মাননীয়,
প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা এবং প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন,
দুই দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ,
সংবাদ মাধ্যমের বন্ধুরা,
নমস্কার !
আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু প্রেসিডেন্ট কোস্টা এবং প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন-কে এই ঐতিহাসিক ভারত সফরে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রেসিডেন্ট কোস্টা তাঁর সরল জীবনযাত্রা এবং সমাজের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের জন্য ব্যাপকভাবে সমাদৃত, তাঁকে “লিসবনের গান্ধী” বলা হয়। প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বিশ্বজুড়ে প্রেরণার উৎস- শুধু জার্মানির প্রথম মহিলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেই নয়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবেও।
গতকাল ছিল এক ঐতিহাসিক দিন। এই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আজ আরও একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ্য- বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তি তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে একত্রিত হয়েছে।

বন্ধুগণ,
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যেকার সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সমন্বয় এবং নাগরিকদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংযোগের ওপর ভিত্তি করে আমাদের অংশীদারিত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আজ আমাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন ইউরো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে ৮ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় বসবাস করছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অবদান রাখছেন।
কৌশলগত প্রযুক্তি থেকে দূষণমুক্ত জ্বালানি, ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা থেকে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব- প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা সহযোগিতার নতুন মাত্রা স্থাপন করেছি। এই অর্জনের ওপর ভিত্তি করে আজকের শীর্ষ সম্মেলনে আমরা এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যার থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবেন।
বন্ধুগণ,
ভারত আজ তার ইতিহাসের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছে। এটা বেশ মজার এক কাকতালীয় ঘটনা যে, মাসের ২৭ তারিখে ভারত ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করলো। এই ঐতিহাসিক চুক্তির সুবাদে আমাদের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ইউরোপীয় বাজারগুলিতে সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে, পরিষেবা ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়াবে, নতুন উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে এবং বিশ্বস্তরে সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করবে। অন্যভাবে বলতে গেলে, এটি কেবল এক বাণিজ্য চুক্তি নয়, এ হল অভিন্ন সমৃদ্ধির এক নতুন রূপরেখা।

বন্ধুগণ,
এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি আমরা চলাচলের নতুন কাঠামোও তৈরি করছি। এর ফলে ভারতীয় ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক ও পেশাদারদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী ব্যাপক সহযোগিতা রয়েছে। আজ আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগগুলিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বন্ধুগণ,
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা যে কোনও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের ভিত্তি। আজ আমরা নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করছি। এরফলে আমরা আরও ঘনিষ্ঠভাবে সন্ত্রাস দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবো।
নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার যে অভিন্ন অঙ্গীকার আমাদের রয়েছে, এই পদক্ষেপ তাকে আরও শক্তিশালী করবে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি সহ-উন্নয়ন ও সহ-উৎপাদনের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে।
বন্ধুগণ,
আজকের এই অর্জনের ওপর ভিত্তি করে আমরা আগামী ৫ বছরের জন্য আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সামগ্রিক কৌশলগত কর্মসূচির সূচনা করছি। জটিল বিশ্ব পরিবেশে এই কর্মসূচি সুস্পষ্ট দিশা নির্দেশ করবে, আমাদের অভিন্ন সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, উদ্ভাবনের গতি বাড়াবে, নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ আরও সুগভীর করবে।

বন্ধুগণ,
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা বিশ্ব কল্যাণের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। আমরা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত ত্রিপাক্ষিক প্রকল্পগুলির সম্প্রসারণ ঘটাবো, যা সুস্থিত কৃষি, দূষণমুক্ত জ্বালানি এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে। হাতে হাত মিলিয়ে আমরা আইএনইসি করিডরকে বিশ্ব বাণিজ্য ও সুস্থিত উন্নয়নের এক প্রধান স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবো।
বন্ধুগণ,
বিশ্ব ব্যবস্থা আজ ঘোরতর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সুস্থিতি আনবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আজ ইউক্রেন, পশ্চিম এশিয়া ও ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বহুপাক্ষিকতা এবং আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। এটি আমাদের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র। আমাদের এই সময়ের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার যে একান্ত আবশ্যক, তা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনও দ্বিধা নেই।
বন্ধুগণ,
বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন কিছু মুহুর্ত আসে যখন ইতিহাস নিজেই ঘোষণা করে যে, এখানে গতিমুখের পরিবর্তন হয়েছে, এখানেই নতুন একটি যুগের সূচনা হয়েছে। আজ ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলন তেমনই এক মুহুর্তের প্রতিনিধিত্ব করছে।
আমি আবারও প্রেসিডেন্ট কোস্টা এবং প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন-কে এই অসাধারণ যাত্রা, ভারতের প্রতি বন্ধুত্ব এবং আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রধানমন্ত্রী মূল ভাষণটি হিন্দিতে দিয়েছিলেন
कल एक ऐतिहासिक क्षण था, जब पहली बार European Union के leaders, भारत के गणतंत्र दिवस समारोह में मुख्य अतिथि के रूप में शामिल हुए।
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
आज, एक और ऐतिहासिक अवसर है, जब विश्व की दो सबसे बड़ी लोकतांत्रिक शक्तियाँ अपने संबंधों में एक निर्णायक अध्याय जोड़ रही हैं: PM @narendramodi
पिछले कुछ वर्षों में भारत और European Union के संबंधों में उल्लेखनीय प्रगति हुई है।
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
साझा लोकतांत्रिक मूल्यों, आर्थिक synergy और मजबूत people-to-people ties के आधार पर हमारी साझेदारी नई ऊँचाइयों तक पहुँच रही है: PM @narendramodi
आज भारत ने अपने इतिहास का अब तक का सबसे बड़ा Free Trade Agreement संपन्न किया है।
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
आज 27 तारीख है और ये सुखद संयोग है कि आज ही के दिन, European Union के 27 देशों के साथ भारत ये FTA कर रहा है: PM @narendramodi
यह सिर्फ trade agreement नहीं है।
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
यह साझा समृद्धि का नया blueprint है: PM @narendramodi
भारत और European Union का सहयोग एक partnership for global good है: PM @narendramodi
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
Multilateralism और international norms का सम्मान हमारी साझा प्राथमिकता है।
— PMO India (@PMOIndia) January 27, 2026
हम एकमत हैं कि आज के challenges का समाधान करने के लिए, global institutions का reform अनिवार्य है: PM @narendramodi


