সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিকাশের বিষয়ে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিশ্বে অগ্রণী নীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
২০৩০ সালের মধ্যে ২৩টি জলপথকে কার্যকরি করে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকার ৪০০টি বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পের তালিকা তৈরি করেছে : প্রধানমন্ত্রী
সরকার জলপথগুলির জন্য যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে তা আগে কখনও হয়নি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০২১-এর মেরিটাইম ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। ডেনমার্কের পরিবহণ মন্ত্রী মিঃ বেনি ইংলেব্রেশট, গুজরাট ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও শ্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী ভারতের উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হতে সারা বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামুদ্রিক বাণিজ্যের বিকাশের বিষয়ে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বিশ্বের অগ্রগণ্য নীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে উঠে আসছে। পরিকাঠামোর মানোন্নয়ন ও সংস্কারে গুরুত্ব দিয়ে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানকে সফল করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইতস্ততভাবে উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে সার্বিকভাবে পুরো ক্ষেত্রের বিকাশের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে বন্দরগুলি মালপত্র ওঠানো-নামানোর ক্ষমতা ছিল বার্ষিক ৮,৭০০ লক্ষ টন। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে বার্ষিক ১৫,৫০০ লক্ষ টন। ভারতের বন্দরগুলি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যেমন : সরাসরি বন্দরে পণ্য সরবরাহ, সরাসরি বন্দরে ঢোকা এবং বন্দর বিষয়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় সহজ তথ্য বিনিময়। আমাদের বন্দরগুলিতে পণ্যবাহী জাহাজ ঢোকা অথবা পণ্যবাহী জাহাজ বেরোনোর অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব হয়েছে। বাধাবন, পারাদ্বীপ ও গুজরাটের দীনদয়াল বন্দরে বিশ্বমানের পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমাদের সরকার জলপথে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করছে তা আগে কোনদিন হয়নি। অভ্যন্তরীণ জলপথগুলিতে পণ্য পরিবহণের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী ও পরিবেশ-বান্ধব করে তোলা হচ্ছে। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৩টি জলপথকে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলব।” ভারতের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকতে ১৮৯টি লাইট হাউজ রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, “৭৮টি লাইট হাউজের পাশে পর্যটনের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, এইসব লাইট হাউজগুলির মানোন্নয়ন এবং লাইট হাউজ সংলগ্ন অঞ্চলে সামুদ্রিক পর্যটনকে উৎসাহ দেওয়া। কোচি, মুম্বাই, গুজরাট এবং গোয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহর ও রাজ্যগুলিতে শহরাঞ্চলে জলপথ পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সরকার সামুদ্রিক বাণিজ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তার কাজের পরিধি সম্প্রসারিত করেছে। এর জন্য জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের নাম পরিবর্তন করে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক করা হয়েছে। এর ফলে আরও সর্বাঙ্গীণভাবে এই ক্ষেত্রে কাজ করা যাবে। সরকার, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ মেরামতির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিপ বিল্ডিং ফিনান্সিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স পলিসি ফর ইন্ডিয়ান শিপইয়ার্ডস-এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রক ৪০০টি এমন প্রকল্পের তালিকা তৈরি করেছে যেখানে বিনিয়োগ করা সম্ভব। এই প্রকল্পগুলিতে ৩,১০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ২ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ সম্ভব। মেরিটাইম ইন্ডিয়া ভিশন, ২০৩০-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সরকার এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করেছে।

 

সাগরমন্থন : আজ সামুদ্রিক বাণিজ্যিক সচেতনতা কেন্দ্রের সূচনা করা হয়েছে। সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বৃদ্ধি, নিখোঁজ জাহাজের অনুসন্ধান ও উদ্ধারের ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য এই কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে।

 

সরকার ২০১৬ সালে বন্দর-ভিত্তিক উন্নয়নকে উৎসাহদানের জন্য ‘সাগরমালা’ প্রকল্পের সূচনা করেছিল। এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-৩৫ সালের মধ্যে ৮,২০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৬ লক্ষ কোটি টাকার ৫৭৪টি প্রকল্পকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্র অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ মেরামতি শিল্পের বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে। ভারতীয় জাহাজ তৈরির জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা নীতি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে সমুদ্র উপকূলে জাহাজ মেরামতির ক্লাস্টার তৈরি করা হবে। বর্জ্য পদার্থ থেকে সম্পদ তৈরির উদ্যোগের আওতায় দেশীয় জাহাজগুলিকে পুনর্ব্যবহারের শিল্পের মাধ্যমে আবার ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯-এর জাহাজ পুনর্ব্যবহার আইন ভারত কার্যকর করেছে এবং এক্ষেত্রে হংকং আন্তর্জাতিক কনভেশনটি মেনে চলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে আমরা সারা বিশ্বের সঙ্গে সবচাইতে ভালো নিয়মগুলি ভাগ করে নেব। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য বিমস্টেক ও আইওআর গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে।

 

শ্রী মোদী বলেছেন, দ্বীপভূমির পরিকাঠামো ও বাস্তুতন্ত্রের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য কেন্দ্র উদ্যোগী হয়েছে। সামুদ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ভারত উৎসাহ দিচ্ছে। সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির মাধ্যমে বড় বড় বন্দরগুলির আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বন্দরগুলির জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে যাতে মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬০ শতাংশ পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যায়, সেই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তাঁর বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, “ভারতের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকত আপনাদের অপেক্ষায়। ভারতের কঠোর পরিশ্রমী জনসাধারণ আপনাদের অপেক্ষায়। আমাদের বন্দরগুলিতে বিনিয়োগ করুন। আমাদের জনসাধারণের মধ্যে বিনিয়োগ করুন। আপনাদের বাণিজ্যিক গন্তব্যের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠুক ভারত। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ভারতীয় বন্দরগুলি আপনাদের বন্দর হয়ে উঠুক।”

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Bank credit, deposit growth at 16.08% in FY26, fastest since FY24

Media Coverage

Bank credit, deposit growth at 16.08% in FY26, fastest since FY24
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister shares Sanskrit Subhashitam, highlights commitment to women empowerment
April 16, 2026

The Prime Minister, Shri Narendra Modi said that with the special session of Parliament commencing today, the country is set to take a historic step towards women empowerment. He noted that respect for mothers and sisters is respect for the nation, and with this spirit, the country is moving forward with firm resolve in this direction.

The Prime Minister shared a Sanskrit Shubhashitam-

“व्युच्छन्ती हि रश्मिभिर्विश्वमाभासि रोचनम्।
ता त्वामुषर्वसूयवो गीर्भिः कण्वा अहूषत॥”

The Sanskrit Shubhashitam conveys that a woman, with the light of her knowledge, dispels the darkness of ignorance and illuminates the entire world. Therefore, those who aspire for prosperity and noble virtues always honor and respect women.

The Prime Minister wrote on X;

“आज से शुरू हो रही संसद की विशेष बैठक में हमारा देश नारी सशक्तिकरण के लिए ऐतिहासिक कदम उठाने जा रहा है। हमारी माताओं-बहनों का सम्मान राष्ट्र का सम्मान है और यही भावना लेकर हम इस दिशा में दृढ़ता से आगे बढ़ रहे हैं।

व्युच्छन्ती हि रश्मिभिर्विश्वमाभासि रोचनम्।

ता त्वामुषर्वसूयवो गीर्भिः कण्वा अहूषत॥”