প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরে ৫,৪০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপুর ইস্পাতনগরী হিসেবে পরিচিত। ভারতের শ্রমশক্তির অন্যতম কেন্দ্র এই শহর। দেশের উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আজ এখানে যে প্রকল্পগুলির সূচনা হয়েছে, তার ফলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং গ্যাস ভিত্তিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতির প্রসার ঘটবে। শ্রী মোদী বলেন, এই প্রকল্পগুলি “মেক ইন ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড” ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বাস্তবায়িত হবে। ফলস্বরূপ এই অঞ্চলের যুবক-যুবতীদের জন্য বহু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির জন্য তিনি সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বেশ কিছু সংস্কারমূলক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আসলে উন্নত ভারত গঠনের মূল ভিত্তি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সামাজিক, ডিজিটাল এবং বাস্তব ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকাঠামোমূলক প্রকল্পের সূচনা। তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে : দরিদ্রদের জন্য ৪ কোটির বেশি পাকা বাড়ি নির্মাণ, কয়েক কোটি শৌচাগার নির্মাণ, ১২ কোটির বেশি বাড়িতে নলবাহিত জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া, হাজার হাজার কিলোমিটার নতুন সড়ক, মহাসড়ক ও রেল পথ নির্মাণ, দেশের ছোট ছোট শহরগুলিতে বিমানবন্দর গড়ে তোলা এবং প্রতিটি গ্রামে ও বাড়িতে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। অত্যাধুনিক এই পরিকাঠামোর ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ প্রতিটি রাজ্য উপকৃত হবে। রাজ্যে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যে ক’টি রাজ্যে সব থেকে বেশি বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করে তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। কলকাতায় মেট্রো রেলের দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন নতুন রেল লাইন স্থাপন, বিভিন্ন রেলপথে দ্বিতীয় লাইন নির্মাণ এবং বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গে আজ রেলপথের উপর দুটি উড়ালপুলও উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে, বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে।
শ্রী মোদী বলেন, উড়ান প্রকল্পের আওতায় এই অঞ্চলে যে বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হয়েছে, সেটি প্রতি বছর ৫ লক্ষ মানুষ ব্যবহার করেন। এই পরিকাঠামোগুলির ফলে মানুষের চলাচলে যেমন সুবিধা হয়েছে, পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির কাজে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদনের মধ্য দিয়েও প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০-১১ বছর ধরে ভারতে গ্যাস পরিবহণে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই দশকে দেশের বেশিরভাগ বাড়িতে রান্নার গ্যাস পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের “এক দেশ, এক গ্যাস গ্রিড” প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা যোজনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় পূর্বাঞ্চলের ৬টি রাজ্যে গ্যাসের পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এর মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল, ব্যয়সাশ্রয়ী মূল্যে পাইপের মাধ্যমে শিল্প সংস্থা এবং গৃহস্থের বাড়ির রান্নাঘরে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া। এছাড়াও এই গ্যাস সিএনজি গাড়ি চালাতে সাহায্য করবে। যেসব শিল্প সংস্থা গ্যাস ভিত্তিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করবে, তারাও এই প্রকল্পে উপকৃত হবে। জাতীয় গ্যাস গ্রিডের অংশ হিসেবে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি সন্তোষপ্রকাশ করেন। এর ফলে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩০ লক্ষ বাড়িতে ন্যায্য মূল্যে পাইপের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। ফলস্বরূপ আমাদের মা ও বোনেরা সহ লক্ষ লক্ষ পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পগুলি থেকেও বহু মানুষ কাজ পাবেন।
শ্রী মোদী দুর্গাপুর ইস্পাত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রঘুনাথপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানোন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পের সূচনা করেছেন। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কেন্দ্রগুলি পরিচালিত হবে। একাজে বিনিয়োগ করা হবে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। ফলস্বরূপ, এই দুটি কেন্দ্র আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তিনি বাংলার মানুষকে এই প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের কলকারখানা অথবা কৃষি ক্ষেত্র – বর্তমানে সর্বত্র অভিন্ন এক সংকল্প কার্যকর করা হচ্ছে, তা হল ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ে তোলা। তাঁর সরকার উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন, স্বনির্ভরতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সুপ্রশাসনকে নিশ্চিত করেছে। তাঁর ভাষণের শেষে তিনি ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গকে চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি.ভি. আনন্দ বোস, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী হরদীপ সিং পুরি, শ্রী শান্তনু ঠাকুর, ডঃ সুকান্ত মজুমদার সহ বিশিষ্ট জনেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপটঃ
পশ্চিমবঙ্গে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সড়ক এবং রেল ক্ষেত্রে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোকে উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)-এর সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশান প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ১,৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলায় এই প্রকল্প চালু হয়েছে। এর সাহায্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাড়িগুলিতে পিএনজি সংযোগ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ১৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গাপুর-হলদিয়া প্রাকৃতিক গ্যাস পাইপলাইনটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। এটি প্রধানমন্ত্রী উর্জা গঙ্গা প্রকল্প নামেও পরিচিত। দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১,১৯০ কোটি টাকা। পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও নদীয়া জেলার মধ্য দিয়ে এই পাইপলাইন গেছে। এক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পরিচ্ছন্ন বায়ু ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুর স্টিল থার্মাল পাওয়ার স্টেশন এবং রঘুনাথপুর থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে রেট্রোফিটিং পলিউশন কন্ট্রোল সিস্টেম ফ্লু গ্যাস ব্যবস্থার (এফজিডি) সূচনা করেন।

রেল পরিকাঠামোকে উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রী পুরুলিয়া থেকে কোটশিলা পর্যন্ত রেললাইন ডাবলিং করার কাজটি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। এর ফলে, জামশেদপুর, বোকারো, ধানবাদ, রাঁচি ও কলকাতার মধ্যে যোগাযোগ উন্নত হবে, পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা বাড়বে, যাত্রার সময় কমবে এবং শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম বর্ধমানের তপসি ও পাণ্ডবেশ্বরে সেতু ভারতম কর্মসূচির আওতায় ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতুর উদ্বোধন করেছেন। এই সেতু ও ওভারব্রিজগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি, রেলের লেভেল ক্রসিং-এ দুর্ঘটনা রুখতেও সহায়ক হবে।
সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন
आज पूरी दुनिया में विकसित भारत के संकल्प की चर्चा है।
— PMO India (@PMOIndia) July 18, 2025
इसके पीछे भारत में दिख रहे वो बदलाव हैं जिन पर विकसित भारत की इमारत का निर्माण हो रहा है।
इन बदलावों का एक बड़ा पहलू भारत का इंफ्रास्ट्रक्चर है: PM @narendramodi
हमने वन नेशन वन गैस ग्रिड के विजन पर काम किया...प्रधानमंत्री ऊर्जा गंगा योजना बनाई: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) July 18, 2025
हमें 2047 तक भारत को विकसित बनाना है।
— PMO India (@PMOIndia) July 18, 2025
हमारा रास्ता है-
विकास से सशक्तिकरण।
रोज़गार से आत्मनिर्भरता।
और संवेदनशीलता से सुशासन: PM @narendramodi


