ক্রীড়াবিদ এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে ঘরোয়া, স্বতঃস্ফূর্ত মতবিনিময়
আপনাদের সকলের জন্য ১৩৫ কোটি ভারতবাসীর আর্শীবাদ রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ শিবির, সরঞ্জাম, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খেলার পরিবেশের যোগ দেবার সুযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
নতুন ভাবনা এবং নতুন ধারায় আজ সারা দেশ ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রথমবারের মতো অলিম্পিক্সে বিভিন্ন খেলায় এতো বেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করেছে : প্রধানমন্ত্রী
এবারই প্রথম ভারত, এতো বেশি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
দেশবাসীর দায়িত্ব হল “চিয়ারফরইন্ডিয়া”–য় সামিল হওয়া : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে যাওয়া ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মনোবল চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী অনুরাগ ঠাকুর, দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্রী নিশীথ প্রামানিক এবং আইন মন্ত্রী শ্রী কিরেণ রিজিজু উপস্থিত ছিলেন।

এক ঘরোয়া এবং স্বতঃস্ফূর্ত আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করেছেন এবং তাঁদের পরিবার যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার জন্য তিনি তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তীরন্দাজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া দীপিকা  কুমারির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানশিপে সোনা পাওয়ায় অভিনন্দন জানান। তীর ছুঁড়ে আম পাড়ার মধ্য দিয়ে দীপিকার তীরন্দাজী জীবন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে তাঁর খেলোয়াড় জীবনের কথা জানতে চান। কঠিন পরিস্থিতিতে যেভাবে তীরন্দাজ খেলোয়াড় প্রবীণ যাদব, তার  লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে চলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রবীণের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তাদের প্রয়াসের প্রশংসা করেন। শ্রী মোদী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারাঠী ভাষায় আলাপচারিতা করেছেন।

জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়ার সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান। শ্রী চোপড়া যে আঘাত পেয়েছিলেন, সেটি থেকে বর্তমানে কতটা সুস্থ হয়েছেন, এবিষয়েও প্রধানমন্ত্রী খোঁজ খবর নেন। প্রত্যাশার চাপে তিনি যাতে উদ্বিগ্ন না হন, প্রধানমন্ত্রী, নীরজ চোপড়াকে সেই পরামর্শ দিয়েছেন। স্পিন্টার দ্যুতি চাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই তার নামের অর্থ নিয়ে কথা বলেন।  খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর দক্ষতার প্রশংসা করে তিনি বলেছেন, দ্যুতি চাঁদ দক্ষতার মধ্য দিয়ে উৎসাহের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি তাঁকে ভয় মুক্তভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন গোটা দেশ তাঁর সঙ্গেই রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বক্সার আশীষ কুমারের কাছে জানতে চান, কেন তিনি বক্সিংকে বেছে নিয়েছেন। কোভিড – ১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার সময় কিভাবে তিনি প্রশিক্ষণ চালিয়ে গেছেন, শ্রী মোদী সেবিষয়েও প্রশ্ন করেন। তার পিতৃ বিয়োগ সত্ত্বেও আশিষ যেভাবে লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে চলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রশংসা করেছেন। এই ক্রীড়াবিদ জানান, সঙ্কটের সময় কিভাবে পরিবার, পরিজন এবং বন্ধুবান্ধব তার পাশে ছিলেন। শ্রী মোদী এই প্রসঙ্গে ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকরের পিতৃ বিয়োগের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং খেলার মধ্য দিয়ে কেমন করে শচীন, তার বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন, সেই বিষয়টি স্মরণ করেন।

বক্সার মেরি কমের প্রশংসা করে শ্রী মোদী বলেছেন, অনেক খেলোয়াড়ের কাছে তিনি বর্তমানে আদর্শ। কিভাবে পরিবারের দায়িত্ব সামলে মেরি কম খেলাধুলো চালিয়ে যাচ্ছেন, বিশেষত এই মহামারীর সময়েও, প্রধানমন্ত্রী সেবিষয়েও জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী, মেরি কমের পছন্দের মুষ্ঠাঘাত এবং পছন্দের খেলোয়াড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পি ভি সিন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় শ্রী মোদী হায়দ্রাবাদের গাছিওয়ালিতে তার অনুশীলনের বিষয়ে জানতে চান। প্রশিক্ষণের সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তা কতটা সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী খোঁজ খবর নেন। তিনি সিন্ধুর বাবা, মা –কে সেই সব ছেলে মেয়েদের বাবা– মাদের পরামর্শ দিতে বলেন, যাঁরা নিজেদের সন্তানকে খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে চান। পি ভি সিন্ধুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিযোগিতার শেষে তারা যখন দেশে ফিরে আসবেন, তখন তিনি তাদের সঙ্গে আইসক্রিম খাবেন।

