নমস্কার!
গত সপ্তাহে বাজেট ওয়েবিনার সিরিজের প্রথম অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়েছিল এবং আমি জানতে পেরেছি যে সেটি অত্যন্ত সফল হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রত্যেকেই খুব চমৎকার পরামর্শ দিয়েছেন। আপনাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। আজ এই সিরিজের দ্বিতীয় ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমাকে জানানো হয়েছে যে, আজ হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য পরামর্শ দিতে চলেছেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বাজেট নিয়ে এত বড় পরিসরে আলোচনা একটি অত্যন্ত সফল আয়োজন। আপনারা সবাই সময় বের করে এই ওয়েবনারে যোগ দিয়েছেন, সেজন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই এবং স্বাগত জানাই। এই ওয়েবিনারের মূল বিষয়বস্তু বা থিম হলো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নিরন্তর শক্তিশালী করা। আজ যখন ভারত তার মজবুত অর্থনীতির কারণে গোটা বিশ্বের আশার আলো হয়ে উঠেছে, যখন আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল নতুন রূপ নিচ্ছে, তখন অর্থনীতির দ্রুত অগ্রগতি ‘বিকশিত ভারত’-এর এক বিশাল ভিত্তি। আমাদের দিকনির্দেশ স্পষ্ট, আমাদের সংকল্পও স্পষ্ট— আরও গড়ুন, আরও উৎপাদন করুন, আরও সংযোগ তৈরি করুন; আর এখন প্রয়োজন আরও বেশি রপ্তানি করা। আজকের এই মন্থন থেকে যে পরামর্শগুলো উঠে আসবে, সেগুলো নিশ্চিতভাবেই একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
বন্ধুরা,
আপনারা সবাই জানেন যে ম্যানুফ্যাকচারিং, লজিস্টিকস, আমাদের এমএসএমই, ক্ষুদ্র শিল্প, কুটির শিল্প এবং আমাদের ছোট-বড় শহরগুলো, এগুলো অর্থনীতির স্তম্ভ হিসেবে দেখতে আলাদা মনে হলেও আসলে প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে যুক্ত। যেমন, শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং নতুন সুযোগ তৈরি করে এবং এর ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। প্রতিযোগিতামূলক এমএসএমই নমনীয়তা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেয়। উন্নত লজিস্টিকস খরচ কমায়। সুপরিকল্পিত শহরগুলি বিনিয়োগ এবং প্রতিভা—উভয়কেই আকর্ষণ করে। এই বছরের বাজেট এই প্রতিটি স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে বন্ধুরা,
শুধুমাত্র দিকনির্দেশনা থাকলেই আপনা-আপনি ফল পাওয়া যায় না। বাস্তবে পরিবর্তন তখনই আসে যখন শিল্পজগত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজ্য সরকারগুলি মিলে তাকে বাস্তবে রূপ দেয়। আমার প্রত্যাশা হলো, এই ওয়েবিনারে আপনারা যখন আলোচনা করবেন, তখন কিছু বিষয়কে অবশ্যই অগ্রাধিকার দেবেন। যেমন—কীভাবে ম্যানুফ্যাকচারিং এবং উৎপাদন বাড়ানো যায়, খরচ কীভাবে প্রতিযোগিতামূলক করা যায়, বিনিয়োগের প্রবাহ কীভাবে ত্বরান্বিত হয় এবং উন্নয়ন কীভাবে দেশের প্রতিটি কোণে পৌঁছে দেওয়া যায়। এই দিকগুলোতে আপনাদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হবে।

বন্ধুরা,
ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে দেশ আজ তার শিল্প সংক্রান্ত সক্ষমতাকে শক্তিশালী করছে। এই পথে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলোকেও দূর করা হচ্ছে। ডেডিকেটেড রেয়ার আর্থ করিডোর, কন্টেইনার ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমাদের বাণিজ্যিক ইকোসিস্টেমকে মজবুত করার চেষ্টা করছি। বাজেটে ‘বায়োফার্মা শক্তি মিশন’-এর ঘোষণাও করা হয়েছে। এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো ভারতকে বায়োলজিকস এবং নেক্সট-জেনারেশন থেরাপির ক্ষেত্রে একটি গ্লোবাল হাবে পরিণত করা। আমরা অ্যাডভান্সড বায়োফার্মা রিসার্চ এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে নেতৃত্ব দিতে চাই।
বন্ধুরা,
আজ সারা বিশ্ব নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিস্থাপক ম্যানুফ্যাকচারিং পার্টনার খুঁজছে। ভারতের কাছে এই ভূমিকা পালন করার এক বিশাল সুযোগ রয়েছে। এর জন্য আপনাদের সব অংশীদারদের অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে আগে যে কৃপণতা করার মানসিকতা ছিল, সেই দিন এখন চলে গেছে। এখন আমাদের গবেষণায় বড় বিনিয়োগ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে। আমি বারবার বলি যে, আমাদের সামনে যখন এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে, তখন আমাদের একমাত্র মন্ত্র হওয়া উচিত— ‘কোয়ালিটি, কোয়ালিটি এবং কোয়ালিটি’।
বন্ধুরা,
ভারত অনেক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে। আমাদের সামনে সুযোগের এক বিশাল দরজা খুলে গেছে। এমতাবস্থায় আমাদের দায়িত্ব হলো গুণমানের সঙ্গে কখনও আপস না করা। যদি আমাদের বুদ্ধি, শক্তি এবং সামর্থ্য কোনো একটি বিষয়ের ওপর ব্যয় করতে হয়, তবে তা গুণমানের ওপর করা উচিত। আমাদের পণ্যের মান যেন আন্তর্জাতিক স্তরের হয়, এমনকি তার চেয়েও ভালো হয়। এর জন্য আমাদের অন্যান্য দেশের চাহিদা এবং সেখানকার মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। বিদেশের মানুষের পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে পড়াশোনা করা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মনে করুন, কেউ একটি ছোট যন্ত্রাংশ চাইল, সে হয়তো বড় কোনো জাহাজ তৈরি করছে। আমরা যদি মনে করি যে ‘এটা তো ছোট একটা জিনিস, যেমন খুশি পাঠিয়ে দিই’, তবে কেন কেউ আপনার পণ্য কিনবে? আপনার কাছে যা ছোট যন্ত্রাংশ, সেই কোম্পানির ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের কাছে সেটির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে গুণমানই আমাদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেবে। আমাদের গ্রাহক-বান্ধব পণ্য তৈরি করতে হবে, তবেই আমরা এই সুযোগগুলোর সুবিধা নিতে পারব। যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলো হয়েছে, সেগুলো আসলে আপনাদের জন্য উন্নয়নের মহাসড়ক তৈরি করে দিয়েছে। আমি আশা করি, এই ওয়েবিনারে আপনারা এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবেন।

