“গুজরাটের শিক্ষকদের সঙ্গে আমার মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে একটি নীতি প্রণয়নে সাহায্য করেছে”
“বিশ্বের অনেক নেতা শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের ভারতীয় শিক্ষকদের কথা স্মরণ করেন”
“আমি একজন শাশ্বত ছাত্র, সমাজে যা যা ঘটে চলেছে, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার মধ্য দিয়ে শিখে চলেছি”
“আজকের প্রত্যয়ী এবং অকুতোভয় ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে শিক্ষাদান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে”
“কৌতুহলী ছাত্রছাত্রীরা যে সমস্যাগুলি তুলে ধরছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সেগুলি পর্যালোচনা করা উচিৎ, যার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখা, ভুলে যাওয়া এবং আবারও শেখার এক সুযোগ তারা নিয়ে আসছে। ফলস্বরূপ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে উন্নতির সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে”
“প্রযুক্তি তথ্যের যোগান দেয়, বিশেষ মতামতের নয়”
“আজ ভারত একবিংশ শতাব্দীর চাহিদার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে নতুন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে এবং এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি তৈরি করা হয়েছে”
“সরকার আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যা শিক্ষকদের পক্ষে সুবিধাজনক হবে”
“বিদ্যালয়
এটি ছিল নিখিল ভারত প্রাথমিক শিক্ষক ফেডারেশনের ২৯তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। এই উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রদর্শনীটিও শ্রী মোদী ঘুরে দেখেন। এই সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল ‘শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের মূল কান্ডারী’।

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের গান্ধীনগরে অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এটি ছিল নিখিল ভারত প্রাথমিক শিক্ষক ফেডারেশনের ২৯তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন। এই উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রদর্শনীটিও শ্রী মোদী ঘুরে দেখেন। এই সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল ‘শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের মূল কান্ডারী’।

 

এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অমৃতকালে দেশ যখন বিকশিত ভারতের দিকে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেই সময় আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুজরাটের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা রাজ্যের স্কুলছুট ছাত্রাছাত্রীদের সংখ্যা ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল তাঁকে এই তথ্য জানিয়েছেন। শ্রী মোদী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের  সঙ্গে মতবিনিময়ের ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা জাতীয় স্তরে একটি নীতি প্রণয়নে সাহায্য করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলিতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ছাত্রীদের জন্য শৌচাগার নির্মাণে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আসলে এই অভিজ্ঞতারই ফসল। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু করার বিষয়টির উপর তিনি গুরুত্ব দেন।

শ্রী মোদী বলেন, বিশ্বের অনেক নেতাই শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের ভারতীয় শিক্ষকদের কথা স্মরণ করেন। যখন তিনি বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখনই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভুটান ও সৌদি আরবের রাজা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহানির্দেশক তাঁদের ভারতীয় শিক্ষকদের কতটা সম্মান করেন, সেই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তাঁর আলোচনায় তুলে ধরেন।

 

নিজেকে একজন শাশ্বত ছাত্র হিসাবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে যা যা ঘটে চলেছে, সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার মধ্য দিয়ে তিনি আজও শিখে চলেছেন। একবিংশ শতাব্দীর এই পরিবর্তনের সময় ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে সম্পদ এবং পরিকাঠামোর কারণে শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা সমস্যা দেখা দিত। ফলে, ছাত্রছাত্রীরা উদ্ভুত সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারতো না। আজ পরিকাঠামো ও সম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের কৌতুহলও নানা বিষয় নিয়ে তাদের মনের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে। আজকের প্রত্যয়ী এবং অকুতোভয় ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিভিন্ন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, যার মধ্য দিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতে শিক্ষাদান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এখন সর্বশেষ তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। কারণ, ছাত্রছাত্রীরা নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে পারছে। “আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা কিভাবে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে পারছেন, তার উপরই শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে”। কৌতুহলী ছাত্রছাত্রীরা যে সমস্যাগুলি তুলে ধরছে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সেগুলি পর্যালোচনা করা উচিৎ, যার মাধ্যমে নতুন কিছু শেখা, ভুলে যাওয়া এবং আবারও শেখার এক সুযোগ তারা নিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাদাতা ছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের পরামর্শ হয়ে ওঠারও পরামর্শ দেন। কোনও বিষয় সম্পর্কে গভীরভাবে জানার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষাদান করতে পারে না। যখন প্রচুর তথ্যের সমাগম হয়, সেই সময় ছাত্রছাত্রীদের কাছে মূল বিষয় কী, সেটি বোঝা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যুক্তি দিয়ে কোনও বিষয়কে অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একবিংশ শতাব্দীতে ছাত্রছাত্রীদের জীবনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অভিভাবকরাও চান যে, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তাঁদের সন্তানকে শিক্ষাদান করুন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরই তাঁরা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।