প্রধানমন্ত্রী শ্যুটার এলাভেলিন বালারিভানের কাছে জানতে চান, কেন তিনি শ্যুটিংএ উৎসাহিত হয়েছিলেন। বালারিভান, আমেদাবাদে বড় হয়েছেন। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে শ্রী মোদী, তাঁর সঙ্গে গুজরাটি ভাষায় কথা বলেন এবং তার মা-বাবাকে তামিল ভাষায় শুভেচ্ছা জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, এলাভেলিনের শৈশবের বাসস্থান যে অঞ্চলে,  তিনি সেই মণিনগরের বিধায়ক ছিলেন। কিভাবে এলাভেলিন লেখাপড়া এবং শ্যুটিং –এর প্রশিক্ষণ একইভাবে চালিয়ে গেছেন, শ্রী মোদী সে বিষয়ে জানতে চান। 

প্রধানমন্ত্রী আরেক শ্যুটার সৌরভ চৌধুরির সঙ্গে কথা বলার সময় মনোসংযোগ বাড়ানো ও মনকে শান্ত রাখার ক্ষেত্রে যোগের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। বর্ষীয়ান টেবিল টেনিসের খেলোয়াড় শরৎ কোমলের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, আগের অলিম্পিকের সঙ্গে বর্তমান অলিম্পিকের পার্থক্য কোথায়। মহামারীর ফলে অলিম্পিক কতটা প্রভাবিত হয়েছে, তিনি সেবিষয়েও আলোচনা করেন। শ্রী মোদী বলেছেন, শরৎ কোমলের অভিজ্ঞতা ভারতীয়  ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করবে। আরেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মণিকা বাত্রার দরিদ্র শিশুদের প্রশিক্ষণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খেলার সময় মণিকা হাতে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত ব্র্যান্ড পরে থাকেন। মণিকার কাছে তিনি জানতে চান, খেলার থেকে চাপ কমানোর জন্যই কি তিনি নাচ-কে বেছে নিয়েছেন।

ভিনেশ ফোগাতকে প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করেছেন, তার পরিবারের সদস্যরা কুস্তিগীর হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তিনি প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। শ্রী মোদী, ভিনেশের বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান, তার প্রতিভাধর মেয়েদের তৈরি করতে তিনি কি কি ব্যবস্থা নেন। সাঁতারে স্বজন প্রকাশ কিভাবে গুরুতর চোট থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, শ্রী মোদী সেবিষয়েও জানতে চেয়েছেন।

হকির মনপ্রীত সিং এর সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মেজর ধ্যানচাঁদের মতো কিংবদন্তী খেলোয়াড়ের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আশা করেন, মনপ্রীতের দল প্রত্যাশা পূরণ করবে।

টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জার সঙ্গে কথা বলার সময় শ্রী মোদী বলেছেন, টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এক্ষেত্রে নতুন ক্রীড়াবিদদের তিনি কি কি পরামর্শ দেবেন, শ্রী মোদী সে বিষয়ে জানতে চান। টেনিস কোর্টে অংশীদারের সঙ্গে কিভাবে তিনি বোঝাপড়া করেন, শ্রী মোদী সে সম্পর্কেও জানতে চান। এই প্রসঙ্গে গত ৫ – ৬ বছর ধরে ক্রীড়া জগতের পরিবর্তন সানিয়া কতটা বুঝতে পেরেছেন, শ্রী মোদী সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সানিয়া মির্জা জবাবে জানিয়েছেন, সম্প্রতি ভারতীয় খেলোয়াড়দের যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন খেলার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।

