Metro will further strengthen the connectivity in Ahmedabad and Surat - what are two major business centres of the country: PM Modi
Rapid expansion of metro network in India in recent years shows the gulf between the work done by our government and the previous ones: PM Modi
Before 2014, only 225 km of metro line were operational while over 450 km became operational in the last six years: PM Modi

নমস্কার!

গুজরাটের রাজ্যপাল শ্রী আচার্য দেবব্রতজি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আমার সহযোগী ভাই অমিত শাহজি, হরদীপ সিং পুরীজি, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী বিজয় রুপানিজি, উপস্থিত গুজরাট সরকারের মন্ত্রীগণ, সাংসদ ও বিধায়কগণ, আমার আমেদাবাদ ও সুরাটের প্রিয় ভাই ও বোনেরা।

 

উত্তরায়ণের শুরুতেই আজ আমেদাবাদ এবং সুরাট অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপহার পাচ্ছে। দেশের দুটি বড় বাণিজ্য কেন্দ্র আমেদাবাদ এবং সুরাটে মেট্রো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। গতকালই কেভাড়িয়ামুখী নতুন রেলপথ এবং অনেক ক'টি নতুন ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। আমেদাবাদ থেকেও আধুনিক জনশতাব্দী এক্সপ্রেস এখন কেভাড়িয়া পর্যন্ত যাবে। এই শুভ সূচনার জন্য আমি গুজরাটের জনগণকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই, অভিনন্দন জানাই।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

আজ ১৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। ১৭ হাজার কোটি টাকা এটা দেখায় যে করোনার এই সঙ্কটকালেও নতুন পরিকাঠামো নির্মাণ নিয়ে দেশের প্রচেষ্টা লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত কয়েক দিনের মধ্যেই সারা দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে কিংবা শিলান্যাস করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমেদাবাদ ও সুরাট, দুটিই গুজরাট তথা ভারতের আত্মনির্ভরতাকে মজবুত করে তুলছে। আমার মনে পড়ে, যখন আমেদাবাদে মেট্রো রেল শুরু হয়েছিল, সেই দিন কত অদ্ভূত দৃশ্য সৃষ্টি করেছিল। সাধারণ মানুষ কাতারে কাতারে বাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রত্যেকের চেহারায় এত আনন্দের ঝলক ছিল যা হয়তো কেউ কোনদিন ভুলতে পারবে না। আমি এটাও দেখছি যে আমেদাবাদের স্বপ্নগুলি সেখানকার পরিচয়কে কিভাবে নিজেদের মেট্রোর সঙ্গে যুক্ত করে নিয়েছে। আজ থেকে আমেদাবাদ মেট্রোর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হচ্ছে। আমেদাবাদ মেট্রো রেল প্রকল্প এখন মোতেরা স্টেডিয়াম থেকে মহাত্মা মন্দির পর্যন্ত একটি করিডর হবে, আর দ্বিতীয় করিডরের মাধ্যমে জিএনএলইউ এবং গিফট সিটি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে শহরের লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।

 

বন্ধুগণ,

 

আমেদাবাদের পর গুজরাটের দ্বিতীয় বড় শহর হল সুরাট। এই শহরটি এখন থেকে মেট্রো রেলের মতো আধুনিক সরকারি যানবাহন পরিষেবার ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত হবে। সুরাটে মেট্রো নেটওয়ার্ক এক প্রকার গোটা শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করবে। একটি করিডর সরথনাকে ড্রিম সিটির সঙ্গে যুক্ত করবে, আর দ্বিতীয় করিডরটি ভেসনকে সরোলীর লাইনের সঙ্গে যুক্ত করবে। মেট্রোর এই প্রকল্পগুলির সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য হল এগুলি আগামী বছরগুলির সম্ভাব্য প্রয়োজনের কথা ভেবে তৈরি করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আজ যে বিনিয়োগ হচ্ছে, তা থেকে আমাদের শহরগুলি আগামী অনেক বছর ধরে উন্নত পরিষেবা পাবে।

ভাই ও বোনেরা,

 

পূর্ববর্তী সরকারগুলির যে দৃষ্টিকোণ ছিল, আর আমাদের কাজ করার দৃষ্টিকোণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এর সবচাইতে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হল এই মেট্রো রেলের বিস্তার। ২০১৪ সালের আগের ১০-১২ বছরে মাত্র ২০০ কিলোমিটার মেট্রো লাইন চালু ছিল। আর গত ছয় বছরে ৪,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি মেট্রো লাইন চালু হয়েছে। এই সময় দেশের ২৭টি শহরে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি নতুন মেট্রো নেটওয়ার্কের কাজ চলছে।

 

বন্ধুগণ,

 

একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশে মেট্রো নির্মাণ নিয়ে কোনও আধুনিক ভাবনা ছিল না। দেশের মেট্রো রেল সংক্রান্ত কোনও নীতি ছিল না। ফলস্বরূপ, ভিন্ন ভিন্ন শহরে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের মেট্রো, ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাসম্পন্ন মেট্রো গড়ে উঠেছিল। দ্বিতীয় সমস্যা ছিল শহরের অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে মেট্রোর কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। আজ আমরা শহরগুলিতে পরিবহণ ব্যবস্থাকে একটি সংহত ব্যবস্থা রূপে বিকশিত করে তুলছি। অর্থাৎ, বাস-মেট্রো-রেল সব নিজের নিজের মতো করে যাতায়াত করবে না। একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা রূপে পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠবে। যেমন এই আমেদাবাদ মেট্রোতেই যে ন্যাশনাল কমন মোবিলিটি কার্ড আমরা সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর চালু হয়েছে, সেটি যে কোনও যানবাহনে কাজে লাগবে। ভবিষ্যতে এই ইন্টিগ্রেশন সর্বত্র মানুষের সহায়ক হয়ে উঠতে চলেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের শহরগুলিতে আজ কি প্রয়োজন? আগামী ১০-২০ বছরে কেমন প্রয়োজন হবে? এই দূরদৃষ্টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। যেমন সুরাট আর গান্ধীনগরের দৃষ্টান্তই নিন না। দু'দশক আগে সুরাট নিয়ে কোথাও আলোচনা হলে উন্নয়নের থেকে বেশি করে প্লেগ মহামারী নিয়ে আলোচনা হত। কিন্তু সুরাটবাসীদের চরিত্রে সবাইকে বুকে জড়িয়ে ধরার স্বাভাবিক গুণ রয়েছে। এই চরিত্রই সেখানকার পরিস্থিতিকে বদলাতে শুরু করে দিয়েছে। প্রত্যেক উদ্যোগকে বুকে করে নেওয়ার সুরাটের যে প্রাণশক্তি আমরা সেটির ওপর জোর দিয়েছি। আজ সুরাট জনসংখ্যার নিরিখে একদিকে দেশের অষ্টম বড় শহর। কিন্তু বিশ্বের মধ্যে সবচাইতে দ্রুতগতিতে উন্নয়নের নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। বিশ্বের প্রত্যেক ১০টি হীরার মধ্যে নয়টিরই প্রক্রিয়াকরণ সুরাটে হয়। আজ দেশের মোট হাতে তৈরি ফ্যাব্রিকের ৪০ শতাংশ আর হাতে তৈরি ফাইবারের ৩০ শতাংশ উৎপাদন সুরাটে হয়। আজ সুরাট দেশের দ্বিতীয় পরিচ্ছন্নতম শহর।

ভাই ও বোনেরা,

 

এইসব কিছু উন্নত পরিকল্পনা এবং সম্পূর্ণতার ভাবনা নিয়ে কাজ করার ফলে সম্ভব হয়েছে। আগে সুরাটে প্রায় ২০ শতাংশ জনসংখ্যা বস্তিতে বসবাস করত। এখন গরীবদের পাকা বাড়ি করে দেওয়ার ফলে এই হার হ্রাস পেয়ে ৬ শতাংশে এসেছে। শহরকে ভিড় ও যানজটমুক্ত করার জন্য উন্নত ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা সহ আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ সুরাটে ১০০টিরও বেশি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টিরও বেশি বিগত ২০ বছরে তৈরি করা হয়েছে। আরও আটটি সেতুর কাজ চলছে। এভাবে পয়ঃপ্রণালী পরিশোধন প্রকল্পগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ সুরাটে প্রায় এক ডজন পয়ঃপ্রণালী পরিশোধন প্রকল্প কাজ করছে। পয়ঃপ্রণালী পরিশোধনের মাধ্যমেই সুরাট প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করছে। বিগত বছরগুলিতে সুরাটে বেশ কিছু উন্নতমানের আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুরাটে 'ইজ অফ লিভিং' উন্নত হয়েছে। আজ আমরা দেখছি যে সুরাট 'এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত'-এর কত প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখানে আমরা পূর্বাঞ্চল, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত ও দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজের ভাগ্য অন্বেষণে আসা অসংখ্য মানুষকে দেখতে পাই। আমাদের উদ্যমী জনগণ, শিষ্টাচার এবং সমর্পণভাব নিয়ে কাজ করা মানুষজন,  দু'চোখে স্বপ্ন নিয়ে সুরাটের মিনি ভারতে একটি নতুন সংস্কৃতি অঙ্কুরিত হচ্ছে। সকলেই মিলেমিশে সুরাটের উন্নয়নকে নতুন উচ্চতা প্রদানের জন্য এই মিনি ভারতের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন।

 

বন্ধুগণ,

 

এভাবে গান্ধীনগর আগে এর পরিচয় কেমন ছিল? এই শহর আগে সরকারি চাকুরিজীবীদের শহর ছিল, অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের শহর ছিল। ঢিলেঢালা, ধীরগতির এমন একটি অঞ্চল হয়ে উঠেছিল যাকে আর শহরই বলা যায় না। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আমরা গান্ধীনগরের সেই চিত্র দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হতে দেখেছি। এখন যেখানেই যান, গান্ধীনগরে আপনারা নবীন প্রজন্মের মানুষদের দেখবেন, যুব সম্প্রদায়কে কাজ করতে দেখবেন, তাঁদের দু'চোখ ভরা স্বপ্ন দেখবেন। আজ গান্ধীনগরের পরিচয় হয়ে উঠেছে – আইআইটি গান্ধীনগর, গুজরাট ন্যাশনাল ল' ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ফরেন্সিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, রক্ষা শক্তি ইউনিভার্সিটি, এনআইএফটি। এছাড়াও পণ্ডিত দীনদয়াল পেট্রোলিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টিচার এডুকেশন, ধীরুভাই আম্বানি ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন, বাইসেগ – এরকম অসংখ্য অসংখ্য নাম বলতে পারি। এত কম সময়ে ভবিষ্যতে ভারতের ভাগ্য নির্ধারণকারী মানুষদের গড়ে তোলা কাজ গান্ধীনগরের মাটিতে হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি শুধু শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনেনি, এই প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে সাথে বিভিন্ন কোম্পানির ক্যাম্পাসও এখানে আসা শুরু হয়েছে। গান্ধীনগরের যুব সম্প্রদায়ের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। এভাবে গান্ধীনগরে মহাত্মা মন্দির থাকার ফলে কনফারেন্স ট্যুরিজমও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন সারা দেশ থেকে অনেক পেশাদার মানুষ কূটনীতিক, চিন্তাবিদ এবং নেতারা এখানে এসে কনফারেন্স করেন। এর ফলে শহরের একটি নতুন পরিচিতি তৈরি হচ্ছে। আর এই পরিচিতিই শহরটিকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাচ্ছে। আজ গান্ধীনগরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি, আধুনিক রেল স্টেশন, গিফট সিটি, অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প, পরিকাঠামোর অনেক আধুনিক প্রকল্প – এইসব কিছু মিলেমিশে গান্ধীনগরকে সজীব করে তুলেছে। এক প্রকার স্বপ্ননীল শহরে পরিণত করেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

