India is now the fastest-growing country in the world and Assam has emerged as one of the fastest-growing states in the nation as well: PM
Today, the entire nation is moving forward in unity to build a developed India; the North East has a significant role to play in fulfilling this resolve: PM
Twenty-five years of the 21st century have passed and the next chapter of this century belongs to the East and the North East: PM
Rapid development in any region requires robust connectivity, that is why our government has placed strong emphasis on enhancing connectivity in the North East: PM
We have expanded the AIIMS network and medical colleges across the country. In Assam, dedicated cancer hospitals have also been established: PM
There are conspiracies underway to alter the demographics of border regions, posing a threat to national security. Therefore, a nationwide Demography Mission is being launched: PM

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ অসমের দরং-এ প্রায় ৬৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী অসমের উন্নয়ন যাত্রার এই ঐতিহাসিক দিনে দরং-এর মানুষ এবং অসমের সমস্ত নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, অপারেশন সিঁদুর-এর সাফল্যের পর তিনি গতকাল প্রথমবার অসম সফর করলেন। তিনি এই অভিযানের দুর্দান্ত সাফল্য মা কামাক্ষ্যা-র আশীর্বাদের ফলে সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তাঁর এই পবিত্র ভূমিতে পা রাখতে পেরে আধ্যাত্মিক পূর্ণতা লাভের গভীর অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি আসামে অনুষ্ঠিত জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মানুষকে শুভেচ্ছা জানান। লালকেল্লার প্রাকার থেকে দেওয়া তাঁর ভাষণের পুনরুক্তি করে শ্রী মোদী বলেন, তিনি ভারতের নিরাপত্তা রণকৌশলে সুদর্শন চক্র-এর ধারণাটি প্রদান করেছেন। শ্রী মোদী মঙ্গলদই-কে সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক গরিমা এবং ভবিষ্যতের আশার ত্রিবেণী সঙ্গমস্থল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন যে, এই অঞ্চল আসামের পরিচিতির একটি কেন্দ্রীয় প্রতীক। অনুপ্রেরণা ও শৌর্যপূর্ণ এই ভূমিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি মানুষের সঙ্গে দেখা করার ও কথা বলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আশীর্বাদধন্য মনে করছেন।

মাত্র কয়েক দিন আগে, দেশ ভারতরত্ন এবং কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছেন জানিয়ে শ্রী মোদী বলেন, গতকাল তাঁর সম্মানে আয়োজিত একটি বিশাল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসামের এইরকম মহান সন্তান এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, আসামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তার প্রসারের পাশাপাশি এর দ্রুত উন্নয়ন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার এবং আসামের মানুষের যৌথ প্রয়াসে এই রাজ্য এখন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশীল দেশ এবং আসাম দেশের মধ্যে অন্যতম দ্রুততম রাজ্য হয়ে উঠে এসেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, একটা সময় ছিল যখন আসাম উন্নয়ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল এবং দেশের বাকি অংশের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারতো না। কিন্তু বর্তমানে আসাম প্রায় ১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে। শ্রী মোদী একে বড় সাফল্য বলে বর্ণনা করেন এবং এর কৃতিত্ব দেন আসামের মানুষের কঠোর পরিশ্রম এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রয়াসে। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামের মানুষ এই অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করে চলেছে। তিনি বলেন এই কারণে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং তাঁর দল প্রত্যেকটি নির্বাচনে লাগাতার বিপুল জনসমর্থন পেয়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন এমনকি সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনেও আসামের জনগণের আশীর্বাদে ঐতিহাসিক জয় সম্ভব হয়েছে।

 

