার কাজ করছে। বর্তমানে মেড ইন ইন্ডিয়া ড্রোন নিয়ে কাজ হচ্ছে। এআই এবং প্রতিরক্ষা উদ্ভাবন আমাদের বাহিনীকে আধুনিক করে তুলছে। সেই জন্য আমাদের তরুণ বন্ধুদের সম্ভাবনার ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে এবং আজ আমি চাই যাঁরা এখানে বসে আছেন শুধু তাঁরা নন, দেশের কোটি কোটি যুবা যেন এর সুযোগ নেয়।
বন্ধুগণ,
দেশ ৩ দিন আগে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটদাতা দিবস উদযাপন করলো। এই দিনে আমি দেশবাসীকে একটি চিঠি লিখেছিলাম। জাতীয় ভোটদাতা দিবস কর্তব্য জ্ঞানের উদযাপন। সেই জ্ঞান যা আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যাস্ত করেছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের সেই সব দেশের অন্যতম যেখানে তরুণ ভোটদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। যখন এই তরুণ সমাজ ভোটদানের যোগ্য হবে, ১৮ বছর বয়স প্রাপ্ত হবে, তখন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার শক্তি পাবে। সেই জন্য আমাদের প্রয়োজন দেশে একটি নতুন প্রথা চালু করা। আমি চাই এনসিসি-এনএসএস এবং ‘মেরা যুবা ভারত’ সংস্থা, ‘মাই ভারত’ সংগঠন যেন প্রতি বছর ২৫ জানুয়ারি একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই দিনে প্রথমবারের ভোটদাতাদের সম্মানে একটা বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন যেন করা হয়। আমার পুরো বিশ্বাস আছে যে এই প্রয়াস আমাদের তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বজ্ঞান বৃদ্ধি করবে এবং আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।

বন্ধুগণ,
বিকশিত ভারতের অর্থ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সীমিত নয়, নাগরিক হিসেবে আমাদের ব্যবহারও বিকশিত ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে আমাদের কর্তব্যকে। উদাহারণ স্বরূপ আপনারা দেখবেন স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করতে সরকারের অবদান থাকতে পারে। যদি কেউ এটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আমি গর্বের সঙ্গে বলতে পারি সেই কাজ করেছে আমাদের দেশের নাগরিকরা। আমাদের তরুণ সমাজ, আমাদের ছোট শিশুরা, বাড়ির ভেতরে – বাইরে পরিচ্ছন্নতা একটা অভ্যাস, একটা জীবনশৈলী, একটা মূল্যবোধ। আমাদের এই নাগরিক কর্তব্যকে জীবনের অঙ্গ করে নিতে হবে। বাড়ির ভেতরে যে সৌন্দর্য দেখতে চাই সেই একই মনোভাব নিয়ে আমাদের শহরকে সুন্দর করে তুলতে হবে এবং তাকে সুন্দর রাখতে হবে। এখানে উপস্থিত প্রত্যেক তরুণ বন্ধুকে আমি বলতে চাই সপ্তাহে কোন এক দিন এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রচার চালান। এনসিসি-এনএসএস এটা ভালোভাবে করতে পারে। আপনাদের কাছাকাছি কোন জায়গায় এটা করার জন্য পরিকল্পনা করুন।
বন্ধুগণ,
আমি জেনে খুশি যে, ‘এক পেঢ় মা কে নাম’ অভিযানে এনসিসি প্রায় ৮ লক্ষ গাছ লাগিয়েছে। যে গাছ লাগানো হয়েছে তা যেন ভালোভাবে বেড়ে ওঠে সেটা দেখাও আমাদের কর্তব্য।
বন্ধুগণ,
তরুণ সমাজের শক্তির একটি পরীক্ষা আগামীদিনগুলিতে আমরা কীভাবে আরও বেশি ফিট থাকবো। ফিটনেস শুধুমাত্র কয়েক মিনিটের ব্যায়াম নয়, এটা আমাদের অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে হবে। খাদ্যাভাস থেকে দৈনন্দিন কার্যের তালিকা একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনও জরুরি। আমার জেনে আনন্দ হচ্ছে যে, আপনারা ফিট ইন্ডিয়া অভিযানকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। এনসিসি-র ক্যাডেটরা খেলাধুলাতেও ভালো ফলাফল করেছে।

বন্ধুগণ,
বর্তমানে আপনাদের তরুণদের মধ্যে আমি স্থূলতার বিষয়টি আবার তুলছি। গবেষণায় দেখা গেছে যে আগামীদিন ভারতে প্রতি ৩ জনের মধ্যে একজন স্থূলত্বের সমস্যার ভুগবে। এই স্থূলত্বের সমস্যা, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, উচ্চ রক্তচাপ এবং এই ধরনের নানা রোগ দেশে বাড়ছে। আমাদের তরুণরা এর থেকে প্রভাবিত হতে পারেন। সেই জন্য আমাদের এখন থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজনীয়। আমাদের চেষ্টা করতে হবে তেল কম খাওয়ার। আমি কিছু দিন আগেই আবেদন করেছিলাম খাবারে তেলের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমাতে। আজ আবার আমি আপনাদের তরুণদের কাছে এই একই আবেদন রাখতে চাই।
বন্ধুগণ,
এনসিসি শুধুমাত্র আপনাদের কদমতাল শেখায় না, এই সংগঠন আপনাদের দায়িত্ব নিয়ে বাঁচতে শেখায়। এখানে আপনারা সেই দক্ষতা, সেই মূল্যবোধ শেখেন যা আপনাকে আরও ভালো নাগরিক হতে সাহায্য করে। সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনে আপনারা যে অভিজ্ঞতা পেলেন তা আপনাদের ব্যক্তিত্বকে আরও মার্জিত করবে। আপনারা জীবনের প্রত্যেক পরীক্ষায় যেন সফল হন এবং বিকশিত ভারত গঠনে আপনাদের অবদান যেন আরও উজ্জ্বল হয়। আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
ভারত মাতা কি জয়!
ভারত মাতা কি জয়!
এবং যখন ভারত বর্তমানে বন্দে মাতরম ১৫০-এ অবগ্রাহণ করছে, তখন আসে –
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
বন্দে মাতরম! বন্দে মাতরম!
অপনাদের অনেক ধন্যবাদ।