গান্ধীনগরের পাশাপাশি, আমেদাবাদেও এ ধরনের অনেক প্রকল্প কার্যকর হয়েছে যা আজ শহরের পরিচিতি বদলাচ্ছে। সবরমতী রিভার ফ্রন্ট থেকে শুরু করে কাঙ্কারিয়া লেক ফ্রন্ট, ওয়াটার এরোড্রোম, বাস র‍্যাপিড ট্র্যানজিট সিস্টেম, মোতেরায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম, সরখেজে ছয় লেনবিশিষ্ট গান্ধীনগর হাইওয়ে – এরকম অসংখ্য প্রকল্প বিগত বছরগুলিতে শহরের চিত্র বদলে দিয়েছে। অন্যভাবে বলতে গেলে আমেদাবাদের পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে শহরটিকে আধুনিকতার আবরণ পরানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমেদাবাদকে ভারতের প্রথম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমেদাবাদের অদূরেই ধোলেরাতে নতুন বিমানবন্দর গড়ে উঠছে। এই বিমানবন্দর থেকে আমেদাবাদের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য আমেদাবাদ-ধোলেরা মোনোরেল প্রকল্প সম্প্রতি মঞ্জুর করা হয়েছে। এভাবে আমেদাবাদ এবং সুরাটকে দেশের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

বন্ধুগণ,

 

গুজরাটের শহরগুলির পাশাপাশি গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিগত বছরগুলিতে অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ, জল সরবরাহ যেভাবে বিগত দুই দশকে উন্নত হয়েছে তা গুজরাটের উন্নয়ন যাত্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজ গুজরাটের প্রতিটি গ্রামে সব মরশুমে চলাচলের উপযোগী রাস্তা রয়েছে। জনজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির গ্রামে গ্রামেও এই সব মরশুমে চলাচলের উপযোগী রাস্তা পৌঁছে গেছে।

 

বন্ধুগণ,

 

আমাদের মধ্যে অধিকাংশই সেই দিনগুলি দেখেছি যখন গুজরাটের গ্রামে গ্রামে ট্রেন এবং ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল পৌঁছতে হত। আজ গুজরাটের প্রতিটি গ্রামে নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে গেছে। শুধু তাই নয়, আজ প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িতেও নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে গেছে। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে রাজ্যে ১০ লক্ষ নতুন জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অতি দ্রুত গুজরাটের প্রত্যেক বাড়িতে নলের মাধ্যমে জল পৌঁছে যাবে।

 

বন্ধুগণ,

 

শুধু পানীয় জল নয়, সেচের জলের জন্য আজ গুজরাটের সেই অঞ্চলগুলিতে জল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যেখানে কখনও সেচের সুবিধা অকল্পনীয় ছিল, স্বপ্নেও কেউ ভাবতেন না। সর্দার সরোবর বাঁধ থেকে শুরু করে সৌওনী পরিকল্পনা, ওয়াটার গ্রিডের নেটওয়ার্ক, গুজরাটের খরাগ্রস্ত এলাকাগুলিকে সবুজ করার জন্য ব্যাপক কাজ করা হয়েছে। মা নর্মদার জল এখন শত শত কিলোমিটার দূরবর্তী কচ্ছ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ক্ষুদ্র সেচের ক্ষেত্রেও গুজরাট এখন দেশের অগ্রণী রাজ্যগুলির অন্যতম হয়ে উঠেছে।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

গুজরাটে এক সময় ভীষণ বিদ্যুতের সঙ্কট ছিল। এই সঙ্কট গ্রামগুলিতে তো ভয়ঙ্কর ছিল। কিন্তু আজ গুজরাটে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুজরাট দেশের অগ্রণী রাজ্যগুলির অন্যতম। কিছুদিন আগেই কচ্ছ-এ বিশ্বের বৃহত্তম পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে যেখানে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। আজ কৃষকদের কাছে সর্বোদয় যোজনার মাধ্যমে সেচের জন্য স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রথম রাজ্য হয়ে উঠেছে গুজরাট। আরোগ্যের ক্ষেত্রে গুজরাট গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নিরন্তর মজবুত করেছে। বিগত ছয় বছরে দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত যে প্রকল্পগুলি চালু হয়েছে সেগুলি থেকেও গুজরাটের মানুষ উপকৃত হয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত যোজনার মাধ্যমে গুজরাটের ২১ লক্ষ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন। সুলভে ওষুধ বিক্রি করার জন্য ৫২৫টিরও বেশি জনঔষধি কেন্দ্র আজ গুজরাটে কাজ করছে। এগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশেষ করে, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে। গ্রামের গরীবদের সুলভে গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে গুজরাট দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পিএম আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর মাধ্যমে গুজরাটের গ্রামে গ্রামে ২.৫ লক্ষেরও বেশি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। এভাবে স্বচ্ছ ভারত মিশনের মাধ্যমে গুজরাটের গ্রামে গ্রামে ৩৫ লক্ষেরও বেশি শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে। গুজরাটের গ্রামগুলির উন্নয়নের কাজ কত দ্রুতগতিতে হচ্ছে তার আরেকটি উদাহরণ হল 'ডিজিটাল সেবা সেতু'। এর মাধ্যমে রেশন কার্ড, জমির দলিল, পেনশন স্কিম এবং আরও অনেক ধরনের শংসাপত্র ও সংশ্লিষ্ট অনেক পরিষেবা গ্রামের মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই 'ডিজিটাল সেবা সেতু' গত বছর অক্টোবর মাসেই উদ্বোধন করা হয়েছিল। অর্থাৎ, মাত্র ৪-৫ আগে। আর আমাকে বলা হয়েছে যে অতি শীঘ্রই এই 'ডিজিটাল সেবা সেতু' ৮ হাজার গ্রামে পৌঁছে যাবে। এর মাধ্যমে ৫০-এরও বেশি সরকারি পরিষেবা সরাসরি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছবে। আমি এই কাজের দ্রুত রূপায়ণের জন্য গুজরাট সরকারের পুরো টিমকে অনেক অনেক অভিনন্দন জানাই।