আসামকে ভারতের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠান এই দায়বদ্ধতারই অংশ। তিনি বলেন, “এই কিছুক্ষণ আগে এই মঞ্চ থেকে প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।” শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার আসামকে গড়ে তুলছে সবচেয়ে বেশি যোগাযোগ রক্ষাকারী রাজ্য এবং প্রথমসারির স্বাস্থ্য পরিষেবার তালুক হিসেবে। তিনি আরও বলেন, “এই প্রকল্পগুলি আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।” দরং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মহাসড়ক এবং রিং রোডের জন্য শ্রী মোদী সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমগ্র দেশ একসঙ্গে এগোচ্ছে উন্নত ভারত গড়তে; যুব সমাজের জন্য, এক উন্নত ভারত শুধুমাত্র স্বপ্ন নয়, একটি সংকল্পও এবং জাতীয় এই সংকল্প পূরণে উত্তর-পূর্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।” তিনি বিশেষ করে বলেন, স্বাধীনতার পরে প্রধান শহরগুলি, বৃহৎ অর্থনীতিগুলি এবং শিল্প কেন্দ্রগুলি প্রাথমিকভাবে গড়ে উঠেছিল পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতে, যেখানে পূর্ব ভারতের বিশাল অঞ্চল এবং জনগণ উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে ছিল। শ্রী মোদী বলেন যে তাঁদের সরকার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে এখন কাজ করছে। এবার ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় আসাম এবং উত্তর-পূর্বের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এসে গেছে জানিয়ে শ্রী মোদী ঘোষণা করেন “একবিংশ শতাব্দীর পঁচিশটি বছর ইতিমধ্যেই কেটে গেছে, শতাব্দীর পরবর্তী সময়টি পূর্ব এবং উত্তর-পূর্বের”।

শ্রী মোদী বলেন, “যেকোনও অঞ্চলের দ্রুত উন্নয়নের জন্য দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজনীয়, সেই কারণে আমাদের সরকার উত্তর-পূর্বে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে।” তিনি সড়ক, রেল এবং বিমান পরিকাঠামোর পাশাপাশি ৫জি ইন্টারনেট এবং ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল যোগাযোগের সূত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, এই উন্নয়ন মানুষের জন্য আরও বেশি সুবিধা এনে দিয়েছে, তাঁদের জীবনকে সহজ করেছে এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভ্রমণকে আরও সহজ করেছে, পর্যটনের প্রসার ঘটিয়েছে এবং এই অঞ্চলের যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি করেছে।

দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে অভিযান থেকে আসাম অনেক উপকৃত হয়েছে জানিয়ে শ্রী মোদী একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ দেন, উল্লেখ করেন যে দিল্লিতে ছয় দশকের বিরোধী শাসন এবং আসামে কয়েক দশকের শাসন সত্ত্বেও গত ৬০-৬৫ বছরে ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর মাত্র তিনটি সেতু নির্মিত হয়েছিল। তিনি এটিকে তাদের সরকারের কাজের সঙ্গে তুলনা করে বলেন যে, বর্তমান সরকার মাত্র এক দশকের মধ্যে ছয়টি বড় সেতু নির্মাণ করেছে। তিনি কুরুয়া-নারেঙ্গি সেতুর শিলান্যাসের ঘোষণা করেন যা গুয়াহাটি এবং দরং-এর মধ্যে যাতায়াতের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সেতুটি সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থের সাশ্রয় করবে, কম খরচে পরিবহন করা যাবে, ভ্রমণের সময় কমাবে এবং যানজট মুক্ত করবে।

 

নতুন রিং রোড মানুষের অত্যন্ত উপকারে লাগবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উজানি আসাম অভিমুখী গাড়িগুলিকে আর শহরের মধ্যে ঢোকার প্রয়োজন হবে না, ফলে শহরে যানজট কমবে। তিনি বলেন যে, এই রিং রোড পাঁচটি জাতীয় মহাসড়ক, দুটি রাজ্য মহাসড়ক, একটি বিমানবন্দর, তিনটি রেল স্টেশন এবং একটি অভ্যন্তরীণ জল বন্দরকে সংযুক্ত করবে। এর ফলে, আসামের প্রথম সুষ্ঠু বহুমুখী যোগাযোগকারী নেটওয়ার্ক নির্মাণের সূচনা হবে। শ্রী মোদী বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে তাদের সরকার এই ধরনের উন্নয়নই ঘটাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার শুধুমাত্র আজকের চাহিদা অনুযায়ী নয়, বরং আগামী ২৫-৫০ বছরের প্রয়োজনের কথা ভেবেই দেশকে প্রস্তুত করছে। প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে জিএসটি-তে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের বিষয়ে তাঁর ঘোষণার কথা মনে করিয়ে দেন এবং সুসংবাদটি জানান যে এই সংস্কারগুলি এখন রূপায়িত হচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে নয় দিন পরে শুরু হতে যাওয়া নবরাত্রির সময়ে জিএসটি-র হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। শ্রী মোদী বলেন যে, এই পদক্ষেপে আসামের প্রতিটি পরিবার উপকৃত হবে এবং দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আরও সস্তা হবে। তিনি জানান যে, সিমেন্টে কর কমেছে, যাতে বাড়ি তৈরির খরচ কমবে। ক্যান্সারের মতো গুরুতর অসুখের দামি ওষুধ সস্তা হবে এবং বীমার প্রিমিয়ামও কমবে। তিনি আরও বলেন যে, যাঁরা নতুন মোটরসাইকেল অথবা গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা তা পাবেন আরও দামে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মোটর কোম্পানীগুলি ইতিমধ্যেই এই সুবিধাগুলির বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মায়েরা, বোনেরা, তরুণেরা, কৃষকেরা এবং দোকানদাররা-সমাজের সর্ব শ্রেণী - এই সিদ্ধান্ত থেকে উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন যে, এই সংস্কার উৎসবের সময়ে মানুষের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

