“সময় এখন ভারতের”
“একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান দশকের সময়কাল ভারতের জন্য অভূতপূর্ব”
“২০২৩এর প্রথম ৭৫ দিনের সাফল্য অর্জন প্রমাণ করে বর্তমান সময় ভারতেরই”
“ভারতের সংস্কৃতি এবং নমনীয় শক্তির প্রতি সারা বিশ্বে অভূতপূর্ব এক আকর্ষণ রয়েছে”
“দেশকে যদি এগিয়ে যেতে হয় তাহলে তার গতিশীলতার প্রয়োজন এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে”
“আজ দেশের মানুষের মধ্যে এই আস্থা জন্মেছে যে সরকার তাঁদের প্রতি যত্নশীল”
“আমরা প্রশাসনিক কাজে মানবিকতার ছোঁয়া যুক্ত করেছি”
“ভারত আজ যা অর্জন করেছে তার মূল শক্তি আমাদের গণতন্ত্র, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষমতা”
“ভারতের এই সময়কে আমাদের ‘সব কা প্রয়াস’ ভাবনার মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে এবং স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের এই সময়ে উন্নত ভারত গড়ার যাত্রাপথে যা হবে চালিকাশক্তি”

প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ নতুন দিল্লির হোটেল তাজ প্যালেসে ইন্ডিয়া টুডে গোষ্ঠী আয়োজিত এক আলোচনাচক্রে ভাষণ দিয়েছেন।

আলোচনাচক্রের মূল ভাবনা ‘সময় এখন ভারতের’ বাছাই করায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রথম সারির অর্থনীতিবীদ, বিশ্লেষক এবং চিন্তাবিদরা মনে করেন এটি প্রকৃতই ভারতের সময়। এই ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ইন্ডিয়া টুডে গোষ্ঠীও একই উৎসাহ দেখিয়েছে। আজ থেকে কুড়ি মাস আগে লালকেল্লার প্রাকারে তাঁর এক ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটিই সময় এবং সঠিক সময়। সময় এখন ভারতের।”  

যে কোন দেশের উন্নয়ন যাত্রায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং পর্যায়ের সম্মুখীন হতে হয়। শ্রী মোদী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান দশকের এই সময়কাল ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বহু দশক আগে যেসব দেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে তার সঙ্গে বর্তমান সময়কালের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলি নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠত কারন প্রতিযোগিতার সুযোগ ছিল খুব কম । আর সেটিই ছিল তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, আজ ভারত যে পরিস্থিতির সম্মুখীন তা একেবারেই আলাদা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন সমস্যা এক সর্বাঙ্গীন রূপ ধারন করেছে। এই সমস্যাগুলি নানাভাবে সামনে আসছে। আজ ‘ভারতের সময়’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে আলোচনা হচ্ছে তা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। প্রতি শতাব্দীতে একবার মহামারীর আবির্ভাব হয়। সেই সময়েরও সম্মুখীন হয়েছি আমরা। পাশাপাশি দুটি দেশের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। “নতুন এক ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। আর আমরা সকলে তা প্রত্যক্ষ করছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্ব ভারতের প্রতি তার আস্থা প্রদর্শন করছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বিভিন্ন সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত বিবেচিত হচ্ছে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে ডেটাকে কাজে লাগানো এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ফিনটেকের ব্যবহারের নিরিখে ভারত আজ প্রথম স্থানাধিকারী। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদক রাষ্ট্র এবং তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ব্যবস্থাপনা এদেশে গড়ে উঠেছে।  