ভারতীয় ক্রীড়াবিদ উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামারীর কারণে তিনি তাঁদের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে পারলেন না। মহামারী বিভিন্ন রীতি নীতির পরিবর্তন ঘটিয়েছে, এই পরিবর্তন অলিম্পিক্সেও অনুভব করা যাচ্ছে। তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, অলিম্পিক্স-এ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য দেশবাসীকে উৎসাহ দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি #Cheer4India –র জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেছেন, সারা দেশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে রয়েছে এবং তাদের আর্শীবাদ সবসময় খেলোয়াড়রা পাবেন। শ্রী মোদী, জনসাধারণকে নমো অ্যাপের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার জন্য সকলকে লগ ইন করতে বলেছেন। “খেলার মাঠে ঢোকার সময় সব খেলোয়াড়দের ১৩৫ কোটি ভারতবাসীর আর্শীবাদ ও শুভেচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খেলোয়াড়দের অভিন্ন কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে। এগুলি হল : দৃঢ়চেতা, দৃঢ় প্রত্যয়, ইতিবাচক মনোভাব, শৃঙ্খলা পরায়ণ, লক্ষ্য পূরণে স্থির থাকা এবং  খেলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করা। শ্রী মোদী বলেছেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে অঙ্গীকার পূরণের দায়বদ্ধতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা রয়েছে। এই গুণ নতুন ভারতের মধ্যে দেখা যায়। নতুন ভারত এবং দেশের ভবিষ্যৎ আজ খেলোয়াড়দের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত।

প্রধানমন্ত্রী  বলেছেন, দেশের নতুন ভাবনা ও  নতুন ধারা আজ খেলোয়াড়দের  সঙ্গে রয়েছে।  তাদের মনোবল দেশের জন্য আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড়রা যাতে চাপ মুক্ত হয়ে খেলতে পারেন, পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মাঠে নামেন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সম্প্রতি ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করার জন্য ভাবনা চিন্তায় পরিবর্তন এসেছে।

ক্রীড়াবিদরা যাতে ভালো প্রশিক্ষণ শিবির এবং উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেন, তার জন্য সব রকমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন খেলোয়াড়দের আরো বেশি করে আন্তর্জাতিক পরিবেশে খেলাধুলো করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতো স্বল্প সময়ে বিরাট পরিবর্তনের ফলে ক্রীড়াবিদদের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে  যোগদানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রথমবারের মতো এতো বেশি সংখ্যক খেলোয়াড় অলিম্পিক্সে যোগ্যতা অর্জন করায় শ্রী মোদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। “ফিট ইন্ডিয়া” এবং “খেলো ইন্ডিয়া” –র মতো অভিযান চলছে। এবারই প্রথম ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিকে সব থেকে বেশি খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছেন। বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় ভারত, এবারই প্রথম অংশগ্রহণে ছাড়পত্র পেল।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তরুণ ভারতের মধ্যে যে আস্থা ও শক্তি তিনি দেখতে পান, তার থেকে এটা স্পষ্ট যে নতুন ভারতের কাছে বিজয়ী হওয়াই একমাত্র অভ্যাসে পরিণত হবে, সে দিন আর বেশি দূরে নেই। খেলোয়াড়দের নিজেদের সেরা জিনিসটি প্রতিযোগিতার সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শ্রী মোদী দেশবাসীকে “চিয়ারফরইন্ডিয়া” –য় সামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

Click here to read full text speech

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India records highest-ever startup surge with 55,200 recognised in FY26

Media Coverage

India records highest-ever startup surge with 55,200 recognised in FY26
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s address to the Nation
April 18, 2026

आज मैं एक बेहद महत्वपूर्ण विषय पर विशेष कर देश की माता बहनों और बेटियों से बात करने के लिए आया हूं! आज भारत का हर नागरिक देख रहा है कि कैसे भारत की नारी शक्ति की उड़ान को रोक दिया गया। उनके सपनों को बेरहमी से कुचल दिया गया है। हमारे भरसक प्रयास के बावजूद हम सफल नहीं हो पाए, नारी शक्ति वंदन अधिनियम में संशोधन नहीं हो पाया! और मैं इसके लिए सभी माताओं-बहनों, उनसे मैं क्षमा प्रार्थी हूं।

साथियों,

हमारे लिए देश हित सर्वोपरि है, लेकिन जब कुछ लोगों के लिए दल हित सब कुछ हो जाता है, दल हित, देश हित से बड़ा हो जाता है, तो नारी शक्ति को, देश हित को, इसका खामियाजा उठना पड़ता है। इस बार भी यही हुआ है। कांग्रेस, डीएमके, टीएमसी और समाजवादी पार्टी जैसे दलों की स्वार्थी राजनीति का नुकसान देश के नारी शक्ति को उठाना पड़ा है।