 

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আচার-আচরণ এবং ভাবনাচিন্তা ছাত্রছাত্রীদের যথেষ্ট প্রভাবিত করে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনও বিষয়ে শিক্ষালাভের সময় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সেই বিষয় সম্পর্কে তখনই সম্যক ধারণা গড়ে উঠবে, যখন তাঁরা ধৈর্য্যশীলভাবে, সাহসিকতার সঙ্গে, নিরপেক্ষ হয়ে তাঁদের মতামত প্রকাশ করবে। প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু তার পরিবারের সদস্য ছাড়া সবচেয়ে বেশি তাঁদের সঙ্গেই সময় কাটান। “একজন শিক্ষকের নিজের পেশাগত দায়বদ্ধতার উপলব্ধির মধ্য দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করে তোলা যায়”।

নতুন শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নীতি প্রণয়নের জন্য লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। “আজ ভারত একবিংশ শতাব্দীর চাহিদার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে নতুন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলছে এবং এই বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি তৈরি করা হয়েছে”। নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি পুরনো অপ্রাসঙ্গিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে অপসারিত করেছে। পুরনো ব্যবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যালাভ করতো। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় হাতে-কলমে বোঝার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে শ্রী মোদী তাঁর শৈশবের শিক্ষালাভের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকারা আন্তরিকভাবে শিক্ষাদানের কারণেই তার ইতিবাচক সুফল তিনি উপলব্ধি করেছেন।

জাতীয় শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০০ বছরের বেশি বৃটিশ শাসনে থাকা ভারতবর্ষে ইংরেজি ভাষা মুষ্ঠিমেয় নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষালাভ করতেন। অথচ, তাঁদের ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলা হ’ত। এর ফলে, তাঁরা সমস্যার সম্মুখীন হতেন। বর্তমানে আঞ্চলিক ভাষায় শিক্ষাদানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে, যাঁরা আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশুনা করেছেন, তাঁদের পক্ষে শিক্ষক হিসাবে চাকরি পেতে সুবিধা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন এক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষকতা একটি আকর্ষণীয় পেশা হয়ে উঠবে। সকলে শিক্ষক হতে চাইবেন। মনের টানে সকল শিক্ষক তাঁর পেশাকে ভালোবাসবেন।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শ্রী মোদী তাঁর দুটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণের কথা স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের বন্ধুদের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তিনি সম্মাননা প্রদান করেন। আজও প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বর্তমানে শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মনের টান ক্রমশ কমে যাচ্ছে বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন হয়ে যায়। আজ পড়ুয়ারা তো বটেই, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকরাও সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবস কবে, তা ভুলে যান। তাই, বিদ্যালয় ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে বিদ্যালয়ের জন্মদিন পালন করা উচিৎ।

 

স্কুলে খাদ্য সরবরাহের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে শ্রী মোদী বলেন, এই উদ্যোগে সমগ্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে কোনও ছাত্রছাত্রী অভুক্ত না থাকে। মিড-ডে-মিল দেওয়ার সময় গ্রামের বয়স্ক মানুষদের আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্য দিয়ে কিভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়, সেই বিষয়ে ছাত্রছাত্রীরা ধারণা পাবে।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার একজন শিক্ষিকার কথা উল্লেখ করেন। ঐ শিক্ষিকা তাঁর পুরনো শাড়ি দিয়ে রুমাল তৈরি করতেন, সেই রুমাল ছাত্রছাত্রীরা ব্যবহার করতো।