উৎসবের মরশুমে নাগরিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা মনে রাখার আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় পণ্যগুলি বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে বলেন যে, মানুষের উচিত "মেড ইন ইন্ডিয়া" পণ্যগুলি কেনা, "মেড ইন ইন্ডিয়া" পণ্যগুলি উপহার দেওয়া এবং দোকানদাররাও যাতে "মেড ইন ইন্ডিয়া" পণ্যের প্রচার ও বিক্রয় করে তা নিশ্চিত করা। তিনি সকলকে "ভোকাল ফর লোকাল" হতে বলেন, জানান যে এই লক্ষ্যে প্রত্যেকটি প্রয়াস দেশকে শক্তিশালী করবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, আগে বড় বড় শহরেই হাসপাতাল থাকতো এবং সেখানে চিকিৎসা ব্যয়বহুল ছিল। এর মোকাবিলায় সরকার দেশের প্রতিটি কোণে এইমস এবং মেডিকেল কলেজ নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে আসামে ক্যান্সারের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। শ্রী মোদী বলেন, গত ১১ বছরে ভারতে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর ৬০-৬৫ বছরে নির্মিত হাসপাতাল সংখ্যার সমান। তিনি বলেন যে, ২০১৪ সালের আগে আসামে মাত্র ছয়টি মেডিকেল কলেজ ছিল এবং দরং মেডিকেল কলেজ নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা হবে ২৪। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মেডিকেল কলেজ তৈরি হলে স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকাঠামোরই উন্নতি হবে শুধু তাই নয়, তরুণ সমাজের চিকিৎসক হওয়ার সুযোগও বাড়বে। পূর্বে মেডিকেলে আসনের অভাবের কারণে, অনেকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেধাবী ছাত্র ছাত্রীই ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পায়নি। গত ১১ বছরে দেশে মেডিকেলের আসন সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন লক্ষ্যও ঘোষণা করেন: আগামী ৪-৫ বছরে সরকারের লক্ষ্য আরও এক লক্ষ নতুন আসন যোগ করা।

 

আসামকে দেশপ্রেমিকদের দেশ হিসাবে বর্ণনা করে, বিদেশী আক্রমণকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আত্মত্যাগের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পাথারুঘাটের ঐতিহাসিক কৃষক সত্যাগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। উপস্থিত জনতার কাছে তার ঐতিহ্য তুলে ধরেন। শহীদদের এই পবিত্র ভূমির উপর দাঁড়িয়ে শ্রী মোদী বলেন, বিরোধীদের আরও একটি কাজ জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতবিরোধী শক্তি এবং মতাদর্শের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। অপারেশন সিঁদুরের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে, এমনকি এই অভিযানের সময়েও এই ধরনের মনোভাব দেখা গেছিল। তিনি বলেন যে, যখন বিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল, তখন দেশ ভীষণভাবে সন্ত্রাসবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পাশাপাশি বিরোধী দল ছিল নীরব। সেই তুলনায় তিনি বলেন যে, আজ বর্তমান সরকারের অধীনে, ভারতীয় সেনাবাহিনী সিঁদুরের মতো অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের মূলচক্রীদের নিকেশ করে। ভারতের বদলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ নেওয়ায় এবং সন্ত্রাসবাদীদের যারা আশ্রয় দেয় তাদের কাজকর্মের প্রচার করায় তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের মিথ্যাচার বিরোধীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে এবং জনগণকে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বিরোধীদের কাছে জাতীয় স্বার্থের থেকে ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থ সব সময়ই অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা এখন দেশবিরোধী গোষ্ঠী ও অনুপ্রবেশকারীদের বড় রক্ষাকারী হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় থাকার সময়ে বিরোধীরা সক্রিয়ভাবে অনুপ্রবেশে উৎসাহ দিয়েছে এবং এখন চাইছে ভারতে অনুপ্রবেশকারীদের স্থায়ীভাবে রাখতে। শ্রী মোদী মনে করিয়ে দেন যে, মঙ্গলদই একসময় আসামের পরিচয় রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে বড়সড় আন্দোলনের সাক্ষী ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পূর্বতন বিরোধী নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য মানুষকে শাস্তি দিয়েছিল এবং তাদের জমিতে অবৈধ দখলদারি করতে দিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছিল। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্থান এবং কৃষক ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জমি দখলের অভিযোগ তোলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের জোট সরকার গঠনের পর এই শর্তগুলি পাল্টে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসামে কয়েক লক্ষ বিঘা জমি দখলদারী মুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দরং জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, বিরোধীদের শাসনকালে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গোরুখুটি অঞ্চলটি এখন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পুনরুদ্ধারকৃত জমিটি এখন গোরুখুটি কৃষি প্রকল্পের কেন্দ্র, যেখানে স্থানীয় যুবকরা 'কৃষি সৈনিক' হিসাবে কাজ করছে এবং সরিষা, ভুট্টা, কলাই, তিল এবং কুমড়োর মতো ফসল চাষ করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একসময় অনুপ্রবেশকারীদের দখলে থাকা জমি এখন অসমের কৃষি উন্নয়নের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