 

বন্ধুগণ,

 

আজ ভারত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আর সেই সিদ্ধান্তগুলি রূপায়ণের কাজও দ্রুতগতিতে করছে। আজ ভারতে শুধু পরিমানগত দিক থেকেই বেশি কাজ হচ্ছে না, উৎকৃষ্ট কাজও হচ্ছে। আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ মূর্তি ভারতে রয়েছে। আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ সুলভ গৃহ নির্মাণ অভিযান ভারতে চলছে। আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ হেলথকেয়ার অ্যাস্যুরেন্স প্রোগ্রামও ভারতে চলছে। ৬ লক্ষ গ্রামকে দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট পরিষেবার মাধ্যমে যুক্ত করার বিরাট কাজও ভারতে হচ্ছে। গত পরশুই করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বের বৃহত্তম টিকাকরণ অভিযানও ভারতে শুরু হয়েছে।

 

এখানে গুজরাটে বিগত দিনে দুটি এমন কাজ সম্পন্ন হয়েছে যার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই। এই সাফল্য থেকে প্রমাণিত হয়, কিভাবে দ্রুতগতিতে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়িত করলে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা যায়। প্রথমটি হল ঘোঘা এবং হাজিরার মধ্যে রো-প্যাক্স পরিষেবা, আর দ্বিতীয়টি হল গিরনার রোপওয়ে।

 

বন্ধুগণ,

 

গত বছর নভেম্বর মাসে অর্থাৎ, আজ থেকে চার মাস আগেই ঘোঘা আর হাজিরার মধ্যে রো-প্যাক্স পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে সৌরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ গুজরাট উভয় এলাকার জনগণের অনেক বছরের অপেক্ষা শেষ হয়েছে। সেখানকার মানুষ এর দ্বারা অত্যন্ত লাভবান হচ্ছেন। এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে ঘোঘা আর হাজিরার মধ্যে ৩৭৫ কিলোমিটারেরও বেশি যাত্রাপথ সমুদ্রপথে ৯০ কিলোমিটারে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ, যে দূরত্ব যেতে আগে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা লাগত এখন ৪ থেকে ৫ ঘন্টাতেই সেই দূরত্ব অতিক্রম করা যাচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষের সময় সাশ্রয় হচ্ছে, পেট্রোল-ডিজেলের খরচ বাঁচছে, সড়কপথে যাতায়াত কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রেও অনেক লাভ হচ্ছে। মাত্র দু'মাসে আমাকে যেমন বলা হয়েছে, মাত্র দু'মাসে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই পরিষেবা দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। ১৪ হাজারেরও বেশি গাড়ি এই রো-প্যাক্স ফেরির মাধ্যমে পারাপার করেছে। সুরাটের সঙ্গে সৌরাষ্ট্রের এই নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা সৌরাষ্ট্রের কৃষক ও পশুপালকদের ফল, সব্জি ও দুধ সুরাট পৌঁছনোর পথ সহজ করে দিয়েছে। আগে সড়কপথে ফল, সব্জি ও দুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকত। এখন সমুদ্রপথে কৃষকরা তাঁদের ফসল দ্রুতগতিতে সুরাটের শহরগুলিতে পৌঁছে দিতে পারছেন। তেমনই সুরাটের ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক বন্ধুদের জীবনেক অনেক সহজ করে তুলেছে এই ফেরি পরিষেবা।

 

বন্ধুগণ,

 

এই ফেরি পরিষেবা যে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই শুরু হয়েছে তা এখন সেখানকার মানুষকে দেখলে বোঝা যাবে না। সবাই এই যাত্রাপথকে এত দ্রুত আপন করে নিয়েছেন যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। গত বছর অক্টোবর মাসে গিরনারে যে রোপওয়ে শুরু হয়েছিল, সেটাও তো মাত্র ৪-৫ মাসই হল। আগে গিরনার পর্বত দর্শন করতে হলে ৯ হাজার সিঁড়ি চড়ে যেতে হত। আর কোনও বিকল্প ছিল না। এখন এই রোপওয়ের মাধ্যমে তীর্থযাত্রীরা আরেকটি পরিষেবা পেয়ে গেছেন। ফলে, আগে মন্দিরে যেতে যে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগত, তা এখন তীর্থযাত্রীরা মাত্র কয়েক মিনিটে যেতে পারছেন। আমাকে বলা হয়েছে যে গত আড়াই মাসে ২ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ এই পরিষেবার সুযোগ নিয়ে তীর্থযাত্রায় গেছেন। আপনারা কল্পনা করতে পারেন মাত্র আড়াই মাসে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ? এ থেকে বোঝা যায় যে এই পরিষেবাটির কত প্রয়োজন ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিশেষ করে বয়স্ক মা-বোনেদের জন্য, অন্যান্য বয়স্কদের জন্যও এই পরিষেবা চালু হওয়ায় তাঁরা আমাদের দু'হাত ভরে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। আর সেই আশীর্বাদ থেকে আমরা আরও অনেক কাজ করার শক্তি পাচ্ছি।