साथियों,

कल देश की करोड़ों महिलाओं की नजर संसद पर थी, देश की नारी शक्ति देख रही थी, मुझे भी यह देखकर बहुत दुख हुआ, कि जब ये नारी हित का प्रस्ताव गिरा, तो कांग्रेस, डीएमके, टीएमसी, सपा, जैसी परिवारवादी पार्टियां, खुशी से तालियां बजा रही थीं। महिलाओं से उनके अधिकार छिनकर ये लोग मेजें थपथपा रहे थे। उन्होंने जो किया वो केवल टेबल पर थाप नहीं थी, वो नारी के स्वाभिमान पर उसके आत्मसम्मान पर चोट थी और नारी सब भूल जाती है, अपना अपमान कभी नहीं भूलती, इसलिए संसद में कांग्रेस और उसके सहयोग के उन सबके व्यवहार की कसक हर नारी के मन में हमेशा रहेगी। देश की नारी जब भी अपने क्षेत्र में इन नेताओं को देखेगी, तो वो याद करेगी कि इन्हीं लोगों ने, इन्हीं लोगों ने, संसद में महिला आरक्षण को रोकने का जश्न मनाया था, खुशियां मनाई थीं। कल संसद में नारी शक्ति वंदन संशोधन का जिन दलों ने विरोध किया है, उनसे मैं दो टूक कहूंगा, ये लोग नारी शक्ति को फॉर ग्रांटेड ले रहे हैं, वो ये भूल रहे हैं, कि 21वीं सदी की नारी देश की हर घटना पर नजर रख रही है, वो उनकी की मंशा भाप रही है और सच्चाई भी भली भांति जान चुकी है। इसलिए महिला आरक्षण विरोध करके जो पाप विपक्ष ने किया है, इसकी उन्हें सजा जरूर मिलेगी। इन दलों ने संविधान निर्माताओं की भावनाओं का भी अपमान किया है और जनता द्वारा इसकी सजा से भी वो बच नहीं पाएंगे।

साथियों,

सदन में नारी शक्ति वंदन संशोधन किसी से भी कुछ छिनने का नहीं था। नारी शक्ति वंदन संशोधन हर किसी को कुछ ना कुछ देने का था, देने के लिए संशोधन का था। ये 40 साल से लटके हुए नारी के हक को, 2029 के अगले लोकसभा चुनाव से उसका हक देने का संशोधन था।

नारी शक्ति वंदन संशोधन 21वीं सदी के भारत की नारी को नए अवसर देने, नई उड़ान देने, उसके सामने से बाधाएं हटाने का महायज्ञन था। देश की 50% यानी आधी आबादी को उसका अधिकार देने का साफ नियत के साथ, ईमानदारी के साथ किया गया एक पवित्र प्रयास था। नारी को भारत की विकास यात्रा में सहयात्री बनाने और सबको जोड़ने का प्रयास था। नारी शक्ति वंदन संशोधन समय की मांग है। नारी शक्ति वंदन संशोधन उत्तर, दक्षिण, पूर्व, पश्चिम, सभी राज्यों की हर राज्य की शक्ति में समान वृद्धि का प्रयास था। ये संसद में सभी राज्यों की आवाज को अधिक शक्ति देने का प्रयास था। राज्य छोटा हो, राज्य बड़ा हो, राज्य की आबादी कम हो या राज्य की आबादी ज्यादा हो। सब की समान अनुपात में शक्ति बढ़ाने की कोशिश थी। लेकिन इस ईमानदार प्रयास की कांग्रेस और उसके सहयोगियों ने सदन में पूरे देश के सामने भ्रूण हत्या कर दी है, भ्रूण हत्या कर दी है। ये कांग्रेस, टीएमसी, समाजवादी पार्टी, टीएमके जैसे दल, इस भ्रूण हत्या के गुनहगार हैं। ये देश के संविधान के अपराधी हैं, ये देश की नारी शक्ति के अपराधी हैं।