২০২৩ সালের প্রথম ৭৫ দিনে সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত পরিবেশ বান্ধব এক ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করেছে। কর্ণাটকের শিবমোগায় নতুন এক বিমান বন্দরের উদ্বোধন করা হয়েছে। মুম্বাই মেট্রোর পরবর্তী পর্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম নৌবিহার তার যাত্রা সম্পন্ন করেছে। ব্যাঙ্গালোর-মাইসোর এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন হয়েছে। দিল্লী-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। মুম্বাই থেকে বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেনের যাত্রা সূচনা হয়েছে। ধারওয়াড় আইআইটি-র ক্যাম্পাসেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ২১টি ছোট ছোট দ্বীপের নামকরণ ২১ জন পরমবীর চক্র সম্মান প্রাপকদের নামে করা হয়েছে। ভারত পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পর ই-২০ জ্বালানীর সূচনা হয়েছে। টুমকুরুতে এশিয়ার অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার নির্মাণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা ছাড়াও এয়ার ইন্ডিয়া তার ইতিহাসে সব থেকে বেশি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত ৭৫ দিনের মধ্যে ই-সঞ্জীবনী অ্যাপ ব্যবহার করে টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০ কোটি পরামর্শদানের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। রেল নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ  বৈদ্যুতিকীকরণের কাজ শেষ হয়েছে। কুনো জাতীয় উদ্যানে আরও ১২টি চিতা পৌঁছেছে। অনুর্দ্ধ ১৯ টি২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় মহিলা দল চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। দেশ এই সময়ে দুটি অস্কার জয়ের আনন্দে মেতে উঠেছে। গত ৭৫ দিনে জি২০ গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি বৈঠক হয়েছে। জ্বালানী ক্ষেত্রে শীর্ষ সম্মেলন এবং আন্তর্জাতিক মিলেট সম্মেলন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে অ্যারো ইন্ডিয়া শীর্ষ সম্মেলনের ১০০র বেশি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ইউপিআই পদ্ধতিতে লেনদেন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। ভারত অপারেশন দোস্ত-এর মাধ্যমে তুরস্ককে সহায়তা করেছে। আজ কিছু আগে ভারত-বাংলাদেশ গ্যাস পাইপ লাইন উদ্বোধন হয়েছে। ‘সময় যে এখন ভারতের এগুলির সবই হল তার প্রতিফলন।’   

শ্রী মোদী বলেন, আজ ভারত যখন সড়ক, রেলপথ, বন্দর এবং বিমান বন্দর গড়ে তুলছে, সেই সময় সারা বিশ্ব ভারতের সংস্কৃতি এবং নমনীয় শক্তির প্রতিও আকর্ষিত হচ্ছে যা অভূতপূর্ব। ‘আজ সারা বিশ্বজুড়ে যোগ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আয়ুর্বেদের প্রতি বিশেষ উৎসাহ নজরে আসছে। ভারতের খাদ্য এবং পানীয়ের প্রতিও সকলে আকৃষ্ট হচ্ছেন।’ ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত নতুন শক্তিতে মানুষকে আকৃষ্ট করছে।  সারা বিশ্বের কাছে ভারতের মোটা দানার শস্য মিলেট বা শ্রী অন্ন পৌঁছে যাচ্ছে। বিশ্বের কল্যাণ সংক্রান্ত ভারতের ভাবনা এবং সম্ভাবনাকে সারা পৃথিবী মান্যতা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সৌরজোট বা কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাসট্রাকচারের মতো জোট গড়ে উঠেছে। “এ কারনে আজ সারা বিশ্ব বলছে সময়টা এখন ভারতের।” এই সব কিছুর কারনে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই প্রাচীন যুগে ভারতের বিভিন্ন মূর্তি ফিরিয়ে দিচ্ছে।    

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ভারতের এই সময়কালে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে সব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সেগুলি পূরণ করা হচ্ছে।’ অতীতের সংবাদ শিরোনামের সঙ্গে বর্তমান সময়কালের তুলনা করে তিনি বলেন, আগে নানা ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারী এবং তার জন্য প্রতিবাদ ছিল সংবাদ শিরোনামের মূল বিষয়।  বর্তমানে দুর্নীতির গ্রস্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবরই সংবাদ শিরোনাম হিসেবে স্থান পাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন কেলেঙ্কারী ও দুর্নীতির খবর প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমের টিআরপি হয়তো বাড়তো, তবে এখন দুনীতিগ্রস্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর প্রচার করে তাদের টিআরপি বাড়তে পারে।  