 

ভাই ও বোনেরা,

 

নতুন ভারতের এই লক্ষ্য, জনগণের প্রয়োজনীয়তা বুঝে, জনমানসের আকাঙ্ক্ষা বুঝে দ্রুতগতিতে কাজ করার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত করা সম্ভব। এই লক্ষ্যে আরেকটি প্রচেষ্টা হল, যা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না কিন্তু হওয়া উচিৎ। এই প্রচেষ্টাটি হল কেন্দ্রীয় স্তরে 'প্রগতি' নামক ব্যবস্থা। যখন আমি গুজরাটে ছিলাম, তখন 'স্বাগত' কর্মসূচির অনেক চর্চা হত। কিন্তু আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর 'প্রগতি' নামে যে কর্মসূচি চালু করেছি সেটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প, পরিকাঠামো প্রকল্প রূপায়ণ ত্বরান্বিত করতে এই 'প্রগতি' মঞ্চের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে যুক্ত সবাই জানেন, এই 'প্রগতি' বৈঠকগুলিতে আমি স্বয়ং ঘন্টার পর ঘন্টা রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বসে এক একটি প্রকল্প নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করি, আর তাদের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য চেষ্টা করি। 'প্রগতি' বৈঠকে আমি চেষ্টা করি যাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে অনেক দশক ধরে আটকে থাকা প্রকল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করা যায়। বিগত পাঁচ বছরে এই 'প্রগতি'র বৈঠকগুলির মাধ্যমে ১৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে দেশের জন্য জরুরি কিন্তু অনেক বছর ধরে অসম্পূর্ণ হয়ে থাকা প্রকল্পগুলি পুনর্বিবেচনা করার পর সেগুলির যথোচিত সমাধান করা হয়েছে।

 

বন্ধুগণ,

 

অনেক বছর ধরে আটকে থাকা ও ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলিকে গতি প্রদান করায় আমাদের সুরাটের মতো শহরগুলির দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়। আমাদের উদ্যোগগুলি, বিশেষ করে ক্ষুদ্রশিল্প, যেমন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হওয়ার ফলে যেমন বিশ্বের বড় বাজারে প্রতিযোগিতায় নামতে পারছে, তেমনই তাদের কাছে উন্নত দেশগুলির মতো পরিকাঠামোও রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র শিল্পগুলির জন্য অনেক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পগুলিকে সঙ্কট থেকে বের করে আনার জন্য একদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, অন্যদিকে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে অধিক সুযোগ দেওয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। সরকার সবথেকে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের পরিভাষা বদলে দিয়ে তাদের বিনিয়োগের সীমা বাড়িয়েছে। আগে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরা তাঁদের শিল্পোদ্যোগ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তেমন সাহস পেতেন না। কিন্তু এখন সরকারের আনুকূল্য থাকায় তাঁরা সেই সাহস পাচ্ছেন। সরকার অনেক প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে এই শিল্পোদ্যোগগুলির জন্য নতুন নতুন পথ খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন পরিভাষায় উৎপাদন ক্ষেত্র এবং পরিষেবা ক্ষেত্রগুলির মধ্যে বৈষম্য দূর করে দিয়েছে। ফলে পরিষেবা ক্ষেত্রের নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তেমনই সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রেও দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি যেন বেশি সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে এই চেষ্টা করা হয়েছে যাতে আমাদের ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগগুলির খুব উন্নতি হয়, আর সেখানে কর্মরত শ্রমিক বন্ধুরাও উন্নত সুযোগ-সুবিধা পান এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।

 

বন্ধুগণ,

 

এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ও বহুমুখী প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে একবিংশ শতাব্দীর যুব সম্প্রদায়, ভারতের অগণিত যুবক-যুবতীদের আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষাগুলি বুনিয়াদি পরিষেবা এবং সুরক্ষার অভাবে বাস্তবায়িত করা কঠিন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই কঠিন বিষয়গুলিকে দূর করতে যুব সম্প্রদায়ের স্বপ্নগুলিকে সামর্থ্য দিতে সঙ্কল্পগুলিকে বাস্তবায়িত করে যেতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমেদাবাদ এবং সুরাটের এই মেট্রো প্রকল্পও এই শহর দুটির প্রত্যেক বন্ধুর আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশা পূরণ করবে।

 

এই বিশ্বাস নিয়ে গুজরাটের সকল ভাই-বোনেদের বিশেষ করে, আমেদাবাদ ও সুরাটের ভাই-বোনেদের আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

 

অনেক অনেক ধন্যবাদ!

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
UP's exports to BRICS nations, partners cross $5.36 billion in FY26: Govt

Media Coverage

UP's exports to BRICS nations, partners cross $5.36 billion in FY26: Govt
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Odisha is emerging as a gateway to growth and prosperity in eastern India: PM Modi in Pahadpur
June 20, 2026
I extend my heartfelt birthday greetings to President Smt. Droupadi Murmu Ji, I wish her long life and excellent health: PM
Pahadpur village will now be rapidly developed as a solar village, that is, solar power will be ensured in every home here: PM
The vision of the Central Government is the development of India through the development of Eastern India: PM
To uplift tribal society, we are connecting tribal youth with opportunities for education and employment: PM
These children should get better facilities for studies; for this, around 500 Eklavya Model Schools have been opened across the country: PM