साथियों,

कांग्रेस महिला आरक्षण के विषय से ही नफरत करती है, उसने हमेशा से ही महिला आरक्षण को रोकने के लिए षड्यंत्र किए हैं। इस दिशा में पहले जितनी बार भी प्रयास हुए, हर बार कांग्रेस ने इसमें रो़ड़े अटकाए हैं। इस बार भी कांग्रेस और उसके साथियों ने महिला आरक्षण को रोकने के लिए एक के बाद एक नए झूठ का सहारा लिया। कभी संख्या को लेकर, कभी किसी और तरीके से, कांग्रेस और उसके साथियों ने देश को गुमराह करने की कोशिश की। ऐसा करके इन दलों ने भारत के नारी शक्ति के सामने अपना असली चेहरा सामने ला दिया है। अपना मुखौटा उतर दिया है।

साथियों,

मुझे व्यक्तिगत तौर पर आशा थी कि कांग्रेस अपनी दशकों पुरानी गलती सुधारेंगी। कांग्रेस अपने पापों का प्रायश्चित करेगी, लेकिन कांग्रेस ने इतिहास रचने का, महिलाओं के पक्ष में खड़े होने का, अवसर खो दिया। कांग्रेस खुद देश के अधिकांश हिस्सों में अपना वजूद खो चुकी है। कांग्रेस परजीवी की तरह क्षेत्रीय दलों के पीठ पर सवार होकर खुद को जिंदा रखे हुए है। लेकिन कांग्रेस, ये भी नहीं चाहती कि क्षेत्रीय दलों की ताकत बढ़े, इसलिए कांग्रेस ने इस संशोधन का विरोध करवारकर अनेक क्षेत्रीय दलों के भविष्य को अंधकार में धकेलना का राजनीतिक षड्यंत्र किया है।

साथियों,

कांग्रेस, समाजवादी पार्टी, डीएमके, टीएमसी और दूसरी पार्टियां, इतने वर्षों से हर बार वही बहाने, वही कुतर्क गढ़ते आए हैं, बनाते आए हैं, कोई ना कोई टेक्निकल पेंच फंसाकर, ये महिलाओं के अधिकारों पर डाका डालते रहे हैं। देश राजनीति का यह भद्दा पैटर्न बराबर समझ चुका है, और उसके पीछे की वजह भी जान चुका है।

भाइयों बहनों,

नारी शक्ति वंदन अधिनियम के विरोध की एक बड़ी वजह है, इन परिवारवादी पार्टियों का डर। इन्हें डर है, अगर महिलाएं सशक्त हो गईं, तो इन परिवारवादी पार्टियों का नेतृत्व खतरे में पड़ जाएगा। ये कभी नहीं चाहेंगे कि उनके परिवार के बाहर की महिलाएं आगे बढ़ें। आज पंचायतों में, लोकल बॉडीज में, जिन हजारों लाखों महिलाओं ने अपनी क्षमता को साबित किया है, जब आगे बढ़कर लोकसभा और विधानसभाओं में आना चाहती हैं, देश की सेवा करना चाहती हैं, परिवारवादियों के भीतर उनसे असुरक्षा की भावना बैठी हुई है। परिसीमन के बाद महिलाओं के लिए कहीं ज्यादा सीटें होंगी, महिलाओं का कद बढ़ेगा, इसीलिए, इन लोगों ने नारी शक्ति वंदन संशोधन का विरोध किया है। देश की नारीशक्ति कांग्रेस और उसके सहयोगियों को इस पाप के लिए कभी माफ नहीं करेगी।

मेरे प्रिय देशवासियों,

कांग्रेस और उसके साथी दल, डिलिमिटेशन पर लगातार, लगातार झूठ बोल रहे हैं। ये इस बहाने विभाजन की आग को सुलगाना चाहते हैं। क्योंकि, बांटो और राज करो, काँग्रेस ये पॉलिटिक्स अंग्रेजों से विरासत में सीखकर आई है। और, कांग्रेस आज भी उसी के सहारे चल रही है। कांग्रेस ने हमेशा देश में दरार पैदा करने वाली भावनाओं को हवा दी है। इसलिए, ये झूठ फैलाया गया कि डिलिमिटेशन यानी परिसीमन से कुछ राज्यों को नुकसान होगा! जबकि, सरकार ने पहले दिन से स्पष्ट किया है, कि न किसी

राज्य की भागीदारी का अनुपात बदलेगा, न किसी का representation कम होगा। बल्कि,सभी राज्यों की सीटें समान अनुपात में ही बढ़ेंगी। फिर भी काँग्रेस,DMK,TMC और समाजवादी पार्टी जैसे दल इसे मानने को तैयार नहीं हुए।