শ্রী মোদী বলেন, আগে বিভিন্ন শহরে বোমা বিস্ফোরণ এবং নকশালদের হানার খবরকে সংবাদ শিরোনাম করা হত। আর আজ শান্তি ও সমৃদ্ধি সেই স্থান অধিকার করেছে। অতীতে পরিবেশের কারনে বড় বড় পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলি বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যেত। আর এখন পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বিভিন্ন খবরের পাশাপাশি নতুন মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের খবর পাওয়া যায়। আগে ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়মিত খবর ছিল, আর এখন অত্যাধুনিক ট্রেনের যাত্রা সূচনা নতুন সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় এয়ার ইন্ডিয়া দুর্নীতি এবং দারিদ্রের নানা খবর নিয়ে আলোচনা হত। আর আজ বিশেষ বিশেষ খবরের তালিকায় ভারতে বিশ্বের বৃহত্তম বিমান কেনা-বেচার খবর স্থান পায়। ‘ভারতের জন্য এই সময় প্রতিশ্রুতি পালনের সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন আত্মপ্রত্যয়ে ভরপুর হয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যপূরণে এগিয়ে চলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র যখন ভারতের প্রতি আশাবাদী, সেই সময় ভারতকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে।   

শ্রী মোদী বলেন, ঔপনিবেশিক সময়কালে ভারত দারিদ্রের দীর্ঘ এক সময় অতিবাহিত করেছে। “ভারতের দরিদ্র মানুষ যত দ্রুত সম্ভব দারিদ্র থেকে মুক্তি পেতে চান। তিনি চান তাঁর এবং পরবর্তী প্রজন্মের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসুক।“ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের যে সুফল আজ পাওয়া যাচ্ছে তার পিছনে রয়েছে সেগুলি সম্পর্কে সরকারের স্পষ্ট ধারনা। বর্তমান সরকার নতুন নতুন সাফল্য অর্জন করতে চায়, তাই সরকারের বিভিন্ন কাজে গতি বাড়ানো হচ্ছে। আজ ১১ কোটি শৌচাগার যে তৈরি করা হয়েছে তা এক রেকর্ড। বিশ্বের ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় ৪৮ কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাকা বাড়ি বানানোর টাকা পাঠানো হয়েছে। এই বাড়ি তৈরির কাজের ক্ষেত্রে নজরদারি চালানো হয়েছে। গত ৯ বছরে ৩ কোটি বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। দরিদ্র মানুষরা সেই বাড়িগুলিতে বসবাসও শুরু করেছে। এইসব বাড়ি মালিকানার অধিকার মূলত মহিলাদের। অর্থাৎ দরিদ্র মহিলারাও এখন ক্ষমতার স্বাদ পাচ্ছেন।   

প্রধানমন্ত্রী সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্কের একটি রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন সারা পৃথিবীর মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের সম্পত্তির নিবন্ধীকরণ করেছে। সম্পত্তির প্রতি কম  অধিকার বোধ আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে  একটি বড় বাধার সৃষ্টি করেছে। আড়াই বছর আগে ভারতে পিএম স্বামীত্ব যোজনার সূচনা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে জমির মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার গ্রামে ড্রোনের সাহায্যে সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। ১ কোটি ২২ লক্ষ সম্পত্তি কার্ড হস্তান্তর করা হয়েছে। “ভারতের এই সময়কালে আজ এ ধরনের অনেক নীরব বিপ্লব সংগঠিত হচ্ছে।“ পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার আওতায় কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আড়াই লক্ষ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। দেশের ১১ কোটি ক্ষুদ্র চাষি এরফলে উপকৃত হয়েছেন।    

শ্রী মোদী বলেন, যে কোন দেশের উন্নয়নে সব থেকে বড় বাধা সেই দেশের সিদ্ধান্তহীনতার মানসিকতা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেকেলে মানসিকতাকে আঁকড়ে থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি পরিবারের জন্য কাজ করার ফলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। আজ দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। তাই দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার পাশাপাশি এক গতিশীল ভাবনার প্রয়োজন। দেশকে যদি উন্নতি করতে হয় তাহলে নতুনকে গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মানসিকতাও থাকতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের প্রতিভা এবং ক্ষমতার প্রতি আস্থাশীল হওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি যেকোন সাফল্য অর্জনের ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ এবং আশীর্বাদ অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান যদি সরকার এবং গুটি কয়েক মানুষের উদ্যোগে করা হয় তাহলে সেই সমাধানের সীমাবদ্ধতা থাকে। কিন্তু যখন ১৩০ কোটি দেশবাসীর শক্তি সেই উদ্যোগে যুক্ত হয় তখন কোনো সমস্যাই দেশের সামনে দাঁড়াতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী তাই জোর দিয়ে বলেছেন, সরকারকে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আজ দেশবাসীর মনে এই আস্থা অর্জিত হয়েছে যে সরকার তাদের প্রতি যত্নশীল।  “প্রশাসনিক কাজে মানবিক ছোঁয়া এবং স্পর্শকাতর উপাদানগুলি যুক্ত হয়েছে। আমরা প্রশাসনিক কাজে মানবিকতার ছোঁয়া যুক্ত করেছি আর তার সুফল আমাদের নজরে আসছে।“ ভাইব্রেন্ট ভিলেজ স্কিমের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে আজ আস্থা অর্জিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপূর্ব ভারতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নিয়মিত সফর করছেন। তিনি নিজে উত্তর পূর্বাঞ্চলে ৫০ বার গেছেন। এরফলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দূরত্ব যেমন হ্রাস পেয়েছে পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।   
 