বন্ধুরা,
এমএসএমই-এর শ্রেণিবিন্যাসে আমরা যে সংস্কার এনেছি, তার ব্যাপক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এর ফলে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এই ভয় দূর হয়েছে যে, ব্যবসা বড় করলে তারা সরকারি সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। এমএসএমই-র কাছে ঋণ সহজলভ্য করা, প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তবে বন্ধুরা,
এই প্রচেষ্টার ফল তখনই পাওয়া যাবে যখন এমএসএমই-গুলো প্রতিযোগিতায় নামবে এবং জয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে। এখন সময় এসেছে, এমএসএমই-গুলো তাদের উৎপাদনশীলতা আরও বাড়াক, গুণমানের মানদণ্ডকে উঁচুতে নিয়ে যাক এবং ডিজিটাল প্রক্রিয়া ও শক্তিশালী ভ্যালু চেইনের সঙ্গে যুক্ত হোক। এই বিষয়ে আপনাদের পরামর্শ খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বন্ধুরা,
পরিকাঠামো এবং লজিস্টিকস আমাদের প্রবৃদ্ধির কৌশলের মূল স্তম্ভ। এই বছরের বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ মূলধনী ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন পরিবহন ব্যবস্থা নির্মাণ, রেলওয়ে, হাইওয়ে, বন্দর, বিমানবন্দর এবং জলপথের মধ্যে সমন্বয় স্থাপন, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর এবং মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটির বিস্তার—এই সব পদক্ষেপ খরচ কমাতে এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। নতুন জলপথ, জাহাজ মেরামতির সুবিধা এবং রিজিওনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স আমাদের লজিস্টিক ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে। সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডোর উন্নয়নের নতুন পথ খুলে দেবে। কিন্তু আপনারা জানেন, এই পরিকাঠামোর প্রকৃত সুবিধা তখনই পাওয়া যাবে যখন শিল্প এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের পরিকল্পনাকে এই ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। আপনাদের সেই রণকৌশল কী হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।
বন্ধুরা,
ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় নগরায়নের এক বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ভারতের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে আমরা আমাদের শহরগুলোকে কত কার্যকরভাবে পরিকল্পনা এবং পরিচালনা করছি তার ওপর। আমাদের টিয়ার-২ এবং টিয়ার-৩ শহরগুলো কীভাবে প্রবৃদ্ধির নতুন ভিত্তি হতে পারে, সে বিষয়েও আপনাদের পরামর্শ অত্যন্ত মূল্যবান।

বন্ধুরা,
আজ বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় পরিবর্তন ঘটছে। বাজার এখন শুধু খরচ দেখে না, তারা ‘সাসটেইনেবিলিটি’ বা স্থায়িত্বও দেখে। এই লক্ষ্যে ‘কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ মিশন’ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্থায়িত্ব বা সাসটেইনেবিলিটিকে এখন আপনাদের ব্যবসার মূল কৌশলের অংশ করতেই হবে। যে শিল্পগুলো সময় থাকতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করবে, তারাই আগামী বছরগুলোতে নতুন নতুন বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে। এই বছরের বাজেট একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আমার অনুরোধ, শিল্পজগত, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মিলে এই পথে এগিয়ে চলুন।
বন্ধুরা,
‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য শুধুমাত্র ‘কালেক্টিভ ওনারশিপ’ বা সম্মিলিত মালিকানার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। এই ওয়েবিনার যেন শুধু আলোচনার প্ল্যাটফর্ম হয়ে না থাকে বা আমরা শুধু জ্ঞান আহরণ করলাম এমনটা না হয়। বরং এর মধ্যে যেন এক সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ফুটে ওঠে। বাজেট একটি পরিকাঠামো দিয়েছে, এখন আপনাদের সকলকে মিলে গতি তৈরি করতে হবে। আপনাদের আমাদের এই প্রচেষ্টার অংশীদার হতে হবে। আপনাদের প্রতিটি পরামর্শ এবং অভিজ্ঞতা বাস্তব ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফল এনে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আপনাদের পরামর্শ যেন দেশের অগ্রগতিতে এক একটি মাইলফলক হয়ে ওঠে, এই বিশ্বাস নিয়ে আমি আপনাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
নমস্কার!