পরিশেষে শ্রী মোদী বলেন, শিক্ষকরা সামান্য পরিবর্তন ঘটালে তা সুকুমারমতী ছাত্রছাত্রীদের জীবনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে। দেশের ঐতিহ্যকে বজায় রেখে শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষাদান করবেন, যার মধ্য দিয়ে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং সমাজে শিক্ষককে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার ভারতীয় রীতি বজায় থাকবে।

অনুষ্ঠানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, সাংসদ শ্রী সি আর পাটিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী পুরুষোত্তম রূপালা, প্রতিমন্ত্রী ডঃ মুঞ্জপারা মহেন্দ্রভাই, নিখিল ভারত প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি শ্রী রামপাল সিং সহ গুজরাট সরকারের মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India’s Defence Exports Explode: ₹40,000 Crore Milestone Signals a New Manufacturing Era

Media Coverage

India’s Defence Exports Explode: ₹40,000 Crore Milestone Signals a New Manufacturing Era
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Text of PM’s remarks during inauguration of Swaminarayan Hindu Temple in Paris
September 06, 2026

पूज्य महंत स्वामी, फ्रांस सरकार के सम्मानित प्रतिनिधिगण, उपस्थित अतिथिगण, इंडियन कम्युनिटी के मेरे साथी, देश दुनिया से जुड़े सभी हरि भक्त, देवियों और सज्जनों, जय स्वामीनारायण!

आज फ्रांस की राजधानी पेरिस में भव्य स्वामीनारायण मंदिर का लोकार्पण हो रहा है। यह लोकार्पण भारत और फ्रांस के सांस्कृतिक संबंधों का नया युग स्तंभ है। पूज्य संत जनों और सनातन परंपरा के श्रेष्ठ जनों के आशीर्वाद के साथ आज इस लोकार्पण का मंच ‘वसुधैव कुटुम्बकम’ के भाव का मंच बन गया है। भगवान स्वामीनारायण की कृपा और हमारे संतों का स्नेह, संतों का आशीर्वाद, मेरा सौभाग्य है कि मुझे ऐसे पुण्य अवसरों से जुड़ने का अवसर हमेशा मिलता रहता है। आज भी मैं भले ही पेरिस में आप सबके बीच उपस्थित नहीं हूं, लेकिन मन से और हृदय से, मैं स्वयं को आपके बीच ही अनुभव कर रहा हूं।

साथियों,

आज इस अवसर पर मैं परम पूज्य प्रमुख स्वामी जी महाराज का भी श्रद्धापूर्वक स्मरण करता हूं। प्राचीन काल में भारत का जो सांस्कृतिक आध्यात्मिक वैभव था, उन्होंने उसके पुनर्जागरण का एक अभियान शुरू किया था। आज उसका प्रकाश यूरोप समेत पूरी दुनिया में फैल रहा है। 2024 में अबू धाबी में भव्य मंदिर का लोकार्पण हुआ था। आज वहां हजारों लोग दर्शन करने जाते हैं और अब यहां पेरिस में स्वामीनारायण मंदिर का निर्माण सृजन की यह निरंतरता, यह संतों की संकल्प शक्ति का ही प्रमाण है। मैं पुनीत कार्य के लिए पूज्य महंत स्वामी का आभार प्रकट करता हूं, मैं उनके चरणों में प्रणाम करता हूं। मैं BAPS स्वामीनारायण संस्था को और करोड़ों हरि भक्तों को इस अवसर पर हृदय की गहराई से बधाई देता हूं।

साथियों,

BAPS के माध्यम से जब अलग-अलग देश में मंदिरों की प्राण प्रतिष्ठा होती है, तो वहां भारत के प्राचीन विचार और मानवीय मूल्य भी साथ-साथ ही जाते हैं और भारत का विचार कहता है ‘समानं मनः सह चित्तमेषाम्’ अर्थात हमारे मन समान हो, हमारे हृदय साथ जुड़े। इसलिए आज जब फ्रांस में इतना भव्य मंदिर बनकर तैयार हुआ है, यह फ्रांस की विविधता को तो समृद्ध करेगा ही, इससे भारत और फ्रांस के सांस्कृतिक संबंधों को भी ऊर्जा मिलेगी।