साथियों,

ये संशोधन बिल सभी दलों, और सभी राज्यों के लिए एक मौका था, एक अवसर था। ये बिल पास होता तो तमिलनाडु, बंगाल, यूपी, केरलम, हर राज्य की सीटें बढ़तीं। लेकिन अपनी स्वार्थी राजनीति की वजह से इन दलों ने, अपने राज्य के लोगों को भी धोखा दे दिया। जैसे कि, DMK के पास मौका था कि वो और ज्यादा तमिल लोगों को सांसद, विधायक बना सकती थी, तमिलनाडु की आवाज़ और मजबूत कर सकती थी! लेकिन, उसने वो मौका खो दिया। TMC के पास भी बंगाल के लोगों को आगे बढ़ाने का मौका था। लेकिन TMC ने भी ये मौका गवां दिया। समाजवादी पार्टी के पास भी मौका था कि वो महिला विरोधी छवि होने के दाग को कुछ कम कर सके। लेकिन सपा भी इसमें चूक गई। समाजवादी पार्टी लोहिया जी को तो पहले ही भूल चुकी है। सपा ने नारीशक्ति वंदन संशोधन का विरोध करके, लोहिया जी के सारे सपनों को पैरों तले रौंद दिया है। सपा महिला आरक्षण विरोधी है, ये यूपी की और देश की महिलाएं कभी नहीं भूलेंगी।

साथियों,

महिलाओं के आरक्षण का विरोध करके, कांग्रेस ने फिर एक बात सिद्ध कर दी है। कांग्रेस, एक एंटी रिफॉर्म पार्टी है। 21वीं सदी के विकसित भारत के लिए, जो भी निर्णय, जो भी रिफॉर्म्स ज़रूरी हैं, जो भी निर्णय देश ले रहा है, कांग्रेस उन सबका विरोध करती है, उसे खारिज कर देती है, उस काम के अंदर खलल डालती है। यही कांग्रेस का इतिहास है और यही कांग्रेस की नेगेटिव पॉलिटिक्स है।

साथियों,

ये वही कांग्रेस है, जिसने जनधन-आधार-मोबाइल की त्रिशक्ति का विरोध किया। कांग्रेस ने, डिजिटल पेमेंट्स का विरोध किया, कांग्रेस ने, GST का विरोध किया, कांग्रेस ने, सामान्य वर्ग के गरीबों को आरक्षण का विरोध किया, कांग्रेस ने, ट्रिपल तलाक के विरुद्ध कानून का विरोध किया। कांग्रेस ने, आर्टिकल 370 हटाने का विरोध किया। हमारा संविधान, हमारे कोर्ट, जिस यूनिफॉर्म सिविल कोड, समान नागरिक आचार संहिता को, यूसीसी को ज़रूरी बताते हैं, कांग्रेस उसका भी विरोध करती है। Reform का नाम सुनते ही कांग्रेस, विरोध की तख्ती लेकर दौड़ पड़ती है। ऐसा कोई भी काम जिससे देश मजबूत होता है, कांग्रेस उसमें बाधाएं खड़ी करने के लिए पूरी शक्ति लगा देती है। कांग्रेस, वन नेशन वन इलेक्शन का विरोध करती है, कांग्रेस, देश से घुसपैठियों को भगाने का विरोध करती है, कांग्रेस, मतदाता सूची के शुद्धिकरण, SIR का विरोध करती है, कांग्रेस, वक्फ बोर्ड में Reform का विरोध करती है।

साथियों,

कांग्रेस ने, शरणार्थियों को सुरक्षा देने वाले CAA कानून तक का विरोध किया। इस पर झूठ बोलकर-अफवाहें फैलाकर देश में बवंडर खड़ा कर दिया। कांग्रेस, माओवादी-नक्सली हिंसा को समाप्त करने के देश के प्रयासों में भी रुकावटें डालती है। कांग्रेस का एक ही पैटर्न रहा है, कोई भी Reform आए तो झूठ बोलो, भ्रम फैलाओ। इतिहास साक्षी है, कांग्रेस ने हमेशा यही नेगेटिव रास्ता चुना है।