जॉय जगन्नाथ! जॉय मां किचकेश्वरी! मोर सबू भाई,भौणी,मां,मौसी मानंकु मोर नमोस्कार।

माननीय राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू जी, राज्यपाल श्री हरि बाबु जी, यहां के लोकप्रिय मुख्यमंत्री मोहन चरण माझी जी, उप मुख्यमंत्री कनक वर्धन सिंह देव जी, प्रवती परीदा जी, ओडिशा के मंत्री गणेश सिंह खूंटिया जी, कृष्ण चंद्र महापात्र जी, सांसद नबा चरण माझी जी, मनमोहन सामल जी, बैजयंत पांडा जी, अन्य महानुभाव, भाइयों और बहनों।

हमारा ओडिशा इन दिनों उत्सवों के आनंद में डूबा हुआ है। यहाँ का गणपर्व रज, पिछले हफ्ते ही धूमधाम से मनाया गया है। महाप्रभु जगन्नाथ जी की रथ यात्रा की तैयारियां भी पुरजोश चल रही है। मयूरभंज के बारीपदा रथ यात्रा को लेकर भी उत्साह का माहौल है। और, इस सबके बीच ही लोकतन्त्र का विकास का उत्सव भी चल रहा है। ओडिशा की बीजेपी सरकार ने अपने 2 साल भी पूर्ण किए हैं। इस मौके पर, आप सबके बीच आना, मयूरभंज आने का ये सौभाग्य, और इतनी बड़ी संख्या में आप सबकी उपस्थिति, ये अवसर मेरे लिए बहुत खास है। आपका अपनापन मुझे बार-बार यहां खींच लाता है। मैं आप सभी का हृदय से बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूँ। और ओडिशा की जनता को डबल इंजन सरकार में विकास यात्रा की भी बधाई देता हूँ, शुभकामनाएं देता हूं। साथ ही, इस अवसर पर मैं पंडित रघुनाथ मुर्मू जी, डॉ. दमयंती बेश्रा जी, और श्री चरण हेम्ब्रम जी जैसी विभूतियों को भी नमन करता हूँ। रघुनाथ मुर्मू जी ने संथाली भाषा के लिए ओल चिकी लिपि का निर्माण किया था। हमारी सरकार ने संथाली भाषा में भारत के संविधान को प्रस्तुत किया है। ओडिशा की संतानों को पद्म सम्मान देकर सम्मानित किया है। पिछले 2 वर्षों में ओडिशा सरकार भी इन सभी विभूतियों के सपनों को पूरा करने में दिन रात पुरुषार्थ कर रही है।

साथियों,

आज का ये अवसर इसलिए भी विशेष है, क्योंकि मयूरभंज की धरती पर पली-बढ़ीं, ओडिशा की बेटी, माननीय राष्ट्रपति जी हमारे बीच उपस्थित हैं। आज उनका जन्मदिन भी है। मैं राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू जी को जन्मदिन की हार्दिक बधाई और शुभकमानाएं देता हूं, मैं उनके दीर्घायु होने और उत्तम स्वास्थ्य की कामना करता हूं। जनगन्नाथ जी भगवान के श्री चरणों में प्रार्थना करता हूं। ओडिशा की बेटी आज देश के इतने बड़े पद पर पहुंची हैं, हमारा मार्गदर्शन कर रही हैं, ये हम सभी के लिए बहुत गौरव की बात है। राष्ट्रपति जी का व्यक्तित्व, उनका उदार और सहृदय स्वभाव, राष्ट्र और समाज की सेवा के लिए उनका अटल समर्पण, उन्होंने मयूरभंज ही नहीं, पूरे ओडिशा की पहचान सशस्त की है। मैं इस अवसर पर, उनका विशेष रूप से अभिनंदन करता हूँ।

साथियों,

ये कार्यक्रम जब बना, तो इसमें मूल कारण तो लॉजिस्टिक था, लंबे अर्से से यहां आने के लिए चर्चा चल रही थी, लेकिन कोई तालमेल नहीं बैठता था। 21 जून को अंतर्राष्ट्रीय योगा दिवस कोलकाता में तय हुआ, तो फिर मैंने कहा अच्छा है, आज बंग दिवस भी है, तो क्यों न मैं सुबह मयूरभंज होकर के शाम को फिर कोलकाता के कार्यक्रम में जाऊं। और इसके कारण ये 20 जून तय हुई। लेकिन कुछ चीजें ऐसी होती हैं, जिसकी मंगल कामनाएं ईश्वरआधीन होती हैं, और इसलिए आज एक शुभ मंगल हो गया, कि राष्ट्रपति का जन्मदिन भी, मुझे आज उनके गांव में जाकर के, उनको शुभकामनाएं देने का अवसर मिला।

साथियों,

आज मैं राष्ट्रपति जी के साथ पहाड़पुर भी गया था। मैं इस क्षेत्र के बच्चों के लिए उनके द्वारा बनवाए गए स्कूल भी गया। बच्चों के साथ कुछ यादगार समय बिताने का अवसर मुझे मिला। मैं देख रहा था, बच्चों के चेहरों की चमक, राष्ट्रपति जी की उपस्थिति और आत्मीयता, वहां मुझे ऐसा कुछ भी नहीं लगा, किसी बच्चे को ये लगा हो कि राष्ट्रपति जी आई हैं, हर बच्चे को लगता था उनकी मां आई है। वे बच्चे भी बहुत भाग्यवान हैं, कैसे इस क्षेत्र के गरीब, वंचित और आदिवसी समाज के बच्चों को प्रेरणा मिल रही है, उन्हें देश के लिए कुछ बड़ा करने का आत्मविश्वास मिल रहा है। मैं राष्ट्रपति जी का आभारी हूं कि उन्होंने इन अनुभवों से गुजरने का आज मुझे अवसर दिया। ये मेरा दिन, एक प्रकार से मेरी शिक्षा का दिवस था, कुछ सीखने का अवसर था मेरे लिए।

