রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর রাজ্যসভায় ধন্যবাদ সূচক প্রস্তাবের জবাবী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, বিগত পাঁচ বছরে সরকার প্রশাসনিক কাজকর্মে নতুন ধ্যান-ধারণা ও পদক্ষেপ নিয়ে এসেছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় নতুন ধ্যান-ধারণা ও পদক্ষেপের অন্যতম একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে ডিজিটাল ভারত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে কেবলমাত্র ৫৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত ব্রডব্যান্ড ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বিগত পাঁচ বছরে ১ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ২০১৪-তে দেশে অভিন্ন পরিষেবা প্রদান কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার যা আজ বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজারেরও বেশি। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে ১২ লক্ষের বেশি গ্রামীণ যুবক-যুবতী অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব জুড়ে এক নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘ভীম’ অ্যাপ স্বীকৃতি পাচ্ছে। কেবল জানুয়ারি মাসেই ‘ভীম’ অ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড ২ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। এমনকি, বহু দেশে রুপে কার্ড কার্যকর হচ্ছে।

 

জল জীবন মিশন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের আরও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হল জল জীবন মিশন। তিনি বলেন, এই মিশনের উদ্দেশ্য হল প্রতিটি পরিবারে পাইপবাহিত জল সরবরাহ। স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ এক আদর্শ উদাহরণ।

 

শ্রী মোদী বলেন, যদিও এই মিশনের সূচনা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তথাপি, কর্মসূচি রূপায়ণ ও পরিচালনার বিষয়টি গ্রামস্তর-ভিত্তিক। গ্রাম কমিটিগুলি এই কর্মসূচি রূপায়ণ করবে, তহবিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে এবং পাইপলাইন সহ জলাধার তৈরিতে সিদ্ধান্ত নেবে।

 

সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : উন্নয়নে আগ্রহী জেলা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, দেশের ১০০টিরও বেশি উন্নয়নে আগ্রহী জেলার সার্বিক বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনগুলি সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নে আগ্রহী জেলা সংক্রান্ত কর্মসূচি সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

তিনি বলেন, উন্নয়নে আগ্রহী এই জেলাগুলিতে দরিদ্র ও আদিবাসী মানুষের সার্বিক কল্যাণে সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

 

সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর জন্য সহানুভূতি বজায় রেখে কাজ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে দেশের সমস্ত আধিবাসী বীর যোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান জানিয়ে কাজ করা হয়েছে। সারা দেশে সংগ্রহালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হচ্ছে। এমনকি, আদিবাসী শিল্পকলা ও সাহিত্য ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। আদিবাসী এলাকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের গুণগত মানের শিক্ষা সুনিশ্চিত করতে একলব্য আদর্শ আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।

 

এই উদ্যোগগুলি ছাড়াও বনজ সামগ্রী থেকে আরও আয় বাড়াতে আদিবাসী এলাকাগুলিতে তিন হাজার বনজ সম্পদ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলির সঙ্গে ৩০ হাজারেরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী যুক্ত হবে। এই তিন হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৯০০টি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে এবং ২ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষজনকে যুক্ত করা হয়েছে।

 

মহিলাদের ক্ষমতায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ

প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী বলেন, মহিলাদের ক্ষমতায়নে তাঁর সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। “এই প্রথমবার দেশের ইতিহাসে শিশুকন্যাদের সেনা বিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেনা পুলিশে মহিলাদের নিয়োগ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে” বলে তিনি জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে মহিলাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় ৬০০ ‘ওয়ান স্টপ সেন্টার’ গঠন করা হয়েছে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বালিকাদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যৌন নিগ্রহে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জন্য জাতীয় স্তরে একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও, দেশের প্রতিটি জেলায় মানবপাচার রোধী ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশুদের ওপর গুরুতর যৌন নিগ্রহের ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে পকসো আইনের ধারায় সংশোধন করা হয়েছে যাতে নিগ্রহের যাবতীয় ঘটনাকে এই আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায়। সময়মতো সুবিচার পৌঁছে দিতে দেশে এক হাজারেরও বেশি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গড়ে তোলা হচ্ছে।

Click here to read full text speech

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India’s data centre boom: Mumbai cracks global top 15, Hyderabad pipeline set to surge 15x

Media Coverage

India’s data centre boom: Mumbai cracks global top 15, Hyderabad pipeline set to surge 15x
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
২৭শে আগস্ট ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়ালগ’-এ তরুণদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
August 26, 2026
Khelo India Dialogue will bring together sports, youth leadership, civic responsibility, volunteering, fitness and nation-building on a common platform
Yuva Samvaad under Khelo India Dialogue to Focus on Five Key Themes: Sports, Olympic Aspirations, Youth Leadership, Viksit Bharat and Nasha Mukt Yuva

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ২৭শে আগস্ট সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’-এ ভাষণ দেবেন। তরুণদের ভারতের খেলাধুলোয় যুক্ত করা, তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলি তুলে ধরা এবং যুব-নেতৃত্বাধীন এক শক্তিশালী ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধারণা বা পরামর্শ প্রদান করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

‘মেরা যুব ভারত’ (MY Bharat)-এর আয়োজনে এবং ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস ২০২৬’-এর উদযাপনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে পরিচালিত হবে। এতে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটি জেলার দুটি করে কলেজের তরুণরা অংশগ্রহণ করবেন। একটি সুস্থ, সুশৃঙ্খল ও ক্রীড়াপ্রেমী দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কর্মসূচিতে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী আয়োজিত এই ‘খেলো ইন্ডিয়া ডায়লগ’ ক্রীড়া, যুব নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, স্বেচ্ছাসেবা, শারীরিক সুস্থতা এবং দেশ গঠনের বিষয়গুলিকে একটি অভিন্ন মঞ্চে নিয়ে আসবে। এটি তরুণদের জন্য দেশের ক্রীড়া-সংক্রান্ত লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একটি সরাসরি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া ভারতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক যে চলতি আলোচনা ও কর্মসূচিতে, তাদের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গি যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করবে।

এই জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও তরুণ অংশগ্রহণকারী, ‘মাই ভারত’-এর স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় ক্রীড়াবিদ এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় বা আলোচনার আয়োজন করা হবে। খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী তরুণদের সঙ্গে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও পদকজয়ীদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। কর্মসূচির একটি কেন্দ্রীয় আকর্ষণ হলো ‘যুব সংবাদ’। এখানে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের তাদের নিজস্ব ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই আলোচনাটি মূলত পাঁচটি মূল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে:

• উন্নত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং সর্বজনীন অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন।

• বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিভা শনাক্তকরণ, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের জন্য প্রতিভাবানদের গড়ে তোলা।

• শাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন মঞ্চ ও ‘মাই ভারত’-এর নেতৃত্বাধীন স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে যুব নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

• নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন এবং সুসংগঠিত স্বেচ্ছাসেবক কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্ষমতাবান করে তোলা।

• খেলাধুলা ও সমবয়সী নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে ‘নেশা মুক্ত যুব’বা মাদক-মুক্ত যুবসমাজ আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। এর অংশ হিসেবে ২ আগস্ট ২০২৬-এ শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ১০০-সপ্তাহব্যাপী দেশব্যাপী প্রচার অভিযানের আওতায় সাপ্তাহিক ‘জন-অংশীদারিত্ব’কর্মসূচি পরিচালিত হবে।