১৪ জুন ২০২৬ তারিখে নিস-এর ভিলা কেরিলোসে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ককে ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর স্তরে উন্নীত করার পর দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক।
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সব পর্যায়ে দারুন অগ্রগতি ও গভীরতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম ও উন্নত প্রযুক্তির যৌথ নকশা, যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে সম্মত হন। উভয় নেতাই মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন এবং মানববাহী মহাকাশ উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ পরিস্থিতি বিষয়ক সচেতনতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। অসামরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রের বিষয়ে তাঁরা বলেন যে, ভারতের ‘শান্তি’ আইন ছোট ও উন্নত মডুলার রিঅ্যাক্টরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

‘হরাইজন ২০৪৭ রোডম্যাপ’-এর আওতায় অগ্রগতির পর্যালোচনা করে উভয় নেতা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, মেধা বা দক্ষ জনশক্তির অবাধ চলাচল এবং জনগণের মধ্যে ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও বৈচিত্র্যময় করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ধারণা বিনিময় করেন। এই প্রেক্ষাপটে, তাঁরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ধারাবাহিক উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হন। তাঁরা ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানা্ন। এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া নেতারা এসএমই, বিমান চলাচল এবং রেলওয়ে ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। তাঁরা কানপুরে অ্যারোনটিক্স বা বিমানচালনা বিষয়ক দক্ষতার জন্য একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তিকে স্বাগত জানান। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তালাপ শুরুর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে উভয় নেতা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করতে সম্মত হন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করে উভয় পক্ষই এই অংশীদারিত্বকে দীর্ঘমেয়াদী দিকনির্দেশনা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি “উদ্ভাবন রোডম্যাপ ২০৩০” গ্রহণ করে। উভয় নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই উদ্দেশ্যে একটি যৌথ ভারত-ফ্রান্স এআই কর্মী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে সম্মত হন। নিস - এ নেতৃবৃন্দের  ‘ভারত ইনোভেটস’-এর যৌথ উদ্বোধন এবং প্যারিসে ‘ভিভাটেক’ - এ প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ - এই বিষয়গুলি ডীপ-টেক, সেমিকন্ডাক্টর, এগ্রি-টেক, মেড-টেক, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। উভয় নেতাই ফ্রান্সে ইউপিআই - এর  প্রসার এবং দুই দেশের উদ্ভাবন-কেন্দ্রিক কাঠামোর অন্তর্গত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯টি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টির প্রশংসা করেন।

উভয় নেতাই জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বা ‘পিপল-টু-পিপল’ সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এ প্রসঙ্গে, ফরাসি বিমানবন্দরগুলোতে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা দুই দেশের মধ্যে মেধাবী ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বা গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির পরিধি বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ‘নতুন শিক্ষানীতি’র আওতায় ভারতে ক্যাম্পাস খোলার জন্য ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া, লোথালের ‘ন্যাশনাল মেরিটাইম হেরিটেজ কমপ্লেক্স’ (জাতীয় সামুদ্রিক ঐতিহ্য কমপ্লেক্স) সহ বিভিন্ন জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও নেতৃবৃন্দ সম্মত হন।
নেতৃবৃন্দ পশ্চিম এশিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি সহ আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী এভিয়ান - এ অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে ভারতকে অর্থবহ আলোচনায় যুক্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ধন্যবাদ জানান।

-

উভয় নেতাই ভারত ও ফ্রান্সের জনগণের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ভারত-ফ্রান্স বিশেষ আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রঁ ভারতের জয়পুরে ১০ দিনের ‘আর্ট রেসিডেন্সি’ বা শিল্প-বাসকালীন সময়ে ফরাসি শিল্পী জনাব থিবো দ্য লা লঁস এবং জনাব থিওফিল দ্য বাশার - এর তৈরি শিল্পকর্মগুলিও প্রত্যক্ষ করেন। ভারতীয় ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা এমন সব শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন, যা ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে প্রতিফলিত করে।
আলোচনা শেষে, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।

 

 

 

 

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
Led by iPhones, India sees highest Q1 smartphone exports by value

Media Coverage

Led by iPhones, India sees highest Q1 smartphone exports by value
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
সোশ্যাল মিডিয়া কর্নার 29 জুলাই 2026
July 29, 2026

Aatmanirbhar & Eco-Conscious: PM Modi’s Record of Results in Conservation, Banking, Exports & Beyond