साथियों,

मैं आपको सरकार का ये निर्णय भी बताना चाहता हूं कि पहाड़पुर गांव को, अब तेजी से सुर्यग्राम, सोलर विलेज के रूप में विकसित किया जाएगा। यानी यहां हर घर में सोलर बिजली बने, इसे सुनिश्चित किया जाएगा। और हम तो बड़ा गर्व के साथ कह सकते हैं कि यही ओडिशा है, जहां कोणार्क में सुर्य मंदिर की एक पहचान है, वैसे ही पहाड़पुर सुर्यग्राम की पहचान बन जाएगा। सुर्यग्राम, से पूरा गांव सोलर विलेज के रूप में पहचाना जाए, इस दिशा में काम तुरंत शुरू हो ऐसा मेरा प्रयास रहेगा। इस अभियान से, पहाड़पुर के लोगों को मुफ्त सोलर बिजली भी मिलेगी और जो ज्यादा बिजली होगी, वो उनकी आय भी बढ़ाएगी।

साथियों,

ओडिशा में डबल इंजन सरकार के 2 साल कई मायनों में ऐतिहासिक रहे हैं। मुख्यमंत्री मोहन चरण माझी जी के नेतृत्व में, आज ओडिशा तेज गति से विकास के रास्ते पर आगे बढ़ रहा है। आज यहां गरीब कल्याण की योजनाओं से सामान्य मानवी का जीवन बदल रहा है। ओडिशा में आर्थिक गतिविधियाँ निवेश और उद्योगों को आकर्षित करने का सामर्थ्य आज नज़र आ रहा है। यहाँ रोजगार के नए अवसरों के लिए तेजी से काम हो रहा है।

साथियों,

केंद्र सरकार का विज़न है- पूर्वी भारत के विकास से भारत का विकास। इसीलिए, हम पूर्वोदय की नीति पर काम कर रहे हैं। जिस पूर्वी भारत को काँग्रेस के दौर में पिछड़ेपन का पर्याय बना दिया गया था, आज वो प्रगति का प्रवेश द्वार बन रहा है। आज ओडिशा खुद इस बदलाव का साक्षी बन रहा है।

साथियों,

ओडिशा के पास समुद्र है, खनिज संपदा है, कृषि की शक्ति है और सबसे सामर्थ्यवान यहां युवा प्रतिभा है। इस सामर्थ्य का पूरा उपयोग करने के लिए हम मिलकर काम कर रहे हैं। इसीलिए, आज ओडिशा में रेलवे इनफ्रास्ट्रक्चर में रिकॉर्ड निवेश हो रहा है। नई सड़कें और आर्थिक कॉरिडोर बन रहे हैं। पोर्ट्स का विस्तार हो रहा है। ऊर्जा, सेमीकंडक्टर, ग्रीन एनर्जी और आधुनिक उद्योगों में निवेश आ रहा है। आज भी यहां ओडिशा के विकास से जुड़ी अनेक महत्वपूर्ण परियोजनाओं का लोकार्पण और शिलान्यास हुआ है। इन परियोजनाओं पर लगभग 47 हजार करोड़ रुपये खर्च किए जाएंगे। बिजली, सड़क, रेलवे, स्वास्थ्य और शिक्षा से जुड़ी इन परियोजनाओं से, आप सभी लोगों को बहुत सुविधा होने वाली है। मैं इन परियोजनाओं के लिए ओडिशा के लोगों को बहुत बहुत बधाई देता हूं।

साथियों,

हमारी सरकार ओडिशा के संसाधनों को, ओडिशा की संभावनाओं में बदल रही है। ओडिशा में बड़ा निवेश आए, यहाँ नए उद्योग लगें, इसके लिए उत्कर्ष ओडिशा जैसे अभियान चलाए जा रहे हैं। इसके तहत, अब तक करीब 20 लाख करोड़ रुपए के निवेश प्रस्ताव मिल चुके हैं। साढ़े 3 लाख करोड़ रुपए से ज्यादा की अनेक मेगा परियोजनाओं पर भी काम चल रहा है। उद्योगों के लिए अनुकूल वातावरण बने, इसके लिए ओडिशा के समग्र विकास पर ध्यान दिया जा रहा है। पावर सेक्टर में 6 हजार करोड़ रुपए से ज्यादा का निवेश हो रहा है। समृद्ध शहर योजना के तहत शहरी विकास को गति दी जा रही है। आने वाले वर्षों में इन प्रयासों का परिणाम हमें देखने को मिलने वाला है।

साथियों,

डबल इंजन सरकार की बड़ी विशेषता ये है कि वो खुद जनता तक पहुँचती है। हमारा प्रयास है कि सामान्य नागरिक को किसी समस्या के समाधान के लिए अनावश्यक चक्कर न लगाने पड़े। इन्हीं प्रयासों का परिणाम है कि युवाओं, महिलाओं, किसानों और आम लोगों की अपेक्षाएँ आज पूरी हो रही हैं। आप देखिए, धान खरीद में किसानों को 3,100 रुपये प्रति क्विंटल देने का निर्णय लिया गया। सुभद्रा योजना के माध्यम से एक करोड़ से अधिक माताओं और बहनों तक आर्थिक सहायता पहुंचाई गई। आयुष्मान भारत को लागू करके ओडिशा के परिवारों के लिए देशभर के अस्पतालों में इलाज का रास्ता खोला गया। आदिवासी विद्यार्थियों की पढ़ाई बीच में न छूटे, इसके लिए माधो सिंह हाथ-खर्चा योजना शुरू की गई। महाप्रभु श्री जगन्नाथ जी के भक्तों की भावनाओं का सम्मान करते हुए श्रीमंदिर के श्रद्धालुओं के लिए सारे द्वार खोल दिए गए, चारों-चार द्वार खोल दिए गए। डबल इंजन की ताकत मिलने से आज यहां चारों दिशाओं में विकास सुनिश्चित हो रहा है।