साथियों,

जो भी कार्य देश के लिए जरूरी फैसला होता है, कांग्रेस इसको कार्पेट के नीचे डाल देती है। कांग्रेस के इसी रवैये की वजह से भारत विकास की उस ऊंचाई पर नहीं पहुंच पाया, जिसका भारत हकदार है। आजादी के समय, उस दौर में हमारे साथ और भी कई देश आजाद हुए थे। ज्यादातर देश हमसे बहुत आगे निकल गए, और इसकी वजह थी, कि कांग्रेस हर Reform को रोककर बैठी रही। लटकाना-भटकाना- अटकाना यही कांग्रेस का सिद्धांत रहा है, यही कांग्रेस का वर्क कल्चर रहा है। कांग्रेस ने पड़ोसी देशों के साथ सीमा-विवादों को लटकाया, कांग्रेस ने पाकिस्तान के साथ पानी के बंटवारे से जुड़े विवादों को लटकाया, कांग्रेस ने ओबीसी आरक्षण के निर्णय को 40 साल तक लटकाए रखा। कांग्रेस ने सैनिकों के लिए वन रैंक वन पेंशन को 40 साल तक रोके रखा।

साथियों,

कांग्रेस के इस रवैये ने हमेशा देश का बहुत बड़ा नुकसान किया है। कांग्रेस के हर विरोध, हर अनिर्णय, हर छल-प्रपंच का खामियाजा देश ने भुगता है, देश की पीढ़ियों ने भुगता है। आज देश के सामने जितनी भी बड़ी चुनौतियां हैं, वो कांग्रेस के इसी रवैये से उपजी हुई हैं। इसलिए, ये लड़ाई सिर्फ एक कानून की नहीं है, ये लड़ाई, कांग्रेस की उस एंटी-रिफॉर्म मानसिकता के साथ है, जिसमें सिर्फ नेगेटिविटी है, नकारात्मकता है। और मुझे इसमें कोई संदेह नहीं है, कि देश की सभी बहनें-बेटियां, कांग्रेस की इस मानसकिता को करारा जवाब देकर रहेगी।

साथियों,

कुछ लोग देश की महिलाओं के सपने टूटने को सरकार की नाकामी बता रहे हैं। लेकिन, ये विषय कामयाबी या नाकामयाबी क्रेडिट का था ही नहीं। मैंने संसद में भी कहा था, आधी आबादी को उनका हक मिल जाने दीजिये, मैं इसका क्रेडिट, विज्ञापन छपवाकर विपक्ष के सभी लोगों को दे दूँगा। लेकिन, महिलाओं को दक़ियानूसी सोच से देखने वाले फिर भी अपने झूठ पर अड़े रहे, कायम रहे!

साथियों,

नारीशक्ति को भागीदारी दिलाने की लड़ाई दशकों से चल रही है। वर्षों से मैं भी इसके लिए प्रयास करने वालों में से एक हूं। कितनी ही महिलाएं ये विषय मेरे सामने उठाती रही हैं। कितनी ही बहनों ने पत्र के द्वारा मुझे सारी बातें बताई हैं। मेरे देश की माताएं-बहनें-बेटियां, मैं जानता हूं, आज आप सब दुखी हैं। मैं भी आपके इस दुःख में दुःखी हूँ। आज भले ही, बिल पास कराने के लिए जरूरी 66 परसेंट वोट हमें नहीं मिला हो, लेकिन मैं जानता हूं, देश की 100 परसेंट नारीशक्ति का आशीर्वाद हमारे साथ है। मैं देश की हर नारी को विश्वास दिलाता हूं, हम महिला आरक्षण के रास्ते में आने वाले हर रुकावट को खत्म करके रहेंगे, हटाकर के रहेंगे। हमारा हौसला भी बुलंद है, हमारी हिम्मत भी अटूट है और हमारा इरादा भी अडिग है। महिला आरक्षण का विरोध करने वाली पार्टियां, ये देश की नारी शक्ति को संसद और विधानसभाओं में उनकी भागीदारी बढ़ाने से कभी भी रोक नहीं पाएंगे, सिर्फ वक्त का इंतजार है। नारी शक्ति के सशक्तीकरण का बीजेपी-एनडीए का संकल्प अक्षुण्ण है। कल हमारे पास संख्याबल नहीं था, लेकिन इसका मतलब ये नहीं है कि हम हार गए। हमारा आत्मबल अजेय है। हमारा प्रयास रुकेगा नहीं, हमारा प्रयास थमेगा नहीं। हमारे पास आगे अभी और मौके आएंगे, हमें आधी आबादी के सपनों के लिए, देश के भविष्य के लिए, इस संकल्प को पूरा करना ही है। आप सबका बहुत-बहुत धन्यवाद।