প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভুটানের থিম্পুতে ছাঙলিমেথাং সেলিব্রেশন গ্রাউন্ডে এক সমাবেশে ভাষণ দেন। ভুটানের রাজা মহামান্য জিগমে খেসার নামগেয়াল ওয়াংচুক এবং চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক-কে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে সহ রাজ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের রাজ পরিবার এবং যাঁরা বিশ্ব শান্তিতে বিশ্বাসী, তাঁদের কাছে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত-ভুটানের মধ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
দিল্লি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "আজ আমি খুব ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এখানে এসেছি। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লির ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। কাল সারারাত ধরে আমি সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত যাবে। যারা যারা এই ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী, তাদের সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। একজনকেও রেয়াত করা হবে না।’’

শ্রী মোদী বলেন, ভারত “বসুধৈব কুটুম্বকম”, অর্থাৎ এক পরিবারের আদর্শে বিশ্বাসী। ভুটানে বিশ্বশান্তি প্রার্থনা উৎসবে ভারতের যোগদানের কথা জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, গোটা বিশ্বের সাধু-সন্তরা বিশ্বশান্তির জন্য এখানে একত্রিত হয়েছেন এবং এই প্রার্থনায় সঙ্গী হয়েছেন ১৪০ কোটি ভারতীয়ও।
ভুটানের চতুর্থ রাজার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনকে জ্ঞান, সারল্য, সাহস ও নিঃস্বার্থ সেবার সঙ্গম হিসেবে বর্ণনা করেন। শ্রী মোদী বলেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি শাসনভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং অপত্য স্নেহ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তার ৩৪ বছরের শাসনে ভুটান তার ঐতিহ্য রক্ষা করে এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছেন বলেও মন্তব্য করেন শ্রী মোদী।
ভারত ও ভুটানের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধনকে মজবুত করার ক্ষেত্রে চতুর্থ রাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দুই দেশের এই বন্ধনকে সযত্নে লালন-পালন করে চলেছেন। শ্রী মোদী বলেন, “ভারত ও ভুটান শুধুমাত্র সীমান্তের মাধ্যমে যুক্ত নয়, দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধনও রয়েছে। মূল্যবোধ, ভালোবাসা, শান্তি ও অগ্রগতি আমাদের বন্ধুত্বের মূল মন্ত্র।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়ে দুই দেশ পরস্পরের পাশে দাঁড়িয়েছে, মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে এবং এখন একসঙ্গে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ রাজা ভুটানকে এবং দুই দেশের আস্থা ও বিশ্বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। ভারত-ভুটান জলবিদ্যুৎ সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলা রাজার জন্যই সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শ্রী মোদী। বিশ্বের প্রথম কার্বন-ঋণাত্মক দেশ হিসেবে ভুটানের স্বীকৃতিকে এক অনন্যসাধারণ সাফল্য আখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী। ভুটানের বিদ্যুতের চাহিদার ১০০ শতাংশই অচিরাচরিত শক্তি থেকেই উৎপাদিত হয়। আজ আরও ১০০০ মেগাওয়াটের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যেই ভারত-ভুটান সম্পর্ক আবদ্ধ নেই, সৌরশক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারত গত বছর ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হরেছিল। রাস্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই টাকা খরচ করা হচ্ছে এবং ভুটানের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়ে উঠছে। শিক্ষা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া, মহাকাশ ও সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র দুই দেশের তরুণদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজগীরে সম্প্রতি চালু হওয়া ভুটানের মন্দিরের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, দেশের অন্যান্য অংশ এই ধরনের মন্দির তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বারাণসীতে এই ধরনের মন্দির তৈরির জন্য সরকার জমি দিয়ে সহায়তা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এইসব মন্দিরকে ভারত ও ভুটনের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধনকে মজবুত করার হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অগ্রগতি অক্ষুন্ন রাখতে দুই দেশ একযোগে প্রয়াস চালিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারত গত বছর ১০,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হরেছিল। রাস্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই টাকা খরচ করা হচ্ছে এবং ভুটানের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়ে উঠছে। শিক্ষা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া, মহাকাশ ও সাংস্কৃতিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র দুই দেশের তরুণদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজগীরে সম্প্রতি চালু হওয়া ভুটানের মন্দিরের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, দেশের অন্যান্য অংশ এই ধরনের মন্দির তৈরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বারাণসীতে এই ধরনের মন্দির তৈরির জন্য সরকার জমি দিয়ে সহায়তা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এইসব মন্দিরকে ভারত ও ভুটনের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধনকে মজবুত করার হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পারস্পরিক অগ্রগতি অক্ষুন্ন রাখতে দুই দেশ একযোগে প্রয়াস চালিয়ে যাবে।