ইউক্রেন সংকটে তাঁর সরকারের কর্মসংস্কৃতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ১৪ হাজার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রত্যেক বাড়িতে সরকারের একজন প্রতিনিধিকে পাঠানো হয়। “তাদের আশ্বস্থ করেছিলাম সংকটের এই সময়ে সরকার তাদের সঙ্গে রয়েছে। এ ধরনের প্রশাসনিক উদ্যোগে মানবিকতার ছোঁয়া পরিলক্ষিত হয়।“ আজ যদি প্রশাসনিক উদ্যোগে মানবিকতার ছোঁয়া না থাকতো তাহলে করোনার বিরুদ্ধে এই মহাযুদ্ধ ভারত জিততে পারতো না।     

শ্রী মোদী বলেন, আজ গণতন্ত্রের শক্তি এবং আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার কারনে ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ভারতের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সব সিদ্ধান্ত  গ্রহণ করে, সারা বিশ্ব তা প্রত্যক্ষ করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত বেশ কয়েকটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সৌরজোট এবং কোয়ালিশন ফর ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাসট্রাকচার তার অন্যতম। ভবিষ্যতের উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণ করতে নীতি আয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কর্পোরেট ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ন্যাশনাল কোম্পানী ল ট্রাইবুনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতে জিএসটি পরিষদ একটি আধুনিক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। করোনা সময়কালেও দেশে সফলভাবে বেশ কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী, দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাও শক্তিশালী। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলির শক্তি এখানেই নিহিত রয়েছে।“ সরকার এ পর্যন্ত ২২০ কোটি করোনার টিকা দিয়েছে। “আমার মনে হয় এইসব কারনেই আমাদের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি আক্রান্ত হয়। তবে আমি নিশ্চিত এই আক্রমনের মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে তার লক্ষ্য পূরণের পথে এগিয়ে যাবে এবং লক্ষ্য অর্জন করবে।“    
 
পরিশেষে শ্রী মোদী ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের আন্তর্জাতিক স্তরে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ের কথা বলেন। “ভারতের এই সময়কে আমাদের ‘সব কা প্রয়াস’ ভাবনার মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে এবং স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবের  সময়কালে উন্নত ভারত গড়ার যাত্রাপথে যা হবে চালিকাশক্তি”।

সম্পূর্ণ ভাষণ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Explore More
শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ

জনপ্রিয় ভাষণ

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরের ধ্বজারোহণ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ
India's EV market to grow 12-fold to 30.4 mn units by 2032 under high-growth scenario: Report

Media Coverage

India's EV market to grow 12-fold to 30.4 mn units by 2032 under high-growth scenario: Report
NM on the go

Nm on the go

Always be the first to hear from the PM. Get the App Now!
...
Prime Minister pays homage to Thiru K. Kamaraj Ji on his birth anniversary
July 15, 2026

Prime Minister Shri Narendra Modi today, paid homage to Thiru K. Kamaraj Ji on his birth anniversary, remembering him as a stalwart of India's freedom movement and an exceptional public figure who dedicated his life to nation-building. Shri Modi said that Thiru K. Kamaraj Ji's unwavering commitment to education, inclusive development and the welfare of the underprivileged continues to inspire generations.

Shri Modi posted on X;

Remembering Thiru K. Kamaraj Ji on his birth anniversary. A stalwart of India’s freedom movement and an exceptional public figure, he dedicated his life to nation-building. His unwavering commitment to areas like education, inclusive development and the welfare of the underprivileged continues to guide generations.