साथियों,

यहां बीते दिनों स्वच्छता को लेकर जो विशेष अभियान चला है, उसकी भी मुझे जानकारी मिली है। और मैं देख रहा था सोशल मीडिया में तो सफाई अभियान छाया हुआ है, यानी स्वच्छता से स्वागत, मैं ओडिशा की इस पहल के लिए, यहां के नगारिको का, सरकार का, मुख्यमंत्री जी का, इस प्रशंसनीय पहल के लिए बहुत ही प्रशंसा करता हूं, संतोष व्यक्त करता हूं।

साथियों,

स्वच्छता हमारे जीवन शैली का हिस्सा होनी चाहिए, हर रोज की आदत होनी चाहिए। मैं यहां स्वच्छता अभियान से जुड़े सभी लोगों का हृदय से बहुत-बहुत अभिनंदन करता हूं।

साथियों,

मैंने अपने जीवन का कुछ महत्वपूर्ण कालखंड जनजातीय क्षेत्रों में एक वालंटियर के रूप में काम करते हुए बिताया है। माननीय राष्ट्रपति जी तो बरसों तक ऐसे क्षेत्रों में चुनौतियां का सामना करती रही हैं। आप और हम जानते हैं कि जनजातीय क्षेत्रों में जीवन की सुविधाएं आसानी से नहीं पहुंचती थीं। इसलिए, हमारी सरकार ने जनजातीय विकास को बहुत प्राथमिकता दी है। हमने ऐसे इलाकों को सुविधाओं से जोड़ने के लिए धरती आबा जनजातीय ग्राम उत्कर्ष अभियान शुरू किया। इसके तहत स्वास्थ्य, शिक्षा, सड़क, आवास से जुड़े विभाग मिलकर के सर्वागीण विकास के लिए काम कर रहे हैं। ताकि वहां रहने वाले लोगों की कठिनाइयां दूर हो सकें। इसी तरह, पीएम जनमन अभियान तो राष्ट्रपति जी के साथ हुई चर्चाओं का, उनके मार्गदर्शन का ही परिणाम है। ये विशेष रूप से देश के ऐसे जनजातीय समूहों के लिए है, जो जनजातीय समुदाय में भी सबसे पीछे रह गए हैं। ऐसे जनजातीय समुदायों तक अब सरकार स्वयं चलकर उनके गांव, उनके दरवाजे तक पहुंच रही है।

साथियों,

आदिवासी समाज के उत्थान के लिए हम आदिवासी युवाओं को शिक्षा और रोजगार के अवसरों से जोड़ रहे हैं। इन बच्चों को पढ़ाई की बेहतर सुविधा मिले, इसके लिए देश में करीब 500 एकलव्य मॉडल स्कूल खोले गए हैं। करीब साढ़े सात सौ एकलव्य स्कूल स्वीकृत किए गए हैं। प्री-मैट्रिक और पोस्ट मैट्रिक लेवल पर, डेढ़ करोड़ से अधिक आदिवासी बच्चों को सैकड़ों करोड़ रुपए की स्कॉलर्शिप दी गई है। मुझे ये बताते हुए भी खुशी है कि यहां मयूरभंज में एक और नवोदय विद्यालय बनाने के लिए भी स्वीकृति दे दी गई है।

साथियों,

दूर-दराज इलाकों में रहने के कारण, जनजातीय समाज स्वास्थ्य से जुड़ी कठिनाइयों का भी शिकार रहा है। सिकल सेल एनीमिया जैसी बीमारियाँ एक बहुत बड़ी चुनौती रही हैं। हमने इनके खिलाफ देश भर में अभियान चलाया, चार करोड़ से ज्यादा हेल्थ कार्ड बांटे, मुफ्त इलाज के लिए करोड़ों आदिवासी लाभार्थियों को आयुष्मान कार्ड दिये। जल जीवन मिशन के तहत घर-घर साफ पानी पहुंचाया जा रहा है। इन प्रयासों का परिणाम आज हमें दिख रहा है। आदिवासी समाज दशकों पुरानी कठिनाइयों से बाहर आ रहा है, और, विकास की मुख्यधारा का हिस्सा बन रहा है।

साथियों,

आने वाले समय में हमारे सामने दो महत्वपूर्ण पड़ाव हैं। 2036 में ओडिशा के गठन के 100 वर्ष पूरे होंगे। और, 2047 में भारत की स्वतंत्रता के 100 वर्ष पूरे होने वाले हैं। यानी, ओडिशा और देश का लक्ष्य एक ही दिशा में है। ओडिशा की अर्थव्यवस्था मजबूत होगी, तो भारत मजबूत होगा। मुझे ओडिशा के सामर्थ्य पर भरोसा है। हमें मिलकर ओडिशा को विकास की बुलंदियों पर पहुंचाना है।

साथियों,

कल 21 जून को अंतर्राष्ट्रीय योग दिवस भी मनाया जाना है। ज्ञान और योग की धरती ओडिशा, योग यहाँ के संस्कारों का हिस्सा रहा है। मैं ओडिशा की धरती से पूरे देश से, पूरी दुनिया के लोगों से आह्वान करता हूँ, आप सब ज्यादा से ज्यादा संख्या में योग दिवस में हिस्सा लें। मैं एक बार फिर आप सभी को आज के अवसर, और विकास परियोजनाओं की बहुत-बहुत बधाई देता हूं। मैं माननीय राष्ट्रपति जी का विशेष रूप से आभार प्रकट करता हूं, कि मुझे उनके साथ उनकी कर्मभूमि को देखने का मौका मिला। एक बार फिर उन्हें जन्मदिन की बहुत-बहुत बधाई। बहुत-बहुत धन्यवाद।

जय जगन्नथ।

जय जगन्नथ।

जय जगन्नथ।