साथियों,

बीते वर्षों में भारत और फ्रांस के संबंध नई ऊंचाइयों तक पहुंचे हैं। मेरे मित्र, प्रेसिडेंट मैक्रों के साथ मिलकर दोनों देश एक Special Global Strategic Partnership बना रहे हैं। Technology, AI और Defence से लेकर Space और Climate Action तक हम एक नई गति और नई ऊर्जा के साथ मिलकर के आगे बढ़ रहे हैं। हम 2026 को India-France Year of Innovation के रूप में भी सेलिब्रेट कर रहे हैं। भारत-फ्रांस की ये Strategic Partnership इसलिए भी खास है, क्योंकि ये हमारे पुराने सांस्कृतिक-राजनैतिक सम्बन्धों की मजबूत बुनियाद पर टिकी है। इतिहास गवाह है, फ्रांस में भारतीय सैनिकों के बलिदान का इतिहास आज भी मन-मंदिर में जीवित है। भाषा से जुड़े विषयों में रुचि रखने वाले लोग यह भी जानते हैं कि फ्रेंच स्कॉलर्स ने संस्कृत को लोकप्रिय बनाने में कितनी अहम भूमिका निभाई है। रामकृष्ण परमहंस और स्वामी विवेकानंद पर रोमाँ रोलाँ की की लेखनी हमारी सोसाइटीज़ को और करीब लाई है। पेरिस से पुडुचेरी के अरबिंदो आश्रम तक 'The mother' की spiritual journey, उसने कितने ही भारतीय और फ्रेंच साधकों को inspire किया है।

साथियों,

दशकों पहले श्रील प्रभुपाद स्वामी भी फ्रांस आए थे। इस्कॉन के जरिए भारत फ्रांस के बीच आध्यात्मिक सम्बन्धों का नया अध्याय उन्होंने शुरू किया था। आज योग भी भारत-फ्रांस के people to people कनेक्ट का एक माध्यम बन चुका है। 'इंटरनेशनल योगा डे' पर एफिल टॉवर के सामने से आने वाली तस्वीरें फ्रांस में योग की लोकप्रियता का उदाहरण बनती हैं और अब BAPS के इस भव्य मंदिर के जरिए, हमारे उन सांस्कृतिक सम्बन्धों में एक नया अध्याय जुड़ रहा है।

साथियों,

इन दिनों, भारत फ्रांस Joint Ventures की संभावनाओं पर बातें होती हैं। स्वामीनारायण मंदिर ने इस संभावना में भी एक नया आयाम जोड़ा है। यह मंदिर 'मेड इन इंडिया' है और 'बिल्ट इन फ्रांस' है। इसके काफी पत्थरों को भारत में तराशा गया है। भारत की प्राचीन प्रतिभा यहाँ फ्रांस में आधुनिक इंजीनियरिंग से आकर जुड़ चुकी है। पेरिस में इस भव्य मंदिर ने आकार लिया है। इसलिए, मैं आशा करता हूँ, यह मंदिर सदियों तक भारत और फ्रांस के बीच सहयोग और संभावनाओं का भी प्रतीक बनकर उभरेगा।

साथियों,

स्वामीनारायण मंदिर हमेशा से भक्ति के साथ-साथ सेवा का माध्यम भी रहे हैं। मुझे बताया गया है, यह मंदिर भी सेवा प्रकल्पों का वैसा ही केंद्र बनेगा। मुझे विश्वास है कि यहाँ से भारतीय संस्कृति के जो स्वर निकलेंगे, उनका लाभ पूरे यूरोप में लोगों को मिलेगा। भविष्य में मुझे जब भी समय मिलेगा, मैं इस मंदिर में दर्शन करने का प्रयास अवश्य करूंगा। इन्हीं शब्दों के साथ, एक बार फिर आज के इस लोकार्पण समारोह में सम्मिलित सभी अतिथिगणों को, सभी परिवारों को, सभी हरि भक्तों को और पूरी Indian Diaspora को मेरी ओर से इस शुभारंभ पर्व की ढेरों शुभकामनाएं!

बहुत-बहुत धन्यवाद!

मर्सी बोकू!

जय स्वामीनारायण!