তাঁদের সরকার কোনোমতেই অনুপ্রবেশকারীদের দেশের সম্পদ ও সম্পত্তির দখল নিতে দেবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই ভারতের কৃষক, তরুণ এবং উপজাতি সমাজের অধিকারের বিষয়ে আপস করা হবে না। মা, বোন ও কন্যাদের ওপর অনুপ্রবেশকারীদের নৃশংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ঘোষণা করেন যে, এই ধরনের কাজ সহ্য করা হবে না। শ্রী মোদী অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলের জনবিন্যাসের পরিবর্তন করার চলতি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর সমস্যা বলে বর্ণনা করেছেন। এর মোকাবিলায় তিনি দেশব্যাপী জনবিন্যাস মিশন চালু করার কথা ঘোষণা করেন। অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা এবং ভারতের মাটি থেকে তাদের সম্পূর্ণ উৎখাত নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁদের অঙ্গীকারের কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

 

আসামের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং এর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য সম্মিলিত দায়িত্বের উপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, এটি অর্জনের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজনীয়। আসাম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে উন্নত ভারতের চালিকা শক্তিতে রূপান্তরিত করার দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন তিনি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

পটভূমি:

দরং-এ প্রধানমন্ত্রী একাধিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলির মধ্যে দরং মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জিএনএম স্কুল এবং বি এস সি নার্সিং কলেজ অন্তর্ভুক্ত। যা এই অঞ্চলের চিকিৎসা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাকে শক্তিশালী করবে। গুয়াহাটি রিং রোড প্রকল্প যা শহরের গতিশীলতা বৃদ্ধি করবে, যানজট হ্রাস করবে এবং রাজধানী শহর ও তার আশেপাশের সংযোগ উন্নত করবে এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর কুরুওয়া-নারেঙ্গি সেতু যোগাযোগের উন্নতি এবং এই অঞ্চলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে।

 

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
'Will walk shoulder to shoulder': PM Modi pushes 'Make in India, Partner with India' at Russia-India forum

Media Coverage

'Will walk shoulder to shoulder': PM Modi pushes 'Make in India, Partner with India' at Russia-India forum
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister pays tribute to Dr. Babasaheb Ambedkar on Mahaparinirvan Diwas
December 06, 2025

The Prime Minister today paid tributes to Dr. Babasaheb Ambedkar on Mahaparinirvan Diwas.

The Prime Minister said that Dr. Ambedkar’s unwavering commitment to justice, equality and constitutionalism continues to guide India’s national journey. He noted that generations have drawn inspiration from Dr. Ambedkar’s dedication to upholding human dignity and strengthening democratic values.

The Prime Minister expressed confidence that Dr. Ambedkar’s ideals will continue to illuminate the nation’s path as the country works towards building a Viksit Bharat.

The Prime Minister wrote on X;

“Remembering Dr. Babasaheb Ambedkar on Mahaparinirvan Diwas. His visionary leadership and unwavering commitment to justice, equality and constitutionalism continue to guide our national journey. He inspired generations to uphold human dignity and strengthen democratic values. May his ideals keep lighting our path as we work towards building a Viksit Bharat.”